গোয়াইনঘাটে তিন খুন: হিফজুর ৫ দিনের রিমান্ডে

গোয়াইনঘাটে তিন খুন: হিফজুর ৫ দিনের রিমান্ডে

আহত হিফজুর রহমানকে স্ত্রী-সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

এসপি বলেন, ‘নিহত আলিমা বেগম পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে আমরা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি। ঘাতকের বটির কোপে তার গর্ভে থাকা পাঁচ মাসের সন্তানও মারা গেছে। সে হিসেবে এ ঘটনায় চারজন মারা গেছেন। আমরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ভ্রূণহত্যার অভিযোগও আনব।’

সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হিফজুর রহমানকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর হিফজুরকে রোববার তোলা হয় গোয়াইনঘাট আমলি আদালতে। তাকে সাতদিনের রিমান্ডে চেয়ে পুলিশ আবেদন করলে বিচারক অঞ্জন কান্তি দাস তাকে পাঁচদিনের জন্য রিমান্ডে পাঠান।

গোয়ানঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ বিষয়টি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ধারণা হিফজুরই তার স্ত্রী সন্তানদের হত্যা করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে আনা হয়েছে।’

গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে বুধবার (১৬ জুন) সকালে উদ্ধার করা হয় হিফজুরের স্ত্রী আলিমা বেগম, তার দুই সন্তান মিজান ও তানিশার মরদেহ। সেখানে আহত অবস্থায় হিফুজরকে পাওয়া যায়, নেয়া হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

তার আচরণ প্রথম থেকেই সন্দেহজনক বলে জানিয়েছিলেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

নিহতদের ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, হিফজুরের স্ত্রী আলিমা ছিলেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ফলে পুলিশের মতে, তিনজন নয়, সেদিন খুন করা হয়েছে আদতে চারজনকে।

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এই তথ্য জানান।

গোয়াইনঘাটে তিন খুন: হিফজুর ৫ দিনের রিমান্ডে

তিনি বলেন, ‘নিহত আলিমা বেগম পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে আমরা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি। ঘাতকের বটির কোপে তার গর্ভে থাকা পাঁচ মাসের সন্তানও মারা গেছে। সে হিসেবে এ ঘটনায় চারজন মারা গেছেন। আমরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ভ্রূণহত্যার অভিযোগও আনব।’

মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল, সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত এবং বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশের সন্দেহের তির আহত হিফজুরের দিকেই।

ওসমানী মেডিক্যাল থেকে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাড়পত্র দেয়া হয় হিফজুরকে। এর আগে শনিবার তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডটি মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময়ে ঘটে। ওই রাতে হিফজুর-আলিমা দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আফসান মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায়। আলিমার বাবা বৃহস্পতিবার সকারে গোয়াইনঘাট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও হিফজুরের মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে ওই দিন এ বাড়িতে কোনো বহিরাগত লোক প্রবেশের আলামত পাওয়া যায়নি। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া এবং স্ত্রী ও দুই সন্তানের অসুস্থতা নিয়ে টানাপোড়েনের জেরেই হিফজুর এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দিনমজুর হিফুজর তার মামার বাড়িতে মায়ের সূত্রে পাওয়া জমিতে ঘর বানিয়ে থাকেন।

গোয়াইনঘাটে তিন খুন: হিফজুর ৫ দিনের রিমান্ডে

স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুম থেকে উঠছিলেন না হিফজুরের পরিবারের সদস্যরা। সন্দেহ হওয়ায় তারা ওই ঘরের সামনে গেলে ভেতর থেকে কান্নার শব্দ পায়। দরজার সিটিকিনি খোলা পেয়ে ভেতরে গেয়ে দেখে খাটের ওপর তিনজনের গলাকাটা মরদেহ। হিফজুর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন মেঝেতে।

পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বাইরে থেকে কেউ হত্যার জন্য এলে সঙ্গে করে অস্ত্র নিয়ে আসত। তাদের ঘরের বঁটি দিয়েই খুন করত না। বিরোধের কারণে খুনের ঘটনা ঘটলে প্রথমেই হিফুজরকে হত্যা করা হতো কিংবা স্ত্রী-সন্তানদের প্রথমে হামলা করলেও হিফুজর তা প্রতিরোধের চেষ্টা করতেন। এতে স্বভাবতই তিনি সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হতেন।

অথচ হিফজুরের শরীরের আঘাত একেবারেই সামান্য। হিফজুরের শরীরের কিছু জায়গার চামড়া ছিলে গেছে কেবল।

সাধারণত ঘুমানোর আগে সবাই হাত-পা ধুয়ে ঘুমাতে যান। হিফজুরের স্ত্রী-সন্তানদের মরদেহের হাত-পা পরিষ্কার ছিল। অথচ তার পায়ে বালু ও কাদা লাগানো ছিল। এতে বোঝা যায় তিনি রাতে ঘুমাননি।

এসব কারণে পুলিশ ধারণা করে স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে ঘটনা অন্য খাতে প্রবাহিত করতে নিজেই নিজের হাত-পা কাটেন হিফজুর।

আরও পড়ুন:
গোয়াইনঘাটে তিন খুন: আহত হিফজুর গ্রেপ্তার
গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়
মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান
গোয়াইনঘাটে তিন খুন : সন্দেহের তির আহত স্বামীর দিকেই
গোয়াইনঘাটে ৩ খুন: ক্লু খুঁজছে পুলিশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে মঙ্গলবার বিকেলে উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরু মারা যায়। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার বিমানবন্দরে কর্মরত একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অভিযোগ, বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণের সময় নানা সমস্যা নিয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে পাইলটরা অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দুই দিন আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের পাখার ধাক্কায় দুই গরুর মৃত্যুর পর তা ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।

এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। উঠেছে নতুন অভিযোগও।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে কর্মরত একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অভিযোগ, বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণের সময় নানা সমস্যা নিয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে পাইলটরা অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, দুই সপ্তাহ আগেও অভিযোগ করা হয়েছিল গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর রানওয়েতে উঠে পড়ার কারণে পাইলটদের অবতরণে সমস্যা হচ্ছে। বিমানবন্দরের কাছে স্থানীয়দের অবাধ চলাচল এবং ভিড়ও বড় সমস্যা।

একাধিক পাইলট জানিয়েছিলেন, চারদিকে প্রচুর মানুষের মধ্যে শঙ্কা নিয়ে বিমান অবতরণ করতে হয় তাদের। বিকেল হলেই বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে ভেতরে চলে ফুটবল খেলা। সেই খেলা দেখতে আবার ভিড় করে অন্তত দুই শতাধিক মানুষ।

তার অভিযোগ, বিভিন্ন সময় এসব বিষয় নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সিকিউরিটি ইনচার্জকে মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সমাধান আসেনি।

মঙ্গলবার রাতের ওই ঘটনার পর নির্দিষ্ট সীমানাপ্রাচীরের কাছে দায়িত্বে থাকা চার আনসার সদস্যকে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি, তবে তাদের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কক্সবাজার বিমানবন্দরের দায়িত্বরতরা।

এ ছাড়া ওই ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এভিয়েশনের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার বিকেলে তারা বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তারা ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়েন।

এ প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (সিকিউরিটি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মাহমুদ মান্নাফি।

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও
বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ দিয়ে অবাধে চলছে যাতায়াত, ঢুকে পড়ছে পশু

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার বিমানবন্দরের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মূলত রানওয়েতে গরু ঢুকেছে সংস্কার কাজের জন্য অরক্ষিত হয়ে পড়া সীমানা প্রচীরের অংশ দিয়ে। পাইলটদের অভিযোগের বিষয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

আকাশপথ ব্যবহার করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা শঙ্কা প্রকাশ না করলেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় প্রয়োজনে চারদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি তুলেছেন।

ঢাকা থেকে আসা জাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দরে এমন ঘটনা কখনও কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। শুধু চার আনসার নয়, দায়িত্ব অবহেলার দায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপরও পড়ে। প্রয়োজনে তাদেরও পরিবর্তন করা হোক।’

নাদিরা জামান নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘একটি বিদেশি এনজিও সংস্থায় কাজ করার কারণে নিয়মিতই বিমানে কক্সবাজার আসি, কিন্তু বিমানের ধাক্কায় গরুর মৃত্যুর বিষয়টি দেখে নিজের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। ভাগ্য ভালো ওই বিমানযাত্রীদের। আমরা মনে করি এ বিমানবন্দরে আরও নিরাপত্তা বাড়ানো উচিত।

তবে বারবরের মতোই কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েকটি পয়েন্টে সীমানাপ্রাচীর সংস্কারের কাজ চলছে। দ্রুত তা শেষ হলে এসব গবাদিপশু বা বিমানবন্দরের নিরাপত্তাঝুঁকি কেটে যাবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে মঙ্গলবার বিকালে উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরু মারা গেছে

তার কাছেও পাইলটদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২০০৫ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরে একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে বিদেশি পাইলটসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। কার্গো উড়োজাহাজটি কক্সবাজার থেকে চিংড়ির পোনা নিয়ে যশোর যাচ্ছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজের চাকায় পিষ্ট হয়ে রানওয়েতে তিনটি কুকুরের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
গোয়াইনঘাটে তিন খুন: আহত হিফজুর গ্রেপ্তার
গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়
মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান
গোয়াইনঘাটে তিন খুন : সন্দেহের তির আহত স্বামীর দিকেই
গোয়াইনঘাটে ৩ খুন: ক্লু খুঁজছে পুলিশ

শেয়ার করুন

মেয়র আব্বাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রোববার

মেয়র আব্বাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রোববার

রাজশাহীর মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাসেম আলী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ মেয়র আব্বাস আলীকে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। বিচারক শংকর কুমার রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে। আগামী রোববার রিমান্ডের শুনানি হবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকায় র‌্যাবের কাছ থেকে আব্বাসকে গ্রহণ করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশের একটি দল। রাতেই তারা রাজশাহী এসে পৌঁছান।

সকাল ৭টার দিকে পুলিশ তাকে আদালতে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

রাজশাহীর মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাসেম আলী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ মেয়র আব্বাস আলীকে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে।

বিচারক শংকর কুমার আগামী রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

রাজধানীর হোটেল রাজমনি ইশা খাঁ থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আটক করে র‍্যাব।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। ২২ নভেম্বর সেই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

২৪ নভেম্বর মেয়র আব্বাসের নামে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। মামলার বাদী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এবং ১৩ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন।

এ ছাড়া চন্দ্রিমা থানায় নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন একই ধরনের অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আপত্তিকর মন্তব্যের সূত্র ধরে ২৫ নভেম্বর তাকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ এবং ২৬ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২৫ নভেম্বর কাটাখালী পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলরের সবাই তার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবির একটি আবেদন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন।

যা বলেছিলেন মেয়র আব্বাস

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। ... ফার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে গত শুক্রবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন, যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার-জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এত কিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে করে থাকি, তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
গোয়াইনঘাটে তিন খুন: আহত হিফজুর গ্রেপ্তার
গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়
মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান
গোয়াইনঘাটে তিন খুন : সন্দেহের তির আহত স্বামীর দিকেই
গোয়াইনঘাটে ৩ খুন: ক্লু খুঁজছে পুলিশ

শেয়ার করুন

‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’: মুখোমুখি দুই পক্ষ

‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’: মুখোমুখি দুই পক্ষ

মায়ের সঙ্গে দুর্জয় ও অবন্তিকা। ছবি: সংগৃহীত

অধ্যাপক নূরজাহান সরকার বলছেন, তার মন্তব্যটি ছিল ‘স্লিপ অফ টাং’, অর্থাৎ ভুল করে বলে ফেলা। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে চিড়িয়াখানায় ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ না দেয়ার দাবিতে অনড় তিনি। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের দাবি, মৌখিক দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়, লিখিতভাবে অধ্যাপক নূরজাহানকে ক্ষমা চাইতে হবে।

ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় দুটি বাঘ শাবকের মৃত্যুর ঘটনায় চিড়িয়াখানার প্রাণী চিকিৎসকদের দায়ী করে দুটি সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক নূরজাহান সরকার।

অধ্যাপক নূরজাহান তার বক্তব্যে চিড়িয়াখানায় কর্মরত ভেটেরিনারিয়ানদের ‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’ বলে মন্তব্য করেন। আর এতে চরম ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন পাঠিয়েছে আইনি নোটিশ।

নোটিশে অধ্যাপক নূরজাহানের বিরুদ্ধে ‘সম্মানহানিকর, অশালীন, বিদ্বেষপ্রসূত ও কটূক্তিমূলক’ বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ মাধ্যম থেকে সাক্ষাৎকারটি অপসারণ করতে বলা হয়েছে। নইলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে নোটিশে।

অধ্যাপক নূরজাহান সরকার অবশ্য এখন বলছেন, তার মন্তব্যটি ছিল ‘স্লিপ অফ টাং’, অর্থাৎ ভুল করে বলে ফেলা। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে চিড়িয়াখানায় ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ না দেয়ার দাবিতে অনড় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক শিক্ষক। তিনি বলছেন, দায়িত্বটি পালন করতে পারেন কেবল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা থেকে মাস্টার্স করা ‘বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা’।

অধ্যাপক অধ্যাপক নূরজাহানের দুঃখ প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন (বিভিএ)। তবে অ্যাসোসিয়েশন নেতাদের দাবি, মৌখিক দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট নয়, লিখিতভাবে অধ্যাপক নূরজাহানকে ক্ষমা চাইতে হবে।

বন্যপ্রাণীর দেখভালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে মাস্টার্স উত্তীর্ণদের নিয়োগ দেয়ার দাবির সঙ্গেও একমত নন বিভিএ অ্যাসোসিয়েশন নেতারা। এর মহাসচিব ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান মোল্লা বলছেন, ‘বইয়ের থিওরি পড়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় না। বন্যপ্রাণী চিকিৎসার বাস্তব অভিজ্ঞতা দেশে একমাত্র ভেটেরিনারিয়ানদেরই আছে।’

ঢাকা চিড়িয়াখানায় মাছিবাহিত রোগ ইপেসনোমায় আক্রান্ত হয়ে গত ২১ ও ২২ নভেম্বর মারা যায় দুর্জয় ও অবন্তিকা নামের দুটি বাঘ শাবক।

এ বিষয়ে ইনডেপেনডেন্ট টেলিভিশনে ২৬ নভেম্বর প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে অধ্যাপক নূরজাহান সরকার ভেটেরিনারিয়ানদের ‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’ বলে মন্তব্য করেন। পরে একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমেও একই মন্তব্য করেন তিনি।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার অধ্যাপক নূরজাহানকে ডাক ও রেজিস্ট্রিযোগে আইনি নোটিশ পাঠান বিভিএ মহাসচিব ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক নূরজাহান বুধবার নিউজবাংলাকে বলেন, “সেই টিভিতে (ইনডিপেনডেন্ট) যদি ‘আলতু-ফালতু’ বা ‘গরু-ছাগলের ডাক্তার’ শব্দগুলো এসে থাকে, তা হলে এটি স্লিপ অফ টাং। তবে আমি তাদের (ভেটেরিনারিয়ান) ‘আলতু-ফালতু’ বলিনি। তাদের আলতু-ফালতুভাবে সেখানে (চিড়িয়াখানা) দেয়া হয়েছে, এটা বুঝিয়েছি।’

তবে ভেটেরিনারিয়ানদের চিড়িয়াখানায় বন্যপ্রাণী চিকিৎসার দায়িত্ব ঠিক নয় বলে বুধবারও দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের চিড়িয়াখানায় দায়িত্ব পালন করা ঠিক নয়। কারণ এখানে দায়িত্ব পালন করবেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে পাস করা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা।’

