মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি

মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি

‘বর্তমানে জামিন শুনানি, রিমান্ড শুনানি, মামলা ফাইলিং এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় ছাড়া কোনো শুনানি হচ্ছে না। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে এটির ওপর শুনানি হবে।’

করোনাভাইরাসের কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা পর তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি আটকে গেছে।

গত ১২ মে মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই আদালতে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। কিন্তু আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হয়নি এখনও।

এদিকে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন বাবুল আকতারের আইনজীবী আরিফুর রহমান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নারাজি দিব। পুনরায় তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন জানাব।’

এ মামলায় গত ২৭ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই সেদিন প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তারা ১২ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।করোনায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শুনানির তারিখও পড়েনি। যার ফলে আটকা পড়েছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের ওপর শুনানি।

এরইমধ্যে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন আরেকটি মামলা করেছেন। মামলাটি গ্রহণ করেছে আদালত। সেই মামলায় মিতুর স্বামী বাবুল আকতারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে বাবুলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার সহকারী কমিশনার কাজী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে জামিন শুনানি, রিমান্ড শুনানি, মামলা ফাইলিং এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় ছাড়া কোনো শুনানি হচ্ছে না। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে এটির ওপর শুনানি হবে।’

চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। সে সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল আকতার।

হত্যার পর চট্টগ্রামে ফিরে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে তিনি মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

এ মামলায় সে বছরের ২৬ জুন মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম ও মো. আনোয়ার নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর এই হত্যায় বাবুলের সম্পৃক্ততা নিয়ে গণমাধ্যমে নানা তথ্য উঠে আসে। তবে তদন্ত আর আগায়নি। একপর্যায়ে বাবুল পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অব্যাহতি নিতে তাকে বাধ্য করা হয়।

বাবুল দোষী হলে তাকে গ্রেপ্তার না করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি নিয়ে সে সময়ই প্রশ্ন উঠে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আর দেয়া হয়নি।

তবে পাঁচ বছর পর এবার ঈদের আগে চমক দেখায় পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই। হঠাৎ বাবুলকে ঢাকা থেকে ডেকে নেয়া হয় চট্টগ্রাম। মিতুর বাবাকেও নেয়া হয়।
পিবিআই বাবুলের করা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এর পরেই বাবুলকে আসামি করে মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

১২ মে পাঁচলাইশ থানায় করা মামলায় বলা হয়, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে। সেদিনই বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে রিমান্ডে পাঠান।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার দুপুরে আড়াইটার দিকে মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহানের আদালতে বাবুলকে তোলা হয়। তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় নেয়া হয় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণে। তবে তিনি জবানবন্দি দেবেন না বলে জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, জবানবন্দি দেয়ার জন্য বাবুল আকতারকে সরাসরি বিচারকের খাস কামরায় নেয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি চার ঘণ্টা অবস্থান করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। এরপর আমরা কোনো রিমান্ডের আবেদন করিনি।

পরবর্তীতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাকে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাব উদ্দিন বলেন, ডিভিশন-১ পাওয়ার জন্য বাবুল আকতারের আইনজীবীরা কোর্টে প্রেয়ার (আবেদন) করেছিল। পরে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ডিভিশন পাননি বাবুল, থাকছেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে
মিতু হত্যা: কারাবন্দি আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন বাবুল
মিতু হত্যায় জবানবন্দি দেননি বাবুল
মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি

মুন্সিগঞ্জ সদরের চিতলিয়া বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৮ জন। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন জানান, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল চার জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৬৯ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা। জব্দ হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

মুন্সিগঞ্জ সদরের চিতলিয়া বাজারে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার ৮ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার বেলা ৩টার দিকে মুন্সিগঞ্জের ১ নম্বর আমলী আদালতে তোলা হলে, বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, ডাকাত দলের প্রধান সাব্বির ওরফে হাতকাটা স্বপন, আরিফ হাওলাদার, মোহাম্মদ আলী, বিল্লাল মোল্লা, আনোয়ার হোসেন, ফারুক খান, আফজাল হোসেন ও আক্তার হোসেন। তাদের বাড়ি শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও মাদারীপুর জেলায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান।

জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে রোববার মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও ঢাকা থেকে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় খোয়া যাওয়া স্বর্ণের ৬৯ ভরি।

জব্দ করা হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি
অভিযানে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ ও অস্ত্র। ছবি: নিউজবাংলা

মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন।

তিনি জানান, জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ দল চার জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৬৯ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা। জব্দ হয় ম্যাগজিনসহ একটি পিস্তল, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, একটি চাপাতি ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট।

স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি: গ্রেপ্তার ৮, উদ্ধার ৬৯ ভরি
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

১৫ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে মুন্সিগঞ্জের চিতলিয়া বাজারের দুটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি হয়। দোকান মালিকদের দাবি, আনুমানিক ১০০ ভরি স্বর্ণ ও ৪০ লাখ টাকা ডাকাতি হয়েছে।

এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্থ এক দোকানের মালিক রিপন বণিক মুন্সিগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৮ থেকে ২০ জনের নামে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
ডিভিশন পাননি বাবুল, থাকছেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে
মিতু হত্যা: কারাবন্দি আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন বাবুল
মিতু হত্যায় জবানবন্দি দেননি বাবুল
মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

শেয়ার করুন

এহসানের জন্য টাকা তুলে বিপাকে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা

এহসানের জন্য টাকা তুলে বিপাকে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা

হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার পিরোজপুরভিত্তিক এমএলএম কোম্পানি এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই। ছবি: নিউজবাংলা

পিরোজপুরের ধর্মীয় নেতাদের দাবি, সুদমুক্ত মুনাফা দেয়ার কথা বলে এহসান প্রতারণা করবেন তা বুঝতেই পারেননি তারা। তবে তাদের কথা মানছেন না হাজার হাজার গ্রাহক। টাকার জন্য এখন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন অনেক গ্রাহক।

‘শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের’ কথা বলে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রিমান্ডে রয়েছেন পিরোজপুরভিত্তিক এমএলএম কোম্পানি এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই।

তবে তাদের পক্ষে মাঠপর্যায় থেকে টাকা তুলে এখন বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মাদ্রাসার শিক্ষকরা।

এসব ধর্মীয় নেতার দাবি, সুদমুক্ত মুনাফা দেয়ার কথা বলে এহসান প্রতারণা করবেন তা বুঝতেই পারেননি তারা। তবে তাদের কথা মানছেন না হাজার হাজার গ্রাহক। টাকার জন্য এখন তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন অনেক গ্রাহক।

ইসলামি বিনিয়োগ ব্যবহারের আগে হাজার হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা রাগীব আহসানের বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগে রাগীব আহসানসহ তার তিন ভাই মাওলানা আবুল বাশার, খাইরুল ইসলাম ও মুফতি মাহমুদুল হাসানকে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তারের পর টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে নানা আশঙ্কায় রয়েছেন গ্রাহকরা। প্রথমে এহসান গ্রুপের কার্যালয়ে গেলেও এখন তারা ছুটছেন তাদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা স্থানীয় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কাছে।

এর মধ্যে টাকার শোকে ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আজিজ মাঝি নামের ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি পাঁচ মেয়ে ও স্ত্রীর কাছ থেকে নিয়ে ৩০ লাখ টাকা এহসান গ্রুপের ফান্ডে জমা করেন। তার সন্তানরা ক্ষুদ্র ব্যবসা এমনকি গৃহপরিচারিকার কাজ করে বাবার কাছে এ টাকা দেন।

অভিযোগ, এহসান গ্রুপের ব্যবস্থাপক পরিচালক রাগীব আহসান গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর রাতেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তার।

আজিজ মাঝির কাছ থেকে ওই টাকা নিয়েছিলেন মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস। আজিজ মাঝির মেয়ে তাসলিমা বেগম বলেন, ‘বাড়ির পাশের মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস আমার বাবাকে ধর্ম ও কোরআনের কথা বলে মন নরম করে আমাদের জমানো ৩০ লাখ টাকা জমা নেয়।

‘কথা ছিল, জমিজমার ব্যবসা করে সুদমুক্ত লাভ দেবে। তবে কোনো টাকা-পয়সা আমাদের দেন নাই। এরপর টাকার চিন্তায় আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা কয়েকবার রাগীব আহসানের কাছে যাই। চিকিৎসার জন্য হলেও কিছু টাকা ফেরত চাই, কিন্তু তিনি টাকা না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। আমার বাবা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং স্ট্রোক করে মারা যান।’

ইন্দুরকানী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে জানা গেছে, ধর্মীয় নেতা ও মসজিদের ইমামদের কথায় বিশ্বাস করে এ এলাকার জেলে, দিনমজুর, শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ প্রায় প্রত্যেক পরিবার থেকেই টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এহসান গ্রুপ।

গ্রাহকদের দাবি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন মূলত ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা। এহসান গ্রুপের টাকা তুলে এখন তারা পড়েছেন তোপের মুখে। তারা জানান, তাদের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস উঠে গেছে। প্রকাশ্যে চলাফেরা করতেও তারা এখন ভয় পাচ্ছেন।

ইন্দুরকানী উপজেলা থেকেই ৬০০ গ্রাহকের টাকা জমা নিয়েছিলেন ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ ইলিয়াস। তিনি বলেন, ‘আমরা তো বুঝতেই পারিনি এটা ছিল জনগণকে ধোঁকা দেয়ার ফাঁদ। বারবার বোঝানো সত্ত্বেও রাগীব আহসান আমাদের কথায় কর্ণপাত করেননি।

‘গরিব মানুষজন বিশ্বাস করে আমাদের হাতে টাকা গচ্ছিত রেখেছে। কেউ কেউ ভিটেমাটি বিক্রি করেও টাকা দিয়েছে। নিরুপায় হয়ে আমাদের ১০০ জন মাঠকর্মীর পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।’

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ জ ম মাসুদুজ্জামান জানান, রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে আসামিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা বলা যাচ্ছে না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (অপরাধ প্রশাসন) বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করি গ্রাহকরা সুবিচার পাবেন।’

আরও পড়ুন:
ডিভিশন পাননি বাবুল, থাকছেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে
মিতু হত্যা: কারাবন্দি আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন বাবুল
মিতু হত্যায় জবানবন্দি দেননি বাবুল
মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

শেয়ার করুন

চৌমুহনীতে হত্যা, আসামি বেনাপোলে গ্রেপ্তার

চৌমুহনীতে হত্যা, আসামি বেনাপোলে গ্রেপ্তার

হত্যা মামলার আসামি নুরুল আমিন মোর্শেদকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি বলেন, ‘গোপন তথ্যে জানতে পারি নুরুল আমিন বেনাপোলে অবস্থান করছেন। বিকেলে বেনাপোল হাইস্কুল মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি বেগমগঞ্জ থানায় জানানো হয়েছে।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে ভাড়া ১০ টাকা বেশি চাওয়ায় এক রিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত যাত্রীকে বেনাপোল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বেনাপোল পৌর এলাকার হাইস্কুল মার্কেটের সামনে থেকে রোববার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করে বেনাপোল বন্দর থানার পুলিশ।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম নুরুল আমিন মোর্শেদ। তার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী গনিপুর গ্রামে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার গনিপুর গ্রামে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন নুরুল আমিন।

নিহত রিকশাচালকের আবুল হোসেন গনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন।

ওসি মামুন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে চৌমুহনী রেলস্টেশন থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় নুরুল আমিনকে গনিপুর গ্রামে নিয়ে যান আবুল হোসেন। এ সময় নুরুলের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে আবুলের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। ১০ টাকা ভাড়া বেশি চাওয়ায় বাড়ি থেকে দা এনে রিকশাচালকের গলায় কুপিয়ে আহত করেন যাত্রী। এতে তার গলার শ্বাসনালির কিছু অংশ কেটে যায়।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর জখম রিকশাচালককে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে সেদিন দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি বলেন, ‘গোপন তথ্যে জানতে পারি নুরুল আমিন বেনাপোলে অবস্থান করছেন। বিকেলে বেনাপোল হাইস্কুল মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি বেগমগঞ্জ থানায় জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ডিভিশন পাননি বাবুল, থাকছেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে
মিতু হত্যা: কারাবন্দি আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন বাবুল
মিতু হত্যায় জবানবন্দি দেননি বাবুল
মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

শেয়ার করুন

কুপিয়ে নারী জখম: কারাগারে ৪

কুপিয়ে নারী জখম: কারাগারে ৪

ময়মনসিংহে এক নারীকে দা দিয়ে কোপানোর অভিযোগে চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যার দিকে সুমাইয়া খাতুন নামে এক নারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বাবার বাড়ি চর ভবানীপুর গ্রামে এসেছিলেন সুমাইয়া।

ময়মনসিংহ সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে দা দিয়ে কোপানোর অভিযোগে চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ময়মনসিংহ মুখ্য বিচারিক হাকিমের ১ নম্বর আমলি আদালতে রোববার বিকেলে আসামিদের পাঠানো হয়। বিকেল ৫টার দিকে আদালতের অতিরিক্ত বিচারক আবদুল হাই তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আদালত পরিদর্শক প্রসূণ কান্তি দাস।

সাজা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন আজিজুল হক, মো.সারোয়ার, মো. আবুল কালাম ও মো. মঞ্জু।

রোববার দুপুরে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামে শনিবার সন্ধ্যার দিকে সুমাইয়া খাতুন নামে এক নারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে কর্মরত। মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বাবার বাড়ি চর ভবানীপুর গ্রামে এসেছিলেন সুমাইয়া।

ঘটনার পরপরই সুমাইয়ার বড় ভাই আলী আকবর ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২৩ বছর ধরে জমিজমা নিয়ে একই গ্রামের আলী আকবর এবং আজিজুল হকের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ঘটনায় একাধিক মামলাও রয়েছে।

বিষয়টি মীমাংসার জন্য শনিবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই দুই পরিবারের বসার কথা থাকলেও আজিজুল হক ও তার লোকজন রাস্তায় গাছ ফেলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

একপর্যায়ে আজিজুল ও তার লোকজন সন্ধ্যার আগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলী আকবরের বাড়িতে হামলা করেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন রামদা দিয়ে আলী আকবরের বোন সুমাইয়ার মাথায় আঘাত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত ঘটনায় নারীর ওপর হামলার ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। মেয়েটি এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন।’

ওসি জানান, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরও পড়ুন:
ডিভিশন পাননি বাবুল, থাকছেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে
মিতু হত্যা: কারাবন্দি আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন বাবুল
মিতু হত্যায় জবানবন্দি দেননি বাবুল
মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

শেয়ার করুন

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন ইউএনও, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। ছবি: নিউজবাংলা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রী, তার বাবা, স্থানীয় মানুষ, অভিযুক্ত কর্মচারী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। আমার প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।’

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্কুলের টয়লেটে বাকশক্তিহীন ছাত্রীর আটকে পড়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

কমিটির প্রধান তাহমিনা বেগম রোববার দুপুর ১টার দিকে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্লাস শেষ করে আমরা আবারও সবার সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’

এর আগে এই ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে আয়া শাহানারা বেগমকে। তবে তিনি আগের মতোই স্কুলের কাজে নিয়োজিত আছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিন সদস্যের কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন স্কুলের সহকারী শিক্ষক উম্মে কুলসুম ও আবু হানিফ ভূইয়া।

টামটা উত্তর ইউনিয়নের হোসেনপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় শনিবার পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারী ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আহসান উল্যাহ চৌধুরী।

টয়লেটে ছাত্রীর আটকে থাকার ঘটনায় তদন্ত শুরু

বরখাস্ত আয়া স্কুলে কীভাবে কাজ করেন এই প্রশ্নে প্রধান শিক্ষক আমির হোসেন বলেন, ‘আমাদের স্কুলে একজন দপ্তরি ও একজন আয়া। এখন তারা না থাকলে বিদ্যালয়ের যে কাজকর্ম রয়েছে তা কীভাবে হবে? আয়া তার কাজ করলেও হাজিরা খাতায় তার সই দেয়া বন্ধ রাখা হয়েছে।’

ইউএনও শিরীন আক্তার বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রী, তার বাবা, স্থানীয় মানুষ, অভিযুক্ত কর্মচারী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা হয়নি। আমার প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।’

শাহরাস্তি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘স্কুলের টয়লেটে ছাত্রী থাকাবস্থায় তালাবন্ধ করা, স্থানীয় লোকজন তালা ভেঙে ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের সময় স্কুল কর্তৃপক্ষের ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থাকা, ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করা ও বাকশক্তিহীন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করে তার বিশেষ যত্নের ব্যবস্থা না করায় প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। তিন কার্য দিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব জমা দিতে হবে।’

এসএসসি পরীক্ষার্থী বাকশক্তিহীন ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর টয়লেটে গেলে তালাবন্ধ করে চলে যান বিদ্যালয়ের আয়া শাহানারা আক্তার। ১১ ঘণ্টা আটকে থাকার পর রাত ১০টার দিকে টয়লেটের তালা ভেঙে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন:
ডিভিশন পাননি বাবুল, থাকছেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে
মিতু হত্যা: কারাবন্দি আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন বাবুল
মিতু হত্যায় জবানবন্দি দেননি বাবুল
মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা

ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও সিইও মো. রাসেল। ফাইল ছবি

ধানমন্ডি থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলা করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।’

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা হয়েছে।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলা করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন। কিন্তু ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।’

ইকরাম আলী আরও বলেন, ‘আমরা শোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছি। রিমান্ডের আবেদনও করা হয়েছে। গুলশানে রিমান্ড শেষে আমাদেরকে দিবে।’

