পিটিয়ে হত্যা: অনুমোদন নেই সেই মাদক নিরাময় কেন্দ্রের

পিটিয়ে হত্যা: অনুমোদন নেই সেই মাদক নিরাময় কেন্দ্রের

যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাহাউদ্দিন বলেন, ‘অনুমোদনের আবেদন করা থাকলে অনেকে প্রতিষ্ঠান চালু করে। তারপর সরকার অনুমোদন দিয়ে থাকে।’ এ ধরনের কোনো আইন আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে এমন কোনো আইন নেই কিন্তু এভাবে হয়ে থাকে।’

চিকিৎসাধীন যুবক মাহফুজুর রহমানকে ‘পিটিয়ে হত্যার’ ঘটনা ঘটা সেই যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের সরকারি অনুমোদন নেই।

যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাহাউদ্দিন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাহাউদ্দিন বলেন, ‘যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের কোনো অনুমোদন নেই। এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল।’

যদিও মঙ্গলবার তিনি বলেছিলেন এটি ছাড়াও আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আছে।

বুধবার প্রথমে এই বক্তব্য অস্বীকার করলেও পরে কল রেকর্ডের কথা উল্লেখ করলে তিনি জানান তার বোঝাতে ভুল হয়েছিল।

অনুমোদন ছাড়া কীভাবে চলছে এই প্রতিষ্ঠান, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনুমোদনের আবেদন করা থাকলে অনেকে প্রতিষ্ঠান চালু করে। তারপর সরকার অনুমোদন দিয়ে থাকে।’

এ ধরনের কোনো আইন আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে এমন কোনো আইন নেই কিন্তু এভাবে হয়ে থাকে।’

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মাদক নিরাময় কেন্দ্রগুলো পরিচালনার কথা জানালেও সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অন্তর্গত। আমাদের কোনো বিষয় নেই এখানে।’

তবে সিভিল সার্জন অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যৌথভাবে করার কথা থাকলেও সিভিল সার্জন অফিসকে জানানো হয় না। কেন জানানো হয়না এটার বিস্তারিত সিভিল সার্জন স্যার বলতে পারবেন।’


বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে মাদক নিরাময় কেন্দ্রটি

মাহফুজুর হত্যা মামলায় কেন্দ্রটির ২ পরিচালকসহ ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার থেকে এটি যশোর সদর থানার চাঁচড়া ফাঁড়ির হেফাজতে আছে।

কেন্দ্রটিতে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার পর এটি সিলগালা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চাঁচড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাকিুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ফাঁড়ি থেকে পালাক্রমে সেখানে গিয়ে ডিউটি করছি। বর্তমানে এখানে যারা ভর্তি, শিগগিরই অভিভাবকদের ফোন দিয়ে তাদের অন্যত্র বা বাড়িতে নিয়ে যেতে বলব।

‘তবে ভেতরে ক্রাইম সিনসহ নানা আলামত থাকায় আমরা কাউকে ভেতরে যেতে দিচ্ছি না।’

বাহাউদ্দিন জানান, এখানে বর্তমানে ১৬ জন ভর্তি আছেন। তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হবে। না হয় বাড়িতে ফেরত পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে আছে। চলমান মামলার ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্র বন্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’


কী ঘটেছিল সেদিন

শনিবার বিকেলে শহরের রেল রোডের মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাহফুজুরের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যান।

রোববার মাহফুজুরের বাবা মনিরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে কল করে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তিনি আসার পর মরদেহে আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশকে অভিযোগ দিলে কেন্দ্রটির মালিকসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটির ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মাহফুজুরকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৪ জন হলেন কেন্দ্রটির পরিচালক পূর্ব বারান্দীপাড়ার মাসুম করিম ও বারান্দীপাড়া বটতলা এলাকার আশরাফুল কবির এবং রেজাউল করিম, মো. ওহেদুজ্জামান, ওহিদুল ইসলাম, আল শাহরিয়া, মো. শাহিন, ইসমাইল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, সাগর আলী, অহেদুজ্জামান সাগর, নুর ইসলাম, হৃদয় ওরফে ফরহাদ ও মো. আরিফুজ্জামান।

তিনজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

মাহফুজুর হত্যা মামলায় কেন্দ্রটির তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

যশোর জেলা আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শাহাদৎ হোসেন সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় তাদের জবানবন্দি নেন।

কোর্ট পরিদর্শক মাহাবুবুর রহমান জানান, চৌগাছার বিশ্বাসপাড়ার রিয়াদ, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের শাহিনুর রহমান ও যশোর শহরের রেজাউল করিম রানা জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য ১১ আসামির রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৭ মে দিন ঠিক করেছেন বিচারক।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘তাকে ফিরিয়ে দিন, নয়তো তার কাছে আমাকে নিয়ে যান’

‘তাকে ফিরিয়ে দিন, নয়তো তার কাছে আমাকে নিয়ে যান’

ত্বহার সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার। ছবি: নিউজবাংলা

ত্বহার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘যদি সত্যিকার অর্থে তিনি কোনো অপরাধে যুক্ত থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রীয় আইনে তার বিচার হোক। আমি কিছু বলব না।’

ধর্মীয় বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনানের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটের সাগর-রুনি মিলনায়তনে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে স্বামীকে ফিরিয়ে দেয়ার আবেদন জানান তিনি।

৮ জুলাই থেকে ত্বহাসহ চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। কোথা থেকে কীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন এমন তথ্য দিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

সংবাদ সম্মেলনে সাবিকুন্নাহার প্রধানমন্ত্রীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আকুতি জানান ত্বহাকে খুঁজে বের করতে।

তিনি বলেন, ‘সে নিরীহ মানুষ, ভুল-বোঝাবুঝি হতে পারে। তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন, নয়তো আমাকে তার কাছে নিয়ে যান।’

ত্বহার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘যদি সত্যিকার অর্থে তিনি কোনো অপরাধে যুক্ত থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রীয় আইনে তার বিচার হোক। আমি কিছু বলব না।’

ত্বহা কোনো দল বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন বলে দাবি করেন সাবিকুন্নাহার।

তিনি বলেন, ‘সে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন। আমি আর কিছু যুবক ছাড়া তার পাশে কেউ নেই।’

৮ জুলাই রাতে রংপুর থেকে ফেরার পথে গাবতলী এলাকা থেকে ত্বহা, তার দুই সফরসঙ্গী ও গাড়ির চালক গাড়িসহ নিখোঁজ হন।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন, আফসানুল আদনান ওরফে আবু ত্বহা আদনান, আমির উদ্দিন, ফিরোজ আলম ও আব্দুল মুহিত আনছারী।

চারজন মানুষকে গাড়িসহ নিয়ে যাওয়া কোনো প্রাইভেট কাজ নয় বলে জানান ত্বহার স্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘রংপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে বিকেল ৪টার দিকে ফোনে কথা হয়। দুটি মোটরসাইকেল তাদের অনুসরণ করছিল। তিনি (ত্বহা) বলছিলেন, দোয়া করো যেন কিছু না হয়। এর ২০-২৪ মিনিট পর ফোন করে জানান বাইকগুলো চলে গেছে।’

জিও পলিটিক্স নিয়ে কথা বলাই কাল হলো কি না সন্দেহ ত্বহার স্ত্রীর

খুতবা ও বক্তব্যে জিও পলিটিক্স নিয়ে কথা বলতেন আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে কথা বলতেন ত্বহা।

সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘আমার এখন অনেক কিছু মনে হয়। তিনি জিও পলিটিক্স নিয়ে কথা বলতেন। ইন্টারন্যাশনাল গোয়েন্দাদের বিষয় হতে পারে।’

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে কী কথা বলতেন, এমন প্রশ্নে ত্বহার স্ত্রী সাবিকুন্নাহার বলেন, ‘মুসলিম সবাই আল আকসাকে ভালোবাসে। সেসব নিয়ে তিনি কথা বলতেন।’

শেয়ার করুন

পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী

পুলিশের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন না ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী

পল্লবী থানার এসআই শরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকে একাধিকবার ফোন করেছি। কখনো তিনি নরসিংদী আবার কখনো নারায়নগঞ্জে আছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি থানায় আসেননি।’

বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী দাশ পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সাড়া দিচ্ছেন না তিনি পুলিশের ডাকে। এএলবি অ্যানিমেল শেল্টার ও থানায় অভিযোগকারী বিড়ালপ্রেমীরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হলে পুলিশ তদন্তের পাশাপাশি বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। বুধবার সকাল ১১টার দিকে সব পক্ষের বসার কথা ছিল পল্লবী থানায়। পুলিশের ডাকে সাড়া দিয়ে যথাসময়ে এএলবি অ্যানিম্যাল শেল্টারের চেয়ারম্যান দ্বীপান্বিতা রীদি ও বিড়ালপ্রমীরা পল্লবী থানায় উপস্থিত হন। তবে পুচি ফ্যামিলির পক্ষ থেকে কেউ হাজির হননি।

পল্লবী থানার এসআই শরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকে একাধিকবার ফোন করেছি। কখনো তিনি নরসিংদী আবার কখনো নারায়নগঞ্জে আছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি থানায় আসেননি।’

এএলবি এনিম্যাল শেল্টারের কর্মী ও বিড়ালপ্রেমীরা জানান, তাপসী দাশ বাইরে বের হওয়ার পুরনো একটি ভিডিও নতুন করে ইউটিউবে আপ করেছেন। যার মাধ্যমে দাবি করেছেন, তিনি বেড়াতে গেছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি বাসাতেই আছেন।

এএলবি এনিম্যাল শেল্টারের চেয়ারম্যান দ্বীপান্বিতা রীদি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ নিয়ে তাপসীর বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য তাপসীর বাসায় যেসব বিড়াল নির্যাতনের শিকার সেগুলো উদ্ধার করা।’

সংস্থাটির কর্মী তাজকিয়া দিলরুবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পুলিশ নিয় প্রথমে ডিওএইচএস পরিষদে যাবো। সেখানে গিয়ে পরিষদ ও পুলিশের মাধ্যমে পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকে ডাকা হবে। তিনি সাড়া না দিলে তার বাসায় গিয়ে বিড়াল উদ্ধার করবো।’

বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য 'পুচি ফ্যামিলি'র তাপসী দাশের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পল্লবী থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিড়াল নিয়ে বিবাদের বিষয়ে আমাদের সিনিয়র স্যাররা সবাই অবগত। এখন সবাইকে নিয়ে ডিওএইচএসের পরিষদে বসা হবে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পল্লবী থানায় ১৩ জুন করা দুটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাপসী দাশের ডিওএইচএসের বাসায় অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু অভিযান পরিচালনার আগে ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন আছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক - ইউটিউবে বিড়ালের নানা কর্মকান্ডের ভিডিও প্রচার নিয়ে আলোচিত- সমালোচিত 'পুচি ফ্যামিলি' র তাপসী দাশ। তার বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগে গত ১৩ জুন পল্লবী থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের তাজকিয়া দিলরুবা ও বিড়ালপ্রেমী আরেক নারী। ওই দুটি লিখিত অভিযোগে বিড়ালের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়।

শেয়ার করুন

বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ

বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ

মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে বেসরকারি সংস্থা এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের কর্মকর্তা তাজকিয়া দিলরুবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থানায় করা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আমরা বুধবার সকাল ১১টার দিকে বসব পল্লবী থানা পুলিশের সঙ্গে। এ সময় পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকেও ডাকা হবে।’

রাজধানীর পল্লবী থানায় বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগে করা দুটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পক্ষকে ডেকেছে পুলিশ।

এক পক্ষে আছেন, অভিযুক্ত বিড়ালের কর্মকাণ্ড নিয়ে পরিচালিত ফেসবুক-ইউটিউব চ্যানেল ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী দাশ। আরেক পক্ষে আছেন, বেসরকারি সংস্থা এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দ্বীপান্বিতা রীদি।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থানায় করা দুটি লিখিত অভিযোগের তদন্ত করছেন এসআই শরিফুল ইসলাম। তদন্তের স্বার্থেই তিনি মিরপুর ডিওএইচএসের পরিষদে দুই পক্ষকে ডেকেছেন। আশা করছি বিড়াল নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি হবে।’

মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে বেসরকারি সংস্থা এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের কর্মকর্তা তাজকিয়া দিলরুবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থানায় করা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আমরা বুধবার সকাল ১১টার দিকে বসব পল্লবী থানা পুলিশের সাথে। এ সময় পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকেও ডাকা হবে।’

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রীদির সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ১৩ জুন পল্লবী থানায় করা দুটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাপসী দাশের ডিওএইচএসের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিষ্ঠুরতার শিকার বিড়ালগুলোকে উদ্ধার করার কথা ছিল।

কিন্তু অভিযান পরিচালনার আগে ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন আছে জানিয়ে অভিযান পরিচালনা করেনি পুলিশ। তা ছাড়া ওইদিনই থানায় অভিযোগের খবর পেয়ে তাপসী দাশ দুটি বিড়াল নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। সেসংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রচার করে বলেন, তারা ঢাকার বাইরে ঘুরতে গেছেন। তারপর থেকে বাসায় ফেরেননি। এ জন্য বিড়ালগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এই প্রসঙ্গে জানতে ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী দাশ ও তার স্বামী পার্থ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে নিউজবাংলা। তাদের ফোন সচল থাকলেও তারা কেউই ফোন ধরেননি।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক - ইউটিউবে বিড়ালের নানা কর্মকান্ডের ভিডিও প্রচার নিয়ে আলোচিত- সমালোচিত 'পুচি ফ্যামিলি' র তাপসী দাশের বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগে গত ১৩ জুন পল্লবী থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের তাজকিয়া দিলরুবা ও বিড়ালপ্রেমী আরেক নারী। ওই দুটি লিখিত অভিযোগে বিড়ালের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়।

বলা হয়, তাপসী দাশ ভিডিও করার সময় এক বিড়ালের মূত্র আরেক বিড়ালকে দিয়ে পান করান। ছোট ছোট বিড়াল ছানার লেজ কিংবা গলায় ধরে টান মারেন। অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করেন। সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে অনেক বিড়ালের মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগও আনা হয়েছে তাপসীর বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া আরেকজনের বিড়াল আটকে রেখে ফিরিয়ে না দিয়ে বিড়াল পালকের চরিত্র নিয়েও বাজে মন্তব্য করেন তার ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের লাইভে।

পুচি ফ্যামিলির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টার বলছে, তাপসী দাশ ফেসবুকে বিড়ালকে নিয়ে যাচ্ছেতাই আচরণ করে থাকেন। নির্মম আচরণের ভিডিও ধারণ করে তার প্রায় ৯ লাখ ফেসবুক ফলোয়ার ও দেড় লাখ ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারকে নিষ্ঠুরতা শেখাচ্ছেন। এদিক থেকে আইসিটি অ্যাক্টেও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।

তাপসীর নিষ্ঠুরতার উদাহরণ দিতে গিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রিদি বলেন, এক বিড়ালের মূত্র মেশানো পানি আরেক বিড়ালকে পান করানো হয়। এটি খুবই অস্বাস্থ্যকর। শুধু ভিডিও বানানোর জন্য তিনি চরম অস্বাস্থ্যকর ও নির্মমতার আশ্রয় নিয়ে থাকেন।

তাপসী দাশ মাছের নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার না করে কেবল সেদ্ধ করে বিড়ালকে খাওয়ান। এভাবে খাওয়াতে উৎসাহ দেন অনুসারীদের। এতে বিড়ালের বদহজম, ডায়রিয়া ও পেটে ক্রিমি জন্ম নেয়ার শঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া তার অনেক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি প্রায়ই বিড়ালের ছোট ছোট বাচ্চার লেজ বা গলা ধরে টান মারেন। এতে ছানাদের মেরুদণ্ড থেকে লেজ আলাদা হয়ে যেতে পারে। সেটা জোড়া লাগানোর চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। ফলে বিড়াল সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

তার দেখাদেখি অনুসারীরাও এসব শিখছেন এবং বিড়ালের ওপর এমন নিষ্ঠুর আচরণ করছেন। এসবের প্রমাণও আছে। তার ভিডিওতে ক্রমাগত মেটিংকে (মিলন) উৎসাহ দেয়া হয়। কীভাবে মেটিং করাতে হয় তার প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন তিনি। তবে টানা মেটিংয়ের ফলে মরণব্যাধি হওয়ার শঙ্কা থাকে বিড়ালের।

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রিদি আরও অভিযোগ করেন, ‘পিওর পার্শিয়ান বিড়ালগুলোর কখনোই স্পে, নিউটার করান না তাপসী দাশ। কিন্তু ফলোয়ারদের দেখান, তিনি স্টেরিলাইজেশন করান। এভাবে তিনি তার অনুসারীদের ভুল ধারণা দেন। এ ছাড়া ব্রিডিং করে পিওর ব্রিড বলে মিক্সড ব্রিড সেল করেন বিড়ালপ্রেমীদের কাছে। এভাবে অনেক মানুষ তার মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।’

তিনি বলেন, তাপসী যেসব টিস্যু দিয়ে বিড়ালের মূত্র পরিষ্কার করেন, সেগুলো দিয়েই বিড়ালের মুখ পরিষ্কার করেন। এ ছাড়া ছোট ছোট বাচ্চাকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করিয়ে অনেক ছানার মৃত্যু ঘটিয়েছেন তাপসী দাশ।

বিড়াল নিয়ে ‘মিটিং’ ডেকেছে পুলিশ

‘আলো’র বিরুদ্ধে অপয়া অপবাদ! কী হয়েছিল আলোর?

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের কর্মী ও প্রাণিপ্রেমিকরা নিউজবাংলাকে বলছেন, আলো নামের একটি অন্ধ বিড়াল ছিল তাপসী দাশের কাছে। সেটির সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণিপ্রেমীদের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেন তাপসী। আলোকে মেন্টাল টর্চার করা হয়।

তাপসীর হেফাজতে থাকা যত বিড়াল মারা যায়, তার সব দায় চাপানো হয় আলো নামের এই বিড়ালের ওপর।

তাপসী দাশের ফেসবুক লাইভে ভেটেরেনারি চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলা হয়, আলো এমন এক অসুখ বহন করে, যার জন্য আলো সুস্থ থাকলেও আশপাশের সবাই মারা যায়। যদিও চিকিৎসককে বলতে শোনা গেছে, আলোর পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব না তার থেকে অসুখ ছড়িয়েছে কি না।

বিড়ালপ্রেমীদের দাবি, আলোকে কোনো রকম চেকআপ করানো হয়নি। অনেকেই আলোর চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাপসী দেননি। শুধু তা-ই নয়, আলোকে তার আসল মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার পর সেই মালিককে পুচি ফ্যামিলি থেকে ভয় দেখানো হয়েছিল, যাতে কোনো চিকিৎসা না করান। একপর্যায়ে আলো মারা যায়।

বিড়ালপ্রেমীরা জানান, পুচি ফ্যামিলি থেকে আলোর ব্যাপারে যা যা বলা হয়েছে, তার বেশির ভাগই মিথ্যা। তাপসী দাশ টেস্ট না করিয়েই সবকিছু বলেছেন। আলোর মৃত্যুর জন্য তাপসী দাশ দায়ী এবং অবশ্যই এটা অ্যানিমেল অ্যাবিউস ও ক্রুয়েলটি।

পুচি ফ্যামিলি পেজের স্বত্বাধিকারীর বক্তব্য

পুচি ফ্যামিলি পেজের মালিক তাপসী দাশের স্বামী পার্থ চৌধুরী। তাপসী দাশের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন তিনি।

পার্থ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনারা আমাদের ভিডিওগুলো দেখেন। একেবারে স্বচ্ছ। আমার স্ত্রী তাপসী দাশ অনেক আগে থেকেই বিড়াল পালন করে। কয়েকজনের পরামর্শে পেজ খোলে। অল্প সময়ের মধ্যে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ফলোয়ার হয়েছে। এটা অনেকেরই পছন্দ হচ্ছে না।

‘তাপসী একটি লাইভে এক হাতে মোবাইল ফোন ধরে রাখার কারণে আরেক হাত দিয়ে বিড়ালের লেজ বা গলা ধরেছিল। এটা অনেক আগের ঘটনা। সামুদ্রিক মাছ সেদ্ধ করে কাঁটা ছাড়িয়ে বিড়ালকে খাবার দেয়া হয়। কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার দেয়া হয় না। নির্যাতনও করা হয় না।’

