রিসোর্ট-কাণ্ড: ঝর্ণার বাবাকে আ. লীগের নোটিশ

সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে ঝর্ণাকে নিয়ে অবস্থান করার সময় অবরুদ্ধ হন মামুনুল। ছবি: নিউজবাংলা

রিসোর্ট-কাণ্ড: ঝর্ণার বাবাকে আ. লীগের নোটিশ

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোনায়েম খান ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিনের সই করা এক চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন ওয়ার্ড আ. লীগ নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে না।

হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার বাবাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

ঝর্ণার বাবা ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়ালিয়ার রহমান ওরফে ওলি মিয়া। তিনি গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড কামারগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি।

সোমবার ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোনায়েম খান ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফরিদ উদ্দিনের সই করা এক চিঠিতে তার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে না।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘আপনি মো. ওলিয়ার রহমান, গোপালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। আপনার বড় জামাতা হাবিবুর রহমান, মেঝ জামাতা অর্থাৎ জান্নাত আরা ঝর্ণার সাবেক স্বামী মো. জাফর শহিদুল ইসলাম, সর্বাধিক সমালোচিত আপনার মেঝ মেয়ে জান্নাত আরা ঝর্ণার কথিত স্বামী মো. মামুনুল হকসহ সবাই উগ্রপন্থী ইসলামী সংগঠনের (হেফাজতে ইসলাম) সঙ্গে জড়িত। আপনার মেয়ে জান্নাত আরা ঝর্ণা অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত। এমনকি আরো জানা যায় যে, আপনার স্ত্রীও জামায়াতপন্থী।’

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে পরিবারের সংশ্লিষ্টতার বিষয় কখনো দলীয় নেতাদের জানাননি ওলিয়ার রহমান। তাই তার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে ওলিয়ার রহমানকে কেনো ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে না, তার স্বপক্ষে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।



মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড

গত শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে র‌য়্যাল রিসোর্ট নামে একটি আবাসিক অবকাশ যাপন কেন্দ্রে জান্নাত আরা ঝর্ণা নামে এক নারীকে নিয়ে সময় কাটাতে যান হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের অবরুদ্ধ করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

মামুনুল ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করলেও সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও পরে পুলিশের জেরায় তিনি যেসব তথ্য দেন, তাতে অনেক গরমিল পাওয়া যায়।

রিসোর্টের সঙ্গীর নাম, তার বাবার নাম ও বাড়ির ঠিকানা নিয়ে দুই ধরনের তথ্যের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে ফাঁস হওয়া বেশ কিছু ফোনালাপ হেফাজত নেতার বিয়ের দাবির সত্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়।

ফোনালাপের একটিতে বোঝা যায়, ঘটনার পরপরই মামুনুল তার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, সেই নারী (ঝর্ণা) তার পরিচিত শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার কারণে চাপে পড়ে ওই নারীকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিতে তিনি বাধ্য হয়েছেন। এ নিয়ে যেন তার স্ত্রী ভুল না বোঝেন। পরে বাসায় এসে বুঝিয়ে বলবেন।

পরে আরেকটি কথোপকথন ফাঁস হয়, যা মামুনুলের সঙ্গে তার রিসোর্টের সঙ্গীনির মধ্যকার বলে প্রতীয়মান হয়। সেখানে ওই নারী জানান, তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার মায়ের একটি বন্ধ মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। আর অন্য একজন যখন তাকে কোথায় বিয়ে হয়েছে জিজ্ঞেস করেছেন, তখন তিনি বলেছেন, এটা জানেন না। মামুনুলের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।

আরও একটি কথোপকথনে বোঝা যায়, মামুনুলের বোন কথা বলেছেন হেফাজত নেতার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি তাকে বুঝিয়েছেন, কেউ যদি তাকে ফোন করে, তাহলে তিনি যেন বলেন, তিনি এই দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন এবং তার শাশুড়ি এই বিয়ের আয়োজন করেছেন।

এরই মধ্যে মামুনুলের রিসোর্টের সঙ্গীনির বড় ছেলে ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুলের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি তার মায়ের সঙ্গে বাবার সংসার ভাঙার জন্য মামুনুলকে দায়ী করেন।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের কথিত তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যা জানা গেল
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা: হেফাজতের চার নেতা রিমান্ডে
মামুনুল নিয়ে বিতণ্ডা: আ. লীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা মামলা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’

