ধান কাটতে গিয়ে ফিরল নিথর দেহে

স্বজন হারানো মানুষের কান্নায় ভারি নন্দলালপুর। ছবি: নিউজবাংলা

ধান কাটতে গিয়ে ফিরল নিথর দেহে

ঈদের পরের দিন অন্যদের সঙ্গে ধান কাটতে নওগাঁয় যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ লিটন, আব্দুল মালেক ও রেজাউল করিম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। ট্রাকের ধাক্কায় ভটভটিতে থাকা তিনজন লাশ হয়ে ফিরেছেন নিজ বাড়িতে।

‘যাওয়ার আগে বারে বারে ঘুরা ঘুরা আসছে। মুক্তারে মুক্তারে বল্যা ডাকছে। হ্যামি বের হয়্যা খইছি, কী হলো কহ। তহন বলছে হ্যামার ধান কাটতে য্যাতে মুন টানে না, জিটা কেমন করছে।

এভাবে চারবার ঘুইরা আসার পর, শেষবার গ্যালো। তার ঘণ্টাখানের পরেই হামার এক দেয়র (স্বামীর ভাই) বলছে, ভাবি জি ভাই রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে।’

বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন ট্রাকের ধাক্কায় নিহত নন্দলালপুর গ্রামের মোহাম্মদ লিটনের স্ত্রী মুক্তা।

তার কান্নায় চোখ ভিজে ওঠে স্বজন আর প্রতিবেশীদের। শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে একই গ্রামের আরও দুইজনের।

এই গ্রামের লোকজন সাধারণত অন্য কাজ করলেও ধানকাটা মৌসুমে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান নওগাঁয়। মজুরি হিসেবে তারা যে ধান পান, তা দিয়েই হয়ে যায় পরিবারের সদস্যদের সারা বছরের ভাতের জোগান।

ঈদের পরের দিন এই গ্রামের অন্যদের সঙ্গে ধান কাটতে নওগাঁয় যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ লিটন, আব্দুল মালেক ও রেজাউল করিম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। ট্রাকের ধাক্কায় ভটভটিতে থাকা তিনজন লাশ হয়ে ফিরেছেন নিজ বাড়িতে।

শনিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে আসে তাদের নিথর দেহ। একই গ্রামের তিনজনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নন্দলালপুর গ্রামে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি চারপাশ।

লিটনের বাড়িতে শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী মুক্তা স্বামীর মৃত্যুশোকে বিলাপ করছেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছেন, ‘হ্যার কপালে আল্লাহ তুমি একি লেখ্যাছিলা। হ্যামি এখন কেমন করে থাকব।’

বছর খানেক আগে বধূ হয়ে এই গ্রামে আসেন মুক্তা। বিয়ের পর লিটন নতুন ঘর দিয়েছেন। ছয় মাস আগে তারা উঠেছেন একচালা ঘরটিতে।

লিটনের স্ত্রী মুক্তা বলেন, ঈদের আগে ধান কেটে সাত মণ ধান নিয়ে এসেছিল ঈদ করতে। ঈদের পর ফের ধান কাটতে যাচ্ছিল। যাওয়ার আগে বলছিল তার যেতে ইচ্ছা করছে না। এ কথা বলে চারবার ঘুরে ঘুরে এসেছিল।

লিটন পেশার রাজমিস্ত্রি শ্রমিক ছিলেন। কাজ করতেন চট্টগ্রামে। ধান কাটতে মাসখানেক আগে বাড়িতে এসেছিলেন।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এই গ্রামের আরেকজন আব্দুল মালেক। তিনি রং মিস্ত্রীর কাজ করেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে নামজুল দশম শ্রেণিতে ও ছোট ছেলে এনামুল সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

মালেকের স্ত্রী নাজমা বেগম বারবার বলছিলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমার স্বামীকে যেন আর কষ্ট না দেয়। কাটাছেঁড়া আর না করে।’

মারা যাওয়া অন্যজন রেজাউল করিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মরদেহের অপেক্ষায় বসে আছেন স্বজনরা। রেজাউল করিমের বড় মেয়ে পপির কান্নায় তখন অন্যদের চোখেও জল।

‘আব্বা তুমি আর মোবাইল করা কহবা না যে, কদিনের ল্যাহা বাড়িয়্যা যা, এমন কইর‍্যা কে হামাকে আর ডাকবে আব্বা।’

নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা দুরুল জানান, মজুরি হিসেবে গ্রামের সবাই সারা বছরের খাওয়ার সমান ধান পায়। ধান-চালের দাম বেশি। সারা বছর যদি ধানের চিন্তাটা না থাকে তাহলে অন্য খরচ তখন কোনো রকমে চলবে। এটা ভেবে তাদের বেশিরভাগ মানুষই ধান কাটতে যান।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নর্দমায় নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার আবুলের মরদেহ

নর্দমায় নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার আবুলের মরদেহ

ফায়ার সার্ভিস নর্দমা থেকে উদ্ধার করে আবুল হোসেনের মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

খিলগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবদুল মান্নান বলেন, ‘সকাল ৯টা ২ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে তার (আবুল) মৃতদেহ ভেসে ওঠে। ময়লা-আবর্জনার ভেতরে কিছু একটা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। তখন আমরা তার মরদেহ উদ্ধার করি।’

রাজধানীর বাসাবো ঝিলপাড় কালভার্টের নিচে নর্দমায় নিখোঁজ হওয়ার ২৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে আবুল হোসেনের নামের এক ব্যক্তির মরদেহ।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বুধবার সকাল ৯টা ২ মিনিটে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে প্লাস্টিকের বোতল কুড়াতে গিয়ে নর্দমায় পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ৪০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি।

আবুলকে উদ্ধারে মঙ্গলবার দিনব্যাপী অভিযান চালায় ফায়ার সার্ভিস। কিন্তু সন্ধান মেলেনি তার। বুধবার দ্বিতীয় দিনের উদ্ধার কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই তার মরদেহ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে খিলগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবদুল মান্নান বলেন, ‘সকাল ৯টা ২ মিনিটে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে তার (আবুল) মৃতদেহ ভেসে ওঠে। ময়লা-আবর্জনার ভেতরে কিছু একটা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। তখন আমরা তার মরদেহ উদ্ধার করি।’

