জয়পুরহাটের অক্সিজেন ব্যাংকে আরও ১২টি সিলিন্ডার

জয়পুরহাটের অক্সিজেন ব্যাংকে আরও ১২টি সিলিন্ডার

৮টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে শুক্রবার এই ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলেও শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা আরও ১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার জমা দেন। এ নিয়ে অক্সিজেন ব্যাংকে জমা হলো মোট ২০টি সিলিন্ডার।

জয়পুরহাটে করোনা আক্রান্ত আক্রান্তদের সেবায় মানবিক অক্সিজেন ব্যাংকে যোগ হল আরও ১২টি সিলিন্ডার।

৮টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে শুক্রবার এই ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলেও শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা আরও ১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার জমা দেন। এ নিয়ে অক্সিজেন ব্যাংকে জমা হলো মোট ২০টি সিলিন্ডার।

জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা বলেন, ‘করোনা রোগীরা সর্দি, জ্বর, গলা ব্যাথার পাশাপাশি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগেন। তখন তাদের প্রয়োজন অক্সিজেন। এ পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ রোগীদের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে এই ব্যাংক চালু করা হয়েছে।

‘দিন কিংবা রাতে আমাদের নম্বরে (০১৭৩৭-৫৯৯৬৬৬) ফোন করলেই জেলার যে কোনো প্রান্তে রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে অক্সিজেন সিলিন্ডার।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) ইসতিয়াক আলম, জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান, জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল,সাধারণ সম্পাদক খ.ম আব্দুর রহমান রনিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।

আরও পড়ুন:
অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ
বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধা
৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর কিনছে সরকার
অক্সিজেন অপচয় রোধে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইভানার মৃত্যু: ৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

ইভানার মৃত্যু: ৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মানের (বাঁয়ে) নামে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা করেছে তার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

মামলার এজাহারে আমানুল্লাহ চৌধুরী মেয়ের মৃত্যুর জন্য ইভানার স্বামীর অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে এমন ওষুধ দেয়ায় আসামি করা হয়েছে চিকিৎসককেও।

ইংরেজি মাধ্যম স্কুল স্কলাসটিকার ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ইভানা লায়লা চৌধুরীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় ৭ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রোববার মামলার এজাহার গ্রহণের পর এ আদেশ দেয় ঢাকার মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালত। এসময় শাহবাগ থানা পুলিশকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ারও নির্দেশ দেন বিচারক।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন শাহাবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও পুলিশের উপপরিদর্শক মো. নিজাম উদ্দিন।

এর আগে শনিবার রাতে ইভানার মৃত্যু ঘটনায় দুই জনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন তার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী।

এরা হলেন ইভানার স্বামী আবদুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মান ও ইমপালস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক মুজিবুল হক মোল্লা।

মামলার এজাহারে আমানুল্লাহ চৌধুরী মেয়ের মৃত্যুর জন্য ইভানার স্বামীর অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে এমন ওষুধ দেয়ায় আসামি করা হয়েছে চিকিৎসককেও।

মামলার এজাহারে বলা হয়, চিকিৎসকের (নেফ্রোলজিস্টের) পরামর্শপত্র অনুযায়ী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইভানাকে গত এক বছর ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল। ইভানা তার বন্ধুদের জানান, প্রেমিকার সঙ্গে কথা বলার জন্য তার স্বামী রুম্মান তাকে (ইভানাকে) ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন।

১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাহবাগের নবাব হাবিবুল্লাহ রোডে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পেছনে) দুই ভবনের মাঝখান থেকে ইভানা লায়লা চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়।

ইভানা লায়লা চৌধুরী দুই সন্তানের জননী ছিলেন। ছেলের বয়স ৮ আর মেয়ের বয়স ৬।

আরও পড়ুন:
অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ
বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধা
৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর কিনছে সরকার
অক্সিজেন অপচয় রোধে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

কিশোর হত্যা মামলায় দুজন কারাগারে

কিশোর হত্যা মামলায় দুজন কারাগারে

প্রতীকী ছবি

ওসি দুলাল বলেন, ‘দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর মহসীন ও ইরফান খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্যই মূলত শাকিলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তারা।’

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এক কিশোর হত্যা মামলায় দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ।

দুই আসামি হলেন উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মহসীন এবং চট্টগ্রাম নগরীর ইতালি কলোনি এলাকার মো. ইরফান।