‘বাবুল আকতার নির্দোষ, ষড়যন্ত্রের শিকার’

মাগুরা জেলার শহরের কাউন্সিল পাড়ায় বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

বাবুল আকতারের ভাই আইনজীবী হাবিবুর রহমান লাবু বলেন, ‘ভাইয়ের পরকীয়ার বিষয়টি সত্য নয়। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন সেটাও আমাদের জানা নেই। সত্য হলে আমরা জানতে পারতাম।’

‘বড় ভাই নির্দোষ। তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বেশকিছু বড় অপরাধী ধরতে পেরেছিলেন। তার সাফল্য তখন সারা দেশ জেনেছিল। যে কারণে আমরা মনে করি তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হতে পারেন।’

নিউজবাংলাকে ফোনে এসব কথা বলেছেন সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আকতারের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান লাবু।

তিনি বলেন, ‘ভাইয়ের পরকীয়ার বিষয়টি সত্য নয়। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন সেটাও আমাদের জানা নেই। সত্য হলে আমরা জানতে পারতাম।’

তবে গত বুধবার মিতুর মা শাহিদা মোশাররফ নিউজবাংলাকে জানান, মিতু হত্যার পর আরও তিনটি বিয়ে করেন বাবুল আকতার। এর মধ্যে দুজনের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, বর্তমানে একজনের সঙ্গে সংসার করছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘মিতু মারা যাওয়ার আগে বাবুর (বাবুল আকতার) সঙ্গে ভারতের এক নারীর সম্পর্ক ছিল। মিতু কৌশলে সেটা জেনে যায়। শুধু ওই নারী নয়, আরও কয়েকজনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। যাদের মধ্যে দুইজনকে নিয়ে মিতুর মৃত্যুর পর তিনি সংসার করেছেন। আরেকটি বিয়ে করেছেন পারিবারিকভাবে।’

তবে বাবুলের ভাই হাবিবুর রহমান লাবু বলেন, ‘এক বছর আগে তিনি (বাবুল আকতার) বিয়ে করেন কুমিল্লায়। শুধু ছোট দুইটা বাচ্চা মানুষ করার জন্য তার বিয়ে করা। সন্তানেরা তার সেই মায়ের কাছে আছে বলে আমরা জানি। তবে কোথায় আছেন আমরা জানি না।’

স্ত্রী মিতু হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আকতারের বাড়ি মাগুরা জেলা শহরের কাউন্সিল পাড়ায়। আল আমীন নামে বেসরকারি স্কুলের সামনেই চারতলা সাদা বাড়িটি বাবুলদের।

ভবনের দ্বিতীয় তলায় পূর্ব দিকে থাকেন সাবেক এই এসপির বাবা ও ছোট ভাই। বাবুল আকতার গ্রেপ্তার হওয়ার পর একাধিকবার ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ভাড়াটিয়ারা বলছেন, তারা ঈদে বাইরে ঘুরতে গেছেন।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ১১ মে বাবুল আকতার গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই বাড়িতে পরিবারের কাউকে তারা দেখেননি।

বাবুল আকতার শেষ কবে মাগুরা এসেছিলেন তাও বলতে পারেননি প্রতিবেশীরা। তবে তিনি পুলিশের চাকরি হারানোর পর বেসরকারি কোম্পানিতে কাজ করতেন। তখন ছুটি পেলেই তিনি বাড়িতে আসতেন।

এক প্রতিবেশী জানান, বাবুল আকতারের বাবা এখানে থাকেন না। শুনেছেন, তিনি তাদের আদি বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার হাটফাজিলপুরে থাকেন। তার আইনজীবী ভাই নিজের পরিবার নিয়ে এখানে বসবাস করেন। অপর এক ভাই এবং বোন ‍দুই জনই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের কথিত তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যা জানা গেল
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা: হেফাজতের চার নেতা রিমান্ডে
মামুনুল নিয়ে বিতণ্ডা: আ. লীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা মামলা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?

শেয়ার করুন

‘ব্যবসায়ীকে হাতু‌ড়িপেটা’: ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

‘ব্যবসায়ীকে হাতু‌ড়িপেটা’: ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

বরিশালে আহত ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ছবি: নিউজবাংলা

ব্যবসায়ী রুহুল কুদ্দুস রাহাতের বাবা গোলাম কবির শনিবার গভীর রাতে পাঁচ জনের নামে এবং ২০-২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন। এই মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বরিশালে ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর অভিযোগে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই মামলার গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুইজনকে।

বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ব্যবসায়ী রুহুল কুদ্দুস রাহাতের বাবা গোলাম কবির শনিবার গভীর রাতে পাঁচ জনের নামে এবং ২০-২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন।

তিনি আরও জানান, আসামি খালিদ হোসেন রবিন এবং সন্দেহভাজন মেহেদী হাসানকে রোববার সকালে টু‌ঙ্গিবাড়িয়া ইউ‌নিয়‌ন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার নামীয় অন্য আসামিরা হলেন, বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান সুজন, তার অনুসারী মো. শুভ, স্বপন হাওলাদার, মো. জিসান ও রবিন।

শনিবার রাতে ব‌রিশাল সদর উপ‌জেলার টু‌ঙ্গিবাড়িয়া ইউ‌নিয়‌নের মোল্লাবা‌ড়ি স্ট্যা‌ন্ডে ব্যবসায়ী রুহুল কুদ্দুস রাহাতের ওপর হামলা হয়। তাকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর অভিযোগ ওঠে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান সুজন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

হামলার পর রাহাতের ভাই রা‌ব্বি নিউজবাংলাকে জানান, সদর উপ‌জেলা ছাত্রলী‌গের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান সুজন তার সহ‌যোগী‌দের নি‌য়ে মোল্লা‌বা‌ড়ি স্ট্যান্ডে লিটনের ইলেকট্রিক দোকানে হামলা চালিয়ে তাকে মারধর ক‌রেন। এর পরপরই একই এলাকার ব্যবসায়ী রাহাতের বা‌ড়ি‌তেও হামলা চালানো হয়।

প‌রে মোল্লাবা‌ড়ি স্ট্যা‌ন্ডে রাহাতের সঙ্গে সুজ‌নের দেখা হয়। ওই সময় তার লোকজ‌ন রাহাতকে মারধর ক‌রে এবং সুজ‌ন হাতু‌ড়ি দি‌য়ে তাকে পি‌টি‌য়ে আহত ক‌রেন। তাকে ব‌রিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডিক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে ভর্তি করা হয়।

ইউ‌নিয়ন আওয়ামী‌ লী‌গের সাধারণ সম্পাদক ধলু মোল্লা আহ‌ত ব্যক্তির বরাত দি‌য়ে বলেন, ‘সুজ‌নের স্বজন তু‌হিনের কা‌ছে রাহাত ক‌য়েক লাখ টাকা পায়। টাকা ফেরত চাইতে গি‌য়ে এ ঘটনা ঘটে।’

তবে হামলার পর ব‌রিশাল সদর উপ‌জেলা ছাত্রলী‌গের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান সুজন ব‌লেন, ‘রাহা‌তের সঙ্গে ভোলার তু‌হিনের লেন‌দেন আছে। রাহা‌তের কা‌ছে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা পায় তু‌হিন। তু‌হিন ও তার ছোট ভাই ছাত্রলী‌গের শুভ এ বিষ‌য়ে আমা‌কে জানান।

‘এরপর রাহাত ক্ষিপ্ত হ‌য়ে ফেসবু‌কে নানান পোস্ট দি‌তে থা‌কেন। রাহাত বন্ধু হওয়ায় এবং একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তা‌কে ফেসবু‌কে মিথ্যাচার না করতে বলি। এরপর সে সন্ধ্যায় আমার ওপর হামলা চালায়। আর হামলা চালা‌তে গি‌য়ে সে নি‌জেই কোনোভা‌বে আহত হ‌য়ে আমার বিরু‌দ্ধে মিথ্যাচার কর‌ছে। তার সঙ্গে আমার কোনো লেন‌দেনও নেই। এ বিষ‌য়ে আমিও আই‌নের আশ্রয় নি‌ব।’

রাহাতের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মে‌ডিক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লের চিকিৎসক।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের কথিত তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যা জানা গেল
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা: হেফাজতের চার নেতা রিমান্ডে
মামুনুল নিয়ে বিতণ্ডা: আ. লীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা মামলা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?

শেয়ার করুন

মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

মিতু হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

‘আনোয়ার ও ওয়াসিম মিতু হত্যায় হওয়া পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। নতুন মামলায় তাদেরকে আসামি করা হয়েছে। এই দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। পরে আদালত তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো নির্দেশ দেয়।’

চট্টগ্রামের মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা রোববার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

যাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তারা হলেন মোতালেব মিয়া (ওয়াসিম) ও আনোয়ার হোসেন। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, আনোয়ার ও ওয়াসিম মিতু হত্যায় হওয়া পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। নতুন মামলায় তাদেরকে আসামি করা হয়েছে। এই দুইজনকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। পরে মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহানের আদালত তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো নির্দেশ দেয়।

এর আগে মিতু হত্যা মামলায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতার ও সাইদুল ইসলাম শিকদার সাকুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে গত ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়।

পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার গত বুধবার এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, মিতু হত্যায় বাবুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য নতুন একটি মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের কথিত তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যা জানা গেল
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা: হেফাজতের চার নেতা রিমান্ডে
মামুনুল নিয়ে বিতণ্ডা: আ. লীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা মামলা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?

শেয়ার করুন

নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা

নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রোববার সকালে আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব। আইনজীবীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তীতে আদালতে আবেদন করব।’

নাতি-নাতনিকে নিজেদের জিম্মায় চেয়ে আদালতে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন।

নিউজবাংলাকে শনিবার রাত ১১ টার দিকে তিনি বলেন, ‘মিতু আমার বড় সন্তান। তার ছেলে মেয়ে আমার প্রথম নাতি-নাতনি। মেয়ে মারা যাওয়ার পর তাদেরকে আমাদের কাছে রাখতে চেয়েছি, কিছুদিন রেখে ছিলাম। কিন্তু বাবুল আকতার তাদেরকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়। এখন সে (বাবুল আকতার) গ্রেপ্তার। তাই নাতি-নাতনিদের বিশ্বস্ত অভিভাবক প্রয়োজন। এ জন্য আমরা আদালতে আবেদন করব।’

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রোববার সকালে আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব। আইনজীবীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তীতে আদালতে আবেদন করব।’

মিতু-বাবুল দম্পতির দুই সন্তান, তারমধ্যে একজন ছেলে, একজন মেয়ে। বাবুল আকতার গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত তার কাছে ছিল সন্তানরা।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে গত ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়।

পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার গত বুধবার এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, মিতু হত্যায় বাবুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য নতুন একটি মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের কথিত তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যা জানা গেল
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা: হেফাজতের চার নেতা রিমান্ডে
মামুনুল নিয়ে বিতণ্ডা: আ. লীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা মামলা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?

শেয়ার করুন

ধান কাটতে গিয়ে ফিরল নিথর দেহে

ধান কাটতে গিয়ে ফিরল নিথর দেহে

স্বজন হারানো মানুষের কান্নায় ভারি নন্দলালপুর। ছবি: নিউজবাংলা

ঈদের পরের দিন অন্যদের সঙ্গে ধান কাটতে নওগাঁয় যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ লিটন, আব্দুল মালেক ও রেজাউল করিম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। ট্রাকের ধাক্কায় ভটভটিতে থাকা তিনজন লাশ হয়ে ফিরেছেন নিজ বাড়িতে।

‘যাওয়ার আগে বারে বারে ঘুরা ঘুরা আসছে। মুক্তারে মুক্তারে বল্যা ডাকছে। হ্যামি বের হয়্যা খইছি, কী হলো কহ। তহন বলছে হ্যামার ধান কাটতে য্যাতে মুন টানে না, জিটা কেমন করছে।

এভাবে চারবার ঘুইরা আসার পর, শেষবার গ্যালো। তার ঘণ্টাখানের পরেই হামার এক দেয়র (স্বামীর ভাই) বলছে, ভাবি জি ভাই রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে।’

বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন ট্রাকের ধাক্কায় নিহত নন্দলালপুর গ্রামের মোহাম্মদ লিটনের স্ত্রী মুক্তা।

তার কান্নায় চোখ ভিজে ওঠে স্বজন আর প্রতিবেশীদের। শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে একই গ্রামের আরও দুইজনের।

এই গ্রামের লোকজন সাধারণত অন্য কাজ করলেও ধানকাটা মৌসুমে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান নওগাঁয়। মজুরি হিসেবে তারা যে ধান পান, তা দিয়েই হয়ে যায় পরিবারের সদস্যদের সারা বছরের ভাতের জোগান।

ঈদের পরের দিন এই গ্রামের অন্যদের সঙ্গে ধান কাটতে নওগাঁয় যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ লিটন, আব্দুল মালেক ও রেজাউল করিম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। ট্রাকের ধাক্কায় ভটভটিতে থাকা তিনজন লাশ হয়ে ফিরেছেন নিজ বাড়িতে।

শনিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে আসে তাদের নিথর দেহ। একই গ্রামের তিনজনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নন্দলালপুর গ্রামে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি চারপাশ।

লিটনের বাড়িতে শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী মুক্তা স্বামীর মৃত্যুশোকে বিলাপ করছেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছেন, ‘হ্যার কপালে আল্লাহ তুমি একি লেখ্যাছিলা। হ্যামি এখন কেমন করে থাকব।’

বছর খানেক আগে বধূ হয়ে এই গ্রামে আসেন মুক্তা। বিয়ের পর লিটন নতুন ঘর দিয়েছেন। ছয় মাস আগে তারা উঠেছেন একচালা ঘরটিতে।

লিটনের স্ত্রী মুক্তা বলেন, ঈদের আগে ধান কেটে সাত মণ ধান নিয়ে এসেছিল ঈদ করতে। ঈদের পর ফের ধান কাটতে যাচ্ছিল। যাওয়ার আগে বলছিল তার যেতে ইচ্ছা করছে না। এ কথা বলে চারবার ঘুরে ঘুরে এসেছিল।

লিটন পেশার রাজমিস্ত্রি শ্রমিক ছিলেন। কাজ করতেন চট্টগ্রামে। ধান কাটতে মাসখানেক আগে বাড়িতে এসেছিলেন।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এই গ্রামের আরেকজন আব্দুল মালেক। তিনি রং মিস্ত্রীর কাজ করেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে নামজুল দশম শ্রেণিতে ও ছোট ছেলে এনামুল সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

মালেকের স্ত্রী নাজমা বেগম বারবার বলছিলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমার স্বামীকে যেন আর কষ্ট না দেয়। কাটাছেঁড়া আর না করে।’

মারা যাওয়া অন্যজন রেজাউল করিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মরদেহের অপেক্ষায় বসে আছেন স্বজনরা। রেজাউল করিমের বড় মেয়ে পপির কান্নায় তখন অন্যদের চোখেও জল।

‘আব্বা তুমি আর মোবাইল করা কহবা না যে, কদিনের ল্যাহা বাড়িয়্যা যা, এমন কইর‍্যা কে হামাকে আর ডাকবে আব্বা।’

নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা দুরুল জানান, মজুরি হিসেবে গ্রামের সবাই সারা বছরের খাওয়ার সমান ধান পায়। ধান-চালের দাম বেশি। সারা বছর যদি ধানের চিন্তাটা না থাকে তাহলে অন্য খরচ তখন কোনো রকমে চলবে। এটা ভেবে তাদের বেশিরভাগ মানুষই ধান কাটতে যান।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের কথিত তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যা জানা গেল
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা: হেফাজতের চার নেতা রিমান্ডে
মামুনুল নিয়ে বিতণ্ডা: আ. লীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা মামলা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?

শেয়ার করুন

হেফাজতের সহিংসতায় প্ররোচনা: জামায়াতের শাহজাহান রিমান্ডে

হেফাজতের সহিংসতায় প্ররোচনা: জামায়াতের শাহজাহান রিমান্ডে

জামায়াতে ইসলামের নেতা ও সাতকানিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

পুলিশের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) হুমায়ন কবির বলেন, শাহজাহানকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত পাঠিয়েছে তিনদিনের রিমান্ডে। তাকে হাটহাজারী থানায় হওয়া তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

হাটহাজারীতে হেফাজতের সহিংসতায় প্ররোচনা ও ইন্ধন দেয়ার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামের নেতা ও সাতকানিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শাহরিয়ার ইকবালের আদালত শনিবার দুপুরে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

জেলা পুলিশের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) হুমায়ন কবির বলেন, শাহজাহানকে ৭ দিনের রিমান্ড নেয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত পাঠিয়েছে তিনদিনের রিমান্ডে। তাকে হাটহাজারী থানায় হওয়া তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সাতকানিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদর পাড়া থেকে শুক্রবার রাত ২টার দিকে শাহজাহানকে আটক করা হয়।

শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সাতকানিয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

হেফাজতের সহিংসতায় প্ররোচনা: জামায়াতের শাহজাহান রিমান্ডে
গত ২৬ মার্চ হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা স্থানীয় ডাক বাংলো, এসি ল্যান্ড অফিসের পাশাপাশি হামলা চালায় থানায়

১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাকে দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির করা হয়। তখন থেকে পরবর্তী চারদলীয় জোট সরকারের আমল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ১৮টি মামলা জোট সরকার আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৫০টির বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি নাশকতা ও হত্যা মামলা বিচারাধীন বলে জানিয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে সক্রিয় হেফাজত কর্মীরা বায়তুল মোকাররম এলাকায় সরকার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।

এই সংঘর্ষ চলার সময় হেফাজতের সদরদপ্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে গিয়ে সরকারি ডাকবাংলো, এসিল্যান্ড অফিসের পর থানায় হামলা করে হেফাজতকর্মীরা। তখন পুলিশ গুলি চালালে চারজন হেফাজতকর্মী নিহত হন।

সেদিনের সেই ঘটনার পর দেশের আরও নানা এলাকায় সহিংস হয়ে ওঠে হেফাজত। হাটহাজারীতে মাদ্রাসার পাশে চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি সড়কে ইটের দেয়াল তুলে দুই দিন তা অবরোধ করে রাখে ছাত্ররা। হামলা হয় ট্রেনে।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের কথিত তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যা জানা গেল
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা: হেফাজতের চার নেতা রিমান্ডে
মামুনুল নিয়ে বিতণ্ডা: আ. লীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা মামলা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?

শেয়ার করুন

মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

মিতু হত্যার পর বাবুলের আহাজারি (বাঁয়ে) এবং পাঁচ বছর পর নতুন মামলার আসামি হিসেবে আদালতে বাবুল। ছবি: নিউজবাংলা।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘বাবুল যেসব তথ্য দিচ্ছেন এবং আমরা যেসব তথ্য তার কাছে চেয়েছি সেগুলোর কী কী আমরা পেয়েছি- এসব বিষয় আমরা আদালতকে লিখিতভাবে জানাব।’

চট্টগ্রামে আলোচিত মিতু হত্যায় নতুন মামলার আসামি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আকতার জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তবে কী কী তথ্য তিনি দিচ্ছেন, তা জানাননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই রিমান্ডের বিষয়ে কিছু বলার সুযোগ নেই।’

জিজ্ঞাসাবাদে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে সন্তোষ বলেন, ‘বাবুল যেসব তথ্য দিচ্ছেন এবং আমরা যেসব তথ্য তার কাছে চেয়েছি সেগুলোর কী কী আমরা পেয়েছি- এসব বিষয় আমরা আদালতকে লিখিতভাবে জানাব।’

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, বাবুলের রিমান্ড শেষে তার সন্তানদের সঙ্গেও মামলার তদন্তের বিষয়ে কথা বলা হবে।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে তার স্বামী বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে গত ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়।

পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার গত বুধবার এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, মিতু হত্যায় বাবুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য নতুন একটি মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মামুনুলের কথিত তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে যা জানা গেল
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা: হেফাজতের চার নেতা রিমান্ডে
মামুনুল নিয়ে বিতণ্ডা: আ. লীগের দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ
রয়্যাল রিসোর্টে হামলা মামলা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪
মামুনুলের স্ত্রী কি তাকে পরিত্যাগ করেছেন?

শেয়ার করুন