কোয়ারেন্টিনে ধর্ষণ মামলার ধারা সংশোধন

কোয়ারেন্টিনে ধর্ষণ মামলার ধারা সংশোধন

‘৯ (৫) ধারা অপরাধ হচ্ছে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় ধর্ষণ হলেও, ধর্ষক ওই পুলিশ সদস্য নয় অন্য কেউ। এখানে পুলিশের অপরাধ হচ্ছে তার দায়িত্বে অবহেলা। যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড। আর ২০০০ এর ৯ (১) এ ধারার অপরাধে ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন।’

খুলনা পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে ‘ধর্ষণের শিকার’ নারীর মামলার ধারা সংশোধন করেছে পুলিশ।

বুধবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন ওই মামলায় (নম্বর-১৭) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ এর ৯ (১) ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ওই ধর্ষণ মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯ (৫) ধারা দেয়া হয়েছিল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা সদর থানার এসআই আবু সাঈদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘৯ (৫) ধারা অপরাধ হচ্ছে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় ধর্ষণ হলেও, ধর্ষক ওই পুলিশ সদস্য নয় অন্য কেউ। এখানে পুলিশের অপরাধ হচ্ছে তার দায়িত্বে অবহেলা। যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড। আর ২০০০ এর ৯ (১) এ ধারার অপরাধে ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা সদর থানার এসআই আবু সাঈদ বলেন, ‘প্রিন্টের সময় ধারা বাদ পড়ে গিয়েছিল। আদালতে আবেদন করে এ ধারা সংশোধন করা হয়েছে।’

খুলনার পিটিআই কোয়ারিন্টন সেন্টারে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এই অভিযোগ তুলে গেল সোমবার এএসআই মোকলেছুরের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই নারী।

এর আগের দিন ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যদের কমিট গঠন করে জেলা প্রশাসন। ওই কমিটিও মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে ধর্ষণের প্রমাণ মেলার কথা জানানো হয়েছে।

মোকলেছুর খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত। তিনি খুলনার পিটিআই কোয়ারেন্টিন সেন্টারে গত ১ মে থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বাড়ি যশোর সদরের দৌলদিহি এলাকায়।

মামলার পর পরই মোকলেছুরকে বরখাস্ত করার কথা জানায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। গণমাধ্যমে কর্মীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় কেএমপি বলে, ‘প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) মহিলা হোস্টেলে ভারতফেরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন মোকলেছুর। ডিউটিতে থাকাকালে তিনি নিচতলা থেকে দ্বিতীয় তলায় কোয়ারেন্টিনে থাকা নারীর কক্ষে বিনা অনুমতিতে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন।

‘শনিবার রাতে আবার কক্ষে ঢুকে ধর্ষণচেষ্টার সময় নারী চিৎকার করলে আসামি দ্রুত চলে যান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক অনুসন্ধান করা হয়। অনুসন্ধানে সত্যতা মিললে মোকলেছুরকে বরখাস্ত করা হয়।’

মোকলেছুরকে বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনার অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সোনালী সেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ছেলে-মেয়ে উভয়ের ডিএনএ টেস্ট করাব। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে মঙ্গলবার বিকেলে ওই নারীকে আবার কোয়ারেন্টি সেন্টারে পাঠানো হয়। রাতে নিজ কক্ষে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

কোয়ারেন্টিনে ধর্ষণ মামলার ধারা সংশোধন
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোকলেছুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

তবে বুধবার ওই নারী আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনাটিকে ‘দুষ্টুমি’ বলে আখ্যা দেন। দুপুর দুইটার দিকে তার সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘আত্মহত্যা করতে যাব কেন? ১৪/১৫ দিন ধরে এক জায়গায় আটকে রয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করছি যাতে আমাকে ছেড়ে দেয়। তারা সে কথা মানছে না। এ জন্য আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে দুষ্টুমি করেছি।’

এর আগে তিনি বলেন, ‘আমার দুটি সন্তান রয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় আমি সামাজিকভাবে হেয় হয়েছি। আমার সঙ্গে যা হয়েছে তা যেন অন্য কোনো নারীর সঙ্গে না হয়। আমি আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

ভারতে করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার পর গত ২৬ এপ্রিল থেকে সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। তবে ভারতে গিয়ে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা বিশেষ অনুমতি নিয়ে ফিরতে পারছেন। এ ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে দেশে করতে হবে করোনা পরীক্ষা। নেগেটিভ হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৪ দিন থাকতে হবে কোয়ারেন্টিনে।

আরও পড়ুন:
প্রশাসনের তদন্তে কোয়ারেন্টিনে পুলিশের ধর্ষণের প্রমাণ  
কোয়ারেন্টিনে ‘ধর্ষণ’: সেই নারীর আত্মহত্যার চেষ্টা

শেয়ার করুন

মন্তব্য