স্বামীর মরদেহ নিতে চীন থেকে এলেন স্ত্রী

স্বামীর মরদেহ নিতে চীন থেকে এলেন স্ত্রী

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে স্ত্রীর কাছে শানজির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ দেশে মরদেহ নিয়ে যাবেন। 

সিলেটে চীনা নাগরিক উই ওনটো শানজি হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ওয়াং কিউ আই ইউ জিং।

নগরীর কোতোয়ালি থানায় বুধবার রাতে করা মামলায় চীনা নাগরিক ও শানজির রুমমেট জো চাওকে আসামি করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএস এম আবু ফরহাদ এই তথ্যগুলো জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে স্ত্রীর কাছে শানজির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ দেশে মরদেহ নিয়ে যাবেন।

স্বামী নিহত হওয়ার খবর পেয়ে বুধবার চীন থেকে বাংলাদেশে আসেন ইউ জিং।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে (১৮ মে) সিলেটের পাঠানটুলা এলাকার নিবাস-বি-১১-৯ নম্বর বাসা থেকে শানজির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি সিলেটের কুমারগাঁও বিদ্যুৎ প্লান্টে কাজ করতেন।

ওসি বলেন, সেদিন শানজির মরদেহের পাশে জো চাও নামের আরেক চীনা নাগরিককে ছুরিকাহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। তারা একই বাসায় থাকতেন।


জো এখন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশের পাহারায় চিকিৎসাধীন।

ঘটনার বর্ণনায় ওসি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করা ১২ জন চীনা নাগরিক পাঠানটুলার ওই বাসায় থাকতেন। শানজি ও জো চাও ঘটনার দিন সকালে নাশতার সময় একই পাত্রে হাত ধোয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে ছুরি নিয়ে তারা একে অপরকে আঘাত করেন।

এতে ঘটনাস্থলেই শানজি মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে দুটি ছুরি জব্দ করা হয় বলে জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘বিড়াল নিয়ে বিবাদ’ মেটাতে দুই পক্ষকে ডেকেছে পুলিশ

‘বিড়াল নিয়ে বিবাদ’ মেটাতে দুই পক্ষকে ডেকেছে পুলিশ

মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে বেসরকারি সংস্থা এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের কর্মকর্তা তাজকিয়া দিলরুবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থানায় করা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আমরা বুধবার সকাল ১১টার দিকে বসব পল্লবী থানা পুলিশের সঙ্গে। এ সময় পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকেও ডাকা হবে।’

রাজধানীর পল্লবী থানায় বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগে করা দুটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পক্ষকে ডেকেছে পুলিশ।

এক পক্ষে আছেন, অভিযুক্ত বিড়ালের কর্মকাণ্ড নিয়ে পরিচালিত ফেসবুক-ইউটিউব চ্যানেল ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী দাশ। আরেক পক্ষে আছেন, বেসরকারি সংস্থা এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দ্বীপান্বিতা রীদি।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পারভেজ ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থানায় করা দুটি লিখিত অভিযোগের তদন্ত করছেন এসআই শরিফুল ইসলাম। তদন্তের স্বার্থেই তিনি মিরপুর ডিওএইচএসের পরিষদে দুই পক্ষকে ডেকেছেন। আশা করছি বিড়াল নিয়ে বিবাদের নিষ্পত্তি হবে।’

মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে বেসরকারি সংস্থা এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের কর্মকর্তা তাজকিয়া দিলরুবা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘থানায় করা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে আমরা বুধবার সকাল ১১টার দিকে বসব পল্লবী থানা পুলিশের সাথে। এ সময় পুচি ফ্যামিলির তাপসী দাশকেও ডাকা হবে।’

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রীদির সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ১৩ জুন পল্লবী থানায় করা দুটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাপসী দাশের ডিওএইচএসের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিষ্ঠুরতার শিকার বিড়ালগুলোকে উদ্ধার করার কথা ছিল।

কিন্তু অভিযান পরিচালনার আগে ডিওএইচএস কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন আছে জানিয়ে অভিযান পরিচালনা করেনি পুলিশ। তা ছাড়া ওইদিনই থানায় অভিযোগের খবর পেয়ে তাপসী দাশ দুটি বিড়াল নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। সেসংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রচার করে বলেন, তারা ঢাকার বাইরে ঘুরতে গেছেন। তারপর থেকে বাসায় ফেরেননি। এ জন্য বিড়ালগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এই প্রসঙ্গে জানতে ‘পুচি ফ্যামিলি’র তাপসী দাশ ও তার স্বামী পার্থ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে নিউজবাংলা। তাদের ফোন সচল থাকলেও তারা কেউই ফোন ধরেননি।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক - ইউটিউবে বিড়ালের নানা কর্মকান্ডের ভিডিও প্রচার নিয়ে আলোচিত- সমালোচিত 'পুচি ফ্যামিলি' র তাপসী দাশের বিরুদ্ধে বিড়াল নির্যাতনের অভিযোগে গত ১৩ জুন পল্লবী থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন এএলবি অ্যানিমাল শেল্টারের তাজকিয়া দিলরুবা ও বিড়ালপ্রেমী আরেক নারী। ওই দুটি লিখিত অভিযোগে বিড়ালের ওপর নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়।

বলা হয়, তাপসী দাশ ভিডিও করার সময় এক বিড়ালের মূত্র আরেক বিড়ালকে দিয়ে পান করান। ছোট ছোট বিড়াল ছানার লেজ কিংবা গলায় ধরে টান মারেন। অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করেন। সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে অনেক বিড়ালের মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগও আনা হয়েছে তাপসীর বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া আরেকজনের বিড়াল আটকে রেখে ফিরিয়ে না দিয়ে বিড়াল পালকের চরিত্র নিয়েও বাজে মন্তব্য করেন তার ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের লাইভে।

পুচি ফ্যামিলির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টার বলছে, তাপসী দাশ ফেসবুকে বিড়ালকে নিয়ে যাচ্ছেতাই আচরণ করে থাকেন। নির্মম আচরণের ভিডিও ধারণ করে তার প্রায় ৯ লাখ ফেসবুক ফলোয়ার ও দেড় লাখ ইউটিউব চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারকে নিষ্ঠুরতা শেখাচ্ছেন। এদিক থেকে আইসিটি অ্যাক্টেও তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।

তাপসীর নিষ্ঠুরতার উদাহরণ দিতে গিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রিদি বলেন, এক বিড়ালের মূত্র মেশানো পানি আরেক বিড়ালকে পান করানো হয়। এটি খুবই অস্বাস্থ্যকর। শুধু ভিডিও বানানোর জন্য তিনি চরম অস্বাস্থ্যকর ও নির্মমতার আশ্রয় নিয়ে থাকেন।

তাপসী দাশ মাছের নাড়িভুঁড়ি পরিষ্কার না করে কেবল সেদ্ধ করে বিড়ালকে খাওয়ান। এভাবে খাওয়াতে উৎসাহ দেন অনুসারীদের। এতে বিড়ালের বদহজম, ডায়রিয়া ও পেটে ক্রিমি জন্ম নেয়ার শঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া তার অনেক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি প্রায়ই বিড়ালের ছোট ছোট বাচ্চার লেজ বা গলা ধরে টান মারেন। এতে ছানাদের মেরুদণ্ড থেকে লেজ আলাদা হয়ে যেতে পারে। সেটা জোড়া লাগানোর চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। ফলে বিড়াল সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

তার দেখাদেখি অনুসারীরাও এসব শিখছেন এবং বিড়ালের ওপর এমন নিষ্ঠুর আচরণ করছেন। এসবের প্রমাণও আছে। তার ভিডিওতে ক্রমাগত মেটিংকে (মিলন) উৎসাহ দেয়া হয়। কীভাবে মেটিং করাতে হয় তার প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন তিনি। তবে টানা মেটিংয়ের ফলে মরণব্যাধি হওয়ার শঙ্কা থাকে বিড়ালের।

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের চেয়ারম্যান দীপান্বিতা রিদি আরও অভিযোগ করেন, ‘পিওর পার্শিয়ান বিড়ালগুলোর কখনোই স্পে, নিউটার করান না তাপসী দাশ। কিন্তু ফলোয়ারদের দেখান, তিনি স্টেরিলাইজেশন করান। এভাবে তিনি তার অনুসারীদের ভুল ধারণা দেন। এ ছাড়া ব্রিডিং করে পিওর ব্রিড বলে মিক্সড ব্রিড সেল করেন বিড়ালপ্রেমীদের কাছে। এভাবে অনেক মানুষ তার মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।’

তিনি বলেন, তাপসী যেসব টিস্যু দিয়ে বিড়ালের মূত্র পরিষ্কার করেন, সেগুলো দিয়েই বিড়ালের মুখ পরিষ্কার করেন। এ ছাড়া ছোট ছোট বাচ্চাকে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করিয়ে অনেক ছানার মৃত্যু ঘটিয়েছেন তাপসী দাশ।

‘বিড়াল নিয়ে বিবাদ’ মেটাতে দুই পক্ষকে ডেকেছে পুলিশ

‘আলো’র বিরুদ্ধে অপয়া অপবাদ! কী হয়েছিল আলোর?

এএলবি অ্যানিমেল শেল্টারের কর্মী ও প্রাণিপ্রেমিকরা নিউজবাংলাকে বলছেন, আলো নামের একটি অন্ধ বিড়াল ছিল তাপসী দাশের কাছে। সেটির সঠিক চিকিৎসা না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রাণিপ্রেমীদের কাছে মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করেন তাপসী। আলোকে মেন্টাল টর্চার করা হয়।

তাপসীর হেফাজতে থাকা যত বিড়াল মারা যায়, তার সব দায় চাপানো হয় আলো নামের এই বিড়ালের ওপর।

তাপসী দাশের ফেসবুক লাইভে ভেটেরেনারি চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলা হয়, আলো এমন এক অসুখ বহন করে, যার জন্য আলো সুস্থ থাকলেও আশপাশের সবাই মারা যায়। যদিও চিকিৎসককে বলতে শোনা গেছে, আলোর পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব না তার থেকে অসুখ ছড়িয়েছে কি না।

বিড়ালপ্রেমীদের দাবি, আলোকে কোনো রকম চেকআপ করানো হয়নি। অনেকেই আলোর চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাপসী দেননি। শুধু তা-ই নয়, আলোকে তার আসল মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার পর সেই মালিককে পুচি ফ্যামিলি থেকে ভয় দেখানো হয়েছিল, যাতে কোনো চিকিৎসা না করান। একপর্যায়ে আলো মারা যায়।

বিড়ালপ্রেমীরা জানান, পুচি ফ্যামিলি থেকে আলোর ব্যাপারে যা যা বলা হয়েছে, তার বেশির ভাগই মিথ্যা। তাপসী দাশ টেস্ট না করিয়েই সবকিছু বলেছেন। আলোর মৃত্যুর জন্য তাপসী দাশ দায়ী এবং অবশ্যই এটা অ্যানিমেল অ্যাবিউস ও ক্রুয়েলটি।

পুচি ফ্যামিলি পেজের স্বত্বাধিকারীর বক্তব্য

পুচি ফ্যামিলি পেজের মালিক তাপসী দাশের স্বামী পার্থ চৌধুরী। তাপসী দাশের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন তিনি।

পার্থ চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনারা আমাদের ভিডিওগুলো দেখেন। একেবারে স্বচ্ছ। আমার স্ত্রী তাপসী দাশ অনেক আগে থেকেই বিড়াল পালন করে। কয়েকজনের পরামর্শে পেজ খোলে। অল্প সময়ের মধ্যে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ফলোয়ার হয়েছে। এটা অনেকেরই পছন্দ হচ্ছে না।

‘তাপসী একটি লাইভে এক হাতে মোবাইল ফোন ধরে রাখার কারণে আরেক হাত দিয়ে বিড়ালের লেজ বা গলা ধরেছিল। এটা অনেক আগের ঘটনা। সামুদ্রিক মাছ সেদ্ধ করে কাঁটা ছাড়িয়ে বিড়ালকে খাবার দেয়া হয়। কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার দেয়া হয় না। নির্যাতনও করা হয় না।’

থানার পুলিশের কাছে করা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পার্থ দাশ বলেন, ‘ওরা যদি মামলা করে, আমরাও আইনজীবী নিয়োগ করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন

শেয়ার করুন

সিরিয়াফেরত জঙ্গি ফের রিমান্ডে

সিরিয়াফেরত জঙ্গি ফের রিমান্ডে

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এসআই রাছিব খান নিউজবাংলাকে বলেন, প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার সাখাওয়াতকে ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। আদালত তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার সিরিয়াফেরত জঙ্গি সাখাওয়াত হোসেনকে আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমান মঙ্গলবার বিকেলে শুনানি শেষে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এসআই রাছিব খান নিউজবাংলাকে বলেন, প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার সাখাওয়াতকে ফের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। আদালত তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

প্রথম দফা রিমান্ডে সাখাওয়াত কী কী তথ্য দিয়েছেন জানতে চাইলে এসআই রাছিব খান বলেন, সাখাওয়াত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে সেই তথ্য জানানো যাচ্ছে না। তার কাছ থেকে আরও তথ্য প্রয়োজন। এ জন্য ফের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে নগরের দক্ষিণ খুলশী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। সাখাওয়াত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক শাখার কর্মী।

তাকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট উপপরিদর্শক (এসআই) রাছিব খান বাদী হয়ে খুলশী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১২ সালে ভায়রাভাই মো. আরিফ মামুনের মাধ্যমে জঙ্গি তৎপরতায় সম্পৃক্ত হন সাখাওয়াত। সংগঠনের নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াসহ অন্যদের মাধ্যমে জিহাদি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে আরিফ তুরস্কে যান। সেখান থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গি নেতা হায়াত তাহরির আশরাকের কাছ থেকে ভারী অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। সিরিয়ার ইদলিব এলাকায় ছয় মাস প্রশিক্ষণ নেন। পরে সিরিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়ায় আসেন। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কা হয়ে আবার ইন্দোনেশিয়ায় যান। গত মার্চে তিনি দেশে ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন:
ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন

শেয়ার করুন

শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে: অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে: অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

পাবনা গণপূর্ত বিভাগে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন ঠিকাদারের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়ার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আমরা বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় প্রদর্শিত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছি।’

পাবনায় গণপূর্ত ভবনে অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মহড়ার ঘটনা তদন্তের পর অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই নেতাদের অস্ত্র ও গুলির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আমরা বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় প্রদর্শিত অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করেছি।’

৬ জুন দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাজী ফারুক, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ আর খান মামুন এবং জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গণপূর্ত ভবনে যান।

তারা বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমকে খুঁজতে থাকেন। পরে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কক্ষে যান ওই নেতারা। তবে কিছুক্ষণ পর তারা বের হয়ে যান।

লিখিত অভিযোগ না থাকলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনা তদন্তে নামে। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দ করে পুলিশ।

মঙ্গলবার পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি গণপূর্ত কর্তৃপক্ষ। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস হওয়া নিয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষের লোকজন খোঁজ খবর তারা করায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগ না করলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। ঠিকাদারদের প্রদর্শিত অস্ত্রও জব্দ করা হয়।’

পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

আরও পড়ুন:
ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন

শেয়ার করুন

নুসরাতের মৃত্যু: সেই ভুয়া বিসিএস ক্যাডার গ্রেপ্তার

নুসরাতের মৃত্যু: সেই ভুয়া বিসিএস ক্যাডার গ্রেপ্তার

সুসময়ের ছবি। স্বামী মামুন মিল্লাতের সঙ্গে নুসরাত জাহান। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। মামুন ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা জানার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয় কোয়ার্টার থেকে গৃহবধূ নুসরাত জাহানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় তার স্বামী মামুন মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার দুপুর পোনে ১টার দিকে কল্যাণপুর বাসস্টান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-২।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, গোপন সংবাদে র‍্যাব-২ এর একটি দল কল্যাণপুর বাসস্টান্ড থেকে মামুন মিল্লাতকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাব কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গত শনিবার ২৭ বছর বয়সী ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করে র‍্যাব। সোমবার গোপন সূত্রে জানা যায়, মামুন মিল্লাত কল্যাণপুর থেকে বাসে উঠে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। দীর্ঘ সময় সেখানে অপেক্ষা করে তাকে পায় র‍্যাবের দলটি।

র‍্যাব-২-এর সহকারী পরিচালক বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামুন মিল্লাত তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের মৃত্যুতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’

নুসরাতের মৃত্যু: সেই ভুয়া বিসিএস ক্যাডার গ্রেপ্তার
র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার মামুন মিল্লাত

মামুন মিল্লাত ও নুসরাত জাহান দম্পতি আগারগাঁওয়ের সংসদ সচিবালয়ের কোয়ার্টারের একটি বাসায় সাবলেট থাকতেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও নুসরাতের কোনো সাড়া পাননি। পরে ওই ভবনের সভাপতি শেরেবাংলা নগর থানায় বিষয়টি জানান।

দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান আগারগাঁও থানার পুলিশ সদস্যরা। তারা বাসার দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় নুসরাতকে দেখতে পান।

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মেয়ে নুসরাত ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে মামুন মিল্লাতকে বিয়ে করেন। বিয়ের আগে তার নাম ছিল নিবেদিতা রোজারিও। মামুন নিজেকে বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নুসরাতকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু মামুন পুলিশ কর্মকর্তা নয়। মামুন ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা জানার পর থেকে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বাবা রত্ন কান্তি রোয়াজা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন।

গ্রেপ্তারকৃত মিল্লাত মামুনকে শেরেবাংলা নগর থানায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন

শেয়ার করুন

কোচ নারীকে দলবদ্ধ ‘ধর্ষণ’: গ্রেপ্তার ২, জড়িতদের শাস্তি দাবি 

কোচ নারীকে দলবদ্ধ ‘ধর্ষণ’: গ্রেপ্তার ২, জড়িতদের শাস্তি দাবি 

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মির্জাপুর ও নাগরপুর থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরেক আসামি এখনও পলাতক থাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্যাতনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার (এসপি) সঞ্জিত কুমার রায়।

তিনি জানান, ঘটনাটি লোমহর্ষক এবং চাঞ্চল্যকর হওয়ায় মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মির্জাপুর ও নাগরপুর থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরেক আসামি এখনও পলাতক থাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের পরই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে জানান এসপি সঞ্জিত।

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে জবানবন্দি দিলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে না। অন্যথায় বুধবার আদালতে তুলে তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে।’

সখিপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এনে গেল রোববার তিনজনকে আসামি করে মামলার করেন কোচ সম্প্রদায়ের ওই নারী।

এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একই এলাকার তিন যুবক ওই নারীকে ঘরে থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন। এসময় ওই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

ওই নারীকে উদ্ধার করে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জেনারেল হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক রেহানা পারভীন বলেন, ‘তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে চারটি দাঁতও। প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।’

বিচার দাবি

কোচ সম্প্রদায়ের নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন।

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সকাল সাড়ে ১১টায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক রতন কুমার রায় বলেন, ‘কোচ সম্প্রদায়ের ওই নারীর ওপর বর্বরতা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে, আগামীতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন

শেয়ার করুন

আমি রিফ্রেশড: পরীমনি

আমি রিফ্রেশড: পরীমনি

ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

পরীমনি বলেন, ‘এত দ্রুত কাজগুলো হয়ে যাবে আমি ভাবিনি। সবকিছু ম্যাজিকের মতো হয়েছে…আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করছি, সুষ্ঠু বিচার পাব।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয় থেকে বের হয়ে পরীমনি বলেছেন, তিনি এখন ‘রিফ্রেশড’। নিজের মানসিক স্বস্তি ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গটি জানাতে গিয়ে এ কথা বলেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

ধর্ষণ এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা ও প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে পরীমনিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়।

সোয়া ৬টার দিকে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে (ডিবি অফিসে) এসে আমি আসলে এখন মেন্টালি অনেক রিফ্রেশড। আমি যে কাজে ফিরব, এটা কেউ আমাকে কিন্তু বলেনি। আমার আশপাশে যারা ছিল তারা সবাই আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমার যে কাজে ফিরতে হবে, আমার এই শক্তিটা তারা (ডিবি কর্মকর্তারা) জুগিয়েছেন এতক্ষণ ধরে।’

পরীমনি বলেন, ‘আমার কাজ নিয়ে কথা বলেছে, আমাকে নানা রকম গুড ভাইভ দেয়া হচ্ছে- আমার নরমাল লাইফে কীভাবে ফিরে যাব। আমি এতটা তাদের কাছে আশা করিনি। তারা এতটা বন্ধুসুলভ, একটা ম্যাজিকের মতো হয়ে গেছে।’

পরীমনি গত রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন। এ ঘটনায় জীবনাশঙ্কায় আছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চান।

পরীর এমন স্ট্যাটাসের পর তার বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই নায়িকার করা ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ আরও তিন নারীকে।

পরীর মামলায় গ্রেপ্তারের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় নাসির উদ্দিন ও অমিকে সাত দিনের রিমান্ড ও তিন নারীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী।

আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পরীমনি। বলেন, ‘তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন শুধু আমার… আমার বিশ্বাস যে আমি আসলে সঠিক বিচারটা পাব।’

আরও পড়ুন:
ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন

শেয়ার করুন

নাসির-অমি ৭ দিনের রিমান্ডে

নাসির-অমি ৭ দিনের রিমান্ডে

পরীমনির মামলায় গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয় নাসির উদ্দিন আহমেদ ও তুহিন সিদ্দিক অমিসহ আসামিদের। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

পরীমনির মামলার পর সোমবার দুপুরের দিকে নাসিরসহ পাঁচজনকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারের পর ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে মাদক মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। তাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার অপর তিন নারীকে পাঠানো হয়েছে ৩ দিনের রিমান্ডে।

আসামিদের মঙ্গলবার বিকেলে আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ আদেশ দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী।

পরীমনির মামলার পর সোমবার দুপুরের দিকে নাসিরসহ পাঁচজনকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর তাদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের উপ পরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার শিকদার।

আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক উদয় কুমার মণ্ডল আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করেন।

রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকার মুখ্য মহানগর দায়রা আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আবু ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।

আসামিপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল বাতেন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ও আইনজীবী ইমরুল কাউসারসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড আবেদন বাতিল এবং আসামিদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

আসামি পক্ষের যুক্তি আমলে নেননি বিচারক। রিমান্ড আদেশ দিয়ে পুরুষ দুই আসামির ক্ষেত্রে তা ১০ কার্যদিবস এবং নারী তিন আসামির ক্ষেত্রে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কার্যকর করতে বলে।

নারী তিন আসামি হলেন লিপি আক্তার, সুমি আক্তার ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা।

আদালত প্রাঙ্গণে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের থানায় দায়ের করা নায়িকা পরীমনির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এরপর গোয়েন্দা পুলিশ তাদেরকে বিমানবন্দর থানায় নিয়ে যায়।’

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর থানার এলাকার মধ্যে ১ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের বাড়িতে আসামিরা অবস্থান করা অবস্থায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের দখল থেকে ৮টি প্লাস্টিকের বোতলে তরল সোডা, ৩টি ক্যানে তরল সোডা, ৪ বোতল বিদেশি মদ ও এক হাজার পিচ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, যে বাড়ি থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটা তাদের কারো নিজের বাড়ি নয়। এটা তাদের ভাড়া করা বাসা। এখানে তারা বিভিন্ন সময় ডিজে পার্টি করাসহ নানাবিধ মাদক কারবারে লিপ্ত থাকতো। ভদ্রতার মুখোশের আড়ালে নানা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় তাদের আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন:
ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা
সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যা, সাবেক এমপি গ্রেপ্তার
পল্লবীতে হত্যা: সাবেক এমপি আউয়ালকে তুলে নেয়ার অভিযোগ
মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি
বাদীর অগোচরে মামলার শুনানি, ‘মিথ্যা তথ্যে’ আসামির জামিন

শেয়ার করুন