প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে কী করে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যা বিষয়ে চার বছরের স্নাতক শেষ করে মাস্টার্সে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ হবে তারাই এ দায়িত্ব পালন করবে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে মাস্টার্সে ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজি নামে একটি কোর্স রয়েছে।’

‘প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা থিওরিটিক্যাল পড়াশোনার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ফিল্ড ভিজিটেও যান। এর মাধ্যমে তারা অভিজ্ঞতা (বন্যপ্রাণী বিষয়ক) অর্জন করেন।’

অধ্যাপক নূরজাহান অবশ্য স্বীকার করেন বাঘের মতো বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা বিষয়ে প্রাণিবিদ্যায় স্নাতকোত্তরদের ‘হাতেকলমে’ প্রশিক্ষণ নেয়ার কোনো সুযোগ দেশে নেই। তাহলে তারা বাঘের চিকিৎসা কীভাবে করবেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বাঘ তো আর ফিল্ডে গিয়ে দেখা যাবে না। তবে আমরা শিক্ষার্থীদের সুন্দরবনে নিয়ে যাই, চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাই। এতে তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এ বিষয়ে আলাদা কোনো ল্যাব ফ্যাসিলিটিও নেই, তাই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণা করার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা বিশেষজ্ঞ হন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক জোর দিচ্ছেন বই থেকে অর্জিত জ্ঞানের উপর। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার যখন বেসিক নলেজ থাকবে, তখন গবেষণার মাধ্যমে আপনি দক্ষ হয়ে উঠবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা এভাবেই অভিজ্ঞ হয়ে ওঠে।

‘ভেটেরিনারি চিকিৎসকেরা তো গৃহপালিত পশুর ওপর পড়াশোনা করে। আর বাঘ হলো বন্যপ্রাণী। তাই চিড়িয়াখানায় ভেটেরিয়ানদের নিয়োগ না দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেয়া উচিত।’

তবে অধ্যাপক নূরজাহানের এই দাবি উড়িয়ে দিচ্ছেন বিভিএ মহাসচিব ডা. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ভেটেরিনারিয়ানদের পড়াশোনার মেয়াদকাল পাঁচ বছর। এর মধ্যে এক বছরের ইন্টার্নিতে হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়া হয়। এই এক বছর ভেটেরিনারিয়ানরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, এর মধ্যে বন্যপ্রাণী পরিচর্যার অভিজ্ঞতাও আছে।

‘শুধু থিওরি পড়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায় না। বন্যপ্রাণী চিকিৎসার জন্য বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো ভেটেরিনারি ফ্যাকাল্টি রয়েছে, সেখানে হাসপাতালও আছে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা প্র্যাকটিক্যাল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পাশাপাশি যারা বিশেষজ্ঞ হন তাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রাণিবিদ্যা থেকে পাস শিক্ষার্থীরা শুধু থিওরিই পড়েন।’

অধ্যাপক নূরজাহান সরকারের যুক্তিতে ক্ষুব্ধ ডা. হাবিব বলেন, ‘আমি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তার বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ সারা পৃথিবীতে বন্যপ্রাণীর ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসার দায়িত্বে ভেটেরিনারিয়ানেরাই নিয়োজিত আছেন।

‘এ বিষয়ে হাইকোর্টেরও একটি রুল আছে। সেখানে বলা হয়েছে কেউ প্রেসক্রিপশন দিতে চাইলে তাকে প্রেসক্রিপশনার সার্টিফিকেটধারী হতে হবে। একমাত্র ভেটেরিনারিয়ানদেরই বন্যপ্রাণী চিকিৎসার বিষয়ে প্রেসক্রিপশনার সার্টিফিকেট আছে। প্রাণিবিদ্যা থেকে যারা পাস করেন, তাদের তো এ বিষয়ে কোনো সনদ নেই। তা হলে তারা কীভাবে এ পেশায় দায়িত্ব পালন করবেন!’

ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর আব্দুল লতিফও সমর্থন করছেন ডা. হাবিবকে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা পৃথিবীতেই বন্যপ্রাণী চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করেন ভেটেরিনারিয়ানরা।’

আরও পড়ুন:
গোয়াইনঘাটে তিন খুন: আহত হিফজুর গ্রেপ্তার
গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়
মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান
গোয়াইনঘাটে তিন খুন : সন্দেহের তির আহত স্বামীর দিকেই
গোয়াইনঘাটে ৩ খুন: ক্লু খুঁজছে পুলিশ

শেয়ার করুন

রাজারবাগ পিরের সম্পত্তির খোঁজে ১২২ প্রতিষ্ঠানে দুদকের চিঠি

রাজারবাগ পিরের সম্পত্তির খোঁজে ১২২ প্রতিষ্ঠানে দুদকের চিঠি

পির মো. দিল্লুর রহমান থাকেন রাজারবাগের এই দরবার শরিফে। ছবি: নিউজবাংলা

দুদকের চিঠি দেয়া ১২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি ৫৬টি ব্যাংক, ৬৪ জেলার রেজিস্ট্রার, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন।

রাজারবাগ শরিফের পির দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্মের নামে মানুষকে ধোঁকা জমি দখলের অভিযোগ অনুসন্ধানে ১২২ প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

দুদকের চিঠি দেয়া ১২২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি ৫৬টি ব্যাংক, ৬৪ জেলার রেজিস্ট্রার, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন।

মু. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুদকের অনুসন্ধানে রাজারবাগের পির সাড়া না দিলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রচলিত আইনে দুদককে অসহযোগিতা করার সুযোগ কারো নেই।’

তিনি জানান, রাজারবাগ পিরের দুর্নীতি অনুসন্ধানে তিন সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম কার্যক্রম শুরু করেছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখলের যে অভিযোগ তার মধ্যে বনবিভাগের জমি, খাস জমি আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পিরকে তলব করা হবে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, ‘অনুসন্ধান টিম রাজারবাগ এলাকা পরিদর্শন করেছে। টিমের কর্মকর্তা যদি মনে করেন, তাহলে তাকে (রাজারবাগ পির) জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।’

অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ১৬ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে তিন সদস্যদের টিম করা হয়। অন্য সদস্যরা হলেন, সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম ও মো. আলতাফ হোসেন। আর তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাত হাজার একর জমি দখল ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে রাজারবাগ পির দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত তদন্ত করতে দুদককে নির্দেশ দিয়েছে।

অনুসন্ধান টিমকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে।

দুদক সচিব বলেন, ‘আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমরা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো। আর না পারলে আদালতের কাছে সময় চাওয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
গোয়াইনঘাটে তিন খুন: আহত হিফজুর গ্রেপ্তার
গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়
মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান
গোয়াইনঘাটে তিন খুন : সন্দেহের তির আহত স্বামীর দিকেই
গোয়াইনঘাটে ৩ খুন: ক্লু খুঁজছে পুলিশ

শেয়ার করুন

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন বলেন, বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীর এলাকায় দায়িত্বে থাকা চার সদস্যকে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরুর সঙ্গে উড়োজাহাজের ধাক্কার ঘটনায় চার আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন।

তিনি বলেন, বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীর এলাকায় দায়িত্বে থাকা চার সদস্যকে দায়িত্বে গাফিলতির কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদের সুপারিশের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিমানবন্দরে মঙ্গলবার বিকেলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ। সেটি ওড়ার সময় রানওয়েতে ঢুকে পড়ে দুটি গরু। সেগুলোকে ধাক্কা দিয়েই যাত্রী নিয়ে আকাশে ওড়ে বিজি ৪৩৪ ফ্লাইটটি।

উড়োজাহাজ ও আরোহীরা নিরাপদে থাকলেও মারা গেছে বিমানের সঙ্গে ধাক্কা লাগা দুটি গরু।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু প্রায় ৭৫ বছর আগে। একে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করতে কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের জুলাইয়ে। তিন বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করেন। তবে রানওয়ের কাজ শেষ হওয়ায় ২০১৭ সাল থেকেই এখানে অবতরণ-উড্ডয়ন করছে আন্তর্জাতিক রুটের বিমান। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিদিনই আকাশপথে কক্সবাজার আসছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

