পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২

পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২

প্রতীকী ছবি।

সাবেক এমপি আউয়ালের আলীনগর প্রজেক্টের কার্যক্রম পরিচালনার সময় ভিকটিম সাহিনুদ্দীনের সঙ্গে বিরোধ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাহিনুদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুমনকে নির্দেশ দেন আউয়াল। আউয়ালের নির্দেশনা মোতাবেক সুমনের নেতৃত্বে পরিকল্পনা করা হয়।

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের ছেলের সামনে সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত এজাহার নামীয় ছয়জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত চারজনসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া ডিবি ও র‍্যাবের সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে এই মামলার দুই আসামি নিহত হয়েছে।

এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল, সুমন ব্যপারী, মো. টিটু, মো. দিপু, বাইট্টে বাবু ও মো. মুরাদ।

এছাড়া তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রকি তালুকদার, নুর মোহাম্মদ হাসান, মো. ইকবাল ও মো. শরীফ।

এছাড়া র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. মানিক এবং পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. মনির নামে মামলার দুই আসামী নিহত হয়েছেন।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, সাবেক এমপি আউয়ালের আলীনগর প্রজেক্টের কার্যক্রম (বাউন্ডারি গেইট ও পিলার) পরিচালনার সময় ভিকটিম সাহিনুদ্দীনের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সাহিনুদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুমনকে নির্দেশ দেন আউয়াল। আউয়ালের নির্দেশনা মোতাবেক সুমনের নেতৃত্বে পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করার জন্যে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত ১৬ মে বিকাল ৪টায় সন্ত্রাসীরা জায়গা-জমির বিরোধের বিষয়ে মীমাংসার কথা বলে ভিকটিম সাহীনুদ্দিনকে পল্লবী থানার ডি ব্লকের একটি গ্যারেজের ভিতর নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। প্রকাশ্য দিবালোকে লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডে ভিকটিমের মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্বর্ণবার আত্মসাৎ: আরও ১ পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে

স্বর্ণবার আত্মসাৎ: আরও ১ পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে

বুধবার বিকেলে এসআই ফিরোজকে আদালতে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম জানান, পুলিশ কর্মকর্তাদের রিমান্ডে নেয়ার পর ছমদুল করিম ভুট্টু নামে ডিবির এক সোর্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে ফিরোজের সম্পৃক্ততার কথা পাওয়া যায়। এরপর থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিল।

চট্টগ্রামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০টি স্বর্ণবার আত্মসাতের ঘটনায় আরও এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ফেনীর বিচারিক হাকিম ধ্রুব জ্যোতি পালের আদালত বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাকে কারাগারে পাঠায়।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে নোয়াখালী থেকে উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ফিরোজ চট্টগ্রাম কোতোয়ালি ডিবির এসআই ছিলেন। সেখান থেকে তাকে বরিশালের পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়। তবে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ৭ থেকে ৮ মাস ধরে বাড়িতে ছিলেন। নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার নুরুন্নবী নিউজবাংলাকে জানান, গত ৮ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি। ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে ডিবির সদস্যরা তার গাড়ি থামান। ওই সময় তার কাছে থাকা ২০টি স্বর্ণবার নিয়ে যান তারা।

এ ঘটনায় গোপাল ১০ আগস্ট রাতে ফেনী মডেল থানায় ফেনী ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) মোতাহের হোসেন, মিজানুর রহমান ও নুরুল হক এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অভিজিত বড়ুয়া ও মাসুদ রানার নামে মামলা করেন।

ওসি সাইফুল ইসলামের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় আত্মসাৎ করা ১৫টি স্বর্ণবার।

পুলিশ গোপালের মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কয়েক দফায় রিমান্ডে নেয়। তাদের চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হয়।

পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম জানান, পুলিশ কর্মকর্তাদের রিমান্ডে নেয়ার পর ছমদুল করিম ভুট্টু নামে ডিবির এক সোর্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে ফিরোজের সম্পৃক্ততার কথা পাওয়া যায়। এরপর থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিল।

শেয়ার করুন

পৌর মেয়রসহ তিন বিএনপি নেতার জামিন

পৌর মেয়রসহ তিন বিএনপি নেতার জামিন

ওই তিন নেতা এর আগে হাইকোর্ট থেকে তিন মাসের জামিন নিয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আশরাফুল ইসলামের আদালতে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের অভিযোগে করা আলাদা মামলায় জামিন পেয়েছেন নওগাঁর পৌর মেয়র নজমুল হক সনিসহ তিন বিএনপি নেতা।

বুধবার বেলা ২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম শহীদুল ইসলাম তাদের জামিন দেন।

মেয়রের আইনজীবী মিনহাজুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল খালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওই তিন নেতা এর আগে হাইকোর্ট থেকে তিন মাসের জামিন নিয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আশরাফুল ইসলামের আদালতে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ জেড এম রফিকুল ইসলাম জানান, মামলার অন্য আসামিরা জামিনে আছেন। আশা করা হচ্ছিল, আদালত এই তিনজনকে জামিন দেবেন।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ নওগাঁ শহরের কেডির মোড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হেফাজত কর্মী নিহতের ঘটনায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই দিন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য ও বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

এদিন সন্ধ্যায় আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তিসহ জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। দুই মামলায় ৫৭ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় অর্ধশত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

শেয়ার করুন

ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন নয়: হাইকোর্ট

ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন নয়: হাইকোর্ট

অর্থ আত্মাসাতের মামলায় ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা এখন জেলে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, ইক্যাব, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, ইভ্যালির কাছে এ প্রশ্নের জবাব জানতে চেয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি এবং হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি এবং হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সায়েদ মাহসিব হোসেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ইভ্যালির কোনো সম্পত্তি বিক্রি এবং হস্তান্তর করা যাবে না। এর ওপর আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

এই আইনজীবী জানান, ইভ্যালির একজন গ্রাহক ফরহাদ হোসেন। যিনি ইভ্যালি থেকে একটি পণ্য কিনেছিলেন, কিন্তু পণ্যটি ক্রয়ের পাঁচ মাস পরেও সেটি তিনি হাতে পাননি। এরপর এই গ্রাহক ইভ্যালি অবসায়ন চেয়ে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত ইভ্যালির সমস্ত সম্পত্তির ওপর বিক্রি ও হস্তান্তরের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

পাশাপাশি ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

রুলে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, ইক্যাব, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, ইভ্যালিকে বিবাদী করা হয়েছে।

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র‌্যাবের একটি দল।

এরপর গুলশান থানায় করা অর্থ আত্মাসাৎ মামলায় তাদেরকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাদের আদালতে উপস্থিত করা হলে ধানমন্ডি থানায় করা অর্থ আত্মসাতের অপর এক মামলায় রাসেলকে একদিনের জন্য রিমান্ডে পাঠান বিচারক। আর শামীমাকে পাঠানো হয় কারাগারে।

শেয়ার করুন

দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন

দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন

বাড়ির ছাদের বাইরে ঝুলছিল এই দুই বোনের মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

এ ঘটনায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। পুলিশের কাছেও নেই নতুন কোনো তথ্য। তবে এলাকাবাসী এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ।

সিলেট নগরীর আম্বরখানায় বাড়ির ছাদে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ নিয়ে আলোচনা চলছে এলাকায়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বললেও এলাকাবাসী বিষয়টিকে সন্দেহজনক হিসেবেই দেখছে।

আম্বরখানার মজুমদারি এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদ থেকে মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার করা হয় ৩৭ বছরে শেখ রানী মজুমদার ও তার বোন ২৭ বছরের ফাতেমা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ।

নগরের বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, ছাদে পিলারের রডের সঙ্গে ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে তারা আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ দুটি ঝুলছিল ছাদের কার্নিশের বাইরে।

মৃত দুই বোনের স্বজনদেরও দাবি, এটি আত্মহত্যা।

এ ঘটনায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। পুলিশের কাছেও নেই নতুন কোনো তথ্য। তবে এলাকাবাসী এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ।

ওই বাড়িতে মা, দুই ভাই ও আরও এক বোনের সঙ্গে থাকতেন রানী ও ফাতেমা। প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারের কেউই এলাকায় কারও সঙ্গে তেমন মেলামেশা করতেন না। অন্য আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও তাদের তেমন যোগাযোগ নেই।

ওসি মাইনুল মঙ্গলবারই জানিয়েছেন, এই পরিবারের সব সদস্যেরই আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক; কাথাবার্তায় অপ্রকৃতস্থ মনে হয়েছে।

রানী ও ফাতেমার ভাই শেখ রাজন জানান, ঘটনার আগের দিন রাগ করে ঘর থেকে বেরিয়ে চাচার বাসায় চলে যান রানী। ছোটবেলা থেকেই রানীর আচরণ অস্বাভাবিক। অকারণেই রেগে যান। এ কারণে নবম শ্রেণির পর আর পড়ালেখা করতে পারেননি তিনি।

দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন

রাজন আরও জানান, বিয়ের আলোচনা উঠলে রানী ক্ষেপে উঠতেন। গত সোমবারও তার একটি বিয়ের প্রস্তাব আসে। তা শুনেই রানী রেগে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

তবে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সিটি করপোরেশনের ওই এলাকার কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদি বলেন, ‘আমি শুনেছি সোমবার রাগ করে হাতে দা দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান রানী ও ফাতেমা।

‘তাদের হাতে দা ছিল কেন? কেউ কি তাদের মারতে চেয়েছিল? চাচার বাসা থেকে নিজ বাসায় ফেরার পর তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কী কথা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দরকার।’

রানী-ফাতেমার বাড়ির পাশেই থাকেন ব্যবসায়ী কায়েস আহমদ। তিনি মঙ্গলবার সকালে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখেছেন।

কায়েসের প্রশ্ন, ‘রানী যদি রেগে গিয়ে আত্মহত্যা করেও থাকেন, তবে ফাতেমা কেন আত্মহত্যা করেছেন? আবার রানী যদি তাকে হত্যা করে থাকেন, তাতেও তো তিনি বাধা দেয়ার কথা, পরিবারের অন্য সদস্যরা কি তা টের পাননি?

‘ঝুলন্ত অবস্থায় দুই বোনের মরদেহ একেবারে গায়ে গায়ে লাগানো ছিল। শেষ মুহূর্তেও কি তারা কেউ কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করেননি?’

স্থানীয়রা জানান, রানী-ফাতেমার বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই। তাদের আরও এক বোন বিয়ে করে দেশের বাইরে থাকেন। এই বাড়ির সদস্যদের মধ্যে প্রায়ই কলহ চলতো।

ময়নাতদন্ত শেষে দুই বোনের মরদেহ মঙ্গলবার রাতেই দাফন করা হয়।

বিমানবন্দর থানার ওসি মাইনুল জাকির বলেন, ‘আমরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আজ (বুধবার) মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।’

মরদেহের গলা ছাড়া আর কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি জানিয়ে ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যাই মনে হচ্ছে। তবে সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

ইভ্যালির এমডি-চেয়ারম্যানের মুক্তি চায় বিইসিএমএ

ইভ্যালির এমডি-চেয়ারম্যানের মুক্তি চায় বিইসিএমএ

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ইভ্যালির এমডি মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। ফাইল ছবি

বিইসিএমএর এক সদস্য মানববন্ধনে বলেন, ‘রাসেল ভাইয়ের নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে ইভ্যালিকে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়া হোক। ইভ্যালি নিয়ে সবচেয়ে বেশি নেগেটিভ কথা বলে যারা ইভ্যালিতে কখনো অর্ডার করে নাই। সকল পেশাজীবী ইভ্যালি থেকে কেনাকাটা করেন।’

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে বাংলাদেশ ই-কমার্স মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিইসিএমএ)।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বুধবার মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়।

বিইসিএমএ নেতারা বলছেন, গ্রাহকরা ইভ্যালিকে সময় দিচ্ছে। প্রশাসনেরও উচিত একই পথে হাঁটা।

সংগঠনটির এক সদস্য মানববন্ধনে বলেন, ‘রাসেল ভাইয়ের নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে ইভ্যালিকে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়া হোক। ইভ্যালি নিয়ে সবচেয়ে বেশি নেগেটিভ কথা বলে যারা ইভ্যালিতে কখনো অর্ডার করে নাই। সকল পেশাজীবী ইভ্যালি থেকে কেনাকাটা করেন।

‘ইভ্যালিতে যারা অর্ডার করে প্রোডাক্ট পেয়েছেন তারা যদি ইভ্যালির দুর্দিনে সহযোগিতা না করেন, তাহলে নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী হবেন। আদালত রায় না দিতেই আমরা তাকে অপরাধী বলে দিচ্ছি। তা কতটুকু যুক্তিসংগত?’

