‘ইউএনওকে ছাড় দিয়েছে তদন্ত কমিটি’

গত ২০ মে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে খাদ্য চাওয়ার দুই দিন পর নিজেই ত্রাণ বিতরণে বাধ্য হয়ে বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ী ফরিদ আহমেদ। ফাইল ছবি

‘ইউএনওকে ছাড় দিয়েছে তদন্ত কমিটি’

‘নারায়ণগঞ্জে করোনার কারণে বিপাকে পড়া ব্যবসায়ীর সহায়তা চাওয়ার পর ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করার ঘটনা অত্যন্ত আলোচিত। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন রাতে জমা দেয়া হলো। আমরা ফরিদের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না তাই তদন্ত আরও পরিস্কার হওয়া প্রয়োজন ছিল, আরও নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন ছিল।’ 

নারায়ণগঞ্জে করোনার কারণে বিপাকে পড়া ব্যবসায়ীর সহায়তা চাওয়ার পর ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করার ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরাকে ছাড় দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন নাগরিক কমিটির নেতারা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল নিউজবাংলাকে বলেন, তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষ তদন্ত করেনি। কারণ ইউএনও সরাসরি ফরিদের বাড়িতে গিয়ে তাকে জরিমানা করেছেন। মেম্বার ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে তাকে দোষী করা হয়েছে। কিন্তু ইএনওকে নয়। আমরা মনে করি, তদন্ত কমিটি ইউএনওকে ছাড় দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দিপু নিউজবাংলাকে বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা যদি নিজেরাই তাদের তদন্ত করে তাহলে তাদের কাছে আমরা আর কী আশা করতে পারি।

‘এটি একটি আলোচিত ঘটনা। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন রাতে জমা দেয়া হলো। আমরা ফরিদের ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না তাই তদন্ত আরও পরিস্কার হওয়া প্রয়োজন ছিল, আরও নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন ছিল।’

গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম ব্যাপারী।

প্রতিবেদনে বিপাকে পড়া ব্যবসায়ী খাদ্য সহায়তা চেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর তাকে ১০০ জনকে ত্রাণ বিতরণে ইউএনওর বাধ্য করার ঘটনায় ইউএনওকে দোষী নয় সতর্ক করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে স্থানীয় মেম্বারের ভুল তথ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

যা ঘটেছিল

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের দেওভোগ নাগবাড়ি এলাকার ফরিদ আহমেদ গত ২০ মে খাদ্য-সহায়তা চেয়ে ৩৩৩ নম্বরে কল দেন।

খাবার নিয়ে আসেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, অফিস সহকারী কামরুল ইসলাম। পরে তারা ভবন দেখে ফোন দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা আসেন ঘটনাস্থলে। দেন শাস্তির ঘোষণা।

জানান, সরকার প্রতি প্যাকেটে যে পরিমাণ খাবার দেয় দুস্থদের, সেই পরিমাণ খাবারসহ ১০০ প্যাকেট করে বিতরণ করতে হবে।

নির্দেশমতো শনিবার বিকেলে ফরিদ আহমেদ সেই খাবার বিতরণও করেন। আর সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও স্বয়ং।

ঘটনাস্থলে গিয়ে ফরিদের জীবনের কাহিনি জেনেছে নিউজবাংলা। কিন্তু জানেননি ইউএনও।

‘ইউএনওকে ছাড় দিয়েছে তদন্ত কমিটি’
ফরিদ আহমেদকে টাকা তুলে দেয়ার ঘটনাতেও লুকোচুরি করেছে প্রশাসন। নিজেরা না গিয়ে টাকা দেয়া হয় স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির এই নেতাকে দিয়ে

ফরিদ থাকেন চারতলা বাড়িতে, গেঞ্জি কারখানাও আছে। এটুকু সত্য। কিন্তু এর পেছনে আরও অনেক কাহিনি আছে।

সেই কারখানা বন্ধ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। পরে সংসার চালাতে সেই ব্যক্তি কাজ নিয়েছেন আরেক কারখানায়, কিন্তু চোখের সমস্যায় সেই কাজও করতে পারেন না। সংসারের আয় নেই। আর তিনি যে বাসায় থাকেন, সেটি তাদের ছয় ভাই-বোনের। নিজের অংশ কমই।

এসব কথা না জেনেই ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে খাদ্য চাওয়ায় কেবল বাড়ি দেখে আর কারখানা থাকার খবর শুনে তাকে ১০০ জনকে খাবার বিতরণে বাধ্য করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফা জহুরা।

সেদিন নিউজবাংলা প্রকাশ করে ‘ত্রাণ সত্যিই দরকার ছিল ফরিদের, ভুল ইউএনওর’ শিরোনামে সংবাদ।

তোলপাড় হলে পরদিন ফরিদ আহমেদের বাড়িতে একে একে বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন গিয়ে তার জীবনের কাহিনি শুনে আসেন। সেদিন বিকেলের দিকে চুপি চুপি ফরিদকে টাকা ফেরত দেয়া হয়।

এই টাকা ফরিদের হাতে তুলে দিয়েছেন দেওভোগ নাগবাড়ি পঞ্চায়েত কমিটির উপদেষ্টা সাহিনুর আলম।

গণমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেছেন, এই টাকা তিনি নিজে দিয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ নিশ্চিত করেছেন, টাকা দেয়া হয়েছে প্রশাসনের তহবিল থেকে।



আরও পড়ুন:
ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

হাসপাতাল কর্মচারীদের মারধরের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রেজওয়ানুল রিয়াদ। ছবি: নিউজবাংলা

রেজওয়ানুল রিয়াদ বলেন, ‘আমি বাম কানে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। এটা নিয়ে ডাক্তারকে প্রশ্ন করলে তারা বলেছেন, তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। এজন্য চারটা পরীক্ষা দিয়েছে, পরীক্ষাগুলো ঢাকায় করাতে বলেছেন তারা।’

অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারীদের মারধরে

গুরুতর আহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম বাম কানে শুনতে পাচ্ছেন না।

শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেজওয়ানুল রিয়াদ বলেন, ‘আমি বাম কানে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। এটা নিয়ে ডাক্তারকে প্রশ্ন করলে তারা বলেছেন, তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। এজন্য চারটা পরীক্ষা দিয়েছে, পরীক্ষাগুলো ঢাকায় করাতে বলেছেন তারা।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের ডান হাতটা ভেঙেছে। তাকেও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম রিয়াদ ও তার ছোটভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ করিম।

এ সময় ভর্তির ৩০ টাকার বদলে ১০০ টাকা নেন হাসপাতালের কর্মচারীরা। রিয়াদ এই টাকার রশিদ চাইলে তাকে মারধর করেন তারা। রিয়াদকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হামলার শিকার হন তার ছোট ভাই রাশেদও।

রিয়াদ ও রাশেদ বর্তমানে ওই হাসপাতালেরই সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসপাতালের কর্মচারী উদয় ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার বিকালে ক্যাম্পাস সংলগ্ন পার্কের মোড়ে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার রাত পৌনে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ।

তিনি বলেন, ‘এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রেজওয়ানের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। মামলা করব কিনা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। আগে ছেলেরা সুস্থ্ হোক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসি। মামলা করলে তো তারা আমাদের ছাড়বে না। আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ইতোমধ্যে যে অভিযুক্ত উদয়ের বাবা কয়েক দফা মাফ চেয়েছেন। আমরা বলেছি, বিষয়টি আমরা পরে দেখব। এখন ভিকটিম যদি মামলা করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ওই ছাত্রদের যাতে চিকিৎসার কোনো ধরনের ত্রুটি না হয় সেটি আমরা নিশ্চিত করেছি।’

রংপুর মেডিক্যালের পরিচালক ডা. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করব। আমাদের কোনো স্টাফ অপরাধী হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’

শেয়ার করুন

গাড়িচাপায় এএসআই নিহত: ৪০ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

গাড়িচাপায় এএসআই নিহত: ৪০ ঘণ্টায়ও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

নিহত এএসআই সালাহ উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি (তদন্ত) রাজেশ বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছি। আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এটা নিশ্চিত যে ওরা বাঁচার জন্যই গাড়ি দিয়ে এএসআই সালাহ উদ্দিন ও কনস্টেবল মাসুমকে ধাক্কা দিয়েছিলো। তবুও আমরা প্রাসঙ্গিক সব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এগুনোর চেষ্টা করছি।’

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা এলাকায় মাইক্রোবাসের চাপায় সালাহ উদ্দিন নামের পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক নিহত হওয়ার ৪০ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, আমাদের একাধিক টিম দোষীদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে।’

শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় একটি মাইক্রোবাসের চাপায় নিহত হন এএসআই সালাহ উদ্দিন। এসময় আহত কনস্টেবল মো. মাসুম নামের। পুলিশ বলছে, মাইক্রোবাসটিতে মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল।

চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) রাজেশ বড়ুয়া বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজগুলো সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছি। আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এটা নিশ্চিত যে ওরা বাঁচার জন্যই গাড়ি দিয়ে এএসআই সালাহ উদ্দিন ও কনস্টেবল মাসুমকে ধাক্কা দিয়েছিলো। তবুও আমরা প্রাসঙ্গিক সব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এগুনোর চেষ্টা করছি।’

চান্দগাঁও থানার ওসি মোস্তাফিজুর জানান, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পার্বত্য এলাকা থেকে চোলাই মদবাহী একটি কালো মাইক্রোবাস চট্টগ্রাম শহরের দিকে আসছে বলে জানতে পারেন এসআই সালাহ উদ্দিন।

কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার মেহেরাজখানঘাটা পেট্রোল পাম্পের সামন মাইক্রোবাসটিকে থামার সংকেত দিলে গাড়িটি গতি কমিয়ে আনে।

এ সময় গাড়িটি থেমেছে ভেবে এএসআই সালাহ উদ্দিন ও চালক মাসুম মাইক্রোবাসটির কাছে গেলে গাড়িটি গতি বাড়িয়ে দুইজনকে চাপা দেয়। আহত দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সালাহ উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, বিষয়টি জানতে পেরে ওই মোবাইল টিমের অফিসার এসআই রফিকুল ইসলাম ফোর্সসহ গাড়িটিকে তাড়া করেন।

নগরীর এক কিলোমিটার এলাকায় গাড়িটি থামিয়ে গাড়ির চালকসহ অন্যরা পালিয়ে যান৷ পরে পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে। ওই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৭০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় ওইদিন বিকেলে চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন।

মামলার বিষয়ে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার বিকেলে এসআই আমির হোসেন একটি হত্যা ও আরেকটি মাদক মামলা করেছেন। দুই মামলাতেই অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’

শেয়ার করুন

‘সিরিয়াফেরত জঙ্গি’ ৩ দিনের রিমান্ডে

‘সিরিয়াফেরত জঙ্গি’ ৩ দিনের রিমান্ডে

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান জানান, সাখাওয়াতের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিনদিন দিয়েছে। তাকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ‘সিরিয়াফেরত জঙ্গির’ তিনদিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেছে আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হোসেন মো. রেজার আদালত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সাখাওয়াত আলীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান নিউজবাংলাকে জানান, সাখাওয়াতের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। তাকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) আবছার উদ্দিন রুবেল জানান, ২০১২ সালে ভায়রাভাই আরিফ মামুনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে যোগ দেন সাখাওয়াত। ওই সংগঠনের নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ অন্যদের মাধ্যমে জিহাদি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে সাখাওয়াত তুরস্কে যান। সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গিনেতা হায়াত তাহরির আশরাকের কাছ থেকে ভারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। সিরিয়ার ইদলিব এলাকায় প্রায় ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

পরে সিরিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ায় আসেন। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে আবার ইন্দোনেশিয়ায় যান। চলতি বছর মার্চে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এ সময় তার কাছ থেকে নিষিদ্ধঘোষিত বই ও নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।

আটকের পর শুক্রবার রাতেই এসআই রাছিব তার বিরুদ্ধে খুলশী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

আবছার উদ্দিন রুবেল বলেন, ‘আমরা আদালতে বলেছি, যদি তাকে রিমান্ডে নেয়া যায় তাহলে তার কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাবে এবং এই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের আরও সক্রিয় কর্মী যারা আছেন তাদেরকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হবে পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’

শেয়ার করুন

কবরস্থানে গোলাগুলি, ২৪ ঘণ্টা পরও গ্রেপ্তার নেই কেউ

কবরস্থানে গোলাগুলি, ২৪ ঘণ্টা পরও গ্রেপ্তার নেই কেউ

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় কবরস্থানে সাইনবোর্ড দেয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ।

এ ঘটনায় শনিবার সকাল ১১টার দিকে বাকলিয়া থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় ২১ জনের নামসহ ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর বাকলিয়া থানার পূর্ব বাকলিয়ার আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় বড় মৌলভীর বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানের জায়গায় সাইনবোর্ড দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন গুলিবিদ্ধসহ ১৩ জন আহত হন।

