বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল রিমান্ডে

হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল হাসান ফারুকী।

বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল রিমান্ডে

হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের মামলায় ইনামুল হাসান ফারুকীকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে চার দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইনামুল হাসান ফারুকীকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. হেলাল উদ্দিনের আদালত শনিবার বিকেলে তাকে রিমান্ডে পাঠায়।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আফজারুল হক টুটুল নিউজবাংলাকে জানান, হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের মামলায় ইনামুল হাসান ফারুকীকে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে চার দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

শুক্রবার রাতে হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ এলাকা থেকে ইমানুলকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান। তাকে হাটহাজারীতে নাশকতার তিন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ইনামুল হাসান ফারুকী হাটহাজারী উপজেলা হেফাজতের প্রচার সম্পাদক। হেফাজতের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলার আসামি ফারুকী। এ ছাড়া হাটহাজারী থানা ভবন, ভূমি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলার আসামিও তিনি।

গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে অতিথি হয়ে দেশে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেদিন রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ইসলামী সমমনা দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এর প্রতিবাদে বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সহিংসতা চালায় হেফাজতের নেতা-কর্মীরা। সেদিন সেখানে পুলিশের গুলিতে হেফাজতের চারজন নিহত হয়। ওইদিনের তাণ্ডবের পর হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাসহ বিভিন্ন জেলার বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল গ্রেপ্তার
তাণ্ডবে এবার বাবুনগরীর বিরুদ্ধে মামলা
শান্তিপূর্ণ দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বাবুনগরীর
মাদ্রাসায় করোনা আসবে না: বাবুনগরী
চিকিৎসাধীন বাবুনগরীর অবস্থা স্থিতিশীল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কবরস্থান নিয়ে গোলাগুলি: গ্রেপ্তার ৩

কবরস্থান নিয়ে গোলাগুলি: গ্রেপ্তার ৩

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় কবরস্থানে সাইনবোর্ড দেয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে চারজন গুলিবিদ্ধ হন। ছবি: নিউজবাংলা

পূর্ব বাকলিয়ায় আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় বড় মৌলভী বাড়িসংলগ্ন একটি কবরস্থান রয়েছে। ১১ জুন সকালে ওই বাড়ির লোকজন সেখানে সাইনবোর্ড লাগাতে গেলে পাশের ইয়াকুব আলী বাড়ির লোকজন গিয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়।

চট্টগ্রামে কবরস্থান নিয়ে গোলাগুলির ঘটনার মূল আসামি ইয়াকুবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) শাহ মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. ইয়াকুব, ওসমান গনি ও মো. মাসুদ।

আবদুর রউফ বলেন, ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইয়াকুবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ ঘটনার সময় ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত বলবেন।

১৬ জুন জাহিদুর আলম নামে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুইটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

পূর্ব বাকলিয়ায় আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় বড় মৌলভী বাড়িসংলগ্ন একটি কবরস্থান রয়েছে। এটি লোকজনের কাছে বড় মৌলভী কবরস্থান নামে পরিচিত। বড় মৌলভী বাড়ির লোকজনের দাবি, এটা তাদের পূর্বপুরুষের দেয়া নিজস্ব কবরস্থান।

১১ জুন সকালে ওই বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা মিলে সেখানে সাইনবোর্ড লাগাতে যান। তখন পাশের ইয়াকুব আলীর বাড়ি ও তাদের লোকজন গিয়ে বাধা দেন।

সে পক্ষের দাবি, এটা ১০০ বছর ধরে স্থানীয়দের সম্মিলিত সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়।

বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পক্ষের তিন থেকে চারজনের হাতে পিস্তল দেখা গেছে। গোলাগুলির ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়।

সংঘর্ষের পর মৌলভী বাড়ির লোকজনের পক্ষে সাইফুল্লাহ মাহমুদ নামে একজন মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল গ্রেপ্তার
তাণ্ডবে এবার বাবুনগরীর বিরুদ্ধে মামলা
শান্তিপূর্ণ দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বাবুনগরীর
মাদ্রাসায় করোনা আসবে না: বাবুনগরী
চিকিৎসাধীন বাবুনগরীর অবস্থা স্থিতিশীল

শেয়ার করুন

দেবরের পুরুষাঙ্গ কর্তন: চার্জশিট আদালতে

দেবরের পুরুষাঙ্গ কর্তন: চার্জশিট আদালতে

সামিউল তার বেতনের টাকা ভাবির কাছে জমা রাখতেন। সেই টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে ডেকে নিযে কৌশলে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছিল। মামলাটি করেছেন সামিউলের বড় ভাই।

পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে দেবরের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগে করা মামলায় ভাবি ফাতেমা আক্তার সোমার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই নিজামুদ্দিন ফকির বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গত ৩ এপ্রিল ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক অমল কৃষ্ণ দে ১৪ জন সাক্ষীর নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করে নিবন্ধন শাখায় জমা দেন।

অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতা শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুলাই তারিখ দিয়েছে আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী সামিউল তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট।

ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর গত বছর ২২ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী সামিউলের মেজো ভাই আফজাল হোসেন শাহবাগ থানায় মামলা করেন।

তিনি জানান, তার ছোট ভাই ভুক্তভোগী সামিউল স্টিলের প্লেনসিটের দোকানে চাকরি করেন। তিনি তার বেতনের টাকা ভাবি ফাতেমার কাছে জমা রাখতেন।

গত বছরের ৯ নভেম্বর সামিউল কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে কাজে বের হলে ফাতেমা তাকে ফোন দিয়ে জানান, তিনি বঙ্গবাজারে কেনাকাটা করে পীর ইয়ামেনি মার্কেটের সামনে যাবেন। সেখানে তাকে জমানো টাকা ফেরত দেবেন।

এরপর সামিউল টাকা নিতে পীর ইয়ামেনি মার্কেটের সামনে যান। তখন তার ভাবি বলেন, ‘রাস্তায় বসে তো পাঁচ লাখ টাকা দেয়া ঠিক হবে না। তাই চলো আমরা পীর ইয়ামেনী আবাসিক হোটেলের মধ্যে গিয়ে লেনদেনটি সেরে ফেলি।’

এরপর সামিউল ফাতেমার সঙ্গে পীর ইয়ামেনি আবাসিক হোটেলের পঞ্চম তলার ৫১৪ নম্বর কক্ষে যান। সেখানে তাকে চেতনানাশক স্প্রে দিয়ে অজ্ঞান করে ফেলা হয়। তারপর তার পুরুষাঙ্গের মাথা কেটে ফেলেন।

ঘণ্টা দুয়েক পরে সামিউল দেখতে পান তার সারা শরীর রক্তে ভিজে গেছে।

তখন ফাতেমা সামিউলকে গালাগালি করে পুরুষাঙ্গের কাটা অংশ দেখিয়ে বলে, ‘বিয়ে করবি? তোর বিয়ের স্বাদ মিটিয়ে দিয়েছি।’

বিষয়টি গোপন রাখার কথা বলে হুমকি দেন বলেও মামলায় বলা হয়।

এরপর ফাতেমা তার অজ্ঞাতপরিচয় দু-তিনজন সহযোগীকে নিয়ে সামিউলকে অটোরিকশায় করে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে চিকিৎসা না হওয়ায় তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেও চিকিৎসা না হওয়ায় সর্বশেষ আল মানার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।

গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ভুক্তভোগীর বড় ভাই শাহবাগ থানায় মামলা করেন।

এরপর আসামি ফাতেমা আক্তার সোমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গত ২৩ ডিসেম্বর আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। পরে তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

২৬ ডিসেম্বর দুই দিনের রিমান্ড শেষে আসামি ফাতেমা আক্তার সুমাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল গ্রেপ্তার
তাণ্ডবে এবার বাবুনগরীর বিরুদ্ধে মামলা
শান্তিপূর্ণ দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বাবুনগরীর
মাদ্রাসায় করোনা আসবে না: বাবুনগরী
চিকিৎসাধীন বাবুনগরীর অবস্থা স্থিতিশীল

শেয়ার করুন

‘স্বপ্ন দেখে’ স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা!

‘স্বপ্ন দেখে’ স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা!

গোয়াইনঘাটের আমলগ্রহণকারী আদালতের বিচারক আলমগীর হোসেনের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে জবানবন্দি দেন হিফজুর। এ সময় স্ত্রী ও সন্তানদের ঘুমন্ত অবস্থায় ধারাল বটি দিয়ে কুপিয়ে খুন করার বর্ণনা দেন তিনি।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের নিজ ঘর থেকে গত ১৬ জুন সকালে আলিমা বেগম ও তার দুই সন্তান মিজান এবং তানিশার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘর থেকেই আলিমার স্বামী হিফুজরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

হিফজুরই তার স্ত্রী সন্তানদের হত্যা করেছেন বলে ধারণা করছিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার এই হত্যার দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে হিফজুর জানান, ‘স্বপ্ন দেখে’ স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা করেন তিনি।

গোয়াইনঘাটের আমলগ্রহণকারী আদালতের বিচারক আলমগীর হোসেনের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে জবানবন্দি দেন হিফজুর। এ সময় স্ত্রী ও সন্তানদের ঘুমন্ত অবস্থায় ধারাল বটি দিয়ে কুপিয়ে খুন করার বর্ণনা দেন তিনি।

গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিলীপ কান্তি নাথ এ তথ্য জানিয়েছেন।

হিফজুরের জবানবন্দির বরাত দিয়ে দিলীপ বলেন, ‘মাছ কাটার স্বপ্ন দেখে’ দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে খুন করার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন হিফজুর।

সিলেটের গোয়াইনঘাটে দুই সন্তানসহ আলিমাকে হত্যার ঘটনায় গত রোববার হিফজুরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এর আগের দিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

গোয়ানঘাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন সিলেট ওসমানী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান হিফজুর। এরপর তাকে আদালতে তুলে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে গোয়াইনঘাট আমলি আদালতের বিচারক অঞ্জন কান্তি দাস হিফজুরকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

১৬ জুন থেকে হিফজুর পুলিশ প্রহরায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার আচরণ প্রথম থেকেই সন্দেহজনক বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

খুন হওয়ার সময় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন আলিমা বেগম। ফলে পুলিশের মতে, তিনজন নয়, ওইদিন খুন করা হয়েছে আদতে চারজনকে।

সিলেটের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গত শনিবার দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘হিফজুরের স্ত্রী আলিমাপাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে আমরা ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি। ঘাতকের বটির কোপে তার গর্ভে থাকা পাঁচ মাসের সন্তানও মারা গেছে। সে হিসেবে এ ঘটনায় চারজন মারা গেছেন। আমরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ভ্রূণহত্যার অভিযোগও আনব।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তথ্য উপাত্ত এবং বিভিন্নজনকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সন্দেহ করে হিফজুরকে।

১৫ জুন রাতের কোনো এক সময় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করেন হিফজুর। ওই রাতে মামার বাসায় থাকায় বেঁচে যায় ওই দম্পতির পাঁচ বছরের ছেলে আফসান। পরদিন নিহত নারীর বাবা আয়ুব আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, পেশায় দিনমজুর হিফুজর তার মামার বাড়িতে ঘর বানিয়ে থাকেন। হিফজুর যে ঘরে থাকতেন ওই ঘরটি তার মায়ের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে পাওয়া।

স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুম থেকে উঠছিলেন না হিফজুরের পরিবারের সদস্যরা। দেরি দেখে প্রতিবেশিরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। এসময় ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনে দরজায় ধাক্কা দেন তারা।

প্রতিবেশিরা জানান, দরজার সিটকিনি খোলাই ছিল। ভেতরে ঢুকে খাটের মধ্যে তিন জনের জবাই করা মরদেহ ও হিফজুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে পুলিশ লাশ তিনটি উদ্ধার করেন এবং হিফজুরকে হাসপাতালে পাঠায়।

আরও পড়ুন:
বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল গ্রেপ্তার
তাণ্ডবে এবার বাবুনগরীর বিরুদ্ধে মামলা
শান্তিপূর্ণ দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বাবুনগরীর
মাদ্রাসায় করোনা আসবে না: বাবুনগরী
চিকিৎসাধীন বাবুনগরীর অবস্থা স্থিতিশীল

শেয়ার করুন

হেফাজতের তাণ্ডব: মুফতি বশিরের স্বীকারোক্তি

হেফাজতের তাণ্ডব: মুফতি বশিরের স্বীকারোক্তি

হেফাজতে ইসলামের নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুফতি বশির উল্লাহ।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, হরতালে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে পুলিশের করা মামলার আসামি মুফতি বশির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি মুফতি বশির উল্লাহ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. বদিউজ্জামানের আদালতে বৃহস্পতিবার বিকেলে জবানবন্দি দেন তিনি।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, হরতালে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে পুলিশের করা মামলার আসামি মুফতি বশির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ১৪ এপ্রিল রাত ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় লন্ডন মার্কেট এলাকার বাড়ি থেকে বশির উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল এলাকা পর্যন্ত নাশকতা ও তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে বশিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

তিনি আরও জানান, এ মামলায় বুধবার বশিরকে দুই দিনের জন্য হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে মুফতি বশির তাণ্ডব পরিচালনাকারী কেন্দ্রীয় নেতাসহ স্থানীয় একাধিক নেতার নাম প্রকাশ করেছেন।

তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম গোপন রেখে যাচাই-বাছাই চলছে বলেও জানান পিবিআইয়ের এ কর্মকর্তা।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসার প্রতিবাদে ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলাম হরতাল ডাকে। এদিন সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড মোড় থেকে শিমরাইল এলাকা পর্যন্ত সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যাপক সহিংসতা চালান।

যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্তত ৫০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। অগ্নিসংযোগ করা হয় ১৮টি গাড়িতে। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৯টি মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল গ্রেপ্তার
তাণ্ডবে এবার বাবুনগরীর বিরুদ্ধে মামলা
শান্তিপূর্ণ দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বাবুনগরীর
মাদ্রাসায় করোনা আসবে না: বাবুনগরী
চিকিৎসাধীন বাবুনগরীর অবস্থা স্থিতিশীল

শেয়ার করুন

ভাইকে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার

ভাইকে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার

লোহাগড়া থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, জমি নিয়ে ইউছুপ ও নাছিমার সঙ্গে ইউনুসের বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে পুলিশকে অভিযোগও জানিয়েছিল ইউছুপ। বুধবার বিকেলে বিষয়টি তদন্ত করতে যায় পুলিশ। মামলায় বলা হয়েছে, পুলিশ চলে যাওয়ার পর ইউনুস বাড়ি ফিরলে তাকে ছুরিকাঘাত করেন নাছিমা।

চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় এক যুবক নিহতের ঘটনায় ভাই ও ভাবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহতের স্ত্রীর করা হত্যা মামলায় বুধবার রাত তিনটার দিকে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ওই দুই আসামি হলেন উপজেলার বড়হাতিয়া ইউনিয়নের চাকফিরানী গ্রামের মো. ইউনুসের ভাই মো. ইউছুপ ও ইউছুপের স্ত্রী নাছিমা আক্তার।

লোহাগড়া থানায় বুধবার রাত তিনটার দিকে মামলা করেন ইউনুসের স্ত্রী রেহানা আক্তার গুলু।

লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, জমি নিয়ে ইউছুপ ও নাছিমার সঙ্গে ইউনুসের বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে পুলিশকে অভিযোগও জানিয়েছিল ইউছুপ। বুধবার বিকেলে বিষয়টি তদন্ত করতে যায় পুলিশ।

মামলায় বলা হয়েছে, পুলিশ চলে যাওয়ার পর ইউনুস বাড়ি ফিরলে তাকে ছুরিকাঘাত করেন নাছিমা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ইউছুপ ও নাছিমাকে আটক করে পুলিশের কাছে দেয়। আটকের পর তাদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এদিকে ইউনুসের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল গ্রেপ্তার
তাণ্ডবে এবার বাবুনগরীর বিরুদ্ধে মামলা
শান্তিপূর্ণ দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বাবুনগরীর
মাদ্রাসায় করোনা আসবে না: বাবুনগরী
চিকিৎসাধীন বাবুনগরীর অবস্থা স্থিতিশীল

শেয়ার করুন

গৌরনদীতে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩

গৌরনদীতে সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩

স্বজনদের অভিযোগ, বুধবার সকালের দিকে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী সদস্য প্রার্থী ফিরোজ মৃধার লোকজন শাহ আলমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে সংঘবদ্ধ হয়ে তারা বেইলি ব্রিজ এলাকায় শাহ আলমের ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করা হয়।

বরিশালের গৌরনদীতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে একই এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় দুদিনের ব্যবধানে তিনজন নিহত হলেন।

বার্থি ইউনিয়নের বেইলি ব্রিজ এলাকায় বুধবার সন্ধ্যার দিকে সবশেষ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শাহ আলম খান। তার বাড়ি বার্থি ইউনিয়নের বড় দুলালী গ্রামে। তিনি খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত (টিউবওয়েল মার্কা) সদস্য প্রার্থী মন্টু হাওলাদারের ভায়রা।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শাহ আলমের স্বজনরা জানান, বুধবার সকালের দিকে খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী সদস্য প্রার্থী ফিরোজ মৃধার লোকজন শাহ আলমকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে সংঘবদ্ধ হয়ে তারা বেইলি ব্রিজ এলাকায় শাহ আলমের ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নেয়া হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে ২১ জুন নির্বাচনের দিন ককটেল হামলায় ফিরোজ মৃধার সমর্থক মৌজে আলী মৃধা নিহত হন। একই দিন সন্ধ্যায় ককটেল হামলায় আবু বকর নামে আরেক যুবক নিহত হন।

ওসি আফজাল জানান, মৌজে আলী হত্যার ঘটনায় গত মঙ্গলবার তার ছেলে নজরুল মৃধা ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০ থেকে ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ মামলার তিন আসামি সদ্য বিজয়ি ইউপি সদস্য ফিরোজ মৃধা এবং তার দুই সহযোগী মাহফুজুর রহমান ইমন ও নয়ন মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আর আবু বক্কর হত্যার ঘটনায় তার বাবা আনজু ফকির অর্ধশতাধিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামে মামলা করেছেন। সেই মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আরও পড়ুন:
বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল গ্রেপ্তার
তাণ্ডবে এবার বাবুনগরীর বিরুদ্ধে মামলা
শান্তিপূর্ণ দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বাবুনগরীর
মাদ্রাসায় করোনা আসবে না: বাবুনগরী
চিকিৎসাধীন বাবুনগরীর অবস্থা স্থিতিশীল

শেয়ার করুন

গার্ড অফ অনারে নারীতে আপত্তি নাকচ

গার্ড অফ অনারে নারীতে আপত্তি নাকচ

জামালপুরে এক মুক্তিযোদ্ধাকে সমাহিত করার আগে নারী ইউএনওর নেতৃত্বে গার্ড অফ অনার দেয়া হয়। ছবি: ফাইল ছবি

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নারী না পুরুষ সেটা দেখার সুযোগ নেই জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের নির্দেশ হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর ওপর, যিনি সর্বোচ্চ কর্মকর্তা জেলার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক, উপজেলার ক্ষেত্রে ইউএনও। তারা নিজেরা উপস্থিত থেকে গার্ড অফ অনার দেবেন। যদি কোনো কারণে তিনি হেড কোয়ার্টারে না থাকেন তাহলে তার পরবর্তী ব্যক্তি দেবেন। কাজেই নির্দেশটি কোনো নারী বা পুরুষের জন্য নয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী জন্য।’

কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে ‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তোলা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ আমলে নেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বুধবার নিউজবাংলাকে এ কথা জানান মন্ত্রী। সংসদীয় কমিটির ওই সুপারিশকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘সুপারিশ আকারে আমাদের কাছে আসেনি। আসবে কি না আমি জানি না। আসলে তখন আমরা বলব। যেদিন আলোচনা হয়েছে, তখন আমি বলেছি, আমার অভিমত ব্যক্ত করেছি যে, সেখানে কোনো ব্যক্তি যায় না। যায় রাষ্ট্রের একজন কর্মচারী। সেটা নির্ধারণ করে দেয়া আছে, কে যাবে।’

সংবিধান সমুন্নত রাখা দায়িত্ব বলে জানিয়ে আ ক ম মোজাম্মেল বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে লিঙ্গ বৈষম্য করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের সংবিধানের সংরক্ষণের জন্য শপথ নিয়েছি। কাজেই আমার এর বাইরে কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।’

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় প্রশাসন। ‘গার্ড অফ অনার’ দিতে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে সরকারের প্রতিনিধি হয়ে মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধাও জানান ওই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা।

‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে ১৩ জুন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৯তম বৈঠকে আপত্তি তোলা হয়। এর বিকল্প খুঁজতে সুপারিশ করা হয় সভায়।

বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে একটি রিটও হয়। হাইকোর্ট থেকে জানানো হয়, নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিকল্প চাওয়া সংসদীয় কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে বিষয়টি তারা দেখবে।

রিটকারীর উদ্দেশে আদালত বলে, বিষয়টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশমাত্র। এমন সুপারিশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে তখন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ দেয়া হবে। তাই সে পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।

গার্ড অফ অনারে সংসদীয় কমিটির সুপারিশে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। তারা জানান, এ ধরনের সুপারিশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে ধর্মের বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে।

শ্রীবরদী উপজেলার ইউএনও নিলুফা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীরা মুক্তিযুদ্ধে অনেক বড় অবদান রেখেছেন। তারা এখন গার্ড অফ অনার দিলে সমস্যা কোথায়? আমরা মাঠ পর্যায়ে সব কাজই তো করছি। তাহলে গার্ড অফ অনার দিতে পারব না কেন?’

বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। ‘গার্ড অফ অনার’-এ নারী কর্মকর্তাদের বাদ দেয়ার সুপারিশ করায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানায় ‘আমরাই পারি’ নামে একটি সংগঠন।

এসব সমালোচনার মধ্যেই সংসদীয় কমিটির সুপারিশ আমলে নেয়া হবে না বলে জানালেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। বললেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নারী না পুরুষ সেটা দেখার সুযোগ নেই।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকারের নির্দেশ হচ্ছে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীর ওপর, যিনি সর্বোচ্চ কর্মকর্তা জেলার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক, উপজেলার ক্ষেত্রে ইউএনও। তারা নিজেরা উপস্থিত থেকে গার্ড অফ অনার দেবেন। যদি কোনো কারণে তিনি হেড কোয়ার্টারে না থাকেন তাহলে তার পরবর্তী ব্যক্তি দেবেন। কাজেই নির্দেশটি কোনো নারী বা পুরুষের জন্য নয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী জন্য।

‘আইনের যেহেতু পরিবর্তন হয়নি, অন্য কারও গার্ড অফ অনার দেয়ার সুযোগ নাই। এখন যদি বলতে হয় যে মহিলারা দেবে না, তাহলে কোনো মহিলাকে ইউএনও করা যাবে না। কোনো মহিলাকে ডিসি করা যাবে না। যদি এটা মানতে হয়।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর ‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার আয়োজন দিনের আলোয় সম্পন্ন করার পক্ষে মত দিয়েছিল। এই সুপারিশেও বিরোধিতা করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জানাজা আমাদের ধর্ম (ইসলাম) মতে যেটা যতো দ্রুত সময়ের মধ্যে দাফন করা যায়। বিদেশ থেকে লাশ আসলে তো দেরিতেও হয়। দাফন কখন হবে সেটা নির্ভর করে ওই পরিবার, ওই সমাজের ওপর। সেটা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নয়। প্রশাসনের কাজ হলো নির্ধারিত সময়ে হাজির হওয়া।’

আরও পড়ুন:
বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী এনামুল গ্রেপ্তার
তাণ্ডবে এবার বাবুনগরীর বিরুদ্ধে মামলা
শান্তিপূর্ণ দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বাবুনগরীর
মাদ্রাসায় করোনা আসবে না: বাবুনগরী
চিকিৎসাধীন বাবুনগরীর অবস্থা স্থিতিশীল

শেয়ার করুন