× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ পৌর নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট

ফলোআপ
চিনি চুরিতে সাধারণ ডায়েরি নাম নেই কারো
hear-news
player
print-icon

চিনি চুরিতে সাধারণ ডায়েরি, নাম নেই কারো

চিনি-চুরিতে-সাধারণ-ডায়েরি-নাম-নেই-কারো
মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন গুদাম খালি হয়নি। এ কারণে চিনি কখনো একবারে শেষ হয়নি। এবার চিনিকল বন্ধ হওয়ার পর মজুত শেষ হয়ে আসে। রেজিস্ট্রারও গুদামের চিনির হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখেন ১০০ টনের মতো থাকার কথা থাকলেও ৫৩ দশমিক ৫ টন চিনি কম আছে।

কুষ্টিয়া চিনিকলের গুদাম থেকে প্রায় ৫০ টন চিনি গায়েব হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ।

চিনিকলের সহব্যবস্থাপক (সংস্থাপন) হায়দার আলী শনিবার রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে সেখানে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।

এর আগে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান খান বলেছিলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আমরা জানতে পারি বিভিন্ন সময় গুদাম থেকে ৫২ দশমিক ৭ টন চিনি সরানো হয়েছে। স্টোরকিপার ফরিদুল হক এ কাজে জড়িত বলে আমরা জানতে পেরে তাকে বরখাস্ত করেছি। ঘটনা তদন্তে করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি।’

হদিস না পাওয়া চিনির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, দীর্ঘদিন গুদাম খালি হয়নি। এ কারণে চিনি কখনো একবারে শেষ হয়নি। এবার চিনিকল বন্ধ হওয়ার পর মজুত শেষ হয়ে আসে।

রেজিস্ট্রারও গুদামের চিনির হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখেন ১০০ টনের মতো থাকার কথা থাকলেও ৫২ দশমিক ৭ টন চিনি কম আছে।

তিনি বলেন, ‘তদন্ত চলছে। বিষয়টি তদন্তে উঠে আসবে। যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শ্রমিকনেতাদের অভিযোগ, বাইরে বিক্রির সময় ওই সব ট্রাকে চিনি পাচার করে আসছে চিনিকলেরই একটি চক্র। এ কারণে দিনের বেলার পাশাপাশি রাতেও চিনির ট্রাক বের হতো গুদাম থেকে। এর আগে গোডাউন ধসেও কিছু চিনি নষ্ট হয়। সে সময়ও চিনি পাচার হতে পারে।

মিলের সিবিএর সাধারণ সম্পাদক আনিস মাহমুদ বলেন, ‘এটা ন্যক্কারজনক ঘটনা। বিষয়টি ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এ কাজ করে আসছিল। মিল বন্ধ না হলে হয়তো বিষয়টা ধরা পড়ত না। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হোসেন জানান, কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত। ১০-১২ বছর ধরে এমন কাজ চলে আসছিল বলে তার ধারণা। এক দিনে এত চিনি পাচার হয়নি। এখন বিষয়টি সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন:
গুদাম থেকে গায়েব ৫০ টন চিনি, স্টোরকিপার বরখাস্ত
পুরোপুরি বন্ধের পথে ৬ দশকের চিনিকল
চিনিকল বন্ধ, মাঠেই শুকাচ্ছে আখ
সরকারি চিনিকলগুলোকে লাভজনক করার দাবি
মৌখিক ছাঁটাই, চিনিকলের পরিচালককে অবরুদ্ধ

মন্তব্য

আরও পড়ুন

ফলোআপ
That is why the Padma Bridge was opened

যে কারণে খোলা গেল পদ্মা সেতুর নাট

যে কারণে খোলা গেল পদ্মা সেতুর নাট পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের বোল্টের নাট টাইট দিয়ে আঠা লাগানোর কাজ চলছে। ছবি: সংগৃহীত
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভায়াডাক্ট অংশে পদ্মা সেতুর রেলিংটি বানানো হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে। এসব ক্ষেত্রে বোল্টের সঙ্গে নাট টাইট করার সময়, সেখানে এক ধরনের গ্লু বা আঠা ব্যবহার করতে হয়। তবে সেতু উদ্বোধনের আগে গ্লু দিয়ে সব নাট আটকানো সম্ভব হয়নি।’

পদ্মা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেতুটির রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক বানানোর ঘটনা আলোড়ন তুলেছে গোটা দেশে। এরপরই নড়েচড়ে বসেছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা, চলছে নাট টাইট দেয়ার কাজ।

সেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকটি নাট খোলার ঘটনাটি ঘটে পদ্মা সেতুর জাজিরাপ্রান্তের ভায়াডাক্ট অংশে। সময় স্বল্পতায় সেতুর রেলিংয়ের সব নাট পরিকল্পনা অনুযায়ী শক্তভাবে এঁটে দেয়া যায়নি, সেতু উদ্বোধনের পর সেই কাজটি এখন চলমান।

রোববার সকাল পৌনে ৯টার দিকে সেতুতে নির্মাণ শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। রেঞ্জ দিয়ে নাট টাইট দিচ্ছিলেন তারা। সেই সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের আঠা।

যে কারণে খোলা গেল পদ্মা সেতুর নাট
পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের বোল্টের নাট টাইট দিয়ে আঠা লাগানোর কাজ চলছে। ছবি: সংগৃহীত

মেরামত কাজে জড়িত শ্রমিকরা জানান, সেতুতে রেলিং স্থাপনে বোল্টের ওপর প্রথমে একটি ওয়াসার বসানো হয়। তারপর বোল্টের নাটটি ঘুরিয়ে আটকে দেয়া হয়। এই নাট যাতে সহজে খোলা না যায় সেজন্য বোল্টের মধ্যে নাটটি কিছুদূর ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে বিশেষ এক ধরনের গ্লু (আঠা)।