নর্দমায় নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার আবুলের মরদেহ
দ্বিতীয় দিনের অভিযান শুরুর পরপরই উদ্ধার হয় আবুলের মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

কে এই আবুল হোসেন

আবুল হোসেন খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান জীবনযাপন করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর।

নর্দমায় নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার আবুলের মরদেহ

নিখোঁজ ব্যক্তির বন্ধু জাহাঙ্গীর হোসেন মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে আবুলের ময়লা কুড়ানোর বস্তা দেখে সেটা চিনতে পারেন।

তিনি জানান, আবুল সকালে ওই বস্তা নিয়ে ময়লা কুড়াতে বেরিয়েছিলেন। তার স্ত্রী সন্তান থাকলেও তারা আবুলের সঙ্গে থাকতেন না।

নিখোঁজের বিষয়টি জানাজানি যেভাবে

মো. রফিক নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, তিনি সিটি করপোরেশনের হয়ে বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কাজ করেন। সকালে তিনি (রফিক) ময়লার ভ্যান নিয়ে কালভার্ট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন দেখেন আবুল নর্দমা থেকে প্লাস্টিকের বোতল কুড়াচ্ছেন। হঠাৎ তিনি পা পিছলে নর্দমায় পড়ে যান।

রফিক আরও জানান, তিনি ছুটে গিয়েছিলেন আবুলকে উদ্ধার করতে। কাছাকাছি গিয়ে দেখেন তার হাত পানিতে ভাসছে। এরপরই তলিয়ে যান আবুল।

ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা

ফায়ার সার্ভিস জানায়, তারা নিখোঁজের খবরটি পায় ১০টা ১৩ মিনিটে। এর ভিত্তিতে নিখোঁজ আবুলকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের দুই ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর থেকে ডুবুরি দলও অভিযানে অংশ নেয়।

নর্দমায় ডুবুরিরা ধারাবাহিকভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন খিলগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবদুল মান্নান।

ওই দিন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে নর্দমায় নেমেছিলেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি মাসুদুল হক।

নর্দমায় নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার আবুলের মরদেহ
আবুলকে উদ্ধারে মঙ্গলবারই অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘নর্দমাটি ১০ থেকে ১২ ফুট গভীর। তবে নিচে ময়লার স্তূপ জমে এখন গভীরতা ছয় থেকে সাত ফুট। নিচে ময়লার কয়েকটি লেয়ার থাকলেও ময়লার মধ্যে মানুষ আটকে থাকার সম্ভাবনা কম।

‘কারণ পানির অনেক স্রোত। আমার ধারণা, ওই ব্যক্তি স্রোতে ভেসে গেছে।’

সবশেষ বুধবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের কথা জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আবদুল মান্নান।

শেয়ার করুন

হাত, পায়ের পর মিলল দেহ, মাথার খোঁজে পুলিশ

হাত, পায়ের পর মিলল দেহ, মাথার খোঁজে পুলিশ

গত ৪৮ ঘণ্টায় দুই পা, একটি হাত ও খন্ডিত দেহ উদ্ধার হয়েছে। মাথা ও আরেক হাতের খোঁজে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

সোমবার সকালে দক্ষিণ পাচাউন গ্রামের ফসলের মাঠে একটি খণ্ডিত পা পাওয়া যায়। মরদেহের বাকি অংশ খুঁজতে গিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একই গ্রামের দুর্গেশ দত্তের বাঁশঝাড়ে একটি কাটা হাত ও গৌর দত্তের বাঁশঝাড়ে আরেকটি হাত পাওয়া যায়।

আগের দিন পাওয়া গিয়েছিল নারীর কেটে নেয়া দুটি হাত ও একটি পা। আর এবার মিলল মাথা ছাড়া দেহের বাকি অংশ। এখনও আরেকটি পায়ের খোঁজে পুলিশ।

মঙ্গলবার সকালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের মীর্জাপুর এলাকার উত্তর বৌলাছড়ার দিলু মিয়ার বাগানে একটি বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয় সেই নারীর দেহের খণ্ড।

আগের দিন সকালে দক্ষিণ পাচাউন গ্রামে ফসলের মাঠে একটি খণ্ডিত পা পাওয়া যায়। আধা কিলোমিটার দূরে একই গ্রামের দুর্গেশ দত্তের বাঁশঝাড়ে একটি কাটা হাত ও গৌর দত্তের বাঁশঝাড়ে আরেকটি হাত পাওয়া যায়।

খুনের পর এমন নৃশংসতায় হতবাক পুলিশ। বাহিনীটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ছুটে এসেছেন ঘটনাস্থলে।

দেহের খণ্ড উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি শহীদুল হক, শ্রীমঙ্গল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালিক ও পিবিআই এর একটি দল।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালেক নিউজবাংলাকে জানান, ‘ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। এখনও মাথা ও একটি পা পাওয়া যায়নি। বাকিগুলো উদ্ধারের পর মেয়েটির পরিচয় শনাক্ত করা হবে।’

ওই নারীর পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তিনি কোথায় থাকতেন, ওই এলাকায় কীভাবে এলেন, সেটি তার মুখমণ্ডলের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত জানা কঠিন। তবে অবস্থায় আঙ্গুলের ছাপের ওপর ভরসা রাখছে পুলিশ। তার জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলে সেখানে আঙ্গুলের ছাপ থাকার কথা।

শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব: হেফাজতের আরেক নেতা গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব: হেফাজতের আরেক নেতা গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহরের হেফাজতে ইসলামের সাবেক সভাপতি মনির হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি এমরানুল ইসলাম বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় মনির প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এ সময় তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে আশেপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষককে নিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক সহিংসতা চালান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহরে হেফাজতে ইসলামের সাবেক সভাপতি মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সদরের তালশহর ইউনিয়নে সোমবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় মনির প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এ সময় তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে আশেপাশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষককে নিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক সহিংসতা চালান।’

হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় জেলা সদরে ৪৯টি, আশুগঞ্জে ৪, সরাইলে ২ ও আখাউড়া রেলওয়ে থানায় ১টি মামলা হয়।

এসব মামলায় ৪১৪ জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার লোককে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত আবদুল কাইয়ূম ফারুকীকে নিয়ে ৫৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালায়।

এ সময় হামলাকারীরা সরকারি, বেসরকারি অর্ধশতাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।

শেয়ার করুন

স্বরাষ্ট্রেই যাচ্ছে এনআইডির কর্তৃত্ব

স্বরাষ্ট্রেই যাচ্ছে এনআইডির কর্তৃত্ব

ইসির হাতে এনআইডি সেবা রাখার যুক্তি তুলে ধরে দেয়া চিঠি নাকচ করে দিয়ে গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয়া হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি কার্যক্রম সুরক্ষা বিভাগে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কাছেই যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওজর-আপত্তি বা আট দফা যুক্তিকে আমলে না নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সে লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের রুলস অব বিজনেসের প্রয়োজনীয় সংশোধনী কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

ইসির হাতে এনআইডি সেবা রাখার যুক্তি তুলে ধরে দেয়া চিঠি নাকচ করে দিয়ে গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেয়া হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি কার্যক্রম সুরক্ষা বিভাগে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইসি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম (সেবা ও বিধি অধিশাখা) স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, সরকার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম আইনানুগভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এতে নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করার কথা বলা হয়েছে।

পত্রের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবকেও পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের হাতে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ওই সূত্রটি বলে, ‘এনআইডি সেবা নিজেদের হাতে রাখার বিষয়ে কিছু যুক্তি দিয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দিয়েছিল। আমরা তাদের সেই চিঠির জবাব দিয়েছি।

‘যেহেতু তারা একটি চিঠি দিয়েছে, সে জন্য তার জবাব দেয়ার প্রয়োজন ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি সেবা বিভাগের বিষয়টি বাস্তবায়িত হবে।’

এনআইডি সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তর করতে হলে মন্ত্রণালয়ের রুলস অব বিজনেসের সংশোধনী প্রয়োজন পড়বে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায়ও রুলস অব বিজনেসের সংশোধনীর কথা বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী এরই মধ্যে রুলস অব বিজনেসের সংশোধনী আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

রুলস অব বিজনেস সংশোধনে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রুলস অব বিজনেস সংশোধনে আনার জন্য আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকের দরকার হয়। গত সপ্তাহে আন্তমন্ত্রণালয়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘ফলে এখন প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করে শিগগিরই রুলস অব বিজনেস সংশোধনে এনে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।’

এর আগে গত ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এনআইডি কার্যক্রম ও লোকবল সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীন হস্তান্তরের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে। সেই পত্রের ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২৪ মে নির্বাচন কমিশনকে এনআইডি ছেড়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়।

সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জুন নির্বাচন কমিশন তার অধীনেই এনআইডি কার্যক্রম রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয়।

শেয়ার করুন

‘গৌরাঙ্গ খুনি নন, তিনি খুন হয়েছেন’

‘গৌরাঙ্গ খুনি নন, তিনি খুন হয়েছেন’

গৌরাঙ্গের বড় ভাই মোহরচাঁদ সরকার বলেন, ‘আমার ভাই নিরীহ মানুষ। ওই রাতে সেও খুন হয়েছে। তাদের দুজনকে হত্যা করেছে খুনিরা। অথচ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’

সিলেটের ওসমানী নগরে স্কুলশিক্ষক তপতী রানী দে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ বৈদ্যকে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা পরিবার। গৌরাঙ্গের ভাইয়ের দাবি, তপতী রানীর সঙ্গে একইদিনে গৌরাঙ্গও খুন হন।

ওসমানী নগরের দয়ামীর ইউনিয়নের সোয়ারগাঁও এলাকার গত শনিবার (১৯ জুন) মধ্যরাতে নিজ ঘরে পাওয়া যায় তপতীর গলাকাটা মরদেহ। পাশে ঝুলছিল গৌরাঙ্গ বৈদ্যের মরদেহও।

পুলিশের ধারণা, গৌরাঙ্গই গৃহকর্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা করেছেন। পরে নিজে ফাঁস লেগে আত্মহত্যা করেন।

গৌরাঙ্গের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলায়। তিনি কাজের জন্য তপতীর বাড়িতেই থাকতেন।

তপতী রানীর পরিবারের অভিযোগও গৌরাঙ্গের দিকে। মা হত্যার ঘটনায় রোববার রাতে ওসমানীনগর থানায় মামলা করেন তপতীর চিকিৎসক ছেলে তন্ময় দে বিপ্লব। মামলায় মৃত গৌরাঙ্গ বৈদ্যকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

গৌরাঙ্গের বড় ভাই মোহরচাঁদ সরকার বলেন, ‘আমার ভাই নিরীহ মানুষ। ওই রাতে সেও খুন হয়েছে। তাদের দুজনকে হত্যা করেছে খুনিরা। অথচ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’

তপতী ও গৌরাঙ্গ হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এমনটি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভাইয়ের ‘খুনিদের’ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

মোহরচাঁদ বলেন, ‘গৌরাঙ্গ হত্যার ঘটনায় আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করব।’

তবে পুলিশ বলছে, গৌরাঙ্গের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

অপমৃত্যু মামলার বাদী গৌরাঙ্গ বৈদ্যের আরেক ভাই গোবিন্দ বৈদ্য বলেন, ‘ময়নাতদন্তের কথা বলে পুলিশ আমার স্বাক্ষর নিয়েছিল। আমি কোনো অপমৃত্যু মামলা করিনি। পরিকল্পিতভাবে স্কুলমাস্টারকে খুনের পর আমার ভাইকে হত্যা করে খুনিরা লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে।’

গৌরাঙ্গের পরিবারের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে তন্ময় দে বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তাপতী রাণী দে উপজেলার সোয়ারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্বামী বিজয় দে ও দুই ছেলেমেয়ে চিকিৎসক।

পুলিশ জানিয়েছে, তপতীর মৃতদেহের পাশ থেকে একটি ছুরি ও একটি বটি পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে এ দুইটি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার পর কোনো এক সময়ে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে।

প্রতিবেশীরা জানান, শনিবার বিকেলে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে গিয়েছিলেন তপতীর স্বামী ও ছেলে। ঘরে তপতী ও গৌরাঙ্গ ছিলেন। এক প্রতিবেশি রাত ১১টার দিকে টয়লেটের জানালা দিয়ে গৌরাঙ্গর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। প্রায় সে সময় তপতীর স্বামী বিজয় বাড়ি ফেরেন। তিনি সে দৃশ্য দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মেঝে থেকে তপতীর গলাকাটা ও গৌরাঙ্গর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

গৌরাঙ্গ বৈদ্যের ভাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, সব কিছুই পুলিশের তদন্তে রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ সবদিক পর্যালোচনার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।

এ ঘটনার পরদিন রোববার দুপুরে সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি তপতীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে নিজে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ।

‘তপতী রানী যে বাড়িতে থাকতেন সেই বাড়ির নিরাপত্তা ব্যাবস্থা খুবই শক্ত। ভেতর থেকে ফটক তালা দেয়াই ছিল। ফলে বাইরে থেকে কেউ ভেতরে প্রবেশের কোনো আলামত পাইনি। ক্ষোভের বশে গৌরাঙ্গই তপতী রানীকে হত্যা করতে পারে। আপাতত এই ধারণা থেকেই তদন্ত এগোচ্ছি। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

২০১৬ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার চুরির এক নিখুঁত পরিকল্পনা সাজায়। ছবি: নিউজবাংলা

পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরির ঘটনা সারা বিশ্বে তোলপাড় তোলে। এটি আন্তর্জাতিক হ্যাকিংয়ের ইতিহাসে এক দুর্ধর্ষ ঘটনা। এই ঘটনায় শুধু বাংলাদেশই নয়, যুক্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন, চীন ও শ্রীলঙ্কা। উত্তর কোরিয়ার একদল হ্যাকার কীভাবে ১ বিলিয়ন ডলার সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, কীভাবে তাদের নিখুঁত পরিকল্পনা ঘটনাচক্রে কেঁচে যায়, সে কাহিনি উঠে এসেছে বিবিসি ওয়ার্ল্ডের ১০ পর্বের পডকাস্টে। সেটির সংক্ষিপ্ত রূপ তুলে ধরেছেন রুবাইদ ইফতেখার।

২০১৬ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার চুরির এক নিখুঁত পরিকল্পনা সাজায়। তারা প্রায় সফল হয়েই গিয়েছিল। নেহাত ভাগ্যের জোরে তাদের পরিকল্পনা হোঁচট খায়। বাংলাদেশ ৮১ মিলিয়ন ডলার খোয়ানোর পর এই চুরি ঠেকাতে সক্ষম হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র ও বিচ্ছিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়া কীভাবে এত চৌকস একটি সাইবার অপরাধী দল তৈরি করতে পারল?

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি নিয়ে বিবিসি ওয়ার্ল্ড ১০ পর্বের একটি পডকাস্ট তৈরি করেছে, যার শিরোনাম: ‘লাজারাস হেইস্ট: হাউ নর্থ কোরিয়া অলমোস্ট পুলড অফ আ বিলিয়ন ডলার’ (লাজারাস হেইস্ট: যেভাবে উত্তর কোরিয়া বিলিয়ন ডলার প্রায় সরিয়ে ফেলেছিল)।

এখানে সেই পডকাস্টের কিছুটা সংক্ষেপিত রূপ তুলে ধরা হলো:

এ গল্পের শুরু একটি অকেজো প্রিন্টার দিয়ে। প্রিন্টারটি নষ্ট হলে অন্য সকলের মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও ভেবেছিলেন, এটি মামুলি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি।

কিন্তু প্রিন্টার যেখানে রাখা, সেটা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দশম তলার একটি কক্ষ আর এই প্রিন্টারও কোনো যেনতেন প্রিন্টার না। এর একটিই কাজ: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোটি-কোটি টাকার আদান-প্রদানের রেকর্ড প্রিন্ট করা।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল পৌনে ৯টার দিকে ব্যাংকের কর্মকর্তারা টের পান, ওই প্রিন্টারটি কাজ করছে না। ডিউটি ম্যানেজার জুবায়ের বিন হুদা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, সাধারণ কোনো সমস্যা। যেমনটা সাধারণত ঘটে থাকে, তেমন কিছু হয়েছে। আগেও এ ধরনের সমস্যা দেখে দিয়েছে প্রিন্টারে।’

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক যে এক বিরাট সমস্যায় পড়তে যাচ্ছে, এটি ছিল তার প্রথম আলামত। হ্যাকাররা ততক্ষণে ব্যাংকের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়েছে এবং ওই সময়ে ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চকাঙ্ক্ষী সাইবার অ্যাটাক শুরু করে দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল এক বিলিয়ন ডলার চুরি করা।

চুরি করা টাকা সরিয়ে নিতে হ্যাকাররা নকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, দাতব্য সংস্থা, ক্যাসিনো এবং সহযোগীদের এক বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

এই হ্যাকাররা কারা এবং কোথা থেকে এসেছে?

সকল ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্ট কেবল একটি দিকই নির্দেশ করছিল: উত্তর কোরিয়া সরকার।

সাইবার-অপরাধের ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়াকে সন্দেহ করা হবে এটা অনেকের কাছে অবাক করার মতো লাগতে পারে। এটি বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলির মধ্যে একটি। দেশটি প্রযুক্তিগতভাবে দুর্বল, অর্থনৈতিক ও প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন।

তারপরও এফবিআইয়ের মতে, এশিয়াজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হ্যাকার ও মধ্যস্থতাকারীদের গোপন একটি দলের বহু বছরের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির ফসল ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে এই দুঃসাহসী হ্যাকিং অভিযান।

সাইবার নিরাপত্তা ইন্ডাস্ট্রিতে উত্তর কোরিয়ান হ্যাকারদের ডাকা হয় ল্যাজারাস গ্রুপ নামে। নামটি দেয়া হয়েছে বাইবেলে বর্ণিত ল্যাজারাসের নাম অনুযায়ী, যিনি মৃত্যু থেকে ফিরে এসেছিলেন। এই গ্রুপের কম্পিউটার ভাইরাসগুলিকে সামলানো বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই হ্যাকাররাও বারবার ফিরে আসে।

গ্রুপটি সম্বন্ধে খুব বেশি জানা যায়নি। এফবিআই এই গ্রুপের শুধু একজন সন্দেহভাজনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে পেরেছে, তার নাম পার্ক জিন-হিয়ুক। তিনি পার্ক জিন-হেক ও পার্ক কোয়াং-জিন নামেও পরিচিত।

কে এই পার্ক?

