ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে রিজান হত্যা

ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে রিজান হত্যা

প্রতীকী ছবি।

এসআই ফরিদ আহম্মদ বলেন,‘জিজ্ঞাসাবাদে সাগর মিয়া জানিয়েছেন, রিজানের ইজিবাইকটি ছিনতাই করতে তিনিসহ আরও দুজন যাত্রীবেশে ইজিবাইকে ওঠেন। খাগুরিয়া এলাকায় এলে রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে রিজানকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়।’

নেত্রকোণার মদনে ইজিবাইকের চালক রিজান মিয়া হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই খুন করা হয় রিজানকে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার পাগলা বস্তি থেকে রোববার রাতে হত্যার সঙ্গে জড়িত সাগর মিয়াকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এ তথ্য।

নেত্রকোনা ডিবি পুলিশ সোমবার বিকেলে এ তথ্য জানায়।

২৪ বছরের সাগর মিয়া মদন মোড়ল বাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিজান প্রতিদিনের মতো গত মঙ্গলবার সকালে তার ইজিবাইকটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। সন্ধান না পেয়ে বুধবার রাতে মদন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে রিজানের পরিবার।

পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা উপজেলার খাগুরিয়া এলাকার একটি পাটক্ষেতে রিজানের অর্ধগলিত মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আর রিজানের ইজিবাইকটি উপজেলার বটতলা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রিজানের বাবা শুক্রবার সকালে থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলাটি নিয়ে ছায়া তদন্ত চালায়।

ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহম্মদের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ শনিবার আটপাড়া সোনাজুর বাজারের একটি ভাঙারির দোকান থেকে রিজানের ইজিবাইকের ব্যাটারিগুলো জব্দ করে।

এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে রোববার রাত ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা বস্তি থেকে সাগর মিয়াকে আটক করা হয়। পরে রিজানের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এসআই ফরিদ আহম্মদ বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে সাগর মিয়া জানিয়েছেন, রিজানের ইজিবাইকটি ছিনতাই করতে তিনিসহ আরও দুজন যাত্রীবেশে ইজিবাইকে ওঠেন। খাগুরিয়া এলাকায় এলে রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে রিজানকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়।’

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত অন্য দুজন আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে দুইজনের নাম জানাননি তিনি।

আরও পড়ুন:
বাড়িতে ঢুকে গ্রামপ্রধানকে গুলি করে হত্যা
খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে প্রেম, ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে স্বামীকে হত্যা
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব
সৈয়দপুর গোলাহাট গণহত্যা দিবস

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরীমনির মদের লাইসেন্স ছিল, তবে...

পরীমনির মদের লাইসেন্স ছিল, তবে...

পরীমনির বাসা থেকে জব্দ করা মদের বোতল। ছবি: নিউজবাংলা

‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনসিদ্ধ পদ্ধতিতে গতানুগতিক নিয়ম অনুযায়ী পরীমনির বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়। যা একটি লাইসেন্সে কাভার করে না। পাশাপাশি তার বাসায় লাইসেন্সের একটি কপি পেয়েছি, তবে তা আইনসিদ্ধ নয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল।’

পরীমনির বাসায় তার একটি মদের লাইসেন্সের কপি পেয়েছে র‍্যাব। তবে সেটি আইনসিদ্ধ ছিল না বলে জানিয়েছেন এলিট বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে র‍্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনসিদ্ধ পদ্ধতিতে গতানুগতিক নিয়ম অনুযায়ী পরীমনির বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়। যা একটি লাইসেন্সে কাভার করে না। পাশাপাশি তার বাসায় লাইসেন্সের একটি কপি পেয়েছি, তবে তা আইনসিদ্ধ নয় এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল।’

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদক সেবন করতেন। এমনকি ভয়ংকর মাদক এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। তার বাসায় একটি মিনি বারও রয়েছে। তিনি বাসায় নিয়মিত মদের পার্টি করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ পরীমনির বাসায় এসব মাদক সাপ্লাই (সরবরাহ) করতেন।’

পরীমনির মদের লাইসেন্স ছিল, তবে...
পরীমনিকে আটকের বিষয়ে ব্রিফিংয়ের পর তাকে বনানী থানায় নিয়ে যায় র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা
আরও পড়ুন:
বাড়িতে ঢুকে গ্রামপ্রধানকে গুলি করে হত্যা
খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে প্রেম, ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে স্বামীকে হত্যা
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব
সৈয়দপুর গোলাহাট গণহত্যা দিবস

শেয়ার করুন

পরীমনিকে রিমান্ডে পেল পুলিশ

পরীমনিকে রিমান্ডে পেল পুলিশ

র‌্যাবের করা মাদক মামলায় পরীমনিকে ৪ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পরীমনিকে সাতদিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করেছিল পুলিশ। এর বিরোধীতা করেন নিলাঞ্জনা রেফাত সুরভীসহ কয়েকজন আইনজীবী। আদালত তা নাকচ করে দেয়।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এক মামলায় আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনিকে ৪ দিনের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। একই মামলায় এই অভিনেত্রীর মামা পরিচয় দেয়া আশরাফুল ইসলাম দীপুকেও চারদিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

পরীমনিকে বৃহস্পতিবার রাতে আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন ঢাকা মুখ্য মহানগর আদালতের হাকিম মামুনুর রশীদ।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক একটি মামলায় প্রযোজক-পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজ ও তার সহযোগী সবুজ আলীকেও ৪ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

আসামিদের প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমান্ডে পেতে আবেদন করেছিল পুলিশ। এর বিরোধীতা করেন নিলাঞ্জনা রেফাত সুরভীসহ কয়েকজন আইনজীবী। আদালত তা নাকচ করে দেয়।

পরীমনিকে উপস্থিত করার আগেই আদালত পাড়ার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বনানী থানায় পরীমনি, রাজ ও আরও দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করে র‌্যাব।

এর আগে র‌্যাব কার্যালয়ে পরীমনি ও রাজকে আটকের বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানোর পর বনানী থানায় নিয়ে আসা হয়।

র‌্যাব জানায়, অ্যালকোহলের চাহিদা মেটাতে পরীমনি নিজ বাসায় ‘মিনি বার’ স্থাপন করেছিলেন।

ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘পরীমনির বাসার মিনি বারে বিভিন্ন বিদেশি মদ, ইয়াবা, এলএসডি ও আইস পাওয়া গেছে। পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এ তথ্য জেনেছি।

‘আমরা জেনেছি, ২০১৬ সালে অ্যালকোহলে আসক্ত হন তিনি। চাহিদা মেটাতেই এই মিনি বার স্থাপন করেন। বিভিন্ন সময় তার বাসায় ডিজে পার্টি আয়োজন করতেন। এই মিনি বারে অ্যালকোহল সরবরাহ করতো নজরুল ইসলাম রাজ।’

পরীমনিকে রিমান্ডে পেল পুলিশ
বনানী থানা থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে পরীমনিকে আদালতে আনা হয়। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান শেষে বুধবার রাতে তাকে নিজেদের জিম্মায় র‌্যাবের হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই অভিনেত্রীর বাসায় অভিযান শেষ হতেই বনানীতেই অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় প্রযোজক-পরিচালক রাজকে।

র‍্যাব জানায়, পরীর বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে ৮ বোতল প্লাটিনাম লেভেল, তিনটি ব্ল্যাক লেভেল, ২টি সিভাস সিগ্যাল, ২টি ফক্স গ্রোভ, একটি ব্লু লেভেল, ২টি গ্ল্যানলিভেট, একটি গ্ল্যানফিডিচ বোতল।

এ ছাড়া, এই অভিনেত্রীর বাসা থেকে জব্দ হয়েছে ৪ গ্রাম আইস ও এক স্লট ভয়ংকর মাদক এলএসডি। জব্দ তালিকায় একটি বং পাইপের কথাও বলা হয়েছে।

আর চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিচালক নজরুল ইসলাম রাজের অফিস থেকে বিপুল মদ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে তার বাসায় মিলেছে সাত বোতল গ্ল্যানলিভেট, ২টি গ্ল্যানফিডিচ, চারটি ফক্স গ্রোভ, একটি প্লাটিনাম লেভেল।

এর বাইরে সীসায় ব্যবহৃত চারকোলের একটি প্যাকেট, দুই সেট সীসার সরঞ্জাম, দুই ধরনের সীসা তামাক, সীসা সেবনের জন্য ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের একটি রোল, ৯৭০ পিস ইয়াবার কথাও বলা হয়েছে জব্দ তালিকায়।

এ ছাড়া, যৌনাচারের জন্য ব্যবহৃত ১৪টি বেআইনি সরঞ্জাম, একটি সাউন্ড বক্স ও দুটি মোবাইল ফোন সেট এবং একটি মেমোরি কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাড়িতে ঢুকে গ্রামপ্রধানকে গুলি করে হত্যা
খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে প্রেম, ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে স্বামীকে হত্যা
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব
সৈয়দপুর গোলাহাট গণহত্যা দিবস

শেয়ার করুন

অনুমোদনহীন ডিগ্রি সরাতে রাজি ডা. জাহাঙ্গীর

অনুমোদনহীন ডিগ্রি সরাতে রাজি ডা. জাহাঙ্গীর

ডা. জাহাঙ্গীর বললেন, ‘বিএমডিসি যদি আপত্তি তোলে, তাহলে আমি প্রয়োজনে এগুলো লিখব না। এগুলো সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ড থেকে বাদ দিয়ে দিব।’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন ছাড়া চারটি ডিগ্রি এখন থেকে আর সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়েছেন কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএমডিসি চিঠি পাঠাবে এটা আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে বিএমডিসি যদি আপত্তি তোলে, তাহলে আমি প্রয়োজনে এগুলো লিখব না। এগুলো সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ড থেকে বাদ দিয়ে দেব।’

তিনি বলেন, ‘কোনো চিকিৎসক যদি ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে, সেটা তো বিএমডিসি অনুমোদন দেবে না। কারণ বিএমডিসি সেটা গ্রহণ করবে না।’

ডা. জাহাঙ্গীর দাবি করেন, প্রেসক্রিপশনে তিনি তার ডিগ্রিকে ট্রেইনিং (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) হিসেবে উল্লেখ করতেন। তবে বিএমডিসির দাবি, তিনি তার প্রেসক্রিপশনে ডিগ্রি হিসেবেই উল্লেখ করতেন। এরকম প্রেসক্রিপশনের নমুনা তাদের কাছে আছে।

এর আগে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগ তোলে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজ (এফডিএসআর)। এ অভিযোগের পর দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়ে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে বিতর্কিত ভিডিওসহ মোট তিনটি পোস্ট সরিয়ে নেবেনে বলে জানান ডা. জাহাঙ্গীর।

তবে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এফডিএসআর নেতারা বলছেন, ডা. জাহাঙ্গীরকে কিটো ডায়েট সংক্রান্ত সব ভিডিও সরাতে হবে। তা না হলে ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগে মামলা করা হবে তার বিরুদ্ধে। এসব ভিডিও সরিয়ে নিতে ডা. জাহাঙ্গীরকে সাত দিনের সময় দিয়েছে এফডিএসআর।


আরও পড়ুন: ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ডিগ্রির ‘অনুমোদন নেই’

বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ অনুযায়ী, দেশের চিকিৎসকরা তাদের সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন বা ভিজিটিং কার্ডে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি উল্লেখ করতে গেলে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন নিতে হয়। এই আইন না মেনে দীর্ঘদিন ধরে বিএমডিসির অনুমোদন ছাড়াই চারটি ডিগ্রি ব্যবহার আসছেন ডা. জাহাঙ্গীর।

আইন অনুযায়ী, প্র্যাকটিস করা যে কোনো চিকিৎসককে তাদের অর্জিত ডিগ্রির সদনের কপি বিএমডিসিতে জমা দিয়ে তা ব্যবহারের অনুমোদন নিতে হয়। বিএমডিসি সেগুলো যাচাই করে একটি নিবন্ধন নম্বর দেয়। এরপর ডিগ্রির তথ্য বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করার অনুমতি মেলে।

ডা. জাহাঙ্গীর কবির তার সাইনবোর্ডে, প্রেসক্রিপশনে যেসব ডিগ্রি উল্লেখ করেছেন সেগুলোর বিষয়ে তিনি বিএমডিসিতে কোনো আবেদন করেননি।

ডা. জাহাঙ্গীর এমবিবিএস ছাড়াও যে চারটি ডিপ্লোমা ডিগ্রি ব্যবহার করছেন, সেগুলো হলো: ডিপ্লোমা মডিউল ইন ডায়াবেটিস (এডুকেশন ফর হেলথ), ডিপ্লোমা মডিউল ইন অ্যাজমা (এডুকেশন ফর হেলথ), ডিপ্লোমা মডিউল ইন সিওপিডি (এডুকেশন ফর হেলথ), স্পিরো ৩৬০ স্পাইরোমেট্রি কোর্স (ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা যেহেতু অভিযোগ পেয়ে তাকে চিঠি দিয়েছি, এ বিষয়ে তিনি আমাদের কারণ ব্যাখ্যা করে জবাব দেবেন। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘এছাড়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ভিডিও তৈরি করছেন। এই ভিডিওগুলোতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। তিনি কেন অনুমোদন ছাড়াই ডিগ্রিগুলো ব্যবহার করছেন? এটা কী ধরনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেটা আমাদের আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাখ্যা দিতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।’

বিএমডিসির পরবর্তী পদক্ষেপ জানতে চাইলে মো. লিয়াকত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৫ দিনে জবাব না এলে ধারাবাহিকভাবে তিনটা চিঠি তার কাছে পাঠানো হবে। এরপরেও জবাব না দিলে ডিগ্রিগুলো নকল ধরে নিয়ে র‌্যাবের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমাদের সংস্থার কর্মকর্তারা সেই অভিযানে থাকবেন।’

চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপনসিবিলিটিজের (এফডিএসআর) মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের ব্যবহার করা ডিগ্রিগুলোর অনুমোদন বিএমডিসি দেয়নি। এগুলো আসলে মানুষকে প্রলুব্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটা এক ধরনের প্রতারণার শামিল এবং অবশ্যই নিয়ম লঙ্ঘন।’

আরও পড়ুন:
বাড়িতে ঢুকে গ্রামপ্রধানকে গুলি করে হত্যা
খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে প্রেম, ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে স্বামীকে হত্যা
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব
সৈয়দপুর গোলাহাট গণহত্যা দিবস

শেয়ার করুন

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করতে তৈরি নাসির

পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করতে তৈরি নাসির

নাসির উদ্দিন মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে জনসমক্ষে সে (পরীমনি) হেয় করেছে। আমি অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, মামলা করব।’

র‍্যাবের অভিযানে আটক আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনির বিরুদ্ধে শিগগিরই মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বোট ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য নাসির উদ্দিন মাহমুদ।

পরীমনির বাসায় র‍্যাবের অভিযানের মধ্যে বুধবার বিকেলে তিনি নিউজবাংলাকে এ কথা জানান।

পরীমনি গত ৯ জুন রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে যাওয়ার পর ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগ তুলে সারা দেশে তোলপাড় ফেলেন।

এরপর ১৪ জুন তিনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিন ও অমির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন নাসির।

১ জুলাই জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান নাসির উদ্দিন মাহমুদ। শুরু থেকেই তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

পরীমনির বাসায় বুধবার র‌্যাবের অভিযানের সময় নাসির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার সম্পর্কে সে (পরীমনি) মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিল, যা সত্য নয় তা বলেছিল। ভিডিও ফুটেজ এবং তার কথাবার্তা সবকিছুতেই অসংগতি ছিল। বাস্তবে এর কোনো মিল ছিল না।

‘এই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাকে জনসমক্ষে সে হেয় করেছে। আমি অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, মামলা করব।’

তিনি বলেন, ‘আমার মানহানি হয়েছে, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছে, ফেসবুকে মিথ্যাচার করেছে, বোট ক্লাবে ড্রিংক নিয়ে জোরাজুরি করেছে। আমি মামলা তো করবই। তাকে তো ছাড় দেয়া যায় না। আমি আমার মতো করে লিখে রেখেছি, যেকোনো সময় বিমানবন্দর থানায় পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা করব।’

আরও পড়ুন:
বাড়িতে ঢুকে গ্রামপ্রধানকে গুলি করে হত্যা
খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে প্রেম, ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে স্বামীকে হত্যা
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব
সৈয়দপুর গোলাহাট গণহত্যা দিবস

শেয়ার করুন

আপনারা এবার অফ যান: সাংবাদিকদের ইউএনও

আপনারা এবার অফ যান: সাংবাদিকদের ইউএনও

আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কালীরহাট আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা।

ইউএনও মনসুর বলেন, ‘নিউজ করতে গেলে দুটি কমিউনিটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে। আপনারা যদি এ পর্যন্ত অফ যান, তাহলে দুটি কমিউনিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের থাপ্পড় দিয়ে ভারতে পাঠানোর হুমকি দেয়া লালমনিরহাটের সেই ইউএনও এ বিষয়টি নিয়ে আর কোনো সংবাদ প্রচার করতে মানা করেছেন।

আদিতমারীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনসুর উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, এসব খবর প্রচার হলে ওই সম্প্রদায়ের ক্ষতি হতে পারে।

এর আগে তাকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য করে রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে সেটি বুধবার সংবাদকর্মীদের হাতে আসে।

গত ১৭ জুলাই আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কালীরহাট আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এ বৃষ্টির পানি জমে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ইউএনও মনসুর ওই দিন সেখানে গিয়ে করুণা কান্ত রায় নামের এক ব্যক্তির জমির মাঝ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরির কাজ শুরু করেন।

এতে করুণা বাধা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেন সরকারি খাস জমি থাকলেও জোর করে তার জমি নেয়া হচ্ছে।

করুণা বলেন, ‘আমার জমির মাঝ বরাবর দিয়ে ড্রেন না করে জমির এক পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করেন। তাতে আমার জমিটা ভালো থাকবে।’

করুণা জানান, এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই ইউএনও উত্তেজিত হয়ে করুণা ও তার দুই ভাই অমূল্য কুমার ও সুনীল কুমারকে গালাগাল করে বলেন, ‘আমি এই উপজেলার মালিক, আমি ইউএনও মনসুর উদ্দিন বলছি। আমি যে সিদ্ধান্ত দেব, সেটাই সবাইকে মেনে নিতে হবে।

‘একেবারে থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফালায় দেব। এর পরেও যদি এখানে কেউ কথা বলার সাহস দেখায় তাহলে তাদের জমি খাস করে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে ভারতে পাঠিয়ে দেব এবং দরকার হলে ফেনসিডিল দিয়ে চালান দেব।‘

এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে ইউএনও মনসুরকে বদলি করা হয়। তার বক্তব্যের জন্য গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, ‘নিউজ করতে গেলে দুটি কমিউনিটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে। আপনারা যদি এ পর্যন্ত অফ যান, তাহলে দুটি কমিউনিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। ডিসি স্যারকে বলেন। ডিসি স্যার বুজবে। ডিসি স্যারের কাছে স্টেটমেন্ট নেন।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রাশেদুল হক প্রধান নিউজবাংলাকে জানান, বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ এসেছে। আগামী সপ্তাহে তদন্তের কাজে ঘটনাস্থলে যাবেন।

আরও পড়ুন:
বাড়িতে ঢুকে গ্রামপ্রধানকে গুলি করে হত্যা
খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে প্রেম, ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে স্বামীকে হত্যা
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব
সৈয়দপুর গোলাহাট গণহত্যা দিবস

শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জের সেই হাসপাতালে ঢুকতে সংবাদকর্মীর বাধা নেই

মানিকগঞ্জের সেই হাসপাতালে ঢুকতে সংবাদকর্মীর বাধা নেই

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সংবাদ কর্মীরা হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবে না জানিয়ে মঙ্গলবার যে চিঠি দেয়া হয়েছিল সেখানে ভাষাগত ত্রুটি হয়েছে। ওই চিঠি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এক দিনের ব্যবধানে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল। চিঠি দিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন, সংবাদ কর্মীরা আগের মতোই হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবেন।

এর আগে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কথা জানিয়ে হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।

চিঠিতে বলা হয়, সংবাদ কর্মীরা হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারবে না জানিয়ে মঙ্গলবার যে চিঠি দেয়া হয়েছিল সেখানে ভাষাগত ত্রুটি হয়েছে। ওই চিঠি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংবাদকর্মীরা আগের মতোই সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন।

মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালকে সম্পূর্ণভাবে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ও ফ্লোরেও রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মী ও চিকিৎসাধীন করোনা রোগীদের সুরক্ষায় হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ থেকে বিরতি থাকার অনুরোধ করা হলো। তবে আগের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেয়া যাবে।

এর প্রতিক্রিয়ায় মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অতীন্দ্র চক্রবর্তী বিপ্লব বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীরা সব সময় সচেতন ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে রোগীদের চিকিৎসা, অনিয়ম, অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা হলে তো সংবাদকর্মীদের হাসপাতালে গিয়ে কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
বাড়িতে ঢুকে গ্রামপ্রধানকে গুলি করে হত্যা
খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে প্রেম, ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে স্বামীকে হত্যা
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব
সৈয়দপুর গোলাহাট গণহত্যা দিবস

শেয়ার করুন

দরজি মনির ৪ দিনের রিমান্ডে

দরজি মনির ৪ দিনের রিমান্ডে

ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতে (সিএমএম) দর্জি মনির। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে নিজের ছবি এডিট করে বসিয়ে নিজেকে বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দাবি করতেন দরজি মনির।

আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে ‘বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ’ নামে একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনির খান ওরফে দরজি মনিরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা এক মামলায় চার দিনের রিমান্ডে পেয়েছে ডিবি পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতে (সিএমএম) ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

দরজি মনিরের পক্ষে আইনজীবী আমানুল করিম লিটন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল এর বিরোধীতা করেন।

শুনানি শেষে সিএমএম হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল ৪ দিনের রিমান্ড আদেশ দেন বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন আদালতে কামরাঙ্গীরচর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. আলমগীর।

মঙ্গলবার দরজি মনিরের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলাটি করেন ঈসমাইল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। গত রোববার রাতে আটক মনিরকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, একটি ছোট দরজির দোকানে চাকরি করতেন মনির। হঠাৎ করে নিজেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বন্ধু হন। একেক সময় একেক রাজনৈতিক পদবি, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এমডি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন।

অভিযোগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে নিজের ছবি এডিট করে বসিয়ে নিজেকে বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দাবি করতেন দরজি মনির।

দরজি মনির ৪ দিনের রিমান্ডে
ফটোশপ করে প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে ছবি বসিয়ে নিজেকে বড় মাপের নেতা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে দরজি মনিরের বিরুদ্ধে। ফাইল ছবি

দরজি মনির ও তার সহযোগীরা ঢাকা মহানগরী এবং বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কমিটি দেয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঈসমাইল হোসেন বলেন, গত ৩০ জুলাই বেলা আড়াইটার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানার মাদবর বাজার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে মনির তার সংগঠনের পদ প্রদান এবং বড় বড় নেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক করিয়ে দেয়ার নাম করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে ছবি এডিট করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে নিজের ছবি বসিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ছবি প্রচার করে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছেন। এভাবে নিজেকে বড় মাপের নেতা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করতেন।

তিনি জানান, মনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেকে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার করে এলাকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সৃষ্টি করেন। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম উত্তেজনা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাড়িতে ঢুকে গ্রামপ্রধানকে গুলি করে হত্যা
খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে প্রেম, ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে স্বামীকে হত্যা
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব
সৈয়দপুর গোলাহাট গণহত্যা দিবস

শেয়ার করুন