উল্টো পরীমনিকেই দুষলেন নাসির

পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার শিল্পপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ

অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার শিল্পপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

‘আমাদের কাউন্টারে খুব দামি ড্রিঙ্কস ছিল, দামি বড় বড় ড্রিঙ্কস ছিল সেটা তারা জোর করে নেয়ার চেষ্টা করেছিল।’

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ গত বুধবার রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য উল্টো চিত্রনায়িকা পরীমনিকেই দোষারোপ করেছেন।

গ্রেপ্তারের আগে কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জাতীয় পার্টির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য দাবি করেছেন, তাদের কাউন্টারে দামি মদ ছিল। পরীমনি ও তার সঙ্গীরা সেটি জোর করে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। আর তারা দিতে চাননি বলে তাকে গালাগাল করা হয়।

গত রোববার রাতে পরীমনি তার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেন, তাদের ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে আর তিনি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না।

পরে রাতে গণমাধ্যমকর্মীরা তার বাসায় গেলে তিনি জানান, গত বুধবার রাতে একটি কাজ নিয়ে আলোচনা করতে তিনি দুই সঙ্গীসহ আশুলিয়ার বিরুলিয়ার ঢাকা বোট ক্লাবে যান।

সেখানে এই ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ তাকে জোর করে মুখে মদের বোতল ঠেলে দিয়েছেন। তাকে চড় থাপ্পড় দিয়েছেন। তার সঙ্গী জিমিকে মারধর করেছেন। এরপর সেখান থেকে এসে বনানী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা নেয়নি।

গণমাধ্যমে এই সংবাদ আসার পর তোলপাড় হয়ে যায়। সোমবার সকালে পরীমনির বাসার সামনে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। তার মামলা গ্রহণ করা হয় সাভার থানায়। আর সে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় নাসির উদ্দিনসহ পাঁচজনকে।

গ্রেপ্তারের আগে নাসির সেই রাতের ঘটনার অন্য এক ধরনের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাউন্টারে খুব দামি ড্রিঙ্কস ছিল, দামি বড় বড় ড্রিঙ্কস ছিল সেটা তারা জোর করে নেয়ার চেষ্টা করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘তারা তো নিতে পারে নাই, তারা তো ক্লাবের মেম্বার না। আমি জাস্ট তাদেরকে বাধা দিছি যে নেয়া যাবে না। নিতে হলে তোমাদের …. দিতে হবে এটা বিক্রি যোগ্য না। বাই দিস টাইম আমাদের বার ক্লোসড। এটা দেয়া যাবে না।

‘এর পরই সে (পরীমনি) উত্তেজিত হয়ে যায়। উত্তেজিত হয়ে একটার পর গ্লাস প্লেট… সে আমাকে গালিগালাজ শুরু করে। আমাদের স্টাফরা তাকে থামানোর চেষ্টা করে।’

নাসির উদ্দিনের দাবি, তিনি পরীমনিকে আগে থেকে চিনতেন না। আর ঘটনার সময় তিনি তাকে থামাতে চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি মারধরের স্বীকার হন।

তিনি বলেন, ‘তার (পরীমনির) সঙ্গে যে একটা ছেলে ছিল সে আমাকে চড়-থাপ্পড় দেয় ও গ্লাস ছুড়ে মারে। সেটি আমার গায়ে লাগে। এই অবস্থায় আমাদের সিকিউরিটিদের আমি নির্দেশ দেই, তখন সিকিউরিটিরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। যখন সিকিউরিটিরা নিয়ে যায় বাই দিস টাইম সে অনেক ড্রিঙ্ক করে ফেলেছে এবং এটা আমাদের সিসি ক্যামেরায় দেখবেন যে, সে ড্রিঙ্ক করা অবস্থায় গাড়িতে উঠতে পারছে।’

এই ঘটনাটি ক্লাবকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন নাসির। বলেন, ‘ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী ইট হ্যাজ বিন রিপোর্টেড। আমাদের যারা স্টাফ আছে তারা লিখিতভাবে সমস্ত রিপোর্ট দিয়েছে। সেই রিপোর্টে পরিষ্কার কিন্তু আমার সঙ্গে তার কিছুই হয়নি।’

বোট ক্লাব অবশ্য এই ঘটনায় নাসির উদ্দিনকে বরখাস্ত করেছে। ক্লাবের নির্বাহী সদস্য বখতিয়ার আহমেদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটা দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা সিরিয়াস অ্যাকশন নেব। এরই মধ্যে নাসির উদ্দিনের সদস্যপদ সাসপেন্ড (সাময়িকভাবে বহিষ্কার) করা হয়েছে। সে আর ক্লাব ইউজ করতে পারবে না। ইনকোয়ারি রিপোর্টের পর যদি দেখা যায় অভিযোগ প্রমাণিত, তাহলে তার সদস্যপদ পুরোপুরি ক্যানসেল হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
বোট ক্লাবও হারালেন নাসির
কে এই অমি
নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির
ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
পরীমনি নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন বনানীর ওসি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৭ বছর পরও পদ্মার পেটে পিনাক-৬

