সেই দপ্তরি গ্রেপ্তার

বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. রকিব খান। ছবি: সংগৃহীত

সেই দপ্তরি গ্রেপ্তার

প্রধান শিক্ষিকার বরাত দিয়ে ওসি রাশেদুজ্জামান বলেন, করোনায় বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অ্যাসাইমেন্ট দিচ্ছেন ও সংগ্রহ করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এ কাজে ব্যস্ত ছিলেন নিলুফা খানমসহ বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বেলা ২টার দিকে দপ্তরি রকিব স্কুলে এলে তাকে বিদ্যালয় পরিষ্কার করতে বলেন নিলুফা। এতে রকিব কিছুটা ক্ষিপ্ত হলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষিকাকে কিল-ঘুষি দিয়ে লাঞ্ছিত করেন রাকিব।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্কুল পরিষ্কার করতে বলায় প্রধান শিক্ষিকা নিলুফা খানমকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দপ্তরি মো.রকিব খানকে আটক করেছে পুলিশ। পরে প্রধান শিক্ষিকার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

উপজেলার পাগলা থানার বারইহাটি বটতলা এলাকা থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুজ্জামান।

তিনি বলেন, মারধরের ঘটনায় আটক রকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষিক নিলুফা খানম বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মামলা করেছেন। শনিবার তাকে আদালতে উপস্থিত করা হবে।

নিলুফা খানম গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার ১৫৬ নম্বর বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা এবং রকিব একই স্কুলের দপ্তরি।

প্রধান শিক্ষিকার বরাত দিয়ে ওসি রাশেদুজ্জামান বলেন, করোনায় বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট দিচ্ছেন ও সংগ্রহ করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এ কাজে ব্যস্ত ছিলেন নিলুফা খানমসহ বারইহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বেলা ২টার দিকে দপ্তরি রকিব স্কুলে এলে তাকে বিদ্যালয় পরিষ্কার করতে বলেন নিলুফা। এতে রকিব কিছুটা ক্ষিপ্ত হলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষিকাকে কিল-ঘুষি দিয়ে লাঞ্ছিত করেন রাকিব।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনার পর পুলিশ স্কুল পরিদর্শন করে। প্রধান শিক্ষিকা নিলুফা খানম বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানান এবং তারা আলোচনায় বসেন।

এ বিষয়ে গফরগাঁও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সবুজ মিয়া বলেন, ‘ঘটনা জানার পর আমি স্কুল পরিদর্শন করেছি। দপ্তরি প্রধান শিক্ষিকাকে কিল-ঘুষি দিয়েছেন বলে শুনেছি। প্রধান শিক্ষিকা ও দপ্তরি সম্পর্কে চাচাতো ভাইবোন। এ ঘটনায় অন্য কোনো কারণ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
দপ্তরির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
ঋণের কিস্তি দেয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
‘সম্পত্তি পেতে’ হাসপাতালে বাবার সামনে ভাইবোনের মারপিট
সেই ঠিকাদার-প্রকৌশলী সমঝোতা
পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশাচালককে মারধর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এএসআইকে চাপা দেয়া সেই গাড়িচালক গ্রেপ্তার

এএসআইকে চাপা দেয়া সেই গাড়িচালক গ্রেপ্তার

নিহত এএসআই সালাহ উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের কিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মাইক্রোবাসচালককে শনাক্ত করা হয়। এরপর সম্ভাব্য বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাসচালক বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও এলাকায় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সালাহ উদ্দিনকে চাপা দেয়া মাদকবাহী মাইক্রোবাসের চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার এক সপ্তাহ পর শুক্রবার রাতে মো. বেলাল নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন। তিনি জানান, শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হবে।

নিউজবাংলাকে আমির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের কিছু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মাইক্রোবাসচালককে শনাক্ত করা হয়। এরপর সম্ভাব্য বেশ কিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাইক্রোবাসচালক বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় ১১ জুন ভোর ৪টার দিকে মাইক্রোবাসের চাপায় নিহত হন এএসআই সালাহ উদ্দিন। এ সময় আহত হন কনস্টেবল মো. মাসুম। পুলিশ বলছে, মাইক্রোবাসটিতে মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পার্বত্য এলাকা থেকে চোলাই মদবাহী একটি কালো মাইক্রোবাস চট্টগ্রাম শহরের দিকে আসছে বলে জানতে পারেন এসআই সালাহ উদ্দিন।

কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার মেহেরাজখানঘাটা পেট্রলপাম্পের সামনে মাইক্রোবাসটিকে থামার সংকেত দিলে গাড়িটি গতি কমিয়ে আনে।

এ সময় গাড়িটি থেমেছে ভেবে এএসআই সালাহ উদ্দিন ও চালক মাসুম মাইক্রোবাসটির কাছে গেলে গাড়িটি গতি বাড়িয়ে দুইজনকে চাপা দেয়। আহত দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সালাহ উদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি জানান, বিষয়টি জানতে পেরে ওই মোবাইল টিমের অফিসার এসআই রফিকুল ইসলাম ফোর্সসহ গাড়িটিকে তাড়া করেন।

নগরীর এক কিলোমিটার এলাকায় গাড়িটি থামিয়ে চালকসহ অন্যরা পালিয়ে যান৷ পরে পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে। ওই গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৭০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনায় ওই দিন বিকেলে চান্দগাঁও থানার এসআই আমির হোসেন বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন।

মামলার বিষয়ে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুক্রবার বিকেলে এসআই আমির হোসেন একটি হত্যা ও আরেকটি মাদক মামলা করেছেন। দুই মামলাতেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দপ্তরির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
ঋণের কিস্তি দেয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
‘সম্পত্তি পেতে’ হাসপাতালে বাবার সামনে ভাইবোনের মারপিট
সেই ঠিকাদার-প্রকৌশলী সমঝোতা
পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশাচালককে মারধর

শেয়ার করুন

ত্ব-হা ছিলেন আত্মগোপনে: পুলিশ

ত্ব-হা ছিলেন আত্মগোপনে: পুলিশ

রংপুর ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ত্ব-হার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, গাবতলী থেকে ত্ব-হা গাইবান্ধায় আসেন, সেখানে তিনি আত্মীয়র বাড়িতে ছিলেন। সেখান থেকে আজ দুপুরে প্রথম স্ত্রীর বাবার বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে আমরা তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসি।

নিখোঁজ নয়, ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান গত ৮ দিন যাবৎ ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

রংপুর ডিবি কার্যালয়ে শুক্রবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান উপপুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন।

তিনি বলেন, '(ত্ব-হা) ঘটনার দিন গাবতলী থেকে গাইবান্ধা চলে আসেন। সেখানে এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। শুক্রবার ত্ব-হা আবহাওয়া অফিস মাস্টারপাড়ার শ্বশুরবাড়িতে চলে আসেন। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। উনি এখন আমাদের হেফাজতেই আছেন।

‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাশাপাশি বগুড়ায় খোঁজ মেলা আরেকজনকেও আমরা নিয়ে আসছি। তারা আপাতত আমাদের হেফাজতেই আছে। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

বেলা সোয়া তিনটার দিকে রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মজনু নিউজবাংলাকে জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে ত্ব-হাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার আরেক এসআই এরশাদ হোসেন জানান, শুক্রবার দুপুরে তাকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বেলা ৩টার দিকে রংপুরের আবহাওয়া অফিসের মাস্টারপাড়ায় ত্ব-হার শ্বশুর আজহারুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাকে পুলিশ বের করে নিয়ে যায়।

তবে খোকন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মাস্টারপাড়ায় তাকে দেখেন। কিন্তু ত্ব-হা সে সময় কোনো কথা বলেননি। মুখে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতে বলেন।

১০ জুন থেকে চার সহযোগীসহ নিখোঁজ হন ত্ব-হা। কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হন, এমন তথ্য দিতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।

অনেকে অভিযোগ তুলছিল, সমসাময়িক অন্যান্য ইস্যুতে আন্তরিকতা দেখালেও ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না সরকার। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
দপ্তরির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
ঋণের কিস্তি দেয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
‘সম্পত্তি পেতে’ হাসপাতালে বাবার সামনে ভাইবোনের মারপিট
সেই ঠিকাদার-প্রকৌশলী সমঝোতা
পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশাচালককে মারধর

শেয়ার করুন

নুসরাতের মৃত্যু: ভুয়া বিসিএস ক্যাডার মিল্লাত কারাগারে

নুসরাতের মৃত্যু: ভুয়া বিসিএস ক্যাডার মিল্লাত কারাগারে

সুসময়ের ছবি। স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নুসরাত জাহান। ছবি: সংগৃহীত

মামলায় অভিযোগ বলা হয়, মামুন মিল্লাত নিজেকে বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে নুসরাত জাহানকে প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মিল্লাত নুসরাতকে শারীরিক আঘাত ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন।

রাজধানীর আগারগাঁয়ে সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টারে নুসরাত জাহানের আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় স্বামী মিল্লাত মামুনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ঢাকার মুখ্যমহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম বাকী বিল্লাহ শুক্রবার শুনানি শেষে আদেশ দেন।

একদিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জামিল হোসাইন (নিরস্ত্র) আসামি মিল্লাত মামুনকে আদালতে হাজির করেন। কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

মিল্লাত মামুনের পক্ষে পীযূষ কান্তি রায় জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধীতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন নাকচ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকা থেকে র‌্যাব-২ এর একটি দল মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আদালত তাকে একদিনের রিমান্ডে পাঠায়।

নুসরাতের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা রত্ম কান্তি রোয়াজা ১২ জুন শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ বলা হয়, মামুন মিল্লাত নিজেকে বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দিয়ে নুসরাত জাহানকে প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করেন।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকে মিল্লাতকে শারীরিক আঘাত ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে শুরু করেন, যা নুসরাত তার বাবাকে জানান।

মিল্লাত জুয়া খেলাসহ, নেশা এবং বিভিন্ন পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, গত ১২ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নুসরাত তার বাবাকে ফোন দিয়ে জানায়, মিল্লাত তাকে শারীরিক নির্যাতনসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। তাকে বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন, না গেলে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

ওইদিন বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ রত্ম কান্তি রোয়াজাকে নুসরাতের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানায়।

আরও পড়ুন:
দপ্তরির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
ঋণের কিস্তি দেয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
‘সম্পত্তি পেতে’ হাসপাতালে বাবার সামনে ভাইবোনের মারপিট
সেই ঠিকাদার-প্রকৌশলী সমঝোতা
পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশাচালককে মারধর

শেয়ার করুন

তিন যানের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩

তিন যানের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৩

শুক্রবার বিকেলে দুই বাস ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত হন তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার কলেজবাজার ও মইজ্জারটেক এলাকার মধ্যবর্তী চর ফরিদ পেট্রলপাম্পের সামনে ত্রিমুখী সংঘর্ষের র্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ৩০ জন।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে দুটি বাস ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল তিনজনে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই ব্যক্তি মারা যান। হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শীলব্রত বড়ুয়া নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এদিকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার কলেজবাজার ও মইজ্জারটেক এলাকার মধ্যবর্তী চর ফরিদ পেট্রলপাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ।

চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া নিউজবাংলাকে নিহত একজন এবং আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘নিহত তিনজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি হলেন পটিয়ার শান্তিরহাট এলাকার নুরুল আফসার।’

শীলব্রত বড়ুয়া জানান, আহতদের মধ্যে ১৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন ডেইজি সর্দার, মো. রুবেল, সুমন দে, সুমন চৌধুরী, রিটন দেব, রহমত আলী, পিন্টু দাশ, কবির বিশ্বাস, বেলাল, মজিব উল্লাহ্, ইকবাল, রেজিয়া বেগম, সোহাগ এবং ইদ্রীস। আহত ইদ্রীসকে ২৭ নম্বর ও অন্যদের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসা চলাকালে আরেকজন মারা যান।

তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মরদেহ তিনটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

আহত বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মাসুদ রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ইউটার্ন নিচ্ছিল। এ সময় পটিয়ামুখী একটি বিআরটিসি বাস অটোরিকশাটিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মিনিবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরে অটোরিকশাটিও বাসের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।’

আরও পড়ুন:
দপ্তরির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
ঋণের কিস্তি দেয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
‘সম্পত্তি পেতে’ হাসপাতালে বাবার সামনে ভাইবোনের মারপিট
সেই ঠিকাদার-প্রকৌশলী সমঝোতা
পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশাচালককে মারধর

শেয়ার করুন

ঢাকা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা কারাগারে

ঢাকা ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা কারাগারে

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে ভিড় জমায় মানুষ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়। আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে পৌনে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম মাসুদ-উর-রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার সিনিয়র অফিসার ক্যাশ ইনচার্জ রিফাতুল হক এবং ম্যানেজার অপারেশন এমরান আহম্মেদ।

এর আগে বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রদীপ কুমার সরকার ৫৪ ধারায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

আসামিদের পক্ষে তাদের দুজন আইনজীবী জামিন আবেদন করেন।

বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন আদালতের বংশাল থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক হেলাল উদ্দিন।

এ ছাড়া বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে আগামী ২১ জুন জামিন শুনানির তারিখ ধার্য করেন।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, ‘আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল।

‘বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল ও কম পায়। ব্যাংকের ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে অডিট টিম টাকা গরমিলের হিসাব বিবরণী দাখিল করে। আবু বক্কর সিদ্দিক অডিট টিমের হিসাব বিবরণীর ভিত্তিতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন।’

আবেদনে বলা হয়, ‘ব্যাংকের ম্যানেজার তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অডিট টিমের সহায়তায় আসামিদের আটক করেন।

‘আসামিদের থানায় হাজির করে আবু বক্কর সিদ্দিক বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর অভিযোগ করেন। অফিসার ইনচার্জ অভিযোগটি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, ঘটনাটি পেনাল কোডের ৪০৯ ধারার অপরাধ। যার তদন্তের ক্ষমতা দুর্নীতি দমন কমিশনের শিডিউলভুক্ত বিধায় দুদক মামলাটি তদন্তের ব্যবস্থা করবে।’

এ অবস্থায় আসামিদের আটক করে আদালতে না পাঠালে তারা চিরতরে পলাতক হতে পারেন। তা ছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিষয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগকারীর অভিযোগসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দুদককে অবহিত করা হয়েছে। দুদক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আগ পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার।

আরও পড়ুন:
দপ্তরির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
ঋণের কিস্তি দেয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
‘সম্পত্তি পেতে’ হাসপাতালে বাবার সামনে ভাইবোনের মারপিট
সেই ঠিকাদার-প্রকৌশলী সমঝোতা
পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশাচালককে মারধর

শেয়ার করুন

ত্ব-হার ফেরা: যা বললেন দুই প্রত্যক্ষদর্শী

ত্ব-হার ফেরা: যা বললেন দুই প্রত্যক্ষদর্শী

ত্ব-হাকে বাড়ি ফিরতে দেখা স্থানীয় দুই বাসিন্দা মো. খোকন (বাঁয়ে) ও বিপ্লব মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমি দেখলাম আমার বাড়ির সামনে দিয়া আসতেছে। তখন আমি কামের মধ্যে ছিলাম। তাকে বললাম, কী ব্যাপার, আপনি এদিক থেকে যাইতেছেন? তখন তিনি বলেন, চুপ কর চুপ কর। কোনো কথা হবে না। পরে আলাপ হবে।’

গত কয়েক দিনে ব্যাপক আলোচিত ক্রিকেটার থেকে ইসলামি বক্তা বনে যাওয়া আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের প্রকাশ্যে আসার পর যারা তাকে দেখেছেন, সেই দুজনের সঙ্গে কথা হয়েছে নিউজবাংলার।

১০ জুন থেকে খোঁজ না পাওয়া ত্ব-হাকে ৮ দিন পর দেখা যায় রংপুর শহরে আবহাওয়া অফিসের মাস্টারপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে। তার শ্বশুরের নাম আজহারুল ইসলাম (মণ্ডল)।

ত্ব-হা বিয়ে করেছেন দুটি। আজহারুল তার প্রথম স্ত্রীর বাবা।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ত্ব-হা সেই বাড়িতে ফেরেন। আর তার সেখানে ফেরার সময় দেখেছেন স্থানীয় দুই বাসিন্দা বিপ্লব মিয়া ও মো. খোকন।

বিপ্লব মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একাই ঢুকছিল।’

ত্ব-হা তখন কোন পোশাকে ছিলেন, তার বর্ণনা দিয়ে বিপ্লব বলেন, ‘খালি শুধু একটা হাফহাতা গেঞ্জি আর পায়জামাটা ও মাস্ক পরা ছিল। আর কোনো কিছু ছিল না।’

ত্ব-হাকে বিল্পব যখন দেখেন, তখন দুপুর সাড়ে ১২টা।

বিপ্লব ওই এলাকারই বাসিন্দা।

ত্ব-হার শ্বশুরবাড়ি ঢোকেন পেছনের দরজা দিয়ে।

বিপ্লব বলেন, ‘সাড়ে ১২টার দিকে এখানে নামি আমার গলির দিকে আসছে। ওনার বাড়ির পেছনে একটা দরজা আছে। পেছনের দরজা দিয়ে ঢুকছে।’

কার বাড়িতে ঢুকল?

‘শ্বশুরবাড়ি।’

শ্বশুরের নাম কী?

‘শ্বশুরের নাম মণ্ডল।’

ত্ব-হাকে দেখে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মো. খোকন। তিনি তার শ্বশুরবাড়ি পর্যন্ত যান।

জানান, ত্ব-হাকে দেখে তিনি যখন প্রশ্ন করেন, তখন জবাব পান- ‘এখন কিছু বলতে পারব না।’

খোকন বলেন, ‘আমি দেখলাম আমার বাড়ির সামনে দিয়া আসতেছে। তখন আমি কামের মধ্যে ছিলাম। তাকে বললাম, কী ব্যাপার, আপনি এদিক থেকে যাইতেছেন?’

ত্ব-হার ফেরা: যা বললেন দুই প্রত্যক্ষদর্শী
নিখোঁজের ৮ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানকে। ছবি: নিউজবাংলা

মুখে আঙুল রেখে ত্ব-হা কী ইশারা করেছেন, সেটি বুঝিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন তিনি বলেন, চুপ কর, চুপ কর। কোনো কথা হবে না। পরে আলাপ হবে।

‘এই কথা বলে তখন তিনি চলে গেলেন।’

সেখানে থেমে না থেকে উৎসুক হয়ে ওঠা খোকন চলে যান ত্ব-হার শ্বশুরবাড়ি। তবে সেখানে গিয়েও তিনি তার প্রশ্নের জবাব পাননি।

খোকন বলেন, “আমি কিছু বললাম না (ত্ব-হার বক্তব্য শোনার পর)। তখন আমি ওনার বাসায় (শ্বশুরবাড়ি) গেলাম। যাওয়ার পরে ওনার শালি বলল, ‘এখন কোনো কথা বলবে না। কালকে ব্রিফিং হবে তখন তিনি কথা বলবে’।”

‘এই পর্যন্তই আমি ছিলাম। পরে আমি চলে আসলাম’- বলেন খোকন।

ত্ব-হা ছিলেন একজন ক্রিকেটার। তবে গত কয়েক বছরে ধর্মে ঝুঁকে পড়েন। আর খেলাধুলা ছেড়ে একপর্যায়ে ইসলামের নানা দিক নিয়ে বক্তব্য দিতে থাকেন।

তার নানা বক্তব্য ইসলামি বক্তাদের মধ্যেও বিতর্ক তৈরি করে।

গত ৮ জুন তিনি রংপুর থেকে ঢাকায় আসার সময় নিখোঁজ হন বলে জানান দ্বিতীয় স্ত্রী সাকিবুন্নাহার।

তিনি জানান, ত্ব-হা তার কাছেই আসছিলেন।

তার এই নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনা তৈরি হয়। পুলিশ সাধারণ ডায়েরি নিচ্ছে না বলে সাবিকুন অভিযোগ করলেও ত্ব-হার মা রংপুরে সাধারণ ডায়েরি করেন।

আরও পড়ুন:
দপ্তরির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
ঋণের কিস্তি দেয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
‘সম্পত্তি পেতে’ হাসপাতালে বাবার সামনে ভাইবোনের মারপিট
সেই ঠিকাদার-প্রকৌশলী সমঝোতা
পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশাচালককে মারধর

শেয়ার করুন

ত্ব-হাকে উদ্ধার

ত্ব-হাকে উদ্ধার

রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. মজনু নিউজবাংলাকে জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে ত্ব-হাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মজনু নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে ত্ব-হাকে উদ্ধার করা হয়।

ত্ব-হাকে পাওয়ার খবর নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন তার ভগ্নিপতি মোহাম্মদ হানিফও। তিনি বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণ আগে খবর পেয়েছি, উনাকেসহ আরেকজনকে পাওয়া গেছে। তারা রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।’

কোতোয়ালি থানার আরেক এসআই এরশাদ হোসেন জানান, শুক্রবার দুপুরে তাকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মেহেদী হাসান এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

বিকেল ৩টার দিকে রংপুরের আবহাওয়া অফিসের মাস্টারপাড়ায় ত্ব-হার শ্বশুর আজহারুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাকে পুলিশ বের করে নিয়ে যায়।

ত্ব-হাকে উদ্ধার
নিখোঁজ হওয়ার ৮ দিন পর খোঁজ পাওয়া গেছে আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানকে

তবে খোকন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তিনি মাস্টারপাড়ায় তাকে দেখেন। কিন্তু ত্ব-হা সে সময় কোনো কথা বলেননি। মুখে আঙুল দিয়ে চুপ থাকতে বলেন।

গত ১০ জুন থেকে ত্ব-হাসহ চারজন নিখোঁজ হন। কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হন এমন তথ্য দিতে পারছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

অনেকে অভিযোগ তুলছিল, সমসাময়িক অন্যান্য ইস্যুতে আন্তরিকতা দেখালেও ত্ব-হার নিখোঁজের বিষয়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না সরকার। এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছিল।

ত্ব-হার মা আজেদা বেগম নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, গত ১০ জুন সকালে তাকে ত্ব-হা জানিয়েছিলেন, বেশ কদিন ধরে দুই অপরিচিত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছে। এ নিয়ে জীবন শঙ্কায় আছেন তিনি। তারা তার ক্ষতি করতে পারে। ঢাকায় চলে যেতে চান তিনি, ঢাকায় গেলে নিরাপদে থাকবেন।

আজেদা বেগম বলেন, ‘ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে ত্ব-হা তার তিন অনুসারীসহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। শুক্রবার সাভারের একটি মসজিদে বক্তৃতা শেষ করে কিছুদিন ঢাকায় থাকার কথা ছিল তার।

‘ঢাকায় যাবার সময় হঠাৎ আমাকে বুকে জড়িয়ে খুব কান্না করছিল ত্ব-হা। নামাজে সেজদায় পড়ে তার নিরাপত্তা ও নিরাপদে ফিরে আসার জন্য দোয়াও করতে বলেছিল। এরপর ওই রাত থেকেই নিখোঁজ ত্ব-হা।’

ত্ব-হার খোঁজে গত বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন স্ত্রী সাবিকুন্নাহার। তিনি বলেছিলেন, ‘সে নিরীহ মানুষ, ভুল-বোঝাবুঝি হতে পারে। তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন, নয়ত আমাকে তার কাছে নিয়ে যান।

‘যদি সত্যিকার অর্থে তিনি কোনো অপরাধে যুক্ত থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রীয় আইনে তার বিচার হোক। আমি কিছু বলব না।’

কে এই ত্ব-হা?

আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান রংপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি, রংপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। দর্শন বিষয়ে অনার্স মাস্টার্স পড়েন রংপুর কারমাইকেল কলেজে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আহলে হাদিস সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ইসলামী বই প্রচুর পড়তেন।

হয়ে ওঠেন ধর্মীয় বক্তা। তার ধর্মীয় আলোচনার পক্ষে-বিপক্ষে আলাচনা এবং সমালোচনা দুটোই হতো।

ফেসবুক, ইউটিউব ঘেঁটে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রংপুর সদরের বাসিন্দা তোহা নিজেকে ইসলামি স্কলার দাবি করেন। পড়াশোনা শেষ না হলেও তিনি ইসলাম ধর্মীয় বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়ে যাচ্ছেন অনেকদিন ধরেই, যা নিয়ে বিতর্কও আছে।

সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত ত্ব-হার বক্তব্যে ঢাকা শহরকে ‘কেয়ামতের শহর’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নারীর ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন তিনি। দাবি করেছেন, ‘যে নারী পুরুষের সঙ্গে পাবলিক বাসে উঠে অফিসে যায়, যে নারী সহকর্মী পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন তারা দাজ্জালের বাহিনীর সদস্য। ইমাম মাহাদীর বিরুদ্ধে এই নারীরাই যুদ্ধ করবে।’

ইসলাম ধর্মমতে দুনিয়া ধ্বংস তথা কিয়ামতের আগে মুসলিমদের সঙ্গে দাজ্জালের বাহিনীর লড়াই হবে। আর মুসলিমদের নেতৃত্ব দেবেন ইমাম মাহাদী।

ইমাম মাহাদী পৃথিবীতে কবে আসবেন, এ নিয়ে অবশ্য ইসলামিক বক্তাদের মধ্যে বিরোধ আছে। কেউ কেউ নিজেকে ইমাম মাহাদী পরিচয়ও দিয়েছেন নানা সময়।

ত্ব-হার দাবি, পরকালে দোজখে নারীদের সংখ্যা বেশি হবে। আর এর জন্য তার ভাষায় ‘নারীর উদ্ধত’ আচরণ দায়ী।

প্রচলিত সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও ত্ব-হা নানা সময় উসকানি দেয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ আছে।

আরও পড়ুন:
দপ্তরির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ
ঋণের কিস্তি দেয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
‘সম্পত্তি পেতে’ হাসপাতালে বাবার সামনে ভাইবোনের মারপিট
সেই ঠিকাদার-প্রকৌশলী সমঝোতা
পুলিশ পরিচয়ে অটোরিকশাচালককে মারধর

শেয়ার করুন