জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে দুই ‘জঙ্গি’

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে দুই ‘জঙ্গি’

সোমবার রিমান্ড শেষে তাদেরকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামির জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে আবেদন করেন।

প্রগতিশিল লেখক, ব্লগার ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলাসহ নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সন্দেহভাজন দুই সদস্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার রিমান্ড শেষে তাদেরকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামির জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে আবেদন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী আসামি ফয়েজুর রহমান ওরফে আহমাদ আদনান এবং ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূইয়া আসামি চান মিয়ার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এরপর আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন আদালতে খিলগাঁও থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই আশরাফ হোসেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

গত ২ মে ফয়েজুর ও চান মিয়াকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। আগের দিন রাতে রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। সেই মোবাইলে গুরাবা মিডিয়া, আল হিকমাহ মিডিয়া, আল খিদমাহ মিডিয়া প্রকাশিত উগ্রবাদী বার্তা সম্বলিত বইয়ের সফট কপি (পিডিএফ) পাওয়া যায়।

তারা ফেসবুকে উগ্রবাদী প্রচারণার মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ ও বাছাই করে বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ।

তাদের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেছে।

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুর থেকে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
গাজীপুরে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
তলোয়ার নিয়ে সংসদে হামলার পরিকল্পনা: আদালতে জবানবন্দি
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ফেলে জঙ্গিবাদে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইসলামি বক্তা মুফতি যুবায়ের ‘নিখোঁজ’

ইসলামি বক্তা মুফতি যুবায়ের ‘নিখোঁজ’

সংবাদ সম্মেলনে যুবায়েরের পরিবারের সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে, যেখানে দ্বীন শিক্ষার অভাব রয়েছে সেইসব এলাকায় মক্তব-মাদ্রাসা পরিচালনা করেন যুবায়ের। শিশুদেরকে কালামে পাক শিক্ষা দেন।

গত শুক্রবার রংপুর থেকে বিমানযোগে ঢাকায় পৌঁছান ইসলমি বক্তা মুফতি যুবায়ের আহমাদ। এরপর থেকেই তার আর খোঁজ নেই বলে দাবি করেছে পরিবার।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মুফতি যুবায়ের আহমাদের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবারের সদস্যরা। এ সময় স্বামীকে খুঁজে দিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান যুবায়েরের স্ত্রী বিলকিস আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে বিলকিস বলেন, ‘মুফতি যুবায়ের আহমাদ সাহেব বাংলাদেশের একজন পরিচিত মুখ আলেম। যিনি কোনো রাজনৈতিক দল-মত, বিশৃংখলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজের সঙ্গে জড়িত নন।

‘তার কোনো বক্তব্য কিংবা লেখায় কখনও কোনো প্রকার উস্কানিমূলক, দেশ ও সরকারবিরোধী এমন কোনো কিছুই খুঁজে পাওয়া যাবে না। তার প্রতিটা কাজই দৃশ্যমান। লুকিয়ে কোনো কাজ করতেন না। বিভিন্ন সময়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত অনেকেই উনার প্রশংসা করেছেন। সারা দেশের মানুষ, সকল উলামায়ে কেরামদের মধ্যে উনার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।’

যুবায়েরের স্ত্রী দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল যেখানে ধর্ম শিক্ষার অভাব রয়েছে সেইসব এলাকায় মক্তব-মাদ্রাসা পরিচালনা করেন যুবায়ের। শিশুদেরকে কালামে পাক শিক্ষা দেন। করোনার মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রংপুরের বিভিন্ন মাদ্রাসা পরিদর্শন ও কীভাবে কার্যক্রম শুরু করা যায় সেসব বিষয়ে পরামর্শ দিতে কিছুদিন আগে তিনি সফরে বের হন। পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিমানযোগে বিকেল ৫টার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান।

বিমান থেকে নেমে পরিবারের কাছে কল করে যুবায়ের জানান, তার ফিরতে কিছুটা দেরি হতে পারে। এরপর থেকেই তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

যুবায়েরের নিখোঁজের ব্যাপারে ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চেয়েছে তার পরিবার। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো থানায়ই সাধারণ ডায়রি নিচ্ছে না বলে দাবি করেন বিলকিস।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি আকুল আবেদন জানাচ্ছি, তিনি যেন আমার নিরপরাধ স্বামীকে খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশ দেন। আমরা অনেক দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। তিনিও যেন একজন পিতাহারা নারী হিসেবে আমার সন্তানদের দুঃখ কষ্টগুলো অনুধাবন করেন।

