বাড়ি ফিরেছেন কোয়ারেন্টিনে ‘ধর্ষণের শিকার’ ওই নারী

বাড়ি ফিরেছেন কোয়ারেন্টিনে ‘ধর্ষণের শিকার’ ওই নারী

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ আলী জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার রাতেই তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। এরপর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোয়ারেন্টিন শেষে বাড়ি ফিরেছেন খুলনা পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ‘ধর্ষণের শিকার’ সেই নারী।

১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হওয়ায় ও করোনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসায় বুধবার রাত ৯টার দিকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ আলী নিউজবাংলাকে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার রাতেই তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। এরপর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওই নারীকে আইনি সহায়তা দেয়া মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী মোমিনুল ইসলামের অভিযোগ, ‘পুলিশ মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং আসামিকে বাঁচাতে ধর্ষণ মামলায় দুর্বল ধারা দিয়েছিল। আমাদের আপত্তির কারণে তদন্ত কর্মকর্তা ধারা সংশোধন করেছেন।’

তিনি জানান, ‘আগে দেয়া হয়েছিল ৯ (৫) ধারা। এ ধারায় অপরাধ হচ্ছে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় ধর্ষণ হলেও, ধর্ষক ওই পুলিশ সদস্য নয়, অন্য কেউ। এখানে পুলিশের অপরাধ হচ্ছে তার দায়িত্বে অবহেলা, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড। আর ২০০০ এর ৯ (১) ধারার অপরাধে ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা সদর থানার এসআই আবু সাঈদের দাবি, ‘প্রিন্টের সময় ধারা বাদ পড়ে গিয়েছিল। আদালতে আবেদন করে এ ধারা সংশোধন করা হয়েছে।’

খুলনার পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এই অভিযোগ তুলে গত সোমবার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোকলেছুরের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই নারী।

এর আগের দিন ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যদের কমিটি করে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার ওই কমিটির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে ধর্ষণের প্রমাণ মেলার কথা জানানো হয়েছে।

বাড়ি ফিরেছেন কোয়ারেন্টিনে ‘ধর্ষণের শিকার’ ওই নারী
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) বরখাস্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোকলেছুর রহমান

মোকলেছুর খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। তিনি খুলনার পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে গত ১ মে থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বাড়ি যশোর সদরের দৌলদিহি এলাকায়।

মামলার পরপরই মোকলেছুরকে বরখাস্ত করার কথা জানায় কেএমপি। গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় কেএমপি বলে, ‘প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) মহিলা হোস্টেলে ভারতফেরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন মোকলেছুর। ডিউটিতে থাকাকালে তিনি ওই নারীর কক্ষে বিনা অনুমতিতে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন।

‘শনিবার রাতে আবার ধর্ষণচেষ্টার সময় ওই নারী চিৎকার করলে আসামি দ্রুত চলে যান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে সত্যতা মিললে মোকলেছুরকে বরখাস্ত করা হয়।’

মোকলেছুরকে বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনার অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সোনালী সেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ছেলে-মেয়ে উভয়ের ডিএনএ টেস্ট করাব। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার বিকেলে ওই নারীকে আবার কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়। রাতে নিজ কক্ষে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

তবে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাটিকে ‘দুষ্টুমি’ বলে আখ্যা দেন তিনি। বুধবার বেলা ২টার দিকে তার সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

ওই নারী বলেন, ‘আত্মহত্যা করতে যাব কেন? ১৪/১৫ দিন ধরে এক জায়গায় আটকে রয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করছি যাতে আমাকে ছেড়ে দেয়। তারা সে কথা মানছে না। এ জন্য আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে দুষ্টুমি করেছি।’

এর আগে তিনি বলেন, ‘আমার দুটি সন্তান রয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় আমি সামাজিকভাবে হেয় হয়েছি। আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা যেন অন্য কোনো নারীর সঙ্গে না হয়। আমি আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

ভারতে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২৬ এপ্রিল থেকে সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। তবে ভারতে গিয়ে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা বিশেষ অনুমতি নিয়ে ফিরতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে দেশে এসে করোনা পরীক্ষা করতে হবে। রেজাল্ট নেগেটিভ হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৪ দিন থাকতে হবে কোয়ারেন্টিনে।

আরও পড়ুন:
কোয়ারেন্টিনে ধর্ষণ মামলার ধারা সংশোধন
প্রশাসনের তদন্তে কোয়ারেন্টিনে পুলিশের ধর্ষণের প্রমাণ  

শেয়ার করুন

মন্তব্য