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ই কমার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাসির উদ্দিন সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন।

১. ইভ্যালির এমডি রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমার মুক্তি।

২. রাসেলকে নজরদারিতে রেখে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়া

৩. এক্সক্রো সিস্টেম চালু হওয়ার আগে অর্ডার করা পণ্য ডেলিভারি দিতে কমপক্ষে ৬ মাস সময় দেয়া।

৪. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইক্যাব, পেমেন্ট গেটওয়ে মার্চেন্ট এবং ভোক্তাদের প্রতিনিধিদের সমন্বয় কমিটি গঠন করা।

৫. করোনাভাইরাসের সময়ে বিভিন্ন খাতের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রণোদনা দেয়া।

৬. ব্যাংক গ্যারান্টিসহ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে লাইসেন্স নেয়া।

৭. ই-কমার্স বাংলাদেশের সবচেয়ে সস্তাবনাময় খাত, যেখানে হাজার হাজার উদ্যোক্তার সৃষ্টি হচ্ছে, কর্মসংস্থান হচ্ছে। এ খাতকে সরকারিভাবে সুরক্ষা দিতে হবে।

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছুদিন ধরে ব্যাপক আলোচনায় ইভ্যালি। পণ্য সরবরাহের পর তা বিক্রি করলেও মার্চেন্টকে টাকা পরিশোধ না করার মামলায় প্রতিষ্ঠানটির এমডি মো. রাসেলকে নতুন করে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত।

অর্থ আত্মসাতের একই মামলায় আরেক আসামি ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের রিমান্ড আবেদন করা হলেও তা নাকচ করেছে আদালত।

ইভ্যালির মার্চেন্ট ও মামলার বাদী মো. কামরুল ইসলাম চকদার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ধানমন্ডি থানায় ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি করেন।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালত গুলশান থানার মামলায় রাসেলকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছিল। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন অন্য মামলায় তাকে রিমান্ড পাঠাল আদালত।

শেয়ার করুন

নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনদের মামলার প্রতিবেদন পেছাল

নিশো-মেহজাবিন-ব্যারিস্টার সুমনদের মামলার প্রতিবেদন পেছাল

ব্যারিস্টার সুমন, মেহজাবিন ও নিশো। ছবি: সংগৃহীত

মামলা দুটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ১১ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিকীর আদালত মামলা দুটি গ্রহণ করে পিবিআইকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

নাটক এবং টেলিভিশনের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে ‘নেতিবাচক, ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর’ ধারণা এবং শব্দ ব্যবহারের অভিযোগে করা দুই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পিছিয়েছে আদালত।

ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেন বুধবার মামলা দুটির প্রতিবেদন জমার নতুন তারিখ রেখেছেন আগামী ১ নভেম্বর।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন আসামি পক্ষের আইনজীবী জীবনানন্দ জয়ন্ত।

মামলা দুটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ১১ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিকীর আদালত মামলা দুটি গ্রহণ করে পিবিআইকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, বশির আল হোসাইন নামের এক প্রতিবন্ধী অধিকার কর্মী মামলা দুটির আবেদন করেন।

একটি মামলা দায়ের করা হয় ‘ঘটনা সত্য’ নামের একটি নাটক নিয়ে, যা চ্যানেল আইয়ের ঈদুল আজহার আয়োজনে ২৩ জুলাই প্রচার করা হয়েছিল।

এ মামলায় আসামি করা হয়েছে-চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, নাটকের চিত্রনাট্যকার মঈনুল সানু, পরিচালক রুবেল হাসান, অভিনেতা আফরান নিশো ও মেহজাবিন চৌধুরীকে।

অপর মামলা করা হয়েছে চ্যানেল আইয়ের আলোচনা অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’ এর ১১ জুলাইয়ের পর্ব নিয়ে, যেখানে একজন আলোচকের কথায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে ‘নেতিবাচক ধারণা’র প্রকাশ ঘটেছে বলে অভিযোগ।

এ মামলায় আসামি করা হয়েছে ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ, অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী জাহিদ নেওয়াজ খান, প্রযাজক রাজু আলিম, উপস্থাপক সোমা ইমলাম এবং আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকা ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনকে।

মামলা দুটির বাদী বশির আল হোসাইন, সকল সাক্ষী এবং আইনজীবী মোহাম্মদ রেজাউল করিম সিদ্দিকী সবাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।

নাটকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, ‘ঘটনা সত্য’ নাটকে দেখানো সংলাপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের বাবা মা ও পরিবারকে ‘ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে।’

আর দ্বিতীয় মামলায় বাদীর অভিযোগ ‘টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা বনাম ব্রাজিলের খেলা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের একটি মন্তব্য নিয়ে।

সেখানে অভিযোগ করা হয়, ওই টকশোতে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমার নিজের ছেলেটারে প্রতিবন্ধী বানাইয়া রাইখা আমি এখন আর্জেন্টিনার ছেলে এবং ব্রাজিলের ছেলে নিয়া লাফাচ্ছি। লাফানো ঠিক আছে। আমরা অনেক ছোটবেলা থেকে ম্যারাডোনার ভক্ত, কিন্তু নিজের ছেলেটারে এভাবে প্রতিবন্ধী বানাব?’

দেশের ফুটবল খেলার মানের অবনতি, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, ব্যর্থতা ও অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে ‘প্রতিবন্ধী বানাইয়া রাইখা’ এবং ‘এভাবে প্রতিবন্ধী বানাব’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে ‘নেতিবাচক, ভ্রান্ত ও ক্ষতিকর’ ধারণা দেয়া হয়েছে বলে বাদীর অভিযোগ।

মামলার অভিযোগে তিনি বলেছেন, এ ধরনের নেতিবাচক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হয়েছে।

শেয়ার করুন

বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ

বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ

নিত্যনতুন ফন্দি বের করে বিকাশের গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন প্রতারকরা। পুলিশের বিশেষ দল এদের নানা সময় গ্রেপ্তার করছে। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না তৎপরতা। পুলিশ বলছে, একেক জন ভুক্তভোগীর অল্প পরিমাণ অর্থ খোয়া যায় বলে অধিকাংশ সময় অভিযোগই দায়ের হয় না। 

গোপালগঞ্জের রামদিয়া সরকারি শ্রীকৃষ্ণ কলেজ। এই কলেজের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষক প্রভাষক কদর আলী। কদর আলীর নাম ব্যবহার করে এক দল প্রতারক এই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ফোন দিয়ে বলছে, ‘আমি তোমাদের কদর আলী স্যার। তোমাদের উপবৃত্তির ৮ হাজার ২০০ টাকা পাঠাতে হবে। একটা বিকাশ নম্বর দাও।’

এভাবে প্রতারকরা ওই কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার টাকা।

এ রকম কয়েকটি অডিও রেকর্ড এসেছে নিউজবাংলার হাতে।

কয়েকজন ভুক্তভোগি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তাদের একজন পলাশ মিয়া।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিয়ে বলা হলো, কদর আলী স্যার বলছি। একটা বিকাশ নম্বর দাও, উপবৃত্তির ৮ হাজার ২০০ টাকা যাবে। তখন আমি ফোনটা আমার ভাইয়ের কাছে দেই। আমার ভাই আমার কথায় বিশ্বাস করে স্যার ভেবে তার সঙ্গে কথা বলে তার কথা মতো কাজ করে। ফলে আমার ভাইয়ের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২৪০০ টাকা নিয়ে নেয় প্রতারক। আমার মতো অনেকের সঙ্গে এই কাজ করেছে বিকাশ প্রতারক।’

এ বিষয়ে কথা হয় সরকারি রামদিয়া সরকারি শ্রীকৃষ্ণ কলেজের শিক্ষক কদর আলী সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজে কয়েকজন ছাত্র এসে অভিযোগ করেছে এই প্রতারণার বিষয়ে। কয়েকটি নম্বরও দিয়েছে তারা আমাদের। পরবর্তীতে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের ফোন দিয়ে প্রতরণার বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছি।’

বিকাশ-কেন্দ্রিক প্রতারকদের নতুন নতুন ফাঁদ

বিকাশ-কেন্দ্রিক প্রতারকদের নানান ফাঁদের বিষয়ে কথা হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধরের সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি জানান, পুরনো কিছু কৌশলের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী কৌশল অবলম্বন করছেন প্রতারকেরা।

ভুল নম্বরে ভুল করে টাকা পাঠানোর কথা বলে সেটা ফেরত চাওয়া বা ওটিপি নম্বর নেওয়ার ফাঁদ পুরনো।

মুক্তা ধর বলেন, ‘নতুন কৌশলের মধ্যে দেখা গেছে, টিকা নিবন্ধনের এসএমএস পাঠিয়ে প্রতারণা করা। এক্ষেত্রে প্রতারক বলে, “আমি টিকার নিবন্ধন করেছি। তবে ভুলক্রমে আপনার নম্বরে চলে গেছে। যদি কোডটা একটু কষ্ট করে দেন, না হলে আমার আবার রেজিস্ট্রেশন করা লাগবে। না হলে আমার দেরি হয়ে যাবে।” তখন ভিকটিম মানবিক দিক বিবেচনা করে কোডটা দিয়ে দেয়। তারা মানসিকভাবে দুর্বল করে প্রতারণা করছে।’

বিকাশের প্রতারণা নিয়ে কাজ করেন সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম সেলের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান। গত নয় মাসে ঢাকা থেকে টিম পাঠিয়ে ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো বিকাশ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছেন তারা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে একটা পেজে দেখলাম লেখা, উপবৃত্তির টাকার জন্য এই নম্বরে যোগাযোগ করুন। আমি তখন লোকেশনটা চেক করে দেখলার ভাঙ্গা, ফরিদপুর। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিকাশ এজেন্টকেও ফোন দেয় প্রতারকরা। ফোন দিয়ে বলে, “আপনি তো দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ কমিশন পান। আমাদের অফিস থেকে কমিশন দ্বিগুণ করে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে। এটা অ্যাক্টিভেট করার জন্যে আমরা যা বলি তাই করেন।” প্রতারকদের কথামতো কাজ করলে টাকা অন্য নম্বরে ট্র্যান্সফার হয়ে যায়। প্রতারক টাকা নিয়ে একাধিক নম্বরে ট্র্যান্সফার করে দেয়। পরে একটা জায়গা থেকে ক্যাশ আউট করে নেয়।

‘এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির নামে বিভিন্ন অফারের কথা বলে প্রতারক। ১৬২৪৭ বিকাশের হটলাইন। এই নম্বরের সামনে অনেক সময় +৮৮ যুক্ত করে প্রতারক ফোন দিয়ে নানা ধরনের প্রলোভন দেখায়। এই বিকাশ কেন্দ্রিক চক্রের ৯০ শতাংশ ফরিদপুরের। বাকিরা মাদারিপুর ও মাগুরার।’

গ্রাহকের তথ্য প্রতারক জানে কীভাবে?

সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইমের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, এজেন্টের দোকান একটা খাতা ব্যবহার করে, যে খাতায় বিকাশের ট্রানজ্যাকশনের বিকাশ নম্বর লেখা হয়। অনেক সময় প্রতারক বিকাশের টাকা তোলা বা পাঠানোর নামে গিয়ে গোপনে ওই খাতার ছবি তুলে আনে। অনেক সময় এই প্রতারনায় বিকাশের এজেন্ট ও বিকাশ কর্মকর্তারাও জড়িত থাকে।’

এ ছাড়া অনেক সংস্থা ভোক্তার ডাটা সংগ্রহ করে বলেও জানান কামরুল আহসান। তারা থার্ড পার্টির কাছে ডাটা বিক্রি করে। এ ধরনের সংস্থার কাছ থেকেও প্রতারক ডাটা সংগ্রহ করে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন লোভ দেখিয়েও প্রতারক নিশ্চিত হন, গ্রাহকের নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা।

বিকাশের গ্রাহকের তথ্যের বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের সকল কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক হয়েছে। যে শিক্ষার্থীরা ভিকটিম হয়েছে, তারা যাচাই-বাছাই না করে তথ্য দিয়ে দিয়েছে। সে তার অসাবধানতার কারণে ভিকটিমে পরিণত হয়েছে। এখানে সচেতনতা জরুরি।’

প্রতারক মোবাইল সিম সংগ্রহ করে কোথা থেকে?

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ‘আমরা যে সকল প্রতারক গ্রেপ্তার করেছি, তাদের তথ্যমতে, একদল অসাধু সিম বিক্রেতা রয়েছে, যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ফ্রি সিমের সঙ্গে কিছু টাকা দেবে বলে সিম গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করে। এ ছাড়া তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর সংগ্রহ করে এবং এই আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশন করে। এই চক্রগুলোর কাছ থেকে সাধারণ দামের থেকে কয়েক গুণ বেশি দামে সিম কেনে প্রতারকরা। এ কারণে প্রতারকের পরিচয় পাওয়া যায় না।’

বিকাশ প্রতারক কেন নির্মূল সম্ভব নয়!

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ‘সিআইডির যে ট্রেসিং পদ্ধতি সেটা দিয়ে এরিয়া ট্রেসিং করা যায়। যেমন, প্রতারক কোন এলাকায় আছে বা কোন টাওয়ারের আওতায় আছে। এছাড়া পিনপয়েন্ট করে প্রতারকের স্থান নির্ণয় করা সম্ভব। তবে পিনপয়েন্ট করার যে ব্যবস্থা আছে, সেটা খুব ব্যয়বহুল। রাষ্ট্রীয় অপরাধ ছাড়া পিনপয়েন্ট ট্রেসিং ব্যবহার হয় না, তাই প্রতারক গ্রেপ্তার করতে ঝামেলায় পড়তে হয়।

‘অনেক সময় ঢাকা থেকে টিম পাঠিয়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রতারকরা অবস্থান পরিবর্তন করে ফেলে। ফরিদপুরে আমাদের দল থাকলেও এই কাজের জন্য বিশেষজ্ঞ দলের প্রয়োজন। আর এই বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় আছে শুধু।’

প্রতারণার শিকার হয়েও মামলা বা অভিযোগে অনীহা

বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘প্রতারকরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পেয়েছি। ভিকটিম হয়তো মনে করেন, মাত্র তো ২ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু প্রতারণা করে দিনে ২-৩ লাখ টাকাও হাতিয়ে নেয় প্রতারক।

‘ভিকটিম আমাদের জানালে আমরা বিকাশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের বলি প্রতারক তথ্য নিয়েছে, আপনারা এই নম্বর থেকে ট্রানজেকশনটা বন্ধ করে দেন। টাকা ট্রানজেকশন হয়ে গেলে এটা বের করতে কঠিন হয়ে যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিকটিম অভিযোগ করেন না।’

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ছোট ছোট অংকের টাকা প্রতারকের কাছে খোয়ান। এই অল্প টাকার কারণে তারা মামলা করেন না। সে কারণে অপারেশনও ওভাবে হয় না। ফলে প্রতারকরা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা শুধু বিকাশের ক্ষেত্রে নয়, সকল ক্ষেত্রে হচ্ছে। প্রতারকরা বিভিন্ন রকম কথার ফাঁদে ফেলে এই প্রতারণা করে। পিন নম্বর ও ওটিপি এই দুইটা হচ্ছে মূল বিষয়। ফোনে যখন কোনো কোড আসে, এগুলো কাউকে বলার জন্য আসে না। আমার নিজের জন্য আসে। সব সময় আমরা বলছি, এই সচেতনাটা দরকার। যখনই কেউ এই কোড নম্বর চাইবে, তখনই মনে করতে হবে সে প্রতারক। কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান কখনই এ ধরনের কোড চাইবে না।’

শেয়ার করুন