৭ বছর পরও পদ্মার পেটে পিনাক-৬

পিনাক-৬ ডুবিতে এখনও নিখোঁজ অন্তত ৬০ জন। ছবি: নিউজবাংলা

সময়ের পরিক্রমায় আবারও এলো ৪ আগস্ট। দিনটি মনে করিয়ে দিচ্ছে সাত বছর আগে পদ্মার তীরে এক শোকাতুর দিনের কথা। ঈদ শেষে পিকাক-৬ এ চড়ে ঢাকায় ফিরছিলেন আড়াই শতাধিক যাত্রী। কাওড়াকান্দি থেকে রওনা হয়ে মাওয়ার অদূরে উত্তাল পদ্মার ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যায় লঞ্চটি। এতে অন্তত ৪৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ কমপক্ষে ৬০ জন।

পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার সাত বছর পরও উদ্ধার করা হয়নি যাত্রীবাহী লঞ্চ পিনাক-৬। এর মধ্যে মারা গেছেন এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি। তাতে স্বজন হারানোদের হতাশা আরও ভারী হয়েছে।

সময়ের পরিক্রমায় আবারও এলো ৪ আগস্ট। দিনটি মনে করিয়ে দিচ্ছে সাত বছর আগে পদ্মার তীরে এক শোকাতুর দিনের কথা। ঈদ শেষে পিকাক-৬ এ চড়ে ঢাকায় ফিরছিলেন আড়াই শতাধিক যাত্রী। কাওড়াকান্দি থেকে রওনা হয়ে মাওয়ার অদূরে উত্তাল পদ্মার ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যায় লঞ্চটি।

সরকারি হিসাবে বলা হয়, ২০১৪ সালে ওই লঞ্চ ডুবিতে ৪৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ অন্তত ৬০ জন।

মরদেহগুলোর মধ্যে পাঁচ নারী, দুই পুরুষ, পাঁচ শিশুসহ ১২ জনের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাদের মরদেহ শিবচরের পাচ্চর এলাকায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে প্রশাসন।

দেশের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সোনার মেশিন (সমুদ্রের তলদেশে জরিপ কাজে ব্যবহৃত) ব্যবহার করেও পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটির কোনো সন্ধান করা সম্ভব হয়নি।

স্বজনদের দাবি, ডুবে যাওয়া পিনাক-৬-এর ভেতরে অনেক মরদেহ রয়েছে। লঞ্চটি উদ্ধার হলে ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীদের দেহাবশেষ পাওয়া যেত।

পিনাক-৬ উদ্ধার অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণার পর স্বজন হারানোদের কেউ কেউ মরদেহের খুঁজে নিজ উদ্যোগে তল্লাশি চালান চাঁদপুর, শরীয়তপুর, বরিশাল, ভোলাসহ ভাটি অঞ্চলে। নদীর একূল-ওকূল তন্ন তন্ন করেও কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি।

পিনাক-৬ ডুবিতে স্বজন হারিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর বেতকা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আমানুল হক। জানান, ওই লঞ্চে ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়ুয়া তার নাতনি ইমা আক্তারও ছিল।

তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন থেকে বিভিন্ন স্থানে টানা ৯ দিন সন্ধান করেও নাতনির খোঁজ পাইনি। খুব আদরের নাতনি ছিল ইমা। ওই লঞ্চ ডুবির পর প্রতিবছর ঈদ এলেই আমাদের পরিবারে ফিরে আসে বিষাদের ছায়া।’

মাদারীপুরের শিবচরের দৌলতপুর গ্রামে ঈদ শেষে ঢাকার পথে পিনাক-৬ এ পদ্মা পারি দিচ্ছিলেন ফরহাদ মাতুব্বর, তার স্ত্রী শিল্পী, এক বছরের সন্তান ফাহিম ও শ্যালক বিল্লাল। এ চারজনের লাশ আজও উদ্ধার হয়নি।

ফরহাদের বোন প্রিয়া আক্তার জানালেন, ওই ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবারে কোনো ঈদ নেই। প্রিয়জনের লাশ পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে এখন বিচারের অপেক্ষায় প্রিয়া।

পিনাক ডুবির পর লঞ্চের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক কালু, তার ছেলে ওমর ফারুক, কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ইজারাদার আতাহার আলীসহ ছয়জনকে আসামি করে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় আবু বক্কর সিদ্দিক কালুকে চট্টগ্রাম থেকে এবং তার ছেলে ওমর ফারুককে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

ইতোমধ্যে মারা গেছেন প্রধান আসামি কালু। এ ছাড়া, লঞ্চটিও উদ্ধার করা যায়নি। তাতে বিচার কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা।

৭ বছর পরও পদ্মার পেটে পিনাক-৬
অনেক চেষ্টা করেও উদ্ধার করা যায়নি পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চ। ফাইল ছবি

শিমুলিয়া বাংলাবাজার নৌরুটের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শোকের মাস তার ওপর করোনাভাইরাস। তাই পিনাক-৬ ডুবি উপলক্ষে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারিনি। এদিনটি আসলে শিমুলিয়া ঘাটে শোকের ছায়া চলে আসে; মনে হয় কালো অন্ধকার।’

পিনাক-৬ ডোবার পর শিমুলিয়া ঘাটে অনেক পরিবর্তন এসেছে বলে জানালেন মনির হোসেন। বললেন, আগে তিন ঘাটে দায়িত্বে ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর একজন নৌ-ট্রাফিকের ইন্সপেক্টর। এখন তিনজন ইন্সপেক্টর ও একজন উপ-পরিচালক লঞ্চ ছাড়া এবং ধারণ ক্ষমতার ব্যাপারে তদারকি করেন। তাদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হয়।

পিনাক-৬ ডুবির ঘটনায় মামলা প্রসঙ্গে মনির হোসেন জানালেন, লঞ্চটির মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক কালু বেশ কিছুদিন আগে মারা গেছেন। মামলায় তার ছেলেই এখন একমাত্র আসামি।

শিমুলিয়া নদী বন্দরের সহকারি পরিচালক নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা মো. সাদাত হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, পিনাক-৬ ডোবার আগে তিন ঘাটের দায়িত্ব একজন ইন্সপেক্টর ছিল। সারা রাত লঞ্চ চলত। তদারকি কম ছিল। ধারণক্ষমতার ব্যাপারেও বেশি কিছু বলা হতো না। এখন তিনজন ইন্সপেক্টর দায়িত্বে। এ ছাড়া, ঘাটে আরেকজন উপ-পরিচালক পদে দায়িত্বে রয়েছেন। সবসময় তদারকি চলে।

৭ বছর পরও পদ্মার পেটে পিনাক-৬
পিনাক-৬ ডুবিতে স্বজন হারানোদের কান্না এখনও থামেনি। ফাইল ছবি

তিনি জানান, লঞ্চগুলোর ফিটনেস রেজিস্ট্রেশন আছে কিনা তা যাছাইয়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসবই হয়েছে পিনাক-৬ ডোবার পর। আগে রাতে ২৪ ঘণ্টায় লঞ্চ চলত, এখন সেটি রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসাইন জানান, পিনাক-৬ ডোবার পর বেপরোয়া যান চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক জাহাঙ্গির ভূঁইয়া বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জের সংশ্নিষ্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।

মুন্সীগঞ্জ আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক কালু ও তার ছেলে ওমর ফারুকসহ আসামিরা জামিনে রয়েছেন। কালুর মৃত্যুর বিষয়টি তাদের জানা নেই।

আরও পড়ুন:
বোট ক্লাবও হারালেন নাসির
কে এই অমি
নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির
ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
পরীমনি নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন বনানীর ওসি

শেয়ার করুন

টিকা ছাড়া বাইরে আসা নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার মন্ত্রীর

টিকা ছাড়া বাইরে আসা নিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার মন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। ফাইল ছবি

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককেই পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে ‘টিকা নেয়া ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ ১১ আগস্টের পর হতে বাইরে বের হতে পারবে না’ মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মন্ত্রীর যে বক্তব্য প্রচার হচ্ছে ,বক্তব্যের সে অংশটুকু প্রত্যাহার করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

করোনাভাইরাস রোধে সরকারের আরোপ করা লকডাউন শেষে টিকা ছাড়া ১৮ বছরের বেশি বয়সীরা বাইরে আসতে পারবেন না বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ফোনে নিউজবাংলাকে বক্তব্য প্রত্যাহারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছি।’

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ পরে বক্তব্য প্রত্যাহারের বিষয়টি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান।

তিনি জানান, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককেই পর্যায়ক্রমে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে। তবে ‘টিকা নেয়া ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে কেউ ১১ আগস্টের পর হতে বাইরে বের হতে পারবে না’ মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মন্ত্রীর যে বক্তব্য প্রচার হচ্ছে, বক্তব্যের সে অংশটুকু প্রত্যাহার করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

করোনাভাইরাস রোধে সরকারের আরোপ করা লকডাউনের পর ১১ আগস্ট থেকে অফিস খুলে দেয়া হবে। বাস চলাচল করবে, খুলবে দোকানপাট।

প্রায় ১৩ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে সচিবালয়ে এক সভা হয় মঙ্গলবার। সে সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক।

সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ১১ আগস্টের পর টিকা ছাড়া ১৮ বছরের বেশি বয়সীরা কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবেন না। গেলে শাস্তি পেতে হবে।

তার এমন বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়। একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তার মন্ত্রণালয় থেকেও মঙ্গলবার জানানো হয়, তারা এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বুধবার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মঙ্গলবার যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

তিনি বলেন, ‘এমন বক্তব্য কারও ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে, কিন্তু সরকারের সিদ্ধান্ত নয়।’

সচিবালয়ে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সেখানে আসলে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি যে টিকা ছাড়া ১৮ বছরের বেশি বয়সের কেউ বের হলে অপরাধ হবে। সে ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

এমন বক্তব্য সরকারের সমন্বয়হীনতা কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাহ, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সেখানে হয়নি। আমাদের সচিবও সেই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি কারও ব্যক্তিগত অভিমত হতে পারে, কিন্তু এই ধরনের সরকারি সিদ্ধান্ত হয়নি।’

মাস্ক পরার ওপর জোর দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি যাতে সবাই মানে সেটির ওপর জোর দেয়া হয়েছে।’

এ ছাড়া ওই বৈঠকে পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার বিষয়টিও জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। পুলিশকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘মাস্ক না পরলে পরে যাতে ইনস্ট্যান্টলি শাস্তি দেয়া যায়, সে জন্য পুলিশের কাছে এ ধরনের... অবশ্যই বিচারিক ক্ষমতা নয়, পুলিশ যেমন অবৈধ যানবাহনের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে, ট্রাফিক পুলিশ ভায়োলেট করলে সেখান থেকে জরিমানা আদায় করে, সুতরাং সেই ধরনের ইনস্টিটিউট দ্বারা ভ্যালিডেটেড অবশ্যই হতে হবে সেটি আইন আনুযায়ী।’

বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘পুলিশ যাতে জরিমানা করতে পারে, সেটি আইনের মধ্যে থেকে কীভাবে করা যায়, সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সেটা করা প্রয়োজন বলেও সবাই অভিমত ব্যক্ত করেছে।’

৭ আগস্ট থেকে সরকার ব্যাপক টিকা কার্যক্রমে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১ সপ্তাহে ১৪ হাজার কেন্দ্র থেকে ১ কোটি টিকা দেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘তখন কেউ কেউ, আমার ঠিক মনে নেই, এ ধরনের আলোচনা করেছে। টিকা ছাড়া বের হলে... এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

আরও পড়ুন:
বোট ক্লাবও হারালেন নাসির
কে এই অমি
নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির
ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
পরীমনি নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন বনানীর ওসি

শেয়ার করুন

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?

ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে ‘প্রয়োজনে জব্দকৃত বস্তু বিলিবন্দেজ (disposal)’ করার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডিজপোজালের অর্থ জব্দ করা বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া নয়। রেজওয়ানের কম্পিউটারের পর্নোগ্রাফি ধ্বংসের আইনি এখতিয়ার রাখেন ম্যাজিস্ট্রেট, এর পরিবর্তে তিনি কম্পিউটার পুড়িয়ে দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।  

সাতক্ষীরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় এক দোকানিকে জরিমানা করার পাশাপাশি জনসমক্ষে তার কম্পিউটার পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা নিয়ে চলছে আলোচনা।

শাটডাউনের মধ্যে রোববার বিকেলের এ ঘটনা ছড়িয়েছে ফেসবুকে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জব্দ করা মালামাল এভাবে পুড়িয়ে দিতে পারেন কি না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তবে ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানের দাবি, আইনের মধ্যে থেকেই তিনি কম্পিউটার পুড়িয়েছেন। আগামীতেও এ ধরনের অভিযান চলবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আবাদেরহাট এলাকায় টেলিকম ব্যবসায়ী রেজওয়ান সরদারের দোকানে রোববার অভিযান চালায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রেজওয়ান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে আমার বাড়িতে বিদ্যুতের সমস্যার কারণে দোকানে সরঞ্জাম নিতে আসি। এ সময় দোকান খোলা দেখে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান আসেন। তিনি আমাকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর আমার একমাত্র আয়ের উৎস দোকানে থাকা কম্পিউটারটি জব্দ করে জনসমক্ষে পুড়িয়ে দেন।’

তিনি বলেন, ‘এই কম্পিউটারের ওপর চলত আমার ছয় সদস্যের সংসার। দাদি, বাবা-মা, স্ত্রী নিয়ে আমার সেই সংসার এখন প্রায় অচল। লকডাউনে এমনিতেই খুব খারাপ অবস্থা, তার ওপর ব্যবসার কম্পিউটার পুড়িয়ে দেয়ায় আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।’

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?
ব্যবসায়ী রেজওয়ানের পুড়িয়ে দেয়া কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ

অভিযানের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, রেজওয়ানের দোকানের কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফি ছিল। এ জন্য সেটি জব্দ করে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৯২ ধারা অনুযায়ী পুড়িয়ে ফেলা হয়।

অশ্লীল পুস্তকাদি বিক্রয়কেন্দ্রিক অপরাধ ও এ-সংক্রান্ত ক্ষেত্রে অপরাধের শাস্তির বিষয়টি ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৯২ ধারায় উল্লেখ রয়েছে। তবে ওই ধারা অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। দণ্ডবিধির এই ধারায় জব্দ করা আলামত ধ্বংসের কোনো বিধান নেই।

বিষয়টি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানকে জানানোর পর মঙ্গলবার তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির ১২ ধারা অনুসারে তিনি কম্পিউটারটি পোড়ানোর আদেশ দিয়েছিলেন।

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুসারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময়ে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা প্রদানের বাধ্যবাধকতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে ১২ ধারায়।

১২ (২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে, উক্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট এর সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংশ্লেষে তল্লাশি (search), জব্দ (seizure) এবং প্রয়োজনে জব্দকৃত বস্তু বিলিবন্দেজ (disposal) করিবার ক্ষমতা থাকিবে।’

