সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জব্দ করা মিনিবাস। ছবি: নিউজবাংলা

বাসে তরুণীকে ধর্ষণ: অভিযোগ স্বীকার চালকের

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম জানান, আদালতে বাসচালক ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ও বাকিদের তিন দিনের রিমান্ডে দেন।

সাভারের আশুলিয়ার বিশমাইলে চলন্ত বাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার বাসচালক আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বাকি পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেছেন ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাহাজাদী তাহমিদা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম শনিবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি জানান, শুক্রবার সকালে চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় রাতেই ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হয়।

আদালতে বাসচালক ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ও বাকিদের তিন দিনের রিমান্ডে দেন।

এর আগে হাইওয়ে পুলিশের বরাত দিয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবদুর রশিদ জানান, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন ওই তরুণী। ছুটির দিন শুক্রবার সকালে চাষাঢ়া থেকে মানিকগঞ্জে বোনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি।

বিকেলে ফেরার পথে নবীনগরে দেখা হয় পূর্বপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে। পরে তারা একসঙ্গে নবীনগর থেকে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য নিউ গ্রাম বাংলা পরিবহনের একটি মিনিবাসে ওঠেন।

মিনিবাসটি উত্তরার আব্দুল্লাহপুর পৌঁছানোর কিছু আগে সব যাত্রী নেমে যান। এরপর বাসে ওঠেন চার যুবক। চলন্ত অবস্থায় বাসচালক, হেলপার ও চার যুবক সঙ্গে থাকা ছেলেটিকে আটকে রেখে তরুণীকে ধর্ষণ করেন।

আরও পড়ুন:
শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ইমাম গ্রেপ্তার
যুবককে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: পুলিশ
চলন্ত বাসে ‌‌‌‌‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৬
লক্ষ্মীপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
পোশাককর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তিনজনকে গুলি করে হত্যার পেছনে কী

তিনজনকে গুলি করে হত্যার পেছনে কী

নিজের স্ত্রী ও আগের ঘরের সন্তানকে কেন পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। হত্যার ঘটনার তদন্তে খুলনায় গঠিত হয়েছে আলাদা তদন্ত কমিটি।

খুনোখুনি কোনো নতুন ঘটনা নয়। তবে কুষ্টিয়া যা দেখেছে, তা বিরলই বলা চলে।

নিজের স্ত্রী, যার আগের সংসারের বাচ্চাকে মেনে নিয়েই বিয়ে করেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, সেই তিনিই কী আক্রোশে স্ত্রী ও সন্তানকে ধরে এনে পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যা করেছেন, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

খুনের অভিযোগ খুলনার ফুলতলা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সৌমেনের বিরুদ্ধে। এই দুজনকে ছাড়াও হত্যা করা হয়েছে আরও একজনকে, যার সঙ্গে তার স্ত্রীর সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করছিলেন সৌমেন।

সৌমেন রায় পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেন আসমা খাতুনকে। এটি সৌমেনের দ্বিতীয় বিয়ে হলেও আসমার তৃতীয়।

আসমা এর আগে বিয়ে করেন সুজন ও রুবেল নামে দুজনকে। রুবেলের ঘরের সন্তান হলো রবিন।

আসমা খাতুন কুমারখালী উপজেলার যদবয়রা ইউনিয়নের ভবানীপুরের আমির উদ্দিনের মেয়ে। কিন্তু তিনি বড় হন তার নানিবাড়ি বাগুলাট ইউনিয়নের নাতুড়িয়ায়। সন্তান, মা ও ভাইকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের আমলাপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।

কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে বেলা ১১টার দিকে তিন খুনের ওই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসমা তার শিশুসন্তানকে নিয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কাস্টম মোড়ে তিনতলা একটি ভবনের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিকাশকর্মী শাকিলও। হঠাৎ সেখানে পৌঁছে সৌমেন পিস্তল বের করে আসমার মাথায় গুলি করেন। পাশে থাকা শাকিলের মাথায়ও গুলি করেন তিনি। আসমার ছেলে রবিন পালাতে গেলে তাকে ধরে মাথায় গুলি করা হয়।

এ সময় আশপাশের লোকজন সৌমেনকে ধরতে গেলে তিনি দৌড়ে তিনতলা ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে লোকজন ভবনটি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন।

একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সৌমেনকে গ্রেপ্তার করে। গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) খায়রুল আলম সাংবাদিকদের জানান, শাকিলের সঙ্গে আসমার বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি জব্দ করা হয়েছে।

