রোজিনাকে ‘হেনস্তা’: তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে অনীহা

রোজিনাকে ‘হেনস্তা’: তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে অনীহা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটক রাখার পর রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির অভিযোগে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) মো. সাইফুল্লাহিল আজম বলেন, ‘আমরা দুই দিন সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলাম। পরে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কথা বলবেন।’

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আটক করে রাখার ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার কাছে আছে বলে নিশ্চিত হয়েছে নিউজবাংলা।

গত ১৭ মে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। এতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) মো. সাইফুল্লাহিল আজমকে আহ্বায়ক করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব মো. আবদুছ সালাম ও মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা।

তিন কার্য দিবস অর্থাৎ ২০ মের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে দুই দিনের সময়ের আবেদন করা হয়। এই সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয় মন্ত্রণালয়ে।

তবে কোন দিন প্রতিবেদনটি জমা দেয়া হয়েছে, কার কাছে জমা দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে রাজি হননি কমিটির সদস্যরা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন) মো. সাইফুল্লাহিল আজম বলেন, ‘আমরা দুই দিন সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলাম। পরে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’

বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কথা বলবেন।’

তার মুখেই শোনা গেল, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মুহিবুর রহমান। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিবেদনটি জমার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘স্বাস্থ্যসচিবের কাছে ২৪-২৫ মে জমা দেয়া হয়েছে।’

তদন্ত প্রতিবেদনে কী পাওয়া গেল, জানতে চাইলে মুহিবুর বলেন, ‘সেটা আমি জানি না।’

রোজিনাকে ‘হেনস্তা’: তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে অনীহা
আদালত প্রাঙ্গণে রোজিনা ইসলাম। ছবি: সাইফুল ইসলাম

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কিছু জানানো হবে কি না, সে ব্যাপারেও নিশ্চিত কিছু জানাননি মুহিবুর। বললেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেবেন।’

স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া মন্ত্রণালয়ের জরুরি সভায় ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

গত ১৭ মে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে রোজিনাকে পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন সেখানকার কর্মকর্তারা। ওই দিন রাতে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরির অভিযোগে মামলা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই মামলায় রোজিনাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বিষয়টি নিয়ে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এসবের মধ্যে গত ২৩ মে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেয়ার শর্তে রোজিনাকে জামিন দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ।

আরও পড়ুন:
‘রোজিনার মুক্তিতে অখুশি বিএনপি’
করোনা নেগেটিভ রোজিনার, নেয়া হলো সাধারণ শয্যায়
রোজিনার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতে আদালতে আবেদন
কারাগার থেকে স্কয়ারে রোজিনা
অবশ্যই সাংবাদিকতা করব: রোজিনা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ধর্ম নিয়ে ‘কটূক্তি’, কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ধর্ম নিয়ে ‘কটূক্তি’, কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার বলেন, ‘অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এরপর তার নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে শিশু সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।’

বরগুনার পাথরঘাটায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় এক কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাথরঘাটার বিচারিক হাকিম আদালত শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

এর আগে শনিবার দুপুরে পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া এলাকার আব্দুস সবুর নামে একজন মামলাটি করেন।

পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে একটি ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করে নাচনাপাড়া ইউনিয়নের সপ্তগ্রাম এলাকার ওই কিশোর। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে স্ক্রিনশট ভাইরাল হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে ওই পোস্ট সরিয়ে নেয়া হয়। শনিবার ভোররাতে আটক করা হয় ওই কিশোরকে। জব্দ করা হয় তার মোবাইল ফোন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার বলেন, ‘অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এরপর তার নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে শিশু সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।’

তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘রোজিনার মুক্তিতে অখুশি বিএনপি’
করোনা নেগেটিভ রোজিনার, নেয়া হলো সাধারণ শয্যায়
রোজিনার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতে আদালতে আবেদন
কারাগার থেকে স্কয়ারে রোজিনা
অবশ্যই সাংবাদিকতা করব: রোজিনা

শেয়ার করুন

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

মাগুরায় ‘রাজনৈতিক প্রভাবকে’ কেন্দ্র করে হতাহতদের নেয়া হয় সদর হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, জগদল ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ায় বিবদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের, অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে পাল্টাপাল্টি প্রার্থী দেয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা।

মাগুরা সদরের জগদল ইউনিয়নে সংঘর্ষে চার খুনের কারণ হিসেবে পুলিশ ও স্থানীয়দের কথায় উঠে এসেছে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদা দাবি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। আর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কথায় উঠে এসেছে নির্বাচনের খরচ জোগাতে চাঁদা দাবির তথ্য। দোষ প্রতিপক্ষের ওপর চাপাতে নিজ পক্ষের লোকজনকে হত্যার অভিযোগও উঠেছে।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, ওই গ্রামে বিবদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের, অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নিবার্চনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নজরুল ফের প্রার্থী হয়েছেন। এই ওয়ার্ডে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। নজরুলের বিরোধী পক্ষ হওয়ায় হাসানকে সমর্থন দেয় সবুর মোল্লা ও তার পক্ষ। এ নিয়ে নজরুল ও সবুর মোল্লার পক্ষে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়।

সেই বিরোধের জের ধরেই নজরুল ও সবুরের পক্ষের মধ্যে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা। এতে দুই ভাই সবুর মোল্লা ও কবির মোল্লা, তাদের চাচাতো ভাই রহমান মোল্লা এবং মো. ইমরান নামে একজন নিহত হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, ওই ঘটনার পর গ্রামের সবাইকে পুলিশের নজরদারিতে আনা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে এখনও কেউ মামলা করেনি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মামলা না হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

নিহত তিন ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের কথায়ও উঠে এসেছে আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি। এ ছাড়া সবুর মোল্লার স্বজনরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য চাওয়া চাঁদা না দেয়ায় নজরুলের পক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়।

আর নিহত ইমরানের পরিবার জানিয়েছে, ইমরান নিজের পক্ষের হওয়ার পরও নজরুল তাকে হত্যা করে দোষ প্রতিপক্ষের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা তাদের।

শনিবার জগদলের দক্ষিণ পাড়ায় নিহত সবুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শতাধিক মানুষ স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’
মাগুরায় সংঘর্ষে নিহত সবুরের পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা ও শোকের ছায়া

কবির মোল্লার মেয়ে চাঁদনী বলেন, ‘বাবার মৃত্যুতে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমার বাবা আর এই বাড়িতে নেই।’

ঘটনার দিনের বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন বাবা পাশের বাড়িতে একটা দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর আমরা সেখানে খেতে যাই। তখন বাড়ির পাশে রাস্তার ওপরে বাবাকে খুব চিন্তিত মনে হয়। হঠাৎ শুনলাম আমাদের বাড়ির কাউকে সামনের হাকিমের মোড়ে কারা যেন মারধর করছে।

‘তখন বাবার ফোনে একটা কল আসে। বাবা সেই ফোন পেয়ে চলে যায়। এরপর আমার বাবা আর জীবিত ফেরেনি। গলা কাটা অবস্থায় আমার বাবাকে এলাকাবাসী হাকিমের মোড় থেকে উদ্ধার করে।’

সবুর মোল্লার ভাইয়ের ছেলে মাহফুজ ইয়াসিন অভিযোগ করেন, বেশ কয়েকবার ইউপি সদস্য হওয়ায় নজরুলের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে গিয়েছিল। তারা এর প্রতিবাদ করায় বিষয়টি ভালোভাবে নেননি নজরুল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নজরুল মেম্বার আগে বিএনপি করত। ২০১২ সালেও তিনি জগদল ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে নিজের দল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মিশে যান। স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিকুল হাসানের অন্যতম শক্তি এই নজরুল। নজরুল ছাড়া চেয়ারম্যানের কোনো ক্ষমতা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এবার পরিষদ নির্বাচনে আমাদের এলাকার ভোটার টানতে আমার চাচা সবুর মোল্লাকে বলা হয়। আমার চাচা শান্তি চান, তাই তাদের অন্যায় সহ্য করেও কিছু বলেননি।

‘এ ছাড়া নির্বাচনের খরচ জোগাতে আমার দুই চাচা নিহত সবুর ও কবির মোল্লার কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন নজরুল মেম্বার। তা দিতে না পারায় তারা আরও ক্ষেপে যান। এই নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়। তবে চেয়ারম্যান তাদের পক্ষ নেন।’

সবুর মোল্লার আরেক ভাইয়ের মেয়ে মোছা. মুরশিদা বলেন, ‘২০০৩ সালে আমার বাবা জরিপ মোল্লাকে বাড়ির সামনে ভোরবেলা ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করে এই নজরুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। সেই ঘটনায় নজরুল মেম্বারকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়।

‘তবে সেই মামলার সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল এবং নজরুল তখন মেম্বারসহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকায় মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে। তাই বাবার হত্যার বিচার আমরা আপসের মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলি।’

সবুর মোল্লার স্ত্রী মিলিনা খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী এলাকায় সুনামের সঙ্গে বিভিন্ন সালিশ-বিচার করত। সবাই সম্মান করত। এটাতে তার জনপ্রিয়তা ছিল। এ জন্য বহু মানুষ আমাদের কথামতো চলত। তাই ভোটের সময় আসলি নজরুল মেম্বার আমাদের তাদের সমর্থন দিতে বলত। কিন্তু এবার তারা চাঁদাও চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদা না দেয়ার জন্য তারা এই খুন করল। এই খুনের সঙ্গে জড়িত নজরুল মেম্বার। সে ১৮ বছর আগেও আমার স্বামীর ভাই জরিপ মোল্লাকে কুপিয়ে খুন করে। একই ঘটনায় এবার আমার স্বামীসহ তার আপন ভাই ও চাচাতো ভাইকে আমরা হারালাম।

‘ওদের সবার আমি ফাঁসি চাই। সেই সঙ্গে চেয়ারম্যান নজরুল মেম্বারকে সব রকম সুযোগ দিয়ে আসছে। তারেও আইনের আওতায় আনা হোক।’

তিন ভাই ছাড়া নিহত আরেকজন ইমরান। মাত্র পাঁচ মাস হয় বিয়ে করেছিলেন ইমরান। এইচএসসি শেষ করে ইমরান এক্সকাভেটর মেশিন চালাতেন। ঘটনার দিন চিৎকার শুনতে পেয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল মেম্বারের বাড়ির পাশে হাকিম মোড়ে যান ইমরান। পরে বাড়ির লোকজন জানতে পারেন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইমরানের পরিবার জানায়, ইমরানসহ তারা সবাই নজরুলের দল করতেন। তাদের পাশেই নজরুল মেম্বারের বাড়ি।

ইমরানকে কারা হত্যা করেছে, এমন প্রশ্নে তারা জানান, নজরুল মেম্বারের লোকেরাই তাকে ধরে আমাদের রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।

ইমরানের ভাবি বলেন, ‘নজরুল মেম্বার নিজের দোষ আড়াল করতে নিজের পক্ষের ইমরানকে খুন করিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরুল সুবিধাবাদী। তিনি যে দল ক্ষমতায় সেই দল করেন। বিএনপি দিয়ে তার রাজনীতি শুরু। এরপর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার বিপরীতে কেউ প্রার্থী হলে তিনি মেনে নিতে পারেন না।

তারা আরও অভিযোগ করেন, এবার নজরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। তিনিও আওয়ামী লীগ করেন। একই গ্রামের পাশের ওয়ার্ডের সবুর মোল্লা ও তার পরিবার হাসানকে সমর্থন দেয়ায় নজরুল মেম্বার হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

শনিবার সকালে নজরুল মেম্বারের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাড়ি থেকে ফ্রিজ, টিভিসহ আসবাবপত্র ভ্যানে করে সরাতে দেখা যায়। পরে পুলিশ বাধা দিলে ভ্যানচালক চলে যান।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদ বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তাই নিজেদের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এটা হতে পারে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী দেয়া নিয়ে সেটা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, ‘আমরা এই খুনের ঘটনাটি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখছি। গতকালের পর থেকে এই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে। এলাকায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মামলা হলে সে মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
‘রোজিনার মুক্তিতে অখুশি বিএনপি’
করোনা নেগেটিভ রোজিনার, নেয়া হলো সাধারণ শয্যায়
রোজিনার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতে আদালতে আবেদন
কারাগার থেকে স্কয়ারে রোজিনা
অবশ্যই সাংবাদিকতা করব: রোজিনা

শেয়ার করুন

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: গ্রেপ্তার স্বামী

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: গ্রেপ্তার স্বামী

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকার এই ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে মোহাম্মদপুর এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে সুমিতা, তার সাত বছরের মেয়ে জান্নাত মুন ও আড়াই বছরের ছেলে শানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে এক নারী ও তার দুই শিশু সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

মৃত সুমিতা খাতুনের স্বামী সোহেল রানার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় শুক্রবার রাত ১টার দিকে মামলা হয়।

সুমিতার ফুপা শামসুল ইসলাম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন। ওই মামলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান।

পরিদর্শক সাদেকুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের পরই সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তিনি আমাদের হেফাজতেই ছিলেন। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

‘এখন পর্যন্ত যেটা জানতে পেরেছি, টাকা-পয়সা বিষয়ক কিছু ব্যাপার নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। এই কলহ থেকেই সন্তান নিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন সুমিতা।’

পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে সুমিতা, তার সাত বছরের মেয়ে জান্নাত মুন ও আড়াই বছরের ছেলে শানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, ভোর ৫টার দিকে খবর আসে ওই ফ্ল্যাটের দরজা সারা রাত ভেতর থেকে বন্ধ। গৃহকর্তা সোহেল রানা ঘরে ঢুকতে পারেননি রাতভর। সন্দেহ হওয়ায় তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান।

ভোরে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মরদেহগুলো দেখতে পায় পুলিশ। এর মধ্যে সুমিতা ও শিশু শানের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিছানায় পড়ে ছিল জান্নাতের নিথর দেহ।

ওইদিন গৃহকর্তা সোহেল নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তিনি কাজ শেষে ফিরে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে তিনি আত্মীয়-প্রতিবেশীদের খবর দেন। সারা রাত ধরে সবাই চেষ্টা করেও ভেতর থেকে সাড়া পাননি। এরপর পুলিশে খবর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) নাঈমা সুলতানা নিউজবাংলাকে ঘটনার দিন বলেন, ‘ধারণা করছি, শ্বাসরোধে প্রথমে ছেলেকে হত্যা করা হয়। তারপর মেয়েকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন মা।’

ফ্ল্যাটের ওপর তলার বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ওই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তারা ওপর থেকে চিৎকার শুনতেন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে কোনো শব্দ পাওয়া যায়নি।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান জানান, দুপুরে সোহেল রানাকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন:
‘রোজিনার মুক্তিতে অখুশি বিএনপি’
করোনা নেগেটিভ রোজিনার, নেয়া হলো সাধারণ শয্যায়
রোজিনার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতে আদালতে আবেদন
কারাগার থেকে স্কয়ারে রোজিনা
অবশ্যই সাংবাদিকতা করব: রোজিনা

শেয়ার করুন

কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

কুমিল্লার ঘটনায় শিগগিরই গ্রেপ্তার হবে জড়িতরা: পুলিশ

কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। অভিযান চলছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবেই।’

শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্যে কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার তিন দিন পার হলেও ধরা পড়েনি সহিংসতায় জড়িতরা।

তাদের ধরতে একযোগে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট।

পুলিশ জানায়, বুধবার থেকেই কুমিল্লায় অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের একটি দল কাজ করছে। শিগগিরই ধরা পড়বে ঘটনায় জড়িতরা।

এদিকে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে চার মামলায় এখন পর্যন্ত ৪০ জনকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে।

সহিংসতার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), র‌্যাব, পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অভিযান চলছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম বলেন, ‘পবিত্র কোরআন অবমাননা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারটি মামলা করেছে। এর মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা হয়েছে। অন্য দুটি মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ফয়েজ আহমেদ নামের এক ব্যক্তিকে। তিনি মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ শেয়ার করেন, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

‘বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলার একটিতে ১৭ জন ও আরেকটি মামলায় ২১ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মোট ৪১ জনকে আটক করা হলেও যাচাই-বাছাই শেষে দুজনকে ছেড়ে দেয়া হয়।’

ওসি নিউজবাংলাকে জানান, ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে গোলাম মাওলা নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওই যুবক সংঘর্ষস্থলে এসে ছবি সংগ্রহ করেন। পরে ছবিগুলো এডিট করে ফেসবুকে শেয়ার করেন। গ্রেপ্তার ওই যুবককেও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। অভিযান চলছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবেই।’

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসান বলেন, ‘বুধবারের ঘটনার তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী সোমবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন। আমরা প্রতিটা বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘীর উত্তরপাড়ের একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ তোলার পর বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বিপুল সদস্য।

আলোচিত মণ্ডপে পূজার আয়োজকেরা জানান, সেখানে পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই। বুধবার সকালে বিষয়টি পূজারিদের নজরে আসে। এর আগে গভীর রাত পর্যন্ত পূজা উদ্‌যাপন শেষে মণ্ডপটি জনশূন্য ছিল।

আরও পড়ুন:
‘রোজিনার মুক্তিতে অখুশি বিএনপি’
করোনা নেগেটিভ রোজিনার, নেয়া হলো সাধারণ শয্যায়
রোজিনার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতে আদালতে আবেদন
কারাগার থেকে স্কয়ারে রোজিনা
অবশ্যই সাংবাদিকতা করব: রোজিনা

শেয়ার করুন

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ, হয়নি মামলা

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ, হয়নি মামলা

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকার এই ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধারণা করছি, শ্বাসরোধে প্রথমে ছেলেকে হত্যা করা হয়। তারপর মেয়েকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন মা।’

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে একটি বাড়ি থেকে এক নারী ও তার দুই শিশুসন্তানের মৃত্যুর রহস্য বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা বলছে, পারিবারিক কলহকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে গৃহবধূর স্বামী সোহেল রানাকে।

পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃতরা হলেন গৃহবধূ সুমিতা খাতুন, তার ৭ বছরের মেয়ে জান্নাত মুন ও আড়াই বছরের ছেলে শান।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, ভোর ৫টার দিকে খবর আসে ওই ফ্ল্যাটের দরজা সারা রাত ভেতর থেকে বন্ধ। গৃহকর্তা সোহেল রানা ঘরে ঢুকতে পারেননি রাতভর। সন্দেহ হওয়ায় তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান।

ভোরে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মরদেহগুলো দেখতে পায় পুলিশ। এর মধ্যে সুমিতা ও শিশু শানের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিছানায় পড়ে ছিল জান্নাতের নিথর দেহ।

গৃহকর্তা সোহেল জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তিনি কাজ শেষে ফিরে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে তিনি আত্মীয়-প্রতিবেশীদের খবর দেন। সারা রাত ধরে সবাই চেষ্টা করেও ভেতর থেকে সাড়া পাননি। এরপর পুলিশে খবর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান, অতিরিক্ত উপকমিশনার (উত্তর) আরাফাতুন ইসলাম, পাঁচলাইশ সার্কেলের সহকারী কমিশনার শহিদুল ইসলাম, পিবিআই পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা ও সিআইডির সদস্যরা।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধারণা করছি, শ্বাসরোধে প্রথমে ছেলেকে হত্যা করা হয়। তারপর মেয়েকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন মা।’

ফ্ল্যাটের ওপর তলার বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ওই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তারা ওপর থেকে চিৎকার শুনতেন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে কোনো শব্দ পাওয়া যায়নি।

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ, হয়নি মামলা

তবে ভিন্ন কথা বলছেন বাড়ির গৃহকর্মী জোছনা বেগম। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘১৫ দিন ধরে ওই বাসায় কাজ করছি। সবকিছু স্বাভাবিক দেখেছি। কিন্তু বৃহস্পতিবার বাচ্চাদের মা চুপচাপ ছিলেন। বাড়ির কর্তা এদিন দুপুরে বাড়ি এলেও খাবার না খেয়েই চলে যান।’

গৃহকর্তা সোহেলের বোন লিপি আক্তার বলেন, ‘১০ বছর ধরে তারা সংসার করছেন। আড়াই বছর ধরে ওই ভবনে আছেন। সব পরিবারের মতো ছোটখাটো কলহ তো হতো। তবে এমন কিছু ঘটার মতো কিছু হয়নি।’

আরও পড়ুন:
‘রোজিনার মুক্তিতে অখুশি বিএনপি’
করোনা নেগেটিভ রোজিনার, নেয়া হলো সাধারণ শয্যায়
রোজিনার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতে আদালতে আবেদন
কারাগার থেকে স্কয়ারে রোজিনা
অবশ্যই সাংবাদিকতা করব: রোজিনা

শেয়ার করুন

নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪

নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪

বায়তুল মোকাররম থেকে বের হয়ে স্লোগান দেয়া মুসল্লিদের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই মুসল্লিদের একটি দল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড় হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মুসল্লিরা নানা স্লোগান দিতে থাকেন। নাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশের বাধায় পড়তে হয় তাদের।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ শেষে নাইটিঙ্গেল মোড় ও পল্টন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে ৪ জনকে।

জুমার নামাজের আগে গেট বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বেলা ১টা ২৫ মিনিটে মসজিদের উত্তর পাশের একটি গেট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ওই সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী গেটটি বন্ধ করে দিলে নামাজ পড়তে আসা একদল মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ওই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাওয়া দেন উত্তেজিত লোকজন। ইসলামী ফাউন্ডেশনের গেটের দিকে ছুটলে নিরাপত্তারক্ষীকে রক্ষা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পরে বন্ধ করে দেয়া গেটের তালা ইট দিয়ে ভেঙে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা।

নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই একটি দল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড় হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা নানা স্লোগান দিতে থাকেন। নাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশের বাধায় পড়তে হয় তাদের।

এর পরপরই বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার বায়েজিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের একটি দল বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে পল্টন হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে আসে। এ সময় তাদের পুলিশ ব্যারিকেড দেয়।

‘পুলিশি বাধা অতিক্রম করতে তারা ইটপাটকেল ও লাঠি দিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালান। আক্রমণ প্রতিহত করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।’

তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের হামলায় অন্তত ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪

ঘটনাস্থল থেকে তিন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি পল্টন মোড় থেকেও একজনকে আটক করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বেলা আড়াইটা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। যান চলাচলও শুরু হয় বন্ধ থাকা সড়কটিতে।

দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেন পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
‘রোজিনার মুক্তিতে অখুশি বিএনপি’
করোনা নেগেটিভ রোজিনার, নেয়া হলো সাধারণ শয্যায়
রোজিনার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতে আদালতে আবেদন
কারাগার থেকে স্কয়ারে রোজিনা
অবশ্যই সাংবাদিকতা করব: রোজিনা

শেয়ার করুন

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে একদল মুসল্লিকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। ছবি: নিউজবাংলা

নামাজের সালাম ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গেটের সামনে চলে আসে একদল মুসল্লি। তাদের অনেককে ‘ইসলামের শত্রুরা হুঁশিয়ার, সাবধান’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

জুমার নামাজের পরপরই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে স্লোগান দিতে দেখা গেছে একদল মুসল্লিকে।

নামাজের সালাম ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গেটের সামনে চলে আসে এসব মুসল্লি। তাদের অনেককে ‘ইসলামের শত্রুরা হুঁশিয়ার, সাবধান’, ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মুসল্লিদের কয়েকজনের হাতে ব্যানার দেখা যায়, তবে দ্রুত সামনের নিয়ে এগিয়ে যাওয়ায় সে ব্যানারে কী লেখা ছিল, তা দেখা যায়নি।

জাতীয় মসজিদের গেট থেকে বেরিয়ে মুসল্লিদের অনেককে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যেতে দেখা যায়। সেখানে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশের গলিতে ঢুকে যায় তারা।

জুমার নামাজের আগে একটি গেট বন্ধ করে দেয়াকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে মসজিদের উত্তর পাশের একটি কেঁচি গেট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ওই সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী গেটটি বন্ধ করে দিলে নামাজ পড়তে আসা একদল মুসল্লি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ওই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাওয়াও দেয় উত্তেজিত লোকজন। ইসলামী ফাউন্ডেশনের গেটের দিকে ছুটলে নিরাপত্তারক্ষীকে রক্ষা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

এরপর থেকেই উত্তর পাশের সিঁড়িতে থাকা একদল মুসল্লি নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন। নামাজ শেষ হওয়ামাত্রই কিছু মুসল্লিকে দৌড়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে যেতে দেখা যায়।

দুর্গাপূজার বিসর্জনকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সকাল থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ। তাদের সঙ্গে কড়া প্রহরায় দেখা যায় র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই পল্টন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। সম্প্রতি কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় অন্য সময়ের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

এ বিষয়ে খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (প্যাট্রল) খন্দকার রেজাউল হাসান জুমার নামাজের আগে নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‌‘অন্যান্য সময়েও শুক্রবার এ এলাকায় নিরাপত্তা বেশি নেয়া হয়। তবে আজকে আমরা আরও বেশি সতর্ক রয়েছি।

‌‘যেহেতু কুমিল্লাতে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনাও দেখা গেছে, তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমরা বায়তুল মোকররমসহ এই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে র‍্যাব, বিজিবির সদস্যরাও রয়েছে। তারা এই এলাকায় টহল দিচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
‘রোজিনার মুক্তিতে অখুশি বিএনপি’
করোনা নেগেটিভ রোজিনার, নেয়া হলো সাধারণ শয্যায়
রোজিনার মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতে আদালতে আবেদন
কারাগার থেকে স্কয়ারে রোজিনা
অবশ্যই সাংবাদিকতা করব: রোজিনা

শেয়ার করুন