আইন বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনে ‘প্রয়োজনে জব্দকৃত বস্তু বিলিবন্দেজ (disposal)’ করার ক্ষমতা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডিজপোজালের অর্থ জব্দ করা বস্তু তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া নয়। রেজওয়ানের কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফি থাকলে সেগুলো ধ্বংসের আইনি এখতিয়ার রাখেন ম্যাজিস্ট্রেট, এর পরিবর্তে কম্পিউটার পুড়িয়ে দিয়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মনে করি কম্পিউটার পোড়ানো ঠিক হয়নি। মোবাইল কোর্ট এমনভাবে একটা জিনিস পুড়িয়ে দেবে বা ধ্বংস করে দেবে তা গ্রহণ করা যায় না।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিডিও যেখানে পাওয়া গেল, সেটা তো ধ্বংস করা যাবে না। কেউ ক্যামেরায় ছবি তুললে ক্যামেরা তো ভেঙে ফেলা যাবে না, বরং ক্যামেরার ছবিগুলো ধ্বংস করা যাবে। যে ম্যাটেরিয়ালটা সাবজেক্ট ম্যাটার, সেটার বাইরে কেন যাবেন। এটা তার (ম্যাজিস্ট্রেট) এখতিয়ার নাই।’

এ অবস্থায় আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, ‘যার কম্পিউটার পুড়িয়েছে, তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি মামলা করতে পারবেন।’

‘এ ক্ষেত্রে পদ্ধতি হলো, মোবাইল কোর্টে মামলাটি যখন নিষ্পত্তি হয়ে যাবে, সেটা তো আর লংটার্ম না, সামারি প্রসিডিং। তার কম্পিউটারটা যে জব্দ করা হয়েছে সেটার তো ডকুমেন্টে থাকবে। জব্দ তালিকা দেখিয়েই তিনি (রেজওয়ান) ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন।’

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেজওয়ানকে কম্পিউটার জব্দসংক্রান্ত কোনো নথি দেননি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান। তাকে কেবল এক হাজার টাকা জরিমানা করার একটি রসিদ দেয়া হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট কি কম্পিউটার পোড়ানোর ক্ষমতা রাখেন?
উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে চলে অভিযান

মোবাইল কোর্ট আইনের ১৪ ধারায় ‘সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য রক্ষণ’ সংক্রান্ত সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত, বা কৃত বলিয়া বিবেচিত, কোন কার্যের জন্য কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সহিত সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো প্রকার আইনগত কার্যধারা রুজু করিতে পারিবেন না।’

এমন অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কেউ কী করে আইনি প্রতিকার পাবেন, এমন প্রশ্নে জ্যোতির্ময় বড়ুয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনে তো আর সবকিছু লেখা থাকে না। আর এটা তো সরল বিশ্বাসে হয়েছে এমন কিছুও না।’

সাতক্ষীরার জজ কোর্টের অতিরিক্ত পিপি ফাহিমুল হক কিসলু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর কোনো বেআইনি দ্রব্য বা পণ্য পুড়িয়ে বা অন্য কোনোভাবে বিনষ্ট করতে গেলে আদালতের নির্দেশ থাকতে হবে। সে ক্ষেত্রে নিয়মিত মামলা হতে হবে, সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থাকবেন। তারপর আদালত আলামত ধ্বংসের নির্দেশ দিলে তা ধ্বংস করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কম্পিউটারে কোনো অশ্লীল ছবি বা ভিডিও থাকলে শুধু সেগুলো নষ্ট করা যেতে পারে। তাই বলে কম্পিউটার পুড়িয়ে দেয়া আইনসিদ্ধ নয়।’

আরও পড়ুন:
বোট ক্লাবও হারালেন নাসির
কে এই অমি
নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির
ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
পরীমনি নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন বনানীর ওসি

শেয়ার করুন

চার মামলায় আরও ১৪ দিনের রিমান্ডে হেলেনা

চার মামলায় আরও ১৪ দিনের রিমান্ডে হেলেনা

র‍্যাবের হাতে আটকের পর কয়েকটি মামলা হয়েছে ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

শুনানিতে হেলেনার আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হেলেনা জীবনে কখনও কোনো অন্যায় করেন নাই। তিনি ব্যবসা করে সৎ উপায়ে দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি অনুগত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তিনি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়েছেন।’

পল্লবী থানার দুই মামলায় আট দিনের রিমান্ডের পর এবার আলোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানার দুই মামলায় তিন দিন করে আরও ছয় দিন পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত। এ নিয়ে চার মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড দেয়া হলো হেলেনাকে।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর।

এদিন আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শেখ শাহানুর রহমান হেলেনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় দশ দিনের হেফাজতে নিতে আবেদন করেন। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা আরেক মামলায় হেলেনাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ পাঁচ দিনের হেফাজতে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ।

বিচারক ওই আবেদন গ্রহণ করে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মঙ্গলবার গুলশান থানায় পুলিশের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হেলেনাকে বিকেলে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

রোববার গুলশান থানায় ওই মামলাটি করা হয়। শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদনটি আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় জমা দেন।

হেলেনা জাহাঙ্গীর গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। একারণে রিমান্ড থেকে ফেরার পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফের দশ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

আসামি পক্ষে আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘সাজানো ঘটনায় আসামিকে বারবার হয়রানির চেষ্টা হচ্ছে। তিনি একজন অসুস্থ মানুষ। তার ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পেয়ে এখন ২৪ এ দাঁড়িয়েছে। তাই তার রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আদেশ প্রার্থনা করছি। রিমান্ডের কোনো কারণ নাই ২৫, ২৯, ৩১ ধারা জামিনযোগ্য। যে মামলা করেছে তার মানহানি হয় নাই। এটা সুনির্দিষ্ট করে কোথাও বলা নাই।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই তিনটি ধারার কোনোটি রিমান্ডযোগ্য নয়। এর পরিষ্কার রেফারেন্স আছে ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায়। রিমান্ড হবে না এ মামলায়, আমি ন্যায়বিচারের স্বার্থে রিমান্ড বাতিল চাই।’

মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ মাদক লাইসেন্স থাকলে রাখা যায়।’

তখন বিচারক বলেন, ‘মদের লাইসেন্সটি কি আপনার কাছে আছে?’

আইনজীবী বলেন, ‘লাইসেন্সটি সঙ্গে নাই। তিনি একটি মহলের প্রতিহিংসার শিকার। তিনি একজন ভিভিআইপি ও সিআইপি। বিষয়টি বিবেচনা করে জামিনের আবেদন প্রার্থনা করছি। এ মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে পর্যাপ্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায় নাই।

‘তিনি একজন ব্যবসায়ী। দেশের প্রতি উনার অনেক অবদান আছে। তাই তার অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করে জামিনের আবেদন করছি এবং রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি। হেলেনা জাহাঙ্গীর কোনো মাদক সেবন বা বিক্রি করেন না। তিনি একজন সিআইপি ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকেও পুরস্কারপ্রাপ্ত। তাই দয়া করে রিমান্ড বাতিলপূর্বক যে কোনো শর্তে তার জামিন দেয়া হোক।’

হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইনজীবী আরও বলেন, ‘তিনি জীবনে কখনও কোনো অন্যায় করেন নাই। তিনি ব্যবসা করে সৎ উপায়ে দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি অনুগত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তিনি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়েছেন।’

মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল রিমান্ডের আবেদন ও জামিনের বিরোধিতা করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, আসামির নিকট থেকে অনেক কিছু বিষয় জানার আছে। তিনি রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী অনেক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। অনেক নেতা, মন্ত্রী, এমপিকে তিনি হেয় প্রতিপন্ন করে ফেসবুক লাইভে এসে আপত্তিকর ভিডিও ও বক্তব্য প্রচার করেছেন। ফেসবুকের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তুলছেন। তার এই উদ্দেশ্যের বিষয়ে, ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানা প্রয়োজন, তাই তাকে পুনারায় দশ দিনের রিমান্ড দেয়া হোক।

এসময় গুলশান থানার মাদক মামলায়ও হেলেনার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

শুক্রবার হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বর রোডে অবস্থিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

অভিযান শেষে সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় আমরা অভিযান চালিয়েছি। তার বাসা থেকে আমরা বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, বিদেশি মুদ্রা, চাকু ও হরিণের চামড়া জব্দ করেছি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হেলেনার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

এছাড়া হেলেনার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনসহ চারটি ধারায় আরেকটি মামলা হয়েছে।

গৃহবধূ থেকে ব্যবসায়ী হয়ে সিআইপির (কমার্শিয়ালি ইমপর্টেন্ট পারসন) স্বীকৃতি পাওয়া এই ব্যবসায়ী সম্প্রতি তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠেন ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচার চালাতে গিয়ে। আওয়ামী লীগের এই নামে কোনো সংগঠন নেই। তিনি এই সংগঠনকে সামনে নিয়ে আসার পর ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের পদ হারান হেলেনা। ক্ষমতাসীন দলের মহিলাবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যপদ ছাড়াও কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। ওই ঘটনায় পিছুটান দেন হেলেনা। বলেন, তিনি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে এই সংগঠনের কেউ না। তাকে সম্প্রতি সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১-এর অভিযানে ২৯ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫ নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ১টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ১টি হরিণের চামড়া, ২টি মোবাইল ফোন, ১৯টি চেকবই ও বিদেশি মুদ্রা, ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার সরঞ্জাম ৪৫৬টি চিপস। পরবর্তী সময়ে মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন:
বোট ক্লাবও হারালেন নাসির
কে এই অমি
নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির
ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
পরীমনি নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন বনানীর ওসি

শেয়ার করুন

‘ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই’

‘ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই’

ছুরিকাঘাতে নিহত এসএসসি পরীক্ষার্থী গোলাম রসুল। ছবি: নিউজবাংলা

রসুলের বাবা কাজী রওমোত বলেন, ‘আমার কোনো টাকা নাই। তাও আমি যেভাবেই হোক মামলা চালাব। যতই ভয় দেখাক, ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই।’

মাগুরা সদরের বেরইলপলিতা গ্রামে ছুরিকাঘাতে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী খুনের মামলার ছয় দিন হয়ে গেলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত গোলাম রসুলের বাবা কাজী রওমোত ২৮ জুলাই বেলা তিনটার দিকে মাগুরা সদর থানায় মামলাটি করেন। মামলার আসামি রসুলেরই ছয় সহপাঠী।

হত্যার সাত দিন হয়ে গেলেও মা সোহাগী বেগম এখনও ছেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি। তিনি বারবার আহাজারি করে বলেন, ‘আমার বাজান মরে নাই। ওরে তোরা লুকায়ে রাখছিস।’