মেয়েকে গুলি করে হত্যার খবর শুনে কুষ্টিয়া হাসপাতালে আসেন মা হাসিনা খাতুন। তিনি বলেন, কয়েক মাস ধরে এএসআই সৌমেন আসমাকে নির্যাতন করে আসছেন। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম আসমাকে সৌমেনের সাবেক স্ত্রী বললেও মা হাসিনা খাতুন বলেন, ‘তাদের এখনও ছাড়াছাড়ি হয়নি।

‘রোববার সকালে এসে সৌমেন তার স্ত্রী ও সন্তানকে খুলনা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পরে জানতে পারি তিনি তাদের গুলি করে মেরেছেন।’

মরদেহের পাশে কাঁদছিলেন আসমার ভাই হাসান। শাকিলের সঙ্গে আসমার সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আসমার সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা বলতে গিয়ে সম্পর্ক হয়। তারা বন্ধু ছিলেন। শাকিলের বাড়ি কুমারখালীর শাওতা গ্রামে।

কাঁদতে কাঁদতে শাকিলের বোন লিপি খাতুন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কী দোষ? আরেকজনের ওপর রাগ করে তকে মেরে ফেলল।’

এএসআই সৌমেনের বাড়ি মাগুরার শালিখা উপজেলার কসবা গ্রামে। খুলনায় তিনি প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে থাকেন।

হত্যার তদন্ত

তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) তানভীর আহমেদ ও রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম।

খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সভাপতি পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ। অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন ও কুষ্টিয়া ডিআইও-১ ফয়সাল হোসেন।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় গঠিত কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) তানভীর আহমেদ। অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) মো. খায়রুল আলম ও জেলা বিশেষ শাখার ডিআইও-১ শেখ মাসুদুর রহমান।

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) তানভীর আহমেদ বলেন, প্রশাসনিক বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে। বিশেষ করে এএসআই সৌমেন রায় কর্মস্থলে কেন অনুপস্থিত ছিলেন, তার নামে অস্ত্র ইস্যু হয়েছে কি না এবং পারিবারিক ও মানসিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

অতিরিক্ত ডিআইজি (অ্যাডমিন) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম বলেন, রেঞ্জ কার্যালয় দুই কার্যদিবস ও জেলা পুলিশ সাত কার্যদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

আরও পড়ুন:
শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ইমাম গ্রেপ্তার
যুবককে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: পুলিশ
চলন্ত বাসে ‌‌‌‌‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৬
লক্ষ্মীপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
পোশাককর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব

দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব

লাখী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জুয়েল, রফিক ও বাচ্চু। ছবি: নিউজবাংলা

প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রোববার দুপুরে র‍্যাব জানায়, তালাকের পর স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ের কথা জেনেই তাকের হত্যার পরিকল্পনা করেন জুয়েল।

ঢাকার সাভারে বাঁশঝাড় থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাবেক স্বামীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গাজীপুরের কাশিমপুর থানার মাটি মসজিদ এলাকা থেকে শনিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন নিহত তরুণী লাখী আক্তারের স্বামী আশুলিয়ার সুবন্দি এলাকার মো. জুয়েল, তার বাবা মো. রফিক ও একই এলাকার বাচ্চু মিয়া।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রোববার দুপুরে র‍্যাব জানায়, তালাকের পর স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ের কথা জেনেই তাকের হত্যার পরিকল্পনা করেন জুয়েল।

র‍্যাব জানায়, গত ৯ জুন সাভারের আশুলিয়ার সুবন্দির একটি বাঁশঝাড় থেকে লাখীর মরদেহ উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত শুরু করে র‍্যাব।

তাদের তদন্তে জুয়েলের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে ও তার বাবাকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় সহযোগিতার জন্য বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা লাখী হত্যায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।

দ্বিতীয় বিয়ে ঠিক হওয়ায় সাবেক স্ত্রীকে হত্যা: র‍্যাব
নিহত লাখী আক্তার

তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, জুয়েল মাদকসেবী। তিনি চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বিয়ের পর থেকেই লাখীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন। চার বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে লাখী আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া এলাকায় বাবার বাড়িতে থাকা শুরু করে।

কিন্তু বিচ্ছেদের পর তিনি আবারও লাখীকে স্ত্রী হিসেবে নিতে চান কিন্তু পরিবারের কেউ রাজি না হওয়ায় লাখীকে হত্যার হুমকি দেন। এরপর গত ২ মে এক সিঙ্গাপুর প্রবাসীর সঙ্গে লাখীর বিয়ে ঠিক হওয়ার খবর পেয়ে আবারও হুমকি দেন।

৮ জুন তিনি কৌশলে লাখীকে বাড়ির পাশের জঙ্গলে ডেকে নেন। এরপর তিনি, তার বাবা ও বাচ্চু মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান।

র‍্যাব-১-এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোর্শেদুল হাসান জানান, রোববার সকালে গ্রেপ্তার আসামিদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে দুপুরে তাদের ঢাকার মুখ্য বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ইমাম গ্রেপ্তার
যুবককে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: পুলিশ
চলন্ত বাসে ‌‌‌‌‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৬
লক্ষ্মীপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
পোশাককর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

গণপূর্ত ভবনে মহড়া: আ.লীগের দুই নেতার আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ

গণপূর্ত ভবনে মহড়া: আ.লীগের দুই নেতার আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ

পাবনা গণপূর্ত বিভাগে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন ঠিকাদারের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়ার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে

পুলিশ জানায়, গত ৬ জুন দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী রেজা খান মামুন ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে গণপূর্ত ভবনে যায়।

পাবনায় গণপূর্ত ভবনে ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতাদের মহড়ার ঘটনায় ব্যবহার করা দুটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে অস্ত্র দুটি জব্দ করার পর সদর থানায় নিয়ে আসা হয়।

আলোচিত এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও গণপূর্ত বিভাগ অভিযোগ না দেয়ায় কোনো মামলা হয়নি। শুধু পুলিশের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৬ জুন দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী রেজা খান মামুন ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে গণপূর্ত ভবনে যায়।

দলটি ভিন্ন কক্ষে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমকে খোঁজে। পরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কক্ষে যান তারা। কিছুক্ষণ পর তারা সেখান থেকে বের হয়ে যান।

এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে তদন্তে নামে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন হলে জেলাজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দ করে।

আওয়ামী লীগের নেতাদের দাবি অবশ্য শোডাউন নয়, নিরাপত্তার স্বার্থে বৈধ অস্ত্র বহন করছিলেন তারা। তবে তদন্তে অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান জানান, শহরের ছাতিয়ানীতে পাবনা গণপূর্তের অফিসে ঢোকার সময় মামুন ও লালুর হাতে শটগান ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে গণপূর্ত বিভাগ কোনো অভিযোগ না দেয়ায় ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে শুধু পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।

প্রথমে জানা না গেলেও রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে জেলাজুড়ে তোলপাড় হয়। ওঠে নিন্দার ঝড়।

এ ঘটনায় বিব্রত আওয়ামী লীগ নেতারাও। তবে অভিযোগ না থাকায় দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা।

আরও পড়ুন:
শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ইমাম গ্রেপ্তার
যুবককে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: পুলিশ
চলন্ত বাসে ‌‌‌‌‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৬
লক্ষ্মীপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
পোশাককর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

ছাত্রদের ওপর হামলা: চার সদস্যের তদন্ত কমিটি

ছাত্রদের ওপর হামলা: চার সদস্যের তদন্ত কমিটি

রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল ইসলাম রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শনিবার ওই কমটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোস্তফা জামান চৌধুরীকে। অন্য সদস্যরা হলেন-সার্জারি বিভাগের গোলাম ফারুক, জরুরি বিভাগের ইনচার্জ আবুল হাসান, ওয়ার্ড মাস্টার মাহমুদ হাসান।

৫ কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলেও জানান হাসপাতাল পরিচালক।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম রিয়াদ ও তার ছোটভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ করিম।

এ সময় ভর্তির ৩০ টাকার বদলে ১০০ টাকা নেন হাসপাতালের কর্মচারীরা। রিয়াদ এই টাকার রশিদ চাইলে তাকে মারধর করেন তারা। রিয়াদকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হামলার শিকার হন তার ছোট ভাই রাশেদও।

রিয়াদ ও রাশেদ বর্তমানে ওই হাসপাতালেরই সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গেল তিন দিনেও এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকেল ৪ টায় প্রেসক্লাব চত্বর থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল অভিমুখে গণপদযাত্রা করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ‘এত বড় একটি ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। আমরা চাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। এই দাবিতেই আমরা গণপদযাত্রা কর্মসূচি দিয়েছি। আমরা সেখানে গিয়ে একটি সমাবেশ করব।’

আহত রেজওয়ানুল ইসলাম রিয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। কারণ, চিকিৎসার ক্ষতি হতে পারে। আগে ছেলেরা সুস্থ হোক। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা তাই করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চাই ভিক্টিম মামলা করুক। আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি তাজহাট জোন) আলতাফ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ নিয়ে ভিক্টিম এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নিব।’

রংপুর মেডিক্যোল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক রেজাউল ইসলাম বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ইমাম গ্রেপ্তার
যুবককে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: পুলিশ
চলন্ত বাসে ‌‌‌‌‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৬
লক্ষ্মীপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
পোশাককর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

স্ত্রীসহ ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করলেন এএসআই সৌমেন

স্ত্রীসহ ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করলেন এএসআই সৌমেন

গুলি করে স্ত্রীসহ তিনজনকে হত্যায় অভিযুক্ত এএসআই সৌমেন রায়। ছবি: নিউজবাংলা

কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলি চালানো সৌমেনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত এএসআই সৌমেন খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত।

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্য রাস্তায় স্ত্রী ও আগের ঘরের শিশুসন্তানসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যা করেছেন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সৌমেন রায়। নিহতরা হলেন সৌমেনের দ্বিতীয় স্ত্রী আসমা আক্তার, আসমার আগের ঘরের সন্তান রবিন ও স্থানীয় বিকাশকর্মী শাকিল।

কুষ্টিয়া শহরের কাস্টমস মোড়ে বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলি চালানো সৌমেনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এএসআই সৌমেন খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসমা তার শিশুসন্তানকে নিয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কাস্টম মোড়ে তিনতলা একটি ভবনের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন বিকাশকর্মী শাকিলও। হঠাৎ সেখানে পৌঁছে সৌমেন পিস্তল বের করে আসমার মাথায় গুলি করেন। পাশে থাকা শাকিলের মাথায়ও গুলি করেন তিনি। আসমার ছেলে রবিন পালাতে গেলে তাকে ধরে মাথায় গুলি করা হয়।

এ সময় আশপাশের লোকজন সৌমেনকে ধরতে গেলে তিনি দৌড়ে তিনতলা ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে লোকজন ভবনটি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন।

একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সৌমেনকে গ্রেপ্তার করে। গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) খায়রুল আলম সাংবাদিকদের জানান, শাকিলের সঙ্গে আসমার বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি জব্দ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এএসআই সৌমেন গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। তবে এর কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য এখনও দেননি।

পুলিশ সূত্র জানায়, কুষ্টিয়াতে হালসা ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকার সময়ে সৌমেনের সঙ্গে বিকাশকর্মী শাকিলের পরিচয় হয়। তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

স্ত্রীসহ ৩ জনকে গুলি করে হত্যা করলেন এএসআই সৌমেন

শাকিলের বাড়ি কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের সাওতাকারিগর পাড়ায়। তারই প্রতিবেশী আসমা আক্তার। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের পর আসমা তার ছেলে রবিনকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকছিলেন।

পুলিশ জানায়, এএসআই সৌমেনের সঙ্গে দেড় বছর আগে আসমার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর তারা বিয়ে করেন। তবে ধর্মীয় কারণে এই সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। সম্প্রতি সৌমেন পরিবারের ইচ্ছায় আরেকটি বিয়ে করেন। এর আগে কুষ্টিয়া থেকে বদলি হয়ে তিনি খুলনার ফুলবাড়িয়ায় চলে যান।

আরও পড়ুন:
শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ইমাম গ্রেপ্তার
যুবককে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: পুলিশ
চলন্ত বাসে ‌‌‌‌‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৬
লক্ষ্মীপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
পোশাককর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

ডাকাতিতে নিঃস্ব সৌদিফেরত যুবকের বিয়ে থেমে গেছে

ডাকাতিতে নিঃস্ব সৌদিফেরত যুবকের বিয়ে থেমে গেছে

ডাকাতদের হাতে সবকিছু হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া সৌদি প্রবাসী আকরাম হোসেন শাহিনের ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ছবি: ফেসবুক

ডাকাতদলের হাতে সব হারানো সৌদিফেরত যুবক আকরাম হোসেন শাহিন বলেন, ‘প্রায় তিন বছরের সঞ্চয় নিয়ে বিয়ে করার উদ্দেশে দেশে আসি। এখন এই পরিস্থিতিতে হাত একেবারেই খালি। তাই বিয়ে পিছিয়ে গেছে। মেয়েপক্ষের লোকজনও বাড়িতে এসে সমবেদনা জানিয়ে বলে গেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিয়ের আয়োজন করবেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক কবে হবে সেই আশাতেই আছি।’

‘যার জন্য বছরের পর বছর কষ্ট করলাম। সঞ্চয়ের টাকায় কেনাকাটা করলাম। একরাতে তার সবকিছুই তছনছ করে দিল ডাকাতরা। বিয়েটাও পিছিয়ে গেল।’ নিউজবাংলাকে কথাগুলো বলার সময় জড়িয়ে আসে সৌদি থেকে দেশে পা রাখতেই ডাকাতের হাতে সব হারানো যুবক আকরাম হোসেন শাহিনের কণ্ঠ।

গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে গাড়িতে করে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় বাড়ি যাওয়ার সময় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার মোগড়া পাড়া সড়কে ডাকাতের কবলে পড়েন শাহিন। এ সময় তার গাড়ির সামনে ও পেছনে আরও অনেক গাড়ি ছিল। লোকজন ছিল। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জানালেন শাহিন।

ঘটনার আকস্মিকতায় সব হারিয়ে শাহিন দিশেহারা হয়ে রাস্তায় বসে আর্তনাদ করেন। এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। নিউজবাংলার পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানাকে জানানো হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি দাগনভূঞা ও সোনারগাঁও থানা-পুলিশকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

সোনারগাঁও থানা-পুলিশ শনিবার ফেনী থেকে শাহিনকে সোনারগাঁও থানায় ডেকে পাঠায়। তার বয়ান শুনে অভিযোগ রেকর্ড করেন। অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কিংবা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে কি না জানেন না শাহিন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনারগাঁও থানার ওসি হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, সৌদি প্রবাসী যুবকের বর্ণনা ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ডাকাতদলের সদস্যদের শনাক্তের কাজ চলছে।

যেভাবে ডাকাতদলের কবলে পড়েন

শাহিনের ভাষ্যমতে, তার বড় ভাই ও ভগ্নিপতি কোম্পানীগঞ্জের পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে গাড়ি ভাড়া করেন। গাড়ি ভাড়ার সময় পূর্বপরিচিত যার সঙ্গে কথা হয়েছে, তিনি না গিয়ে আরেক চালককে পাঠান। বিমানবন্দর থেকে সেই গাড়িতে ওঠেন শাহিন, তার বড় ভাই ও ভগ্নিপতি।

বিমানবন্দর থেকে যে রুটে চালককে যেতে বলা হয়, তার কোনোটিতেই যেতে রাজি হননি চালক। চালক নিজেই তার পছন্দের রুটে গাড়ি চালিয়ে যান। মোগড়া পাড়ায় পৌঁছালে দেখেন, তার সামনে একাধিক গাড়ি রাস্তায় বড় বড় ব্লক ও গাছের গুঁড়ি ফেলে আটকে রাখা হয়েছে। তার পেছনেও হানিফ পরিবহনের গাড়ি, অন্যান্য যানবাহন ছিল। হঠাৎ রাস্তার ঢাল থেকে ৭-৮ জন লোক ধারালো অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে আসে। সব লাইট বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। দরজা খুলতে বলে। তাদের কথা না শুনলে তারা গাড়ির জানালা ভেঙে ফেলবে বলে। পরে সবাইকে জিম্মি করে গাড়ি থেকে সবকিছু নিয়ে যায়।

শাহিন জানান, শুরু থেকেই চালকের কর্মকাণ্ড সন্দেহ তৈরি করেছে। তার সঙ্গে ডাকাতদলের কোনো যোগসাজশ আছে কি না তা পুলিশ তদন্ত করছে। পুলিশের কাছে যাওয়ার বিষয়টি শাহিন চালককেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর চালককে ফোনে জানিয়েছি, তাকে যেকোনো সময় পুলিশ ডাকতে পারে। তিনিও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।’

ডাকাতিতে নিঃস্ব সৌদিফেরত যুবকের বিয়ে থেমে গেছে
আকরাম হোসেন শাহিন

যেসব মালামাল লুট করেছে

শাহিনের কাছে থাকা একাধিক লাগেজে দুটি নতুন আইফোন, হবু স্ত্রীর জন্য কেনা প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার, বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস, ৫০-৬০ হাজার টাকা মূল্যের সৌদি রিয়াল, নতুন জামাকাপড় ও ভিসা লাগানো পাসপোর্ট ছিল। এর সবই নিয়ে গেছে ডাকাতরা।

বিয়ে পিছিয়েছে

শাহিন বলেন, ‘ডাকাতি হওয়ার পর আমার কাছে আর কিছুই নেই। প্রায় তিন বছর ধরে সৌদি আরবে কষ্টের চাকরির টাকা সঞ্চয় করেছিলাম। পরিবারের পছন্দ করা হবু স্ত্রীর জন্য প্রতি মাসে একটা একটা করে জিনিস কিনেছি। কোনো মাসে মোবাইল, কোনো মাসে স্বর্ণালংকার আবার কোনো মাসে কসমেটিকস কিনেছিলাম।

‘এভাবে প্রায় তিন বছরের সঞ্চয় নিয়ে বিয়ে করার উদ্দেশেই দেশে আসি। এখন এই পরিস্থিতিতে হাত একেবারেই খালি। তাই বিয়ে পিছিয়ে গেছে। মেয়েপক্ষের লোকজনও বাড়িতে এসে সমবেদনা জানিয়ে বলে গেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিয়ের আয়োজন করবেন। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক কবে হবে সেই আশাতেই আছি।’

নারায়ণগঞ্জ থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, ডাকাতির রাতে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছের গুঁড়ি ও ব্লক সরিয়ে রাস্তা ক্লিয়ার করেছে। সবাই যে যার মতো চলে গেছে, যার কারণে বোঝা যাচ্ছে না, ওই রাতে শুধুই কি সৌদি প্রবাসী যুবকের গাড়িতে ডাকাতি হয়েছে, নাকি অন্যান্য গাড়িতেও ডাকাতি হয়েছে।

ডাকাতদলের সঙ্গে চালকের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মনে হয় না। এটি র‌্যান্ডমলি হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ইমাম গ্রেপ্তার
যুবককে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: পুলিশ
চলন্ত বাসে ‌‌‌‌‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৬
লক্ষ্মীপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
পোশাককর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

কানে শুনছেন না মারধরের শিকার সেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

হাসপাতাল কর্মচারীদের মারধরের শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রেজওয়ানুল রিয়াদ। ছবি: নিউজবাংলা

রেজওয়ানুল রিয়াদ বলেন, ‘আমি বাম কানে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। এটা নিয়ে ডাক্তারকে প্রশ্ন করলে তারা বলেছেন, তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। এজন্য চারটা পরীক্ষা দিয়েছে, পরীক্ষাগুলো ঢাকায় করাতে বলেছেন তারা।’

অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারীদের মারধরে

গুরুতর আহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম বাম কানে শুনতে পাচ্ছেন না।

শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেজওয়ানুল রিয়াদ বলেন, ‘আমি বাম কানে কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। এটা নিয়ে ডাক্তারকে প্রশ্ন করলে তারা বলেছেন, তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। এজন্য চারটা পরীক্ষা দিয়েছে, পরীক্ষাগুলো ঢাকায় করাতে বলেছেন তারা।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের ডান হাতটা ভেঙেছে। তাকেও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল করিম রিয়াদ ও তার ছোটভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাশেদ করিম।

এ সময় ভর্তির ৩০ টাকার বদলে ১০০ টাকা নেন হাসপাতালের কর্মচারীরা। রিয়াদ এই টাকার রশিদ চাইলে তাকে মারধর করেন তারা। রিয়াদকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে হামলার শিকার হন তার ছোট ভাই রাশেদও।

রিয়াদ ও রাশেদ বর্তমানে ওই হাসপাতালেরই সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসপাতালের কর্মচারী উদয় ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার বিকালে ক্যাম্পাস সংলগ্ন পার্কের মোড়ে মানববন্ধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার রাত পৌনে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রশিদ।

তিনি বলেন, ‘এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

রেজওয়ানের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। মামলা করব কিনা এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। আগে ছেলেরা সুস্থ্ হোক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত এই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসি। মামলা করলে তো তারা আমাদের ছাড়বে না। আমরা এখনও সিদ্ধান্ত নিইনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ইতোমধ্যে যে অভিযুক্ত উদয়ের বাবা কয়েক দফা মাফ চেয়েছেন। আমরা বলেছি, বিষয়টি আমরা পরে দেখব। এখন ভিকটিম যদি মামলা করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ওই ছাত্রদের যাতে চিকিৎসার কোনো ধরনের ত্রুটি না হয় সেটি আমরা নিশ্চিত করেছি।’

রংপুর মেডিক্যালের পরিচালক ডা. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করব। আমাদের কোনো স্টাফ অপরাধী হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, ইমাম গ্রেপ্তার
যুবককে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: পুলিশ
চলন্ত বাসে ‌‌‌‌‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, গ্রেপ্তার ৬
লক্ষ্মীপুরে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
পোশাককর্মীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন