‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’

মাগুরা জেলার শহরের কাউন্সিল পাড়ায় বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’

বাবুল আকতারের ভাই আইনজীবী হাবিবুর রহমান লাবু বলেন, ‘ভাইয়ের পরকীয়ার বিষয়টি সত্য নয়। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন সেটাও আমাদের জানা নেই। সত্য হলে আমরা জানতে পারতাম।’

‘বড় ভাই নির্দোষ। তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বেশকিছু বড় অপরাধী ধরতে পেরেছিলেন। তার সাফল্য তখন সারা দেশ জেনেছিল। যে কারণে আমরা মনে করি তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হতে পারেন।’

নিউজবাংলাকে ফোনে এসব কথা বলেছেন সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান লাবু।

তিনি বলেন, ‘ভাইয়ের পরকীয়ার বিষয়টি সত্য নয়। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন সেটাও আমাদের জানা নেই। সত্য হলে আমরা জানতে পারতাম।’

তবে গত বুধবার মিতুর মা শাহিদা মোশাররফ নিউজবাংলাকে জানান, মিতু হত্যার পর আরও তিনটি বিয়ে করেন বাবুল আকতার। এর মধ্যে দুজনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, বর্তমানে একজনের সঙ্গে সংসার করছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মিতু মারা যাওয়ার আগে বাবুর (বাবুল আকতার) সঙ্গে ভারতের এক নারীর সম্পর্ক ছিল। মিতু কৌশলে সেটা জেনে যায়। শুধু ওই নারী নয়, আরও কয়েকজনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। যাদের মধ্যে দুইজনকে নিয়ে মিতুর মৃত্যুর পর তিনি সংসার করেছেন। আরেকটি বিয়ে করেছেন পারিবারিকভাবে।’

তবে বাবুলের ভাই হাবিবুর রহমান লাবু বলেন, ‘এক বছর আগে তিনি (বাবুল আকতার) বিয়ে করেন কুমিল্লায়। শুধু ছোট দুইটা বাচ্চা মানুষ করার জন্য তার বিয়ে করা। সন্তানেরা তার সেই মায়ের কাছে আছে বলে আমরা জানি। তবে কোথায় আছেন আমরা জানি না।’

স্ত্রী মিতু হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আকতারের বাড়ি মাগুরা জেলা শহরের কাউন্সিল পাড়ায়। আল আমীন নামে বেসরকারি স্কুলের সামনেই চারতলা সাদা বাড়িটি বাবুলদের।

ভবনের দ্বিতীয় তলায় পূর্ব দিকে থাকেন সাবেক এই এসপির বাবা ও ছোট ভাই। বাবুল আকতার গ্রেপ্তার হওয়ার পর একাধিকবার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ভাড়াটিয়ারা বলছেন, তারা ঈদে বাইরে ঘুরতে গেছেন।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ১১ মে বাবুল আকতার গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই বাড়িতে পরিবারের কাউকে তারা দেখেননি।

বাবুল আকতার শেষ কবে মাগুরা এসেছিলেন তাও বলতে পারেননি প্রতিবেশীরা। তবে তিনি পুলিশের চাকরি হারানোর পর বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করতেন। তখন ছুটি পেলেই তিনি বাড়িতে আসতেন।

এক প্রতিবেশী জানান, বাবুল আকতারের বাবা এখানে থাকেন না। শুনেছেন, তিনি তাদের আদি বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাটফাজিলপুরে থাকেন। তার আইনজীবী ভাই নিজের পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করেন। অপর এক ভাই এবং বোন ‍দুই জনই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই
ঈদের দিনও চলবে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আমি রিফ্রেশড: পরীমনি

আমি রিফ্রেশড: পরীমনি

ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

পরীমনি বলেন, ‘এত দ্রুত কাজগুলো হয়ে যাবে আমি ভাবিনি। সবকিছু ম্যাজিকের মতো হয়েছে…আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আশা করছি, সুষ্ঠু বিচার পাব।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয় থেকে বের হয়ে পরীমনি বলেছেন, তিনি এখন ‘রিফ্রেশড’। নিজের মানসিক স্বস্তি ফিরে পাওয়ার প্রসঙ্গটি জানাতে গিয়ে এ কথা বলেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।

ধর্ষণ এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা ও প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে পরীমনিকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়।

সোয়া ৬টার দিকে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে (ডিবি অফিসে) এসে আমি আসলে এখন মেন্টালি অনেক রিফ্রেশড। আমি যে কাজে ফিরব, এটা কেউ আমাকে কিন্তু বলেনি। আমার আশপাশে যারা ছিল তারা সবাই আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমার যে কাজে ফিরতে হবে, আমার এই শক্তিটা তারা (ডিবি কর্মকর্তারা) জুগিয়েছেন এতক্ষণ ধরে।’

পরীমনি বলেন, ‘আমার কাজ নিয়ে কথা বলেছে, আমাকে নানা রকম গুড ভাইভ দেয়া হচ্ছে- আমার নরমাল লাইফে কীভাবে ফিরে যাব। আমি এতটা তাদের কাছে আশা করিনি। তারা এতটা বন্ধুসুলভ, একটা ম্যাজিকের মতো হয়ে গেছে।’

পরীমনি গত রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন। এ ঘটনায় জীবনাশঙ্কায় আছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চান।

পরীর এমন স্ট্যাটাসের পর তার বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই নায়িকার করা ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিসহ আরও তিন নারীকে।

পরীর মামলায় গ্রেপ্তারের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলায় নাসির উদ্দিন ও অমিকে সাত দিনের রিমান্ড ও তিন নারীকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম নিভানা খায়ের জেসী।

আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পরীমনি। বলেন, ‘তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন শুধু আমার… আমার বিশ্বাস যে আমি আসলে সঠিক বিচারটা পাব।’

আরও পড়ুন:
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই
ঈদের দিনও চলবে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ

শেয়ার করুন

কোচ নারীকে দলবদ্ধ ‘ধর্ষণ’: গ্রেপ্তার ২, জড়িতদের শাস্তি দাবি 

কোচ নারীকে দলবদ্ধ ‘ধর্ষণ’: গ্রেপ্তার ২, জড়িতদের শাস্তি দাবি 

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মির্জাপুর ও নাগরপুর থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরেক আসামি এখনও পলাতক থাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নির্যাতনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন।

টাঙ্গাইলের সখীপুরে আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মঙ্গলবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার (এসপি) সঞ্জিত কুমার রায়।

তিনি জানান, ঘটনাটি লোমহর্ষক এবং চাঞ্চল্যকর হওয়ায় মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মির্জাপুর ও নাগরপুর থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরেক আসামি এখনও পলাতক থাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের পরই আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে জানান এসপি সঞ্জিত।

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে জবানবন্দি দিলে রিমান্ডের আবেদন করা হবে না। অন্যথায় বুধবার আদালতে তুলে তাদের রিমান্ড চাওয়া হবে।’

সখিপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ এনে গেল রোববার তিনজনকে আসামি করে মামলার করেন কোচ সম্প্রদায়ের ওই নারী।

এজাহারে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একই এলাকার তিন যুবক ওই নারীকে ঘরে থেকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন। এসময় ওই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

ওই নারীকে উদ্ধার করে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জেনারেল হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক রেহানা পারভীন বলেন, ‘তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। ভেঙে ফেলা হয়েছে চারটি দাঁতও। প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।’

বিচার দাবি

কোচ সম্প্রদায়ের নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন।

টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সকাল সাড়ে ১১টায় এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক রতন কুমার রায় বলেন, ‘কোচ সম্প্রদায়ের ওই নারীর ওপর বর্বরতা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে, আগামীতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই
ঈদের দিনও চলবে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ

শেয়ার করুন

ডিবিতে পরীমনি

ডিবিতে পরীমনি

ডিবি কার্যালয়ের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ক্যামেরাবন্দি হন পরীমনি। ছবি: নিউজবাংলা

বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পরীমনিকে বাসা থেকে বের হতে দেখেন গণমাধ্যমকর্মীরা। ৪টার পর ডিবি কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায় তাকে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে গেছেন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ করে দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা চিত্রনায়িকা পরীমনি।

বেলা ৪টার পর ডিবি কার্যালয়ে ঢুকতে দেখা যায় তাকে।

এর আগে পরীমনি সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে ডিবি থেকে কল করা হয়। বেলা ২টায় তাকে ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হয়।

তবে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পরীমনিকে রাজধানীর বনানীর বাসা থেকে বের হতে দেখেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

পরীমনিকে ডাকার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘পরীমনি ৪টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে আসবেন। মামলার তদন্তের জন্য পরীমনির বক্তব্য দরকার। সে জন্যই পরীমনিকে ডাকা হয়েছে।’

ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ রোববার সামনে আনেন পরীমনি। সোমবার এসব অভিযোগে সাভার থানায় মামলা করেন তিনি।

এ ঘটনায় নাসির ইউ আহমেদ ও অমিসহ পাঁচজনকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টর থেকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয় মামলায়।

এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সাভার থানা পুলিশ।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহেল কাফি নিউজবাংলাকে জানান, সাভার থানার মামলায় নাসির ও অমিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের দুজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হয়েছে আদালতের কাছে।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই
ঈদের দিনও চলবে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ

শেয়ার করুন

নাসির ভালো লোক: চুন্নু

নাসির ভালো লোক: চুন্নু

প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসির ইউ আহমেদ

নাসির ইউ মাহমুদের বিষয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘গতকাল সংসদে একজন মাননীয় সদস্য নায়িকা পরীমনির জন্য বিচার চেয়েছেন। একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। আমি তাকে (নাসিরকে) চিনি। উত্তরা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সেই লোকটি জাতীয় পার্টি করেন। তিনি ভালো লোক।’

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ এবং হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার আবাসন ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদ ‘ভালো লোক’ বলে জাতীয় সংসদে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি তার দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিরের পক্ষে সাফাই গান।

পরীমনির মামলায় সোমবার নাসিরসহ পাঁচজনকে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টর থেকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

নাসির ইউ মাহমুদ বা নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য। কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান। উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ছিলেন লায়নস ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের ডিসট্রিক্ট চেয়ারম্যান।

চুন্নু বলেন, ‘গতকাল সংসদে একজন মাননীয় সদস্য নায়িকা পরীমনির জন্য বিচার চেয়েছেন। একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। আমি তাকে (নাসিরকে) চিনি। উত্তরা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সেই লোকটি জাতীয় পার্টি করেন। তিনি ভালো লোক।’

এ সময় মিডিয়ার প্রতি অনুযোগের সুরে চুন্নু বলেন, ‘মিডিয়ার কারণে তাকে… মিডিয়াকে অনুরোধ করব… মিডিয়ার কারণে অনেক সময় ভালো লোক।’

এই পর্যায়ে চুন্নুর জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় তার মাইক বন্ধ হয়ে যায়।

আগের দিন সংসদে বিএনপির হারুনুর রশীদ পরীমনির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেয়ার দাবি তোলেন।

হারুন বলেন, ‘কী উদ্বেগজনক ঘটনা! আজ সকালে আসার পথে পত্রিকায় দেখলাম পরীমনি, কী ভয়ানক ঘটনা! সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। সে এখন মৃত্যুর পথযাত্রী। তাকে ধর্ষণ, নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনি গত রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টা পর বিষয়টির বিস্তারিত নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন।

পরী জানান, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরা বোট ক্লাবে। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন।

সাংবাদিকদের পরী জানান, ঘটনার পর থেকে দ্বারে দ্বারে ‍ঘুরেও কোথাও কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমনকি নিজের জীবন নিয়েও আশঙ্কার কথা জানান এই অভিনেত্রী। পরীর সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় পুলিশ।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই
ঈদের দিনও চলবে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ

শেয়ার করুন

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

সাভারে গার্ড অফ অনারে সাবেক ইউএনও শামীম আরা নিপা। ফাইল ছবি

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর ‘গার্ড অব অনার’ দেয়ার সময় নারী কর্মকর্তাদের বিকল্প খোঁজার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত নারী ইউএনওদের সঙ্গে। তারা বলছেন, এই সুপারিশের মাধ্যমে নারীকে হেয় করার পাশাপাশি তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে বিতর্কিত করা হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আপত্তিতে ক্ষুব্ধ নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে ধর্মের বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৯তম বৈঠক হয় রোববার। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার সময় নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আপত্তি জানিয়ে বিকল্প খোঁজার সুপারিশ করে কমিটি।

সংসদীয় এই কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন শাজাহান খান। সদস্য হিসেবে বৈঠকে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), কাজী ফিরোজ রশীদ, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ও মোছলেম উদ্দিন।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় প্রশাসন। গার্ড অফ অনার দিতে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে সরকারের প্রতিনিধি হয়ে মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধাও জানান ওই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর শাহজাহান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই প্রশ্ন আসছে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে। কোনো কোনো জায়গা থেকে বলা হয়েছে, জানাজায় নারীরা অংশ নিতে পারেন না।’

‘গার্ড অফ অনার সাধারণত জানাজার সময় দেয়া হয়’ জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এ জন্য এই ইয়েটা (সুপারিশ) আসছে। যদি গার্ড অফ অনার জানাজার আগে দেয় বা পরে দেয়, তখন জানাজা থাকে না। সেইটা একটা জিনিস। আমরা দেখেছি, সব জায়গায় জানাজার সময় গার্ড অফ অনার দেয়। ওই জায়গায় ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনা করে এটা সুপারিশ করা হয়েছে।’

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

তিনি বলেন, ‘মহিলার বিকল্প একজন পুরুষকে দিয়ে গার্ড অফ অনার দেয়ার বিষয়টি এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এটা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছি।’

বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত নারী ইউএনওদের সঙ্গে। তারা বলছেন, এই সুপারিশের মাধ্যমে নারীকে হেয় করার পাশাপাশি তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে বিতর্কিত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ইউএনও নাজমুন নাহার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথমত আমি এই সুপারিশের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গার্ড অফ অনার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এটার সঙ্গে ধর্মকে টেনে আনা অযৌক্তিক।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বলেছে। এই সুপারিশ সংবিধানবিরোধী। এখানে নারীকে ছোট করা হয়েছে। তার ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। প্রশ্নবিদ্ধ সুপারিশ এটি।

‘এ ধরনের সুপারিশ স্বাধীন বাংলাদেশে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, সংবিধান পরিপন্থি, নারীর মানবাধিকার পরিপন্থি ও নারীর ক্ষমতায়ন পরিপন্থি। এ ধরনের সুপারিশ একজন নারীর জন্য যেমন অবমাননাকর, ঠিক একইভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্যেও অপমানজনক।’

ইউএনও নাজমুন নাহার দীর্ঘদিন মাঠ প্রশাসনে কাজ করছেন। প্রয়াত অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধার গার্ড অফ অনারে তিনি উপস্থিত থেকেছেন।

তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে গার্ড অফ অনার দিতে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হইনি। মাঠের মানুষগুলো সহজ সরল। এদের (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি) চেয়ে মাঠপর্যায়ের মানুষগুলো ভালো বোঝে।’

ইউএনও নাজমুন নাহারের আশঙ্কা, এ ধরনের সুপারিশের পেছনে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর উসকানি থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি শ্রেণি আছে, যারা নারীর ক্ষমতায়ন পছন্দ করে না। তারা নারীকে ঘরবন্দি করে রাখতে চায়। ওই শ্রেণির লোকজনের রোষানল থেকে বাঁচতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এই সুপারিশ করতে পারে।’

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ইউএনও চৈতী সর্ববিদ্যা পাল্টা প্রশ্ন তুলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তা তো কর্মকর্তাই। এতে নারী-পুরুষের প্রশ্ন কেন আসবে?’

একই জেলার কবিরহাটের ইউএনও হিসেবে আছেন হাসিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘ইউএনও একটি প্রশাসনিক পদ, ধর্মীয় নয়।’


গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা
জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় গার্ড অফ অনারে ইউএনও মুনমুন জাহান লিজা

হাসিনা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে জেন্ডার কোনো জটিল বিষয় নয়। এটাকে কেউ খাটো করলে তা নিতান্তই অগ্রহণযোগ্য। এটি (সংসদীয় কমিটির সুপারিশ) একান্তই কোনো মহলের ব্যক্তিগত মত। আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তাই নারী, সে ক্ষেত্রে বিষয়টাকে একপেশে করে দেখা উচিত নয়।’

আরও পড়ুন: ‘নারী কর্মকর্তা বাদের সুপারিশকারীদের ক্ষমা চাইতে হবে’

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ইউএনও হেলেনা পারভিনের প্রশ্ন, একজন নারী কর্মকর্তা যদি সব কাজ করতে পারেন, তাহলে গার্ড অফ অনার দিতে বাধা কোথায়?

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইসলামের দৃষ্টিকোণের কথা যদি ওঠে, তাহলে অন্য ধর্মের পুরুষ অফিসাররাও তো গার্ড অফ অর্নার দিতে পারবেন না। কাজেই এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’

একই জেলোর শ্রীবরদী উপজেলার ইউএনও নিলুফা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীরা মুক্তিযুদ্ধে অনেক বড় অবদান রেখেছেন। তারা এখন গার্ড অফ অনার দিলে সমস্যা কোথায়? আমরা মাঠপর্যায়ে সব কাজই তো করছি। তাহলে গার্ড অফ অনার দিতে পারব না কেন? রাষ্ট্র আমাদের যে দায়িত্ব দেবে, সেটা আমরা অন্য সব পুরুষ অফিসারের মতোই পালন করতে পারব।’

সংসদীয় কমিটির সুপারিশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নাটোরের লালপুরের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও শাম্মী আক্তার।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারিভাবে সব সময় নারী অধিকারের কথা বলা হচ্ছে। গার্ড অফ অনারে নারীর অংশগ্রহণে আপত্তি তোলা সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যেখানে সব সময় নারী অধিকারের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় অংশগ্রহণ করতে না দেয়ার সুপারিশ বেমামান।’

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

নাটোরের বাগাতিপাড়ার ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে গার্ড অফ অনার দেয়া হয়। এটা তো জানাজার অংশ নয়। গার্ড অফ অনারের অর্থ হলো সামরিক উপায়ে সম্মান জানানো। এটা ধর্মীয় কোনো বিষয় না। তাই নারী কর্মকর্তার অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি তোলার কোনো কারণ দেখি না।’

জানাজা ও গার্ড অফ অনার এক নয় বলে মন্তব্য করেছেন মানিকগঞ্জ সদরের ইউএনও জেসমিন সুলতানাও।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে গার্ড অফ অনার দিই। সেখানে কে নারী আর কে পুরুষ সেটা বিবেচ্য বিষয় না, বিষয়টি হলো মুক্তিযোদ্ধা। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী কিন্তু কোনো নারী-পুরুষ পার্থক্য করা যাবে না, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী দেখা যাবে না ,এটাও বলা আছে। সুতরাং আমি মনে করি, এটা সংবিধানবিরোধী কার্যকলাপ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মহান জাতীয় সংসদ এটা প্রণয়ন করছে। নতুন করে এ ধরনের কিছু জাতীয় সংসদে পাস হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। বর্তমান সরকার আমাদের নারী-পুরুষে ভেদাভেদ করবে না। কারণ আমরা আমাদের অবস্থান থেকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করছি কি না, সেটা আলোচ্য বিষয়। আমাদের দেশে পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধাও রয়েছে।’

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন চট্টগ্রাম থেকে সিফায়াত উল্লাহ, মানিকগঞ্জ থেকে আজিজুল হাকিম, সাভার থেকে ইমতিয়াজ উল ইসলাম, নাটোর থেকে নাজমুল হাসান, নোয়াখালী থেকে মোহাম্মদ সোহেল, শেরপুর থেকে শাহরিয়ার শাকির ও জামালপুর থেকে সাইমুম সাব্বির শোভন।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই
ঈদের দিনও চলবে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ

শেয়ার করুন

নাসির-অমিকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

নাসির-অমিকে রিমান্ডে চায় পুলিশ

পরীমনির মামলায় গ্রেপ্তার নাসির উদ্দিন আহমেদ ও তুহিন সিদ্দিক অমি। ছবি: নিউজবাংলা

সাভার থানার মামলায় নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের দুজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হয়েছে আদালতের কাছে।

নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সাভার থানা পুলিশ।

সাভার থানা পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্তের স্বার্থে ও অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত করার জন্য গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহেল কাফি নিউজবাংলাকে জানান, সাভার থানার মামলায় নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের দুজনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হয়েছে আদালতের কাছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ পৃথক মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করেছে। সে আবেদনের শুনানির পর সাভার থানার মামলার শুনানি হবে।

সাভার থানা পুলিশ জানায়, পরীমনির মামলা তদন্তে ঘটনাস্থল বোট ক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে।

বোট ক্লাবে সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ!

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বোট ক্লাবে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিনই পুলিশ আসছে। তদন্ত করছে। ক্লাবের কর্মকর্তারাও আসছেন, যাচ্ছেন। সভা করছেন।

ভেতরে ঢুকতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের কারও প্রবেশের অনুমতি নেই। স্যারেরা কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে কোনো সাংবাদিক ঢুকতে না পারেন। তাদের সাথে কোনো কথা বলাও বারণ।’

আরও পড়ুন:
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই
ঈদের দিনও চলবে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ

শেয়ার করুন

পরীমনির অভিযোগের ২ দিন পর নিন্দা শিল্পী সমিতির

পরীমনির অভিযোগের ২ দিন পর নিন্দা শিল্পী সমিতির

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে।’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের ঘটনায় অবশেষে মুখ খুলেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।

সোমবার মধ্যরাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পরীমনির সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সমিতি।

গত রোববার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরীমনি তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সাহায্য চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে একটি আবেদনপত্র লেখেন।

পরীমনি রোববার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনার কয়েক ঘণ্টা পর বিষয়টির বিস্তারিত নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসেন।

সাংবাদিকদের পরী জানান, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরা বোট ক্লাবে। নাসির উদ্দিন নামে একজন তাকে নেশাদ্রব্য খাইয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকে দ্বারে দ্বারে ‍ঘুরেও কোথাও সহযোগিতা পাননি। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিজের জীবন নিয়েও আশঙ্কার কথা জানান এই অভিনেত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে পরীমনি অভিযোগ করেন সমিতির সহায়তা চেয়েও পাননি তিনি।

পরীর সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয় পুলিশ।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছে।’

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই মামলা রুজু হয়ে গেছে এবং কিছু আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। উক্ত মামলায় দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি পরীমনির সার্বিক সহযোগিতা করতে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ।’

শিল্পী সমিতির বিবৃতির আগে পরীমনির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিত্রনায়ক জায়েদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, শিল্পী সমিতি পরীমনির পাশে ছিল। নায়িকা আবেগতাড়িত হয়ে পাশে না থাকার অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন:
রিমান্ড শেষে আদালতে উঠছেন বাবুল
মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার
নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা
মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই
ঈদের দিনও চলবে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ

শেয়ার করুন