টিকটকারদের ওপর কর্মকাণ্ডে সেতুর নির্মাণ শ্রমিকদেরও প্রচণ্ড বিরক্ত দেখা গেছে। বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভিকে তাদের একজন বলেন, ‘এই সাইড থেকে দুইটা ফেলাইছে, ওই সাইড থেকে দু্ইটা ফেলাইছে, এরম করে বহু নাট ফেলাই দিছে। এখন নতুন করে লাগাইতে হইতাছে। বাঙালিরা টিকটক করছে, আর মনে করেন নাট ফেলাই দিছে।’

আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুর নাট খোলায় বাইজীদের সঙ্গী কায়সার

এই শ্রমিক বলেন, ‘এখন পদ্মা সেতুর নাট নিয়ে টিকটক করা শুরু করছে। তারে (গ্রেপ্তার টিকটকার বাইজীদ) উচিত শিক্ষা দেয়া উচিত, যে এই ক্ষতি করছে।’

কেন খোলা গেল নাট?

ভায়াডাক্ট অংশে পদ্মা সেতুর রেলিংটি বানানো হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে। এসব ক্ষেত্রে বোল্টের সঙ্গে নাট টাইট করার সময়, সেখানে এক ধরনের গ্লু বা আঠা ব্যবহার করতে হয়। তবে সেতু উদ্বোধনের আগে গ্লু দিয়ে সব নাট আটকানো সম্ভব হয়নি বলে জানান পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই সেতুর রেলিংয়ে লোহা নয়, ব্যবহার করা হয়েছে স্টেইনলেস স্টিল। ফলে রেলিংয়ের বোল্টের সঙ্গে নাট টাইট দেয়ার সময় বিশেষ এক ধরনের গ্লু (আঠা) দিতে হয়। তাতে নাটটি শক্ত করে আটকে যায়। কিন্তু এখনও গ্লু দেয়া হয়নি।’

পদ্মা সেতুতে রেলিংয়ের নাট টাইট দেয়ার সময় শ্রমিকদের ‘লকটাইট ২৬৩’ নামের একটি থ্রেডলকার ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

এই সরঞ্জামটি সম্পর্কে ইন্টারনেটে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বোল্টের সঙ্গে নাট টাইট দেয়ার সময় এটি ব্যবহার করলে সংযোগটি শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। কোনো আঘাত বা কম্পন তৈরি হলেও নাটটি আর ঢিলে হয় না। উচ্চতাপে কিংবা তেল প্রয়োগেও সংযোগকে দুর্বল করা যায় না।

বোল্ট, নাট এগুলো ঠিকঠাক ও মেরামত করাকে সেতু রক্ষণাবেক্ষণের চলমান প্রক্রিয়া বলেও মন্তব্য করেন দেওয়ার আব্দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘সেতুর ওপর আমাদের আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেতুতে যান চলাচলের মাঝেই সেই কাজগুলো চলতে থাকবে।’

যে কারণে খোলা গেল পদ্মা সেতুর নাট
রোববার পদ্মা সেতুতে উঠে রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক ভিডিও বানান মো. বাইজীদ। ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে ভায়াডাক্ট অংশের কাজ শেষ করতে সময় স্বল্পতা ছিল বলে যে দাবি শ্রমিকরা করেছেন তা স্বীকার করেন সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী।

দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৬ জুন পদ্মা সেতুর ভায়াডাক্ট অংশের রেলিংয়ের নাট-বোল্টের প্রথম চালান আসে। তারপর শুরু হয় এগুলোর লাগানোর কাজ। দীর্ঘ সেতুতে ২৩ জুন পর্যন্ত সেগুলো সেট করার কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে ২৪ তারিখে নিরাপত্তাজনিত কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি।’

আরও পড়ুন: পদ্মা সেতুতে নাট খোলা বাইজীদ পটুয়াখালীর, করতেন ছাত্রদল

তবে এরপরেও পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট হাত দিয়ে খোলা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নাট খুলে যে ভিডিও ছাড়লো সে প্রথমে রেঞ্জ দিয়ে নাটের প্যাঁচ হালকা করে পরে হাত দিয়ে ঘুরিয়ে খুলেছে।’

সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক ভিডিও বানানো বাইজীদের গাড়ি থেকে রেঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান দেওয়ান মো. আবদুল কাদের।

চিন্তিত নন বিশেষজ্ঞরা

নাট খুলে ফেলার ঘটনায় বিচলিত নন সেতুটি নির্মাণে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রধান ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম শামীম জেড বসুনিয়া।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেক সময় থাকে না, লোহা দিয়ে আটকে রাখা, সেগুলো। কিন্তু ব্রিজের কোনো কিছু খোলার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ব্রিজের কোনো কিছুতে হাত দেয়ার সুযোগই নেই।’

ভিডিওটি দেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও কিছু কিছু টেম্পরারি স্ট্রাকচার আছে। সেগুলো আমরাই রেখেছি। সেগুলো খুলছে।’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে আমি আর যুক্ত নই।’

সেতুর কোনো ক্ষতি হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, না, না, এটি খুব সামান্য বিষয়।’

মন্তব্য

ফলোআপ
The bikers are in trouble even after coming to Majhirghat to close the Padma bridge

শরীয়তপুর থেকে ফিরতি পথে বিপাকে ঢাকার বাইকাররা

শরীয়তপুর থেকে ফিরতি পথে বিপাকে ঢাকার বাইকাররা শরীয়তপুরের মাঝিরঘাট ফেরি ঘাটে মোটরসাইকেলের সারি। ছবি: নিউজাবংলা
জাজিরা প্রান্তে বাইকাররা জানান, তাদের বেশিরভাগই ঢাকা থেকে আসা। সেতু পার হতে না পারায় তারা ঘাটে যান, কিন্তু সেখানে গিয়ে ফেরি না পাওয়ায় পড়েন বিপাকে। 

পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে সোমবার সকাল থেকে। এরপরও সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে টোল প্লাজায় সকাল থেকেই ভিড় জমান বাইকাররা।

সেখানে নিষেধাজ্ঞার মুখে সেতু পাড়ি দিতে পারেননি তারা। বাধ্য হয়ে বাইকাররা যান শরীয়তপুরের মাঝিরঘাট ফেরি ঘাটে, কিন্তু ফেরি না থাকায় নৌপথেও মাওয়া প্রান্তে পৌঁছাতে পারেননি তারা।

জাজিরা প্রান্তে বাইকাররা জানান, তাদের বেশিরভাগই ঢাকা থেকে আসা। সেতু পার হতে না পারায় তারা ঘাটে যান, কিন্তু সেখানে গিয়েও ফেরি না থাকায় পড়েন বিপাকে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) মাঝিরঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, মোটরসাইকেল পারাপারে প্রয়োজনে শিমুলিয়া থেকে ফেরি আনা হবে।

ঘাট কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ঘাটে সকাল থেকেই মোটরসাইকেল আসতে শুরু করে। চাপ বাড়তে শুরু করে ১০টার পর থেকে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘাটের ১ নম্বর পন্টুন পরিপূর্ণ হয়ে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পন্টুনের সংযোগ সড়কে চলে যায় বাইকের সারি।

বরিশাল থেকে আসা নিজাম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মেয়ের টিকার তারিখ থাকায় আজ দুপুরের মধ্যে ঢাকায় ফেরা খুবই জরুরি। সকাল ৭টায় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এসে জানতে পারি, সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

‘কোনো উপায় না পেয়ে পদ্মা পার হতে মাঝিরঘাটে আসি। এখানে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। ফেরি চলবে কি না কেউ বলতে পারছে না।’

মাদারীপুরে থেকে ফেরি ঘাটে আসা শায়লা সোমা বলেন, ‘রোববার বাইকে স্বামীর সঙ্গে ঢাকা থেকে মাদারীপুর আসি। ফেরি বন্ধ করে দেবে জানলে আসতাম না।

‘সমস্যা হলে ফেরি বন্ধ করুক, তবে আমাদের পারাপারের তো ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা এখন কীভাবে পার হব?’

শরীয়তপুর থেকে ফিরতি পথে বিপাকে ঢাকার বাইকাররা

বিআইডব্লিউটিসির মাঝিরঘাটের সহব্যবস্থাপক জামিল আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হলেও ফেরি ঘাট প্রস্তুত আছে। ঘাটে যানবাহন না থাকায় সব ফেরি শিমুলিয়া ঘাটে নোঙর করে রাখা হয়েছে।

‘সকাল থেকে ঘাটে মোটরসাইকেলের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। আটকা পড়া মোটরসাইকেল আরোহীদের পারাপারের জন্য শিমুলিয়া থেকে একটি ফেরি এনে সব মোটরসাইকেল পারাপারের ব্যবস্থা করা হবে।’

জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায় দায়িত্বে থাকা সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হোসেন মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার সকাল ৬টা থেকে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। তারপরও অনেকে মোটরসাইকেল নিয়ে টোল প্লাজায় ভিড় জমাচ্ছেন।

‘তাদের সবাইকে বিকল্প পথে মাঝিরঘাট-শিমুলিয়া অথবা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ ব্যবহার করে পদ্মা নদী পারাপারের অনুরোধসহ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

মাওয়া প্রান্তেও মোটরসাইকেল নিয়ে ভিড়

একই পরিস্থিতি দেখা গেছে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে। সোমবার সকাল ৭টার দিকে এ প্রান্তে ভিড় জমান অনেক মোটরসাইকেলচালক।

তারা সেতু পার হওয়ার জন্য জোর দাবি জানাতে থাকেন, তবে টোল প্লাজায় দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বাধায় সেতু পার হতে পারেননি তারা।

টোল প্লাজায় দায়িত্বরতরা শরীয়তপুরের মাঝিরকান্দিগামী বাইকচালকদের মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে যেতে বলেন। তাদের কথামতো শিমুলিয়ায় গিয়ে ‘কুঞ্জলতা’ নামের ফেরিতে করে গন্তব্যে রওনা হন বাইকচালকরা।

আরও পড়ুন:
সাঁকোতে সেলফি তুলে ক্যাপশনে পদ্মা সেতু, দুজনকে পিটুনি
বাইজীদের বিরুদ্ধে মামলা বিশেষ ক্ষমতা আইনে, হতে পারে মৃত্যুদণ্ড
সেতুর একই জায়গায় নাট খোলার আরেক ভিডিও ভাইরাল
বিশৃঙ্খলার মধ্যে পদ্মা সেতুতে বাইক নিষিদ্ধ
পদ্মা সেতুতে উঠতে পারছে না সাতক্ষীরার বেশির ভাগ গাড়ি

মন্তব্য

ফলোআপ
Ferry crossing in Kunjalta

নিষেধাজ্ঞার পরও বাইকে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার চেষ্টা

নিষেধাজ্ঞার পরও বাইকে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার চেষ্টা নিষেধাজ্ঞার পরও বাইকে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করছেন মোটরসাইকেলচালকরা। ছবি: নিউজবাংলা
নিষেধাজ্ঞার পর সোমবার সকাল ৭টার দিকে পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে মাওয়া প্রান্তে ভিড় জমান বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেলচালক। তারা সেতু পার হওয়ার জন্য জোর দাবি জানাতে থাকেন, তবে টোল প্লাজায় দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বাধায় সেতু পার হতে পারেননি তারা।

আগে যেতে হুড়াহুড়ি, অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে রোববার রাতে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে সরকার।

ওই ঘোষণার পরও সোমবার সকাল ৭টার দিকে পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে মাওয়া প্রান্তে ভিড় জমান বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেলচালক। তারা সেতু পার হওয়ার জন্য জোর দাবি জানাতে থাকেন, তবে টোল প্লাজায় দায়িত্বরত পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বাধায় সেতু পার হতে পারেননি তারা।

টোল প্লাজায় দায়িত্বরতরা শরীয়তপুরের মাঝিরকান্দিগামী বাইকচালকদের মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে যেতে বলেন। তাদের কথামতো শিমুলিয়ায় গিয়ে ‘কুঞ্জলতা’ নামের ফেরিতে করে গন্তব্যে রওনা হন বাইকচালকরা।

মাওয়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউদ্দিন জিয়া বলেন, “সকালবেলা অনেকে না বুঝে না শুনে মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মার ওপারের যাওয়ার জন্য টোল প্লাজার সামনে আসে। আমরা তাদের বুঝিয়ে বিকল্প পথে জনস্বার্থে ফেরি ‘কুঞ্জলতা’তে করে মাঝিরকান্দার উদ্দেশে পাঠানো হয়, তবে কতসংখ্যক মোটরসাইকেল ছিল, তা বলা মুশকিল।”

মাওয়া প্রান্তে ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার দুপুর ১২টার ঠিক আগে পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ঘোষণা অনুযায়ী পরের দিন ভোর ৬টা থেকে সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয় সেতু।

এর আগে শনিবার রাত থেকেই পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে টোল প্লাজার সামনে ভিড় করে বিপুলসংখ্যক গাড়ি। এর বেশিরভাগই ছিল মোটরসাইকেল।

সেতুতে যান চলাচল শুরু হলে মোটরসাইকেলচালকরা নানা বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মে জড়ান। তাদের কেউ কেউ রেলিংয়ে বসে ছবি তোলেন। বাইজীদ নামের এক বাইকার রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে ফেলেন। এ সংক্রান্ত টিকটক ভিডিও ভাইরাল হলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এমন বাস্তবতায় রোববার রাতে সেতুতে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই নিষেধাজ্ঞা সোমবার ভোর ছয়টা থেকে কার্যকর হয়।

নিষেধাজ্ঞার পরও রাতে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজনের প্রাণহানি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সেতুর একই জায়গায় নাট খোলার আরেক ভিডিও ভাইরাল
বিশৃঙ্খলার মধ্যে পদ্মা সেতুতে বাইক নিষিদ্ধ
পদ্মা সেতুতে উঠতে পারছে না সাতক্ষীরার বেশির ভাগ গাড়ি
পদ্মা সেতুতে দুর্ঘটনায় দুই বাইকারের মৃত্যু
পদ্মা সেতুতে নাট খোলা বাইজীদ পটুয়াখালীর, করতেন ছাত্রদল

মন্তব্য

ফলোআপ
Motorcycle ban Impact on toll plazas

বাইকে নিষেধাজ্ঞা: গাড়ির চাপ কম পদ্মা সেতুতে

বাইকে নিষেধাজ্ঞা: গাড়ির চাপ কম পদ্মা সেতুতে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব দেখা গেছে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজায়। ছবি: নিউজবাংলা
সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই সেতুতে বাইক চলতে দেয়া হচ্ছে না। সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী টহল জোরদার করেছে। এ জন্য যানবাহন গতকালের চেয়ে কিছুটা কম পার হচ্ছে।’

দিনভর বিশৃঙ্খলার মধ্যে রোববার রাতে পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচলে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার।

ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে; চলছে না বাইক। ফলে সেতুর মাওয়া প্রান্তে টোল প্লাজায় যানবাহন কম দেখা গেছে।

শনিবার পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য সেতু উন্মুক্ত করে দেয়া হয় রোববার সকাল ৬টা থেকে।

সবার আগে সেতু পার হওয়ার প্রবণতায় আগের রাত থেকেই হাজার হাজার যানবাহন জড়ো হতে থাকে মাওয়া প্রান্তে। এসব গাড়ির বড় অংশ ছিল মোটরসাইকেল।

মোটরসাইকেলের চাপে সেতুর টোল প্লাজার সামনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সবার আগে সেতু পার হওয়ার প্রবণতায় বাইকচালকরা বিশৃৃঙ্খলা শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সামাল দিতে হিমশিম খান।

টোল দিয়ে সেতুতে উঠে বাইকাররা যেন পাগলা ঘোড়া হয়ে যান। রোববার রাতে দুর্ঘটনাও ঘটে, যাতে প্রাণ যায় দুই বাইক আরোহীর।

এমন পরিস্থিতিতে সকালে উন্মুক্ত করে দেয়ার পর রাতে সেতুতে বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আসে সরকারের তরফ থেকে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে রোববারের তুলনায় সোমবার সকালে যানবাহন কম দেখা গেছে। বাসের সংখ্যাও ছিল বেশ কম।

এদিকে রোববারের দুর্ঘটনার পর থেকে সেতু কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে। টোল প্লাজা এলাকায় টহলও বেড়েছে।

বাংলাদেশ সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকাল থেকেই সেতুতে বাইক চলতে দেয়া হচ্ছে না। সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী টহল জোরদার করেছে। এ জন্য যানবাহন গতকালের চেয়ে কিছুটা কম পার হচ্ছে।’

সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজার ব্যবস্থাপক হাসিবুল হামিদুল হক বলেন, ‘রোববার যে ব্যারিয়ারটি ভেঙে গিয়েছিল, সেটা ঠিক হয়ে গেছে। গতকালের চাইতে আজকে গাড়ির চাপ কম।