‘আশা করছি তিনি আমার স্বামী ও আমার সন্তানদের পিতাকে অবিলম্বে গুরুত্ব সহকারে খুঁজে বের করতে নির্দেশ দেবেন।’

বিলকিস জানান, মুফতি যুবায়ের ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। তিনি কখনো কোনো অমুসলিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ম চাপিয়ে দেননি বা জোর করে দাওয়াতও দেননি। কারণ তিনি দৃঢভাবে এই কথায় বিশ্বাস করতেন যে, ধর্ম কোনো চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। কিন্তু ধর্মের দাওয়াত দেয়া জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মুফতি যুবায়ের আহমাদের ছোট ভাই মো. হাবিবুল্লাহ, মো. হিজবুল্লাহ প্রমুখ৷

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুর থেকে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
গাজীপুরে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
তলোয়ার নিয়ে সংসদে হামলার পরিকল্পনা: আদালতে জবানবন্দি
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ফেলে জঙ্গিবাদে

শেয়ার করুন

ব্যাডমিন্টন ব্যাট দিয়ে স্বামীকে খুন

ব্যাডমিন্টন ব্যাট দিয়ে স্বামীকে খুন

আব্দুর রহমানের মৃতদেহ

দুই ছেলে এক মেয়ের জনক নিহত আব্দুর রহমান মুরগির ব্যবসা করতেন।

রাজধানীর খিলগাঁও গোড়ান এলাকায় ভাঙা স্টিলের ব্যাডমিন্টন ব্যাট বুকে ঢুকিয়ে স্বামীকে খুন করলেন এক নারী। ৪০ বছর বয়সী নিহত আব্দুর রহমান নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা থানার কটুয়া গ্রামের শমসের আলীর সন্তান।

সোমবার ভোরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে খিলগাঁও খিদমাহ হাসপাতালে গিয়ে আব্দুর রহমানের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আত্মীয়স্বজনের বরাতে শফিকুল ইসলাম আরও জানান, নিহত আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। সোমবার ভোরে এই বিবাদ চরমে পৌঁছে। এ সময় হাতের কাছে থাকা ব্যাডমিন্টনের স্টিলের ভাঙা ব্যাট দিয়ে আব্দুর রহমানের বুকে সজোরে আঘাত করেন নাজমা। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করে খিদমাহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নাজমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের আত্মীয় আবদুস সালাম জানান, দুই ছেলে এক মেয়ের জনক আব্দুর রহমান খিলগাঁওয়ের পূর্ব গোড়ান মদিনা মসজিদ গলির একটি বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। তিনি মুরগির ব্যবসা করতেন।

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুর থেকে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
গাজীপুরে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
তলোয়ার নিয়ে সংসদে হামলার পরিকল্পনা: আদালতে জবানবন্দি
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ফেলে জঙ্গিবাদে

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইন্টারনেট কর্মচারীর মৃত্যু

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইন্টারনেট কর্মচারীর মৃত্যু

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার শ্যালক নেট প্রতিষ্ঠানে কাজের সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ইমনের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বাঘেরা গ্রামে। তিনি কদমতলীর শ্যামপুর আলিবহর এলাকাতেই থাকতেন।’

রাজধানীর কদমতলীর আলিবহর এলাকায় মিডিয়া অনলাইন নামের একটি ইন্টারনেট সরবরাহ প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইমন মোল্লা নামে এক কর্মচারী প্রাণ হারিয়েছেন।

সোমবার দুপুর ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনলে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইমনের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বাঘেরা গ্রামে। তিনি কদমতলীর শ্যামপুর আলিবহর এলাকাতেই থাকতেন।

ইমনের দুলাভাই কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার শ্যালক নেট প্রতিষ্ঠানে কাজের সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুর থেকে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
গাজীপুরে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
তলোয়ার নিয়ে সংসদে হামলার পরিকল্পনা: আদালতে জবানবন্দি
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ফেলে জঙ্গিবাদে

শেয়ার করুন

৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে সেঁজুতি পরিবহনকে আইনি নোটিশ

৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে সেঁজুতি পরিবহনকে আইনি নোটিশ

সেঁজুতি পরিবহনকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে একটি সাংবাদিক সংগঠন।

নোটিশে ফোরামের পিকনিকে ভাড়া নেয়া সেঁজুতি ট্রাভেলসের এসি গাড়িতে বৃষ্টির পানি পড়ে সদস্যরা ভিজে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এবং প্রয়োজনীয় মালামাল ক্ষতিগস্ত হওয়ায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।

শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে যাত্রী হয়রানির ঘটনায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সেজুঁতি পরবিহনের মালিককে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইন, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) সভাপতি মাশহুদুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইয়াছিনের পক্ষে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু এ নোটিশ পাঠান।

সেঁজুতি ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীনেশ চন্দ্র দাস ও বাসটির ম্যানেজারকে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে

নোটিশে ফোরামের পিকনিকে ভাড়া নেয়া সেঁজুতি ট্রাভেলসের এসি গাড়িতে বৃষ্টির পানি পড়ে সদস্যরা ভিজে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এবং প্রয়োজনীয় মালামাল ক্ষতিগস্ত হওয়ায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর সংগঠনটির বার্ষিক পিকনিকের জন্য সেঁজুতি ট্রাভেলসের তিনটি এসি বাস ভাড়া করা হয়। রিজার্ভ হলেও যাত্রার দিন ও ফেরার দিন সঠিক সময়ে বাস সরবরাহ করা হয়নি।

এ ছাড়া চুক্তি অনুযায়ী ভালো বাস সরবরাহ না করে ফিটনেসহীন বাস সরবরাহ করায় বৃষ্টিতে বাসের ভেতরে পানি ঢুকে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমনকি বক্সের ভেতরে থাকা মালামাল ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সংগঠনটির সদস্যরা বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েন। বৃষ্টিতে ভেজার কারণে শিশুসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা জ্বরে আক্রান্ত হয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এমনকি ৫ সেপ্টেম্বর ফেরার দিন একটি বাস নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পরে হোটেলে গিয়ে পৌঁছে। যে কারণে রাঙ্গামাটির অসহ্য গরমের মধ্যে ফোরামের সদস্যদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পুনরায় হোটেল রুম ভাড়া করে সেখানে অবস্থান করতে হয়েছে। যার ফলে সংগঠনের আর্থিক ও সদস্যরা শারীরিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

এ ছাড়া রাঙ্গামাটি থেকে ফেরার সময় বাস ভাড়া চুক্তির অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধের জন্য মাঝ রাস্তায় বাস থামানো হয়। ভাড়ার টাকা না দিলে বাসে তেল ভর্তি করা সম্ভব হবে না উল্লেখ করে জিম্মি করা হয়।

নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে সংগঠনটিকে ক্ষতিপূরণের ৫০ লাখ টাকা দিতে জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায় সেঁজুতি ট্রাভেলসের মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুর থেকে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
গাজীপুরে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
তলোয়ার নিয়ে সংসদে হামলার পরিকল্পনা: আদালতে জবানবন্দি
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ফেলে জঙ্গিবাদে

শেয়ার করুন

যন্ত্রের ধাক্কায় শ্রমিকের মৃত্যু

যন্ত্রের ধাক্কায় শ্রমিকের মৃত্যু

নিহতের মরদেহ

নিহত শ্রমিক ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার খাটাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ইউসুব মৃধার সন্তান। থাকতেন খিলখেত এলাকায়।

রাজধানীর খিলক্ষেত তিনশ ফিট এলাকায় রাস্তায় মিকচার মেশিনের মাল (ঢালাই) নামানোর সময়ে আঘাত পেয়ে মো. লাভলু মৃধা নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় লাভলুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পৌনে ৩টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের সহকর্মী রমিজ জানান, মিকচার মেশিন ব্যবহার করে তিনশ ফিট এলাকায় তারা রাস্তায় ঢালাইয়ের কাজ করছিলেন। এ সময় ঢালাই নামানোর সময় মেশিনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আঘাত পান লাভলু। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত লাভলু ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার খাটাড়া গ্রামের মোহাম্মদ ইউসুব মৃধার সন্তান। থাকতেন খিলখেত এলাকায়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুর থেকে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
গাজীপুরে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
তলোয়ার নিয়ে সংসদে হামলার পরিকল্পনা: আদালতে জবানবন্দি
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ফেলে জঙ্গিবাদে

শেয়ার করুন

সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

সংগঠনের নামে ব্যাংক হিসাব চাওয়া নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন

সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব তলব করতে পারে। এমপিদের ব্যাংক হিসাব তলব হয়, সরকারি কর্মকর্তাদেরও হিসাব তলব হয়, ব্যবসায়ী নেতাদেরও তলব হয়। সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে, চাওয়াটা অবশ্যই দোষের নয়। কিন্তু এই চাওয়াটা কেন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাব চেয়েছে সেটি কেন পত্রিকায় আসল সেটি হচ্ছে প্রশ্ন। এটি তো কাগজে আসার কথা না।’

সংগঠনের নামে কেন সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চাওয়া হলো এবং সে খবর পত্রিকায় কীভাবে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেটি কেন পত্রিকায় আসল সেটি হচ্ছে প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব তলব করতে পারে। এমপিদের ব্যাংক হিসাব তলব হয়, সরকারি কর্মকর্তাদেরও হিসাব তলব হয়, ব্যবসায়ী নেতাদেরও তলব হয়। সরকার যে কারও ব্যাংক হিসাব চাইতেই পারে, চাওয়াটা অবশ্যই দোষের নয়।

‘কিন্তু এই চাওয়াটা কেন, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের ব্যাংক হিসাব চেয়েছে সেটি কেন পত্রিকায় আসল সেটি হচ্ছে প্রশ্ন। এটি তো কাগজে আসার কথা না।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে যেটি উপস্থাপন করা হয়েছে, সংগঠনের নাম দিয়ে কেন ব্যাংক হিসাব চাওয়া হলো সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি স্বচ্ছ থাকলে কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার সুযোগ নেই। যখন ব্যাংক হিসাব চাওয়ার পরে এটি প্রকাশ হবে, তাদের স্বচ্ছতা বেরিয়ে আসবে তখন তো বরং তারা যে স্বচ্ছ এটিও প্রকাশ হবে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।’

‘তবে এটি কেন সংগঠনের নাম দিয়ে চাওয়া হলো, আবার কেন কাগজে আসল সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট- বিএফআইইউ।

অন্য যাদের হিসাব দিতে বলা হয়েছে তারা হলেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী উল্লেখ করে এই প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

একে সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল হতে পারে মন্তব্য করে এই ১১ নেতা সংবাদ সম্মেলনও করেছেন।

‘সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন’

বিএনপি নেতারা দাবি জানালেও বর্তমান সরকারের অধিনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জোর গলায় দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা প্রায় ১২ বছর ধরেই এই আহ্বান জানিয়ে আসছেন, কিন্তু জনগণতো তাদের এই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। সাড়া দেয়ার কোনো কারণও নেই। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ীই বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন কখনো সরকারের অধীনে হয় না, হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে।

‘যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় তখন সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের চাকরি নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত হয়। সরকার তখন একজন পুলিশ কনস্টেবলও বদলি করতে পারে না। কার্যত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন এরই মধ্যে প্রচুর নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠান করেছে। আমি এ জন্য বিএনপিকে বলব, ফাঁকা বুলি আউড়িয়ে কোনো লাভ হবে না। সংবিধান অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

খালেদা জিয়ার সাজার মেয়াদ স্থগিতাদেশ যে কোন সময় বাতিল হতে পারে বলেও বিএনপি নেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সরকারকে বহু আগেই ধন্যবাদ দেয়া উচিত ছিল। কারণ বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কিন্তু জামিনে মুক্তি পাননি। তাকে প্রধানমন্ত্রী আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সাজা স্থগিত করেছেন, এ জন্যই তিনি কারাগারের বাহিরে আছেন। বিএনপির এ জন্য শুকরিয়া করা উচিত। ধন্যবাদ দেয়া উচিত।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার যেকোনো সময় চাইলে ৬ মাসের সাজা স্থগিতের যে আদেশ তা বাতিল করতে পারে। সে আদেশ যদি আগামীকাল বাতিল হয়, তাহলে আগামীকালই তাকে কারাগারে ফেরত যেতে হবে। এটিও বিএনপির মনে রাখা প্রয়োজন।’

‘ডোমেইন বরাদ্দে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকার পরেও আইপি টিভি কীভাবে ডোমেইন বরাদ্দ পায় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আইপি টিভির নিবন্ধন দেয়ার দায়িত্ব হচ্ছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু ডোমেইন বরাদ্দ দেয় বিটিআরসি। ডোমেইন বরাদ্দ কীভাবে পেল সেটিই হচ্ছে প্রশ্ন। আমি মনে করি, কাউকে ডোমেইন বরাদ্দ দেয়ার আগে এখন থেকে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করব আগামী ২২ সেপ্টেম্বর। তথ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয় এতে থাকবে। এখানেই আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব যে ডোমেইন বরাদ্দের দেয়ার ক্ষেত্রে এখন অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। আমরা তদন্ত করছি এবং আদালতেরও নির্দেশনা আছে। আমরা অনলাইন ও আইপি টিভির বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছি, এটি অব্যাহত থাকবে।’

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুর থেকে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
গাজীপুরে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
তলোয়ার নিয়ে সংসদে হামলার পরিকল্পনা: আদালতে জবানবন্দি
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ফেলে জঙ্গিবাদে

শেয়ার করুন

‘পাঁচ হাজারবার’ চুরির পর ধরা

‘পাঁচ হাজারবার’ চুরির পর ধরা

পরিবহনে যুক্ত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে গার্মেন্টস পণ্য চুরি করত সংঘবদ্ধ চোরাই চক্রটি। ছবি: নিউজবাংলা

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, সিলেটি সাঈদের পরিকল্পনায় তার নিজস্ব যানবাহনে গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনের সময় কমপক্ষে পাঁচ হাজারবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা হয়েছে। তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন। সবশেষ একটি মামলায় তিনি আট মাস কারাভোগ করেন। কারাভোগ করে বেরিয়ে ফের যুক্ত হন চোরাই কারবারে।

সাহেদ ওরফে সিলেটি সাঈদের স্ত্রী ও সন্তানরা লন্ডনে থাকেন। নিজের বিশাল অট্টালিকা রয়েছে মৌলভীবাজারে। রয়েছে অসংখ্য বাড়ি ও শতাধিক গাড়ি, কাভার্ড ভ্যান। এ সবকিছুর তিনি মালিক বনেছেন গার্মেন্টস পণ্য চুরির অর্থে। সিলেটি সাঈদ গার্মেন্টস পণ্য চোরচক্রের হোতা।

সোমবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার।

সিলেটি সাঈদের পরিকল্পনায় তার নিজস্ব যানবাহনে গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনের সময় কমপক্ষে পাঁচ হাজারবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ২৪টি মামলা হয়েছে। তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তারও হয়েছেন। সবশেষ একটি মামলায় তিনি আট মাস কারাভোগ করেন। কারাগার থেকে বেরিয়ে ফের যুক্ত হন চোরাই কারবারে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবহনে যুক্ত ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান, এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের যোগসাজশে গার্মেন্টস পণ্য চুরি করছে সংঘবদ্ধ চোরাই চক্র। বিশ্বে লিডিং রপ্তানিকারক বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পকে ঘিরে চোরচক্রের কারণে সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সংঘটিত চুরির ঘটনায় চোরাই মালামাল ও দুটি কাভার্ড ভ্যান উদ্ধার এবং গার্মেন্টস পণ্য চোরাই চক্রের হোতাসহ সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

‘পাঁচ হাজারবার’ চুরির পর ধরা

গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামের গার্মেন্টসের ১৭ হাজার ১৫২টি তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানির উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরে নেয়ার পথে চুরির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়।

ওই ঘটনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে গার্মেন্টস পণ্য চুরির সংঘবদ্ধ চক্রের হোতা সাহেদ ওরফে সাঈদ ওরফে সিলেটি সাঈদসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের একটি দল।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা এবং কুমিল্লা বুড়িচং এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন রাজ্জাক, ইউসুফ, মাইনুল, আলামিন, দুলাল হোসেন ও খায়রুল। এ সময় তাদের কাছ থেকে চার হাজার ৭০৫টি তৈরি পোশাকসহ দুটি কাভার্ডভ্যান জব্দ করা হয়।

‘পাঁচ হাজারবার’ চুরির পর ধরা

এ কে এম হাফিজ আক্তার ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘গত ১১ মে জয়ন্তি নীট ওয়্যার লিমিটেড নামের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ২৮ হাজার ৮২০টি পণ্য শিপমেন্ট করতে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে পাঠায়। বিদেশে মালামাল পৌঁছার পর জানা যায়, ওই শিপমেন্টে ১১ হাজার পণ্য কম। এ জন্য বিদেশি বায়ার প্রতিষ্ঠানটিকে ২৮ হাজার ৯০৮ ডলার জরিমানা করে। এতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়।

মামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা করে জয়ন্তি নীট ওয়্যার গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান, মোবারক ও ইব্রাহিম নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

‘অন্যদিকে গত ১৫ সেপ্টেম্বর নেটওয়ার্ক ক্লোথিং লিমিটেড নামক গার্মেন্টসের তৈরি পোশাক এক হাজার ৪৩১ কার্টনে ১৭ হাজার ১৫২টি পণ্য রপ্তানির উদ্দেশে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে যায়। মালামাল শিপমেন্টের সময় গুনতে গিয়ে ৫ হাজার পণ্য কম পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা হয়।’

তেজগাঁও জোনাল টিম তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকা মহানগরীর উত্তরা থেকে চোরাই গার্মেন্টস মালামাল ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ রাজ্জাক, ইউসুফ, খায়রুল ও মাইনুলকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারদের দেয়া তথ্যমতে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং নিমসার এলাকা থেকে চোরাই গার্মেন্টস মালামাল ও একটি কাভার্ড ভ্যানসহ আল-আমিন ও দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে এবং তাদের দেয়া তথ্যমতে চক্রের হোতা সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাঈদের বিরুদ্ধে ২৪ মামলা

গ্রেপ্তার সাঈদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ২৪টি মামলা রয়েছে। চট্টগ্রামে তিনি ৬টি মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন। চোর চক্রের অন্য সহযোগীদের সহায়তায় তিনি বিভিন্ন সময় ৪ থেকে ৫ হাজারবার চুরির ঘটনায় হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক হাজার কোটি টাকার পণ্য।

হাফিজ আক্তার বলেন, সাঈদের এক স্ত্রী সন্তানসহ লন্ডনে সেটেল। তার মালিকানাধীন বিশাল অট্টালিকা রয়েছে মৌলভীবাজারে। তার রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ। এসব যানবাহন তিনি ভাড়ায় ব্যবহার করতেন গার্মেন্টস পণ্য শিপমেন্টের কাজে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টস পণ্য পরিবহনে যুক্ত তার ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান এবং এজেন্সি, চালক ও শ্রমিকদের সহায়তায় সংঘবদ্ধ চোরাই চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন।

চোরাই গার্মেন্টস পণ্য কোথায় বিক্রি ও কারা ক্রয় করছে জানতে চাইলে হাফিজ আক্তার বলেন, আমরা প্রাথমিক তদন্তে বেশ কয়েকজনের নাম জেনেছি। তদন্তের স্বার্থে বলছি না। দেশের ছোট ছোট কিছু বাইং হাউসে যাচ্ছে সেসব চোরাই গার্মেন্টস পণ্য। আর ওই সব ছোট বাইং হাউসগুলো বিদেশি ছোট ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে দেয়। এ ছাড়া, দেশের বিভিন্ন মার্কেটেও যাচ্ছে সেসব চোরাই গার্মেন্টস পণ্য।

এত মামলা নিয়ে কীভাবে সাঈদ গার্মেন্টস পণ্য চোরাই চক্র নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন জানতে চাইলে গোয়েন্দা প্রধান বলেন, তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। সর্বশেষ একটি মামলায় তিনি আট মাস কারাভোগ করেন। তবে বেরিয়েই ফের জড়িয়ে পড়েন গার্মেন্টস পণ্য চোরাই কারবারে।

আরও পড়ুন:
মোহাম্মদপুর থেকে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
গাজীপুরে আনসার আল ইসলামের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার
তলোয়ার নিয়ে সংসদে হামলার পরিকল্পনা: আদালতে জবানবন্দি
বিদেশে উচ্চশিক্ষা ফেলে জঙ্গিবাদে

শেয়ার করুন