গুলিবিদ্ধরা হলেন মো. মাসুদ, আবদুল্লাহ কাইছার, মো. মুরাদ ও মো. ফয়সাল। তারা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শনিবার দুপুরে বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংঘর্ষের পর মৌলভী বাড়ির লোকজনের পক্ষে সাইফুল্লাহ মাহমুদ নামে একজন মামলা করেন। আমরা অস্ত্রধারীসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছি।’

সাইফুল্লাহ মাহমুদ বলেন, ‘এটা আমাদের পূর্ব পুরুষের দেয়া নিজস্ব কবরস্থান। শুক্রবার সকালে সেখানে সাইনবোর্ড লাগাতে যাই। তখন পাশের ইয়াকুব আলীর বাড়ির লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে।’

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভূঁইয়া জানান, গুলিবিদ্ধ চারজন শঙ্কামুক্ত। অন্যরাও সুস্থ আছে। কয়েকজনকে শনিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’

শেয়ার করুন

ডাকাতিতে নিঃস্ব সৌদিফেরত সেই যুবকের পাশে পুলিশ

ডাকাতিতে নিঃস্ব সৌদিফেরত সেই যুবকের পাশে পুলিশ

ডাকাতদের হাতে সবকিছু হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া সৌদি প্রবাসী আকরাম হোসেন শাহিনের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: ফেসবুক

শাহিন বলেন, ‘সেনারগাঁও থানা পুলিশের এসআই দিলীপ স্যার আমাকে যেতে বলেছেন। পাসপোর্ট, ভিসার বিষয়ে একটা বুঝ করা যাবে বলে জানিয়েছেন। এরপরই আমি ফেনীর দাগনভূঞা থেকে সোনারগাঁও যাচ্ছি। এখন আমি কুমিল্লাতে আছি।’

সৌদি আরব থেকে দেশে পা রাখতেই ডাকাতের কবলে পড়া আকরাম হোসেন শাহিনের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে তাকে ডেকে পাঠিয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানা পুলিশ।

পুলিশের আশ্বাস পেয়ে শাহিন ফেনীর দাগনভূঞা থেকে সোনারগাঁও থানায় যাচ্ছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি নিজেই বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

শাহিন বলেন, ‘সোনারগাঁও থানা পুলিশের এসআই দিলীপ স্যার আমাকে যেতে বলেছেন। পাসপোর্ট, ভিসার বিষয়ে একটা বুঝ করা যাবে বলে জানিয়েছেন। এরপরই আমি ফেনীর দাগনভূঞা থেকে সোনারগাঁও যাচ্ছি। এখন আমি কুমিল্লাতে আছি।’

শাহিনের বাবার নাম লোকমান হোসেন; পেশায় অটোরিকশাচালক। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে শাহিন ছোট। শাহিনের জন্য বিয়ের পাত্রী ঠিক করা হয়েছিল। সেই বিয়ে উপলক্ষে হবু স্ত্রীর জন্য গয়না, নতুন জামাকাপড় নিয়ে এসেছিলেন। এ ছাড়া তার একাধিক লাগেজ ও নগদ টাকা ছিল। সঙ্গে পাসপোর্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।

বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাড়ি ভাড়া করে বাড়ি ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের মোগড়াপাড়া হাইওয়েতে ডাকাতদের হাতে সবকিছুই খুইয়ে শাহিন এখন নিঃস্ব।

ডাকাতিতে নিঃস্ব সৌদিফেরত সেই যুবকের পাশে পুলিশ
আকরাম হোসেন শাহিন

গত শুক্রবার সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাস্তায় বসে শাহিনের আহাজারির ছবি ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিউজবাংলার পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে জানানো হয়। এরপর পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা ছবির ভিকটিম ও ঘটনাস্থল শনাক্তের নির্দেশনা পাঠান বিভিন্ন থানায়। অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল ও শাহিনের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাহিনকে অভিযোগ দায়ের করার জন্য ডেকে পাঠিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘নিউজবাংলার মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমি নিজেই নজরদারি করছি। আশা করছি, কালপ্রিটরা ধরা পড়বে।’

শাহিনের কান্নার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেই ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে, সেই ‘দাগনভূঞা রেমিট্যান্স যোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ’-এর অ্যাডমিন নবিউল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাহিন আমাদের পরিচিত। সে যাতে পুনরায় বিদেশ যেতে পারে, তার পাসপোর্ট ফিরে পায় সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’