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৬ বছর বয়সী রসুল গঙ্গারাম কালীপ্রসন্ন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র ছিল। তার বাবার স্থানীয় বাজারে চায়ের দোকান আছে।

২৭ জুলাই রাত পৌনে আটটার দিকে রসুল বাবার দোকান থেকে বাড়ির দিকে রওনা হয়। পথে বেরইলপলিতা দক্ষিণপাড়ায় নূর আলমের পাকা রাস্তার ব্রিজের পাশে তার বন্ধুরা তাকে থামায়।

সেখানে ফ্রি ফায়ার গেম নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। তারা তাকে মারধর করে। গেম নিয়ে আগে থেকেই রসুলের সঙ্গে বন্ধুদের বিরোধ ছিল। মারামারির একপর্যায়ে কেউ একজন তার বুকে ছুরিকাঘাত করে।

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হলেও পুরো ঘটনার পরিকল্পনা করেছিল তার বন্ধু দশম শ্রেণির এক ছাত্র। রসুল তার মেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড গোপনে ব্যবহার করে ফ্রি ফায়ার খেলত বলে সে প্রায়ই তাকে হুমকি দিত। এর জেরেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

রসুলের বড় বোন লিপিকা বেগম নিউজবাংলাকে জানান, রসুল তাদের দুই বোনের আদরের একমাত্র ভাই। সামনে বছর সে কলেজে যেত। স্বপ্ন ছিল, একদিন অভাবের এই সংসারের হাল ধরবে রসুল। বোনদের বিয়ের পর কে বাবা-মায়ের দেখাশোনা করবে, সেটিও তাদের ভাবিয়ে তুলছে।

লিপিকার অভিযোগ, ভাইয়ের মৃত্যুর পর ইদানীং অপরিচিত লোকজন তার বাবার দোকানে এসে শাসিয়ে যায়। তারা দরিদ্র মানুষ। ক্ষমতাসীনদের একটি বড় অংশ আসামিদের পক্ষ নিয়ে মামলা তুলে নিতে তাদের চাপ দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাই খুন হওয়ার দুই দিন আগে কারা যেন তাকে উপজেলার মহম্মদপুরের পানিঘাটায় আটকে রেখেছিল। গলাও ছুরিও ধরেছিল। পুলিশ তাদের আটক করেছে বলে শুনেছি।’

এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে আটক করেনি।

রসুলের বাবা কাজী রওমোত বলেন, ‘আমার কোনো টাকা নাই। তাও আমি যেভাবেই হোক মামলা চালাব। যতই ভয় দেখাক, ছেলের খুনের বিচার দেখে মরতে চাই।’

এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানার ওসি জয়নাল আবেদীন জানান, অনেক কিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের বয়স কম। পুলিশ আসামিদের পরিবারকে নজরে রেখেছে। চেষ্টা করা হচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনার।

এই খুনের ঘটনার মূলে যে মোবাইল গেম ছিল, সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ওসি।

আরও পড়ুন:
বোট ক্লাবও হারালেন নাসির
কে এই অমি
নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির
ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
পরীমনি নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন বনানীর ওসি

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

স্ত্রী মিতু নিহতের পর এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবুল আক্তার। ফাইল ছবি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে ওই নারীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে তার বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের কথিত প্রেমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা নিউজবাংলাকে জানান, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) পক্ষ থেকে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি, যা মামলার তদন্তকাজকে এগিয়ে নেবে। তবে ওই নারী বর্তমানে কোথায় আছেন, সেটি নিয়ে আমাদের কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংস্থাটি।’

২৩ মে ওই নারী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি দিয়েছিল পিবিআই। গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ওই চিঠির উত্তর পায় সংস্থাটি।

সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে তার তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে ওই নারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে তার বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

এর আগে বাবলুকে দেয়া তার কথিত প্রেমিকার দুটি বই ফরেনসিক পরীক্ষার কথা জানিয়েছে পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বই ল্যাবে পাঠানোর জন্য শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বই দুটি আমরা জব্দ করেছি। এগুলোতে কিছু লিখিত বিষয় রয়েছে, যেগুলো পরকীয়ার সম্পর্ক নির্দেশ করে। মামলার তদন্তের স্বার্থে বই দুটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য আদালতের অনুমতি লাগবে। আমরা শিগগিরই পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করব।’

মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারের সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের ওই নারীকর্মীর পরকীয়া ছিল বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকার সময় ২০১৩ সালে ইউএনএইচসিআরের কর্মীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বাবুল। এ নিয়ে মিতুর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় বাবুলের। মিতুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনও করেন বাবুল।

২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সুদানে জাতিসংঘ শান্তিমিশনে ছিলেন বাবুল। এ সময় বাবুলের মোবাইল ফোনটি চট্টগ্রামের বাসায় ছিল। ওই মোবাইল ফোনে মোট ২৯ বার ম্যাসেজ দেন বাবুলের কথিত প্রেমিকা।

পিবিআই কর্মকর্তা জানান, বাবুলকে তার কথিত প্রেমিকার উপহার দেয়া একটি বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে ‘05/10/13, Coxs Bazar, Bangladesh. Hope the memory of me offering you this personal gist. shall eternalize our wonderful bond, love you...’

শেষ পৃষ্ঠায় বাবুল আক্তার নিজের হাতে ইংরেজিতে তার কথিত প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা লেখেন।

তিনি (বাবুল) লিখেছেন ‘First Meet: 11 Sep, 2013, First Beach walk 8th Oct 2013, G Birth day 10 October, First kissed 05 October 2013, Temple Ramu Prayed together, 13 October 2013, Ramu Rubber Garden Chakaria night beach walk.’

এজাহারে বলা হয়েছে, এই পরকীয়া প্রেমের কারণে বাবুল-মিতুর দাম্পত্য অশান্তি চরমে পৌঁছে। মিতু বাবুলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলের বিরুদ্ধে ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা হয়। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

আরও পড়ুন:
বোট ক্লাবও হারালেন নাসির
কে এই অমি
নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির
ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
পরীমনি নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন বনানীর ওসি

শেয়ার করুন

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মন্ত্রীর সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মন্ত্রীর সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা

রাজধানীর মিরপুরে হেলেনা জাহাঙ্গীরের জয়যাত্রা টেলিভিশনের কার্যালয়।

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সম্পর্ক আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাজির করার চেষ্টা করতেন হেলেনা। আমরা দেখেছি সে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ব্যবহার করত, যেগুলো নিজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণার জন্য। আপনারা যেটা বলেছেন, সেটা এ ধরনের প্রতারণার অংশ কি না সেটি গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা খতিয়ে দেখছে।’

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সম্পর্ক প্রতারণার অংশ কি না সেটি খতিয়ে দেখছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নসহ (র‍্যাব) অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা।

মঙ্গলবার দুপুরে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সম্পর্ক আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘জয়যাত্রা টেলিভিশন আইপি টিভির নামে স্যাটেলাইট টিভি পরিচালনা করে আসছিল। স্যাটেলাইট টিভি সম্প্রচারের সমস্ত কিছু সেখানে ছিল। হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা টেলিভিশনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিয়ে আসতেন।’

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাজির করার চেষ্টা করতেন হেলেনা। আমরা দেখেছি সে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ব্যবহার করত, যেগুলো নিজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণার জন্য। আপনারা যেটা বলেছেন, সেটা এ ধরনের প্রতারণার অংশ কি না সেটি গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা খতিয়ে দেখছে।’

ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন আইপি টিভি জয়যাত্রা কার্যক্রম শুরু করে ২০১৮ সালে। টিভিতে কর্মরতদের বেতন দেয়ার বদলে উল্টো তাদের কাছ থেকেই চাঁদা নিতেন তিনি। এর বিনিময়ে জয়যাত্রা আইপিটিভির আইডি কার্ড ব্যবহার করতে পারত চাঁদাদাতারা।

মঙ্গলবার র‍্যাব জানিয়েছে আইপিটিভির নামে স্যাটেলাইটে সম্প্রচার চালাচ্ছিল জয়যাত্রা টিভি। ২০১৮ সাল থেকে হংকংয়ের একটি ডাউনলিংক চ্যানেল হিসেবে সম্প্রচার হয়ে আসছিল। যার ফ্রিকোয়েন্সি হংকং থেকে বরাদ্দ করা হয়। এর জন্য হংকংকে মাসে ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করত জয়যাত্রা।

জয়যাত্রা টিভির জিএম (এডমিন) হাজেরা খাতুন ও প্রতিনিধি সমন্বয়ক সানাউল্ল্যাহ নূরীকে গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পেরেছে র‍্যাব।

গৃহবধূ থেকে ব্যবসায়ী হয়ে সিআইপির (কমার্শিয়ালি ইমপর্টেন্ট পারসন) স্বীকৃতি পাওয়া জয়যাত্রা আইপি টিভির মালিক হেলেনা জাহাঙ্গীর সম্প্রতি তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠেন ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচার চালাতে গিয়ে। আওয়ামী লীগে এই নামে কোনো সংগঠন নেই। তিনি এই সংগঠনকে সামনে নিয়ে আসার পর ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের পদ হারান হেলেনা। ক্ষমতাসীন দলের মহিলা বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যপদ ছাড়াও কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। ওই ঘটনায় পিছুটান দেন হেলেনা। বলেন, তিনি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে এই সংগঠনের কেউ না। তাকে সম্প্রতি সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১-এর অভিযানে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫ নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।

ওইদিন রাতেই জয়যাত্রার অফিসে যায় র‍্যাব। রাত দেড়টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বরে টেলিভিশনটির অফিসে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন র‍্যাব সদস্যরা।

প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযানের পর র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ জানান, জয়যাত্রা টেলিভিশনের কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। যদিও সম্প্রচার চ্যানেল হিসেবে যা যা থাকা দরকার, তার সবকিছুই রয়েছে।

জয়যাত্রার বিষয়ে পরে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন ওই র‍্যাব কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
বোট ক্লাবও হারালেন নাসির
কে এই অমি
নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির
ঢাকা বোট ক্লাবের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
পরীমনি নিয়ে বক্তব্য পাল্টালেন বনানীর ওসি

শেয়ার করুন