মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

বাবুল আকতারকে গ্রেপ্তারে পর গত ১২ মে সকালে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার অভিযোগ করেছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সোর্স মুসাকে চেনেন না বলে জানিয়েছিলেন বাবুল। রিমান্ডে তিনি মুসাকে নিজের সোর্স বলে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

মিতু হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া কামরুল ইসলাম মুসাকে নিজের সোর্স হিসেবে স্বীকার করেছেন সাবেক এসপি বাবুল আকতার। স্ত্রীকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারি সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগশেন (পিবিআই)।

তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা সোমবার নিউজবাংলাকে একথা জানিয়েছেন।

বাবুল আকতারকে গ্রেপ্তারে পর গত ১২ মে সকালে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার অভিযোগ করেছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সোর্স মুসাকে চেনেন না বলে জানিয়েছিলেন বাবুল।

বনজ বলেন, ‘মিতু হত্যার পর উদ্ধার হওয়া ভিডিও ফুটেজে আমরা একজনকে দেখেছিলাম। তার নাম কামরুল ইসলাম মুসা। মুসা এখনও নিখোঁজ। আমরা জেনেছি মুসা নিয়মিত বাবুল আকতারের বাসায় যাতায়াত করতেন। বাবুলের বাসায় মুসা বাজারও করে দিতেন। মুসাকে শুধু বাবুল আকতারই চিনতেন।

‘ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট এই মুসাকে চেনা গেছে, কিন্তু তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল আকতার মুসাকে চেনেন না বলে জানিয়েছিলেন। সেখান থেকে সন্দেহ হলে বিশদ তদন্ত শুরু করে পিবিআই। পরে আমরা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হই, বাবুল ইচ্ছাকৃতভাবে তার ব্যক্তিগত সোর্স মুসাকে সন্দেহ করেনি বা সন্দেহজনক বলে পুলিশকে জানাননি।’

এর পাশাপাশি বাবুলের দুই বন্ধু মিতু হত্যায় বাবুলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন গাজী আল মামুন ও সাইফুল হক।

মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। সে সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল আকতার।

হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রামে ফিরে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে তিনি মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

এ মামলায় সে বছরের ২৬ জুন মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম ও মো. আনোয়ার নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার পাঁচ বছর পর বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে তার বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে গত ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

ডিবি পরিচয়ে মুসাকে তুলে নেয়ার অভিযোগ

মিতু হত্যার পাঁচ বছরেও মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসার কোনো সন্ধান জানাতে পারেনি পুলিশ।

মুসার স্ত্রীর অভিযোগ, মিতু হত্যার পর সে বছরের ২২ জুন মুসাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেয়া হয়।

মিতু হত্যায় হওয়া নতুন মামলার দুই নম্বর আসামি এই মুসা।

বাবুল আকতার চট্টগ্রামে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মুসা তার সোর্স হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার।

তিনি বলেন, ‘মিতু খুন হওয়ার পর আমরা আত্মগোপনে চলে যাই। মুসার একজন পরিচিত ড্রাইভার ছিল নুরুন্নবী নামে। নুরুন্নবীর এক আত্মীয়ের বাসা ছিল চট্টগ্রামের বন্দর কাঠঘর তিন রাস্তার মাথার কাছে। মুসা সারেন্ডার করতে চাইছিল ২১ তারিখ । ২২ তারিখ কোর্টে যাইবে। আমাদের বলছিল নুরুন্নবীর আত্মীয়ের বাসায় যাইতে। উনি সকালে আসবে বলছিল।

‘মুসা বাসায় আসার আগে ডিবির লোক আমাকে ও নুরুন্নবীকে একটা সাদা গাড়িতে করে নিয়ে যায়। আমাদের নিয়ে গাড়িটা দাঁড়ায় তিন রাস্তার মোড়ে। কিছুক্ষণ পর ওইখানে আসে মুসা। ও নুরুন্নবীর বাসা চিনতেছিল, এই কারণে রাস্তার পাশে দাঁড়াইয়া ছিল। এদিকে মুসা আসার পর নুরুন্নবীর কাছ থেকে ডিবি পুলিশ কনফার্ম হয় যে এটাই মুসা। এরপর মুসাকে ধরে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে একটি পিকআপে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর আর দেখা পাইনি মুসার।’

মুসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার বাবুলের: পিবিআই

মুসার স্ত্রী পান্না আরও বলেন, ‘যারা মুসাকে তুলে নিছিল, তাদের আমি চিনতে পারছি। তাদের নামও আমি সংবাদ সম্মেলনে বলছিলাম। মাস খানেক আগে পিবিআইকেও বলছি। কিন্তু তারা বলছে, নেয়নি। আমার চোখের সামনে ওরা নিয়ে গিয়ে অস্বীকার করছে।’

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, মুসা পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আট আসামির তিনজন পলাতক

গত ১২ মে মিতুর বাবার করা মামলায় বাবুল আকতরসহ আটজনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে মুসাসহ পলাতক রয়েছেন তিনজন। অন্য ‍দুজন হলেন তিন নম্বর আসামি এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলাইয়্যা এবং ছয় নম্বর আসামি খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু ওরফে কসাই কালু।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমাও বলেন, মিতু হত্যার প্রথম মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনজন। তারা হলেন মোতালেব মিয়া অরফে ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহান মিয়া। আর নতুন মামলা হওয়ার পর বাবুল আকতার ও সাইদুল ইসলাম সিকদার গ্রেপ্তার হয়েছেন।

মুসাসহ পলাতক তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান সন্তোষ কুমার।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল
বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

আদালতে তোলা হচ্ছে আসামিদের। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যাংকের এটিএম বুথ লুটের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই লিপ্টন দেব জানান, আসামিদের আদালতে তুলে সাতদিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করা হয়। বিচারক পাঁচদিনে রিমান্ডে দিয়েছেন। ওসমানীনগরে ইউসিবিএল-এর এটিএম বুথে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ডাকাতির এই ঘটনা ঘটে। বুথে ঢুকে নিরপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা লুট করা হয়।

সিলেটের ওসমানীনগরে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) এটিএম বুথে লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

আসামিদের বৃহস্পতিবার দুপুরে জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে তাদের রিমান্ডে পাঠান বিচারক মাহবুবুল হক ভুঁইয়া।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসমানীনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লিপ্টন দেব নিউজবাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আসামিদের আদালতে তুলে সাতদিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করা হয়। বিচারক পাঁচদিনে রিমান্ডে দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন, শামীম আহম্মেদ, নূর মোহাম্মদ, আব্দুল হালিম ও সাফি উদ্দিন জাহির।

এর আগে সকালে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসপি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, বুধবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জাহিরকে।

তিনি জানান, এটিএম বুথ লুটের সঙ্গে জাহির সরাসরি জড়িত এবং এ ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী।

ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর পশ্চিম বাজারের ইউসিবিএল-এর এটিএম বুথে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ডাকাতির এই ঘটনা ঘটে। চার মুখোশধারী বুথে ঢুকে নিরপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে।

এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তারে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিটের কাছে সহযোগিতা চায়।

তদন্তের পর ঢাকা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জের হাওর এলাকা থেকে শামীম ও তার সহযোগী হালিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছেন যে তারা ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘সিআইডি’ দেখে লুটের এ পরিকল্পনা করেন।

এটিএম বুথ লুট: ৪ আসামি ৫ দিনের রিমান্ডে

হারুন অর রশীদ বলেন, এই ডাকাতদলের প্রধান শামীম আহম্মেদ। ওমান প্রবাসী শামীম কয়েক বছর আগে দেশে ফেরেন। দেশে এসে তেমন কোনো কাজ-কর্ম করতেন না। প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন শামীম নিয়মিত ভারতের মেগা সিরিয়াল সিআইডি দেখতেন। সেখান থেকেই বুথ লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি।

ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার বলেন, ‘সিসি ক্যামেরায় কালো রংয়ের স্প্রে করা, মুখে কাপড় পেচিয়ে শাবল দিয়ে বুথ ভাঙা সবই ভারতের সিরিয়াল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তারা।’

তিনি জানান, লুটের দশ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকি টাকা দিয়ে আসামিরা জুয়া খেলেছেন।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল
বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের

সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের

ঝুমন দাশ। ফাইল ছবি

আদালত রায়ে বলে, ‘সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তাকে এক বছরের জামিন দেয়া হলো। তবে শর্ত হলো আদালতের অনুমতি ছাড়া (ঝুমন) সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে পারবে না।’

হেফাজতে ইসলামের সাবেক নেতা মামুনুল হকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জের শাল্লার বাসিন্দা ঝুমন দাসকে এক বছরের জন্য জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

জামিনের শর্ত অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ জেলার বাইরে যেতে বিচারিক আদালতের অনুমতি লাগবে ঝুমনের।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

আদালত আদেশে বলে, ‘আমাদের সবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং ৩৯ অনুচ্ছেদ একই সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা, বিবেক এবং বাক্‌স্বাধীনতা দিয়েছে। চিন্তা, বিবেক এবং বাক্‌স্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও এসব ক্ষেত্রে কিছু বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

‘সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তাকে এক বছরের জামিন দেয়া হলো। তবে শর্ত হলো আদালতের অনুমতি ছাড়া (ঝুমন) সুনামগঞ্জের বাইরে যেতে পারবে না।’

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানি শেষে আদেশের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করে দেয় আদালত।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না, সুব্রত চৌধুরী, নাহিদ সুলতানা যুথি ও মো. আশরাফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে শানে রিসালাত নামে সমাবেশের আয়োজন করে হেফাজতে ইসলাম। সেখানে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঝুমন দাস নামে এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে। তা হেফাজতের দৃষ্টিতে আপত্তিকর মনে হয়। তারা পরদিন এর প্রতিবাদে সমাবেশও করে।

ওই ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

গত ১৬ মার্চ রাতে ঝুমন দাসকে আটক করা হয়। পরে শাল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার বাদী হন শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল করিম।

এ মামলায় ৩ আগস্ট বিচারিক আদালতে জামিন খারিজ হয় ঝুমনের। পরে ২২ আগস্ট হাইকোর্টে তার জামিনের আবেদন করা হয়।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল
বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার

এটিএম বুথে লুট: আরও এক আসামি গ্রেপ্তার

এসপি বলেন, ‘এটিএম বুথ লুটের ঘটনা খুব বিরল। এ ধরনের ঘটনা আমাদের বিস্মিত করেছে। এমন ডাকাতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে।’

সিলেটের ওসমানীনগরের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) এটিএম বুথে লুটের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পাড়িয়া গ্রাম থেকে বুধবার সন্ধ্যায় সাফি উদ্দিন জাহির নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

নিজ কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।

তিনি জানান, এটিএম বুথ লুটের সঙ্গে জাহির সরাসরি জড়িত এবং এ ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। তার কাছ থেকে একটি পালসার মোটরসাইকেল এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি শাবল জব্দ করা হয়েছে।

এসপি বলেন, ‘এটিএম বুথ লুটের ঘটনা খুব বিরল। এ ধরনের ঘটনা আমাদের বিস্মিত করেছে। এমন ডাকাতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে।’

ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর পশ্চিম বাজারের ইউসিবিএলের এটিএম বুথে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে। চার মুখোশধারী বুথে ঢুকে নিরপত্তাকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বেঁধে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে।

বুথের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ডাকাতদের মধ্যে তিনজনের মাথায় লাল কাপড় বাঁধা ছিল, একজনের মাথায় ছিল টুপি।


ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় মামলা করলে আসামিদের গ্রেপ্তারে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিটের কাছে সহযোগিতা চায়।

তদন্তের পর ঢাকা থেকে নূর মোহাম্মদ নামের এক দর্জিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হবিগঞ্জের হাওর এলাকা থেকে ডাকাতির ঘটনায় শামীম আহম্মেদ ও তার সহযোগী আব্দুল হালিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা জানিয়েছেন যে তারা ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ‘সিআইডি’ দেখে লুটের এ পরিকল্পনা করেন।

হারুন অর রশীদ বলেন, এই ডাকাতদলের প্রধান শামীম আহম্মেদ। ওমানপ্রবাসী শামীম কয়েক বছর আগে দেশে ফেরেন। দেশে এসে তেমন কোনো কাজকর্ম করতেন না। প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন শামীম নিয়মিত ভারতের মেগা সিরিয়াল সিআইডি দেখতেন। সেখান থেকেই বুথ লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘সিসি ক্যামেরায় কালো রঙের স্প্রে করা, মুখে কাপড় প্যাঁচিয়ে শাবল দিয়ে বুথ ভাঙা- সবই ভারতের সিরিয়াল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তারা।’

তিনি জানান, লুটের ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাকি টাকা দিয়ে আসামিরা জুয়া খেলেছে।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল
বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

স্বর্ণবার আত্মসাৎ: আরও ১ পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে

স্বর্ণবার আত্মসাৎ: আরও ১ পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে

বুধবার বিকেলে এসআই ফিরোজকে আদালতে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম জানান, পুলিশ কর্মকর্তাদের রিমান্ডে নেয়ার পর ছমদুল করিম ভুট্টু নামে ডিবির এক সোর্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে ফিরোজের সম্পৃক্ততার কথা পাওয়া যায়। এরপর থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিল।

চট্টগ্রামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০টি স্বর্ণবার আত্মসাতের ঘটনায় আরও এক পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ফেনীর বিচারিক হাকিম ধ্রুব জ্যোতি পালের আদালত বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাকে কারাগারে পাঠায়।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে নোয়াখালী থেকে উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ফিরোজ চট্টগ্রাম কোতোয়ালি ডিবির এসআই ছিলেন। সেখান থেকে তাকে বরিশালের পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়। তবে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ৭ থেকে ৮ মাস ধরে বাড়িতে ছিলেন। নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) খন্দকার নুরুন্নবী নিউজবাংলাকে জানান, গত ৮ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল কান্তি। ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে ডিবির সদস্যরা তার গাড়ি থামান। ওই সময় তার কাছে থাকা ২০টি স্বর্ণবার নিয়ে যান তারা।

এ ঘটনায় গোপাল ১০ আগস্ট রাতে ফেনী মডেল থানায় ফেনী ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) মোতাহের হোসেন, মিজানুর রহমান ও নুরুল হক এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অভিজিত বড়ুয়া ও মাসুদ রানার নামে মামলা করেন।

ওসি সাইফুল ইসলামের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় আত্মসাৎ করা ১৫টি স্বর্ণবার।

পুলিশ গোপালের মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কয়েক দফায় রিমান্ডে নেয়। তাদের চাকরি থেকে বরখাস্তও করা হয়।

পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম জানান, পুলিশ কর্মকর্তাদের রিমান্ডে নেয়ার পর ছমদুল করিম ভুট্টু নামে ডিবির এক সোর্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যে ফিরোজের সম্পৃক্ততার কথা পাওয়া যায়। এরপর থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিল।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল
বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

পৌর মেয়রসহ তিন বিএনপি নেতার জামিন

পৌর মেয়রসহ তিন বিএনপি নেতার জামিন

ওই তিন নেতা এর আগে হাইকোর্ট থেকে তিন মাসের জামিন নিয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আশরাফুল ইসলামের আদালতে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের অভিযোগে করা আলাদা মামলায় জামিন পেয়েছেন নওগাঁর পৌর মেয়র নজমুল হক সনিসহ তিন বিএনপি নেতা।

বুধবার বেলা ২টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম শহীদুল ইসলাম তাদের জামিন দেন।

মেয়রের আইনজীবী মিনহাজুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল খালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওই তিন নেতা এর আগে হাইকোর্ট থেকে তিন মাসের জামিন নিয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার দিকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আশরাফুল ইসলামের আদালতে জামিন আবেদন করেন। বিচারক জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ জেড এম রফিকুল ইসলাম জানান, মামলার অন্য আসামিরা জামিনে আছেন। আশা করা হচ্ছিল, আদালত এই তিনজনকে জামিন দেবেন।

চলতি বছরের ৩০ মার্চ নওগাঁ শহরের কেডির মোড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হেফাজত কর্মী নিহতের ঘটনায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই দিন দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য ও বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

এদিন সন্ধ্যায় আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তিসহ জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। দুই মামলায় ৫৭ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় অর্ধশত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল
বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন নয়: হাইকোর্ট

ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন নয়: হাইকোর্ট

অর্থ আত্মাসাতের মামলায় ইভ্যালির সিইও রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা এখন জেলে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, ইক্যাব, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, ইভ্যালির কাছে এ প্রশ্নের জবাব জানতে চেয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি এবং হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

দেশের আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি এবং হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সায়েদ মাহসিব হোসেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ইভ্যালির কোনো সম্পত্তি বিক্রি এবং হস্তান্তর করা যাবে না। এর ওপর আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

এই আইনজীবী জানান, ইভ্যালির একজন গ্রাহক ফরহাদ হোসেন। যিনি ইভ্যালি থেকে একটি পণ্য কিনেছিলেন, কিন্তু পণ্যটি ক্রয়ের পাঁচ মাস পরেও সেটি তিনি হাতে পাননি। এরপর এই গ্রাহক ইভ্যালি অবসায়ন চেয়ে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত ইভ্যালির সমস্ত সম্পত্তির ওপর বিক্রি ও হস্তান্তরের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

পাশাপাশি ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

রুলে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, ইক্যাব, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, ইভ্যালিকে বিবাদী করা হয়েছে।

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র‌্যাবের একটি দল।

এরপর গুলশান থানায় করা অর্থ আত্মাসাৎ মামলায় তাদেরকে তিনদিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার তাদের আদালতে উপস্থিত করা হলে ধানমন্ডি থানায় করা অর্থ আত্মসাতের অপর এক মামলায় রাসেলকে একদিনের জন্য রিমান্ডে পাঠান বিচারক। আর শামীমাকে পাঠানো হয় কারাগারে।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল
বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন

দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন

বাড়ির ছাদের বাইরে ঝুলছিল এই দুই বোনের মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

এ ঘটনায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। পুলিশের কাছেও নেই নতুন কোনো তথ্য। তবে এলাকাবাসী এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ।

সিলেট নগরীর আম্বরখানায় বাড়ির ছাদে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ নিয়ে আলোচনা চলছে এলাকায়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বললেও এলাকাবাসী বিষয়টিকে সন্দেহজনক হিসেবেই দেখছে।

আম্বরখানার মজুমদারি এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদ থেকে মঙ্গলবার সকালে উদ্ধার করা হয় ৩৭ বছরে শেখ রানী মজুমদার ও তার বোন ২৭ বছরের ফাতেমা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ।

নগরের বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, ছাদে পিলারের রডের সঙ্গে ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে তারা আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ দুটি ঝুলছিল ছাদের কার্নিশের বাইরে।

মৃত দুই বোনের স্বজনদেরও দাবি, এটি আত্মহত্যা।

এ ঘটনায় বুধবার দুপুর পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। পুলিশের কাছেও নেই নতুন কোনো তথ্য। তবে এলাকাবাসী এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ।

ওই বাড়িতে মা, দুই ভাই ও আরও এক বোনের সঙ্গে থাকতেন রানী ও ফাতেমা। প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারের কেউই এলাকায় কারও সঙ্গে তেমন মেলামেশা করতেন না। অন্য আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও তাদের তেমন যোগাযোগ নেই।

ওসি মাইনুল মঙ্গলবারই জানিয়েছেন, এই পরিবারের সব সদস্যেরই আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক; কাথাবার্তায় অপ্রকৃতস্থ মনে হয়েছে।

রানী ও ফাতেমার ভাই শেখ রাজন জানান, ঘটনার আগের দিন রাগ করে ঘর থেকে বেরিয়ে চাচার বাসায় চলে যান রানী। ছোটবেলা থেকেই রানীর আচরণ অস্বাভাবিক। অকারণেই রেগে যান। এ কারণে নবম শ্রেণির পর আর পড়ালেখা করতে পারেননি তিনি।

দুই বোনের ‘আত্মহত্যায়’ সন্দেহ কেন

রাজন আরও জানান, বিয়ের আলোচনা উঠলে রানী ক্ষেপে উঠতেন। গত সোমবারও তার একটি বিয়ের প্রস্তাব আসে। তা শুনেই রানী রেগে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

তবে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে সিটি করপোরেশনের ওই এলাকার কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদি বলেন, ‘আমি শুনেছি সোমবার রাগ করে হাতে দা দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান রানী ও ফাতেমা।

‘তাদের হাতে দা ছিল কেন? কেউ কি তাদের মারতে চেয়েছিল? চাচার বাসা থেকে নিজ বাসায় ফেরার পর তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কী কথা হয়েছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা দরকার।’

রানী-ফাতেমার বাড়ির পাশেই থাকেন ব্যবসায়ী কায়েস আহমদ। তিনি মঙ্গলবার সকালে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ দেখেছেন।

কায়েসের প্রশ্ন, ‘রানী যদি রেগে গিয়ে আত্মহত্যা করেও থাকেন, তবে ফাতেমা কেন আত্মহত্যা করেছেন? আবার রানী যদি তাকে হত্যা করে থাকেন, তাতেও তো তিনি বাধা দেয়ার কথা, পরিবারের অন্য সদস্যরা কি তা টের পাননি?

‘ঝুলন্ত অবস্থায় দুই বোনের মরদেহ একেবারে গায়ে গায়ে লাগানো ছিল। শেষ মুহূর্তেও কি তারা কেউ কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করেননি?’

স্থানীয়রা জানান, রানী-ফাতেমার বাবা মারা গেছেন অনেক আগেই। তাদের আরও এক বোন বিয়ে করে দেশের বাইরে থাকেন। এই বাড়ির সদস্যদের মধ্যে প্রায়ই কলহ চলতো।

ময়নাতদন্ত শেষে দুই বোনের মরদেহ মঙ্গলবার রাতেই দাফন করা হয়।

বিমানবন্দর থানার ওসি মাইনুল জাকির বলেন, ‘আমরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আজ (বুধবার) মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।’

মরদেহের গলা ছাড়া আর কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি জানিয়ে ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যাই মনে হচ্ছে। তবে সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মিতু হত্যায় স্বীকারোক্তি দিতে পারেন বাবুল
বাসায় তালা, বাবুল-মিতুর দুই সন্তান কোথায়
‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন