ভারতে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ‘হোতা’ গ্রেপ্তার

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহবাজকে গ্রেপ্তারের পর হাসপাতালে নেয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ‘হোতা’ গ্রেপ্তার

বেঙ্গালুরু (পশ্চিম) পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শরনাপ্পা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার সকালে শহরের রামপুরা এলাকার একটি আস্তানায় শাহবাজকে ঘিরে ফেলা হয়। শাহবাজ পালানোর চেষ্টা করে। এক পুলিশ কনস্টেবলকে গুলিও ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পুলিশ তখন তার পা লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

ভারতে বাংলাদেশি তরুণীকে নৃশংস যৌন নির্যাতনের ঘটনার ‘হোতা’ হিসেবে চিহ্নিত শাহবাজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার সকালে শহরের রামপুরা এলাকার একটি আস্তানায় শাহবাজকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। শাহবাজ পালানোর চেষ্টা করে। এক পুলিশ কনস্টেবলকে গুলিও ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পুলিশ তখন তার পা লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

পরে আহত শাহবাজকে গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে নেয়া হয় বলে বুধবার দুপুরে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেন বেঙ্গালুরু (পশ্চিম) পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শরনাপ্পা।

বাংলাদেশি তরুণীকে ধর্ষণ এবং নির্যাতনের ঘটনায় তাকে নিয়ে দুই নারীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করল ভারতীয় পুলিশ।

গত শুক্রবার পুলিশ হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন মামলায় আরও দুই অভিযুক্ত হৃদয় বাবু (টিকটক হৃদয়) ও রকিবুল ইসলাম সাগর। তখন পুলিশের গুলিতে তারাও আহত হন। তাদের গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে ভর্তি করে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ।

বাংলাদেশি তরুণীকে ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে ১৯ ও ২০ মে, পূর্ব বেঙ্গালুরুর কঙ্কনগরের একটি বাড়িতে। নির্যাতিতা ও অভিযুক্তরা পরিচিত। তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্যাতনের ৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও করে পরে তা অনলাইনে ছেড়ে দেয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে নামে পুলিশ।

শুরুতে আসাম, কেরালা রাজ্য পুলিশ তদন্ত করেছিল ঘটনাটি তাদের রাজ্যে ঘটেছে ধরে নিয়ে। তাদের পাশাপাশি তদন্তে নামে বাংলাদেশ পুলিশও।

ভারতে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের ‘হোতা’ গ্রেপ্তার
বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়

বাংলাদেশের পুলিশ পরে এই তরুণীর পরিবারকে খুঁজে বের করে জানতে পারে তিনি বেঙ্গালুরুতে আছেন। বিউটি পার্লারে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাকে কয়েকমাস আগে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে আসে মো. বাবু শেখ নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু নির্যাতিতাকে যৌন ব্যবসায় নামানোর চেষ্টা করে বাবু ও তার সহযোগীরা। বাবু সাত মাস আগেই বেঙ্গালুরুতে এসে যৌন ব্যবসা চক্রে যোগ দিয়েছিলেন।

বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ জানায়, ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী বেঙ্গালুরুতে আসার আগে কেরালার কোঝিকোড় এবং হায়দরাবাদে বিউটি পার্লার ও স্পাতে কাজ করতেন। এক সময় বাবু শেখের সঙ্গে টাকা-পয়সা নিয়ে বিবাদ শুরু হয় মেয়েটির।

এরই মধ্যে হায়দরাবাদে যৌন ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বাবু শেখের স্ত্রী ও বোনকে। বাবুর ধারণা, তার স্ত্রী ও বোনকে ধরিয়ে দিয়েছে ওই তরুণী। এর কিছুদিন পর সব বিবাদ মিটিয়ে ফেলার কথা বলে মেয়েটিকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যায় বাবু।

সহযোগী হৃদয় বাবু, রকিবুল ইসলাম সাগর, হাকিলকে নিয়ে বাংলাদেশি ওই তরুণীকে ধর্ষণ এবং নির্মম নির্যাতন করে বাবু শেখ। তাদের সহযোগিতা করেন নসরথ ও কাজল নামে দুই তরুণী।

ঘটনার পর এক পরিচিত লোকের সহযোগিতায় কেরালায় পালিয়ে যান ধর্ষণের শিকার তরুণী। গত শুক্রবার কেরালা পুলিশের সহযোগিতায় নিয়ে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে। বেঙ্গালুরুতে সরকারি হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা হয়।

পরদিন বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের এক প্রেস নোটে জানানো হয়, ভাইরাল ভিডিও ক্লিপ দেখে ঘটনায় জড়িত এক নারীসহ পাঁচজনকে দ্রুত শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কেরালায় যৌন নির্যাতন: হাতিরঝিল থানায় সেই তরুণীর বাবার মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভল্টের টাকা উধাও: ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ভল্টের টাকা উধাও: ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

আসামি দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার শুক্রবারই দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বংশাল থানা পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার সিনিয়র ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক ও ম্যানাজার অপারেশন এমরান আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

আসামি দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার শুক্রবারই দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে বংশাল থানা পুলিশ।

কারাগারে আটক রাখার পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়।

‘ব্যাংকের ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে অডিট টিম টাকা গরমিলের হিসাব বিবরণী দাখিল করে। আবু বক্কর সিদ্দিক অডিট টিমের হিসাব বিবরণীর ভিত্তিতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।’

জুয়ায় ঢাকা ব্যাংকের টাকা

আশ্চর্যজনক, বিশ্বাসযোগ্য না হলেও স্বীকারোক্তিতে এটিই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে খেলা হয়েছে জুয়া। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বংশাল শাখার ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাতুল হক জিজ্ঞাসাবাদে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক জানান, ২০১৮ সাল থেকে ব্যাংকের ক্যাশে হাত দেয়া শুরু। সময় সুযোগ বুঝে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেয়া হয় বড় অঙ্কের অর্থ। গেল ১৭ জুন ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওঠে আসে টাকা সরানোর ঘটনা।

অডিট কমিটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে বলা হয়, ভল্টে রাখা ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকার নোট দিয়ে বাকি নোট সরিয়ে নেয়া হয়। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে একাই এই কাজ করতেন রিফাতুল। খরচ করতেন জুয়ার আসরে।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

আরও পড়ুন:
কেরালায় যৌন নির্যাতন: হাতিরঝিল থানায় সেই তরুণীর বাবার মামলা

শেয়ার করুন

ঢাকা ব্যাংকের ভল্টের টাকা জুয়ায়

ঢাকা ব্যাংকের ভল্টের টাকা জুয়ায়

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে গায়েব হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যাংক কর্মকর্তাই স্বীকার করেছেন, ধারাবাহিকভাবে টাকা তুলে জুয়ার বিনিয়োগ করেন তিনি।

টাকা সংরক্ষণের জন্য মানুষের নিরাপদ স্থান ব্যাংক। কষ্টার্জিত আমানত ভল্টেই রাখা হয়। কিন্তু সেই ভল্ট কি নিরাপদ? দেখা যাচ্ছে ভল্ট থেকে হাওয়া হচ্ছে টাকা। আর এই কাজে যুক্ত হচ্ছে খোদ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। এই অর্থ নিয়ে খেলা হচ্ছে জুয়া, যা বাড়াচ্ছে উদ্বেগ।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে গায়েব হয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় আটক ব্যাংক কর্মকর্তাই স্বীকার করেছেন, ধারাবাহিকভাবে টাকা তুলে জুয়ার বিনিয়োগ করেন তিনি।

শুধু বংশাল শাখাই নয়, এর আগে গেল বছর প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহীর শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে সরিয়ে ফেলেন ৩ কোটি ৪৫ কোটি টাকা। তিনিও পুলিশি জেরায় স্বীকার করেন, একটি অ্যাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়িচক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। সেখানেই এই অর্থ খোয়া গেছে।

ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমরানুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকের ইন্টারনাল অডিটে এটা ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শাখায় ইন্টারনাল অডিটে ক্যাশ কম পাওয়া যায়। পরে আবারও ইনভেস্টিগেশন করা হয়।

‘পৌনে ৪ কোটি টাকার মত কম ছিল। এরপর দায়িত্বে থাকা ক্যাশ-ইনচার্জের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রাথমিকভাবে ক্যাশ সরিয়ে ফেলার বিষয় স্বীকার করেন। ব্রাঞ্চের ক্যাশ-ইনচার্জ ও ম্যানেজার (অপারেশন) দুইজনকে থানায় দেয়া হয়েছে। এ দুইজনের কাছে ভল্টের চাবি থাকে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তারা টাকা সরানো একটা বিপজ্জনক প্রবণতা। আমানতকারীদের অর্থ সরিয়ে তারা বিনিয়োগ করবে এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য না। এটা বন্ধ করতে হবে। যারা এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের অতিসত্ত্বর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিলে হবে না। অভিযুক্ত কর্মকর্তার চাকরি থেকে বরখাস্ত এটা সমাধান নয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে জেল-জরিমানা করতে হবে।

‘একের পর এক এসব ঘটনা ঘটছে মানে এতে বোঝা যায় অধিকাংশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খুব দুর্বল। সুপারভিশন ও মনিটরিংও ঠিকমতো হয় না। যে যার মতো ছেড়ে দিয়েছে। জনগণের টাকা নিয়ে এ ধরনের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা মোটেও ঠিক না।’

জুয়ায় ঢাকা ব্যাংকের টাকা

আশ্চর্যজনক, বিশ্বাসযোগ্য না হলেও স্বীকারোক্তিতে এটিই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা নিয়ে খেলা হয়েছে জুয়া। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বংশাল শাখার ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাতুল হক জিজ্ঞাসাবাদে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন পুলিশ।

ঢাকা ব্যাংক বংশাল শাখার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক জানান, ২০১৮ সাল থেকে ব্যাংকের ক্যাশে হাত দেয়া শুরু। সময় সুযোগ বুঝে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেয়া হয় বড় অঙ্কের অর্থ। গেল ১৭ জুন ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওঠে আসে টাকা সরানোর ঘটনা।

অডিট কমিটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে বলা হয়, ভল্টে রাখা ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকার নোট দিয়ে বাকি নোট সরিয়ে নেয়া হয়। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে একাই এই কাজ করতেন রিফাতুল। খরচ করতেন জুয়ার আসরে।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

জুয়ায় গেছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের টাকাও

গেল বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা উধাওয়ের আরও একটি ঘটনা ঘটে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজশাহীর শাখার ক্যাশ ইনচার্জ শামসুল ইসলাম কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরাতেন। ভল্টে সব সময় প্রায় ১৫ কোটি টাকা থাকতো। তিনি টাকার বান্ডেলের সামনের লাইন ঠিক রেখে পেছনের লাইন থেকে টাকা সরাতেন, যাতে কারও সন্দেহ না হয়। এভাবে তিনি ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে সরিয়ে ফেলেন।

এরপর এই টাকা দিয়ে শামসুল জুয়া খেলেন। একটি অ্যাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জুয়াড়িচক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। জবানবন্দিতে তখন ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, লোভে পড়ে তিনি ২০১৮ সাল থেকে কৌশলে ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে জুয়া খেলতে শুরু করেন।

পিছিয়ে নেই অন্য ব্যাংকও

কিছু দিন আগে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে ওই ব্যাংকের একজন আইটি অফিসারের ২ কোটি ৫৭ লাখ সরিয়ে ফেলেন। ব্যাংকের ইন্টারনাল ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, তিন বছরে ৬৩৭টি অ্যাকাউন্টের ১৩৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু ধরা পড়ার আগেই ওই কর্মকর্তা দেশের বাইরে চলে যান। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মোট ৬ জনকে আসামি করে মামলা করে। ওই ঘটনার চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বড় অঙ্কের অর্থ জুয়ায় ব্যবহার হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ভল্টের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জুয়ার এমন নেশায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বলা হচ্ছে, রক্ষক ভক্ষক হলে কোথায় যাবে মানুষ। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের হাতেই ব্যাংকের টাকা এখন নিরাপদ নয়।

শুধু জুয়াতেই বিনিয়োগ নয়, ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভল্টের অর্থ তছরুপের ঘটনা ঘটে। নিরীক্ষাতে এমন অনিয়ম অহরহ উঠে আসছে।

টাকা নিয়ে গ্রাহকের উদ্বেগ

একের পর এক বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা খোয়া যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমানতকারীরা। তারা বলছেন, ব্যাংকের ভল্টে যদি টাকা সুরক্ষিত না থাকে তাহলে তারা টাকা কোথায় রাখবেন!

ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে লোপাট করা টাকা গ্রাহকের আমানত। তাই যেসব গ্রাহক এই ব্যাংকে অর্থ জমা রেখেছেন, তাদের অর্থ পেতে সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে ব্যাংক। তারপরেও গ্রাহকের উদ্বেগের শেষ নেই।

ঢাকা ব্যাংকের এমডি এমরানুল হক বলেন, ‘খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কারণ, টাকা তো উদ্ধার করতে হবে। যারা এ টাকা নিয়েছে তাদেরকে এ টাকা ফেরত দিতে হবে। যতদিন না পাওয়া যাবে, ততদিন প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে।’

ঢাকা ব্যাংকে কমিটি গঠন রোববার

কীভাবে, কতদিনে এত টাকা সরানো হয়েছে সে বিষয়ে একটি কমিটি করবে ঢাকা ব্যাংক। ব্যাংকের এমডি এমরানুল হক বলেন, ‘এটা এখন আইনিভাবেই এগিয়ে গেছে। ক্রিমিনাল কেস সুতরাং, পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যাংক থেকে একটা তদন্ত কমিটি করা হবে।

‘বৃহস্পতিবারের ঘটনা কিন্তু পরের দুইদিন শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন। রোববারে কমিটি করা হবে। এজন্য কয়েকদিন সময় লাগবে। কমিটি গঠন করার পর পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

আরও পড়ুন:
কেরালায় যৌন নির্যাতন: হাতিরঝিল থানায় সেই তরুণীর বাবার মামলা

শেয়ার করুন

জয়পুরহাটের অক্সিজেন ব্যাংকে আরও ১২টি সিলিন্ডার

জয়পুরহাটের অক্সিজেন ব্যাংকে আরও ১২টি সিলিন্ডার

৮টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে শুক্রবার এই ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলেও শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা আরও ১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার জমা দেন। এ নিয়ে অক্সিজেন ব্যাংকে জমা হলো মোট ২০টি সিলিন্ডার।

জয়পুরহাটে করোনা আক্রান্ত আক্রান্তদের সেবায় মানবিক অক্সিজেন ব্যাংকে যোগ হল আরও ১২টি সিলিন্ডার।

৮টি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে শুক্রবার এই ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলেও শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা আরও ১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার জমা দেন। এ নিয়ে অক্সিজেন ব্যাংকে জমা হলো মোট ২০টি সিলিন্ডার।

জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভূঞা বলেন, ‘করোনা রোগীরা সর্দি, জ্বর, গলা ব্যাথার পাশাপাশি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগেন। তখন তাদের প্রয়োজন অক্সিজেন। এ পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে কোভিড-১৯ রোগীদের কাছে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে এই ব্যাংক চালু করা হয়েছে।

‘দিন কিংবা রাতে আমাদের নম্বরে (০১৭৩৭-৫৯৯৬৬৬) ফোন করলেই জেলার যে কোনো প্রান্তে রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে অক্সিজেন সিলিন্ডার।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সার্কেল) ইসতিয়াক আলম, জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান, জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল,সাধারণ সম্পাদক খ.ম আব্দুর রহমান রনিসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকেরা।

আরও পড়ুন:
কেরালায় যৌন নির্যাতন: হাতিরঝিল থানায় সেই তরুণীর বাবার মামলা

শেয়ার করুন

গোয়াইনঘাটে তিন খুন: আহত হিফজুর গ্রেপ্তার

গোয়াইনঘাটে তিন খুন: আহত হিফজুর গ্রেপ্তার

আহত হিফজুর রহমানকে স্ত্রী-সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, হিফজুর এখন সুস্থ। রোববার চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেবেন। এরপরই তাকে আদালতে তোলা হবে। তাকে রিমান্ডে পেতে আবেদন করা হবে।

সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে হিফজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হিফজুরকে শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তথ্যটি নিশ্চিত করে জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেন, হিফজুর এখন সুস্থ। রোববার চিকিৎসকরা তাকে ছাড়পত্র দেবেন। এরপরই তাকে আদালতে তোলা হবে। তাকে রিমান্ডে পেতে আবেদন করা হবে।

গত বুধবার সকালে গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে হিফজুরের স্ত্রী আলিমা বেগম (৩০), তার দুই সন্তান মিজান (১০) ও তানিশা (৩)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘর থেকেই হিফুজরকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এরপর থেকে হিফজুর পুলিশ পাহারায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার আচরণ প্রথম থেকেই সন্দেহজনক বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাড়িতে বুধবার (১৬ জুন) সকালে পাওয়া যায় আলিমা বেগম, ছেলে ১০ বছরের মিজান ও মেয়ে ৩ বছরের তানিশার রক্তাক্ত মরদেহ।

সেখান থেকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয় হিফজুর রহমানকে। তাকে ভর্তি করা হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় তাদের হত্যা করা হয়। ওই রাতে মামার বাসায় থাকায় বেঁচে যায় ওই দম্পতির পাঁচ বছরের ছেলে আফসান।

ঘটনার পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল, সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এখন পুলিশের সন্দেহের তির আহত হিফজুরের দিকেই।

এ ঘটনার তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘হিফজুর রহমান প্রথম থেকেই সন্দেহজনক আচরণ করছেন। প্রথমে আমরা তা বুঝতে পারিনি।

‘তিনি ঘরের ভেতরে অজ্ঞানের ভান করে পড়ে ছিলেন। তবে হাসপাতালে নেয়ার পর বোঝা যায় তার আঘাত গুরুতর নয়।’

হিফজুরকে সন্দেহের কয়েকটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে কেউ হত্যার জন্য এলে সঙ্গে করে অস্ত্র নিয়ে আসত। তাদের ঘরের বঁটি দিয়েই খুন করত না। বিরোধের কারণে খুনের ঘটনা ঘটলে প্রথমেই হিফুজরকে হত্যা করা হতো কিংবা স্ত্রী-সন্তানদের প্রথমে হামলা করলেও হিফুজর তা প্রতিরোধের চেষ্টা করতেন। এতে স্বভাবতই তিনি সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হতেন।

‘অথচ হিফজুরের শরীরের আঘাত একেবারেই সামান্য। হিফজুরের শরীরের কিছু জায়গার চামড়া ছিলে গেছে কেবল। এতে আমাদের ধারণা, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে ঘটনা অন্য খাতে প্রবাহিত করতে নিজেই নিজের হাত-পা ছিলেছেন তিনি।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সাধারণত ঘুমানোর আগে সবাই হাত-পা ধুয়ে ঘুমাতে যান। হিফজুরের স্ত্রী-সন্তানদের মরদেহের হাত-পা পরিষ্কার ছিল। অথচ তার পায়ে বালু ও কাদা লাগানো ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে তিনি রাতে ঘুমাননি।’

এ ছাড়া হিফজুর অজ্ঞান হওয়ার ভান করেছিলেন জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। পাগলের মতো আচরণ করছেন। তার কথাবার্তাও সন্দেহজনক।’

তবে কী কারণে হিফজুর তার স্ত্রী-সন্তানদের খুন করতে পারেন, এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।

এ ঘটনায় নিহত আলিমা বেগমের বাবা আইয়ুব আলী বৃহস্পতিবার সকালে অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে হিফজুরকে।

আরও পড়ুন:
কেরালায় যৌন নির্যাতন: হাতিরঝিল থানায় সেই তরুণীর বাবার মামলা

শেয়ার করুন

‘মাদকের গাড়িতে বাধা দিলে নির্দেশনা ছিল পিষে দেয়ার’

‘মাদকের গাড়িতে বাধা দিলে নির্দেশনা ছিল পিষে দেয়ার’

‘চালক বেলাল স্বীকার করেছেন, উদ্ধার করা মাদক ও গাড়ির যে মালিক, সে তাকে নির্দেশনা দিয়েছিল যে, কোনোভাবে পুলিশের হাতে ধরা পড়া যাবে না। যদি ধরা পড়ার মতো পরিস্থিতি হয়, তাহলে পুলিশকে চাপা দিয়ে চলে যেতে হবে।’

চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিনকে চাপা দেয়া মাইক্রোবাসের চালক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-উত্তর) মোখলেছুর রহমান একথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই চালককে নির্দেশনা দেয়া ছিল, মাদকবাহী গাড়ি বাধার মুখে পড়লে পুলিশকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যেতে হবে।

ডিসি বলেন, শুক্রবার রাত আটটার দিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকয় অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাসচালক মো. বেলাল ও তার দুই সহযোগী রাশেদ প্রকাশ রাসেল এবং শামসুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেলাল সম্প্রতি ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়েছেন। তার আগের নাম উত্তম বিশ্বাস।

ডিসি মোখলেছুর বলেন, ‘এই চক্রের (মাদক চক্র) সঙ্গে যারাই জড়িত আছে, সবাইকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তাদের এই ব্যবসাটা নির্দিষ্ট কোনো সময়ের না, এটা চলমান। তাদের যারা মাদক দেয় এবং তারা যাদের কাছে সরবরাহ করে সবাইকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।

‘চালক বেলাল স্বীকার করেছেন, উদ্ধার করা মাদক ও গাড়ির যে মালিক, সে তাকে নির্দেশনা দিয়েছিল যে, কোনোভাবে পুলিশের হাতে ধরা পড়া যাবে না। যদি ধরা পড়ার মতো পরিস্থিতি হয়, তাহলে পুলিশকে চাপা দিয়ে চলে যেতে হবে। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের সহকার্মী সালাহ উদ্দিনকে সে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি চাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল।’

ডিসি জানান, মাদকবাহী ওই মাইক্রোবাসটিকে পাহারা দেয়ার জন্য সামনে ও পেছনে দুটি মোটরসাইকেল চলছিল। সেগুলোর একটি জব্দ করা হয়েছে।

চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় ১১ জুন ভোর ৪টার দিকে মাইক্রোবাসের চাপায় নিহত হন এএসআই সালাহ উদ্দিন। এ সময় আহত হন কনস্টেবল মো. মাসুম। পুলিশ বলছে, মাইক্রোবাসটিতে মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পার্বত্য এলাকা থেকে চোলাই মদবাহী একটি কালো মাইক্রোবাস চট্টগ্রাম শহরের দিকে আসছে বলে জানতে পারেন এসআই সালাহ উদ্দিন।

কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার মেহেরাজখানঘাটা পেট্রলপাম্পের সামনে মাইক্রোবাসটিকে থামার সংকেত দিলে গাড়িটি গতি কমিয়ে আনে।

এ সময় গাড়িটি থেমেছে ভেবে এএসআই সালাহ উদ্দিন ও চালক মাসুম মাইক্রোবাসটির কাছে গেলে গাড়িটি গতি বাড়িয়ে দুইজনকে চাপা দেয়। আহত দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সালাহ উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, বিষয়টি জানতে পেরে ওই মোবাইল টিমের অফিসার এসআই রফিকুল ইসলাম ফোর্সসহ গাড়িটিকে তাড়া করেন।

নগরীর এক কিলোমিটার এলাকায় গাড়িটি থামিয়ে চালকসহ অন্যরা পালিয়ে যান৷ পরে পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে। ওই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৭০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় ওই দিন বিকেলে চান্দগাঁও থানার এসআই আমির হোসেন বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন।

মামলার বিষয়ে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার বিকেলে এসআই আমির হোসেন একটি হত্যা ও আরেকটি মাদক মামলা করেছেন। দুই মামলাতেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কেরালায় যৌন নির্যাতন: হাতিরঝিল থানায় সেই তরুণীর বাবার মামলা

শেয়ার করুন

মুখ বন্ধ ত্ব-হার, পরিবার বলছে ‘অসুস্থ’

মুখ বন্ধ ত্ব-হার, পরিবার বলছে ‘অসুস্থ’

নিখোঁজের ৮ দিন পর উদ্ধার ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান। ছবি: নিউজবাংলা

আজেদা বেগম বলেন, ‘ও (ত্ব-হা) অসুস্থ, রাতে জ্বর এসেছে। সর্দিও আছে। এখন সে কারও সঙ্গে কথা বলবে না। সুস্থ হলে আমরা সবাইকে ডেকে কথা বলব।’ কী হয়েছিল ত্ব-হার, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। ও ভালো বলতে পারবে, সুস্থ হয়ে উঠুক। আমি এখন ছেলে পেয়েছি এটাই বড় কথা।’

নিখোঁজের আট দিন পরে অবশেষে বাড়ি ফিরলেও গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি ইসলামিক বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান। পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার জানানো হয়েছে, তিনি অসুস্থ। তাই গণমাধ্যমের সামনে আসছেন না।

রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডের আহলে হাদিস মসজিদসংলগ্ন মামার বাড়িতে শনিবার সকালে ত্ব-হার মা আজেদা বেগম ও মামা আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেন।

আজেদা বেগম বলেন, ‘ও (ত্ব-হা) অসুস্থ, রাতে জ্বর এসেছে। সর্দিও আছে। এখন সে কারও সঙ্গে কথা বলবে না। সুস্থ হলে আমরা সবাইকে ডেকে কথা বলব।’

কী হয়েছিল ত্ব-হার, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। ও ভালো বলতে পারবে, সুস্থ হয়ে উঠুক। আমি এখন ছেলে পেয়েছি এটাই বড় কথা।’

ত্ব-হার মামা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অবগত না। মিসিং ছিল, আমরা জিডি করেছি, উদ্ধার হয়েছে। আসলে কী ঘটেছে, সে নিজেই বলতে পারবে। এখন তো সে অসুস্থ, পাঁচ থেকে সাত দিন লাগবে সুস্থ হতে। এরপর আমরা সব মিডিয়াকে ডাকব। তখন সে তার কথা বলবে। কী হয়েছে কী হয়নি সেটা বলবে ত্ব-হা। একটু সময় দিতে হবে... ও সুস্থ হয়ে উঠুক।’

চার সহযোগীসহ ১০ জুন রংপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় পথ থেকে নিখোঁজ হন ত্ব-হা। কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হন, এমন তথ্য দিতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

অনেকে অভিযোগ তুলছিল, সমসাময়িক অন্যান্য ইস্যুতে আন্তরিকতা দেখালেও ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না সরকার। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল।

রংপুর কোতোয়ালি থানার এসআই এরশাদ হোসেন জানান, শুক্রবার দুপুরে ত্ব-হাকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বেলা ৩টার দিকে রংপুরের আবহাওয়া অফিসের মাস্টারপাড়ায় ত্ব-হার প্রথম স্ত্রী আবিদা নূরের বাবা আজিজুল ইসলাম মণ্ডলের বাড়ি থেকে তাকে পুলিশ বের করে নিয়ে যায়।

তাকে মহানগর পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ত্ব-হা ও তার দুই সঙ্গীকে আদালতে নেয়া হয়। মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক কেএম হাফিজুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি দেন তারা।

জবানবন্দি শেষে আইনজীবী সোলায়মান আহমেদ সিদ্দিকী বাবুর জিম্মায় রাত ১১টার দিকে তারা বাড়ি ফেরেন।

মুখ বন্ধ ত্ব-হার, পরিবার বলছে ‘অসুস্থ’
আদালতে জবানবন্দি শেষে বাড়ি ফিরছেন ত্ব-হা

ত্ব-হাকে উদ্ধারের পর নগর পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আব মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ঘটনার দিন গাবতলী থেকে গাইবান্ধা চলে আসেন। সেখানে এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার ত্ব-হা আবহাওয়া অফিস মাস্টারপাড়ার শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। উনি এখন আমাদের হেফাজতেই আছেন।’

মারুফ জানান, নিখোঁজ নয়, ত্ব-হা গত আট দিন ধরে ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে কী উদ্দেশ্যে তিনি ‘আত্মগোপনে’ ছিলেন, সেই প্রশ্নের জবাব তিনি ‘এখনই’ দেবেন না বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রাইমারিভাবে যে বিষয়টি জেনেছি তা হচ্ছে, তাদের (ত্ব-হা ও তার সঙ্গীরা) ব্যক্তিগত কিছু কারণে তারা স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিল।’

কী সেই ব্যক্তিগত কারণ, এই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু ব্যক্তিগত কারণ, আমরা সেটি এখনই পাবলিকলি না বলি। আগে ভেরিফাই করতে হবে। তবে কোনো অপরাধ ঘটেনি বলে আমাদের তারা জানিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কেরালায় যৌন নির্যাতন: হাতিরঝিল থানায় সেই তরুণীর বাবার মামলা

শেয়ার করুন

নুসরাতের মৃত্যু: ভুয়া বিসিএস ক্যাডার মিল্লাত কারাগারে

নুসরাতের মৃত্যু: ভুয়া বিসিএস ক্যাডার মিল্লাত কারাগারে

সুসময়ের ছবি। স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নুসরাত জাহান। ছবি: সংগৃহীত

মামলায় অভিযোগ বলা হয়, মামুন মিল্লাত নিজেকে বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে নুসরাত জাহানকে প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মিল্লাত নুসরাতকে শারীরিক আঘাত ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন।

রাজধানীর আগারগাঁয়ে সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টারে নুসরাত জাহানের আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় স্বামী মিল্লাত মামুনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম বাকী বিল্লাহ শুক্রবার শুনানি শেষে আদেশ দেন।

একদিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিল হোসাইন (নিরস্ত্র) আসামি মিল্লাত মামুনকে আদালতে হাজির করেন। কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

মিল্লাত মামুনের পক্ষে পীযূষ কান্তি রায় জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধীতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকা থেকে র‌্যাব-২ এর একটি দল মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে একদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা রত্ম কান্তি রোয়াজা ১২ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ বলা হয়, মামুন মিল্লাত নিজেকে বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে নুসরাত জাহানকে প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করেন।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মিল্লাতকে শারীরিক আঘাত ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন, যা নুসরাত তার বাবাকে জানান।

মিল্লাত জুয়া খেলাসহ, নেশা এবং বিভিন্ন পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, গত ১২ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নুসরাত তার বাবাকে ফোন দিয়ে জানায়, মিল্লাত তাকে শারীরিক নির্যাতনসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। তাকে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন, না গেলে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

ওইদিন বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ রত্ম কান্তি রোয়াজাকে নুসরাতের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানায়।

আরও পড়ুন:
কেরালায় যৌন নির্যাতন: হাতিরঝিল থানায় সেই তরুণীর বাবার মামলা

শেয়ার করুন