ছাগলকে জরিমানা করা সেই ইউএনওকে বদলি

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন সীমা শারমিন

ছাগলকে জরিমানা করা সেই ইউএনওকে বদলি

জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, ‘ইউএনওকে স্থানীয় সরকার বিভাগে বদলি করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি মঙ্গলবার এসেছে। এটা নিয়মিত বদলি বলা যায়।’

ফুলগাছ খাওয়ায় ছাগলকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করে আলোচনায় উঠে আসা সেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সীমা শারমিনকে বগুড়ার আদমদীঘি থেকে বদলি করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বদলির আদেশের একটি চিঠি মঙ্গলবার তার কাছে পাঠানো হয়েছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বুধবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইউএনওকে স্থানীয় সরকার বিভাগে বদলি করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি মঙ্গলবার এসেছে। এটা নিয়মিত বদলি বলা যায়।’

যা ঘটেছিল

গত ১৭ মে উপজেলা পরিষদের ফুলগাছ খেয়ে ফেলেছিল সাহারা বেগমের ছাগল। এ জন্য ছাগলটিকে আটক করে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন ইউএনও।

ছাগলের মালিক তখন ঘটনাস্থলে ছিলেন না। পশুর পক্ষে তো জরিমানা দেয়া সম্ভব নয়। তাই মালিককে চাপ দিতে আটক করা হয় সেই ছাগল।

সীমা শারমিন জানান, উপজেলা চত্বরে একটি পার্ক করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফুলের গাছ নিয়ে এসে লাগানো হয়েছে। কিন্তু এখানে ওই ছাগল এসে গাছের ফুলগুলো খেয়ে নিয়েছে কয়েকবার। এ বিষয়ে ছাগলের মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এ কারণে গণ-উপদ্রব আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ছাগলমালিক যা বলছেন

সাহারা আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ চত্বরের ডাকবাংলোসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করেন। তার স্বামীর নাম জিল্লুর রহমান।

ছাগলটি হারিয়ে তিনি অনেক জায়গায় সন্ধান করেন। পরে এলাকার লোকজন তাকে জানান, ছাগলটি ইউএনওর এক নিরাপত্তাকর্মীর কাছে রয়েছে।

তিনি ইউএনওর বাসার পাশে গিয়ে এক নিরাপত্তাকর্মীকে ছাগলকে ঘাস খাওয়াতে দেখেন। এ সময় ছাগল ফেরত চাইলে দেয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন ওই নিরাপত্তাকর্মী।

পরে তিনি ইউএনওর কাছে গেলে তিনি তাকে বলেন, ‘ফুলগাছের পাতা খাওয়ার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিয়ে ছাগল নিয়ে যান।’

কিন্তু ছাগল ফুলগাছ খাবে- এ জন্য দুই হাজার টাকা দিতে হবে, এটা মানতেই পারেননি সাহারা বেগম। টাকা দিচ্ছিলেন না তিনি।

এর মধ্যে ইউএনওর গৃহকর্মী হঠাৎ তাকে ডাকেন টাকা নিয়ে আসতে। তখন আক্কেলগুড়ুম দশা সাহারা বেগমের। কেন তাকে টাকা দেবেন?

সেই গৃহকর্মীর কাছেও তিনি রাখেন প্রশ্ন।

পরে তাকে জানানো হয়, ২২ মে তার ছাগলটি পাঁচ হাজার টাকায় বেচে দেয়া হয়েছে। এ থেকে জরিমানা বাবদ দুই হাজার টাকা কেটে রাখা হয়েছে। বাকি টাকা যেন নিয়ে আসেন।

তবে সাহারা বেগম সেই টাকা আর দেননি।


ছাগলকে জরিমানা করা সেই ইউএনওকে বদলি
ইউএনও সীমা শারমিন

ছাগল কীভাবে অপরাধ স্বীকার করল?

ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ছাগলকে যে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন, তাতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজ্জাম্মেল হক।

ছাগলের মালিকের অনুপস্থিতিতে এভাবে জরিমানা করা যায় কি না, জানতে চাইলে বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজ্জাম্মেল হক বলেন, ‌‘‌ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইনমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তির দোষ স্বীকার করতে হবে। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাবে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠান বা সম্পদের (ছাগল) মালিকের বিরুদ্ধে এভাবে জরিমানা করা ঠিক হয়নি। এই ঘটনায় প্রচলিত বৈধ রীতি খোঁয়াড়ে ছাগল রাখতে পারতেন। অথবা বেশি ক্ষতি হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থানায় কিংবা আদালতে মামলা করতে পারেন।

এ নিয়ে ২৬ মে সংবাদ প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে। পরদিন সন্ধ্যায় ডাক পড়ে মালিক সাহারার। ছাগলটি তুলে দেয়া হয় তার হাতে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইউএনও নিজেই।

তিনি মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান, স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ওই নারীকে ছাগল ফেরত দেয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা আমি দিয়েছি। তাকে সংশোধনের জন্য জরিমানা করেছিলাম, শাস্তি দেয়ার জন্য নয়।’

জরিমানার টাকা ইউএনও নিজে পরিশোধ করেছেন বলেও জানান।

আর সেই নারী ছাগল বিক্রি করে দেয়ার যে অভিযোগ করেছেন, সেটি সত্য নয় বলে দাবি করেন ইউএনও। বলেন, ছাগলটি একজনের জিম্মায় দেয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
ছাগলকে কি জরিমানা করতে পারেন ইউএনও?
ইউএনও মেটালেন ছাগলের জরিমানা, ফেরত পেলেন মালিক
ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মদের ‘কারবারেও’ নাসির

মদের ‘কারবারেও’ নাসির

পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির ইউ আহমেদকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নাসির মাহমুদকে গ্রেপ্তারের পর ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ জানান, ‘আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন নাসির। তিনি এই কাজই করেন। তিনি বিভিন্ন ছোট ছোট মেয়েকে রক্ষিতা রাখেন। আমরা এখনও তদন্ত করছি।’

চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পী পরীমনিকে হত্যা ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় আটক নাসির ইউ মাহমুদ মদের ব্যবসা করেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ। তা ছাড়া যৌনকাজে ব্যবহারের জন্য তিনি ভাড়া করা মেয়েদের সঙ্গে রাখতেন বলেও অভিযোগ করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা।

পরীমনির ঘটনায় সোমবার দুপুরে নাসির ইউ মাহমুদসহ পাঁচজনকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ।

গ্রেপ্তারের পর সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হারুন-অর-রশিদ।

তিনি বলেন, ‘আমরা যাদের গ্রেপ্তার করেছি, তাদের কাজই মদের ব্যবসা করা। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন নাসির। তিনি এই কাজই করেন। তিনি বিভিন্ন ছোট ছোট মেয়েকে রক্ষিতা রাখেন। আমরা এখনও তদন্ত করছি।’

যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ আরও বলেন, ‘আমরা তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করব। প্রয়োজন হলে তাদের রিমান্ডে আনব। যেহেতু আমরা মাদক পেয়েছি, সেই কারণে আমরা মাদকের একটি মামলা করব ডিএমপি থেকে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু সাভারে একটি স্বাভাবিক মামলা হয়েছে, আমরা সাভার থানা পুলিশকে জানাব।’

হারুন-অর-রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শনিবার রাত থেকেই খোঁজখবর রাখছিলাম। যেহেতু মামলা হয়নি তাই গ্রেপ্তার করতে পারিনি। এখন মামলা হয়েছে, আমরা তাকে আজ ৩টার সময় উত্তরার বাসা থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছি। তবে এই বাসায় অমি থাকে। নাসির এই বাসায় এসে পালিয়ে ছিলেন। সাথে তিনজন রক্ষিতাকে নিয়ে এসেছিলেন। তার আগের অভিযোগের আমরা তদন্ত করছি।’

মদের ‘কারবারেও’ নাসির
নাসির ইউ মাহমুদ

হারুন বলেন, ‘পরীমনি স্বনামধন্য নায়িকা। তিনি সেখানে যেতেই পারেন। তার মানে তো এই না যে তাকে হ্যারাস করবে। আবার আসলেই সেখানে কী ঘটেছে সেটিও দেখতে হবে।’