থানার পুলিশের কাছে করা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পার্থ দাশ বলেন, ‘ওরা যদি মামলা করে, আমরাও আইনজীবী নিয়োগ করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

শেয়ার করুন

সিরিয়াফেরত জঙ্গি ফের রিমান্ডে

সিরিয়াফেরত জঙ্গি ফের রিমান্ডে

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এসআই রাছিব খান নিউজবাংলাকে বলেন, প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার সাখাওয়াতকে ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। আদালত তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার সিরিয়াফেরত জঙ্গি সাখাওয়াত হোসেনকে আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমান মঙ্গলবার বিকেলে শুনানি শেষে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এসআই রাছিব খান নিউজবাংলাকে বলেন, প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার সাখাওয়াতকে ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। আদালত তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

প্রথম দফা রিমান্ডে সাখাওয়াত কী কী তথ্য দিয়েছেন জানতে চাইলে এসআই রাছিব খান বলেন, সাখাওয়াত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেই তথ্য জানানো যাচ্ছে না। তার কাছ থেকে আরও তথ্য প্রয়োজন। এ জন্য ফের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে নগরের দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। সাখাওয়াত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক শাখার কর্মী।

তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান বাদী হয়ে খুলশী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১২ সালে ভায়রাভাই মো. আরিফ মামুনের মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত হন সাখাওয়াত। সংগঠনের নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ অন্যদের মাধ্যমে জিহাদি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে আরিফ তুরস্কে যান। সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গি নেতা হায়াত তাহরির আশরাকের কাছ থেকে ভারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। সিরিয়ার ইদলিব এলাকায় ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন। পরে সিরিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ায় আসেন। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে আবার ইন্দোনেশিয়ায় যান। গত মার্চে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

শেয়ার করুন

শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে: অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে: অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

পাবনা গণপূর্ত বিভাগে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন ঠিকাদারের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়ার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আমরা বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় প্রদর্শিত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছি।’

পাবনায় গণপূর্ত ভবনে অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মহড়ার ঘটনা তদন্তের পর অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই নেতাদের অস্ত্র ও গুলির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আমরা বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় প্রদর্শিত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছি।’

৬ জুন দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাজী ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গণপূর্ত ভবনে যান।

তারা বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমকে খুঁজতে থাকেন। পরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কক্ষে যান ওই নেতারা। তবে কিছুক্ষণ পর তারা বের হয়ে যান।

লিখিত অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনা তদন্তে নামে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দ করে পুলিশ।

মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হওয়া নিয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষের লোকজন খোঁজ খবর তারা করায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগ না করলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। ঠিকাদারদের প্রদর্শিত অস্ত্রও জব্দ করা হয়।’

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

শেয়ার করুন

পুলিশে মুগ্ধ পরীমনি

পুলিশে মুগ্ধ পরীমনি

ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ভরসা উনিই ছিলেন। আমি সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতেছিলাম না বলেই এসব কথা। তিনি যখন জেনেছেন এই কথাটা, বেনজীর স্যার যখন জেনেছেন, তার কান অবধি গেছে, কান অবধি পৌঁছাতে পেরেছি, তখন তো আপনারা দেখলেন, কয়েক ঘণ্টা লাগছে মাত্র।’

আলোচিত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয় থেকে বেরিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরীমনি বলেন, সবার ভালোবাসায় তিনি এখন ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পেয়েছেন।

ধর্ষণ এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা ও প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে পরীমনিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়।

সোয়া ৬টার দিকে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি আসলে মেন্টালি কতটা স্ট্রং হয়ে গেছি। সবাই এত সাপোর্ট দিয়েছেন…।’

এর আগে রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেন পরীমনি। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এই বিচার কই চাইব আমি? কোথায় চাইব? কে করবে সঠিক বিচার? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না মা (প্রধানমন্ত্রী)।’

ডিবি কার্যালয়ে মঙ্গলবার পরীমনিকে ডেকে নিয়ে মামলার বিষয়ে কথা বলেন তদন্তকারীরা। এরপর বেরিয়ে পুলিশের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ছিল তার কণ্ঠে।

আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরীমনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ভরসা উনিই ছিলেন। আমি সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারতেছিলাম না বলেই এসব কথা। তিনি যখন জেনেছেন এই কথাটা, বেনজীর স্যার যখন জেনেছেন, তার কান অবধি গেছে, কান অবধি পৌঁছাতে পেরেছি, তখন তো আপনারা দেখলেন, কয়েক ঘণ্টা লাগছে মাত্র।

‘আমার তো মূল বিশ্বাসটা ওইটাই ছিল, তার কান অবধি পৌঁছালে সে একদম সেটা নিজের মতো করে দেখে নেবে।’

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রথম দিকে হতাশার কারণ জানতে চাইলে পরীমনি বলেন, ‘আমি ওই পর্যন্ত যেতে পারছিলাম না, এটা নিয়েই তো এতক্ষণ কথা বলছি।’

ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে পরীমনি বলেন, ‘এখানে এসে আমি আসলে মেন্টালি অনেক রিফ্রেশড। আমি যে কাজে ফিরব, এটা কেউ আমাকে কিন্তু বলেনি। আমার আশপাশে যারা ছিল তারা সবাই আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু আমার যে কাজে ফিরতে হবে, আমাকে এই শক্তিটা তারা (পুলিশ) জুগিয়েছেন এতক্ষণ ধরে।’

গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে কী বিষয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার কাজ নিয়ে কথা বলেছে, আমাকে নানা রকম গুড ভাইভ দেয়া হচ্ছে। আমার নরমাল লাইফে কীভাবে ফিরে যাব। আমি এতটা তাদের কাছে আশা করিনি। তারা এতটা বন্ধুসুলভ, একটা ম্যাজিকের মতো হয়ে গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন-অর-রশিদেরও প্রশংসা করেন পরীমনি। বলেন, ‘এত তাড়াতাড়ি হারুন স্যার যেভাবে ম্যাজিকের মতো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে…। ঘুমিয়ে মানুষ জাগে সকালে, সেইটাও আমি সুযোগটা পাইনি। মানে ঘুমানোরই আমি টাইম পাইনি। তার আগেই দেখলাম যে এত দ্রুত কাজগুলো (আসামিদের গ্রেপ্তার) হয়ে গেছে।’

শেয়ার করুন

নুসরাতের মৃত্যু: সেই ভুয়া বিসিএস ক্যাডার গ্রেপ্তার

নুসরাতের মৃত্যু: সেই ভুয়া বিসিএস ক্যাডার গ্রেপ্তার

সুসময়ের ছবি। স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নুসরাত জাহান। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। মামুন ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা জানার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টার থেকে গৃহবধূ নুসরাত জাহানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় তার স্বামী মামুন মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার দুপুর পোনে ১টার দিকে কল্যাণপুর বাসস্টান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, গোপন সংবাদে র‍্যাব-২ এর একটি দল কল্যাণপুর বাসস্টান্ড থেকে মামুন মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাব কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গত শনিবার ২৭ বছর বয়সী ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব। সোমবার গোপন সূত্রে জানা যায়, মামুন মিল্লাত কল্যাণপুর থেকে বাসে উঠে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। দীর্ঘ সময় সেখানে অপেক্ষা করে তাকে পায় র‍্যাবের দলটি।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন মিল্লাত তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের মৃত্যুতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’

নুসরাতের মৃত্যু: সেই ভুয়া বিসিএস ক্যাডার গ্রেপ্তার
র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার মামুন মিল্লাত

মামুন মিল্লাত ও নুসরাত জাহান দম্পতি আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয়ের কোয়ার্টারের একটি বাসায় সাবলেট থাকতেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও নুসরাতের কোনো সাড়া পাননি। পরে ওই ভবনের সভাপতি শেরেবাংলা নগর থানায় বিষয়টি জানান।

দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান আগারগাঁও থানার পুলিশ সদস্যরা। তারা বাসার দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় নুসরাতকে দেখতে পান।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। মামুন ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা জানার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বাবা রত্ন কান্তি রোয়াজা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন।

গ্রেপ্তারকৃত মিল্লাত মামুনকে শেরেবাংলা নগর থানায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন