পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হন ‘টিকটক হৃদয়’

গুলিবিদ্ধ রিফাদুল ইসলাম হৃদয়। ছবি: সংগৃহীত

পালানোর সময় গুলিবিদ্ধ হন ‘টিকটক হৃদয়’

‘আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা- ইন্টারপোলের লিংকআপে থাকা এনসিবি ঢাকা যোগাযোগ রক্ষা করে বিদেশে থাকা আসামিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে থাকে। তবে কেরালায় নির্যাতনের ঘটনায় ‘‘টিকটক হৃদয়’’সহ অন্য আসামিদের বিষয়ে দিল্লির এনসিবি আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। আমরাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’

পালানোর চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হন ‘টিকটক হৃদয়’। পরে ভারতের বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তাকে দেশে আনার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশি এই তরুণের পুরো নাম রিফাদুল ইসলাম হৃদয়। তিনি ‘টিকটক হৃদয়’ হিসেবে পরিচিত।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি (ন্যাশনাল সেন্টার ব্যুরো) ঢাকার মাধ্যমে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হৃদয়ের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এখন হাতিরঝিল থানায় করা মামলার তদন্তের জন্য টিকটক হৃদয়সহ অন্যান্য আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’

ভারতের কেরালায় বাংলাদেশি তরুণীকে নৃশংস যৌন নির্যাতন ও ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।

তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকার হাতিরঝিলের বাসিন্দা রিফাদুল ইসলাম হৃদয় রয়েছেন, যিনি এলাকায় ‘টিকটক হৃদয় বাবু’ নামে পরিচিত। গ্রেপ্তার অপর চারজনের মধ্যে তিনজন হলেন মোহাম্মদ বাবা শেখ, সাগর ও অখিল। গ্রেপ্তার নারীর পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবির সহকারী মহাপরিদর্শক মো. মহিউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা- ইন্টারপোলের লিংকআপে থাকা এনসিবি ঢাকা যোগাযোগ রক্ষা করে বিদেশে থাকা আসামিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে থাকে। তবে কেরালায় নির্যাতনের ঘটনায় ‘‘টিকটক হৃদয়’’সহ অন্য আসামিদের বিষয়ে দিল্লির এনসিবি আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। আমরাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’

পুলিশ জানায়, সংঘবদ্ধ পাচারকারীদের নৃশংস যৌন নিপীড়নের ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দুই দেশের পুলিশ ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে তৎপর হয়। এরই একপর্যায়ে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশের অভিযানে টিকটক হৃদয়সহ পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার হন।

গ্রেপ্তারের সময় পালানোর চেষ্টাকালে সেখানকার পুলিশ তাকে পায়ে গুলি করে। ‘টিকটক হৃদয়’ সেখানকার স্থানীয় হাসপাতালে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, ‘টিকটক হৃদয়’সহ গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘গৌরাঙ্গ খুনি নন, তিনি খুন হয়েছেন’

‘গৌরাঙ্গ খুনি নন, তিনি খুন হয়েছেন’

গৌরাঙ্গের বড় ভাই মোহরচাঁদ সরকার বলেন, ‘আমার ভাই নিরীহ মানুষ। ওই রাতে সেও খুন হয়েছে। তাদের দুজনকে হত্যা করেছে খুনিরা। অথচ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’

সিলেটের ওসমানী নগরে স্কুলশিক্ষক তপতী রানী দে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ বৈদ্যকে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা পরিবার। গৌরাঙ্গের ভাইয়ের দাবি, তপতী রানীর সঙ্গে একইদিনে গৌরাঙ্গও খুন হন।

ওসমানী নগরের দয়ামীর ইউনিয়নের সোয়ারগাঁও এলাকার গত শনিবার (১৯ জুন) মধ্যরাতে নিজ ঘরে পাওয়া যায় তপতীর গলাকাটা মরদেহ। পাশে ঝুলছিল গৌরাঙ্গ বৈদ্যের মরদেহও।

পুলিশের ধারণা, গৌরাঙ্গই গৃহকর্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা করেছেন। পরে নিজে ফাঁস লেগে আত্মহত্যা করেন।

গৌরাঙ্গের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলায়। তিনি কাজের জন্য তপতীর বাড়িতেই থাকতেন।

তপতী রানীর পরিবারের অভিযোগও গৌরাঙ্গের দিকে। মা হত্যার ঘটনায় রোববার রাতে ওসমানীনগর থানায় মামলা করেন তপতীর চিকিৎসক ছেলে তন্ময় দে বিপ্লব। মামলায় মৃত গৌরাঙ্গ বৈদ্যকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

গৌরাঙ্গের বড় ভাই মোহরচাঁদ সরকার বলেন, ‘আমার ভাই নিরীহ মানুষ। ওই রাতে সেও খুন হয়েছে। তাদের দুজনকে হত্যা করেছে খুনিরা। অথচ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’

তপতী ও গৌরাঙ্গ হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এমনটি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভাইয়ের ‘খুনিদের’ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

মোহরচাঁদ বলেন, ‘গৌরাঙ্গ হত্যার ঘটনায় আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করব।’

তবে পুলিশ বলছে, গৌরাঙ্গের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

অপমৃত্যু মামলার বাদী গৌরাঙ্গ বৈদ্যের আরেক ভাই গোবিন্দ বৈদ্য বলেন, ‘ময়নাতদন্তের কথা বলে পুলিশ আমার স্বাক্ষর নিয়েছিল। আমি কোনো অপমৃত্যু মামলা করিনি। পরিকল্পিতভাবে স্কুলমাস্টারকে খুনের পর আমার ভাইকে হত্যা করে খুনিরা লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে।’

গৌরাঙ্গের পরিবারের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে তন্ময় দে বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তাপতী রাণী দে উপজেলার সোয়ারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্বামী বিজয় দে ও দুই ছেলেমেয়ে চিকিৎসক।

পুলিশ জানিয়েছে, তপতীর মৃতদেহের পাশ থেকে একটি ছুরি ও একটি বটি পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে এ দুইটি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার পর কোনো এক সময়ে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে।

প্রতিবেশীরা জানান, শনিবার বিকেলে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে গিয়েছিলেন তপতীর স্বামী ও ছেলে। ঘরে তপতী ও গৌরাঙ্গ ছিলেন। এক প্রতিবেশি রাত ১১টার দিকে টয়লেটের জানালা দিয়ে গৌরাঙ্গর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। প্রায় সে সময় তপতীর স্বামী বিজয় বাড়ি ফেরেন। তিনি সে দৃশ্য দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মেঝে থেকে তপতীর গলাকাটা ও গৌরাঙ্গর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

গৌরাঙ্গ বৈদ্যের ভাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, সব কিছুই পুলিশের তদন্তে রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ সবদিক পর্যালোচনার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।

এ ঘটনার পরদিন রোববার দুপুরে সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি তপতীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে নিজে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ।

‘তপতী রানী যে বাড়িতে থাকতেন সেই বাড়ির নিরাপত্তা ব্যাবস্থা খুবই শক্ত। ভেতর থেকে ফটক তালা দেয়াই ছিল। ফলে বাইরে থেকে কেউ ভেতরে প্রবেশের কোনো আলামত পাইনি। ক্ষোভের বশে গৌরাঙ্গই তপতী রানীকে হত্যা করতে পারে। আপাতত এই ধারণা থেকেই তদন্ত এগোচ্ছি। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’

আরও পড়ুন:
কেরালায় বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, ‘টিকটক হৃদয়’সহ গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

২০১৬ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার চুরির এক নিখুঁত পরিকল্পনা সাজায়। ছবি: নিউজবাংলা

পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরির ঘটনা সারা বিশ্বে তোলপাড় তোলে। এটি আন্তর্জাতিক হ্যাকিংয়ের ইতিহাসে এক দুর্ধর্ষ ঘটনা। এই ঘটনায় শুধু বাংলাদেশই নয়, যুক্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, চীন ও শ্রীলঙ্কা। উত্তর কোরিয়ার একদল হ্যাকার কীভাবে ১ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, কীভাবে তাদের নিখুঁত পরিকল্পনা ঘটনাচক্রে কেঁচে যায়, সে কাহিনি উঠে এসেছে বিবিসি ওয়ার্ল্ডের ১০ পর্বের পডকাস্টে। সেটির সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

২০১৬ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার চুরির এক নিখুঁত পরিকল্পনা সাজায়। তারা প্রায় সফল হয়েই গিয়েছিল। নেহাত ভাগ্যের জোরে তাদের পরিকল্পনা হোঁচট খায়। বাংলাদেশ ৮১ মিলিয়ন ডলার খোয়ানোর পর এই চুরি ঠেকাতে সক্ষম হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র ও বিচ্ছিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়া কীভাবে এত চৌকস একটি সাইবার অপরাধী দল তৈরি করতে পারল?

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে বিবিসি ওয়ার্ল্ড ১০ পর্বের একটি পডকাস্ট তৈরি করেছে, যার শিরোনাম: ‘লাজারাস হেইস্ট: হাউ নর্থ কোরিয়া অলমোস্ট পুলড অফ আ বিলিয়ন ডলার’ (লাজারাস হেইস্ট: যেভাবে উত্তর কোরিয়া বিলিয়ন ডলার প্রায় সরিয়ে ফেলেছিল)।

এখানে সেই পডকাস্টের কিছুটা সংক্ষেপিত রূপ তুলে ধরা হলো:

এ গল্পের শুরু একটি অকেজো প্রিন্টার দিয়ে। প্রিন্টারটি নষ্ট হলে অন্য সকলের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও ভেবেছিলেন, এটি মামুলি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি।

কিন্তু প্রিন্টার যেখানে রাখা, সেটা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দশম তলার একটি কক্ষ আর এই প্রিন্টারও কোনো যেনতেন প্রিন্টার না। এর একটিই কাজ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোটি-কোটি টাকার আদান-প্রদানের রেকর্ড প্রিন্ট করা।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল পৌনে ৯টার দিকে ব্যাংকের কর্মকর্তারা টের পান, ওই প্রিন্টারটি কাজ করছে না। ডিউটি ম্যানেজার জুবায়ের বিন হুদা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, সাধারণ কোনো সমস্যা। যেমনটা সাধারণত ঘটে থাকে, তেমন কিছু হয়েছে। আগেও এ ধরনের সমস্যা দেখে দিয়েছে প্রিন্টারে।’

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক যে এক বিরাট সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে, এটি ছিল তার প্রথম আলামত। হ্যাকাররা ততক্ষণে ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়েছে এবং ওই সময়ে ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চকাঙ্ক্ষী সাইবার অ্যাটাক শুরু করে দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল এক বিলিয়ন ডলার চুরি করা।

চুরি করা টাকা সরিয়ে নিতে হ্যাকাররা নকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, দাতব্য সংস্থা, ক্যাসিনো এবং সহযোগীদের এক বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

এই হ্যাকাররা কারা এবং কোথা থেকে এসেছে?

সকল ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্ট কেবল একটি দিকই নির্দেশ করছিল: উত্তর কোরিয়া সরকার।

সাইবার-অপরাধের ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়াকে সন্দেহ করা হবে এটা অনেকের কাছে অবাক করার মতো লাগতে পারে। এটি বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলির মধ্যে একটি। দেশটি প্রযুক্তিগতভাবে দুর্বল, অর্থনৈতিক ও প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন।

তারপরও এফবিআইয়ের মতে, এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হ্যাকার ও মধ্যস্থতাকারীদের গোপন একটি দলের বহু বছরের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ফসল ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে এই দুঃসাহসী হ্যাকিং অভিযান।

সাইবার নিরাপত্তা ইন্ডাস্ট্রিতে উত্তর কোরিয়ান হ্যাকারদের ডাকা হয় ল্যাজারাস গ্রুপ নামে। নামটি দেয়া হয়েছে বাইবেলে বর্ণিত ল্যাজারাসের নাম অনুযায়ী, যিনি মৃত্যু থেকে ফিরে এসেছিলেন। এই গ্রুপের কম্পিউটার ভাইরাসগুলিকে সামলানো বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই হ্যাকাররাও বারবার ফিরে আসে।

গ্রুপটি সম্বন্ধে খুব বেশি জানা যায়নি। এফবিআই এই গ্রুপের শুধু একজন সন্দেহভাজনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পেরেছে, তার নাম পার্ক জিন-হিয়ুক। তিনি পার্ক জিন-হেক ও পার্ক কোয়াং-জিন নামেও পরিচিত।

কে এই পার্ক?

এফবিআই বলছে, পার্ক একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষে তিনি চীনা বন্দর শহর দালিয়ানে উত্তর কোরিয়ার একটি সংস্থা চোসুন এক্সপোর হয়ে কাজ করতেন। পার্ক সারা বিশ্বের ক্লায়েন্টদের জন্য অনলাইন গেমিং ও জুয়ার প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন।

দালিয়ানে থাকার সময় তিনি একটি ই-মেইল আইডি ও একটি সিভি তৈরি করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের নেটওয়ার্কও তৈরি করেন। এফবিআইয়ের তদন্তকারীর হলফনামায় বলা হয়েছে, পার্কের সাইবার-ফুটপ্রিন্ট থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের দিকে দালিয়ানে তার যাতায়াত শুরু হয়, যা ২০১৩ বা ২০১৪ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর তার ইন্টারনেট কার্যকলাপ উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ং ইয়ং থেকে রেকর্ড করে এফবিআই।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি
উত্তর কোরিয়ার সন্দেহভাজন হ্যাকার পার্ক জিন-হিয়ুক আছেন এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায়

আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থাটি পার্কের একটি ছবিও প্রকাশ করে, যা ক্লায়েন্টের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য একটি ই-মেইলে ব্যবহার করেছিলেন চসুন এক্সপোর ম্যানেজার। ছবিতে দেখা যায়, ক্লিন-শেভ বিশ বা ত্রিশের ঘরের এক কোরিয়ান যুবক পার্ক। পরনে ছিল চকোলেট রঙের সুট ও কালো রঙের পিন স্ট্রাইপ শার্ট। একবারেই সাধারণ একটি চেহারা, যাতে ক্লান্তির ছাপ রয়েছে।

এফবিআইয়ের দাবি, পার্ক দিনে প্রোগ্রামার হলেও রাতে হ্যাকারের কাজ করেন।

২০১৮ সালের জুনে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ পার্ককে সেপ্টেম্বর ২০১৪ ও আগস্ট ২০১৭-এর মধ্যে করা কম্পিউটার জালিয়াতি ও অপব্যবহারের ষড়যন্ত্র এবং ই-মেইল জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে। ধরা পড়লে তার ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। (অভিযোগ দায়েরের চার বছর আগে তিনি চীন থেকে উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যান।)

পার্ক রাতারাতি হ্যাকার হননি। তিনি হাজার হাজার তরুণ উত্তর কোরিয়ানের একজন, যাদের শৈশব থেকেই সাইবার-যোদ্ধা হওয়ার জন্য বেছে নেয়া হয়। গণিতে ভালো এইসব প্রতিভাবান কিশোরদের, যাদের অনেকের বয়স ১২, স্কুল থেকে রাজধানীতে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের সকাল থেকে রাত অবধি নিবিড় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

সাপ্তাহিক ছুটির চক্কর

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা যখন সেই প্রিন্টারটি রিস্টার্ট করেন, তখন তাদের কপালে পড়ে চিন্তার ভাঁজ। প্রিন্টার থেকে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে আসা জরুরি কিছু বার্তা প্রিন্ট হয়ে বের হয়। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশের ইউ ডলারের একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমেরিকান ব্যাংকটি জানায়, তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাদের অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার উঠিয়ে নেয়ার নির্দেশ পেয়েছে।

ফেডারেল ব্যাংক অফ রিজার্ভের সঙ্গে বাংলাদেশ যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু হ্যাকারদের দক্ষতায় তারা সেটা করতে পারেনি।

আগের দিন (৪ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় হ্যাকিং শুরু হয়। বাংলাদেশ যখন ঘুমন্ত তখন নিউ ইয়র্কে বৃহস্পতিবার সকাল। ফলে ফেডারেল ব্যাংকের হাতে ওই নির্দেশ পালনের জন্য যথেষ্ট সময় ছিল।

পরের দিন থেকে বাংলাদেশের শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হয়। যার কারণে ঢাকার বাংলাদেশ ব্যাংক দুই দিনের ছুটিতে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন শনিবার এই চুরির বিষয়টি ধরতে পারে, তখন নিউ ইয়র্কে উইকেন্ড শুরু হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্থানা বলেন, ‘এ থেকে বোঝা যায় আক্রমণ কতটা নিঁখুত ছিল। বৃহস্পতিবার এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে কাজের দিন আর বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংক আবার যখন খুলছে, তখন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাতে পুরো বিষয়টি ধরা পড়তে পড়তে তিন দিন দেরি হয়।’

সময়ক্ষেপণ করতে হ্যাকাররা আরও একটি কৌশল অবলম্বন করে। ফেড থেকে বের করার পর তারা টাকাটা পাঠিয়ে দেয় ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার কয়েকটি অ্যাকাউন্টে। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ছিল চন্দ্রবর্ষের প্রথম দিন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ওই দিন সরকারি ছুটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশ, নিউ ইয়র্ক ও ফিলিপাইনের সময়ের পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা টাকা সরিয়ে নিতে পুরো পাঁচ দিনের একটা সময় বের করে।

বহুদিন ধরেই তারা এই সমস্ত পরিকল্পনা করে। চুরির আগে প্রায় এক বছর ল্যাজারাস গ্রুপটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমের মধ্যে লুকিয়ে ঘোরাফেরা করছিল।

চুরির এক বছর আগে

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আপাতদর্শনে নিরীহ একটি ই-মেইল পান। রাসেল আহলাম নামের এক চাকরি প্রার্থীর মেইল ছিল সেটি। বিনম্রভাবে মেইলে রাসেল ব্যাংকে চাকরির বিষয়ে আর তার সিভি ডাউনলোডের জন্য একটি ওয়েবসাইটের লিংক দেয়।

এফবিআই জানায়, রাসেল নামের কেউ আসলে ওই মেইল করেননি। মেইল করেছিল ল্যাজারাস গ্রুপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তত একজন কর্মকর্তা ল্যাজারাসের ধোঁকায় পা দেন ও ওই সিভি ডাউনলোড করেন। অজান্তেই তাতে লুকিয়ে থাকা ভাইরাসটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমে আক্রমণ করে।

ব্যাংকের সিস্টেমে ঢোকার পর ল্যাজারাস গ্রুপ গোপনে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে প্রবেশ করে। যে ডিজিটাল ভল্টে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাখা ছিল, সেটায় ঢোকার কাজ শুরু করে তারা।

এবং তারপরে তারা থেমে যায়।

হ্যাকাররা প্রাথমিক ফিশিং ই-মেইল পাঠানোর এক বছর অপেক্ষার পর কেন টাকা চুরি করল? ব্যাংকের সিস্টেমে এক বছর লুকিয়ে থাকতে গিয়ে ধরা পড়ার ঝুঁকি কেন নিল তারা?

নিয়েছে, কারণ চুরির টাকা বের করে নেয়ার পথ ঠিক করতে ল্যাজারাসের সময় দরকার ছিল।

ঢাকার টাকা ম্যানিলায়

ম্যানিলার ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি জুপিটার স্ট্রিট। ফিলিপাইনের অন্যতম বড় ব্যাংক আরসিবিসির একটা শাখা রয়েছে এখানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পর ২০১৫ সালের মে মাসে এই শাখায় চারটি অ্যাকাউন্ট খোলে হ্যাকারদের সহযোগীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

পরে জানা যায়, অ্যাকাউন্টগুলো খোলার সময় ব্যবহার করা হয় জাল ড্রাইভার্স লাইসেন্স। আর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা চার আবেদনকারীর জব টাইটেল ও বেতন ছিল হুবহু এক। প্রাথমিকভাবে ৫০০ ডলার দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্টগুলো মাসের পর মাস একইভাবে পড়ে ছিল। কেউ ওই টাকাতেও হাত দেয়নি। এই অস্বাভাবিকতা কারও চোখে পড়েনি। হ্যাকাররা ততদিনে পালানোর অন্য বুদ্ধি আঁটছিল।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাক করে ও টাকা সরিয়ে ফেলার পথ পরিষ্কার করে ল্যাজারাস গ্রুপ প্রস্তুত হয়ে যায় চূড়ান্ত আক্রমণের জন্য।

তবে তাদের সামনে তখনও একটা বাধা ছিল।

১০ তলার সেই প্রিন্টার।

বাংলাদেশ ব্যাংক তার অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত লেনদেন রেকর্ড করার জন্য একটি পেপার ব্যাক-আপ সিস্টেম তৈরি করে। লেনদেনের এই রেকর্ড সঙ্গে সঙ্গে চুরির ঘটনা প্রকাশ করার ঝুঁকিতে ফেলে দেয় হ্যাকারদের। তারা তাই একে নিয়ন্ত্রণকারী সফটওয়্যারটিতে আগে হ্যাক করে ও অকার্যকর করে দেয়।

নিজেদের গোপনীয়তা পুরোপুরি নিশ্চিত করার পর, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে হ্যাকাররা টাকা সরাতে শুরু করে।

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশের জমা করা টাকার প্রায় পুরোটাই, মোট ৩৫টি লেনদেনে তারা সরাতে শুরু করে। এর পরিমাণ ছিল ৯৫১ মিলিয়ন ডলার।

চোররা যখন নিজেদের বড় পারিশ্রমিকের স্বপ্নে বিভোর, তখন একেবারে হলিউডি ফিল্মের মতো ছোট্ট একটা ভুলে ভন্ডুল হয়ে যায় সবকিছু। ধরা পড়ে তাদের চুরি।

পরের দুই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা টাকা খোয়া গেছে বুঝতে পারলেও ঠিক কী হয়েছে ধরতে পারছিলেন না।

গোপন রাখা হয় চুরি

ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে রাকেশ আস্থানা ও তার সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইনফরম্যাটিকসের পরিচয় ছিল। গভর্নর রাকেশকে সাহায্যের জন্য ফোন করেন।

আস্থানা বিবিসিকে জানান, ওই মুহূর্তেও গভর্নর ভাবছিলেন, তিনি চুরি হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। যার কারণে তিনি হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি শুধু জনগণের কাছ থেকেই নয়, দেশের সরকারের কাছেও গোপন রাখেন।

আস্থানা বোঝার চেষ্টা করছিলেন, হ্যাকাররা কতদূর কী করেছে। তিনি বের করেন, হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমের অন্যতম অংশ সুইফটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে হাজারো ব্যাংকের বড় অঙ্কের লেনদেনের সামাল দেয় সুইফট সফটওয়্যার সিস্টেম। সুইফটের কোনো দুর্বল দিক হ্যাকাররা কাজে লাগায়নি। তার দরকারও পড়েনি। কারণ সুইফট সফটওয়্যার হ্যাকারদের ব্যাংকের কর্মচারী ভেবে নিয়েছিল।

দ্রুতই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তারা বুঝতে পারেন, হারানো টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। ততক্ষণে ফিলিপাইনে কিছু টাকা পৌঁছে গিয়েছিল।

ওখানকার কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া আদালতের আদেশ ছাড়া শুরু করা সম্ভব নয়। আদালতের আদেশ সরকারি নথি। যে কারণে যখন বাংলাদেশ ব্যাংক ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আবেদন করে, তখন পুরো বিষয়টি সবাই জানতে পারেন ও বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর তোপের মুখে পড়েন। আস্থানা বলেন, ‘তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তাকে আমি আর দেখিনি।’

টাকা যেভাবে বের করা হয়

হ্যাকাররা ম্যানিলার অসংখ্য ব্যাংক ব্যবহার করতে পারত, কিন্তু তারা জুপিটার স্ট্রিটে অবস্থিত আরসিবিসি ব্যাংকের শাখাটিকেই বেছে নেয়। এই সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের কয়েক শ মিলিয়ন ডলার গচ্চা দিতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের আর্থিক সেবা বিষয়ক কমিটির সদস্য ক্যারোলিন ম্যালোনি জানান, ঘটনাচক্রে ইরানের একটি জাহাজের নামের সঙ্গে মিলে যায় এ ব্যাংকের ঠিকানা।

তিনি বলেন, লেনদেনগুলোকে ফেড আটকে দেয়। কারণ এর ঠিকানায় জুপিটার শব্দটি ছিল। জুপিটার একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজেরও নাম, যার ওপর ফেডের নিষেধাজ্ঞা আছে। এটি কালো তালিকাভুক্ত।

‘জুপিটার’ শব্দটির কারণেই ফেডারেল ব্যাংকের কম্পিউটারগুলো সতর্ক হয়ে ওঠে এবং লেনদেনগুলো রিভিউ করা হয়। এ কারণে অধিকাংশ লেনদেন ঠেকানো সম্ভব হয়। তবে ১০১ মিলিয়ন ডলার ঠিকই ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়।

এই ১০১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয় শ্রীলঙ্কার একটি দাতব্য সংস্থা ‘শালিকা ফাউন্ডেশন’-এর নামে। হ্যাকারদের দোসররা চুরি করা টাকা পাচারের জন্য আগেই একে ঠিক করে রাখেন। এর মালিক শালিকা পেরেরা জানান, তার ধারণা ছিল লেনদেনগুলো বৈধভাবে দান করা হয়েছে।

এখানেও ছোট একটা ঝামেলার কারণে ফেঁসে যায় হ্যাকাররা। টাকা পাঠানো হয় ‘Shalika Fundation’ এর নামে। এক ব্যাংক কর্মকর্তার চোখে পড়ে এই বানান ভুল, কারণ এতে ফাউন্ডেশনের একটি অক্ষর (o) বাদ পড়েছে। ফলে লেনদেনটি ফেরত পাঠানো হয়।

শেষ পর্যন্ত ৮১ মিলিয়ন ডলার

লক্ষ্য ছিল ১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা। লক্ষ্য পূরণ না হলেও বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যেখানে পাঁচজনের একজন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, তাদের জন্য এই ক্ষতিও ছিল বড় অঙ্কের।

বাংলাদেশ ব্যাংক যতক্ষণে টাকা ফেরত নেয়ার চেষ্টা শুরু করে, ততক্ষণে হ্যাকাররা একে নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে। হ্যাকিংয়ের পরদিন অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জুপিটার স্ট্রিটের আরসিবিসি শাখায় এক বছর আগে খোলা অ্যাকাউন্ট হঠাৎই যেন জীবন ফিরে পায়।

টাকাগুলোকে চারটি অ্যাকাউন্টে পাঠানোর পর সেখান থেকে স্থানীয় একটি মানি এক্সচেঞ্জ ফার্মে পাঠানো হয়। স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরিত করার পর সেগুলোকে আবারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে ফিরিয়ে আনা হয়। কিছু অংশ নগদ হিসেবে ব্যাংক থেকে তোলাও হয়েছে।

মানি লন্ডারিং বিশেষজ্ঞদের কাছে পুরো বিষয়টিই ছিল নিয়মমাফিক। ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবারি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের প্রধান মোয়ারা রুয়েসেন বলেন, ‘পরবর্তীতে ব্যবহার করার জন্য সমস্ত বেআইনি উপার্জনকে সাদা দেখাতে হবে ও এমনভাবে দেখাতে হবে যেন মনে হয় তা বৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত। অর্থের লেনদেনটিকে যতটা সম্ভব ঘোলা ও অস্পষ্ট করে তুলতে হবে।’

তারপরও তদন্তকারীদের সামনে টাকার উৎস খুঁজে পাওয়ার উপায় ছিল। সম্পূর্ণ আত্মগোপনের জন্য এর দরকার ছিল ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে হাওয়া হয়ে যাওয়া।

ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি করা দলটির পরের গন্তব্য ছিল সলিটেয়ার হোটেল। ম্যানিলার এই হোটেলটি বিখ্যাত এর ক্যাসিনোর জন্য। ৪০০টি জুয়ার টেবিল ও ২ হাজার স্লট মেশিন সংবলিত ক্যাসিনোটিতে মোটা পকেটওয়ালা চীনা ব্যবসায়ীরা জুয়া খেলতে আসেন।

চুরি করা ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ডলার এই ক্যাসিনো ও মাইডাস নামের আরেকটি ক্যাসিনোর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বাকি ৩১ মিলিয়ন ডলারের কী হলো সেটা জানতে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তাদের দাবি, বাকি টাকা শু ওয়েইকাং নামের এক চীনা ব্যক্তিকে দেয়া হয়, যিনি একটি প্রাইভেট জেটে শহর ছাড়েন ও তারপর কোনোদিন আর ম্যানিলায় আসেননি।

অর্থের উৎস ও লেনদেন গোপনের জন্যই ক্যাসিনোতে টাকা পাঠানো হয়। চুরি করা টাকা দিয়ে ক্যাসিনোর চিপস কিনে, জুয়া খেলার পর নগদ টাকায় বদলে ফেলা হলে তদন্তকারীদের পক্ষে একে খুঁজে বের করা অসম্ভব।

ক্যাসিনোতে জুয়া খেলে যেন টাকা খোয়া না যায় সে জন্য চোরদের দল প্রাইভেট রুম ভাড়া করে এবং নিজেদের লোকদের সঙ্গেই নিজেরা জুয়া খেলে। এতে করে তারা পুরো জুয়ার টাকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয়ত তারা চুরি করা টাকা দিয়ে ‘বাকারাত’ খেলে। এটি এশিয়ার বহু দেশে প্রচলিত জনপ্রিয় একটি জুয়া, যেটাতে শুধুমাত্র দুটা ফল। হার অথবা জিত। এবং অধিকাংশ টাকা (প্রায় ৯০ শতাংশ) ফিরে পাওয়া সম্ভব।

অপরাধীরা চুরি হওয়া টাকা লন্ডারিং করে লাভের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সেটা নিশ্চিত করতে খেলোয়াড় ও তাদের ধরা বাজিকে খুব সাবধানে তারা নিয়ন্ত্রণ করে। তারা বেশ খানিকটা সময় নেয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা টাকা সাদা করার জন্য ম্যানিলার ক্যাসিনোতে অপেক্ষায় ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকও তখন টাকা উদ্ধারের চেষ্টায় বেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। এর কর্মকর্তারা ম্যানিলা সফরে আসেন ও টাকা পাচারের পথ খুঁজে পান। কিন্তু ক্যাসিনোতে যাওয়ার পর তারা নিরুপায় হয়ে পড়েন। ওই সময়ে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোগুলো মানি লন্ডারিংয়ের নিয়মের অধীনে ছিল না। ক্যাসিনোদের হিসেবে তাদের অ্যাকাউন্টের টাকা বৈধ ও বৈধ জুয়াড়িদের টাকা। তাদের নিজের টাকা দিয়ে তারা বৈধভাবেই জুয়া খেলছেন।

সলিটেয়ার জানায়, তারা জানত না যে, তাদের ক্যাসিনোতে অবৈধ টাকা ঢালা হচ্ছে, এ নিয়ে তারা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। আর মাইডাস বিবিসির কাছে কোনো মন্তব্য করেনি।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা কিম ওয়ং নামের মাইডাস ক্যাসিনোতে জুয়ার আসরের আয়োজনকারী এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৬ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হন। বাকি ৩৪ মিলিয়ন তখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এর পরবর্তী গন্তব্য উত্তর কোরিয়ার আরও এক ধাপ কাছে।

তদন্তকারীদের বিশ্বাস ছিল যে, চুরি যাওয়া অর্থের পরবর্তী গন্তব্য মাকাও।

চীনের এই রাজ্যটির সঙ্গে সলিটেয়ারে জুয়া খেলা অনেকেরই সম্পর্ক ছিল। সলিটেয়ারে প্রাইভেট রুম ভাড়া করা দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল মাকাওয়ের। তদন্তকারীরা দাবি করেন অধিকাংশ অর্থ মাকাও থেকেই উত্তর কোরিয়ায় ঢুকেছে।

বাংলাদেশ চুরি হওয়া বাকি অর্থ প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকও আছে। তারা অবশ্য আইন ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে আক্রমণের পরের বছর ২০১৭ সালের মে মাসে ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার হাজার হাজার ব্যবহারকারীকে আক্রমণ করে। আক্রান্তদের ব্ল্যাকমেইল করা হয় ও বিটকয়েনের বিনিময়ে তাদের ডেটা ফিরিয়ে দেয়া হয়।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির এক গোয়েন্দা এফবিআইয়ের সঙ্গে মিলে র‍্যানসমওয়্যারের কোড ভাঙার চেষ্টা করে দেখেন এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ২০১৪ সালে সোনি পিকচার্সে হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত ভাইরাসের অনেকাংশে মিল রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এফবিআই এই আক্রমণের জন্য পার্ক জিন-হিয়ুককে দোষী সাব্যস্ত করে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস আরও দুই উত্তর কোরিয়ার নাগরিককে দোষী খুঁজে পায়। তাদের দাবি ওই দুইজনও ল্যাজারাস গ্রুপের সদস্য এবং ক্যানাডা থেকে নাইজেরিয়া পাঠানো একটি মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, ‘টিকটক হৃদয়’সহ গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

মাঠ সংস্কার হলেই খেলতে পারবেন জবি শিক্ষার্থীরা

মাঠ সংস্কার হলেই খেলতে পারবেন জবি শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত ধূপখোলা মাঠে পিলার বসিয়েছে সিটি করপোরেশন। ছবি: নিউজবাংলা

মাঠটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একমাত্র খেলার স্থান। যদিও এটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং মাঠটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নাম্বার ওয়ার্ডের আওতাধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র সমাবর্তনও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার ধূপখোলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র খেলার মাঠের সংস্কার শেষ হলেই শিক্ষার্থীরা খেলতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

খেলার মাঠের চলমান সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মেয়র তাপসের বৈঠক শেষে এ আশ্বাস মিলেছে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

সোমবার বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের মধ্যকার এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা সূত্রে জানা যায়, পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত ধূপখোলা মাঠ নামে পরিচিত মাঠটিকে সংস্কার করে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। দ্রুতই শুরু হবে সংস্কার কাজ। মাঠে বসানো পিলারগুলোও দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সবাই মাঠে আগের মতোই খেলাধূলা করতে পারবে বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিএসসিসি মেয়রের সঙ্গে আজ আমাদের মিটিং হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারবে। সিটি কর্পোরেশন পিলারগুলো দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে মাঠে খুঁটি বসানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাঠটি আমাদের নামে রেজিস্ট্রেশন করা নেই। সিটি কর্পোরেশনের মাস্টারপ্ল্যানের একটি অংশ হিসেবে তারা মাঠ সংস্কার করে আরও উন্নত করবে। আমাদের আগের মতোই খেলাধুলার সুযোগ থাকবে।’

সভায় উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তাফা কামাল বলেন, ‘আালোচনা হয়েছে, সিটি কর্পোরেশন মেয়র ছাড়াও, সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। আশ্বাস পেয়েছি, আমাদের ছেলেমেয়ে খেলাধুলা করবে।’

এছাড়াও সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল, রেজিষ্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের চারদিকে সাতটি স্থানে ছোট ছোট রড-সিমেন্ট দিয়ে পিলার বসানো হয়েছে। মাঠে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ জুন এসব পিলার বসানো হয়েছে। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শামসুজ্জোহাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিকদের দাবি, মাঠের সংস্কারের জন্যই মূলত এটা করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব পিলার বসিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এখানে মার্কেট নির্মাণ করা হবে।

৭ একর জমির ওপর ধূপখোলা খেলার মাঠটিতে ১৯৮৪ সালে এরশাদের শাসনামলে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। তার এক ভাগ দেয়া হয় তৎকালীন জগন্নাথ কলেজকে। আর একটি অংশ ‘ইস্ট এন্ড খেলার মাঠ’ নামে একটি ক্লাবের কর্তৃত্বে রয়েছে। অপর অংশটি রাখা হয় জনসাধারণ খেলার জন্য।

মাঠটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একমাত্র খেলার স্থান। যদিও এটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং মাঠটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নাম্বার ওয়ার্ডের আওতাধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র সমাবর্তনও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, ‘টিকটক হৃদয়’সহ গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

শর্ত পূরণে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ৬০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা

শর্ত পূরণে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ৬০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের প্রধান কার্যালয়।

কোম্পানিটির মোট শেয়ার ৪ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৯৩ টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে আছে মোট শেয়ারের ৫১.৩৬ শতাংশ বা ২ কোটি ২২ লাখ ৩৭ হাজার ১৩০ টি। আট উদ্যোক্তা ৬০ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৯টি শেয়ার কেনার কিনলে তাদের হাতে থাকবে ২ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ২৭৯টি শেয়ার। তখন তাদের হিস্যা হবে ৬৫.৩১ শতাংশ।

বিমা খাতের কোম্পানির ৬০ শতাংশ শেয়ার ধারণের শর্ত পূরণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের ছয় পরিচালক ৬০ লাখেরও বেশি শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন।

আগামী এক মাসের মধ্যে এই শেয়ার কেনা শেষ হলে কোম্পানির শেয়ারের ৬৫ শতাংশের বেশি চলে যাবে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে।

৪২ কোটি ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির ৫১.৩৬ শতাংশ এখন এর উদ্যোক্তা পরিচালকরা ধারণ করে আছেন।

৬০ শতাংশের শর্ত পূরণ করলে যে পরিমাণ শেয়ার কিনতে হতো, তার চেয়ে দেড় গুণেরও বেশি কিনতে যাচ্ছেন তারা।

স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানি সচিব কাউসার মুন্সি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইডিআরএ যে আইন আছে সেটি পরিপালনেই কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন।’

কেন এত দেরিতে ঘোষণা দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের কাছ থেকে সময় নেয়া ছিল।’

কে কত শেয়ার কিনবেন

উদ্যোক্তা পরিচালক হোসনা আরা বেগম কিনবেন সবচেয়ে বেশি ১২ লাখ ৮ হাজার শেয়ার। ২১ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে তিনি এই তথ্য জানান। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শেয়ার কেনা শেষ করবেন তিনি।

দুই পরিচালক ফরিয়া রহমান ও মাহমুদা বেগম কিনবেন ৭ লাখ ৫৫ হাজার করে শেয়ার। তিনিও একই দিন এই তথ্য জানিয়েছেন।

এই ৩০ কার্যদিবসে পরিচালক আতিকুর রহমান কিনবেন ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৫টি শেয়ার। আর এ কে এম মোশাররফ হোসেন কিনবেন ৬ লাখ ৫ হাজার ৫৭৪টি শেয়ার।

কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার কেনার প্রথম ঘোষণা আসে গত ১৬ জুন। সেদিন মোট তিন জন পরিচালক শেয়ার কেনার ঘোষণা দেন।

এর মধ্যে হাসনাত মোশাররফ ও হাসিব মোশাররফ ৬ লাখ ৪ হাজার করে এবং তাসমিয়া রহমান ৭ লাখ ৫৫ হাজার শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন।

শেয়ারের হিস্যার হিসাব

কোম্পানিটির মোট শেয়ার ৪ কোটি ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৯৩ টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে আছে ৫১.৩৬ শতাংশ বা ২ কোটি ২২ লাখ ৩৭ হাজার ১৩০ টি।

আট উদ্যোক্তা পরিচালক মোট ৬০ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৯টি শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন, যা মোট শেয়ারের ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

এই পরিমাণ শেয়ার কেনার পর তাদের হাতে থাকবে মোট শেয়ারের ২ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার ২৭৯টি বা ৬৫.৩১ শতাংশ।

কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৪১.৭৪ শতাংশ বা ১ কোটি ৮০ লাখ ৭১ হাজার ৯৯৮টি শেয়ার আছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৪টি শেয়ার আছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে।

বিমা আইনে কী আছে

বিমা আইন ২০১০-এর ২১(৩) ধারার তফসিল-১-এ বলা হয়েছে, দেশে নিবন্ধিত জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন হবে ৩০ কোটি টাকা, যার ৬০ শতাংশ আসবে উদ্যোক্তাদের কাছ থাকে। বাকি ৪০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে।

সাধারণ বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন হবে ৪০ কোটি টাকা, যার ৬০ শতাংশ উদ্যোক্তারা দেবেন। বাকি ৪০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য।

পরিশোধিত মূলধন সংরক্ষণ ব্যর্থ হওয়া বিমা কোম্পানিগুলোকে গত জানুয়ারিতে এক মাস সময় বেধে দিয়ে ১২ জানুয়ারি ১২টি জীবন বিমা ও ১৭ জানুয়ারি ৩০টি সাধারণ বিমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) আইন পরিপালন সংক্রান্ত দুটি চিঠি দেয় বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ।

এক দশক পর আইনের এই বিষয়টির পাশাপাশি বিমা খাতে সংস্কারসহ নানা ইস্যুতে শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। গত এক বছরে কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ার দর ১০ গুণও হয়েছে।

শেয়ারের ৬০ শতাংশ ধারণ করতে হলে বিপুল সংখ্যক শেয়ার উদ্যোক্তা-পরিচালকদেরকে কিনতে হবে-এই বাস্তবতায় গত এক সপ্তাহ ধরে স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্সের আট জন শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন। এদের মধ্যে একজন সবচেয়ে কম কিনবেন ছয় লাখ, আর সবচেয়ে বেশি ১২ লাখেরও বেশি কেনার ঘোষণা এসেছে আরেক জনের পক্ষ থেকে।

রোববার আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম মোশাররফ হোসেন বিমা সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জানিয়েছিলেন, আইনে যা তা কোম্পানিগুলোকে পালন করতে হবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে এই আইন পরিপালনে শেয়ার কিনতে হবে। ফলে এখানে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে তাদের অবশ্যই আইন অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

যেসব কোম্পানি এখনও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি সেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের ৬০ শতাংশ শেয়ার না থাকলে অনুমোদন দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, ‘টিকটক হৃদয়’সহ গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

ত্ব-হার বন্ধু সিয়ামের চাকরি যায়নি, ভুল-বোঝাবুঝি দাবি

ত্ব-হার বন্ধু সিয়ামের চাকরি যায়নি, ভুল-বোঝাবুঝি দাবি

আলোচিত ইসলামি বক্তা ত্ব-হার বন্ধু সিয়াম

বিভিন্ন জায়গায় নিউজ হয়েছে, আমার খুব খারাপ লাগছে।… চাকরি নাই, এটা টোটালি একটা ফালতু কথা। তার সেইফটির জন্য আপাতত তাকে বারণ করা হয়েছে। একটা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সে কারণে হোম অফিস করতে বলা হয়েছে: সিয়ামের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান অপোর রংপুরের আঞ্চলিক প্রধান

আট দিন নিখোঁজ হয়ে তুমুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের বন্ধু সিয়াম ইবনে শরীফকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি বলে জানিয়েছে তার নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান।

সিয়ামকে চাকরি থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা তৈরি হলে নতুন ব্যাখ্যা দেয় মোবাইল ফোন বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান অপো।

এখন তারা বলছে, সিয়ামকে হোম অফিস করতে বলা হয়েছে। অফিসে আসতে নিষেধ করা হয়েছে তার নিরাপত্তার কথা ভেবে।

সিয়াম রংপুর মুন্সিপাড়ায় অফিসের কো-অর্ডিনেটর (এইচআর) পদে চাকরি করতেন। রোববার তাকে সেই পদ থেকে অব্যাহতির কথা জানানো হয় বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান।

ত্ব-হা আত্মগোপনে যাওয়ায় সিয়ামের চাকরি কেন যাবে- এই নিয়ে প্রশ্নের মুখে সোমবারই বক্তব্য পাল্টে যায় তাকে অব্যাহতির কথা জানানো অপো কর্মকর্তার।

সিয়ামকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন অপোর রংপুর আঞ্চলিক প্রধান সাইফুল ইসলাম। তিনি গণমাধ্যমের কাছেও একই বক্তব্য দেন।

বক্তব্য পাল্টালেন অপো কর্মকর্তা

তবে পরদিন তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘না, ওর চাকরি যায়নি। এটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, এখানে জয়েন করাও যেমন সহজ না, তেমনি চাকরি থেকে বাদ দেয়াও সহজ না। বাদ দিলে তো তার একটা টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন আছে।

‘কারও যদি কোনো পারসোনাল ইস্যুতে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সমস্যা ইনস্ট্যান্ট দেখা দেয়, সেই ক্ষেত্রে তার সেইফটি এবং আমাদের সেইফটির জন্য আমরা তাকে আপাতত বলতে পারি, আপাতত তুমি হোম অফিস করো বা আপাতত কন্টিনিউ করার দরকার নাই, প্রবলেম সলভ করো, তারপর গিয়ে অফিসে যোগাযোগ করো।’

ত্ব-হার বন্ধু সিয়ামের চাকরি যায়নি, ভুল-বোঝাবুঝি দাবি
সিয়াম শরীফ কাজ করতেন মোবাইল ফোন বিপণনকারী কোম্পানি অপোতে

কিন্তু সিয়াম জানিয়েছেন, তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আপনিও আগের দিন তাই বলেছেন- এমন প্রশ্নে সাইফুল বলেন, ‘এটা আমার রিজিওনাল অফিস, আমার হেডকোয়ার্টার আছে। আমি বলেছি, তুমি আপাতত কন্টিনিউ করো না, তুমি সেইফ জোনে থাকো, আমরা আমি হাই অথরিটির সঙ্গে কথা বলে তারপর তোমাকে জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন ‘তাকে (সিয়াম) চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে মানে তাকে অফিশিয়ালি ডাকা হবে, জানানো হবে। তাই না? এটা তো একটা প্রসিডিউর আছে।’

‘সব সিয়ামের নিরাপত্তার জন্য’

নিজের আগের দিনের কথা আবার স্মরণ করালে সাইফুল বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় নিউজ হয়েছে, আমার খুব খারাপ লাগছে।… চাকরি নাই, এটা টোটালি একটা ফালতু কথা। তার সেইফটির জন্য আপাতত তাকে বারণ করা হয়েছে।

‘একটা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সে কারণে হোম অফিস করতে বলা হয়েছে।’

‘সে যদি দোষী না হয়, তাহলে তাকে কেন টার্মিনেট করা হবে, তার চাকরি কেন যাবে?’- পাল্টা প্রশ্নও করেন সাইফুল।’

দাবি, এসএমএস নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে

তাহলে সিয়ামকে কেন হোম অফিস করতে বলা আর অফিসের বিভিন্ন গ্রুপ থেকে কেন বাদ দেয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নে অপো কর্মকর্তা সরাসরি জবাব দেননি। বলেন, ‘সে আমাদের এখানে তিন মাস চাকরি করছে। সে খুবই ভালো ছেলে । আমি তাকে রিকোয়েস্ট করেছি। আমি তার রিক্রুটিং বস..। সে খুবই বিশ্বস্ত। বিষয়টি তার পারসোনাল ইস্যু। এটা সলভ করতে বলা হয়েছে। এতে আমার তার, কোম্পানির ইমেজের জন্য বেটার।’

কিন্তু আপনার এসএমএসও তো ছিল চাকরি থেকে বাদ দেয়ার- এমন মন্তব্যের পর সাইফুল বলেন, “কিছু সাংবাদিক এসে আমাকে বলছেন, ওই ঘটনার সঙ্গে সে জড়িত। তার বাসায় ত্ব-হা ছিল। ‘তখন আমি বলি, হাউ ইট পসিবল?’ তখন অনেক মিডিয়ার লোকজন আসা শুরু করল। তখন আমি বলি, আমার সঙ্গে আপাতত কন্টিনিউ করার দরকার নেই। মেসেজের এটাই অর্থ ছিল।

“বলেছি, ভাই তুমি আগে নিজে সেইফে থাকো। দ্যাট নট মিনস দ্যাট। তাকে বলা হয়নি ইউ আর ফায়ার্ড। তার মানে তার চাকরি থেকে টার্মিনেট করা হয়নি। তার পরিবারের সেইফটির জন্য তাকে বাসায় থাকতে বলা হয়েছে। অফিস থেকে বলা হচ্ছে তুমি বাসায় চলে যাও।”

ত্ব-হার বন্ধু সিয়ামের চাকরি যায়নি, ভুল-বোঝাবুঝি দাবি
ইসলামি বক্তা ত্ব-হা উধাও হয়ে ১৮ জুন পর্যন্ত সিয়ামদের বাসায় ছিলেন বলে তথ্য মিলেছে

বিষয়টি নিয়ে সিয়াম ভুল বুঝেছেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার হায়ার অথরিটি বলছে যে, এটা তো তার পারসোনাল ইস্যু। যদি সে অপরাধী প্রমাণিত হয় তাহলে তাকে আমরা সাসপেন্ড করব। আর যদি প্রমাণিত না হয় তাহলে সে কন্টিনিউ করবে। হয়তো মিস আন্ডারস্টান্ডিং হয়েছে। কমিউনিকেশনে ভুল হচ্ছে। হয়তো কোথাও ভুল হচ্ছে।’

গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এখন দায় দিচ্ছেন অপো কর্মকর্তা। বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছে, আমাকে অপরাধী বানাচ্ছে। তার (সিয়াম) একটা ১০ মাসের বাচ্চা রয়েছে, বাড়িতে তার মা ছাড়া কেউ নেই। এই আসা-যাওয়ার ভেতরে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তার দায়ভার কে নেবে বলেন...।’

সিয়াম তাহলে কবে থেকে অফিস করতে পারবেন?- সাইফুল বলেন, ‘যেহেতু তার একটা পারসোনাল প্রবলেম হয়েছে, সেটি সলভ হয়ে গেলে অফিস কন্টিনিউ করতে পারবে। আমি সেটা বলেছি।’

সিয়াম জানতেন না কিছুই

গত ১০ জুন ঢাকা আসার পথে তিন সঙ্গীসহ উধাও হয়ে যাওয়া ত্ব-হা সাত দিন ছিলেন সিয়ামের গাইবান্ধার বাড়িতে। তবে সিয়াম সেটি জানতেন না।

গত শুক্রবার ত্ব-হা ফিরে আসার পর সিয়ামের মা গণমাধ্যমকে জানান, তিনি সাত দিন তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।

ত্ব-হার বন্ধু সিয়ামের চাকরি যায়নি, ভুল-বোঝাবুঝি দাবি
গাইবান্ধায় সিয়ামদের এই বাসাতেই তিন সঙ্গীসহ সাত দিন অবস্থান করেছেন ত্ব-হা

ত্ব-হা ও সিয়াম ছোটবেলার বন্ধু। সিয়ামরা সে সময় রংপুরেই থাকতেন। আর কয়েক বছর আগে তারা গাইবান্ধায় ফিরে যান।

সেই বাসায় ত্ব-হার যাতায়াত ছিল। সিয়ামের উপস্থিতিতেও যেতেন, অনুপস্থিতিতেও যেতেন।

চাকরিচ্যুতি নিয়ে সিয়াম যা বলেছিলেন

সিয়াম রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কিছু সাংবাদিক আমার অফিসে গিয়ে আমার খোঁজ করছিলেন এবং ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে আমার সম্পৃক্ততা আছে বলে দাবি করেন। এ কারণে আমার অফিস আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে।’

তবে এখনও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোনো অব্যাহতিপত্র দেয়া হয়নি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কোনো অফিশিয়াল কাগজপত্র দেয়া হয়নি। কিন্তু মেসেজ দিয়েছে, ‘স্যরি ভাই, উই ক্যান নট কন্টিনিউ উইথ ইউ, বিকজ অফ কোম্পানি ইমেজ’। অফিসের সব গ্রুপ থেকেও আমাকে রিমুভ করা হয়েছে।”

এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী যুক্তি থাকতে পারে, সেই প্রশ্ন সেদিনই তিনি তোলেন। বলেন, ‘আমি তো কোনো অপরাধ করিনি। আমার চাকরি যাবে কেন, তাও বুঝতেছি না।’

তবে সিয়াম আজ আর ফোন ধরেননি।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, ‘টিকটক হৃদয়’সহ গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

পিপলস লিজিং পুনর্গঠিত হবে কি না সিদ্ধান্ত ২৮ জুন

পিপলস লিজিং পুনর্গঠিত হবে কি না সিদ্ধান্ত ২৮ জুন

২০১ জন আমানতকারী পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড পুনর্গঠন আবেদন করেন। পরে আদালত তাদের বক্তব্য শোনে। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষের আইনজীবী তানজীব উল আলম আদালতকে বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য রয়েছে। তখন আদালত আগামী ২৮ জুন দিন ঠিক করে দেন জবাব দাখিলের জন্য।

বিদেশে পলাতক পিকে হালদার কাণ্ডে আলোচনায় আসা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড পুনর্গঠন হবে কি না সে বিষয়ে আগামী সোমবার আদেশের জন্য দিন ঠিক করেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ দিন ঠিক করে দেয়।

আদালত ২৮ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য শুনবে বলেও জানিয়েছেন আইনজীবী মেজবাহুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, আজকে ২০১ জন আমানতকারী পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড পুনর্গঠন আবেদন করেন। পরে আদালত তাদের বক্তব্য শোনে। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষের আইনজীবী তানজীব উল আলম আদালতকে বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য রয়েছে। তখন আদালত আগামী ২৮ জুন দিন ঠিক করে দেয় জবাব দাখিলের জন্য।

হাইকোর্টে আমানতকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম।

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেড (পিএলএফএসএল)-এর সাময়িক অবাসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুডেটর) মো. আসাদুজ্জামানের পক্ষে ছিলেন মেজবাহুর রহমান।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে ঋণগ্রহীতাদের তলব করে ২১ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

এরপর কয়েক দফায় ঋণখেলাপিরা আদালতে হাজির হয়ে হলফনামা দাখিল করেন এবং ঋণ পরিশোধের কথা জানান। এরপর প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে গত ৯ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্য শো নে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে হাজির না হওয়ায় ওই দিনই ১২২ জনের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আদেশ দেয় হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
কেরালায় বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, ‘টিকটক হৃদয়’সহ গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন

১৮ দিন পর তোলা হলো সেই রিকশাচালকের মরদেহ

১৮ দিন পর তোলা হলো সেই রিকশাচালকের মরদেহ

আদালতের নির্দেশে সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব দামোদরপুর গ্রাম থেকে সোমবার দুপুরে মরদেহটি তোলা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হোসেন।

দাফনের ১৮ দিন পর গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের সেই রিকশাচালক ছকু মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তুলেছে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ।

আদালতের নির্দেশে সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব দামোদরপুর গ্রাম থেকে সোমবার দুপুরে মরদেহটি তোলা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হোসেন।

মরদেহ উত্তোলনের খবর পেয়ে দামোদরপুর ইউনিয়ন ছাড়াও কয়েক গ্রামের শত শত নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৬ জুন ছকু মিয়ার ছেলে মোজাম্মেল হক সাদুল্লাপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন। আদালতের বিচারক শবনম মুস্তারী সাদুল্লাপুর থানাকে মামলা রেকর্ডভুক্ত করে ২৩ জুনের মধ্যে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তসহ প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাদুল্লাপুর উপজেলার পূর্ব দামোদরপুর গ্রামের ছয় ভাই আলমগীর, আংগুর, রনজু, মনজু, সনজু ও মন্টু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাদনের কারবারে জড়িত। তাদের সঙ্গে রিকশাচালক ছকু মিয়ার পারিবারিক ও দাদনের টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ছকুর ছেলের সঙ্গে মন্টু মিয়ার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সেই বিরোধ আরও বাড়ে।

এ নিয়ে গত ১৫ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছকু মিয়ার বাড়িতে যায় ছয় ভাইসহ তাদের লোকজন। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা মারধর শুরু করেন ছকুকে। তাদের মধ্যে রনজু মিয়া হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ছকুর গোপনাঙ্গে লাথি দেন। আর মন্টু বুকের ওপর দুই পা দিয়ে পরপর কয়েকবার আঘাত করেন। এভাবেই রাতভর ছকুর ওপর ছয় ভাই ও তাদের লোকজন চালান নির্যাতন।

পরদিন গুরুতর ছকুকে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিতে গেলে ছয় ভাই বাধা দেন। সেই সঙ্গে হত্যার হুমকি আর ভিটে ছাড়ার ভয় দেখানো হয়।

এই ঘটনা ১৬ মে বিকেলে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর নজরে আসে। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছকুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানেও তারা ছকু মিয়াকে হত্যার হুমকি দেন।

এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পাঁচ দিন পর দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম স্বাধীনের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে ‘ছেলের প্রেমের সম্পর্কের জন্য’ ছকু মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই টাকার জন্য ছকুর একমাত্র ঘরটিও ১৫ হাজারে বিক্রি করে দেন দাদন কারবারিরা। এরপর তাকে ভিটেছাড়া করা হয়। পরে ছকু মিয়া আশ্রয় নেন গাজীপুরে ছেলের বাসায়। সেখানে হাসপাতালের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়ার সময় ৩ জুন মৃত্যু হয় তার।

মামলার বাদী ছকু মিয়ার ছেলে তৈরি পোশাককর্মী মোজাম্মেল হক জানান, জরিমানার বাকি ৩৫ হাজার টাকার জন্য তার বাবাকে ভিটেছাড়া করা হয়। টাকা না দেয়া পর্যন্ত তাদের বাড়িতে না আসতে হুমকিও দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমার বাপকে ওরা সারা রাত মারপিট করে। আব্বা পানি চাইছিল; ওরা পানিও খেতে দেয় নাই। এ জন্য আব্বা আজ চলে গেছে। আমি এ হত্যার বিচার চাই!’

মোজাম্মেল বলেন, ‘আমার মা তিন বছর আগে মরছে। আব্বাও চলে গেছে। ঘরটাও ভাঙি নিচে। আমরা এখন ইতিম (এতিম) দুই ভাই-বোন কোনটে যামো।’

বাদী পক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে রিকশাচালক ছকু মিয়ার। নির্যাতনের ঘটনায় নিহতের ভিডিও বক্তব্যসহ পত্র-পত্রিকার কাটিং আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি, আমার মক্কেল ন্যায়বিচার পাবেন।’

আরও পড়ুন:
কেরালায় বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নিপীড়ন, ‘টিকটক হৃদয়’সহ গ্রেপ্তার ৫

শেয়ার করুন