পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২

প্রতীকী ছবি।

পল্লবীতে সাহিনুদ্দীন হত্যা: গ্রেপ্তার ১০, বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২

সাবেক এমপি আউয়ালের আলীনগর প্রজেক্টের কার্যক্রম পরিচালনার সময় ভিকটিম সাহিনুদ্দীনের সঙ্গে বিরোধ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাহিনুদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুমনকে নির্দেশ দেন আউয়াল। আউয়ালের নির্দেশনা মোতাবেক সুমনের নেতৃত্বে পরিকল্পনা করা হয়।

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের ছেলের সামনে সাহিনুদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত এজাহার নামীয় ছয়জন এবং তদন্তে প্রাপ্ত চারজনসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া ডিবি ও র‍্যাবের সঙ্গে পৃথক বন্দুকযুদ্ধে এই মামলার দুই আসামি নিহত হয়েছে।

এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল, সুমন ব্যপারী, মো. টিটু, মো. দিপু, বাইট্টে বাবু ও মো. মুরাদ।

এছাড়া তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রকি তালুকদার, নুর মোহাম্মদ হাসান, মো. ইকবাল ও মো. শরীফ।

এছাড়া র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. মানিক এবং পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. মনির নামে মামলার দুই আসামী নিহত হয়েছেন।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার জানান, সাবেক এমপি আউয়ালের আলীনগর প্রজেক্টের কার্যক্রম (বাউন্ডারি গেইট ও পিলার) পরিচালনার সময় ভিকটিম সাহিনুদ্দীনের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সাহিনুদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুমনকে নির্দেশ দেন আউয়াল। আউয়ালের নির্দেশনা মোতাবেক সুমনের নেতৃত্বে পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করার জন্যে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত ১৬ মে বিকাল ৪টায় সন্ত্রাসীরা জায়গা-জমির বিরোধের বিষয়ে মীমাংসার কথা বলে ভিকটিম সাহীনুদ্দিনকে পল্লবী থানার ডি ব্লকের একটি গ্যারেজের ভিতর নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। প্রকাশ্য দিবালোকে লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডে ভিকটিমের মায়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জামিন পাননি ছাত্র অধিকারের ২৫ নেতা-কর্মী

জামিন পাননি ছাত্র অধিকারের ২৫ নেতা-কর্মী

মতিঝিল শাপলা চত্বরে গত ২৫ মার্চ পুলিশ সদস্যের ওপর বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ কর্মীদের হামলা। ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৫ মার্চ বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ। মিছিল চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।

রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভকে ঘিরে গ্রেপ্তার বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের ২৫ নেতা-কর্মীর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতেও জামিন মেলেনি।

১৭ জুন বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের ভার্চুয়াল আদালত জামিন নাকচ করে আদেশ দেন।

আসামিপক্ষে আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম ও খাদেমুল ইসলাম জামিন চেয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় এই শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, আসামিদের মধ্যে শাকিল উজ্জামান ও ইব্রাহীম খোকনের নাম এজাহারে উল্লেখ নাই। এ ছাড়া জেলহাজতে থাকা আব্দুর রউফের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই মর্মে দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, অন্য আসামিদের ঘটনার পর ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে আদৌ সম্পৃক্ত নন।

অপর আসামি মাজহারুল ইসলামকে ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে।

আসামিরা আড়াই মাসের (৮১ দিন) বেশি সময় জেলহাজতে আছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) ফরিদ আহমেদ জামিনের বিরোধিতা করেন।

শুনানি শেষে বিচারক তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে আদেশ দেন৷

জামিন না হওয়া আসামিরা হলেন: ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামান, রাজশাহী বিশ্বদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি নাহিদ উদ্দিন তারেক, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, মো. নাঈম, আসাদুজ্জামান, যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম পাঠান, আব্দুর রউফ, ইব্রাহীম খোকন, আল আমিন মিনা, মো. ইউনুস, মোস্তাক আহমেদ শিশির, সোহেল আহম্মেদ, শেখ খায়রুল কবির আহম্মেদ, সবুজ হোসেন, গোলাম তানভীর, হেমায়েত খলিফা, ইসমাইল হোসেন, রেজাউল করিম, মুনতাজুল ইসলাম, ক্বারী মাহমুদ বিন মনির, আজিম হোসেন, রুহুল আমিন, সোহেল মৃধা ও আল মাহমুদ জিহান ।

আসামিদের মধ্যে শাকিল, ইব্রাহীম, আল আমিনকে ২৮ মার্চ, মাজহারকে ২৯ মার্চ ও বাকি ২০ জনকে ২৫ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয়। শাকিল ও ইব্রাহীমের নাম এজাহারে নেই এবং মাজহার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৫ মার্চ বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ। মিছিল চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।

এই সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্র অধিকারের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হাসানসহ ৫১ জনকে আসামি করে মতিঝিল থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিন্টু কুমার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন ।

শেয়ার করুন

পাবনা গণপূর্ত ভবনে মহড়া: ২ নেতার শটগানের লাইসেন্স বাতিল

পাবনা গণপূর্ত ভবনে মহড়া: ২ নেতার শটগানের লাইসেন্স বাতিল

পাবনা গণপূর্ত বিভাগে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন ঠিকাদারের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়ার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘সম্প্রতি পাবনা গণপূর্ত ভবনে কয়েকজন ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতার অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের ঘটনা তদন্তে অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশও করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহসিন রেজা খান মামুন ও শেখ আনোয়ার হোসেন লালুর নামে ইস্যুকৃত শটগানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।’

পাবনায় গণপূর্ত ভবনে অস্ত্র নিয়ে ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতাদের মহড়ায় ব্যবহৃত দুটি শটগানের লাইসেন্স বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন।

বুধবার বিকেলে লাইসেন্স বাতিলের পর বৃহস্পতিবার সকালে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে বলে পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি পাবনা গণপূর্ত ভবনে কয়েকজন ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতার অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের ঘটনা তদন্তে অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশও করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহসিন রেজা খান মামুন ও শেখ আনোয়ার হোসেন লালুর নামে ইস্যুকৃত শটগানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।’

পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান জানান, গণপূর্ত বিভাগে ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রবেশের ঘটনা জানার পরই বিষয়টি তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগ না করলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। ঠিকাদারদের প্রদর্শিত অস্ত্রও জব্দ করা হয়।

গত ৬ জুন দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক হাজী ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম আর খান মামুন এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গণপূর্ত ভবনে যায়।

তারা বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমকে খুঁজতে থাকেন। পরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কক্ষে যান ওই নেতারা। তবে কিছুক্ষণ পর তারা বের হয়ে যান।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্রগুলো জব্দ করে। তদন্তে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ জানিয়ে প্রতিবেদন দেয় জেলা পুলিশ।

আলোচিত ওই ঘটনায় সদর উপজেলার স্থগিত কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক হাজী ফারুক ও পৌর আওয়ামী লীগের স্থগিত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনকে কেন দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সেটি জানতে চেয়ে ১৫ দিন সময় দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।

একই অভিযোগে বুধবার পাবনা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুকেও যুবলীগ থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে জেলা যুবলীগ।

শেয়ার করুন

আবু ত্ব-হাকে উদ্ধারের চেষ্টায় ডিবি

আবু ত্ব-হাকে উদ্ধারের চেষ্টায় ডিবি

হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ত্ব-হাসহ চার ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে রংপুরে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।’

আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানসহ নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

নিখোঁজ হওয়া নিয়ে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এ কথা জানান।

ওই সাংবাদিক হাফিজ আক্তারের উদ্দেশে বলেন, বিভিন্ন সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে ডিবি ভূমিকা রেখেছে। আবু ত্ব-হাসহ চারজনের বিষয়ে ডিবি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না।

জবাবে হাফিজ আক্তার বলেন, ‘ত্ব-হাসহ চার ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে রংপুরে।

‘রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।’

গত ৮ জুন রাতে রংপুর থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ফেরার পথে ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ত্ব-হা, তার দুই সফরসঙ্গী ও গাড়ির চালক।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন আফসানুল আদনান ওরফে আবু ত্ব-হা আদনান, আমির উদ্দিন, ফিরোজ আলম ও আব্দুল মুহিত আনছারী।

রংপুর থেকে ঢাকায় প্রবেশের সময় গাবতলী থেকে চারজন নিখোঁজ হন বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন আবু ত্ব-হার শ্যালক জাকারিয়া হোসেন।

তার ভাষ্য, তার ভগ্নিপতির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয় গাবতলী থেকে রাতে। এরপর থেকে তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সন্দেহ, দুষ্কৃতকারীরা তাদের অপহরণ করেছে।’

নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ত্ব-হার স্ত্রী দারুস সালাম থানায় লিখিত অভিযোগ করতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন জাকারিয়া।

তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার এ এস এম মাহতাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তারা তো থানাতেই যাননি। ফোনে ওসিকে জানিয়েছে। ওসি তাদের জন্য অপেক্ষা করছেন।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমার ধারণা লোকজন কোথায় আছে, বিষয়টা তারা জানে।’

শেয়ার করুন

গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়

গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়

স্ত্রী-সন্তানদের হিফজুরই হত্যা করেছে বলে পুলিশ সন্দেহ করলেও নিহত নারীর বাবার করা মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে।

সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই সন্তানসহ মাকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। হত্যায় ওই নারীর স্বামী জড়িত বলে পুলিশ ধারণা করলেও মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে।

নিহত আলিমা বেগমের বাবা আইয়ুব আলী বৃহস্পতিবার সকালে গোয়াইনঘাট থানায় এই মামলা করেছেন।

তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলিমা ও তার স্বামী হিফজুর রহমানের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল। ঘটনার তিন দিন আগে আলিমার বোনের বিয়েতে যাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডাও হয়েছিল।

ওসি জানান, এসব কারণে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করে থাকতে পারেন হিফজুর। সন্দেহ এড়াতে পরে নিজেকে নিজে জখম করেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাড়িতে বুধবার সকালে পাওয়া যায় আলিমা বেগম, ছেলে ১০ বছরের মিজান ও মেয়ে ৩ বছরের তানিশার রক্তাক্ত মরদেহ।

সেখান থেকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয় হিফজুর রহমানকে। তাকে ভর্তি করা হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়
আহত হিফজুর রহমান

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতের কোনো একসময় তাদের হত্যা করা হয়। ওই রাতে মামার বাসায় থাকায় বেঁচে যায় ওই দম্পতির পাঁচ বছরের ছেলে আফসান।

আফসানের নানা আইয়ুব আলী নিউজবাংলাকে ব‌লেন, আফসান তাদের বা‌ড়ি‌তে আছে। তাকে এ ঘটনা জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার মামার বাড়িতে বেড়াতে আসে আফসান। রাতে সেখানেই সে থেকে যায়। আর ওই রাতেই হত্যা করা হয় তার মা ও ভাইবোনকে। সে ওই বাড়িতে থাকলে তাকেও হত্যা করা হতো।

হত্যাকারী হিসেবে হিফজুরকে পুলিশ এখন সন্দেহ করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, হিফজুরের আচরণ শুরু থেকেই সন্দেহজনক।

ঘটনার পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল, সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এখন পুলিশের সন্দেহের তির আহত হিফজুরের দিকেই।

এ ঘটনার তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘হিফজুর রহমান প্রথম থেকেই সন্দেহজনক আচরণ করছেন। প্রথমে আমরা তা বুঝতে পারিনি।

‘তিনি ঘরের ভেতরে অজ্ঞানের ভান করে পড়ে ছিলেন। তবে হাসপাতালে নেয়ার পর বোঝা যায় তার আঘাত গুরুতর নয়।’

হিফজুরকে সন্দেহের কয়েকটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে কেউ হত্যার জন্য এলে সঙ্গে করে অস্ত্র নিয়ে আসত। তাদের ঘরের বঁটি দিয়েই খুন করত না। বিরোধের কারণে খুনের ঘটনা ঘটলে প্রথমেই হিফুজরকে হত্যা করা হতো কিংবা স্ত্রী-সন্তানদের প্রথমে হামলা করলেও হিফুজর তা প্রতিরোধের চেষ্টা করতেন। এতে স্বভাবতই তিনি সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হতেন।

‘অথচ হিফজুরের শরীরের আঘাত একেবারেই সামান্য। হিফজুরের শরীরের কিছু জায়গার চামড়া ছিলে গেছে কেবল। এতে আমাদের ধারণা, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে ঘটনা অন্য খাতে প্রবাহিত করতে নিজেই নিজের হাত-পা ছিলেছেন তিনি।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সাধারণত ঘুমানোর আগে সবাই হাত-পা ধুয়ে ঘুমাতে যান। হিফজুরের স্ত্রী-সন্তানদের মরদেহের হাত, পাও পরিষ্কার ছিল। অথচ তার পায়ে বালু ও কাদা লাগানো ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে তিনি রাতে ঘুমাননি।’


