সাভারে বিস্ফোরণ: দগ্ধ একজন আশঙ্কাজনক

সাভারে বিস্ফোরণ: দগ্ধ একজন আশঙ্কাজনক

বুধবার ভোর ৫টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনার পর বেলা ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বাড়িটির দেয়ালে বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় সাময়িকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।

ঢাকার সাভারে গ্যাসের আগুন থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আফরোজা বেগম নামের ওই নারীর শরীরের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা পার্থ শংকর পাল নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, শিশুসহ অন্য পাঁচজনের দগ্ধের পরিমাণ ১২ থেকে ২৫ শতাংশ।

সাভারের আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ কবরস্থান রোড এলাকায় হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে বুধবার ভোর ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া আবদুল আউয়াল, স্ত্রী রেনু বেগম, তাদের মেয়ে ৯ বছরের আছিয়া, বাড়ির আরেক ভাড়াটিয়া আফরোজা বেগম, মো. হাকিম ও তার স্ত্রী আদুরী।

এরপর বেলা ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বিস্ফোরণে বাড়ির বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়ায় সেটি সাময়িকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন তারা।

একই সময় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাড়ির গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন।

ফায়ার সার্ভিসের চার নম্বর জোনের কমান্ডার আব্দুল আলীম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিস্ফোরণের কারণে বাড়িটির তিনটি কক্ষের সব দেয়ালেই ফাটল দেখা দিয়েছে। বাড়িটি বসবাসের জন্য পুরোপুরি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই সিনটেপ দিয়ে আমরা সাময়িকভাবে বাড়িটি সিলাগালা করে দিয়েছি।’

সাভারে বিস্ফোরণ: দগ্ধ একজন আশঙ্কাজনক

সাভার আঞ্চলিক তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাড়িটিতে বিস্ফোরণের ঘটনার পরপর আমাদের পক্ষ থেকে পরিদর্শন করা হয়েছে। টয়লেটের বায়োগ্যাস থেকে দুর্ঘটনার কথা ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।

‘তারপরও আমরা নিরাপত্তার জন্য বাড়িটির গ্যাস সংযোগ আপাতত বিচ্ছিন্ন করেছি।’

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বাড়ির মালিক হুমায়ুন কবিরকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
গ্যাসের আগুনে শিশুসহ দগ্ধ ৬
ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণে ঝরল যুবকের প্রাণ
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

স্ত্রী মিতু নিহতের পর এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবুল আক্তার। ফাইল ছবি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে গায়ত্রীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে গায়ত্রীর বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের কথিত প্রেমিকা গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা নিউজবাংলাকে জানান, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) পক্ষ থেকে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি, যা মামলার তদন্তকাজকে এগিয়ে নেবে। তবে গায়ত্রী বর্তমানে কোথায় আছেন, সেটি নিয়ে আমাদের কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংস্থাটি।’

২৩ মে গায়ত্রী অমর সিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি দিয়েছিল পিবিআই। গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ওই চিঠির উত্তর পায় সংস্থাটি।

সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে গায়ত্রীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে গায়ত্রীর বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

এর আগে বাবলুকে দেয়া গায়ত্রীর দুটি বই ফরেনসিক পরীক্ষার কথা জানিয়েছে পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বই ল্যাবে পাঠানোর জন্য শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বই দুটি আমরা জব্দ করেছি। এগুলোতে কিছু লিখিত বিষয় রয়েছে, যেগুলো পরকীয়ার সম্পর্ক নির্দেশ করে। মামলার তদন্তের স্বার্থে বই দুটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য আদালতের অনুমতি লাগবে। আমরা শিগগিরই পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করব।’

মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারের সঙ্গে গায়ত্রীর পরকীয়া ছিল বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকার সময় ২০১৩ সালে ইউএনএইচসিআরের কর্মীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বাবুল। এ নিয়ে মিতুর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় বাবুলের। মিতুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনও করেন বাবুল।

২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সুদানে জাতিসংঘ শান্তিমিশনে ছিলেন বাবুল। এ সময় বাবুলের মোবাইল ফোনটি চট্টগ্রামের বাসায় ছিল। ওই মোবাইল ফোনে মোট ২৯ বার ম্যাসেজ দেন বাবুলের কথিত প্রেমিকা।

পিবিআই কর্মকর্তা জানান, বাবুলকে উপহার দেয়া গায়ত্রীর একটি বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে ‘05/10/13, Coxs Bazar, Bangladesh. Hope the memory of me offering you this personal gist. shall eternalize our wonderful bond, love you...’

শেষ পৃষ্ঠায় বাবুল আক্তার নিজের হাতে ইংরেজিতে তার কথিত প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা লেখেন।

তিনি (বাবুল) লিখেছেন ‘First Meet: 11 Sep, 2013, First Beach walk 8th Oct 2013, G Birth day 10 October, First kissed 05 October 2013, Temple Ramu Prayed together, 13 October 2013, Ramu Rubber Garden Chakaria night beach walk.’

এজাহারে বলা হয়েছে, এই পরকীয়া প্রেমের কারণে বাবুল-মিতুর দাম্পত্য অশান্তি চরমে পৌঁছে। মিতু বাবুলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলের বিরুদ্ধে ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা হয়। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

আরও পড়ুন:
গ্যাসের আগুনে শিশুসহ দগ্ধ ৬
ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণে ঝরল যুবকের প্রাণ
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

চার মামলায় আরও ১৪ দিনের রিমান্ডে হেলেনা

চার মামলায় আরও ১৪ দিনের রিমান্ডে হেলেনা

র‍্যাবের হাতে আটকের পর কয়েকটি মামলা হয়েছে ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

শুনানিতে হেলেনার আইনজীবী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হেলেনা জীবনে কখনও কোনো অন্যায় করেন নাই। তিনি ব্যবসা করে সৎ উপায়ে দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি অনুগত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তিনি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়েছেন।’

পল্লবী থানার দুই মামলায় আট দিনের রিমান্ডের পর এবার আলোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানার দুই মামলায় তিন দিন করে আরও ছয় দিন পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত। এ নিয়ে চার মামলায় ১৪ দিনের রিমান্ড দেয়া হলো হেলেনাকে।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর।

এদিন আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শেখ শাহানুর রহমান হেলেনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় দশ দিনের হেফাজতে নিতে আবেদন করেন। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা আরেক মামলায় হেলেনাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ পাঁচ দিনের হেফাজতে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ।

বিচারক ওই আবেদন গ্রহণ করে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মঙ্গলবার গুলশান থানায় পুলিশের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হেলেনাকে বিকেলে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

রোববার গুলশান থানায় ওই মামলাটি করা হয়। শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদনটি আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখায় জমা দেন।

হেলেনা জাহাঙ্গীর গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন। একারণে রিমান্ড থেকে ফেরার পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফের দশ দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

আসামি পক্ষে আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘সাজানো ঘটনায় আসামিকে বারবার হয়রানির চেষ্টা হচ্ছে। তিনি একজন অসুস্থ মানুষ। তার ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পেয়ে এখন ২৪ এ দাঁড়িয়েছে। তাই তার রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আদেশ প্রার্থনা করছি। রিমান্ডের কোনো কারণ নাই ২৫, ২৯, ৩১ ধারা জামিনযোগ্য। যে মামলা করেছে তার মানহানি হয় নাই। এটা সুনির্দিষ্ট করে কোথাও বলা নাই।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই তিনটি ধারার কোনোটি রিমান্ডযোগ্য নয়। এর পরিষ্কার রেফারেন্স আছে ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ মামলায়। রিমান্ড হবে না এ মামলায়, আমি ন্যায়বিচারের স্বার্থে রিমান্ড বাতিল চাই।’

মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ মাদক লাইসেন্স থাকলে রাখা যায়।’

তখন বিচারক বলেন, ‘মদের লাইসেন্সটি কি আপনার কাছে আছে?’

আইনজীবী বলেন, ‘লাইসেন্সটি সঙ্গে নাই। তিনি একটি মহলের প্রতিহিংসার শিকার। তিনি একজন ভিভিআইপি ও সিআইপি। বিষয়টি বিবেচনা করে জামিনের আবেদন প্রার্থনা করছি। এ মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে পর্যাপ্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু কিছুই পাওয়া যায় নাই।

‘তিনি একজন ব্যবসায়ী। দেশের প্রতি উনার অনেক অবদান আছে। তাই তার অবদানের বিষয়টি বিবেচনা করে জামিনের আবেদন করছি এবং রিমান্ড বাতিলের প্রার্থনা করছি। হেলেনা জাহাঙ্গীর কোনো মাদক সেবন বা বিক্রি করেন না। তিনি একজন সিআইপি ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকেও পুরস্কারপ্রাপ্ত। তাই দয়া করে রিমান্ড বাতিলপূর্বক যে কোনো শর্তে তার জামিন দেয়া হোক।’

হেলেনা জাহাঙ্গীরের আইনজীবী আরও বলেন, ‘তিনি জীবনে কখনও কোনো অন্যায় করেন নাই। তিনি ব্যবসা করে সৎ উপায়ে দেশের জন্য অবদান রেখেছেন। রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি অনুগত থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র তিনি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়েছেন।’

মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল রিমান্ডের আবেদন ও জামিনের বিরোধিতা করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, আসামির নিকট থেকে অনেক কিছু বিষয় জানার আছে। তিনি রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী অনেক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত। অনেক নেতা, মন্ত্রী, এমপিকে তিনি হেয় প্রতিপন্ন করে ফেসবুক লাইভে এসে আপত্তিকর ভিডিও ও বক্তব্য প্রচার করেছেন। ফেসবুকের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে তুলছেন। তার এই উদ্দেশ্যের বিষয়ে, ষড়যন্ত্রের বিষয়ে জানা প্রয়োজন, তাই তাকে পুনারায় দশ দিনের রিমান্ড দেয়া হোক।

এসময় গুলশান থানার মাদক মামলায়ও হেলেনার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ।

শুক্রবার হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গুলশান থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের হেফাজতে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান-২ এর ৩৬ নম্বর রোডে অবস্থিত হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

অভিযান শেষে সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় আমরা অভিযান চালিয়েছি। তার বাসা থেকে আমরা বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, বিদেশি মুদ্রা, চাকু ও হরিণের চামড়া জব্দ করেছি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হেলেনার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করে তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

এছাড়া হেলেনার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনসহ চারটি ধারায় আরেকটি মামলা হয়েছে।

গৃহবধূ থেকে ব্যবসায়ী হয়ে সিআইপির (কমার্শিয়ালি ইমপর্টেন্ট পারসন) স্বীকৃতি পাওয়া এই ব্যবসায়ী সম্প্রতি তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠেন ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচার চালাতে গিয়ে। আওয়ামী লীগের এই নামে কোনো সংগঠন নেই। তিনি এই সংগঠনকে সামনে নিয়ে আসার পর ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের পদ হারান হেলেনা। ক্ষমতাসীন দলের মহিলাবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যপদ ছাড়াও কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। ওই ঘটনায় পিছুটান দেন হেলেনা। বলেন, তিনি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে এই সংগঠনের কেউ না। তাকে সম্প্রতি সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১-এর অভিযানে ২৯ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫ নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ১টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ১টি হরিণের চামড়া, ২টি মোবাইল ফোন, ১৯টি চেকবই ও বিদেশি মুদ্রা, ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার সরঞ্জাম ৪৫৬টি চিপস। পরবর্তী সময়ে মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন:
গ্যাসের আগুনে শিশুসহ দগ্ধ ৬
ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণে ঝরল যুবকের প্রাণ
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মন্ত্রীর সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মন্ত্রীর সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা

রাজধানীর মিরপুরে হেলেনা জাহাঙ্গীরের জয়যাত্রা টেলিভিশনের কার্যালয়।

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সম্পর্ক আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাজির করার চেষ্টা করতেন হেলেনা। আমরা দেখেছি সে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ব্যবহার করত, যেগুলো নিজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণার জন্য। আপনারা যেটা বলেছেন, সেটা এ ধরনের প্রতারণার অংশ কি না সেটি গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা খতিয়ে দেখছে।’

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সম্পর্ক প্রতারণার অংশ কি না সেটি খতিয়ে দেখছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নসহ (র‍্যাব) অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা।

মঙ্গলবার দুপুরে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

জয়যাত্রা টিভির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সম্পর্ক আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘জয়যাত্রা টেলিভিশন আইপি টিভির নামে স্যাটেলাইট টিভি পরিচালনা করে আসছিল। স্যাটেলাইট টিভি সম্প্রচারের সমস্ত কিছু সেখানে ছিল। হেলেনা জাহাঙ্গীর জয়যাত্রা টেলিভিশনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিয়ে আসতেন।’

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হাজির করার চেষ্টা করতেন হেলেনা। আমরা দেখেছি সে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি ব্যবহার করত, যেগুলো নিজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণার জন্য। আপনারা যেটা বলেছেন, সেটা এ ধরনের প্রতারণার অংশ কি না সেটি গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা খতিয়ে দেখছে।’

ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের মালিকানাধীন আইপি টিভি জয়যাত্রা কার্যক্রম শুরু করে ২০১৮ সালে। টিভিতে কর্মরতদের বেতন দেয়ার বদলে উল্টো তাদের কাছ থেকেই চাঁদা নিতেন তিনি। এর বিনিময়ে জয়যাত্রা আইপিটিভির আইডি কার্ড ব্যবহার করতে পারত চাঁদাদাতারা।

মঙ্গলবার র‍্যাব জানিয়েছে আইপিটিভির নামে স্যাটেলাইটে সম্প্রচার চালাচ্ছিল জয়যাত্রা টিভি। ২০১৮ সাল থেকে হংকংয়ের একটি ডাউনলিংক চ্যানেল হিসেবে সম্প্রচার হয়ে আসছিল। যার ফ্রিকোয়েন্সি হংকং থেকে বরাদ্দ করা হয়। এর জন্য হংকংকে মাসে ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করত জয়যাত্রা।

জয়যাত্রা টিভির জিএম (এডমিন) হাজেরা খাতুন ও প্রতিনিধি সমন্বয়ক সানাউল্ল্যাহ নূরীকে গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পেরেছে র‍্যাব।

গৃহবধূ থেকে ব্যবসায়ী হয়ে সিআইপির (কমার্শিয়ালি ইমপর্টেন্ট পারসন) স্বীকৃতি পাওয়া জয়যাত্রা আইপি টিভির মালিক হেলেনা জাহাঙ্গীর সম্প্রতি তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠেন ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচার চালাতে গিয়ে। আওয়ামী লীগে এই নামে কোনো সংগঠন নেই। তিনি এই সংগঠনকে সামনে নিয়ে আসার পর ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের পদ হারান হেলেনা। ক্ষমতাসীন দলের মহিলা বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যপদ ছাড়াও কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। ওই ঘটনায় পিছুটান দেন হেলেনা। বলেন, তিনি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে এই সংগঠনের কেউ না। তাকে সম্প্রতি সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১-এর অভিযানে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫ নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।

ওইদিন রাতেই জয়যাত্রার অফিসে যায় র‍্যাব। রাত দেড়টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বরে টেলিভিশনটির অফিসে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন র‍্যাব সদস্যরা।

প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযানের পর র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদির শাহ জানান, জয়যাত্রা টেলিভিশনের কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। যদিও সম্প্রচার চ্যানেল হিসেবে যা যা থাকা দরকার, তার সবকিছুই রয়েছে।

জয়যাত্রার বিষয়ে পরে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন ওই র‍্যাব কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
গ্যাসের আগুনে শিশুসহ দগ্ধ ৬
ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণে ঝরল যুবকের প্রাণ
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

রিমান্ড শুনানিতে ভাবলেশহীন হেলেনা

রিমান্ড শুনানিতে ভাবলেশহীন হেলেনা

বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানের বাসা থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ছবি: সাইফুল ইসলাম

শুনানির সময় হেলেনাকে তার আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম ও স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে নিচু স্বরে কথা বলতে দেখা যায়। তবে রিমান্ড শুনানি শেষে তাকে বেশ বিচলিত দেখাচ্ছিল। আইনজীবী শফিকুল ইসলামের মুখও এ সময় মলিন দেখায়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিন দিনের রিমান্ডের পর আদালতে আরও দুই মামলার শুনানির সময় অনেকটাই স্বাভাবিক ছিলেন আলোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর।

এ সময় তাকে তার আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম ও স্বামী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে নিচু স্বরে কথা বলতে দেখা যায়। তবে রিমান্ড শুনানি শেষে হেলেনাকে বেশ বিচলিত দেখাচ্ছিল। আইনজীবী শফিকুল ইসলামের মুখও এ সময় মলিন দেখায়।

মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম শাহিনুর রহমানের আদালতে পল্লবী থানায় পুলিশের করা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের ও এক সাংবাদিকের করা চাঁদাবাজির মামলায় হেলেনাকে আট দিন পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়।

শুনানি শেষে রিমান্ড আদেশ শুনে অনেকটা অস্থির হয়ে পড়েন স্বামী জাহাঙ্গীর। অস্ফুট স্বরে তিনি বলেন, ‘এই মামলায়ও রিমান্ড?’

এরপর নির্লিপ্ত হয়ে আদালতের এজলাস কক্ষ ত্যাগ করেন তারা।

বৃহস্পতিবার রাতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তার গুলশানের বাসা থেকে আটক করে র‌্যাব। শুক্রবার রাতে তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং পল্লবী থানায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়।

এর মধ্যে গুলশান থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে এই মামলায় তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

হেলেনার বিরুদ্ধে সোমবার বিকেলে পল্লবী থানায় চাঁদাবাজির মামলা হয়। মামলাটি করেন আব্দুর রহমান তুহিন নামে ভোলার এক সাংবাদিক।

মামলাটির বিষয়ে পল্লবী থানা জানায়, হেলেনার মালিকানাধীন জয়যাত্রা টিভিতে ভোলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার নামে আব্দুর রহমান তুহিনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয় কর্তৃপক্ষ।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় সাত দিন এবং চাঁদাবাজি মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে দুই মামলায় চার দিন করে মোট আট দিনের রিমান্ড আদেশ দেন বিচারক।

এর আগে শুক্রবার রাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গুলশান থানায় করা মামলায় হেলেনাকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয় পুলিশ।

শুনানির সময় আদালতে হেলেনা আত্মপক্ষ সমর্থনে চিৎকার করে বলেন, ‘আমি সরকারের লোক।’

আদালতে বিচারক হেলেনা জাহাঙ্গীরের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনে কিছু বলার আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সরকারের লোক। আমি আওয়ামী লীগের লোক। আমার পদ এখনও যায়নি। আমাকে কোনো শোকজ করা হয়নি। আমি কোনো নোটিশ পাইনি। আমার জীবনে আমি ফেসবুকে কোনো দিন সরকারের বিপক্ষে লিখি নাই। আমি সরকারের লোক। আওয়ামী লীগের লোক। আমি আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে কাজ করি।’

হেলেনা আরও বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ২৫টা দেশ সফর করেছি। আমি কীভাবে সরকারের বিপক্ষে কথা বলব। কোথাও কোনো প্রমাণ নেই আমার ফেসবুকে। কোনো পেজে। বরং কেউ যদি কথা বলে থাকে সেটার প্রতিবাদে আমি দাঁড়িয়েছি। সেই ভিডিও আছে আমার ফেসবুকে। সেটার ভিডিও আছে আমার ফেসবুকে।’

তিনি বলেন, ‘তারা বিভিন্ন দলের হয়ে আমেরিকা থেকে, কানাডা থেকে সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। তাদের বিপক্ষে আমি কথা বলেছি। এগুলোর প্রমাণ আমার কাছে আছে।’

তবে এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে একটি কল রেকর্ড বিচারককে দেয়া হয়। যেখানে হেলেনা জাহাঙ্গীরের কণ্ঠ শোনা যায়।

ভিডিওতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে বলতে শোনা যায় তিনি প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কাউকে গুনে চলেন না। ‘কোনো মন্ত্রীকে গোনার সময় নাই।’

গৃহবধূ থেকে ব্যবসায়ী হয়ে সিআইপির (কমার্শিয়ালি ইমপর্টেন্ট পারসন) স্বীকৃতি পাওয়া এই ব্যবসায়ী সম্প্রতি তুমুল আলোচিত হয়ে ওঠেন ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে একটি সংগঠনের প্রচার চালাতে গিয়ে। আওয়ামী লীগের এই নামে কোনো সংগঠন নেই। তিনি এই সংগঠনকে সামনে নিয়ে আসার পর ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের পদ হারান হেলেনা। ক্ষমতাসীন দলের মহিলাবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যপদ ছাড়াও কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টার পদ থেকেও অব্যাহতি দেয়া হয় তাকে। ওই ঘটনায় পিছুটান দেন হেলেনা। বলেন, তিনি ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামে এই সংগঠনের কেউ না। তাকে সম্প্রতি সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।

র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-১-এর অভিযানে ২৯ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ৩৬ নং রোডের ৫ নং বাড়ি ‘জেনেটিক রিচমন্ড’-এ অভিযান পরিচালনার পর হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় ১৯ বোতল বিদেশি মদ, ১টি ক্যাঙ্গারুর চামড়া, ১টি হরিণের চামড়া, ২টি মোবাইল ফোন, ১৯টি চেকবই ও বিদেশি মুদ্রা, ২টি ওয়াকিটকি সেট এবং জুয়া (ক্যাসিনো) খেলার সরঞ্জাম ৪৫৬টি চিপস। পরবর্তী সময়ে মধ্যরাতে তার জয়যাত্রা টেলিভিশন স্টেশনেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন:
গ্যাসের আগুনে শিশুসহ দগ্ধ ৬
ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণে ঝরল যুবকের প্রাণ
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ায় ঠিকাদারকে হাতুড়িপেটার ঘটনায় আটক ৩

কুষ্টিয়ায় ঠিকাদারকে হাতুড়িপেটার ঘটনায় আটক ৩

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হচ্ছে ঠিকাদারকে। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ায় ঠিকাদারকে হাতুড়িপেটার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। কুষ্টিয়া র‍্যাবের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়ার্ডন লিডার মো. ইলিয়াস খান বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর র‍্যাব হেড কোয়ার্টার থেকে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।’

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে ঠিকাদারকে হাতুড়িপেটার ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে র‌্যাব।

প্রথমে মামলা করতে অনাগ্রহ থাকলেও র‌্যাব অভয় দেয়ায় মামলা করতে রাজি হয়েছেন হাতুড়িপেটার শিকার ঠিকাদার শহিদুর রহমান।

র‌্যাব কুষ্টিয়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়ার্ডন লিডার মো. ইলিয়াস খান নিউজবাংলাকে জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তাদেরকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে দুইজন রাজনৈতিক নেতাসহ আরও কয়েকজনের নাম বলেছে।

আটক তিনজন হলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকার হাতিয়া গ্রামের মোকাদ্দেস হোসেন, শহরের চৌড়হাসের আমিরুল ইসলাম বেল্টু ও পূর্ব মজমপুরের জহুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর র‌্যাব হেড কোয়ার্টার থেকে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।’

এদিকে হাতুড়িপেটার শিকার ঠিকাদার শহিদুর রহমানকে দুপুর আড়াইটায় থানায় অবস্থান করতে দেখা গেছে। সেখানে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এর আগে সোমবার বেলা ১২টার দিকে শহরের রাইফেল ক্লাবের কাছে প্রকাশ্যে ওই ঠিকাদারকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন সন্ত্রাসীরা। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় হামলার ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।


গুরুতর আহত ঠিকাদার শহিদুল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করায় বাসায় ফিরে যান।

শহিদুর রহমান বলেন, ‘আমি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। দুই মাস আগে মিরপুরের একটি এলজিইডির ৭ কোটি টাকার টেন্ডারে অংশ নিই। এটাই আমার অপরাধ।’

আরও পড়ুন:
গ্যাসের আগুনে শিশুসহ দগ্ধ ৬
ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণে ঝরল যুবকের প্রাণ
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

আরও ৮ দিন রিমান্ডে হেলেনা

আরও ৮ দিন রিমান্ডে হেলেনা

আরও দুই মামলায় হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আট দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আনা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিন দিনের রিমান্ডে শেষে আদালতে তোলা হলে আরও দুই মামলায় আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে বহিষ্কৃত এই নেতাকে আটদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

আলোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আরও দুই মামলায় আট দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। এর মধ্যে চাঁদাবাজির মামলায় চারদিন এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ মামলায় চারদিন করে রিমান্ড দেয়া হয়েছে।

হেলেনার উপস্থিতিতে ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) শাহীনুর রহমান এ আদেশ দেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তার গুলশানের বাসা থেকে আটক করে র‌্যাব। শুক্রবার রাতে তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং পল্লবী থানায় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়।

এর মধ্যে গুলশান থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে এই মামলায় তাকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

হেলেনার বিরুদ্ধে সোমবার বিকেলে পল্লবী থানায় চাঁদাবাজির মামলা হয়। মামলাটি করেন আব্দুর রহমান তুহিন নামে ভোলার এক সাংবাদিক।

মামলাটির বিষয়ে পল্লবী থানা জানায়, হেলেনার মালিকানাধীন জয়যাত্রা টিভিতে ভোলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার নামে আব্দুর রহমান তুহিনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয় কর্তৃপক্ষ।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় সাতদিন এবং চাঁদাবাজি মামলায় সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

আসামি পক্ষে শফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল এবং জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আইনজীবী বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর একটি প্রতিহিংসার শিকার।

রাষ্ট্র পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

শুনানি শেষে দুই মামলায় চার দিন করে মোট আট দিনের রিমান্ড আদেশ দেন বিচারক।

আরও পড়ুন:
গ্যাসের আগুনে শিশুসহ দগ্ধ ৬
ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণে ঝরল যুবকের প্রাণ
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

বিতর্কিত ভিডিও সরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চাইলেন ডা. জাহাঙ্গীর

বিতর্কিত ভিডিও সরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চাইলেন ডা. জাহাঙ্গীর

কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

‘একজন ডাক্তার হিসেবে আমি কখনোই কাউকে অসম্মান করতে পারি না এবং আমি তা করতে চাইও না। তবুও আমার অনিচ্ছায় তা হয়ে থাকলে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের একটি সংগঠন ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগ তোলার পর দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে বিতর্কিত একটি ভিডিওসহ আরও দুটি পোস্ট সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছেন ডা. জাহাঙ্গীর।

এই আগে সোমবার চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিটিলিস (এফডিএসআর) বিতর্কিত ভিডিও সরিয়ে নিতে ডা. জাহাঙ্গীরকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেয়। ডা. জাহাঙ্গীরের চিকিৎসাকে ‘অপচিকিৎসা’ দাবি করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, বিতর্কিত ভিডিও না সরিয়ে নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইল ডা. জাহাঙ্গীর মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা ভিডিওটি ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেরা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি সবার কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

এরপররই নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন আলোচিত এই চিকিৎসক। এতে তিনি বলেন, ‘সুস্থ থাকার লক্ষ্যে একটি স্বাস্থ্যকর

জীবনধারা নিয়ে কাজ করছি। সেই লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন ধরে আমার রোগীদের লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। ইদানিংকালে আমার একটি ভিডিও এবং দুটি পোস্ট নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

‘প্রথমত সুস্থ থাকার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আমি একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলাম সেখানে করোনার ভ্যাক্সিন বিষয়ে কিছু তথ্য সহজভাবে বোঝাতে গিয়ে আমার অসাবধানতা বশত ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে আমি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ভিডিওতে যে তথ্যগুলো ভুল ছিল এবং যে কথাগুলো জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে পূর্বের ভিডিওটি অনলাইন থেকে সরিয়ে নিয়েছি। একইসাথে সকলকে ভ্যাক্সিন দেয়ার জন্য পরামর্শ এবং উৎসাহ দিয়েছি।’

এরপরেও কয়েকজন সম্মানিত ডাক্তার ‘ভুল বুঝে’ সরাসরি নাম উল্লেখ করে নানা ধরনের পোস্ট করেছেন উল্লেখ করে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘তন্মধ্যে একটি পোস্টের স্ক্রিনশট আমি আমার পেইজে শেয়ার করেছিলাম। এছাড়া অন্য একটি জনসচেতনতামূলক পোস্টে উদাহরণ স্বরুপ একটি প্রেসক্রিপশন শেয়ার করেছিলাম। ওই প্রেস্ক্রিপশনটি যিনি লিখেছিলেন তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমি তার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি প্রকাশ করিনি। তথাপি এই পোস্টটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে তৎক্ষণাৎ দুটি পোস্টই ডিলিট করে দেই।’

ডাক্তার সমাজের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসেবা ও মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন ডা. জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ‘একজন ডাক্তার হিসেবে আমি কখনোই কাউকে অসম্মান করতে পারি না এবং আমি তা করতে চাইও না। তবুও আমার অনিচ্ছায় তা হয়ে থাকলে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাইরে আরও যে বিষয়ে সমালোচনা এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হল আমার পরামর্শকে কিটো ডায়েট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমি বহুবার নানান ভিডিওর মাধ্যমে বলেছি যে আমি শুধু ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলি না। আমি মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অটোফেজি, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তির চর্চা করাকে সমানভাবে গুরুত্ব দেই।

‘আমি কখনোই ঔষধবিরোধী না, আমি সব সময় বলে এসেছি জরুরি চিকিৎসায় ঔষধ অপরিহার্য। তবে লাইফস্টাইল রোগগুলো লাইফিস্টাইল মডিফাই করে প্রতিরোধ করা যেতে পারে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমিও আমার রোগীদের প্রয়োজনে ঔষধ লিখছি সুতরাং ঔষধের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।’

বিবৃতিতে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি সকলের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে তাই আপনারা আমার কোনো ভুল ধরিয়ে দিলে আমি তা শুধরে নেব। নিজের ভুলকে আমি ভুল হিসেবে গ্রহণ করে তা শুধরে নেব আর আপনাদের কাছেও আমার অনুরোধ আপনারা আমার পূর্বের ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।… আমার কথায় হয়তো অনেক সহকর্মী - সিনিয়র চিকিৎসক কষ্ট পেয়েছেন কিংবা মনক্ষুন্ন হয়েছেন। আমি তাদের সবার প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

ডা. জাহাঙ্গীরকে সতর্ক করে চিঠি দেয়া এফডিএসআর-এর মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কারোরই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করা ও অসত্য বলার অধিকার নেই এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

‘আপনি জীবনধারা পরিবর্তন ও এর মাধ্যমে নানা রকম ক্রনিক রোগের চিকিৎসা করছেন বলে দাবি করেন। এজন্য অনলাইন ও অফলাইনে মানুষকে সুস্থ জীবন গড়ে তোলার জন্য লাইফস্টাইল বা জীবনধারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন। এসবই আপাত দৃষ্টিতে চমৎকার কাজ, কিন্তু আপনার মনে রাখতে হবে আপনার পরামর্শ হতে হবে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সমর্থিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক। শুধু তাই নয় এসব পরামর্শ যাতে কারও ক্ষতির কারণ না হয় সেদিকেও আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

ডা. জাহাঙ্গীর কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিলেও এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো লিখিত বা মৌখিক কাউন্সেলিং করেন না বলে অভিযোগ করেন ডা. শেখ আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘তিনি (ডা. জাহাঙ্গীর) ডায়াবেটিক রোগী ও কিডনি রোগীকেও কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়েছেন বলে আমরা জানি। এই ডায়েটের ফলে দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি যেসব স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে সেটা নিয়ে তিনি কখনও রোগীদের অবগত করেন না। এটা ম্যালপ্র্যাকটিস। অথচ কিটো ডায়েটের জন্য রোগীর ইনফর্মড কনসেন্ট নেয়া বাধ্যতামূলক।

‘তিনি বিভিন্ন চিকিৎসকের দেয়া প্রেসক্রিপশনকে হেয় করে মন্তব্য করছেন। টিকা নিয়ে ইম্যুনোলজি বিষয়েও ভুল বক্তব্য দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
গ্যাসের আগুনে শিশুসহ দগ্ধ ৬
ট্রাকের চাকা বিস্ফোরণে ঝরল যুবকের প্রাণ
রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গৃহবধূ নিহত
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ: স্ত্রীর পর চলে গেলেন স্বামী
ফতুল্লায় ভবনে বিস্ফোরণ, আহত একজনের মৃত্যু

শেয়ার করুন