ধানমন্ডি থানার মামলায় রাসেল, শামীমাসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আসামি আছে আরও কয়েকজন।

মামলার নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন সিইও রাসেল, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন, ভাইস চেয়ারম্যান আকাশ, ম্যানেজার জাহেদুল ইসলাম হেময়, সিনিয়র কী অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার তানভীর আলম, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ কমার্শিয়াল জাওয়াদুল হক চৌধুরী, হেড অব অ্যাকাউন্ট সেলিম রেজা, অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার জুবায়ের আল মাহমুদ, অ্যাকাউন্ট শাখার সোহেল, আকিবুর রহমান তূর্য, পিএস টু সিইও রেজওয়ান, বাইক বিভাগের সাকিব রহমান।

অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৫ থেকে ২০ জনকে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলা করেন আরিফ বাকের নামের এক গ্রাহক। ওই দিন বিকেলেই রাসেলের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব।

অভিযানে রাসেল ও শামীমাকে আটক করা হয়। পরের দিন গুলশান থানা পুলিশে দুজনকে হস্তান্তর করা হয়। ওই থানা পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানকে তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
ডিভিশন পাননি বাবুল, থাকছেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে
মিতু হত্যা: কারাবন্দি আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন বাবুল
মিতু হত্যায় জবানবন্দি দেননি বাবুল
মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

শেয়ার করুন

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

নোয়াখালীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম সরদারকে প্রধান এবং উপপরিচালক আবদুল আলিমকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। শিগগির তারা প্রতিবেদন দেবেন।’

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে লেগে থাকা গাছের ডাল থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা শনিবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কাশেম সরদারকে প্রধান এবং উপপরিচালক আবদুল আলিমকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।’

তবে কত দিনের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি গোলাম মোস্তফা। এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যেই দেয়া হয়।’

উপজেলার বজরা ইউনিয়নের শিলমুদ গ্রামে আব্দুর রহিম সুপার মার্কেটের সামনে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন ওই মার্কেটের মালিক আব্দুর রহিম, মো. ইউসুফ, মো. সুমন ও মো. জুয়েল। তাদের সবার বাড়ি শিলমুদ গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরের দিকে বৃষ্টি হয়েছিল। পানিতে বৈদ্যুতিক খুঁটিটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল। খুঁটি লাগোয়া একটি গাছও বিদ্যুতায়িত ছিল। সেই গাছের ডালের সঙ্গে হাত লাগে আব্দুর রহিমের। তাকে বাঁচাতে এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইউসূফ, সুমন ও জুয়েল এগিয়ে যান। এতে তারাও বিদ্যুতায়িত হন।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া শিলমুদ মধ্যপাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণে তাদের দাফন করা হয়।

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ এই খুঁটি সরাতে কর্মকর্তাদের অনুরোধ করলেও, তা আমলে নেয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা শহীদ উল্ল্যাহ্‌ বলেন, ‘প্রায় ৩৫ বছর আগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এখানে খুঁটি স্থাপন করে সংযোগ দেয়। ১০ বছর আগে এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহের এখতিয়ার চলে যায় বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে। তারা ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেননি।’

নিহত আব্দুর রহিমের শ্যালক মোরশেদ আলম বলেন, ‘অনেকবার তাদের খুঁটি সরাতে বলেছি। তারা সরায়নি। তাদের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই।’

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নোয়াখালীর জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘দুই মাস আগে ওই খুঁটিটি সরাতে গেলে মার্কেটের মালিক আব্দুর রহিম বাধা দেন। এজন্য খুঁটি সরানো হয়নি। দ্রুতই ঝুঁকিপূর্ণ সব খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে।’

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহগুলোর সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে মৃতদের তালিকা পাঠিয়েছি। সেখান থেকে তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’

নোয়াখালী জেলায় গত এক সপ্তাহে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেলেন ৬ জন। গত বুধবার সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের হেলে পড়া একটি খুঁটির তারে লেগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান মফিজ উল্যাহ নামের এক ব্যক্তি।

মফিজ উল্যাহর পরিবারের অভিযোগ, খুঁটি সরাতে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কর্তৃপক্ষ তা সরায়নি।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর কবিরহাট পৌর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান সাজ্জাদ হোসেন রিফাত নামের আরও এক স্কুলছাত্র।

আরও পড়ুন:
ডিভিশন পাননি বাবুল, থাকছেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে
মিতু হত্যা: কারাবন্দি আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন বাবুল
মিতু হত্যায় জবানবন্দি দেননি বাবুল
মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

শেয়ার করুন