মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি

মিতু হত্যা: আটকে গেল বাবুলের করা মামলার শুনানি

‘বর্তমানে জামিন শুনানি, রিমান্ড শুনানি, মামলা ফাইলিং এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় ছাড়া কোনো শুনানি হচ্ছে না। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে এটির ওপর শুনানি হবে।’

করোনাভাইরাসের কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা পর তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি আটকে গেছে।

গত ১২ মে মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই আদালতে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। কিন্তু আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি হয়নি এখনও।

এদিকে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নারাজি আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন বাবুল আকতারের আইনজীবী আরিফুর রহমান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নারাজি দিব। পুনরায় তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন জানাব।’

এ মামলায় গত ২৭ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই সেদিন প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তারা ১২ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।করোনায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শুনানির তারিখও পড়েনি। যার ফলে আটকা পড়েছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের ওপর শুনানি।

এরইমধ্যে মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন আরেকটি মামলা করেছেন। মামলাটি গ্রহণ করেছে আদালত। সেই মামলায় মিতুর স্বামী বাবুল আকতারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে বাবুলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার সহকারী কমিশনার কাজী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে জামিন শুনানি, রিমান্ড শুনানি, মামলা ফাইলিং এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় ছাড়া কোনো শুনানি হচ্ছে না। আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হলে এটির ওপর শুনানি হবে।’

চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। সে সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল আকতার।

হত্যার পর চট্টগ্রামে ফিরে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে তিনি মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

এ মামলায় সে বছরের ২৬ জুন মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম ও মো. আনোয়ার নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর এই হত্যায় বাবুলের সম্পৃক্ততা নিয়ে গণমাধ্যমে নানা তথ্য উঠে আসে। তবে তদন্ত আর আগায়নি। একপর্যায়ে বাবুল পুলিশের চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অব্যাহতি নিতে তাকে বাধ্য করা হয়।

বাবুল দোষী হলে তাকে গ্রেপ্তার না করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি নিয়ে সে সময়ই প্রশ্ন উঠে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আর দেয়া হয়নি।

তবে পাঁচ বছর পর এবার ঈদের আগে চমক দেখায় পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই। হঠাৎ বাবুলকে ঢাকা থেকে ডেকে নেয়া হয় চট্টগ্রাম। মিতুর বাবাকেও নেয়া হয়।
পিবিআই বাবুলের করা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এর পরেই বাবুলকে আসামি করে মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

১২ মে পাঁচলাইশ থানায় করা মামলায় বলা হয়, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে। সেদিনই বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে রিমান্ডে পাঠান।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার দুপুরে আড়াইটার দিকে মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহানের আদালতে বাবুলকে তোলা হয়। তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামরায় নেয়া হয় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণে। তবে তিনি জবানবন্দি দেবেন না বলে জানান।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, জবানবন্দি দেয়ার জন্য বাবুল আকতারকে সরাসরি বিচারকের খাস কামরায় নেয়া হয়েছিল। সেখানে তিনি চার ঘণ্টা অবস্থান করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। এরপর আমরা কোনো রিমান্ডের আবেদন করিনি।

পরবর্তীতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তাকে ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাব উদ্দিন বলেন, ডিভিশন-১ পাওয়ার জন্য বাবুল আকতারের আইনজীবীরা কোর্টে প্রেয়ার (আবেদন) করেছিল। পরে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ডিভিশন পাননি বাবুল, থাকছেন সাধারণ বন্দিদের সঙ্গে
মিতু হত্যা: কারাবন্দি আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন বাবুল
মিতু হত্যায় জবানবন্দি দেননি বাবুল
মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

শেয়ার করুন

মন্তব্য