এফবিআই বলছে, পার্ক একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষে তিনি চীনা বন্দর শহর দালিয়ানে উত্তর কোরিয়ার একটি সংস্থা চোসুন এক্সপোর হয়ে কাজ করতেন। পার্ক সারা বিশ্বের ক্লায়েন্টদের জন্য অনলাইন গেমিং ও জুয়ার প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন।

দালিয়ানে থাকার সময় তিনি একটি ই-মেইল আইডি ও একটি সিভি তৈরি করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের নেটওয়ার্কও তৈরি করেন। এফবিআইয়ের তদন্তকারীর হলফনামায় বলা হয়েছে, পার্কের সাইবার-ফুটপ্রিন্ট থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের দিকে দালিয়ানে তার যাতায়াত শুরু হয়, যা ২০১৩ বা ২০১৪ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর তার ইন্টারনেট কার্যকলাপ উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ং ইয়ং থেকে রেকর্ড করে এফবিআই।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি
উত্তর কোরিয়ার সন্দেহভাজন হ্যাকার পার্ক জিন-হিয়ুক আছেন এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায়

আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থাটি পার্কের একটি ছবিও প্রকাশ করে, যা ক্লায়েন্টের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য একটি ই-মেইলে ব্যবহার করেছিলেন চসুন এক্সপোর ম্যানেজার। ছবিতে দেখা যায়, ক্লিন-শেভ বিশ বা ত্রিশের ঘরের এক কোরিয়ান যুবক পার্ক। পরনে ছিল চকোলেট রঙের সুট ও কালো রঙের পিন স্ট্রাইপ শার্ট। একবারেই সাধারণ একটি চেহারা, যাতে ক্লান্তির ছাপ রয়েছে।

এফবিআইয়ের দাবি, পার্ক দিনে প্রোগ্রামার হলেও রাতে হ্যাকারের কাজ করেন।

২০১৮ সালের জুনে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ পার্ককে সেপ্টেম্বর ২০১৪ ও আগস্ট ২০১৭-এর মধ্যে করা কম্পিউটার জালিয়াতি ও অপব্যবহারের ষড়যন্ত্র এবং ই-মেইল জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করে। ধরা পড়লে তার ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। (অভিযোগ দায়েরের চার বছর আগে তিনি চীন থেকে উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যান।)

পার্ক রাতারাতি হ্যাকার হননি। তিনি হাজার হাজার তরুণ উত্তর কোরিয়ানের একজন, যাদের শৈশব থেকেই সাইবার-যোদ্ধা হওয়ার জন্য বেছে নেয়া হয়। গণিতে ভালো এইসব প্রতিভাবান কিশোরদের, যাদের অনেকের বয়স ১২, স্কুল থেকে রাজধানীতে পাঠানো হয়। সেখানে তাদের সকাল থেকে রাত অবধি নিবিড় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

সাপ্তাহিক ছুটির চক্কর

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা যখন সেই প্রিন্টারটি রিস্টার্ট করেন, তখন তাদের কপালে পড়ে চিন্তার ভাঁজ। প্রিন্টার থেকে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে আসা জরুরি কিছু বার্তা প্রিন্ট হয়ে বের হয়। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশের ইউ ডলারের একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আমেরিকান ব্যাংকটি জানায়, তারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তাদের অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার উঠিয়ে নেয়ার নির্দেশ পেয়েছে।

ফেডারেল ব্যাংক অফ রিজার্ভের সঙ্গে বাংলাদেশ যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। কিন্তু হ্যাকারদের দক্ষতায় তারা সেটা করতে পারেনি।

আগের দিন (৪ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় হ্যাকিং শুরু হয়। বাংলাদেশ যখন ঘুমন্ত তখন নিউ ইয়র্কে বৃহস্পতিবার সকাল। ফলে ফেডারেল ব্যাংকের হাতে ওই নির্দেশ পালনের জন্য যথেষ্ট সময় ছিল।

পরের দিন থেকে বাংলাদেশের শুক্র-শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হয়। যার কারণে ঢাকার বাংলাদেশ ব্যাংক দুই দিনের ছুটিতে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন শনিবার এই চুরির বিষয়টি ধরতে পারে, তখন নিউ ইয়র্কে উইকেন্ড শুরু হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্থানা বলেন, ‘এ থেকে বোঝা যায় আক্রমণ কতটা নিঁখুত ছিল। বৃহস্পতিবার এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে কাজের দিন আর বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংক আবার যখন খুলছে, তখন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাতে পুরো বিষয়টি ধরা পড়তে পড়তে তিন দিন দেরি হয়।’

সময়ক্ষেপণ করতে হ্যাকাররা আরও একটি কৌশল অবলম্বন করে। ফেড থেকে বের করার পর তারা টাকাটা পাঠিয়ে দেয় ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার কয়েকটি অ্যাকাউন্টে। ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ছিল চন্দ্রবর্ষের প্রথম দিন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ওই দিন সরকারি ছুটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশ, নিউ ইয়র্ক ও ফিলিপাইনের সময়ের পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা টাকা সরিয়ে নিতে পুরো পাঁচ দিনের একটা সময় বের করে।

বহুদিন ধরেই তারা এই সমস্ত পরিকল্পনা করে। চুরির আগে প্রায় এক বছর ল্যাজারাস গ্রুপটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমের মধ্যে লুকিয়ে ঘোরাফেরা করছিল।

চুরির এক বছর আগে

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আপাতদর্শনে নিরীহ একটি ই-মেইল পান। রাসেল আহলাম নামের এক চাকরি প্রার্থীর মেইল ছিল সেটি। বিনম্রভাবে মেইলে রাসেল ব্যাংকে চাকরির বিষয়ে আর তার সিভি ডাউনলোডের জন্য একটি ওয়েবসাইটের লিংক দেয়।

এফবিআই জানায়, রাসেল নামের কেউ আসলে ওই মেইল করেননি। মেইল করেছিল ল্যাজারাস গ্রুপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তত একজন কর্মকর্তা ল্যাজারাসের ধোঁকায় পা দেন ও ওই সিভি ডাউনলোড করেন। অজান্তেই তাতে লুকিয়ে থাকা ভাইরাসটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কম্পিউটার সিস্টেমে আক্রমণ করে।

ব্যাংকের সিস্টেমে ঢোকার পর ল্যাজারাস গ্রুপ গোপনে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে প্রবেশ করে। যে ডিজিটাল ভল্টে বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রাখা ছিল, সেটায় ঢোকার কাজ শুরু করে তারা।

এবং তারপরে তারা থেমে যায়।

হ্যাকাররা প্রাথমিক ফিশিং ই-মেইল পাঠানোর এক বছর অপেক্ষার পর কেন টাকা চুরি করল? ব্যাংকের সিস্টেমে এক বছর লুকিয়ে থাকতে গিয়ে ধরা পড়ার ঝুঁকি কেন নিল তারা?

নিয়েছে, কারণ চুরির টাকা বের করে নেয়ার পথ ঠিক করতে ল্যাজারাসের সময় দরকার ছিল।

ঢাকার টাকা ম্যানিলায়

ম্যানিলার ব্যস্ততম এলাকাগুলোর একটি জুপিটার স্ট্রিট। ফিলিপাইনের অন্যতম বড় ব্যাংক আরসিবিসির একটা শাখা রয়েছে এখানে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পর ২০১৫ সালের মে মাসে এই শাখায় চারটি অ্যাকাউন্ট খোলে হ্যাকারদের সহযোগীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাকিংয়ের নেপথ্যের অবিশ্বাস্য কাহিনি

পরে জানা যায়, অ্যাকাউন্টগুলো খোলার সময় ব্যবহার করা হয় জাল ড্রাইভার্স লাইসেন্স। আর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করা চার আবেদনকারীর জব টাইটেল ও বেতন ছিল হুবহু এক। প্রাথমিকভাবে ৫০০ ডলার দিয়ে খোলা অ্যাকাউন্টগুলো মাসের পর মাস একইভাবে পড়ে ছিল। কেউ ওই টাকাতেও হাত দেয়নি। এই অস্বাভাবিকতা কারও চোখে পড়েনি। হ্যাকাররা ততদিনে পালানোর অন্য বুদ্ধি আঁটছিল।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকে হ্যাক করে ও টাকা সরিয়ে ফেলার পথ পরিষ্কার করে ল্যাজারাস গ্রুপ প্রস্তুত হয়ে যায় চূড়ান্ত আক্রমণের জন্য।

তবে তাদের সামনে তখনও একটা বাধা ছিল।

১০ তলার সেই প্রিন্টার।

বাংলাদেশ ব্যাংক তার অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত লেনদেন রেকর্ড করার জন্য একটি পেপার ব্যাক-আপ সিস্টেম তৈরি করে। লেনদেনের এই রেকর্ড সঙ্গে সঙ্গে চুরির ঘটনা প্রকাশ করার ঝুঁকিতে ফেলে দেয় হ্যাকারদের। তারা তাই একে নিয়ন্ত্রণকারী সফটওয়্যারটিতে আগে হ্যাক করে ও অকার্যকর করে দেয়।

নিজেদের গোপনীয়তা পুরোপুরি নিশ্চিত করার পর, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩৬ মিনিটে হ্যাকাররা টাকা সরাতে শুরু করে।

নিউ ইয়র্কের ফেডারেল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশের জমা করা টাকার প্রায় পুরোটাই, মোট ৩৫টি লেনদেনে তারা সরাতে শুরু করে। এর পরিমাণ ছিল ৯৫১ মিলিয়ন ডলার।

চোররা যখন নিজেদের বড় পারিশ্রমিকের স্বপ্নে বিভোর, তখন একেবারে হলিউডি ফিল্মের মতো ছোট্ট একটা ভুলে ভন্ডুল হয়ে যায় সবকিছু। ধরা পড়ে তাদের চুরি।

পরের দুই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা টাকা খোয়া গেছে বুঝতে পারলেও ঠিক কী হয়েছে ধরতে পারছিলেন না।

গোপন রাখা হয় চুরি

ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে রাকেশ আস্থানা ও তার সংস্থা ওয়ার্ল্ড ইনফরম্যাটিকসের পরিচয় ছিল। গভর্নর রাকেশকে সাহায্যের জন্য ফোন করেন।

আস্থানা বিবিসিকে জানান, ওই মুহূর্তেও গভর্নর ভাবছিলেন, তিনি চুরি হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। যার কারণে তিনি হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি শুধু জনগণের কাছ থেকেই নয়, দেশের সরকারের কাছেও গোপন রাখেন।

আস্থানা বোঝার চেষ্টা করছিলেন, হ্যাকাররা কতদূর কী করেছে। তিনি বের করেন, হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমের অন্যতম অংশ সুইফটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে হাজারো ব্যাংকের বড় অঙ্কের লেনদেনের সামাল দেয় সুইফট সফটওয়্যার সিস্টেম। সুইফটের কোনো দুর্বল দিক হ্যাকাররা কাজে লাগায়নি। তার দরকারও পড়েনি। কারণ সুইফট সফটওয়্যার হ্যাকারদের ব্যাংকের কর্মচারী ভেবে নিয়েছিল।

দ্রুতই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্তারা বুঝতে পারেন, হারানো টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। ততক্ষণে ফিলিপাইনে কিছু টাকা পৌঁছে গিয়েছিল।

ওখানকার কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া আদালতের আদেশ ছাড়া শুরু করা সম্ভব নয়। আদালতের আদেশ সরকারি নথি। যে কারণে যখন বাংলাদেশ ব্যাংক ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আবেদন করে, তখন পুরো বিষয়টি সবাই জানতে পারেন ও বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর তোপের মুখে পড়েন। আস্থানা বলেন, ‘তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তাকে আমি আর দেখিনি।’

টাকা যেভাবে বের করা হয়

হ্যাকাররা ম্যানিলার অসংখ্য ব্যাংক ব্যবহার করতে পারত, কিন্তু তারা জুপিটার স্ট্রিটে অবস্থিত আরসিবিসি ব্যাংকের শাখাটিকেই বেছে নেয়। এই সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের কয়েক শ মিলিয়ন ডলার গচ্চা দিতে হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের আর্থিক সেবা বিষয়ক কমিটির সদস্য ক্যারোলিন ম্যালোনি জানান, ঘটনাচক্রে ইরানের একটি জাহাজের নামের সঙ্গে মিলে যায় এ ব্যাংকের ঠিকানা।

তিনি বলেন, লেনদেনগুলোকে ফেড আটকে দেয়। কারণ এর ঠিকানায় জুপিটার শব্দটি ছিল। জুপিটার একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজেরও নাম, যার ওপর ফেডের নিষেধাজ্ঞা আছে। এটি কালো তালিকাভুক্ত।

‘জুপিটার’ শব্দটির কারণেই ফেডারেল ব্যাংকের কম্পিউটারগুলো সতর্ক হয়ে ওঠে এবং লেনদেনগুলো রিভিউ করা হয়। এ কারণে অধিকাংশ লেনদেন ঠেকানো সম্ভব হয়। তবে ১০১ মিলিয়ন ডলার ঠিকই ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়।

এই ১০১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয় শ্রীলঙ্কার একটি দাতব্য সংস্থা ‘শালিকা ফাউন্ডেশন’-এর নামে। হ্যাকারদের দোসররা চুরি করা টাকা পাচারের জন্য আগেই একে ঠিক করে রাখেন। এর মালিক শালিকা পেরেরা জানান, তার ধারণা ছিল লেনদেনগুলো বৈধভাবে দান করা হয়েছে।

এখানেও ছোট একটা ঝামেলার কারণে ফেঁসে যায় হ্যাকাররা। টাকা পাঠানো হয় ‘Shalika Fundation’ এর নামে। এক ব্যাংক কর্মকর্তার চোখে পড়ে এই বানান ভুল, কারণ এতে ফাউন্ডেশনের একটি অক্ষর (o) বাদ পড়েছে। ফলে লেনদেনটি ফেরত পাঠানো হয়।

শেষ পর্যন্ত ৮১ মিলিয়ন ডলার

লক্ষ্য ছিল ১ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করতে সক্ষম হয় হ্যাকাররা। লক্ষ্য পূরণ না হলেও বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যেখানে পাঁচজনের একজন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, তাদের জন্য এই ক্ষতিও ছিল বড় অঙ্কের।

বাংলাদেশ ব্যাংক যতক্ষণে টাকা ফেরত নেয়ার চেষ্টা শুরু করে, ততক্ষণে হ্যাকাররা একে নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে। হ্যাকিংয়ের পরদিন অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জুপিটার স্ট্রিটের আরসিবিসি শাখায় এক বছর আগে খোলা অ্যাকাউন্ট হঠাৎই যেন জীবন ফিরে পায়।

টাকাগুলোকে চারটি অ্যাকাউন্টে পাঠানোর পর সেখান থেকে স্থানীয় একটি মানি এক্সচেঞ্জ ফার্মে পাঠানো হয়। স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরিত করার পর সেগুলোকে আবারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে ফিরিয়ে আনা হয়। কিছু অংশ নগদ হিসেবে ব্যাংক থেকে তোলাও হয়েছে।

মানি লন্ডারিং বিশেষজ্ঞদের কাছে পুরো বিষয়টিই ছিল নিয়মমাফিক। ক্যালিফোর্নিয়ার মিডলবারি ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ফিনান্সিয়াল ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামের প্রধান মোয়ারা রুয়েসেন বলেন, ‘পরবর্তীতে ব্যবহার করার জন্য সমস্ত বেআইনি উপার্জনকে সাদা দেখাতে হবে ও এমনভাবে দেখাতে হবে যেন মনে হয় তা বৈধ উৎস থেকে প্রাপ্ত। অর্থের লেনদেনটিকে যতটা সম্ভব ঘোলা ও অস্পষ্ট করে তুলতে হবে।’

তারপরও তদন্তকারীদের সামনে টাকার উৎস খুঁজে পাওয়ার উপায় ছিল। সম্পূর্ণ আত্মগোপনের জন্য এর দরকার ছিল ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে হাওয়া হয়ে যাওয়া।

ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি করা দলটির পরের গন্তব্য ছিল সলিটেয়ার হোটেল। ম্যানিলার এই হোটেলটি বিখ্যাত এর ক্যাসিনোর জন্য। ৪০০টি জুয়ার টেবিল ও ২ হাজার স্লট মেশিন সংবলিত ক্যাসিনোটিতে মোটা পকেটওয়ালা চীনা ব্যবসায়ীরা জুয়া খেলতে আসেন।

চুরি করা ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন ডলার এই ক্যাসিনো ও মাইডাস নামের আরেকটি ক্যাসিনোর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বাকি ৩১ মিলিয়ন ডলারের কী হলো সেটা জানতে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তাদের দাবি, বাকি টাকা শু ওয়েইকাং নামের এক চীনা ব্যক্তিকে দেয়া হয়, যিনি একটি প্রাইভেট জেটে শহর ছাড়েন ও তারপর কোনোদিন আর ম্যানিলায় আসেননি।

অর্থের উৎস ও লেনদেন গোপনের জন্যই ক্যাসিনোতে টাকা পাঠানো হয়। চুরি করা টাকা দিয়ে ক্যাসিনোর চিপস কিনে, জুয়া খেলার পর নগদ টাকায় বদলে ফেলা হলে তদন্তকারীদের পক্ষে একে খুঁজে বের করা অসম্ভব।

ক্যাসিনোতে জুয়া খেলে যেন টাকা খোয়া না যায় সে জন্য চোরদের দল প্রাইভেট রুম ভাড়া করে এবং নিজেদের লোকদের সঙ্গেই নিজেরা জুয়া খেলে। এতে করে তারা পুরো জুয়ার টাকাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয়ত তারা চুরি করা টাকা দিয়ে ‘বাকারাত’ খেলে। এটি এশিয়ার বহু দেশে প্রচলিত জনপ্রিয় একটি জুয়া, যেটাতে শুধুমাত্র দুটা ফল। হার অথবা জিত। এবং অধিকাংশ টাকা (প্রায় ৯০ শতাংশ) ফিরে পাওয়া সম্ভব।

অপরাধীরা চুরি হওয়া টাকা লন্ডারিং করে লাভের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সেটা নিশ্চিত করতে খেলোয়াড় ও তাদের ধরা বাজিকে খুব সাবধানে তারা নিয়ন্ত্রণ করে। তারা বেশ খানিকটা সময় নেয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা টাকা সাদা করার জন্য ম্যানিলার ক্যাসিনোতে অপেক্ষায় ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকও তখন টাকা উদ্ধারের চেষ্টায় বেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। এর কর্মকর্তারা ম্যানিলা সফরে আসেন ও টাকা পাচারের পথ খুঁজে পান। কিন্তু ক্যাসিনোতে যাওয়ার পর তারা নিরুপায় হয়ে পড়েন। ওই সময়ে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোগুলো মানি লন্ডারিংয়ের নিয়মের অধীনে ছিল না। ক্যাসিনোদের হিসেবে তাদের অ্যাকাউন্টের টাকা বৈধ ও বৈধ জুয়াড়িদের টাকা। তাদের নিজের টাকা দিয়ে তারা বৈধভাবেই জুয়া খেলছেন।

সলিটেয়ার জানায়, তারা জানত না যে, তাদের ক্যাসিনোতে অবৈধ টাকা ঢালা হচ্ছে, এ নিয়ে তারা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। আর মাইডাস বিবিসির কাছে কোনো মন্তব্য করেনি।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা কিম ওয়ং নামের মাইডাস ক্যাসিনোতে জুয়ার আসরের আয়োজনকারী এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৬ মিলিয়ন ডলার উদ্ধার করতে সক্ষম হন। বাকি ৩৪ মিলিয়ন তখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এর পরবর্তী গন্তব্য উত্তর কোরিয়ার আরও এক ধাপ কাছে।

তদন্তকারীদের বিশ্বাস ছিল যে, চুরি যাওয়া অর্থের পরবর্তী গন্তব্য মাকাও।

চীনের এই রাজ্যটির সঙ্গে সলিটেয়ারে জুয়া খেলা অনেকেরই সম্পর্ক ছিল। সলিটেয়ারে প্রাইভেট রুম ভাড়া করা দুটি প্রতিষ্ঠান ছিল মাকাওয়ের। তদন্তকারীরা দাবি করেন অধিকাংশ অর্থ মাকাও থেকেই উত্তর কোরিয়ায় ঢুকেছে।

বাংলাদেশ চুরি হওয়া বাকি অর্থ প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েক ডজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকও আছে। তারা অবশ্য আইন ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে আক্রমণের পরের বছর ২০১৭ সালের মে মাসে ওয়ানাক্রাই র‍্যানসমওয়্যার হাজার হাজার ব্যবহারকারীকে আক্রমণ করে। আক্রান্তদের ব্ল্যাকমেইল করা হয় ও বিটকয়েনের বিনিময়ে তাদের ডেটা ফিরিয়ে দেয়া হয়।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির এক গোয়েন্দা এফবিআইয়ের সঙ্গে মিলে র‍্যানসমওয়্যারের কোড ভাঙার চেষ্টা করে দেখেন এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ২০১৪ সালে সোনি পিকচার্সে হ্যাকিংয়ে ব্যবহৃত ভাইরাসের অনেকাংশে মিল রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এফবিআই এই আক্রমণের জন্য পার্ক জিন-হিয়ুককে দোষী সাব্যস্ত করে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস আরও দুই উত্তর কোরিয়ার নাগরিককে দোষী খুঁজে পায়। তাদের দাবি ওই দুইজনও ল্যাজারাস গ্রুপের সদস্য এবং ক্যানাডা থেকে নাইজেরিয়া পাঠানো একটি মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত।

শেয়ার করুন

মাঠ সংস্কার হলেই খেলতে পারবেন জবি শিক্ষার্থীরা

মাঠ সংস্কার হলেই খেলতে পারবেন জবি শিক্ষার্থীরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত ধূপখোলা মাঠে পিলার বসিয়েছে সিটি করপোরেশন। ছবি: নিউজবাংলা

মাঠটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একমাত্র খেলার স্থান। যদিও এটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং মাঠটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নাম্বার ওয়ার্ডের আওতাধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র সমাবর্তনও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ার ধূপখোলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র খেলার মাঠের সংস্কার শেষ হলেই শিক্ষার্থীরা খেলতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

খেলার মাঠের চলমান সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মেয়র তাপসের বৈঠক শেষে এ আশ্বাস মিলেছে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।

সোমবার বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের মধ্যকার এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা সূত্রে জানা যায়, পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত ধূপখোলা মাঠ নামে পরিচিত মাঠটিকে সংস্কার করে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। দ্রুতই শুরু হবে সংস্কার কাজ। মাঠে বসানো পিলারগুলোও দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সবাই মাঠে আগের মতোই খেলাধূলা করতে পারবে বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডিএসসিসি মেয়রের সঙ্গে আজ আমাদের মিটিং হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারবে। সিটি কর্পোরেশন পিলারগুলো দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে মাঠে খুঁটি বসানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাঠটি আমাদের নামে রেজিস্ট্রেশন করা নেই। সিটি কর্পোরেশনের মাস্টারপ্ল্যানের একটি অংশ হিসেবে তারা মাঠ সংস্কার করে আরও উন্নত করবে। আমাদের আগের মতোই খেলাধুলার সুযোগ থাকবে।’

সভায় উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তাফা কামাল বলেন, ‘আালোচনা হয়েছে, সিটি কর্পোরেশন মেয়র ছাড়াও, সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। আশ্বাস পেয়েছি, আমাদের ছেলেমেয়ে খেলাধুলা করবে।’

এছাড়াও সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল, রেজিষ্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের চারদিকে সাতটি স্থানে ছোট ছোট রড-সিমেন্ট দিয়ে পিলার বসানো হয়েছে। মাঠে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ জুন এসব পিলার বসানো হয়েছে। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শামসুজ্জোহাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিকদের দাবি, মাঠের সংস্কারের জন্যই মূলত এটা করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব পিলার বসিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এখানে মার্কেট নির্মাণ করা হবে।

৭ একর জমির ওপর ধূপখোলা খেলার মাঠটিতে ১৯৮৪ সালে এরশাদের শাসনামলে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। তার এক ভাগ দেয়া হয় তৎকালীন জগন্নাথ কলেজকে। আর একটি অংশ ‘ইস্ট এন্ড খেলার মাঠ’ নামে একটি ক্লাবের কর্তৃত্বে রয়েছে। অপর অংশটি রাখা হয় জনসাধারণ খেলার জন্য।

মাঠটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একমাত্র খেলার স্থান। যদিও এটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং মাঠটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৫ নাম্বার ওয়ার্ডের আওতাধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র সমাবর্তনও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

শেয়ার করুন