এর আগে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বন্দর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ওই দিন বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী সড়কের পাশের ধানক্ষেত থেকে মো. শাকিল নামের ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শাকিল একই উপজেলার শিকলবহা ইউনিয়নের মো. নাজিমের ছেলে।

শনিবার বিকেল ৪টার দিকে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেন শাকিলের বাবা নাজিম।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে শাকিলের মোবাইল ফোন ও অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি দুলাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শনিবার সকালে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধারের পর বিকেলে তার বাবা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

ওসি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর মহসীন ও ইরফান খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্যই মূলত শাকিলকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তারা।’

মামলাল এজাহার থেকে জানা যায়, শাকিল কর্ণফুলীর পুরাতন ব্রিজঘাট এলাকায় একটি গ্যাসের দোকানে কাজ করত। অতিরিক্ত উপার্জনের জন্য মাঝেমধ্যে রাতে রিকশা চালাত সে।

শুক্রবার বিকেলেও রিকশা নিয়ে বের হয় শাকিল। কিন্তু এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাতে তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়।

কর্ণফুলী থানার ওসি দুলাল বলেন, ‘উদ্ধারের সময় শাকিলের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।’

আরও পড়ুন:
অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ
বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধা
৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর কিনছে সরকার
অক্সিজেন অপচয় রোধে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

এবার কবরের সন্ধানে শম্পার বাবা

এবার কবরের সন্ধানে শম্পার বাবা

শম্পা বেগম। ছবি: সংগৃহিত

শম্পার মরদেহ দাফন করেছিল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। সংস্থাটির কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, ছয় বছর পরে কবরের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। বেওয়ারিশ কবর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও চিহ্নিত করে রাখা হয় না। তবে কোন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে, তা মামলার নথি দেখে বের করা যাবে।

নিখোঁজ মেয়ের জন্য অপেক্ষার পালা শেষ। খুনের ছয় বছর পর বাবা জেনেছেন, মেয়ে শম্পা বেঁচে নেই। মরদেহ দাফন হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় তরুণী হিসেবে। সেই কবর চিহ্নিত করতে এখন ছুটছেন বাবা ইলিয়াস শেখ।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে শম্পার হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে। গ্রেপ্তার করেছে তার কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপনকে। আসামির স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, শম্পাকে হত্যা ও মরদেহ গুমের নানা চেষ্টার তথ্য।

পিবিআই সদর দপ্তরে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার তুলে ধরেন শম্পা বেগমকে হত্যা ও তার কথিত স্বামী স্বপনকে গ্রেপ্তারের তথ্য।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন শম্পার বাবা ইলিয়াস শেখ। ব্রিফিংয়ের সময় বড় পর্দায় মেয়ের ছবি দেখে ঢুকরে কেঁদে উঠেন তিনি।

পরে নিউজবাংলাকে তিনি জানান, ছয় বছর আগে মেয়ে নিখোঁজ হলেও আবার দেখা পাবেন, এমন আশায় ছিলেন এতদিন। গত বুধবার পিবিআই সদস্যরা তাকে জানান, শম্পা হত্যার শিকার হয়েছেন। এখন মেয়েকে জীবিত দেখার আশা ছেড়ে মরদেহ বা কবরের চিহ্নটুকু খুঁজতে খুলনা থেকে তিনি ছুটে এসেছেন ঢাকায়।

পিবিআই জানায়, শম্পা চট্টগ্রামে হত্যার শিকার হলেও অজ্ঞাত তরুণী হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার হয় ঢাকায়। এরপর ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে দাফনের কাজ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ২০১৫ সালের ২ মে গভীর রাতে খুনের শিকার হন খুলনা দৌলতপুরের তরুণী শম্পা বেগম। কথিত স্বামী রেজাউল করিম স্বপন তাকে হত্যার পর মরদেহ ট্রাঙ্কবন্দি করে একটি বাসে তুলে দেন। যা ঢাকার গাবতলীতে উদ্ধার হয়।

হত্যার আগের রাতে মোবাইল ফোনে বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল শম্পার। পরদিন খুলনায় যাবেন বলে বাবাকে জানান। তারপর থেকে অপেক্ষায় বাবা ইলিয়াস শেখ।

মেয়ের মরদেহ দেখার জন্য ইলিয়াসের শেষ ইচ্ছা এখন পূরণ হবার নয় বলেই জানান মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। যেখানে শম্পাকে দাফন করা হয়েছিল, সেই চিহ্নটুকু এখন খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ, অজ্ঞাত পরিচয়ের কবর দীর্ঘদিন চিহ্নিত করে রাখার ব্যবস্থা নেই। তবে যে করবস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে, যারা ব্যবস্থাপনা করেছেন তাদের কাছে শুধুমাত্র নথি পাওয়া যেতে পারে।

মরদেহ দাফন করেছিল আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম। সংস্থাটির কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, ‘ছয় বছর পরে কবরের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। বেওয়ারিশ কবর দীর্ঘদিন সংরক্ষণ ও চিহ্নিত করে রাখা হয় না। তবে কোন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে, তা মামলার নথি দেখে বের করা যাবে।

‘কবরের জায়গায় মরদেহের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে জুরাইন কবরস্থানে মাটি ভরাট করা হয়েছে, সেখানে দাফন হলে তো কিছুই করার থাকবে না। অন্য কবরস্থানে হলেও দাফনের তিন মাস পরই মরদেহ পাওয়া যায় না। নথি যাচাই করে শম্পার মরদেহ সম্পর্কে যতোটুকু জানা যায় তা তার বাবাকে বলা যাবে।’

আলোচিত মামলাটির তদন্ত হয়েছে পিবিআইয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমের তত্বাবধানে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক ও অন্যতম লক্ষ্য ছিল তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করা। এরপর ছিল আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের বিষয়। এ দুটিই আমাদের কর্মকর্তারা সফলভাবে করতে পেরেছেন। এখন মামলার স্বার্থেই যাচাই করা হবে কবর কোথায় হয়েছিল, সেই তথ্য।’

আরও পড়ুন:
অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ
বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধা
৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর কিনছে সরকার
অক্সিজেন অপচয় রোধে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিখোঁজ শ্রমিকের লাশ ‍উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন শ্রমিক সাদ্দাম। শুক্রবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে একটি তেলের জাহাজে (ট্যাংকার) বিস্ফোরণে নিখোঁজ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

কর্ণফুলী নদীর ব্রিজঘাট এলাকা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে সদরঘাট নৌপুলিশ।

মৃত শ্রমিকের নাম নজরুল ইসলাম সাদ্দাম। তার বাড়ি পটিয়ার চরলক্ষ্যা এলাকায়।

ঘটনার দিন তিনি জাহাজে মেরামতের কাজ করছিলেন।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ব্রিজঘাট এলাকায় নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়।’

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে চরপাথরঘাটার ২ নম্বর ওয়ার্ডে ‘ও সি ওশান’ জাহাজের ট্যাংকারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জাহাজের লস্কর মো. জিসান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে বুধবার রাত ৮টার দিকে মারা যান।

ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় আত্মরক্ষার্থে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হন নজরুল।

সদরঘাট নৌ-থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার বিকেলে মূল ট্যাংক থেকে গ্যাস সংযোগ নিয়ে জাহাজের কোনো একটি অংশে মেরামতের কাজ করছিলেন সাদ্দাম। এ সময় গ্যাস ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হলে তিনি নদীতে লাফ দেন। পরে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আজ (শুক্রবার) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

এসআই আবুল কালাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই জাহাজটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয় মালিকপক্ষ। তাই খবর পেতে একটু দেরি হয়েছে। তবে রাতে বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছুই পাইনি। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ
বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধা
৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর কিনছে সরকার
অক্সিজেন অপচয় রোধে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

জামালপুর রেলওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে ট্রেনের নিরাপত্তার জন্য শুধু একজন কনস্টেবল আসেন। ১৬ থেকে ১৭টি বগি একজন কনস্টেবলের পক্ষে সামলানো মুশকিল।’

চলন্ত ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে ‘লুট’, আঘাতে দুজনকে ‘হত্যা’। রাতে দূরের যাত্রায় নতুন নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হলো কি?

এই ঘটনায় পুলিশ যে বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে যাত্রীদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে।

যাত্রীরা বলছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি ময়মনসিংহ অতিক্রম করার পর ডাকাত দল লুটপাট শুরু করে। তারা কামরায় ওঠেনি, উঠেছে ছাদে। নির্বিঘ্নে লুটপাট করেছে তারা। এরপর নেমে গেছে। কেউ বাধাও দিতে পারেনি।

কেন বাধা দেয়া যায়নি, তার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল রেল পুলিশের একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে।

জামালপুর রেলওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা থেকে ট্রেনের নিরাপত্তার জন্য শুধু একজন কনস্টেবল আসেন। ১৬ থেকে ১৭টি বগি একজন কনস্টেবলের পক্ষে সামলানো মুশকিল।

‘আর ট্রেন যখন চলে তখন অনেক শব্দ হয়। তাই ছাদে কী হচ্ছে বোঝা যায় না। আর ট্রেনটি যখন জামালপুর আসে তখন ছাদে শুধু আহতরাই ছিলেন। যদি ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠেন তাহলে অন্য স্টেশনে উঠেছেন। এই জায়গায় আমাদের করার কিছু নেই।’

ট্রেনের ছাদে ওঠা স্পষ্টত আইনবিরুদ্ধ। আর করোনাকালে আসনের বাইরে কোনো যাত্রী তোলাও নিষেধ। অথচ ট্রেনটিতে যাত্রী ছিল উপচে পড়া, কামরার পাশাপাশি ছাদেও চড়েছেন শত শত মানুষ। অথচ কোনো স্টেশনে তাদের সেখানে উঠতে বাধাও দেয়া হয়নি। এখানে রেলের কর্মীদের দায়িত্বহীনতার প্রসঙ্গটিও সামনে আসে।

এই বিষয়ে এক প্রশ্নে জামালপুর রেলের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা তো নতুন কোনো ঘটনা নয়।’

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনটি ময়মনসিংহ শহর অতিক্রম করার সময় ছাদে দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত যাত্রী রুবেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কমলাপুর থাইক্যা বিকাল ৪টায় কমিউটার ট্রেনে উঠি। টিকিট পাই নাই। আর অনেক ভিড় আছিল। তাই ছাদে উঠি। ছাদে অনেক লোক আছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন গফরগাঁওয়ে আসলাম, তখন ছাদে বেশ কয়েকজন উঠল। গফরগাঁও থাইকে ট্রেন ছাড়ার পর কমপক্ষে সাতজন ট্রেনের সামনে থাইকে ডাকাতি করা শুরু করে। আমি মাঝখানে আছিলাম।

‘পরে আমার এইখানে আইসেও ছুরির ভয় দেখায়ে আমার মোবাইল, মানিব্যাগ সব নিয়ে যায়। অন্ধকার আছিল। তাই ওরা মাস্ক না পরলেও চেহারা দেখা যায় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেনে প্রচুর ভিড় থাকায় আমরা অনেকে ছাদে উঠি। গফরগাঁও থেকে ডাকাতেরা ছাদে ওঠে। যার যা কিছু ছিলে সব নিয়ে গেছে।

‘পরে আমরা কয়েকজন মিল হয়ে কিছু মাল ফেরত চাইতে গেলে আমাদের অনেক মারধর করে। ওই জায়গায় অনেকজন ছিল, কিন্তু কেউ বাধা দেয় নাই। ওদের মাইরে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পরে আমার আর কিছু মনে নাই।’

মো. ফারুক নামে আরেকজন বলেন, ‘টঙ্গী থেকে ট্রেনের ছাদে উঠি। গফরগাঁওয়ে আসার পর আমাদের ২০-২৫ জনের সব মাল নিয়ে নেয় সাতজন। ওদের হাতে ছুরি ছিল। তাই আমি সব দিয়ে দিছি।

“ময়মনসিংহ আসার পর নাহিদ ভাই (আরেক যাত্রী) আমাদের ডাক দিয়ে বলে, ‘ভাই, চলো যায়ে বলি, টাকাগুলো নিয়ে নেন। মালগুলো দিয়ে দেন। পরে আমি যাই নাই। ওরা গেছে। ওরা যাওয়ার পরেই কারেন্ট চলে গেছে। এমন সময় অন্ধকারে দেহি মারামারি হইতাছে।

“পরে আমি চিৎকার মারলেও ট্রেনের শব্দে কেউ কিছু শুনে নাই। পরে একটা ব্রিজ আইছিল। তহন আমরা শুয়ে পড়ছিলাম। এরপরে উইঠে দেহি ডাকাতরা আর নাই। পরে জামালপুর আসলে আমরা নিচে নাইমে সবাইরে খবর দেই।“

এত যাত্রী মিলে কেন প্রতিহত করা গেল না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রেনের ছাদে অনেকজন ছিলাম। কিন্তু ওদের হাতে ছুরি ছিল। তাই কেউ আগায় নাই।’

ট্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

মৃতদের পরিচয় শনাক্ত

গত রাতে জামালপুরে মৃত অবস্থায় যে দুজনকে পাওয়া যায়, তার একজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে সকালে।