শনিবার পরীমনি যে অভিযোগ করেছিলেন, সেটি থানায় আমলে নেয়া হয়নি– এই বিষয়ে কী করবেন জানতে চাইলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা পরীমনির সাথে কথা বলব। আমরা প্রতিটি অভিযোগকে খতিয়ে দেখছি। আমরা তো এদের সাভার থানার মামলা থেকেই গ্রেপ্তার করেছি। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নাসির ইউ মাহমুদ বা নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান। ছিলেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারম্যান। গ্রেপ্তার অপর চারজনের নাম জানা যায়নি।

পরীমনি রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টা পর বিষয়টির বিস্তারিত নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন।

পরীমনি জানান, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরা বোট ক্লাবে। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন।

মদের ‘কারবারেও’ নাসির
নাসির ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন নায়িকা পরীমনি

যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘যারা এভাবে রাতের বেলা বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে উঠতি বয়সী মেয়েদের ব্যবহার করে, অসামাজিক কার্যকলাপ চালায়, তাদের বিরুদ্ধে এখন থেকে আমাদের অভিযান চলবে। ঢাকা শহরের গুলশান, বনানী স্থানে রাত ৮টা-৯টার দিকে উঠতি বয়সী মেয়ে ক্লাবে গিয়ে ডিজে পার্টির নামে অনাচার করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

বোট ক্লাবে অভিযান চালানো হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে হারুন বলেন, ‘যেহেতু মামলা হয়েছে সাভার থানায়, আমরা একটা রিকুইজিশন পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। এখন যেহেতু একটা মামলা আমাদের এখানে আছে, মাদকের মামলা, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বোট ক্লাবে যাব। আরও কোনো আসামি যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখব।’

এই ঘটনায় এত তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার হলেও সাম্প্রতিক অপর একটি ঘটনায় সায়েম সোবহান আনভির কেন গ্রেপ্তার হননি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যখন আমাদেরকে রিকুইজিশন দেবে, আমরা তখন তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নিচ্ছি। আনভিরের মামলা যদি গুলশান থানা পুলিশ আমাদের রিকুইজিশন দেয়, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেব।’

পরীমনি কীভাবে সেখানে গিয়েছিলেন, সেটি জানতে পেরেছেন কিনা প্রশ্ন করা হলে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমরা যেহেতু গ্রেপ্তার করেছি, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। আমরা পরীমনিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করব। তখন আমরা জানাব।’

আসামিকে সাভার থানায় পরে হস্তান্তর করা হবে জানিয়ে হারুন বলেন, ‘আমরা যেহেতু মাদক পেয়েছি, সেহেতু এখানে একটি মামলা হবে। এরপর সাভার থানা পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
ছাগলকে কি জরিমানা করতে পারেন ইউএনও?
ইউএনও মেটালেন ছাগলের জরিমানা, ফেরত পেলেন মালিক
ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

উল্টো পরীমনিকেই দুষলেন নাসির

উল্টো পরীমনিকেই দুষলেন নাসির

অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার শিল্পপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

‘আমাদের কাউন্টারে খুব দামি ড্রিঙ্কস ছিল, দামি বড় বড় ড্রিঙ্কস ছিল সেটা তারা জোর করে নেয়ার চেষ্টা করেছিল।’

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ গত বুধবার রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য উল্টো চিত্রনায়িকা পরীমনিকেই দোষারোপ করেছেন।

গ্রেপ্তারের আগে কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জাতীয় পার্টির এই প্রেসিডিয়াম সদস্য দাবি করেছেন, তাদের কাউন্টারে দামি মদ ছিল। পরীমনি ও তার সঙ্গীরা সেটি জোর করে নেয়ার চেষ্টা করেছিল। আর তারা দিতে চাননি বলে তাকে গালাগাল করা হয়।

গত রোববার রাতে পরীমনি তার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করেন, তাদের ধর্ষণের চেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে আর তিনি আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না।

পরে রাতে গণমাধ্যমকর্মীরা তার বাসায় গেলে তিনি জানান, গত বুধবার রাতে একটি কাজ নিয়ে আলোচনা করতে তিনি দুই সঙ্গীসহ আশুলিয়ার বিরুলিয়ার ঢাকা বোট ক্লাবে যান।

সেখানে এই ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ তাকে জোর করে মুখে মদের বোতল ঠেলে দিয়েছেন। তাকে চড় থাপ্পড় দিয়েছেন। তার সঙ্গী জিমিকে মারধর করেছেন। এরপর সেখান থেকে এসে বনানী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা নেয়নি।

গণমাধ্যমে এই সংবাদ আসার পর তোলপাড় হয়ে যায়। সোমবার সকালে পরীমনির বাসার সামনে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। তার মামলা গ্রহণ করা হয় সাভার থানায়। আর সে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় নাসির উদ্দিনসহ পাঁচজনকে।

গ্রেপ্তারের আগে নাসির সেই রাতের ঘটনার অন্য এক ধরনের বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাউন্টারে খুব দামি ড্রিঙ্কস ছিল, দামি বড় বড় ড্রিঙ্কস ছিল সেটা তারা জোর করে নেয়ার চেষ্টা করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘তারা তো নিতে পারে নাই, তারা তো ক্লাবের মেম্বার না। আমি জাস্ট তাদেরকে বাধা দিছি যে নেয়া যাবে না। নিতে হলে তোমাদের …. দিতে হবে এটা বিক্রি যোগ্য না। বাই দিস টাইম আমাদের বার ক্লোসড। এটা দেয়া যাবে না।

‘এর পরই সে (পরীমনি) উত্তেজিত হয়ে যায়। উত্তেজিত হয়ে একটার পর গ্লাস প্লেট… সে আমাকে গালিগালাজ শুরু করে। আমাদের স্টাফরা তাকে থামানোর চেষ্টা করে।’

নাসির উদ্দিনের দাবি, তিনি পরীমনিকে আগে থেকে চিনতেন না। আর ঘটনার সময় তিনি তাকে থামাতে চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি মারধরের স্বীকার হন।

তিনি বলেন, ‘তার (পরীমনির) সঙ্গে যে একটা ছেলে ছিল সে আমাকে চড়-থাপ্পড় দেয় ও গ্লাস ছুড়ে মারে। সেটি আমার গায়ে লাগে। এই অবস্থায় আমাদের সিকিউরিটিদের আমি নির্দেশ দেই, তখন সিকিউরিটিরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। যখন সিকিউরিটিরা নিয়ে যায় বাই দিস টাইম সে অনেক ড্রিঙ্ক করে ফেলেছে এবং এটা আমাদের সিসি ক্যামেরায় দেখবেন যে, সে ড্রিঙ্ক করা অবস্থায় গাড়িতে উঠতে পারছে।’

এই ঘটনাটি ক্লাবকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন নাসির। বলেন, ‘ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী ইট হ্যাজ বিন রিপোর্টেড। আমাদের যারা স্টাফ আছে তারা লিখিতভাবে সমস্ত রিপোর্ট দিয়েছে। সেই রিপোর্টে পরিষ্কার কিন্তু আমার সঙ্গে তার কিছুই হয়নি।’

বোট ক্লাব অবশ্য এই ঘটনায় নাসির উদ্দিনকে বরখাস্ত করেছে। ক্লাবের নির্বাহী সদস্য বখতিয়ার আহমেদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটা দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা সিরিয়াস অ্যাকশন নেব। এরই মধ্যে নাসির উদ্দিনের সদস্যপদ সাসপেন্ড (সাময়িকভাবে বহিষ্কার) করা হয়েছে। সে আর ক্লাব ইউজ করতে পারবে না। ইনকোয়ারি রিপোর্টের পর যদি দেখা যায় অভিযোগ প্রমাণিত, তাহলে তার সদস্যপদ পুরোপুরি ক্যানসেল হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
ছাগলকে কি জরিমানা করতে পারেন ইউএনও?
ইউএনও মেটালেন ছাগলের জরিমানা, ফেরত পেলেন মালিক
ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

বোট ক্লাব বলল, বারে সিসি ক্যামেরা ছিল না

বোট ক্লাব বলল, বারে সিসি ক্যামেরা ছিল না

সাভারের বিরুলিয়ায় বোট ক্লাবের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

 ঢাকা বোট ক্লাবের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বারে ছোটখাটো দুয়েকটা ইন্সিডেন্স হয়। অনেক সম্মানিত সদস্য হয়তো স্বাভাবিকের চেয়ে এক পেগ বেশি ড্রিঙ্ক করে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন না। তখন তাদের আমাদের লোকজন সম্মানের সাথে গাড়িতে তুলে দেন। অথবা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ওই দিনের ঘটনাকে বারের লোকজন হয়তো এ রকম একটা ঘটনা মনে করেছিলেন।’

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনাস্থল ঢাকা বোট ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরীমনি ওই দিন ক্লাবে এসেছিলেন, এটি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে সেখানে অপরাধমূলক কিছু ঘটেছে কি না এটা তারা ঘটনার সময় বুঝতে পারেননি।

ক্লাবের পক্ষ থেকে এটির এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য (অ্যাডমিন) বখতিয়ার আহমেদ খান সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যিনি অভিযুক্ত, তিনি এই ক্লাবের একজন সদস্য। আমাদের ক্লাবে প্রায় ২ হাজার সদস্য রয়েছেন।

‘পরীমনি এই ক্লাবের সদস্য না। তিনি কোনো সদস্যের সঙ্গে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন। ওই দিন পরীমনি এসেছিলেন, এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে ঠিক কী ঘটেছে তা বলতে পারছি না। এখানে একটা লাইসেন্সড বার রয়েছে। সদস্যদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বারের ভিতরে কোনো সিসি ক্যামেরা রাখা হয়নি।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব সদস্য বারে প্রবেশ করতে পারেন না। সাধারণত যাদের ড্রিঙ্কিং লাইসেন্স রয়েছে, তারা প্রবেশ করেন। হয়তো দু-একজন অতিথিও সেখানে প্রবেশ করেন।

‘বারে ছোটখাটো দুয়েকটা ইন্সিডেন্স হয়। অনেক সম্মানিত সদস্য হয়তো স্বাভাবিকের চেয়ে এক পেগ বেশি ড্রিঙ্ক করে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকেন না। তখন তাদের আমাদের লোকজন সম্মানের সাথে গাড়িতে তুলে দেন। অথবা বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেন। ওই দিনের ঘটনাকে বারের লোকজন হয়তো এ রকম একটা ঘটনা মনে করেছিলেন।

‘তবে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ দেখে আমরা বুঝতে পারলাম, এটা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না। তবে তা ক্লাবের নির্দিষ্ট সময়ের পর বা রাত ১১টার পর ঘটেছে।

এই ঘটনা নিয়ে আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তদন্ত করছে, তাই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাবে না।’

বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, এই ঘটনা ক্লাবের ভাবমূর্তির সাথে যায় না।

আরও পড়ুন:
ছাগলকে কি জরিমানা করতে পারেন ইউএনও?
ইউএনও মেটালেন ছাগলের জরিমানা, ফেরত পেলেন মালিক
ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

এবার মিলল লাশের পা মাথা, গ্রেপ্তার ১

এবার মিলল লাশের পা মাথা, গ্রেপ্তার ১

র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট রওশুনুল ফিরোজ জানান, আজিজুর তার তিনটি মেডিক্যাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিলে ২১ হাজার টাকা পাবে বলে জানায় আশরাফ। আজিজুর কিছু প্রোডাক্ট বিক্রির পর ৩ হাজার টাকা চাইতে গেলে হোমিওপ্যাথিক চেম্বারেই তাকে ছুরিকাঘাত করেন আশরাফ।

মাগুরা মহম্মদপুরের বিনোদপুর এলাকায় পুকুর থেকে উদ্ধার খণ্ডিত মরদেহের একটি পা ও মাথা উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৬।

মাগুরার জগদল ইউনিয়নের বিএনপির মোড় এলাকার পাটক্ষেত থেকে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পা ও রাত ৯টার দিকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এই পা আজিজুর রহমানের বলে নিশ্চিত করেছেন যশোর র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট রওশুনুল ফিরোজ।

এ ঘটনায় যশোরের শার্সা থেকে আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পা উদ্ধারের পর আশরাফের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ওই ক্ষেত থেকেই খুলিটি উদ্ধার করা হয়।

আশরাফ আলীর বাড়ি মাগুরা সদরের মালিকগ্রামে। হিজমা থেরাপি নামে মাগুরায় তার একটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বার আছে।

র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট রওশুনুল ফিরোজ জানান, টাকাপয়সা লেনদেন নিয়ে আজিজুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। আজিজুর ঢাকার একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তিনি তিনটি মেডিক্যাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে দিলে ২১ হাজার টাকা পাবে বলে জানায় আশরাফ।

আশরাফের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, আজিজুর কিছু প্রোডাক্ট বিক্রির পর ৫ জুন দুপুরে ৩ হাজার টাকা চাইতে গেলে হোমিওপ্যাথিক চেম্বারেই তাকে ছুরিকাঘাত করেন আশরাফ। হত্যার পর তিনি মরদেহ ছয় টুকরা করেন।

মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাস নিউজবাংলাকে জানান, ৬ জুন সকালে এক নারী মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুরের কালুকান্দি গ্রামের এক পুকুরপাড় ঝাড়ু দিতে গিয়ে রক্তমাখা বস্তা দেখে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে বস্তার ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত, দেহ ও একটি পা বের করে। মাথা ও আরেকটি পা সেখানে ছিল না।

মরদেহের গায়ের পোশাক দেখে তা নিজের ভাইয়ের বলে শনাক্ত করেন হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

ওই দিনই তিনি হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ এনে অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
ছাগলকে কি জরিমানা করতে পারেন ইউএনও?
ইউএনও মেটালেন ছাগলের জরিমানা, ফেরত পেলেন মালিক
ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে রিজান হত্যা

ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে রিজান হত্যা

প্রতীকী ছবি।

এসআই ফরিদ আহম্মদ বলেন,‘জিজ্ঞাসাবাদে সাগর মিয়া জানিয়েছেন, রিজানের ইজিবাইকটি ছিনতাই করতে তিনিসহ আরও দুজন যাত্রীবেশে ইজিবাইকে ওঠেন। খাগুরিয়া এলাকায় এলে রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে রিজানকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়।’

নেত্রকোণার মদনে ইজিবাইকের চালক রিজান মিয়া হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই খুন করা হয় রিজানকে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার পাগলা বস্তি থেকে রোববার রাতে হত্যার সঙ্গে জড়িত সাগর মিয়াকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এ তথ্য।

নেত্রকোনা ডিবি পুলিশ সোমবার বিকেলে এ তথ্য জানায়।

২৪ বছরের সাগর মিয়া মদন মোড়ল বাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিজান প্রতিদিনের মতো গত মঙ্গলবার সকালে তার ইজিবাইকটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। রাতে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। সন্ধান না পেয়ে বুধবার রাতে মদন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে রিজানের পরিবার।

পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয়রা উপজেলার খাগুরিয়া এলাকার একটি পাটক্ষেতে রিজানের অর্ধগলিত মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আর রিজানের ইজিবাইকটি উপজেলার বটতলা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রিজানের বাবা শুক্রবার সকালে থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলাটি নিয়ে ছায়া তদন্ত চালায়।

ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহম্মদের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ শনিবার আটপাড়া সোনাজুর বাজারের একটি ভাঙারির দোকান থেকে রিজানের ইজিবাইকের ব্যাটারিগুলো জব্দ করে।

এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে রোববার রাত ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা বস্তি থেকে সাগর মিয়াকে আটক করা হয়। পরে রিজানের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এসআই ফরিদ আহম্মদ বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে সাগর মিয়া জানিয়েছেন, রিজানের ইজিবাইকটি ছিনতাই করতে তিনিসহ আরও দুজন যাত্রীবেশে ইজিবাইকে ওঠেন। খাগুরিয়া এলাকায় এলে রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে রিজানকে ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়।’

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত অন্য দুজন আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে দুইজনের নাম জানাননি তিনি।

আরও পড়ুন:
ছাগলকে কি জরিমানা করতে পারেন ইউএনও?
ইউএনও মেটালেন ছাগলের জরিমানা, ফেরত পেলেন মালিক
ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

ডেকে এনে মদ খাইয়ে দুই ভাইকে হত্যা: পুলিশ

ডেকে এনে মদ খাইয়ে দুই ভাইকে হত্যা: পুলিশ

দুই খালাতো ভাইকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার শাহজালাল। ছবি: নিউজবাংলা

আগের ক্ষোভ থেকেই রায়হানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শাহজালাল। পরিকল্পনা অনুযায়ী রায়হান ও রায়হানের খালাতো ভাই নাজমুলকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরের পাটক্ষেতে যান। সেখানে তাদের দুজনকে মদ খাওয়ানোর পর তার সহযোগী রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যান।

সাভারে পাশাপাশি পাটক্ষেত ও ধঞ্চেক্ষেত থেকে দুই খালাতো ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুল্লাহ হিল কাফি সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রোববার রাতে সাভার থেকে মো. শাহজালালকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এএসপি আব্দুল্লাহিল কাফি জানান, শাহজালাল জানিয়েছেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। শাহজালাল নিহত রায়হানের ফুফাতো ভাই। তিনি রায়হানদের বাড়িতেই থাকতেন। সে সময়ে বিভিন্ন পারিবারিক কারণে রায়হানের সঙ্গে মনোমালিন্য হয় তার। পরে রায়হানদের বাসা ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যান।

এই ক্ষোভ থেকেই রায়হানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন শাহজালাল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রায়হান ও রায়হানের খালাতো ভাই নাজমুলকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরের পাটক্ষেতে যান। সেখানে তাদের দুজনকে মদ খাওয়ান।

এরপর তার সহযোগী রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যান।

সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের হিরুলিয়া গ্রামের চক থেকে শুক্রবার সকালে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও শাহজালালের প্যান্টও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়।

রায়হান হেমায়েতপুর এলাকার আলনাছির ল্যাবরেটরি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও নাজমুলও বরিশালের একটি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সে বরিশাল থেকে খালার বাড়ি বেড়াতে আসে।

এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় শুক্রবার রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে দুজনের নামে মামলা করা হয়।

পুলিশ জানায়, মামলার আরেক আসামি মো. রবিউলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
ছাগলকে কি জরিমানা করতে পারেন ইউএনও?
ইউএনও মেটালেন ছাগলের জরিমানা, ফেরত পেলেন মালিক
ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন

নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির

নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির

গত কয়েক বছরে কাছাকাছি এসেছেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী ও অভিনেত্রী পরীমনি। রোববার পরী গণমাধ্যমের সামনে আসার সময় চয়নিকা তাকে সামলে রাখেন। ছবি: নিউজবাংলা

অপরাধীদের কয়েকজন ধরা পরায় পরীমনি স্বস্তি পাচ্ছেন। এ ছাড়াও তার বাসার নিচে পুলিশ পাহারা আছে, সেটার জন্য তিনি নিরাপদ অনুভব করছেন: চয়নিকা চৌধুরী

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তার বাসায় পুলিশের নিরাপত্তা দেয়ার ঘটনায় কিছুটা ভালো বোধ করছেন অভিনেত্রী পরীমনি।

রোববার গণমাধ্যমের সামনে এসে পরীমনি বারবার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছিলেন। কখনও ডুকরে কাঁদছিলেন, কখনও চিৎকার করছিলেন। বলছিলেন, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের অনুরোধ করছিলেন, তার বাসায় আরও খানিকক্ষণ অবস্থান করতে।

তবে সোমবারের ঘটনাপ্রবাহে পাল্টে গেছে পুরো পরিস্থিতি। বনানীতে তার বাসার সামনে মোতায়েন হয়েছে পুলিশ। তার এজাহার মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে সাভার থানা আর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন নাসির ও তার কয়েকজন সহযোগী।

এখন পরীমনি স্বস্তি বোধ করছেন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, যিনি রোববার গণমাধ্যমের সামনে বিধ্বস্ত এই অভিনেত্রীকে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলেন।

চয়নিকা বলেন, ‘অপরাধীদের কয়েকজন ধরা পড়ায় পরীমনি স্বস্তি পাচ্ছেন।

‘এ ছাড়াও তার বাসার নিচে পুলিশ পাহারা আছে, সেটার জন্য তিনি নিরাপদ অনুভব করছেন।’

নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির
গ্রেপ্তারের পর পরীমনির করা মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ

চয়নিকা একজন নির্মাতা যার প্রথম সিনেমা ‘বিশ্ব সুন্দরী’তে অভিনয় করেন পরী। এরপর ‘অন্তরালে’ নামে আরও একটি ওয়েবসিরিজে পরীমনিতেই আস্থা রাখেন চয়নিকা। যদিও এখনও এর কাজ শুরু হয়নি।

এই দুই কাজের মাধ্যমে দুইজনের মধ্যে গড়ে ওঠে হৃদ্যতা। চয়নিকাকে ‘আম্মু’ বলে ডাকেন পরী। আর পরীকেও ‘মেয়ে’ হিসেবে দেখার কথাই জানান চয়নিকা।

রোববার গণমাধ্যমের সামনে পরীমনি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দেয়ার একপর্যায়ে ডুকরে কেঁদে উঠে বলেন, ‘আমি বলতে পারতেছি না, ভাইয়া আমাকে মাফ করেন।’

‘আম্মু আমি পারব না’- পাশে থাকা চয়নিকাকে লক্ষ্য করে বলেন পরীমনি।

তখন চয়নিকা তাকে সাহস দিয়ে বলেন, ‘না বললে তো ওরা জানবে না।’

পরে পরীমনি তার বক্তব্য চালিয়ে যান।

নাসির গ্রেপ্তারে ভালো লাগছে পরীমনির
নাসির উদ্দিন ছাড়াও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

চয়নিকা সোমবার দিনভর ব্যস্ত শুটিংয়ে। সেখান থেকেই একটু পরপর খবর নিচ্ছেন পরীমনির।

তিনি বলেন, ‘পরীমনি আমাকে মাম ডাকে। সে যখন আমাকে আসতে বলেছে, তখন আর আমার মাথায় কিছুই ছিল না। আমি শুটিং ফেলে পরীমনির কাছে চলে গেছি।’

পরীমনির আগের দিন রাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আর তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তবে সেই স্ট্যাটাসে কারও নাম উল্লেখ ছিল না। পরে রাতে গণমাধ্যমে এসে জানান, গত বুধবার রাতে ঢাকা বোট ক্লাবে একটি কাজ নিয়ে কথা বলতে যাওয়ার পর ওই ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ তাকে নির্যাতন করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

নাসির হাতে কেটে টুকরা টুকরা করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন পরী। দাবি করেন, বনানী থানায় তিনি যাওয়ার পর তার অভিযোগ নেয়া হয়নি।

সোমবার সকালে পরীর এজাহার জমা দেয়া হয় রূপনগর থানায়। পরে সেখান থেকে সেই এজাহার মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে পাঠানো হয় সাভার মডেল থানায়। এর মধ্যে পরীমনির বাসায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ।

কিছুক্ষণ পর খবর আসে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন নাসিরসহ পাঁচজন।

আরও পড়ুন:
ছাগলকে কি জরিমানা করতে পারেন ইউএনও?
ইউএনও মেটালেন ছাগলের জরিমানা, ফেরত পেলেন মালিক
ছাগলকে ইউএনওর জরিমানা
ছাগল ছানার আট পা

শেয়ার করুন