শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে: অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে: অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

পাবনা গণপূর্ত বিভাগে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন ঠিকাদারের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়ার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আমরা বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় প্রদর্শিত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছি।’

পাবনায় গণপূর্ত ভবনে অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মহড়ার ঘটনা তদন্তের পর অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই নেতাদের অস্ত্র ও গুলির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আমরা বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় প্রদর্শিত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছি।’

৬ জুন দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাজী ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গণপূর্ত ভবনে যান।

তারা বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমকে খুঁজতে থাকেন। পরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কক্ষে যান ওই নেতারা। তবে কিছুক্ষণ পর তারা বের হয়ে যান।

লিখিত অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনা তদন্তে নামে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দ করে পুলিশ।

মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হওয়া নিয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষের লোকজন খোঁজ খবর তারা করায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগ না করলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। ঠিকাদারদের প্রদর্শিত অস্ত্রও জব্দ করা হয়।’

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
গণপূর্ত ভবনে মহড়া: আ.লীগের দুই নেতার আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ
আ.লীগ নেতারা শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্রাফিক পুলিশ নিহতের মামলায় চালক রিমান্ডে

ট্রাফিক পুলিশ নিহতের মামলায় চালক রিমান্ডে

জামিনের আবেদনে আসামির আইনজীবী বলেন, ‘গাড়ি চালাতে গেলে ইচ্ছার বিরুদ্ধে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কেউ ইচ্ছা করে কেন কাউকে চাপা দিতে যাবেন?  চলন্ত গাড়ির সামনে দুর্ঘটনার শিকার কর্তব্যরত ট্রাফিক সদস্য হঠাৎ করে চলে আসেন, যা আসামি বুঝে উঠতে পারেন নাই।’

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে মাইক্রোবাসের চাপায় ট্রাফিক পুলিশ হেলালের নিহত হওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার চালক বিল্লাল মুন্সিকে তিন দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।

সোমবার ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম আশেক ইমাম এ আদেশ দেন।

এদিন আসামি বিল্লালকে আদালতে হাজির করে সাত দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজানুর রহমান।

আসামির পক্ষে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

আবেদনে আসামির আইনজীবী বলেন, ‘গাড়ি চালাতে গেলে ইচ্ছার বিরুদ্ধে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কেউ ইচ্ছা করে কেন কাউকে চাপা দিতে যাবেন? চলন্ত গাড়ির সামনে দুর্ঘটনার শিকার কর্তব্যরত ট্রাফিক সদস্য হঠাৎ করে চলে আসেন, যা আসামি বুঝে উঠতে পারেন নাই।

‘এই দুর্ঘটনায় চালক আসামির কোনো প্রকার মানসিক ইচ্ছা বা হাত ছিল না। রিমান্ড হওয়ার মত কোনো আইনি উপাদান নেই। আসামির রিমান্ড আবেদন বাতিল করে যেকোনো শর্তে জামিন দেয়া হোক।’

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিল্লাল মুন্সিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

রোববার রাতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থেকে বিল্লাল মুন্সিকে গ্রেপ্তার করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের একটি টিম।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কনস্টেবল হেলাল প্রতিদিনের মতো ডিউটি করছিলেন। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনের রাস্তায় হাসপাতাল থেকে গাড়ি বের করার জন্য সিগন্যাল দেন। এসময় একটি সিলভার কালারের মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দেয়। হেলাল পড়ে গেলে গাড়িটি তার উপর উঠে গেলে গুরুতর আহত হন তিনি।

হেলালকে সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় হেলালের শ্যালক ইছাম উদ্দিন শেরেবাংলা নগর থানায় বাদি হয়ে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে মামলা করেন।

কনস্টেবল হেলালের বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায়।

আরও পড়ুন:
গণপূর্ত ভবনে মহড়া: আ.লীগের দুই নেতার আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ
আ.লীগ নেতারা শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে

শেয়ার করুন

ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি

ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি

প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি এবং অর্জিত মুনাফা থেকেই গ্রাহক ও মার্চেন্টদের আগের পাওনা পরিশোধ করা হবে। এজন্য সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী, নজরদারিতে থেকে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর আয়-ব্যয় ও পুরনো গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে অগ্রগতির তথ্য জানাতেও তারা প্রস্তুত।

‘সাইক্লোন’ এর মতো ডিসকাউন্ট অফারে লোকসানি ব্যবসা আর করছে না ইভ্যালি। ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় এই ক্যাম্পেইন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বদলেছে ব্যবসার ধরন। নতুন স্লোগানে শুরু হয়েছে ‘প্রায়োরিটি ক্যাম্পেইন' এবং 'টি ১০' ক্যাম্পেইন।

বহুল আলোচিত ই-কমার্স সাইটটি গত ৩০ মে এবং ২ জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে এসব ক্যাম্পেইনের আওতায় বাজারে প্রচলিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যে (এমআরপি) ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকের প্রতি অর্ডার থেকেই ইভ্যালির অ্যাকাউন্টে যোগ হচ্ছে মুনাফা।

প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি এবং অর্জিত মুনাফা থেকেই গ্রাহক ও মার্চেন্টদের আগের পাওনা পরিশোধ করা হবে। এজন্য সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী, নজরদারিতে থেকে প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর আয়-ব্যয় ও পুরনো গ্রাহকের পাওনা পরিশোধে অগ্রগতি জানাতেও তারা প্রস্তুত।

তবে এখনই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কারণ দর্শানো নোটিশে উল্লেখিত ছয় প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব দিতে তৈরি নয় ইভ্যালি। গত ৩১ জুলাই এক লিখিত জবাবে মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করেছেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল।

ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি

এর আগে গত ১৯ জুলাই ইভ্যালিকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই নোটিশে ছয় প্রশ্ন উল্লেখ করে ১ আগস্টের আগেই এগুলোর জবাব চাওয়া হয়।

মন্ত্রণালয়ের প্রথম প্রশ্ন ছিল, গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে মোট ৪০৭ কোটি টাকা দায়ের বিপরীতে ইভ্যালির কাছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা চলতি সম্পদ থাকার কারণ কী? বাকি টাকা ইভ্যালির কাছে আছে কি না। থাকলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে, না থাকলে দিতে হবে পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা।

দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকের কাছে মোট দায়ের পরিমাণ কত, গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া অর্থের বিনিময়ে যে পণ্য দেয়ার কথা, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

তৃতীয় প্রশ্ন, ১৫ জুলাই পর্যন্ত মার্চেন্টদের কাছে দায়ের পরিমাণ কত এবং তা পরিশোধের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

চতুর্থত, ব্যবসা শুরুর পর থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে ইভ্যালি কী পরিমাণ টাকা নিয়েছে, মার্চেন্টদের কত অর্থ পরিশোধ করেছে এবং প্রশাসনিক ও অন্যান্য খাতে কী পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে?

পঞ্চম প্রশ্ন ছিল, ইভ্যালির ব্যবসা পদ্ধতি এবং বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা কী?

এবং ষষ্ঠ প্রশ্ন ছিল, ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো ব্যবসা পদ্ধতি বা কার্যক্রম ইভ্যালিতে এখনও আছে কি না, থাকলে কী?

এ বিষয়ে ইভ্যালির দেয়া জবাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শেষ তিনটি প্রশ্নের আংশিক উত্তর দিয়েছে ইভ্যালি। বাকিগুলোর পূর্ণাঙ্গ জবাবের জন্য জন্য চাওয়া হয়েছে ছয় মাস সময়।

চিঠিতে দায়-দেনা, মূলধন ও পাওনা পরিশোধ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৬ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে ইভ্যালির বিষয়ে যে ঘাটতি তথ্য এসেছে, তা প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে না। কেননা, ওই সময় তদন্ত দল ইভ্যালির কাছ থেকে যেসব হিসাব চেয়েছিল, সময় স্বল্পতা এবং তাদের প্রদত্ত ফরম্যাট অনুযায়ী ইভ্যালি সম্পূর্ণরূপে তখন তা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতেও মার্চেন্টদের দায়-এর সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। এর কারণ হিসেবে ইভ্যালি বলেছে, প্রতিটি মার্চেন্টের অর্ডারের বিপরীতে ডেলিভারির বর্তমান অবস্থা যাচাই, ডেলিভারি করা পণ্য গ্রাহকের যথাযথভাবে পাওয়ার নিশ্চয়তার প্রমাণ, ত্রুটিপূর্ণ পণ্যের অভিযোগ নিষ্পত্তি, পূর্ববর্তী বিলের সমন্বয়সহ নানা বিষয়াদি এর সঙ্গে জড়িত। এই পরিস্থিতিতে ৫ হাজারের বেশি মার্চেন্টের জন্য হিসাব সম্পন্ন করা একটি সময় সাপেক্ষ বিষয়।

ইভ্যালি বলেছে, ‘এ অবস্থায় আমরা একটি তৃতীয় নিরপেক্ষ নিরীক্ষক দ্বারা আমাদের সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব বিবরণী এবং কোম্পানির ভ্যালুয়েশনসহ উপস্থাপন করতে চাই। এর জন্য ছয় মাস সময় চাই। নিরীক্ষা শেষ করার সময় পেলে চাহিদা অনুযায়ী আর্থিক বিবরণীতে আমাদের যাবতীয় হিসাব, যথা, কোম্পানির মোট সম্পদ, দেনার পরিমাণ, মার্চেন্টদের মোট দেনার পরিমাণ, মার্চেন্টদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী ক্রেডিট লাইনের যাবতীয় বিবরণ প্রদান করা হবে।’

তবে এই সময়ের মধ্যে ইভ্যালি আগের প্রতিশ্রুত পণ্যের ডেলিভারি ক্রমান্বয়ে সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতি ১৫ দিন অন্তর তারা পণ্য ডেলিভারির অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়কে দিতে প্রস্তুত।

ইভ্যালির ব্যবসার ধরনে বদল, মুনাফার দাবি
ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল

চিঠিতে বর্তমান ব্যবসা পদ্ধতি ও আগের লোকসানি অবস্থা থেকে উত্তরণের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বর্তমানে ইভ্যালি ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০২০ (সংশোধিত) এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘বর্তমান অবস্থা হতে উত্তরণের লক্ষ্যে ইভ্যালি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পণ্যে প্রচুর ডিসকাউন্ট দেয়া বন্ধ করেছে। এর ধারাবাহিকতায় সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যাম্পেইন ‘সাইক্লোন’ অফার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে ৩০ মে শুরু করা হয়েছে ‘প্রায়োরিটি ক্যাম্পেইন’ এবং ২ জুলাই থেকে চলছে ‘টি ১০’ ক্যাম্পেইন। এসব ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গ্রাহককে ২৪ ঘণ্টার ভেতরে পণ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে এবং এক্ষেত্রে গ্রাহকরা এমআরপি মূল্যে পণ্য কিনছেন। ফলে এই বিক্রয়লব্ধ কার্যক্রমে ইভ্যালি প্রতি অর্ডারে মুনাফা অর্জন করছে।’

পাশাপাশি মার্চেন্টদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবসা বাড়ানোর চেষ্টার কথাও জানানো হয়েছে চিঠিতে। এতে বলা হয়, ‘ইতোমধ্যে আমরা ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিনিয়োগ চুক্তি করেছি। যার মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা এবং পর্যায়ক্রমে বাকি অর্থ বিনিয়োগ হবে। এই অর্থ ইভ্যালির বর্তমান আলোচ্য ঘাটতি পুরোপুরি নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’

এ বিষয়ে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ‘আমাদের ন্যূনতম ছয় মাস সময় দরকার। এই সময়ের মধ্যে আমরা ভোক্তাদের পূর্ব প্রতিশ্রুত বকেয়া পণ্য সরবরাহ শেষ করবো। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য এবং চাহিদা অনুযায়ী তথ পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপনে সক্ষম হবো।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও সেল) এবং ডিজিটাল ই-কমার্স সেলের প্রধান হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইভ্যালি মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দিয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের যে ধরনের চাহিদা ছিল, চিঠিতে তারা পরিপূর্ণ তথ্যের সরবরাহ করেনি। তারা পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জন্য ছয় মাস সময় চেয়েছে। ইভ্যালিকে সময় দেয়া হবে কিনা, দিলে সেটি কতদিন বা কত মাস এবং গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ কী হবে, সেসব প্রশ্নের সমাধান মিলবে এ সম্পর্কিত কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে। এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি।’

আরও পড়ুন:
গণপূর্ত ভবনে মহড়া: আ.লীগের দুই নেতার আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ
আ.লীগ নেতারা শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে

শেয়ার করুন

মডেল পিয়াসা-মৌ তিন দিনের রিমান্ডে

মডেল পিয়াসা-মৌ তিন দিনের রিমান্ডে

মডেল পিয়াসাকে সোমবার আদালতে তোলা হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বারিধারা এলাকা থেকে ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার বাসা থেকে ৭৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, বিভিন্ন ব্রান্ডের ৮ লিটার মদ ও সিম্বা ব্রান্ডের ৪ টি প্রিমিয়ার বিয়ার জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা হয়েছে।

রাজধানীর বারিধারা ও মোহাম্মদপুরে পৃথক অভিযানে ইয়াবা, মদ ও বিভিন্ন মাদকসহ গ্রেপ্তার মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ তাদের গ্রেপ্তার করে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদেরকে সংশিষ্ট থানায় করা মামলায় রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দুইজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।

গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বারিধারা এলাকা থেকে ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার বাসা থেকে ৭৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, বিভিন্ন ব্রান্ডের ৮ লিটার মদ ও সিম্বা ব্রান্ডের ৪ টি প্রিমিয়ার বিয়ার জব্দ করা হয়।

এ সংক্রান্তে গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা হয়েছে।

মডেল পিয়াসা-মৌ তিন দিনের রিমান্ডে
মৌকেও সোমবার আদালতে তোলা হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

রোববার রাতেই ১২টার দিকে অপর এক অভিযানে মোহাম্মদপুর বাবর রোড এলাকা থেকে মরিয়ম আক্তার মৌকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। এ সময় তার বাসা থেকে ৭৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ব্রান্ডের ১২ লিটার মদ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়।

আরও পড়ুন:
গণপূর্ত ভবনে মহড়া: আ.লীগের দুই নেতার আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ
আ.লীগ নেতারা শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গাদের সুবিধা দিলে বাংলাদেশের ভালো হবে: বিশ্বব্যাংক

রোহিঙ্গাদের সুবিধা দিলে বাংলাদেশের ভালো হবে: বিশ্বব্যাংক

কক্সবাজারের উখিয়ায় একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি: এএফপি

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে ৫৯০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়ে সহায়তা করছে, যাতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন চাহিদা মেটানো যায়। একই সঙ্গে যেন আশ্রয়দাতা দেশের ওপর প্রভাব কমিয়ে আনা যায়।’

সহিংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংক। সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

এ নিয়ে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাংক বলছে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া দেশের ওপর প্রভাব কমিয়ে আনতে ওই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবটি নির্দিষ্ট কোনো দেশের জন্য দেয়া হয়নি। প্রস্তাবে বিশ্বব্যাপী শরণার্থী আশ্রয়দাতা সব দেশের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার প্রস্তাবিত ‘রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্ক’ বা শরণার্থী নীতি পর্যালোচনা কাঠামোর বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানানোা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ‘রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্ক’ সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানতে চেয়েছে। এটি একটি বৈশ্বিক দলিল, যা কোনো দেশের জন্য নির্দিষ্ট নয়।’

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে ‘রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্ক’ নামের একটি পলিসি পেপারে রোহিঙ্গাদের এ দেশে স্থায়ীভাবে রেখে দেয়ার প্রস্তাব বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হয়। বিশ্বব্যাংকের এ প্রস্তাবের বিপক্ষে মতামতের জন্য ইআরডিতে চিঠিও দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবারের বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, ‘প্রস্তাবিত রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্কের লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশগুলোর প্রতি বিশ্বব্যাংকের সহায়তার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা, যাতে পরিস্থিতি সর্বোত্তমভাবে সামাল দেয়ার জন্য ওই দেশগুলো প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে পারে। বাংলাদেশের জন্য দেয়া পর্যালোচনায় নীতি, অনুশীলন এবং বাস্তবায়ন সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে ৫৯০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়ে সহায়তা করছে, যাতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিভিন্ন চাহিদা মেটানো যায়। একই সঙ্গে যেন আশ্রয়দাতা দেশের (বাংলাদেশ) ওপর প্রভাব কমিয়ে আনা যায়।’

কী আছে বিশ্বব্যাংকের রিফিউজি ফ্রেমওয়ার্কে

বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কাছে পাঠানো ‘রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্ক’ নামের ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কাছ থেকে তারা কোনো মতামত না পেলে প্রস্তাবটি সরকার মেনে নিয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে। বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবটি রোহিঙ্গাসহ অন্য দেশে যেসব উদ্বাস্তু রয়েছে তাদের সবার জন্যই প্রযোজ্য।

ফ্রেমওয়ার্কে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ভিত্তিতে তৈরি ফ্রেমওয়ার্কের তিনটি উদ্দেশ্য হলো উদ্বাস্তু ও হোস্ট কমিউনিটির জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করা, উদ্বাস্তুরা যে দেশে অবস্থান করছে ওই সমাজে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া অথবা তাদের ফেরত পাঠানো এবং দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যাতে করে নতুন উদ্বাস্তুদের আশ্রয় দেয়া সম্ভব হয়।

বিশ্বব্যাংকের রিফিউজি পলিসি রিভিউ ফ্রেমওয়ার্কের পক্ষে মত দিলে রোহিঙ্গারা দেশের ভেতরে যেকোনো স্থানে চলাচল করতে পারবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অর্থাৎ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে পারবে বা ব্যবসা করতে পারবে। পাশাপাশি তাদের নিবন্ধনের আওতায় এনে সামাজিক পরিচয়পত্রও দিতে হতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের

রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

সোমবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক ১৬টি দেশের শরণার্থীদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের নিয়ে সুপারিশ করেছে যে, তাদের জন্মনিবন্ধন, চাকরির সুযোগ, জমি কেনা, নির্বাচন করার অধিকার মানে অনেকটা বাংলাদেশের নাগরিকদের মতো সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। এটি হলে রোহিঙ্গাদের জন্য তারা বড় একটা ফান্ড দেবে। আমরা তাদের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আমরা নিজ দেশে ফেরাতে চাই। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তাই বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ আমরা রিভিউ করতে বলেছি।’

বিশ্বব্যাংকের এই সুপারিশ না মানলেও সংস্থাটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হবে না বলেও আশা করেন তিনি।

বাংলাদেশি নাগরিকরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে যেসব সুযোগ-সুবিধা পায়, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদেরকেও তার সব সুবিধা দেয়ার আবদার জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাটির প্রস্তাব, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে জমি কেনার সুযোগ দেয়া হোক, তাদের স্বাধীনভাবে যাতায়াত করতে দেয়া হোক, তাদের নিজেদের মধ্যে নির্বাচন করে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হোক।

বাংলাদেশ এই প্রস্তাব মানলে বাংলাদেশকে দুই বিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা জানিয়েছে তারা।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ছুটে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১০ লাখের বেশি। কারণ, আশির দশক থেকেই তারা দলে দলে আসছে বাংলাদেশে।

এতদিন কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে রাখা হলেও সম্প্রতি নোয়াখালীর দ্বীপ ভাসানচরে আশ্রয় পরিকল্পনা করে এরই মধ্যে কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করানো।

আরও পড়ুন:
গণপূর্ত ভবনে মহড়া: আ.লীগের দুই নেতার আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ
আ.লীগ নেতারা শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে

শেয়ার করুন

মডেল পিয়াসা-মৌয়ের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা

মডেল পিয়াসা-মৌয়ের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা

সোমবার পিয়াসাকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

পুলিশ বলছে, দুই মডেল সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা উচ্চবিত্তদের ব্ল্যাকমেইল করতেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হবে।

রাজধানীতে রোববার পৃথক অভিযানে আটক মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং তার সহযোগী মরিয়ম আক্তার মৌয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

এর মধ্যে পিয়াসার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় এবং মৌয়ের বিরুদ্ধে মোহম্মদপুর থানায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলা করে।

গুলশান থানায় করা পিয়াসার বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে বলা হয়, কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী বারাধারা অবস্থান করছে খবর পেয়ে রোববার রাত ১১টায় এডিসি নুসরাত জাহান মুক্তা ও এডিসি মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে এক নারীকে (পিয়াসা) আটক করা হয়। তার বাসা থেকে চারটি হুক্কাকি (সিসাসহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবনের কাজে ব্যবহার করা হয়) এবং ৭৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এছাড়াও তার বাসায় আট লিটার মদ পাওয়া যায়।

আসামীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, তারা ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করতেন। ওই বাসায় নাচ ও গানের আসর বসত এবং লোকজন ডেকে এনে অর্থের বিনিময়ে তাদের কাছে মদ, ইয়াবা ও সিসাসহ অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য বিক্রি করা হতো।

জব্দ করা নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন ও বিক্রির জন্য জন্য নিজের কাছে রাখায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) এর টেবিল ১০(ক)/২৪(খ)/৩৪(ক)/৪১ ধারায় অপরাধ করেছেন।

এদিকে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ নিউজবাংলকে বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টায় ডিবির এক ইন্সপেক্টর মৌয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন। মামলার তদন্ত করছে ডিবি। তারাই এই মামলার ব্যবস্থা নেবেন।

মডেল পিয়াসা-মৌয়ের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা
সোমবার মৌকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

রাজধানীতে আলাদা অভিযান চালিয়ে মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে রোববার রাতে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, দুই মডেল সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা উচ্চবিত্তদের ব্ল্যাকমেইল করতেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হবে।

পিয়াসাকে তার বারিধারার বাসা থেকে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আটক করে পুলিশ। এরপর অভিযান চালানো হয় মোহাম্মদপুরের বাবর রোডে মৌয়ের বাসায়।

অভিযানের সময় তাদের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ ও ইয়াবা জব্দ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

তবে আটকের সময় পিয়াসা ও মৌ দাবি করেন, তাদের ফাঁসানো হয়েছে। মাদকদ্রব্যের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

অভিযান শেষে রাত ১টার দিকে মোহাম্মদপুরে মৌয়ের বাড়ির নিচে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, তারা দুজন সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আমরা অনেক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ পেয়েছি। সেসব ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তাদের বাসায় অভিযান চালানো হয়।

আরও পড়ুন:
গণপূর্ত ভবনে মহড়া: আ.লীগের দুই নেতার আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ
আ.লীগ নেতারা শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে

শেয়ার করুন

পুলিশ বক্সে বোমা হামলাকারী দুই ‘জঙ্গি’ গ্রেপ্তার

পুলিশ বক্সে বোমা হামলাকারী দুই ‘জঙ্গি’ গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাইনবোর্ডে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে বোমা হামলার জেরে জেলার আড়াইহাজারের পাঁচবাড়িয়ায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশের সোয়াত টিম। ফাইল ছবি

পুলিশ বলছে, ফোরকান নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অনলাইনে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন গ্রেপ্তার শফিকুর ও খালিদ। আগেই গ্রেপ্তার জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের একটি মসজিদে বসে পুলিশ বক্সে হামলার জন্য বোমা তৈরি করেছিলেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাইনবোর্ড ট্রাফিক পুলিশ বক্সে গত ১৬ মে বোমা হামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)। বলা হচ্ছে, গ্রেপ্তারকৃতরা নব্য জেএমবির সদস্য।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে রোববার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ৪০০ গ্রাম লাল রঙের বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থ, তিনটি বিউটেন গ্যাসের ক্যান, এক সেট রিমোট কন্ট্রোল ডিভাইস, চার প্যাকেট ছোট সাইজের বিয়ারিং বল, দশটি ক্রিসমাস বাল্ব, দুটি কালো রঙের ইলেকট্রিক টেপ, একটি আইইডি বিস্ফোরক তৈরির ম্যানুয়াল, হামলায় ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গ্রেপ্তার দুজনের নাম মো. শফিকুর রহমান হৃদয় ওরফে বাইতুল্লাহ মেহসুদ ওরফে ক্যাপ্টেন খাত্তাব ও মো. খালিদ হাসান ভূঁইয়া। তারা দুজনই জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্য।

ব্রিফিংয়ে সিটিটিসির প্রধান ও ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান জানান, ফোরকান নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই অনলাইনে বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন শফিকুর ও খালিদ। আগেই গ্রেপ্তার জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের একটি মসজিদে বসে পুলিশ বক্সে হামলার জন্য বোমা তৈরি করেছিলেন তারা।

পুলিশ বক্সে বোমা হামলাকারী দুই ‘জঙ্গি’ গ্রেপ্তার
পুলিশ বক্সে হামলার সন্দেহে গ্রেপ্তার দুই যুবক। পুলিশ বলছে, তারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত। ছবি: নিউজবাংলা

আসাদুজ্জামান বলেন, গত ১১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার নোয়াগাঁও এলাকা থেকে নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য এবং বোমা তৈরির অন্যতম কারিগর মো. শফিকুর ও মো. খালিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি।

শফিকুর ও খালিদকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, নব্য জেএমবির আমির মাহাদী হাসান জন ওরফে আবু আব্বাস আল বাঙ্গালির নির্দেশে গত ১৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড ট্রাফিক বক্সে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালান তারা। ত্রুটিপূর্ণ রিমোটের কারণে কয়েকবার চেষ্টা করেও বোমাটি বিস্ফোরণে ব্যর্থ হয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং রিমোটটি রাস্তার পাশে ফেলে চলে যান। পরবর্তীতে সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।

পুলিশ বলছে, মাহাদী হাসান জনের নেতৃত্বে শফিকুর নব্য জেএমবির সামরিক শাখার ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। হামলায় ব্যবহৃত আইইডি বিস্ফোরক গ্রেপ্তার শফিকুর ও খালিদ হাসান বোমা তৈরির ম্যানুয়াল ও ভিডিও দেখে প্রশিক্ষক ফোরকানের তত্ত্বাবধানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের কক্ষে তৈরি করে।

ব্রিফিংয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার নব্য জেএমবির সদস্যরা অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে নাশকতা চালানো এবং পুলিশকে হামলার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছিলেন। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতকদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত আছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘বর্তমানে জঙ্গি হামলার কোনো হুমকি নেই৷ জঙ্গি সদস্যরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আনলাইনে তারা একটিভ রয়েছে। তবে জঙ্গি কার্যক্রম বাড়েনি। আমরাও জঙ্গিদের মনিটরিং করছি।’

আরও পড়ুন:
গণপূর্ত ভবনে মহড়া: আ.লীগের দুই নেতার আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ
আ.লীগ নেতারা শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে

শেয়ার করুন

পিয়াসার বিলাসী জীবন কীভাবে?

পিয়াসার বিলাসী জীবন কীভাবে?

গ্রেপ্তার মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা। ছবি: সংগৃহীত

আয়ের কোনো নির্দিষ্ট উৎস না পাওয়ায় গ্রেপ্তারের পর পিয়াসার বিলাসী জীবন নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। পুলিশ বলছে, বিত্তবানদের ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করতেন পিয়াসা ও তার সঙ্গীরা।

মডেল ও অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি থাকলেও কয়েকটি ছাড়া আর কোনো বিজ্ঞাপন চিত্রে দেখা মেলেনি মাদকসহ গ্রেপ্তার ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাকে। এমনকি কোনো টিভি নাটক বা সিনেমাতেও দেখা যায়নি তাকে।

পিয়াসা কখনও নিজেকে বেসরকারি টেলিভিশনের পরিচালক, কখনওবা রিসোর্টের মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে সেই পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আয়ের কোনো নির্দিষ্ট উৎস না পাওয়ায় গ্রেপ্তারের পর পিয়াসার বিলাসী জীবন নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

বারিধারার যে ফ্ল্যাটটিতে তিনি থাকতেন, সেটি দেখলেও তার বিলাসী জীবন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। রোববার রাত ১১টার দিকে তাকে গ্রেপ্তারের সময় ওই বাসা থেকে ইয়াবা, মদ ও সিসার সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের অভিযানের সময় ওই বাসায় দেখা যায়, ফটক দিয়ে প্রবেশ করলেই বিশাল একটি বসার ঘর। এতে যে আসবাব রয়েছে সেগুলোও অনেক দামি।

পুলিশ বলছে, বিত্তবানদের ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করতেন পিয়াসা ও তার সঙ্গীরা।

পিয়াসার বিলাসী জীবন কীভাবে?
সোমবার পিয়াসাকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

শোবিজে পিয়াসাকে প্রথম দেখা যায় ২০০৮ সালে, টিভি রিয়েলিটি শো সুপার হিরো-হিরোইনের প্রতিযোগী হিসেবে। বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন এবং মার্কেট একসেস গ্রুপ যৌথভাবে এই রিয়েলিটি শোর আয়োজন করেছিল।

এটি প্রচারও হতো এনটিভির পর্দায়। ওই সময় প্রতিযোগিতায় পরীক্ষার অংশ হিসেবে ছোট ছোট কিছু কাহিনি চিত্রে তাকে দেখা যায়।

ইউটিউবে থাকা একটি ভিডিওতে দেখা যায় ‘প্রেম ও যুদ্ধ’ নামের একটি প্রোডাকশনে মোহাম্মদ হোসেন জেমীর পরিচালনায় আসিফ ইমরোজের সঙ্গে অভিনয় করেছেন পিয়াসা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনটিভির এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘২০০৮ সালে হওয়া সুপার হিরো-হিরোইনের আয়োজনে পিয়াসা হয়েছিলেন তৃতীয় অর্থাৎ সেকেন্ড রানারআপ। শোতে নানা রকম পরীক্ষা দিতে হতো। সেই পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাকে কখনও নাচ করতে হয়েছে, কখনও অভিনয় করতে হয়েছে।

‘সেগুলো এনটিভিতে প্রচার হতো, কিন্তু সেটি টেলিভিশনের কোনো প্রোডাকশন না। পরবর্তীতে এনটিভি তাকে নিয়ে কোনো কাজ করেনি।’

ওই রিয়েলিটি শোতে পিয়াসাকে নিয়ে কাজ করা নির্মাতা মোহাম্মদ হোসেন জেমীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান জানান, পিয়াসা কোনো সিনেমাতে পরবর্তীতে অভিনয় করেননি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুপার হিরো-হিরোইনের অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে পরিচালকদের কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু পিয়াসাকে নিয়ে কাজ করা হয়নি। পরে তিনি কোনো সিনেমাতে অভিনয়ও করেননি।

‘আমার সঙ্গে তার দুই-একবার কথা হয়েছিল, কিন্তু সিনেমার কাজ আর আগায়নি। কারণ সে সময় তিনি সোহানা টিভি বা এই নামের মতো কোনো এক প্রতিষ্ঠানের পদে বসেছিলেন।’

পিয়াসাকে অবশ্য পরবর্তীতে ওয়ালটন ফ্রিজের কয়েকটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায়। এটি ছাড়া আর কোনো বিজ্ঞাপনে তিনি অংশ নিয়েছেন, এমন কোনো তথ্য কেউ নিশ্চিত করতে পারেননি।