তারা হলেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সানন্দবাড়ী মিতালী বাজার এলাকার ওয়াহিদের ছেলে নাহিদ ও জামালপুর শহরের বাগেড়হাটা বটতলা এলাকার হাফিজুর রহমানের ছেলে সাগর।

সাগরের বাবা হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার পুলা ওর বড় বোনকে ঢাকা রাখতে গেছিলে। আমরা জানতাম না যে এই ঘটনা ঘটছে। রাতে বাড়িতে আয় নাই। সারা রাত আমরা পুলারে খুঁজছি।

‘সকালে একজনের মুখে শুইনে আইসে দেখি আমার পুলার লাশ পইড়ে আছে। আমরা এডের বিচার চাই। আমার পুলার দুইডে সন্তান আছে। এহন ওদের কে দেখব।’

ঢাকা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।’

এসব বিষয়ে ঢাকা জেলা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, কিছু দুষ্কৃতকারীর আক্রমণের আঘাতেই দুজন মারা যায়। আমরা এখন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। আশা করি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’

আরও পড়ুন:
অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ
বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধা
৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর কিনছে সরকার
অক্সিজেন অপচয় রোধে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

ঝুমনের মুক্তি কবে

ঝুমনের মুক্তি কবে

সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাস। ফাইল ছবি

আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ঝুমনের ভাই নুপুর দাস বলেন, ‘আদালতের জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে ঝুমন মুক্তি পাবে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববারের দিকে সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছাতে পারে।’

ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের বিতর্কিত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে গ্রেপ্তার ঝুমন দাস আপন জামিন পেলেও কারাগার থেকে এখনও মুক্ত হননি।

সুনামগঞ্জের শাল্লার এই যুবক এখনও আছেন জেলা কারাগারে।

ঝুমনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের জামিন আদেশ কারাগারে না পৌঁছানোয় তার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে অপেক্ষা বাড়ছে ঝুমনের পরিবারের।

আইনজীবীদের ধারণা, রোববার ঝুমনের জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছাতে পারে।

শর্তসাপেক্ষে বৃহস্পতিবার এক বছরের জন্য ঝুমনকে জামিন দেয় হাইকোর্ট।

আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ঝুমনের ভাই নুপুর দাস বলেন, ‘আদালতের জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে ঝুমন মুক্তি পাবে। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববারের দিকে সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছাতে পারে। ফলে রোববারের আগে তার মুক্তি মিলছে না।’

সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার শরীফুল আলম শুক্রবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঝুমন দাসের জামিনের খবর গণমাধ্যমের মাধ্যমে শুনেছি। তবে এখনও কোনো আদেশ পাইনি।

‘হাইকোর্টের জামিন আদেশ প্রথমে সুনামগঞ্জের নিম্ন আদালতে এসে পৌঁছবে। সেখান থেকে বেইল অর্ডার আসলে আমরা তার মুক্তির ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

জেলা আদালতে ঝুমনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাশ।

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালতের জামিনের কাগজপত্র সুনামগঞ্জে আসার পর আমরা সংশ্লিষ্ট আদালতে জামিননামা দাখিলের আবেদন করব। আদালতের আদেশের কপি কারাগারে গেলেই তিনি মুক্তি পাবেন।’

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার ঝুমনের জামিনের আদেশ দেয়।

ঝুমনকে এক বছরের জন্য জামিন দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না বলে শর্ত দেয়া হয়েছে। শর্তে আরও আছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি যেতে পারবেন না সুনামগঞ্জের বাইরেও।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, নাহিদ সুলাতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে ‘শানে রিসালাত সম্মেলন’ নামে একটি সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। এতে হেফাজতের তৎকালীন আমির জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বক্তব্য দেন।

এই সমাবেশের পরদিন ১৬ মার্চ মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন শাল্লার নোয়াগাঁওয়ের ঝুমন দাস। স্ট্যাটাসে তিনি মামুনুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনেন।

মামুনুলের সমালোচনাকে ইসলামের সমালোচনা বলে এলাকায় প্রচার চালাতে থাকেন তার অনুসারীরা। এতে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা ১৬ মার্চ রাতে ঝুমনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

পরদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সকালে কয়েক হাজার লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করে হামলা চালায় নোয়াগাঁও গ্রামে। তারা ভাঙচুর ও লুটপাট করে ঝুমন দাসের বাড়িসহ হাওরপাড়ের হিন্দু গ্রামটির প্রায় ৯০টি বাড়ি, মন্দির। ঝুমনের স্ত্রী সুইটিকে পিটিয়ে আহত করা হয়।

এরপর ২২ মার্চ ঝুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম।

শাল্লায় হামলার ঘটনায় শাল্লা থানার এসআই আব্দুল করিম, স্থানীয় হাবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল ও ঝুমন দাসের মা নিভা রানী তিনটি মামলা করেন। তিন মামলায় প্রায় ৩ হাজার আসামি। পুলিশ নানা সময়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তারা সবাই এখন জামিনে।

শুধু জামিন পাচ্ছিলেন না ঝুমন দাস। বিচারিক আদালতে পাঁচ দফা চার জামিন আবেদন নাকচ করেন বিচারক। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন অধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা চলছিল।

এর মধ্যে জামিনের জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেন ঝুমন দাস, পেলেন জামিন।

ঝুমনের স্ত্রী সুইটি রানী দাস বলেন, ‘তার জামিনের খবরে আমরা খুশি। এখন তিনি কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসবেন, এটাই চাই।’

আরও পড়ুন:
অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ
বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধা
৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর কিনছে সরকার
অক্সিজেন অপচয় রোধে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নির্দেশিকা

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

নগরীর বোর্ডবাজারের দুটি এলাকায় বিরোধী পক্ষ সমাবেশ ডেকেছে বেলা তিনটায়, আর জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা ডেকেছে বেলা সাড়ে তিনটায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, রাস্তায় নেমেছে জলকামান।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উঠার পর গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তি চেয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে তার বিরোধীরা আর মেয়রের পক্ষের কর্মীরা একই এলাকায় সমাবেশ ডাকায় নতুন করে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা।

নগরীর বোর্ডবাজারে বিরোধী পক্ষ সমাবেশ ডেকেছে বেলা তিনটায়, আর জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা ডেকেছে বেলা সাড়ে তিনটায়। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও রাস্তায় নামানো হয়েছে জলকামান।

বোর্ড বাজার বড় মসজিদের সামনে শুক্রবার বিকাল তিনটায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে সিটি মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়েছে। তাতে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিকাল সাড়ে তিনটায় বোর্ড বাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেছে মহানগর আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ। তাদের উপলক্ষ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের সম্মাননা অর্জন। এ সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা মেয়র জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারী নেতাকর্মীদের।

বেলা তিনটার পর থেকে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরাই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে। ঝাড়ু হাতে মিছিল নিয়ে আসতে দেখা গেছে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মীদের। তবে এখনও নেতাদের কেউ সেখানে আসেননি।

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

টানটান উত্তেজনার মধ্যে দুপুরের আগে থেকেই ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। আশপাশের ভবনের ছাদেও অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার লুৎফুল কবির, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বরকত উল্লাহ, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জাকির হোসেন, উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হাসিবুল আলমসহ বাহিনীটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে আছেন পরিস্থিতি সামলাতে।

সব মিলিয়ে পুলিশের ৪ শতাধিক সশস্ত্র সদস্য অবস্থান নিয়ে আছেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাসিবুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‌‘সমাবেশস্থলের আশপাশে জিএমপি কমিশনার স্যারের নেতৃত্বে ৪০০ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জলকামানসহ সাদাপোশাকে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মহাসড়কে যেন যানচলাচল বন্ধ না হয় সেজন্য কাজ করছে পুলিশ।’

গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে একটি ঘরোয়া আয়োজনে মেয়র জাহাঙ্গীরকে কথা বলতে দেখা যায়।

চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

এই ঘটনায় বুধবার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কার, তার পদ কেড়ে নেয়া ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার রেল লাইনও অবরোধ করে তারা।

এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সময় মেয়র জাহাঙ্গীর ছিলেন ভারতে। বুধবার গভীর রাতে দেখে ফিরে তিনি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তার দাবি, এই ভিডিওটি বানোয়াট। ভিডিওটি যারা শেয়ার করেছেন, তাদেরকে সেটি ডিলিট করে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, না হলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন:
অক্সিজেনসহ চিকিৎসক নিয়ে রোগীর বাড়ি যাবে পুলিশ
বাবার কষ্টের মৃত্যুতে ছেলে বানালেন ‘অক্সিজেন কনসেনট্রেটর’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সুবিধা
৪০টি অক্সিজেন জেনারেটর কিনছে সরকার
অক্সিজেন অপচয় রোধে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নির্দেশিকা

শেয়ার করুন