আরও পড়ুন:
ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’

শেয়ার করুন

ঝোপে ৬ লাখ টাকা

ঝোপে ৬ লাখ টাকা

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদগঞ্জ সার্কেল) সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘ধারণা করছি, পুলিশের তৎপরতা দেখে চোর কৌশলে টাকা গর্তে লুকিয়ে রেখে গেছে। আমরা ব্যাংকের চুরি হওয়া সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা থেকে চুরি যাওয়া টাকা দুই দিন পর ব্যাংকের পাশের ঝোপ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার ফকিরের বাজার এলাকায় শুক্রবার মধ্যরাতে ব্যাংকের পাশের ঝোপঝাড়ে গর্ত থেকে চুরি যাওয়া ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদগঞ্জ সার্কেল) সোহেল মাহমুদ নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, টাকা উদ্ধারে অভিযানের জন্য মধ্যরাতে ব্যাংকের পাশের ঝোপঝাড়ে তল্লাশি চালানো হয়। সে সময় একটি গর্তে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৬ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

সোহেল বলেন, ‘ধারণা করছি, পুলিশের তৎপরতা দেখে চোর কৌশলে টাকা গর্তে লুকিয়ে রেখে গেছে। আমরা ব্যাংকের চুরি হওয়া সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেটা উদ্ধার করা গেলেই চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার পরিবেশক এস এম জাহিদ বলেন, ‘বুধবার (৯ জুন) রাতে কাজ শেষ করে ক্যাশে থাকা ১৫ লাখ টাকা থেকে ৯ লাখ টাকা বাসায় নিয়ে যাই। বৃহস্পতিবার সকালে চুরির খবর পেয়ে পুলিশকে জানাই। অফিসে এসে দেখি ব্যাংকের ভল্ট ভাঙা, সেখানে রাখা ৬ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও নিয়ে গেছে চোর।’

ঝোপে ৬ লাখ টাকা

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) শহীদ হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ব্যাংকের টয়লেটের ভ্যান্টিলেটরের গ্রিল ভেঙে চোর রুমে ঢোকে। ব্যাংকের ভল্টে রাখা ৬ লাখ টাকা ও রুমের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছে চোর। আমরা আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখছি।’

এ ঘটনায় পরে ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের চাঁদপুর জেলার ম্যানেজার আব্দুর রহমান ফরিদগঞ্জ থানায় চুরির মামলা করেন।

এর আগে সোমবার (৭ জুন) মধ্যরাতে কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় চুরি হয়। এ সময় ভল্ট ভেঙে নগদ ৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২২ টাকা চুরি করা হয়।

পরে বুধবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ৭ লাখ টাকাসহ ব্যাংকের ম্যানেজার মামুন খান, ক্যাশিয়ার মাহাবুব আলম ও মামুনের বোন সুলতানা রাজিয়াকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’

শেয়ার করুন

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’

চিকিৎসক সাবিরা রহমান লিপি

আপনারা কাকে সন্দেহ করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা বলার সুযোগ নাই। সবাইকেই আমরা সন্দেহ করছি। কিন্তু আমাদের এভিডেন্স তো মিলাতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত ক্লু লেস।’

ঘরের ভেতর খুন। ছুরিকাঘাত করে মরদেহে আগুন। কিন্তু অস্ত্র মেলেনি, খুনির আঙুলের ছাপ নেই কোথাও। এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, যিনি সন্দেহজনক কাউকে ভবনে ঢুকতে বা বের হতে দেখেছেন। সেই ভবনে নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও।

রাজধানীর কলাবাগানে নিজ ঘরে খুন হওয়া চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান হত্যার তদন্তে নেমে হয়রান পুলিশ। এমন কোনো একটি পথ খুঁজে পাচ্ছে না তারা, যে পথ ধরে এগোলে হত্যা রহস্যের কূলকিনারা করা যাবে।

এটি আত্মহত্যা নয়, এটা নিশ্চিত। পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে সন্দেহ করা হচ্ছে না। সেই চিকিৎসকের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল, এমন তথ্যও মেলেনি। তাহলে কে বা কারা খুন করবে, এমন প্রশ্নের কোনো জবাবও মিলছে না।

তবে বাসার সিঁড়িতে দুটি সিগারেটের ফিল্টার পাওয়া গেছে। সেটি পরীক্ষা করে যদি কিছু পাওয়া যায়, তাহলে পুলিশ কিছুটা আগাতে পারবে বলে আশা করছে।

তবে কি সোহাগী জাহান তনু, সাগর-রুনিদের হত্যার মতো ডা. সাবিরা হত্যারও কোনো ক্লু মিলবে না?

এই পরিস্থিতিতে পথ খুঁজে না পেয়ে নিহত চিকিৎসকের সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ঢালাও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সাবিরা যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, তার পাশের কক্ষে সাবলেটে থাকা নারী, যিনি ঈদের আগে বাড়িতে গিয়ে ঢাকায় আসেননি, তাকেও ঢাকায় আনা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

তাতেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যা তদন্ত কর্মকর্তাকে আশান্বিত করতে পারে।

গত ৩১ মে রাজধানীর কলাবাগানের প্রথম লেনের ৫০/১ পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৪৭ বছর বয়সী সাবিরা গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন।

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
গত ৩১ মে এই রুমটি থেকে চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: নিউজবাংলা

সাবিরা খুনের খবর পেয়ে প্রথমে বাসায় যায় কলাবাগান থানা-পুলিশ। পরে তারা খবর দেয় সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে। পরে ঘটনাস্থলে আসেন ডিবি, র‌্যাব, তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের সদস্যরা।

খুনের ৩৬ ঘণ্টা পর তার মামাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার জুয়েল কলাবাগান থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, সাবিরা রহমান খুন হওয়ার পর কলাবাগান থানা-পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও র‍্যাব ছায়া তদন্ত করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাবিরা রহমানের কলিগ, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই ঢালাও জিজ্ঞাসাবাদে কেউ বাদ যাচ্ছে না। সাবিরার বাসায় সাবলেটে থাকা আরেক নারী নূরজাহানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নূরজাহানকে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

সাবিরার বাসার সিঁড়িতে দুটি সিগারেটের ফিল্টার পাওয়া গিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই বাসার সিঁড়িতে দুইটা সিগারেটের ফিল্টার পাওয়া গিয়েছিল। ফিল্টার দুটি ডিএনএ স্যাম্পলিংয়ের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। যদি কিছু পাওয়া যায়, আলহামদুলিল্লাহ্। তবে এই রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায় নাই।’

আপনারা কাকে সন্দেহ করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা বলার সুযোগ নাই। সবাইকেই আমরা সন্দেহ করছি। কিন্তু আমাদের এভিডেন্স তো মিলাতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত ক্লু লেস।’

বাংলাদেশে বেশ কিছু আলোচিত হত্যা রহস্যের কূলকিনারা করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিশ।

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
সাবিরা রহমানের কলিগ, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

ক্লুহীন আরও কিছু ঘটনা

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার পাঁচ বছর পূর্ণ হলো গত ২০ মার্চ। কিন্তু এমন একটি ক্লুও খুঁজে পাওয়া যায়নি, যে পথ ধরে আগানো যাবে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে তনুর মরদেহ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন বিকেলে তনুর বাবা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

শুরুতে পুলিশ, ডিবি ও পরে সিআইডি মামলা তদন্ত করেও কোনো কূলকিনারা পায়নি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআই-ঢাকা কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

এর চেয়ে বেশি আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা। এই দম্পতি ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। সাগর ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ও রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
৯ বছর পার হলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঘটনাস্থলে গিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হবে। ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই মহীউদ্দীন খান আলমগীর ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনি হত্যারহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করেছিলেন। এরপর ৯ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে একজনকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। পরে সেই ব্যক্তিকে ধরা হয়, কিন্তু ঘটনার রহস্য আর উন্মোচিত হয়নি।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ও পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই মামলার তদন্তভার পায়। দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র‍্যাবকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই থেকে র‍্যাব মামলাটি তদন্ত করছে। তবে এখনও তারা কোন কূলকিনারা পায়নি।

আরও পড়ুন:
ত্রাণ বিতরণে বাধ্য করা সেই ইউএনওকে সতর্ক করে প্রতিবেদন
সেই ইউএনওকে কি বাঁচাতে চাইছে প্রশাসন?
দুস্থকে দিয়ে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ: তদন্তে আরও সাত দিন
ইউএনওর ফরিদ-কাণ্ড: এবার তদন্তে গড়িমসি
‘অনেক ধন্যবাদ নিউজবাংলাকে’

শেয়ার করুন