‘মোটরসাইকেল যেহেতু বন্ধ রয়েছে, তার জন্য চাপ অনেকটা কমে গেছে। আসলে আমাদের একটা আবেগের ব্যাপার, যার জন্য গতকাল এই চাপ দিচ্ছিল। আর দুর্ঘটনা ব্যাপারটা আমরা আপনাদের থেকে শুনেছি।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতুতে উঠতে পারছে না সাতক্ষীরার বেশির ভাগ গাড়ি
পদ্মা সেতুতে দুর্ঘটনায় দুই বাইকারের মৃত্যু
পদ্মা সেতুতে নাট খোলা বাইজীদ পটুয়াখালীর, করতেন ছাত্রদল
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ৮ মিনিট বন্ধ পদ্মা সেতুর টোল আদায়
পদ্মা সেতু: যাতায়াত শুরু হলেও পণ্য পরিবহনে নেই সুফল

মন্তব্য

ফলোআপ
Baijid Patuakhali used to open nuts on Padma bridge

পদ্মা সেতুতে নাট খোলা বাইজীদ পটুয়াখালীর, করতেন ছাত্রদল

পদ্মা সেতুতে নাট খোলা বাইজীদ পটুয়াখালীর, করতেন ছাত্রদল পদ্মা সেতুতে উঠে রেলিংয়ের নাট খুলে টিকটক ভিডিও বানান বাইজীদ। ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালী বিএনপিসংশ্লিষ্ট কয়েক নেতা জানান, বাইজীদ অতীতে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সা‌বেক সভাপ‌তি গাজী আশফাকুর রহমান বিপ্লবের সময়ে বিএন‌পি ও ছাত্রদ‌লের মি‌ছিল-মি‌টিং‌য়ে নিয়মিত অংশ নিতেন তিনি। 

পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলে নিয়ে টিকটক ভিডিও করা যুবক বাইজীদ তালহার বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার তেলীখালী গ্রামে। টিকটকে তিনি বায়েজীদ তালহা নামে পরিচিত হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম মো. বাইজীদ।

একসময়ের ছাত্রদলকর্মী বাইজীদ বর্তমানে ঢাকায় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও পটুয়াখালী বিএনপিসংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, বাইজীদ অতীতে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সা‌বেক সভাপ‌তি গাজী আশফাকুর রহমান বিপ্লবের সময়ে বিএন‌পি ও ছাত্রদ‌লের মি‌ছিল-মি‌টিং‌য়ে নিয়মিত অংশ নিতেন তিনি।

পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দ‌লের একা‌ধিক নেতা এসব তথ্য নিউজবাংলাকে নি‌শ্চিত ক‌রে‌ন। বাইজীদ জেলা স্বেচ্ছা‌সেবক দ‌লের সাধারণ সম্পাদক এনা‌য়েত হো‌সেন মোহ‌নের নিকটাত্মীয় বলেও দাবি করছেন তারা।

তবে মোহনের দাবি, বাইজীদ তার আত্মীয় নন। তিনি (বাইজীদ) জেলা ছাত্রদলের সা‌বেক সভাপ‌তি গাজী আশফাকুর রহমান বিপ্লবের অনুসারী ছিলেন। বিপ্লব এখন যুবদল করেন।

জেলা ছাত্রদ‌লের এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় মোহ‌নের সঙ্গেও বাইজীদ রাজনী‌তি ক‌রে‌ছেন। ত‌বে তার কোনো সংগঠনিক পদ ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বাইজীদ ঢাকায় চ‌লে যান। সেখানে তিনি এখন ব্যবসায় জড়িত।

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল-হেলাল নয়ন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাইজীদ আগে পটুয়াখালীতে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে তিনি অনেকদিন ধরে এলাকায় নাই। এখন ঢাকায় রাজনীতি ক‌রেন কিনা তা জা‌নি না। ব্যক্তির অন্যায় অপরাধ দল কখনই দায় নেবে না।’

বাইজীদকে রাজধানীর শান্তিনগর থেকে রোববার সন্ধ্যার দিকে আটক করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

সিআইডির সাইবার ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ নিউজবাংলাকে বাইজীদকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘আটকের পর তাকে সিআইডি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেখানে একাধিক ইউনিটের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে কথা বলছেন।’

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, বাইজীদের বাড়ি পটুয়াখালী হলেও তিনি ঢাকার শান্তিনগরে থাকেন। পদ্মা সেতুতে নাট খোলার বিষয়টি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, বাইজীদ পদ্মা সেতুতে ওই টিকটক ভিডিও বানানোর পর নিজের টিকটক প্রোফাইলে পোস্ট করেন। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পরে তিনি ভিডিওটি মুছে ফেলেন। একই সঙ্গে নিজের ফেসবুক প্রোফাইল ডিঅ্যাকটিভেট করে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে তাকে শান্তিনগরের বাসা থেকে আটক করে সিআইডি।

শনিবার পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ উঠে পড়েন মূল সেতুতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরে তাদের সরিয়ে দেন। পরদিন সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার পর দিনের বিভিন্ন সময়ে বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। এরই ফাঁকে আলোচিত ভিডিওটি করেন বাইজীদ।

৩৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুবক সেতুর রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে দুটি বল্টুর নাট খুলছেন। যিনি ভিডিও করছিলেন তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এই লুজ দেহি, লুজ নাট, আমি একটা ভিডিও করতেছি, দেহ।'

নাট হাতে নিয়ে জবাবে বাইজীদ বলেন, ‘এই হলো পদ্মা সেতু আমাদের... পদ্মা সেতু। দেখো আমাদের হাজার হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু। এই নাট খুইলা এহন আমার হাতে।’

এ সময় পাশ থেকে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘ভাইরাল কইরা ফালায়েন না।’

ভিডিওটি বাইজীদের টিকটক অ্যাকাউন্টে আপলোড করার পর ফেসবুকেও সেটি ভাইরাল হয়। তবে রোববার বিকেলে এই অ্যাকাউন্টে ‘প্রাইভেট’ করা অবস্থায় দেখা গেছে।

সাধারণের জন্য খুলে দেয়ার পর পদ্মা সেতুতে রোববার দিনভর গণপরিবহন ছাড়া অন্য প্রায় সব গাড়িকে সেতুতে থামাতে দেখা যায়। কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটাহাঁটির পাশাপাশি তুলেছেন ছবি।

মাইক্রোবাস ভাড়া করে পরিবার নিয়ে পদ্মা সেতু দেখতে আসেন তোফাজ্জল হোসেন। গাড়িটি দাঁড় করিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে পরিবারের ১৪ সদস্য সেতু ঘুরে দেখেন; তোলেন দলবদ্ধ ছবি।

নিউজবাংলাকে তোফাজ্জল বলেন, ‘যেদিন সেতু উদ্বোধনের ঘোষণা দিয়েছে, আমরা সেদিনই ঠিক করেছি প্রথম দিনই সেতু দেখতে আসব। এ জন্য আমার মা, খালা, ফুপুসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। সারা দিন ঘুরে আবার কুমিল্লা ফিরে যাব।’

নিয়ম ভাঙার প্রসঙ্গ টানলে তিনি বলেন, ‘দেখেন আমরা তো কত অনিয়মই করি। এতদিনের ইচ্ছা স্বপ্নের সেতুতে এসে দাঁড়াব। নিজের স্বপ্নপূরণে একটু অনিয়ম করা দোষের কিছু না।’

আরও পড়ুন:
২ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে বরিশাল থেকে ঢাকা
পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে এক্সপ্রেসওয়েতে যানের চাপ
যাত্রীচাপ কম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায়
পদ্মা সেতুমুখী সড়কে চাপ: যানজটে নাকাল শরীয়তপুরবাসী
প্রথম বাসে চড়তে টিকিট সংগ্রহ ৩ দিন আগে

মন্তব্য

ফলোআপ
Even after the opening of the Padma Bridge the short distance passengers are suffering

তবুও দুর্ভোগে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা

তবুও দুর্ভোগে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকামুখী দূরপাল্লার কোনো বাসে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী না তোলায় দুর্ভোগে পড়েছেন ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা
ফরিদপুর ভাঙার বাসিন্দা কামরুল হাসান রোববার সকালে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এসেছেন। কিন্তু ঢাকা যাওয়ার জন্য কোনো বাসে উঠতে পারছেন না। ভাঙা থেকে যেসব বাস এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সেতু পার হচ্ছে তার সবই দূরপাল্লার (চেয়ারকোচ)। এসব বাসে স্বল্প দূরত্বের কোনো যাত্রী তোলা হচ্ছে না। এদিকে লোকাল কোনো বাস সার্ভিসও নেই, এতে করে স্থানীয়রা পড়েছেন দুর্ভোগে।

পদ্মা সেতু চালুর প্রথম দিনে দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকামুখী দূরপাল্লার কোনো বাসে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী না তোলায় দুর্ভোগে পড়েছেন ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফরিদপুর ভাঙার বাসিন্দা কামরুল হাসান রোববার সকালে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এসেছেন। কিন্তু ঢাকা যাওয়ার জন্য কোনো বাসে উঠতে পারছেন না। ভাঙা থেকে যেসব বাস এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সেতু পার হচ্ছে তার সবই দূরপাল্লার (চেয়ার কোচ)।

এসব বাসে স্বল্প দূরত্বের কোনো যাত্রী তোলা হচ্ছে না। এদিকে লোকাল কোনো বাস সার্ভিসও নেই। এতে করে স্থানীয়রা পড়েছেন দুর্ভোগে। ভিড় বেড়েছে জাজিরা টোল প্লাজায়। বাসে উঠতে না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

তবুও দুর্ভোগে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা

ফরিদপুর, মাদারীপুর থেকে অনেকে রোববার সকালে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় এসে ঢাকামুখী দূরপাল্লার কোনো বাসে উঠতে পারছেন না। এতে করে স্থানীয়রা পড়েছেন দুর্ভোগে। ছবি: নিউজবাংলা

রোববার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে টোল প্লাজায় ফি নিয়ে সেতুতে গাড়ি ছাড়া হয়। একের পর এক গাড়ি সেতু পার হয়। কিন্তু কোনো গাড়িতে উঠতে পারছেন না স্থানীয়রা। শতাধিক মানুষের ভিড় জমে যায় টোল প্লাজার সামনে। এতে বিপাকে পড়েন টোল প্লাজার দায়িত্বে থাকা টেলিটেল কমিউনিকেশনের কর্মীরা। সড়ক থেকে এই ভিড় সরাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

ঢাকার কোনো গাড়িতে উঠতে না পেরে হতাশ মাদারীপুরের শিবচরের বাসিন্দা শিমুল। সেতুতে গাড়ি চালুর পর ঢাকায় যেতে চেয়েও পারছেন না তিনি। শিমুল বলেন, ‘কোনো গাড়িই নিচ্ছে না। এখন যাব কীভাবে?’

শনিবার খুলনা থেকে এসেছেন শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ী বেল্লাল শেখ। কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ফেরি বন্ধ থাকায় তিনি গতকাল পদ্মা পার হতে পারেননি। রোববার সকালে সেতু চালুর পর বাসে সেতু পার হতে পারবেন ভেবে জাজিরা টোল প্লাজায় এসেছেন তিনি। অন্য সবার মতো তারও একই অবস্থা। দাঁড়িয়ে আছেন বাসে ওঠার আশায়।

ভিড় সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে টোল প্লাজার দায়িত্বে থাকা টেলিটেল কমিউনিকেশনের কর্মীরা। প্রতিষ্ঠানটির ইঞ্জিনিয়ার জিবুল আক্তার।

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় দাঁড়ানো নিষেধ। এখন প্রচুর মানুষ আসছে বাসে ওঠার জন্য। কিন্তু আমাদের হাতে তো এর কিছুই নেই। তাদের সড়কের পাশ থেকে সরানোর চেষ্টা করছি।’

ভায়াডাক্টসহ ৯ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুটির টোল আদায় কার্যক্রম দ্রুতগতি করতে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের দুটি টোল প্লাজায় বসানো হয়েছে সাতটি করে মোট ১৪টি গেট।

যান চলাচলে সেতুটি খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই প্রান্তের ১৪টি টোল গেট চালু হয়ে গেছে। সব কটি গেটে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর টোল

গত ১৭ মে পদ্মা সেতুর টোল হার প্রকাশ করে সরকার। সে হিসাবে এই সেতু পাড়ি দিতে মোটরসাইকেলকে দিতে হবে ১০০ টাকা।

প্রাইভেট কার ও সাধারণ জিপে টোল ঠিক করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। পিকআপ ও বিলাসবহুল জিপ পারাপারে টোল ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা।

মাইক্রোবাস পারাপারে সেতুর টোল ১ হাজার ৩০০ টাকা। ৩১ বা এর কম আসনের ছোট বাসের জন্য দিতে হবে ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাঝারি বাসের টোল ২ হাজার টাকা। বড় বাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

পাঁচ টনের ট্রাক এই সেতু পাড়ি দিলে গুনতে হবে ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাঁচ টন থেকে আট টনের মাঝারি ট্রাকের জন্য দিতে হবে ২ হাজার ১০০ টাকা। আট টন থেকে ১১ টনের মাঝারি ট্রাকের টোল ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

থ্রি এক্সেলের ট্রাক পারাপারে টোল ঠিক করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। মালবাহী ট্রেইলারের (চার এক্সেল) টোল ৬ হাজার টাকা। চার এক্সেলের ওপরে মালবাহী ট্রেইলারের জন্য প্রতি এক্সেলে দেড় হাজার টাকা যোগ হবে।

বর্তমানে ফেরিতে নদী পারাপারে যে হারে মাশুল দিতে হয়, সেতুতে তা দেড় গুণ বা আশপাশে বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাকা-খুলনা রুটে বেড়েছে গণপরিবহন, উচ্ছ্বসিত যাত্রীরা
‘জীবন ধন্য হয়ে গেছে’
জাজিরা প্রান্ত দিয়ে প্রথম ছেড়ে যায় নাজমুস সাকিবের বাইক
পদ্মা সেতুতে প্রথম
আগে সেতুতে ওঠার চেষ্টায় মাওয়া প্রান্তে বিশৃঙ্খলা

মন্তব্য

ফলোআপ
Nazmus Shakibs bike was the first to leave with the edge of Jazira

জাজিরা প্রান্ত দিয়ে প্রথম ছেড়ে যায় নাজমুস সাকিবের বাইক

জাজিরা প্রান্ত দিয়ে প্রথম ছেড়ে যায় নাজমুস সাকিবের বাইক জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পদ্মা সেতু প্রথম পাড়ি দিল ফরিদপুরের নাজমুস সাকিবের মোটরসাইকেল। ছবি: নিউজবাংলা
পদ্মা পাড়ি দিতে যাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময় বলেন, ‘এই ব্রিজের স্বপ্ন আমাদের পূর্বপুরুষরা দেখে গেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের উপহার দিয়েছেন। আমিতো বাগেরহাট থেকে আসছি, দেড় ঘণ্টার মধ্যে এখানে চলে আসছি। দেখি কতক্ষণ লাগে সেতু পার হতে। এই আবেগের কথা বুঝানোর ভাষা নেই। আমি নিজে গাড়ি চালাচ্ছি, ব্রিজে গাড়ি চালাতে চাই, দেখতে চাই। আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই।’

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয় শনিবার। অপেক্ষা ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়ার। সেই অপেক্ষায় অবসান ঘটিয়ে রোববার ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে জাজিরা প্রান্ত থেকে পদ্মা সেতুর দুয়ার খুলে দেয়া হয়।

নির্ধারিত টোল পরিশোধ করে প্রথম গাড়ি হিসেবে ছেড়ে যায় ফরিদপুরের বাসিন্দা নাজমুস সাকিবের মোটরসাইকেল। এরপর একে একে প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ অনুমোদিত যানগুলো টোলপ্লাজা পেরিয়ে মাওয়া প্রান্তের দিকে ছুটে চলেছে।

রোববার সকালে আলো ফোটার আগেই জাজিরাপ্রান্তে টোল প্লাজার সামনে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে যানবাহনের। গাড়ি নিয়ে কেউ এসেছে শখে, কেউ প্রয়োজনে।

আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়ার পর বাইক নিয়ে সেতু পার হতে ভোর সাড়ে ৪টায় জাজিরাপ্রান্তের টোল প্লাজায় এসে হাজির হন ফরিদপুরের বাসিন্দা নাজমুস সাকিব।

তিনি বলেন, ‘আমার টার্গেট ছিল প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সেতু পার হবো। খবরে জানছিলাম, সকাল ৬টায় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা খুলে দিবে, সেজন্য মাঝরাত থেকে এখানে এসে অপেক্ষা করছি।’

সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রথমবার সেতু দিয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দিতে খুব সকালে আসেন বাগেরহাট-২ (সদর-কচুয়া) আসনের সংসদ সদস্য শেখ সারহান নাসের তন্ময়। বাগেরহাট থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে টোল প্লাজায় এসে হাজির হন এই তরুণ সাংসদ।

পদ্মা পাড়ি দিতে যাওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ব্রিজের স্বপ্ন আমাদের পূর্বপুরুষরা দেখে গেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের উপহার দিয়েছেন। আমিতো বাগেরহাট থেকে আসছি, দেড় ঘণ্টার মধ্যে এখানে চলে আসছি। দেখি কতক্ষণ লাগে সেতু পার হতে। এই আবেগের কথা বুঝানোর ভাষা নেই। আমি নিজে গাড়ি চালাচ্ছি, ব্রিজে গাড়ি চালাতে চাই, দেখতে চাই। আমাদের এই অঞ্চলের মানুষের চাওয়া পাওয়ার আর কিছু নাই।’

রোগী নিয়ে সেতু পাড়ি দিতে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ভীষণ খুশি। ফরিদপুরের ভাঙা থেকে রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে যাচ্ছেন চালক তানভীর হাসান।

তিনি বলেন, ‘আগে ৬-৭ ঘণ্টা লেগে যাইতো ফেরির কারণে। চোখের সামনে গাড়িতে মানুষ মারা যাইতে দেখছি, এই দৃশ্য দেখার কষ্ট অনেক। আজকে পাঁচ মিনিটে পার হয়ে যেতে পারবো, এর চেয়ে খুশির কিছু নেই।’

সব গাড়ি নিয়ে পার হতে পারলেও অনুমোদিত না পাওয়ায় সেতু পাড়ি দিতে পারেননি খুলনার কয়রার বাসিন্দা মিনারুল ইসলাম। তিনি অটোরিক্সায় নৌকার আদলে কাঠামো তৈরি করেন। ঢাকায় বসবাস করা এই ব্যক্তি নৌকার আদলে গাড়ি নিয়ে সমাবেশে এসেছিলেন, দিনভর ছিলেন কাঁঠালবাড়ী এলাকায়। আজ সেতু পাড়ি দেয়ার ইচ্ছে ছিল তার। কিন্তু টোলপ্লাজায় তার গাড়ি আটকে দেয়া হয়েছে।

মিনারুল বলেন, ‘কত শখ করে নৌকার মতো গাড়ি বানাইছি। টোলও দিছি কিন্তু যাইতে দিচ্ছে না।’

টোলপ্লাজায় দায়িত্বে থাকা একজন কর্মী জানান,’ উনার গাড়ি অনুমোদিত নয়, আমাদের কোনো ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে না। যে কারণে আমরা উনাকে যেতে দিতে পারছি না।’

সকাল ৫টা ৫০ থেকে ৭টা পর্যন্ত কয়েকশ মোটরসাইকেল জাজিরাপ্রান্ত থেকে টোল পরিশোধ করে পদ্মা সেতুতে উঠে। তাদের অধিকাংশ হেলমেট ব্যবহার করেননি। কোনো মোটরসাইকেলে চালক-আরোহী দুজনেরই হেলমেট নেই, কোনোটাতে চালকের আছে আরোহীর নেই।

জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজায় সেনাবাহিনী, র‍্যাব, টোল কর্তৃপক্ষ থাকলেও যাত্রী ও চালকের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার এই বিষয়গুলো দেখার কেউ নেই।

ভায়াডাক্টসহ ৯ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতুটির টোল আদায় কার্যক্রম দ্রুতগতি করতে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের দুটি টোলপ্লাজায় বসানো হয়েছে সাতটি করে মোট ১৪টি গেট।

যান চলাচলে সেতুটি খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই প্রান্তের ১৪টি টোল গেট চালু হয়ে গেছে। সব কটি গেটে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

পদ্মা সেতুর টোল

গত ১৭ মে পদ্মা সেতুর টোল হার প্রকাশ করে সরকার। সে হিসাবে এই সেতু পাড়ি দিতে মোটরসাইকেলকে দিতে হবে ১০০ টাকা।

প্রাইভেট কার ও সাধারণ জিপে টোল ঠিক করা হয়েছে ৭৫০ টাকা। পিকআপ ও বিলাসবহুল জিপ পারাপারে টোল ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা।

মাইক্রোবাস পারাপারে সেতুর টোল ১ হাজার ৩০০ টাকা। ৩১ বা এর কম আসনের ছোট বাসের জন্য দিতে হবে ১ হাজার ৪০০ টাকা। মাঝারি বাসের টোল ২ হাজার টাকা। বড় বাসে ২ হাজার ৪০০ টাকা।

পাঁচ টনের ট্রাক এই সেতু পাড়ি দিলে গুনতে হবে ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাঁচ টন থেকে আট টনের মাঝারি ট্রাকের জন্য দিতে হবে ২ হাজার ১০০ টাকা। আট টন থেকে ১১ টনের মাঝারি ট্রাকের টোল ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

থ্রি এক্সেলের ট্রাক পারাপারে টোল ঠিক করা হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। মালবাহী ট্রেইলারের (চার এক্সেল) টোল ৬ হাজার টাকা। চার এক্সেলের ওপরে মালবাহী ট্রেইলারের জন্য প্রতি এক্সেলে দেড় হাজার টাকা যোগ হবে।

বর্তমানে ফেরিতে নদী পারাপারে যে হারে মাশুল দিতে হয়, সেতুতে তা দেড় গুণ বা আশপাশে বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আগে সেতুতে ওঠার চেষ্টায় মাওয়া প্রান্তে বিশৃঙ্খলা
পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে যানের দীর্ঘ সারি
পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে উচ্ছ্বাস
‘কালের সাক্ষী হয়ে রইলাম’
‘এটা স্বপ্নযাত্রা, স্বপ্নের ভেতরে আছি’

মন্তব্য

p
উপরে