গোয়াইনঘাটে তিন খুনে মামলা, আসামি অজ্ঞাতপরিচয়

এ ছাড়া হিফজুর অজ্ঞান হওয়ার ভান করেছিলেন জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। পাগলের মতো আচরণ করছেন। তার কথাবার্তাও সন্দেহজনক।’

তবে কী কারণে হিফজুর তার স্ত্রী-সন্তানদের খুন করতে পারেন, এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু হিফজুর এখনও হাসপাতালে আছেন, তাই তাকে বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। তবে সুস্থ হলে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ বলেন, ‘কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা হিফজুরকে সন্দেহ করছি। তিনি হাসপাতালে পুলিশের নজরদারিতে আছেন। তবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।’

দিনমজুর হিফজুর তার মায়ের নামে পাওয়া জমিতে ঘর বানিয়ে থাকেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুম থেকে উঠছিলেন না হিফজুরের পরিবারের সদস্যরা। দেরি দেখে প্রতিবেশীরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। এ সময় ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনে দরজায় ধাক্কা দেন তারা।

একাধিক প্রতিবেশী জানান, দরজার ছিটকানি খোলাই ছিল। ভেতরে প্রবেশ করে খাটের মধ্যে তিনজনের গলাকাটা মরদেহ ও হিফজুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে খবর দিলে গোয়াইনঘাট থানার পুলিশ গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করে হিফজুরকে হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। কাউকে আটক করা হয়নি বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন

মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান

মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান

সিলেটের গোয়াইনঘাটে নিহত তিনজনের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

আফসান সিলেটের গোয়াইনঘাটের হিফজুর-আলিমা দম্পতির মেজো ছেলে। গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাড়িতে বুধবার সকালে পাওয়া যায় তার মা আলিমা বেগম, বড় ভাই ১০ বছরের মিজান ও ছোট বোন ৩ বছরের তানিশার রক্তাক্ত মরদেহ। সেখান থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আফসানের বাবা হিফজুরকে।

ঘরে মা ও দুই ভাই-বোনের মরদেহ, মেঝেতে আহত বাবা। সেই বাবাকেই এখন সন্দেহ করা হচ্ছে হত্যাকারী হিসেবে।

এসবের কিছুই জানে না পাঁচ বছর বয়সী আফসান। বাসায় না থাকায় প্রাণে বেঁচে যায় সে। এখন আছে মামার বাসায়। মা-বাবা-ভাইবোনের খোঁজ করছে; যেতে চাইছে বাড়ি।

আফসান সিলেটের গোয়াইনঘাটের হিফজুর-আলিমা দম্পতির মেজো ছেলে। গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাড়িতে বুধবার সকালে পাওয়া যায় তার মা আলিমা বেগম, বড় ভাই ১০ বছরের মিজান ও ছোট বোন ৩ বছরের তানিশার রক্তাক্ত মরদেহ।

সেখান থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় আফসানের বাবা হিফজুর রহমানকে। তাকে ভর্তি করা হয় সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

আফসানের নানা আইয়ুব আলী নিউজবাংলাকে ব‌লেন, আফসান তাদের বা‌ড়ি‌তে আছে। তাকে এই ঘটনা জানানো হয়নি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার মামার বাড়িতে বেড়াতে আসে আফসান। রাতে সেখানেই সে থেকে যায়। আর ওই রাতেই হত্যা করা হয় তার মা ও ভাই-বোনকে। সে ওই বাড়িতে থাকলে তাকেও হত্যা করা হতো।

হত্যাকারী হিসেবে হিফজুরকে পুলিশ এখন সন্দেহ করছে। এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন আইয়ুব আলী।

কারও প্রতি সন্দেহ করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।

পুলিশ বলছে, হিফজুরের আচরণ শুরু থেকেই সন্দেহজনক।

ঘটনার পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল, সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে এখন পুলিশের সন্দেহের তির আহত হিফজুরের দিকেই।

মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান
আহত হিফজুর রহমান

এই ঘটনার তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুলিশের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘হিফজুর রহমান প্রথম থেকেই সন্দেহজনক আচরণ করছেন। প্রথমে আমরা তা বুঝতে পারিনি।

‘তিনি ঘরের ভেতরে অজ্ঞানের ভান করে পড়ে ছিলেন। তবে হাসপাতালে নেয়ার পর বোঝা যায় তার আঘাত গুরুতর নয়।’

হিফজুরকে সন্দেহের কয়েকটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাইরে থেকে কেউ হত্যার জন্য এলে সঙ্গে করে অস্ত্র নিয়ে আসত। তাদের ঘরের বঁটি দা দিয়েই খুন করত না। বিরোধের কারণে খুনের ঘটনা ঘটলে প্রথমেই হিফুজরকে হত্যা করা হতো কিংবা স্ত্রী সন্তানদের প্রথমে হামলা করলেও হিফুজর তা প্রতিরোধের চেষ্টা করতেন। এতে স্বভাবতই তিনি সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হতেন।

‘অথচ হিফজুরের শরীরের আঘাত একেবারেই সামান্য। হিফজুরের শরীরের কিছু জায়গার চামড়া ছিলে গেছে কেবল। এতে আমাদের ধারণা স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে ঘটনা অন্য খাতে প্রবাহিত করতে নিজেই নিজের হাত-পা ছিলেছেন তিনি।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সাধারণত ঘুমানোর আগে সবাই হাত-পা ধুয়ে ঘুমাতে যান। হিফজুরের স্ত্রী-সন্তানদের মরদেহের হাত, পাও পরিষ্কার ছিল। অথচ তার পায়ে বালু ও কাদা লাগানো ছিল। এতে বোঝা যাচ্ছে তিনি রাতে ঘুমাননি।’

এ ছাড়া হিফজুর অজ্ঞান হওয়ার ভান করেছিলেন জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন হাসপাতালে জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি উল্টাপাল্টা কথা বলছেন। পাগলের মতো আচরণ করছেন। তার কথাবার্তাও সন্দেহজনক।’

তবে কী কারণে হিফজুর তার স্ত্রী-সন্তানদের খুন করতে পারেন এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু হিফজুর এখনও হাসপাতালে আছেন তাই তাকে বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। তবে সুস্থ হলে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’


মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় আফসান


গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ বলেন, ‘কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা হিফজুরকে সন্দেহ করছি। তিনি হাসপাতালে পুলিশের নজরদারিতে আছেন। তবে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।’

দিনমজুর হিফজুর তার মায়ের নামে পাওয়া জমিতে ঘর বানিয়ে থাকেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুম থেকে উঠছিলেন না হিফজুরের পরিবারের সদস্যরা। দেরি দেখে প্রতিবেশীরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। এ সময় ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনে দরজায় ধাক্কা দেন তারা।

একাধিক প্রতিবেশী জানান, দরজার ছিটকানি খোলাই ছিল। ভেতরে প্রবেশ করে খাটের মধ্যে তিনজনের গলাকাটা মরদেহ ও হিফজুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে খবর দিলে গোয়াইনঘাট থানার পুলিশ গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করে হিফজুরকে হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। কাউকে আটক করা হয়নি বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন

কক্সবাজারে জোড়া খুন: আরেক আসামি গ্রেপ্তার 

কক্সবাজারে জোড়া খুন: আরেক আসামি গ্রেপ্তার 

কক্সবাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হওয়ার ঘটনায় আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ার জানান, নুরুল আবছার আশু আলী বাহিনীর অন্যতম সদস্য। আশু আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ এক ডজন মামলা রয়েছে। তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হবে।

কক্সবাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহতের ঘটনায় আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শহরের বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শহর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেপ্তার নুরুল আবছার ওই হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি। তিনি শহরের বিডিআর ক্যাম্পের পল্ল্যাইনাকাটা এলাকায় থাকেন।

আনোয়ার আরও জানান, নুরুল আবছার আশু আলী বাহিনীর অন্যতম সদস্য। আশু আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্রসহ এক ডজন মামলা রয়েছে। তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হবে।

ওই হত্যা মামলা ৭ জুন রাতে মঈন উদ্দিন নামের এজাহারভুক্ত আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে শহরের রুমালিয়াছড়ার সিকদার বাজার এলাকায় গত ৩১ মে বিকেলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিতে মো. রায়হান ও মো. সাহেদ নামের দুই ব্যক্তি নিহত হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মামুনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রায়হান গ্রুপ ও আশু আলী গ্রুপের বিরোধ চলছিল।

এর মধ্যে রায়হান গ্রুপের হাসান নামের এক যুবককে অপহরণের অভিযোগ ওঠে আশু আলীর গ্রুপের বিরুদ্ধে। তাকে উদ্ধারে রায়হান গ্রুপের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়।

এ সময় সাহেদ গুলিবিদ্ধ হন ও রায়হানকে কুপিয়ে জখম করা হয়। ঘটনাস্থলে সাহেদ ও হাসপাতালে রায়হানের মৃত্যু হয়। সাহেদ ছিলেন রায়হানের প্রধান সহযোগী।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনিরুল গিয়াস বলেন, নিহত দুইজনের মধ্যে রায়হান চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা ও একটি ছিনতাইয়ের মামলা আছে। আর সাহেদ সম্প্রতি নারী নির্যাতন মামলায় জেল থেকে বেরিয়েছেন।

এই ঘটনার এক দিন পর বুধবার সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জন‌কে আসামি করে হত্যা মামলা করেন সাহেদের বাবা ফজলুল হক।

শেয়ার করুন

ছয় টুকরো করে হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি

ছয় টুকরো করে হত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি

আদালতকে তিনি জানান, আজিজুরের কাছ থেকে ২১ হাজার টাকার বায়ো স্প্রে জাতীয় পণ্য কেনেন। আশরাফকে ৩ হাজার টাকা কমিশন দেয়ার কথা ছিল আজিজুরের । টাকা ঠিকমতো লেনদেন না করলে আশরাফ রেগে আজিজুরের মুখে চড় মারেন। এরপর আজিজুর জ্ঞান হারালে আশরাফ তার মুখে পানি ছিটান। ততক্ষণে আশরাফ টের পান আজিজুর আর বেঁচে নেই।

মাগুরার বিনোদপুরে আলোচিত আজিজুর হত্যাকাণ্ডের প্রধান ও একমাত্র আসামি মো. আশরাফ আলী মাগুরার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার বিকেলে বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ আসামির স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করেন। এরপর সন্ধ্যায় আসামি আশরাফকে জেলা কারাগারে পাঠায় মাগুরার এই আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আশরাফ আলী স্বীকারোক্তিতে আজিজুরকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, মূলত আজিজুরের সঙ্গে তার পরিচয় হয় হোমিওপ্যাথির ব্যবসার মাধ্যমে। চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

আদালতকে তিনি জানান, আজিজুরের কাছ থেকে ২১ হাজার টাকার বায়ো স্প্রে জাতীয় পণ্য কেনেন। আশরাফকে ৩ হাজার টাকা কমিশন দেয়ার কথা ছিল আজিজুরের । টাকা ঠিকমতো লেনদেন না করলে আশরাফ রেগে আজিজুরের মুখে চড় মারেন। এরপর আজিজুর জ্ঞান হারালে আশরাফ তার মুখে পানি ছিটান। ততক্ষণে আশরাফ টের পান আজিজুর আর বেঁচে নেই।

আদালতকে আশরাফ জানান, এরপর তার হিজামা অ্যান্ড হোমিও সেন্টারের মধ্যে বাজার থেকে কিনে আনা একটা ধারাল ছুরি দিয়ে আজিজুরের নিথর দেহটিকে খন্ড বিখন্ড করেন। সেই বিচ্ছিন্ন শরীরের অংশগুলো বিকেল ও সন্ধ্যায় দুটি ভিন্ন সময়ে বিনোদপুরের পুকুরে এবং মাগুরার জগদল ইউনিয়নের বিএনপির মোড় এলাকার পাটক্ষেতে ফেলে আসেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা সিআইডির পরিদর্শক নিকুঞ্জ কুমার কুন্ডু নিউজবাংলাকে জানান, আজিজুরকে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন আসামি। এখন পর্যন্ত তিনি একাই এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন বলে আদালতে বলেছেন।

তিনি আরও জানান, তবে এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও নিহত আজিজুরের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এখনও উদ্ধার হয়নি। সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত ছিল কি না তার তদন্ত করছে মাগুরা সিআইডি।

শেয়ার করুন