এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’

চিকিৎসক সাবিরা রহমান লিপি

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’

আপনারা কাকে সন্দেহ করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা বলার সুযোগ নাই। সবাইকেই আমরা সন্দেহ করছি। কিন্তু আমাদের এভিডেন্স তো মিলাতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত ক্লু লেস।’

ঘরের ভেতর খুন। ছুরিকাঘাত করে মরদেহে আগুন। কিন্তু অস্ত্র মেলেনি, খুনির আঙুলের ছাপ নেই কোথাও। এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, যিনি সন্দেহজনক কাউকে ভবনে ঢুকতে বা বের হতে দেখেছেন। সেই ভবনে নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও।

রাজধানীর কলাবাগানে নিজ ঘরে খুন হওয়া চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান হত্যার তদন্তে নেমে হয়রান পুলিশ। এমন কোনো একটি পথ খুঁজে পাচ্ছে না তারা, যে পথ ধরে এগোলে হত্যা রহস্যের কূলকিনারা করা যাবে।

এটি আত্মহত্যা নয়, এটা নিশ্চিত। পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে সন্দেহ করা হচ্ছে না। সেই চিকিৎসকের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল, এমন তথ্যও মেলেনি। তাহলে কে বা কারা খুন করবে, এমন প্রশ্নের কোনো জবাবও মিলছে না।

তবে বাসার সিঁড়িতে দুটি সিগারেটের ফিল্টার পাওয়া গেছে। সেটি পরীক্ষা করে যদি কিছু পাওয়া যায়, তাহলে পুলিশ কিছুটা আগাতে পারবে বলে আশা করছে।

তবে কি সোহাগী জাহান তনু, সাগর-রুনিদের হত্যার মতো ডা. সাবিরা হত্যারও কোনো ক্লু মিলবে না?

এই পরিস্থিতিতে পথ খুঁজে না পেয়ে নিহত চিকিৎসকের সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ঢালাও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সাবিরা যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, তার পাশের কক্ষে সাবলেটে থাকা নারী, যিনি ঈদের আগে বাড়িতে গিয়ে ঢাকায় আসেননি, তাকেও ঢাকায় আনা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

তাতেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যা তদন্ত কর্মকর্তাকে আশান্বিত করতে পারে।

গত ৩১ মে রাজধানীর কলাবাগানের প্রথম লেনের ৫০/১ পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৪৭ বছর বয়সী সাবিরা গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন।

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
গত ৩১ মে এই রুমটি থেকে চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: নিউজবাংলা

সাবিরা খুনের খবর পেয়ে প্রথমে বাসায় যায় কলাবাগান থানা-পুলিশ। পরে তারা খবর দেয় সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে। পরে ঘটনাস্থলে আসেন ডিবি, র‌্যাব, তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের সদস্যরা।

খুনের ৩৬ ঘণ্টা পর তার মামাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার জুয়েল কলাবাগান থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, সাবিরা রহমান খুন হওয়ার পর কলাবাগান থানা-পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও র‍্যাব ছায়া তদন্ত করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাবিরা রহমানের কলিগ, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই ঢালাও জিজ্ঞাসাবাদে কেউ বাদ যাচ্ছে না। সাবিরার বাসায় সাবলেটে থাকা আরেক নারী নূরজাহানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নূরজাহানকে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

সাবিরার বাসার সিঁড়িতে দুটি সিগারেটের ফিল্টার পাওয়া গিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই বাসার সিঁড়িতে দুইটা সিগারেটের ফিল্টার পাওয়া গিয়েছিল। ফিল্টার দুটি ডিএনএ স্যাম্পলিংয়ের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। যদি কিছু পাওয়া যায়, আলহামদুলিল্লাহ্। তবে এই রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায় নাই।’

আপনারা কাকে সন্দেহ করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা বলার সুযোগ নাই। সবাইকেই আমরা সন্দেহ করছি। কিন্তু আমাদের এভিডেন্স তো মিলাতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত ক্লু লেস।’

বাংলাদেশে বেশ কিছু আলোচিত হত্যা রহস্যের কূলকিনারা করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিশ।

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
সাবিরা রহমানের কলিগ, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

ক্লুহীন আরও কিছু ঘটনা

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার পাঁচ বছর পূর্ণ হলো গত ২০ মার্চ। কিন্তু এমন একটি ক্লুও খুঁজে পাওয়া যায়নি, যে পথ ধরে আগানো যাবে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে তনুর মরদেহ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন বিকেলে তনুর বাবা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

শুরুতে পুলিশ, ডিবি ও পরে সিআইডি মামলা তদন্ত করেও কোনো কূলকিনারা পায়নি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআই-ঢাকা কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

এর চেয়ে বেশি আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা। এই দম্পতি ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। সাগর ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ও রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
৯ বছর পার হলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঘটনাস্থলে গিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হবে। ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই মহীউদ্দীন খান আলমগীর ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনি হত্যারহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করেছিলেন। এরপর ৯ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে একজনকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। পরে সেই ব্যক্তিকে ধরা হয়, কিন্তু ঘটনার রহস্য আর উন্মোচিত হয়নি।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ও পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই মামলার তদন্তভার পায়। দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র‍্যাবকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই থেকে র‍্যাব মামলাটি তদন্ত করছে। তবে এখনও তারা কোন কূলকিনারা পায়নি।

আরও পড়ুন:
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিরিয়াফেরত জঙ্গি ফের রিমান্ডে

সিরিয়াফেরত জঙ্গি ফের রিমান্ডে

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এসআই রাছিব খান নিউজবাংলাকে বলেন, প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার সাখাওয়াতকে ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। আদালত তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার সিরিয়াফেরত জঙ্গি সাখাওয়াত হোসেনকে আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমান মঙ্গলবার বিকেলে শুনানি শেষে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এসআই রাছিব খান নিউজবাংলাকে বলেন, প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার সাখাওয়াতকে ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। আদালত তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

প্রথম দফা রিমান্ডে সাখাওয়াত কী কী তথ্য দিয়েছেন জানতে চাইলে এসআই রাছিব খান বলেন, সাখাওয়াত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেই তথ্য জানানো যাচ্ছে না। তার কাছ থেকে আরও তথ্য প্রয়োজন। এ জন্য ফের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে নগরের দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। সাখাওয়াত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক শাখার কর্মী।

তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান বাদী হয়ে খুলশী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১২ সালে ভায়রাভাই মো. আরিফ মামুনের মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত হন সাখাওয়াত। সংগঠনের নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ অন্যদের মাধ্যমে জিহাদি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে আরিফ তুরস্কে যান। সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গি নেতা হায়াত তাহরির আশরাকের কাছ থেকে ভারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। সিরিয়ার ইদলিব এলাকায় ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন। পরে সিরিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ায় আসেন। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে আবার ইন্দোনেশিয়ায় যান। গত মার্চে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন:
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে

শেয়ার করুন

শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে: অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে: অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

পাবনা গণপূর্ত বিভাগে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন ঠিকাদারের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়ার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আমরা বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় প্রদর্শিত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছি।’

পাবনায় গণপূর্ত ভবনে অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মহড়ার ঘটনা তদন্তের পর অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই নেতাদের অস্ত্র ও গুলির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আমরা বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় প্রদর্শিত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছি।’

৬ জুন দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাজী ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গণপূর্ত ভবনে যান।

তারা বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমকে খুঁজতে থাকেন। পরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কক্ষে যান ওই নেতারা। তবে কিছুক্ষণ পর তারা বের হয়ে যান।

লিখিত অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনা তদন্তে নামে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দ করে পুলিশ।

মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হওয়া নিয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষের লোকজন খোঁজ খবর তারা করায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগ না করলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। ঠিকাদারদের প্রদর্শিত অস্ত্রও জব্দ করা হয়।’

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে

শেয়ার করুন

নুসরাতের মৃত্যু: সেই ভুয়া বিসিএস ক্যাডার গ্রেপ্তার

নুসরাতের মৃত্যু: সেই ভুয়া বিসিএস ক্যাডার গ্রেপ্তার

সুসময়ের ছবি। স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নুসরাত জাহান। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। মামুন ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা জানার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টার থেকে গৃহবধূ নুসরাত জাহানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় তার স্বামী মামুন মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার দুপুর পোনে ১টার দিকে কল্যাণপুর বাসস্টান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, গোপন সংবাদে র‍্যাব-২ এর একটি দল কল্যাণপুর বাসস্টান্ড থেকে মামুন মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাব কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গত শনিবার ২৭ বছর বয়সী ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব। সোমবার গোপন সূত্রে জানা যায়, মামুন মিল্লাত কল্যাণপুর থেকে বাসে উঠে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। দীর্ঘ সময় সেখানে অপেক্ষা করে তাকে পায় র‍্যাবের দলটি।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন মিল্লাত তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের মৃত্যুতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’

নুসরাতের মৃত্যু: সেই ভুয়া বিসিএস ক্যাডার গ্রেপ্তার
র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার মামুন মিল্লাত

মামুন মিল্লাত ও নুসরাত জাহান দম্পতি আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয়ের কোয়ার্টারের একটি বাসায় সাবলেট থাকতেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও নুসরাতের কোনো সাড়া পাননি। পরে ওই ভবনের সভাপতি শেরেবাংলা নগর থানায় বিষয়টি জানান।

দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান আগারগাঁও থানার পুলিশ সদস্যরা। তারা বাসার দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় নুসরাতকে দেখতে পান।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। মামুন ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা জানার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বাবা রত্ন কান্তি রোয়াজা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন।

গ্রেপ্তারকৃত মিল্লাত মামুনকে শেরেবাংলা নগর থানায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে

শেয়ার করুন

কোচ নারীকে দলবদ্ধ ‘ধর্ষণ’: গ্রেপ্তার ২, জড়িতদের শাস্তি দাবি 

কোচ নারীকে দলবদ্ধ ‘ধর্ষণ’: গ্রেপ্তার ২, জড়িতদের শাস্তি দাবি 

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মির্জাপুর ও নাগরপুর থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরেক আসামি এখনও পলাতক থাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্যাতনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার (এসপি) সঞ্জিত কুমার রায়।

তিনি জানান, ঘটনাটি লোমহর্ষক এবং চাঞ্চল্যকর হওয়ায় মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মির্জাপুর ও নাগরপুর থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরেক আসামি এখনও পলাতক থাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের পরই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে জানান এসপি সঞ্জিত।

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে জবানবন্দি দিলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে না। অন্যথায় বুধবার আদালতে তুলে তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে।’

সখিপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এনে গেল রোববার তিনজনকে আসামি করে মামলার করেন কোচ সম্প্রদায়ের ওই নারী।

এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একই এলাকার তিন যুবক ওই নারীকে ঘরে থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন। এসময় ওই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

ওই নারীকে উদ্ধার করে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জেনারেল হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক রেহানা পারভীন বলেন, ‘তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে চারটি দাঁতও। প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।’

বিচার দাবি

কোচ সম্প্রদায়ের নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন।

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সকাল সাড়ে ১১টায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক রতন কুমার রায় বলেন, ‘কোচ সম্প্রদায়ের ওই নারীর ওপর বর্বরতা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে, আগামীতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে

শেয়ার করুন

আমি রিফ্রেশড: পরীমনি

আমি রিফ্রেশড: পরীমনি

ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

পরীমনি বলেন, ‘এত দ্রুত কাজগুলো হয়ে যাবে আমি ভাবিনি। সবকিছু ম্যাজিকের মতো হয়েছে…আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করছি, সুষ্ঠু বিচার পাব।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয় থেকে বের হয়ে পরীমনি বলেছেন, তিনি এখন ‘রিফ্রেশড’। নিজের মানসিক স্বস্তি ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গটি জানাতে গিয়ে এ কথা বলেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

ধর্ষণ এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা ও প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে পরীমনিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়।

সোয়া ৬টার দিকে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে (ডিবি অফিসে) এসে আমি আসলে এখন মেন্টালি অনেক রিফ্রেশড। আমি যে কাজে ফিরব, এটা কেউ আমাকে কিন্তু বলেনি। আমার আশপাশে যারা ছিল তারা সবাই আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমার যে কাজে ফিরতে হবে, আমার এই শক্তিটা তারা (ডিবি কর্মকর্তারা) জুগিয়েছেন এতক্ষণ ধরে।’

পরীমনি বলেন, ‘আমার কাজ নিয়ে কথা বলেছে, আমাকে নানা রকম গুড ভাইভ দেয়া হচ্ছে- আমার নরমাল লাইফে কীভাবে ফিরে যাব। আমি এতটা তাদের কাছে আশা করিনি। তারা এতটা বন্ধুসুলভ, একটা ম্যাজিকের মতো হয়ে গেছে।’

পরীমনি গত রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন। এ ঘটনায় জীবনাশঙ্কায় আছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চান।

পরীর এমন স্ট্যাটাসের পর তার বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই নায়িকার করা ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ আরও তিন নারীকে।

পরীর মামলায় গ্রেপ্তারের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় নাসির উদ্দিন ও অমিকে সাত দিনের রিমান্ড ও তিন নারীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী।

আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পরীমনি। বলেন, ‘তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন শুধু আমার… আমার বিশ্বাস যে আমি আসলে সঠিক বিচারটা পাব।’

আরও পড়ুন:
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে

শেয়ার করুন

নাসির-অমি ৭ দিনের রিমান্ডে

নাসির-অমি ৭ দিনের রিমান্ডে

পরীমনির মামলায় গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয় নাসির উদ্দিন আহমেদ ও তুহিন সিদ্দিক অমিসহ আসামিদের। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

পরীমনির মামলার পর সোমবার দুপুরের দিকে নাসিরসহ পাঁচজনকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারের পর ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে মাদক মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার অপর তিন নারীকে পাঠানো হয়েছে ৩ দিনের রিমান্ডে।

আসামিদের মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ আদেশ দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী।

পরীমনির মামলার পর সোমবার দুপুরের দিকে নাসিরসহ পাঁচজনকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের উপ পরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার শিকদার।

আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক উদয় কুমার মণ্ডল আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করেন।

রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকার মুখ্য মহানগর দায়রা আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।

আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল বাতেন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ও আইনজীবী ইমরুল কাউসারসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড আবেদন বাতিল এবং আসামিদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

আসামি পক্ষের যুক্তি আমলে নেননি বিচারক। রিমান্ড আদেশ দিয়ে পুরুষ দুই আসামির ক্ষেত্রে তা ১০ কার্যদিবস এবং নারী তিন আসামির ক্ষেত্রে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কার্যকর করতে বলে।

নারী তিন আসামি হলেন লিপি আক্তার, সুমি আক্তার ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা।

আদালত প্রাঙ্গণে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের থানায় দায়ের করা নায়িকা পরীমনির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এরপর গোয়েন্দা পুলিশ তাদেরকে বিমানবন্দর থানায় নিয়ে যায়।’

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর থানার এলাকার মধ্যে ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের বাড়িতে আসামিরা অবস্থান করা অবস্থায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের দখল থেকে ৮টি প্লাস্টিকের বোতলে তরল সোডা, ৩টি ক্যানে তরল সোডা, ৪ বোতল বিদেশি মদ ও এক হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, যে বাড়ি থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটা তাদের কারো নিজের বাড়ি নয়। এটা তাদের ভাড়া করা বাসা। এখানে তারা বিভিন্ন সময় ডিজে পার্টি করাসহ নানাবিধ মাদক কারবারে লিপ্ত থাকতো। ভদ্রতার মুখোশের আড়ালে নানা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় তাদের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন:
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে

শেয়ার করুন

ডিবিতে পরীমনি

ডিবিতে পরীমনি

ডিবি কার্যালয়ের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ক্যামেরাবন্দি হন পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পরীমনিকে বাসা থেকে বের হতে দেখেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ৪টার পর ডিবি কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায় তাকে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে গেছেন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করে দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা চিত্রনায়িকা পরীমনি।

বেলা ৪টার পর ডিবি কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায় তাকে।

এর আগে পরীমনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে ডিবি থেকে কল করা হয়। বেলা ২টায় তাকে ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হয়।

তবে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পরীমনিকে রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে বের হতে দেখেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

পরীমনিকে ডাকার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘পরীমনি ৪টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে আসবেন। মামলার তদন্তের জন্য পরীমনির বক্তব্য দরকার। সে জন্যই পরীমনিকে ডাকা হয়েছে।’

ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রোববার সামনে আনেন পরীমনি। সোমবার এসব অভিযোগে সাভার থানায় মামলা করেন তিনি।

এ ঘটনায় নাসির ইউ আহমেদ ও অমিসহ পাঁচজনকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টর থেকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় মামলায়।

এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সাভার থানা পুলিশ।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহেল কাফি নিউজবাংলাকে জানান, সাভার থানার মামলায় নাসির ও অমিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের দুজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হয়েছে আদালতের কাছে।

আরও পড়ুন:
ডা. সাবিরা হত্যা মামলা: ৮ জুলাই প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
ডা. সাবিরা হত্যা: সন্দেহে সাবলেটের মডেল
ডা. সাবিরা হত্যা: ক্লু পাচ্ছে না পুলিশ
ময়নাতদন্ত: সাবিরার মৃত্যু শ্বাসনালি কাটায়
ডা. সাবিরা বাসায় একা, খুনি জানল কীভাবে

শেয়ার করুন