পিয়াসা একসময় এশিয়ান টেলিভিশনের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা যায়। তবে তিনি কবে দায়িত্ব পালন করেছেন বা কত দিন এ দায়িত্বে ছিলেন তা জানাতে রাজি হয়নি টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।

এশিয়ান টিভির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পিয়াসা এশিয়ান টিভির এমডি মিজান সাহেবের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। তিনি কখনও এশিয়ান টিভির পরিচালক হিসেবে কাজ করেননি।’

বনানীতে ২০১৭ সালের আলোচিত ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের ঘটনায় পিয়াসা আলোচনায় আসলে তখন নিজেকে এশিয়ান টিভির সাবেক পরিচালক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

পিয়াসার বিলাসী জীবন কীভাবে?
পিয়াসা ও তার সহযোগী মৌ

এ ছাড়া পিয়াসা একটি ফেসবুক পোস্টে নিজেকে কক্সবাজারের বিলাসবহুল রিসোর্ট হোয়াইট স্যান্ড রিসোর্টের পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেন।

রিসোর্টের ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা যায়, এতে সবশেষ পোস্ট করা হয়েছে ২০১৮ সালে। সেখান থেকে পাওয়া ওয়েবসাইট ঘেঁটে যোগাযোগের কয়েকটি নম্বর পাওয়া গেলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

রিসোর্টের পেজে অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনকেও সেই রিসোর্টের একজন পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার পরিচালক পদ নিয়ে কিছুই জানি না।’

তিনি অস্বীকার করলেও রিসোর্টের ফেসবুক পেজে ২০১৮ সালের মার্চের একটি পোস্টে ইলিয়াস কাঞ্চনকে দেখা যায়।

রেইন ট্রি ধর্ষণে আলোচনায় পিয়াসা

২০১৭ সালের ২৮ মার্চ বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে জন্মদিনের পার্টির কথা বলে ডেকে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনা সারা দেশেই বেশ আলোচিত হয়। ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের সাবেক স্ত্রী পিয়াসাও সে সময় গণমাধ্যমের আলোচনায় আসেন।

সাফাত আহমেদ ছিলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে। ওই ঘটনার দুই বছর পর সাবেক শ্বশুরের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গর্ভপাতের চেষ্টা, নির্যাতন এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ আনেন পিয়াসা।

২০১৯ সালের ১১ মার্চ ঢাকা মহানগর বিচারক তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে একটি মামলাও করেন তিনি। এতে আপন রিয়েল স্টেটের উপদেষ্টা মোখলেছুর রহমানকেও আসামি করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, ২০১৫ সালে বিয়ের পর শ্বশুরের গুলশান-২-এর বাসায় থাকতেন পিয়াসা। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই দিলদার আহমেদ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন পিয়াসাকে।

এ ছাড়া সাফাতকে তালাক দেয়ার জন্য পিয়াসাকে মানসিকভাবে চাপ দিতেন বলে দিলদার আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

পিয়াসা আরও অভিযোগ করেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য গোপনে খাবারের মধ্যে ওষুধ মেশানোর চেষ্টা করা হয়।

মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনায়ও পিয়াসার নাম

গত ২৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের পর তা নিয়ে বেশ আলোড়ন তৈরি হয়।

ওই ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার একটি মামলাও করেন। এ মামলার এজাহারেও আসে কথিত মডেল পিয়াসার নাম।

সবশেষ গ্রেপ্তার পিয়াসা

রাজধানীতে রোববার পৃথক অভিযানে আটক মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা এবং তার সহযোগী মরিয়ম আক্তার মৌয়ের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। পিয়াসার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় এবং মৌয়ের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলা করে।

গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম রোববার রাত ১১টার দিকে বারিধারার নিজ বাসা থেকে ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসাকে গ্রেপ্তার করে। ওই সময় তার বাসা থেকে ৭৮০ পিস ইয়াবা, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮ লিটার মদ, সিসা লাউঞ্জের সরঞ্জাম ও সিম্বা ব্র্যান্ডের চারটি প্রিমিয়ার বিয়ার জব্দ করা হয়।

পিয়াসার বিলাসী জীবন কীভাবে?
মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে আটক হন মডেল মৌ

রাত ১২টার দিকে আরেক অভিযানে মোহাম্মদপুর বাবর রোড এলাকা থেকে মরিয়ম আক্তার মৌকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। তার বাসা জব্দ করা হয় ৭৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১২ লিটার মদ।

এ মামলায় সোমবার বিকেলে পিয়াসা ও মৌকে তিন দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
গণপূর্ত ভবনে মহড়া: আ.লীগের দুই নেতার আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ
আ.লীগ নেতারা শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে

শেয়ার করুন