এমন অবস্থায় মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরুর মৃত্যুর পর বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা দুর্বলতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

উড়োজাহাজে গরুর ধাক্কায় চাকরি গেল আনসারের চার জনের
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে মঙ্গলবার বিকালে উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরু মারা গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে জানান, বিমানের ফ্লাইটটি মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় ডান পাশের পাখায় ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়ে গরু দুটি। সেখানেই সেগুলো মারা যায়। তবে উড়োজাহাজটি ৯৪ যাত্রী নিয়ে সফলভাবেই উড্ডয়ন করে।

২০০৫ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরে একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে বিদেশি পাইলটসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। কার্গো উড়োজাহাজটি কক্সবাজার থেকে চিংড়ি পোনা নিয়ে যশোর যাচ্ছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজের চাকায় পিষ্ট হয়ে রানওয়েতে তিনটি কুকুরের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
গোয়াইনঘাটে তিন খুন: আহত হিফজুর গ্রেপ্তার
গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়
মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান
গোয়াইনঘাটে তিন খুন : সন্দেহের তির আহত স্বামীর দিকেই
গোয়াইনঘাটে ৩ খুন: ক্লু খুঁজছে পুলিশ

শেয়ার করুন

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরু ঢুকল কীভাবে

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরু ঢুকল কীভাবে

কক্সবাজার বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীর বিভিন্ন অংশে ভেঙে পড়েছে। এসব অংশ দিয়ে অবাধে রানওয়ের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। তারা রানওয়েকে ব্যবহার করছে চলাচলের ‘শর্টকাট’ পথ হিসেবে। প্রাচীরের ভেঙে পড়া অংশ দিয়ে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীও ঢুকে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মর্যাদা পেলেও কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো। রানওয়েতে অবাধ চলাচল এলাকাবাসীর, বিমান অবতরণ ও উড্ডয়নের সময় ঢুকে পড়ছে গবাদি পশুসহ নানা প্রাণী।

এই বিমানবন্দরে মঙ্গলবার বিকেলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ। সেটি ওড়ার সময় রানওয়েতে ঢুকে পড়ে দুটি গরু। সেগুলোকে ধাক্কা দিয়েই যাত্রী নিয়ে আকাশে ওড়ে বিজি ৪৩৪ ফ্লাইটটি।

উড়োজাহাজ ও আরোহীরা নিরাপদে থাকলেও মারা গেছে বিমানের সঙ্গে ধাক্কা লাগা দুটি গরু।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, সীমানা প্রাচীরটি নুনিয়াছড়া, কুতুবদিয়া পাড়া, নুনিয়াছড়া লাস্ট মাথা, ৬ নম্বর এলাকায় ভেঙে পড়েছে। এসব অংশ দিয়ে অবাধে রানওয়ের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। তারা রানওয়েকে ব্যবহার করছে চলাচলের ‘শর্টকাট’ পথ হিসেবে। এমনকি অকারণে ঘোরাঘুরি করতেও রানওয়েতে ঢুকছেন অনেকে।

প্রাচীরের ভেঙে পড়া অংশ দিয়ে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণী ঢুকে পড়ছে। এতে বাড়ছে বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু প্রায় ৭৫ বছর আগে। একে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নিত করতে কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের জুলাই মাসে। তিন বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করেন। তবে রানওয়ের কাজ শেষ হওয়ায় ২০১৭ সাল থেকেই এখানে অবতরণ-উড্ডয়ন করছে আন্তর্জাতিক রুটের বিমান। এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রতিদিনই আকাশ পথে কক্সবাজার আসছেন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরু ঢুকল কীভাবে
বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ দিয়ে অবাধে চলছে যাতায়াত, ঢুকে পড়ছে পশু

এমন অবস্থায় মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরুর মৃত্যুর পর বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা দুর্বলতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক নিউজবাংলাকে জানান, বিমানের ফ্লাইটটি মঙ্গলবার উড্ডয়নের সময় ডান পাশের পাখায় ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়ে গরু দুটি। সেখানেই সেগুলো মারা যায়। তবে উড়োজাহাজটি ৯৪ যাত্রী নিয়ে সফলভাবেই উড্ডয়ন করে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি খুঁজতে তদন্তে কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে গরু ঢুকল কীভাবে


কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েকটি পয়েন্টে সীমানা প্রাচীর সংস্কারের কাজ চলছে। দ্রুত তা শেষ হলে এসব গবাধি পশু বা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ঝুঁকি কেটে যাবে।’

২০০৫ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরে একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে বিদেশি পাইলটসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। কার্গো উড়োজাহাজটি কক্সবাজার থেকে চিংড়ি পোনা নিয়ে যশোর যাচ্ছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজের চাকায় পিষ্ট হয়ে রানওয়েতে তিনটি কুকুরের মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
গোয়াইনঘাটে তিন খুন: আহত হিফজুর গ্রেপ্তার
গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়
মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান
গোয়াইনঘাটে তিন খুন : সন্দেহের তির আহত স্বামীর দিকেই
গোয়াইনঘাটে ৩ খুন: ক্লু খুঁজছে পুলিশ

শেয়ার করুন

বিজিবি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা: এজাহারে অভিযোগ

বিজিবি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা: এজাহারে অভিযোগ

নিহত বিজিবি নায়েক রুবেল মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

এজাহারে বলা হয়, নির্বাচনি যানবাহন, ভাড়া করা গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং স্কুলঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এরই মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে কেন্দ্রে উপস্থিত হয় বিজিবির টিম। তখন মারুফ হোসেন অন্তিকের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় বিজিবি সদস্য রুবেল মণ্ডলকে।

অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বিজিবি সদস্য রুবেল মণ্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন পরাজিত জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্যের হত্যার ঘটনায় করা মামলায় এই অভিযোগ এনেছেন বাদী।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং অফিসার, পুলিশ, আনসার ও বিজিবি সদস্যদের হত্যাচেষ্টা করেন।

কিশোরগঞ্জ থানায় সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে মামলাটি করা হয়। গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় মামলাটি করেন।

মামলায় মারুফ হোসেন অন্তিককে প্রধান করে ৯৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে এরই মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন পশ্চিম দলিরাম গ্রামের আনোয়ার হোসেন, ইসমাইল হোসেন, যাদু মিয়া, মজনু মিয়া, শরিফুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, মো. নিশাদ ও মো. নিরব।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২৮ নভেম্বর ভোট শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মারপিট করে পরাজিত প্রার্থী অন্তিকের সমর্থকরা।

এ সময় ব্যালট বাক্স, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সম্মানী ভাতার ৫৬ হাজার ৬৫০ টাকা চুরি করে পালানোর চেষ্টা হলে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

এ সময় নির্বাচনি যানবাহন, ভাড়া করা গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং স্কুলঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এরই মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে কেন্দ্রে উপস্থিত হয় বিজিবির টিম। তখন মারুফ হোসেন অন্তিকের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় বিজিবি সদস্য রুবেল মণ্ডলকে।


বিজিবি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা: এজাহারে অভিযোগ


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৪৬ রাউন্ড এবং বিজিবি ১৩৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

অভিযোগের বিষয়ে জানাতে বাদী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিম মঙ্গলবার দুপুরে সার্কিট হাউসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে টিমে ছিলেন বিজিবি রংপুর রিজিওনাল কমান্ডার মাহবুবার রহমান খান, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক ওয়ালিদ হোসেন এবং নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান বেগ।

টিমের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবীরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়ালসহ আরও কয়েকজন।

জেলা জজ আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আটজনকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল নিউজবাংলাকে জানান, জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হবে।

আরও পড়ুন:
গোয়াইনঘাটে তিন খুন: আহত হিফজুর গ্রেপ্তার
গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়
মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান
গোয়াইনঘাটে তিন খুন : সন্দেহের তির আহত স্বামীর দিকেই
গোয়াইনঘাটে ৩ খুন: ক্লু খুঁজছে পুলিশ

শেয়ার করুন