এসপির নির্দেশে বেচা হলো সেই বাগানের লিচু

ঈশ্বরদীর শামসুল হকের এই বাগান নিয়ে বিরোধের জেরে লিচু পাড়ায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন ওসি। ছবি: নিউজবাংলা

এসপির নির্দেশে বেচা হলো সেই বাগানের লিচু

পারিবারিক বিরোধের কারণে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর বাগানটি থেকে লিচু পাড়ায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান। এতে গাছেই পচে নষ্ট হচ্ছিল লিচু।

পাবনার ঈশ্বরদীতে পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে গাছে পচতে থাকা সেই বাগানের লিচু অবশেষে বেচা হয়েছে। পাবনার পুলিশ সুপারের (এসপি) নির্দেশে মঙ্গলবার ওই বাগানের লিচু বেচা হয়।

পারিবারিক বিরোধের কারণে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর বাগানটি থেকে লিচু পাড়ায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান। এতে গাছেই নষ্ট হচ্ছিল লিচু।

ওসি তখন বলেছিলেন, ‘লিচু পাড়া নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লিচু পড়ে নষ্ট হলেও আমার কিছু যায় আসে না। ওই বাগানের লিচু পাড়তে যে যাবে তাকেই গ্রেপ্তার করা হবে।’

এ নিয়ে ‘লিচু পাড়লেই গ্রেপ্তার’ শিরোনামে নিউজবাংলায় সংবাদ প্রকাশ হয়। একাধিক গণমাধ্যমেও সংবাদটি প্রকাশ হয়। বিষয়টি এসপি মোহাম্মদ মহিবুল ইসলামের নজরে এলে তিনি ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির ও ওসি আসাদুজ্জামানের মাধ্যমে লিচু বিক্রির আশ্বাস দেন।

সেই আশ্বাসের এক দিন পার না হতেই লিচু বেচা হয়েছে। ওসি আসাদুজ্জামান জানান, লিচু বেচার টাকা স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ মিটলে জমির মালিক টাকা পেয়ে যাবেন।

পাবনার ঈশ্বরদীর ছলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর মধ্যপাড়ার শামসুল হকের সঙ্গে লিচুবাগান ও পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে ভাই-বোনদের। এ বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। পরে বাগান থেকে লিচু পাড়ায় নিষেধাজ্ঞা দেন ওসি।

বাগানটি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আাসা শামসুল হক এসপির এমন ভূমিকায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এসপি স্যারের পদক্ষেপে পেশাদারত্ব ও দায়িত্বশীলতা দেখেছি।’

আরও পড়ুন:
‘লিচু পাড়লেই গ্রেপ্তার’
ফেটে যাচ্ছে লিচু
তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘সিরিয়াফেরত জঙ্গি’ ৩ দিনের রিমান্ডে

‘সিরিয়াফেরত জঙ্গি’ ৩ দিনের রিমান্ডে

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান জানান, সাখাওয়াতের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তিনদিন দিয়েছে। তাকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার ‘সিরিয়াফেরত জঙ্গির’ তিনদিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেছে আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হোসেন মো. রেজার আদালত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সাখাওয়াত আলীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান নিউজবাংলাকে জানান, সাখাওয়াতের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। তাকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) আবছার উদ্দিন রুবেল জানান, ২০১২ সালে ভায়রাভাই আরিফ মামুনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে যোগ দেন সাখাওয়াত। ওই সংগঠনের নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ অন্যদের মাধ্যমে জিহাদি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে সাখাওয়াত তুরস্কে যান। সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গিনেতা হায়াত তাহরির আশরাকের কাছ থেকে ভারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। সিরিয়ার ইদলিব এলাকায় প্রায় ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

পরে সিরিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ায় আসেন। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে আবার ইন্দোনেশিয়ায় যান। চলতি বছর মার্চে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

নগরীর দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এ সময় তার কাছ থেকে নিষিদ্ধঘোষিত বই ও নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়।

আটকের পর শুক্রবার রাতেই এসআই রাছিব তার বিরুদ্ধে খুলশী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

আবছার উদ্দিন রুবেল বলেন, ‘আমরা আদালতে বলেছি, যদি তাকে রিমান্ডে নেয়া যায় তাহলে তার কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া যাবে এবং এই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের আরও সক্রিয় কর্মী যারা আছেন তাদেরকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হবে পুলিশ।’

আরও পড়ুন:
‘লিচু পাড়লেই গ্রেপ্তার’
ফেটে যাচ্ছে লিচু
তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম

শেয়ার করুন

ডাকাতিতে নিঃস্ব সৌদিফেরত সেই যুবকের পাশে পুলিশ

ডাকাতিতে নিঃস্ব সৌদিফেরত সেই যুবকের পাশে পুলিশ

ডাকাতদের হাতে সবকিছু হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া সৌদি প্রবাসী আকরাম হোসেন শাহিনের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবি: ফেসবুক

শাহিন বলেন, ‘সেনারগাঁও থানা পুলিশের এসআই দিলীপ স্যার আমাকে যেতে বলেছেন। পাসপোর্ট, ভিসার বিষয়ে একটা বুঝ করা যাবে বলে জানিয়েছেন। এরপরই আমি ফেনীর দাগনভূঞা থেকে সোনারগাঁও যাচ্ছি। এখন আমি কুমিল্লাতে আছি।’

সৌদি আরব থেকে দেশে পা রাখতেই ডাকাতের কবলে পড়া আকরাম হোসেন শাহিনের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের আশ্বাস দিয়ে তাকে ডেকে পাঠিয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানা পুলিশ।

পুলিশের আশ্বাস পেয়ে শাহিন ফেনীর দাগনভূঞা থেকে সোনারগাঁও থানায় যাচ্ছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি নিজেই বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

শাহিন বলেন, ‘সোনারগাঁও থানা পুলিশের এসআই দিলীপ স্যার আমাকে যেতে বলেছেন। পাসপোর্ট, ভিসার বিষয়ে একটা বুঝ করা যাবে বলে জানিয়েছেন। এরপরই আমি ফেনীর দাগনভূঞা থেকে সোনারগাঁও যাচ্ছি। এখন আমি কুমিল্লাতে আছি।’

শাহিনের বাবার নাম লোকমান হোসেন; পেশায় অটোরিকশাচালক। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে শাহিন ছোট। শাহিনের জন্য বিয়ের পাত্রী ঠিক করা হয়েছিল। সেই বিয়ে উপলক্ষে হবু স্ত্রীর জন্য গয়না, নতুন জামাকাপড় নিয়ে এসেছিলেন। এ ছাড়া তার একাধিক লাগেজ ও নগদ টাকা ছিল। সঙ্গে পাসপোর্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র।

বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাড়ি ভাড়া করে বাড়ি ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের মোগড়াপাড়া হাইওয়েতে ডাকাতদের হাতে সবকিছুই খুইয়ে শাহিন এখন নিঃস্ব।

ডাকাতিতে নিঃস্ব সৌদিফেরত সেই যুবকের পাশে পুলিশ
আকরাম হোসেন শাহিন

গত শুক্রবার সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাস্তায় বসে শাহিনের আহাজারির ছবি ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিউজবাংলার পক্ষ থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে জানানো হয়। এরপর পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা ছবির ভিকটিম ও ঘটনাস্থল শনাক্তের নির্দেশনা পাঠান বিভিন্ন থানায়। অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থল ও শাহিনের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাহিনকে অভিযোগ দায়ের করার জন্য ডেকে পাঠিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, ‘নিউজবাংলার মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমি নিজেই নজরদারি করছি। আশা করছি, কালপ্রিটরা ধরা পড়বে।’

শাহিনের কান্নার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেই ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে, সেই ‘দাগনভূঞা রেমিট্যান্স যোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ’-এর অ্যাডমিন নবিউল ইসলাম খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাহিন আমাদের পরিচিত। সে যাতে পুনরায় বিদেশ যেতে পারে, তার পাসপোর্ট ফিরে পায় সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’

আরও পড়ুন:
‘লিচু পাড়লেই গ্রেপ্তার’
ফেটে যাচ্ছে লিচু
তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম

শেয়ার করুন

ঝোপে ৬ লাখ টাকা

ঝোপে ৬ লাখ টাকা

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদগঞ্জ সার্কেল) সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘ধারণা করছি, পুলিশের তৎপরতা দেখে চোর কৌশলে টাকা গর্তে লুকিয়ে রেখে গেছে। আমরা ব্যাংকের চুরি হওয়া সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা থেকে চুরি যাওয়া টাকা দুই দিন পর ব্যাংকের পাশের ঝোপ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার ফকিরের বাজার এলাকায় শুক্রবার মধ্যরাতে ব্যাংকের পাশের ঝোপঝাড়ে গর্ত থেকে চুরি যাওয়া ৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদগঞ্জ সার্কেল) সোহেল মাহমুদ নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, টাকা উদ্ধারে অভিযানের জন্য মধ্যরাতে ব্যাংকের পাশের ঝোপঝাড়ে তল্লাশি চালানো হয়। সে সময় একটি গর্তে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৬ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

সোহেল বলেন, ‘ধারণা করছি, পুলিশের তৎপরতা দেখে চোর কৌশলে টাকা গর্তে লুকিয়ে রেখে গেছে। আমরা ব্যাংকের চুরি হওয়া সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সেটা উদ্ধার করা গেলেই চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার পরিবেশক এস এম জাহিদ বলেন, ‘বুধবার (৯ জুন) রাতে কাজ শেষ করে ক্যাশে থাকা ১৫ লাখ টাকা থেকে ৯ লাখ টাকা বাসায় নিয়ে যাই। বৃহস্পতিবার সকালে চুরির খবর পেয়ে পুলিশকে জানাই। অফিসে এসে দেখি ব্যাংকের ভল্ট ভাঙা, সেখানে রাখা ৬ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও নিয়ে গেছে চোর।’

ঝোপে ৬ লাখ টাকা

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) শহীদ হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ব্যাংকের টয়লেটের ভ্যান্টিলেটরের গ্রিল ভেঙে চোর রুমে ঢোকে। ব্যাংকের ভল্টে রাখা ৬ লাখ টাকা ও রুমের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গেছে চোর। আমরা আশপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখছি।’

এ ঘটনায় পরে ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের চাঁদপুর জেলার ম্যানেজার আব্দুর রহমান ফরিদগঞ্জ থানায় চুরির মামলা করেন।

এর আগে সোমবার (৭ জুন) মধ্যরাতে কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় চুরি হয়। এ সময় ভল্ট ভেঙে নগদ ৮ লাখ ১৬ হাজার ৪২২ টাকা চুরি করা হয়।

পরে বুধবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ৭ লাখ টাকাসহ ব্যাংকের ম্যানেজার মামুন খান, ক্যাশিয়ার মাহাবুব আলম ও মামুনের বোন সুলতানা রাজিয়াকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
‘লিচু পাড়লেই গ্রেপ্তার’
ফেটে যাচ্ছে লিচু
তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম

শেয়ার করুন

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’

চিকিৎসক সাবিরা রহমান লিপি

আপনারা কাকে সন্দেহ করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা বলার সুযোগ নাই। সবাইকেই আমরা সন্দেহ করছি। কিন্তু আমাদের এভিডেন্স তো মিলাতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত ক্লু লেস।’

ঘরের ভেতর খুন। ছুরিকাঘাত করে মরদেহে আগুন। কিন্তু অস্ত্র মেলেনি, খুনির আঙুলের ছাপ নেই কোথাও। এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, যিনি সন্দেহজনক কাউকে ভবনে ঢুকতে বা বের হতে দেখেছেন। সেই ভবনে নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও।

রাজধানীর কলাবাগানে নিজ ঘরে খুন হওয়া চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান হত্যার তদন্তে নেমে হয়রান পুলিশ। এমন কোনো একটি পথ খুঁজে পাচ্ছে না তারা, যে পথ ধরে এগোলে হত্যা রহস্যের কূলকিনারা করা যাবে।

এটি আত্মহত্যা নয়, এটা নিশ্চিত। পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে সন্দেহ করা হচ্ছে না। সেই চিকিৎসকের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল, এমন তথ্যও মেলেনি। তাহলে কে বা কারা খুন করবে, এমন প্রশ্নের কোনো জবাবও মিলছে না।

তবে বাসার সিঁড়িতে দুটি সিগারেটের ফিল্টার পাওয়া গেছে। সেটি পরীক্ষা করে যদি কিছু পাওয়া যায়, তাহলে পুলিশ কিছুটা আগাতে পারবে বলে আশা করছে।

তবে কি সোহাগী জাহান তনু, সাগর-রুনিদের হত্যার মতো ডা. সাবিরা হত্যারও কোনো ক্লু মিলবে না?

এই পরিস্থিতিতে পথ খুঁজে না পেয়ে নিহত চিকিৎসকের সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ঢালাও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সাবিরা যে ফ্ল্যাটে থাকতেন, তার পাশের কক্ষে সাবলেটে থাকা নারী, যিনি ঈদের আগে বাড়িতে গিয়ে ঢাকায় আসেননি, তাকেও ঢাকায় আনা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

তাতেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যা তদন্ত কর্মকর্তাকে আশান্বিত করতে পারে।

গত ৩১ মে রাজধানীর কলাবাগানের প্রথম লেনের ৫০/১ পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৪৭ বছর বয়সী সাবিরা গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন।

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
গত ৩১ মে এই রুমটি থেকে চিকিৎসক সাবিরার মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: নিউজবাংলা

সাবিরা খুনের খবর পেয়ে প্রথমে বাসায় যায় কলাবাগান থানা-পুলিশ। পরে তারা খবর দেয় সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটকে। পরে ঘটনাস্থলে আসেন ডিবি, র‌্যাব, তদন্ত সংস্থা পিবিআইয়ের সদস্যরা।

খুনের ৩৬ ঘণ্টা পর তার মামাতো ভাই রেজাউল হাসান মজুমদার জুয়েল কলাবাগান থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, সাবিরা রহমান খুন হওয়ার পর কলাবাগান থানা-পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও র‍্যাব ছায়া তদন্ত করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের নিউমার্কেট জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাবিরা রহমানের কলিগ, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই ঢালাও জিজ্ঞাসাবাদে কেউ বাদ যাচ্ছে না। সাবিরার বাসায় সাবলেটে থাকা আরেক নারী নূরজাহানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নূরজাহানকে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

সাবিরার বাসার সিঁড়িতে দুটি সিগারেটের ফিল্টার পাওয়া গিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওই বাসার সিঁড়িতে দুইটা সিগারেটের ফিল্টার পাওয়া গিয়েছিল। ফিল্টার দুটি ডিএনএ স্যাম্পলিংয়ের জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। যদি কিছু পাওয়া যায়, আলহামদুলিল্লাহ্। তবে এই রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায় নাই।’

আপনারা কাকে সন্দেহ করছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা বলার সুযোগ নাই। সবাইকেই আমরা সন্দেহ করছি। কিন্তু আমাদের এভিডেন্স তো মিলাতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত ক্লু লেস।’

বাংলাদেশে বেশ কিছু আলোচিত হত্যা রহস্যের কূলকিনারা করতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিশ।

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
সাবিরা রহমানের কলিগ, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

ক্লুহীন আরও কিছু ঘটনা

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার পাঁচ বছর পূর্ণ হলো গত ২০ মার্চ। কিন্তু এমন একটি ক্লুও খুঁজে পাওয়া যায়নি, যে পথ ধরে আগানো যাবে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে তনুর মরদেহ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরদিন বিকেলে তনুর বাবা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

শুরুতে পুলিশ, ডিবি ও পরে সিআইডি মামলা তদন্ত করেও কোনো কূলকিনারা পায়নি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআই-ঢাকা কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

এর চেয়ে বেশি আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা। এই দম্পতি ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। সাগর ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ও রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।

এটা কি তবে ‘নিখুঁত খুন’
৯ বছর পার হলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ঘটনাস্থলে গিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করা হবে। ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই মহীউদ্দীন খান আলমগীর ১০ অক্টোবরের মধ্যে সাগর-রুনি হত্যারহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করেছিলেন। এরপর ৯ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে একজনকে ধরতে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। পরে সেই ব্যক্তিকে ধরা হয়, কিন্তু ঘটনার রহস্য আর উন্মোচিত হয়নি।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ ও পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই মামলার তদন্তভার পায়। দায়িত্ব পাওয়ার পর ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র‍্যাবকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই থেকে র‍্যাব মামলাটি তদন্ত করছে। তবে এখনও তারা কোন কূলকিনারা পায়নি।

আরও পড়ুন:
‘লিচু পাড়লেই গ্রেপ্তার’
ফেটে যাচ্ছে লিচু
তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম

শেয়ার করুন

শিশু উদ্ধার করতে গিয়ে আহত: ৪ আসামি গ্রেপ্তার

শিশু উদ্ধার করতে গিয়ে আহত: ৪ আসামি গ্রেপ্তার

ওসি বলেন, আসামিরা খুবই চতুর প্রকৃতির। বিভিন্ন সময়ে স্থান পরিবর্তনের ফলে তাদের গ্রেপ্তার করতে দেরি হয়েছে।

পাবনা সুজানগরে গত ২ জুন শিশু উদ্ধার করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার মামলার ৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস ও এস আই মাসুম বিল্লাহসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে সুজানগর থানার দুলাই গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- দুলাই গ্রামের আল আমিন ও জয়নাল শেখ, খয়রান গ্রামের আলমগীর ও একই গ্রামের আনিসের স্ত্রী ওজিফা খাতুন ওরফে কাকলী।

সুজানগর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, শিশু উদ্ধার করতে গিয়ে থানার পুলিশ সদস্য ছুরিকাঘাতে আহত হন। এই মামলায় ৪ আসামি গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার দিন তাৎক্ষণিকভাবে আরও দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি বলেন, আসামিরা খুবই চতুর প্রকৃতির। বিভিন্ন সময়ে স্থান পরিবর্তনের ফলে তাদের গ্রেপ্তার করতে দেরি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘লিচু পাড়লেই গ্রেপ্তার’
ফেটে যাচ্ছে লিচু
তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম

শেয়ার করুন

বাঁশঝাড়ে পাওয়া মৃত তরুণীর পরিচয় শনাক্ত  

বাঁশঝাড়ে পাওয়া মৃত তরুণীর পরিচয় শনাক্ত

 

লাখী আক্তার। ফাইল ছবি।

মৃত তরুনীর নাম লাখী আক্তার। তিনি আশুলিয়া থানাধীন শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোনা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

ঢাকার সাভারে বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত তরুণীর পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

তারা জানিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম লাখী আক্তার। তিনি আশুলিয়া থানাধীন শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোনা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের খালাতো বোন রহিমা বেগম বলেন, চার-পাঁচ বছর আগে সুবন্দি গ্রামের জুয়েলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বোন লাখীর বিয়ে হয়। এরপর থেকেই জুয়েল তার বোনকে নানাভাবে নির্যাতন করতো। মূলত জুয়েল বখাটে প্রকৃতির ও মাদকসেবী। এ কারণেই এক বছর আগে পারিবারিকভাবে লাখীকে জুয়েলের কাছ থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়। পরে গত রমজানে পাশের গ্রাম চাঙ্গিদিয়া এলাকার সিঙ্গাপুর প্রবাসী ফিরোজের সঙ্গে পারিবারিকভাবে মুঠোফোনে বিয়ে হয়।

তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগে লাখীর বাবা তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। এরপর সোমবার বিকেলে তিনি লাখীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা জানতে পারেন। কিন্তু কোথায় গেছেন সেটা কেউ বলতে পারে না।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুব্রত রায় বুধবার সন্ধ্যার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তবে এখনও তার মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। আমরা তদন্ত করছি।

এর আগে সকালে আশুলিয়ার সুবন্দি এলাকায় সামছুল উদ্দিন ডাক্তারের মালিকানাধীন বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় লোকজন বুধবার সকালে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে তাদের খবর দেন। ওই এলাকার বাসিন্দা বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কেউই তার পরিচয় জানাতে পারেননি।

পরে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে বুধবার রাতে শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোনা পাড়া গ্রামে লাখীর বাড়িতে গিয়ে তার বাবা, মা ও ভাইকে পাওয়া যায়নি। আশুলিয়া থানা পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে আশুলিয়া থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তারা জানায়, স্বজনদের বিষয়ে তারা কিছু জানেন না। র‍্যাবের দুইটি দল ও সিআইডির একটি দল এই মামলায় কাজ করছে।

আরও পড়ুন:
‘লিচু পাড়লেই গ্রেপ্তার’
ফেটে যাচ্ছে লিচু
তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম

শেয়ার করুন

শত কিলোমিটার পেরোনো সেই বাঘ বাংলাদেশেরই

শত কিলোমিটার পেরোনো সেই বাঘ বাংলাদেশেরই

ভারত থেকে ৪ মাসে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায় রেডিও কলার লাগানো এই বাঘ। ছবি: টুইটার

পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বাঘ বনের একটি নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এই এলাকা রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি চালায় বাঘটি। খাদ্যের সন্ধান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে কখনও কখনও বাঘ নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় যায়। তবে পরে সেটি আবার নিজের এলাকাতেই ফিরে আসে।

ভারত থেকে শত কিলোমিটার পেরিয়ে বাংলাদেশের সুন্দরবনে পৌঁছানো আলোচিত বাঘটির জন্ম বাংলাদেশেই বলে দাবি করেছেন দেশের পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, ঘরের বাঘ ঘরে ফিরেছে। খাদ্যের খোঁজে সম্ভবত সেটি ভারত অংশে চলে গিয়েছিল। এরপর সেখানে এটিকে আটক করে গলায় রেডিও কলার বেঁধে আবার ছেড়ে দেয়া হয়েছিল।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, বনে জনবসতির কাছাকাছি এলে চলাচলের ধরন কেমন হয়, তা জানতে গত বছরের ডিসেম্বরে পশ্চিমবঙ্গের বশিরহাট রেঞ্জের অধীনে হরিখালি ক্যাম্পের উল্টো দিকে হরিণভাঙ্গা বন থেকে বাঘটিকে ধরা হয়।

পরে ২৭ ডিসেম্বর গলায় স্যাটেলাইট কলার লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় পুরুষ বাঘটিকে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বন্য প্রাণী ওয়ার্ডেন ভি কে যাদব ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ভারতের সুন্দরবন অংশে কিছুদিন ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশের সুন্দরবনের তালপট্টি দ্বীপের দিকে এগোতে শুরু করে বাঘটি। ছোট হরিখালি, বড় হরিখালি এমনকি রাইমঙ্গল নদীও এটি পার হয়।’

ভারতের বন বিভাগের কর্মকর্তা পারভীন কাসওয়ান মঙ্গলবার সকালে টুইটবার্তায় বলেন, ‘বাঘটি ভিসা ছাড়া ভারত থেকে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। খাড়ি, দ্বীপ ও সাগর অতিক্রম করে এটি।’

টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে যাদব বলেন, ২৭ ডিসেম্বর থেকে ১১ মে পর্যন্ত ওই বাঘ তিনটি দ্বীপ অতিক্রম করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতের সুন্দরবনে হরিণভাঙ্গা ও খাতুয়াঝুড়ি এবং বাংলাদেশের তালপট্টি।

১১ মের পর বাঘটির গলার রেডিও কলার থেকে সংকেত আসা বন্ধ হয়ে যায়। সংকেত অনুযায়ী বাঘটির সর্বশেষ অবস্থান ছিল তালপট্টি দ্বীপে।

যাদব বলেন, ‘কোনো কারণে বাঘটির মৃত্যু হলে তা রেডিও কলার জানাবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো সংকেত আমরা পাইনি। এ ছাড়া কলার থেকে কোনো স্থির সংকেতও পাওয়া যায়নি। এর অর্থ বাঘটি নিরাপদেই আছে। এটির গলা থেকে কলারটি পড়ে যেতে পারে।’

এ খবরটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বাঘ বনের একটি নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এই এলাকা রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি চালায় বাঘটি।

খাদ্যের সন্ধান ও প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা কারণে কখনও কখনও বাঘ নিজ এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় যায়। তবে পরে সেটি আবার নিজের এলাকাতেই ফিরে আসে। এ ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আবু নাসের মোহসিন হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুন্দরবনের ভারতীয় অংশ থেকে গলায় রেডিও কলার যুক্ত যে বাঘটি ফিরে এসেছে, সেটি মূলত সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বাঘ। এটি বর্তমানে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে অবস্থান করছে। আমরা বাঘটির অবস্থান শনাক্তের জন্য পশ্চিম সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় ক্যামেরা ট্র্যাকিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছি।

‘সবশেষ ২০১৭-১৮ সালে ক্যামেরা ট্র্যাকিং পদ্ধতিতে যে বাঘশুমারি হয়েছিল, তাতে বাংলাদেশের অংশে ১১৪টি বাঘ শনাক্ত করা হয়। ওই সময়ে যে ছবিগুলো তোলা হয়েছিল, তার মধ্যে একটি ছবির সঙ্গে ফিরে আসা বাঘের ডোরাকাটা দাগের মিল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বন বিভাগের কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন, এটা বাংলাদেশ অংশের বাঘ। কারণ, সবশেষ বাঘশুমারিতে তাদের কাছে বাঘের যে ছবি রয়েছে, তার সঙ্গে ওই বাঘটির কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। এতেই তো নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ফিরে আসা বাঘটি বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশের।’

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বণ্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সুন্দরবনের একটি পুরুষ বাঘ দুই শ থেকে আড়াই শ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তার এলাকা প্রতিষ্ঠা করে। পুরুষ বাঘটির সঙ্গে দুই থেকে সাতটি পর্যন্ত বাঘিনী ওই এলাকায় থাকতে পারে। বাঘ সব সময় তার এলাকা পাহারা দেয়। খাদ্যের সন্ধানে বা অন্য কোনো কারণে এরা অন্য এলাকায় যেতে পারে। কোনো কারণে হয়তো বাঘটি হাড়িভাঙ্গা নদী পেরিয়ে ভারতের অংশে ঢুকে পড়ে। তখন হয়তো তারা বাঘটিকে ধরে গলায় স্যাটেলাইট চিপসযুক্ত রেডিও কলার পরিয়ে দেয়।

‘এ ছাড়া সুন্দরবনের বাঘের বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তাকে আপনি যতদিনই আটকে রাখেন না কেন, ছাড়া পেলে সে ঠিকই তার এলাকায় ফিরে আসবে। সে হিসাবে যে বাঘটি ফিরে এসেছে সেটি সুন্দরবনের বাংলাদেশের অংশের বাঘ বলে ধরে নেয়া যায়।’

আজাদ কবির জানান, ২০১৩-২০১৫ সালে যে বাঘশুমারি করা হয়েছিল, তাতে বাংলাদেশের ১০৬টি ও ভারতের অংশে ৬৮টি বাঘ ধরা পড়েছিল। আর সর্বশেষ ২০১৭-১৮ বাঘশুমারিতে বাংলাদেশের ১১৪টি ও ভারতের অংশে ৭৮টি বাঘ ধরা পড়েছিল। সে হিসাবে বাংলাদেশের অংশে বাঘের সংখ্যা সব সময় বেশি ছিল।

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে যত মানুষ আছে তাদের প্রত্যেকের ফিঙ্গার প্রিন্ট যেমন আলাদা, ঠিক তেমনি প্রতিটি বাঘের ডোরাকাটা দাগ কিন্তু আলাদা হয়। এ কারণে সহজেই কিন্তু বাঘটি কোন অংশের সেটি শনাক্ত করা সম্ভব।’

আরও পড়ুন:
‘লিচু পাড়লেই গ্রেপ্তার’
ফেটে যাচ্ছে লিচু
তাপে ফাটছে গাছের লিচু, চিন্তায় কৃষক
দুই ঘণ্টায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি
বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ে লিচুর ফলন কম

শেয়ার করুন