মামুনুল আমাদের পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছে: ঝর্ণার ছেলে

সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে মামুনুল ও ঝর্ণা (বাঁয়ে), ভিডিও বার্তায় জামি। ছবি: সংগৃহিত

মামুনুল আমাদের পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছে: ঝর্ণার ছেলে

জামি বলেন, ‘কোনো বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তো ঝগড়া হবেই। সে (মামুনুল) তখনই নক করছে। তখনই দুজনের মধ্যে আরও ডিস্ট্যান্স বাড়ায় দিছে। এভাবে করে সে একটা পরিবারের খুশি, ভালোবাসা, একটা পরিবারের মধ্যে যে মিলমিশ একটা সম্পর্ক পুরোপুরি সে ধ্বংস করে দিছে।’

হেফাজতে ইসলাম নেতা মামুনুল হক যে নারীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে ‘রিফ্রেশ’ হতে গিয়েছিলেন, সেই নারীর বড় ছেলে আব্দুর রহমান জামির একটি ভিডিওবার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কিশোর জামির অভিযোগ, মামুনুল হকের মধ্যে কোনো মনুষ্যত্ব বোধ নেই। তিনি নিজের অসৎ উদ্দেশ্য পূরণ করতে জামির বাবা শহিদুল ইসলাম ও মা জান্নাত আরা ঝর্নার মধ্যে পরিকল্পিতভাবে দূরত্ব তৈরি করেন। এ ক্ষেত্রে শহিদুল ইসলামের ‘অন্ধ আনুগত্যকেও’ ব্যবহার করেছেন মামুনুল।

মামুনুল হক গত শনিবার এক নারীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে ঘেরাও করে। মামুনুল ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও তার নাম, শ্বশুরবাড়ি, শ্বশুরের নাম সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে সেই নারীর দেয়া তথ্যের কোনো মিল নেই।

মামুনুল বলেছেন, তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম আমেনা তইয়্যেবা। বাড়ি খুলনায়, শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম।

তবে সেই নারী জানিয়েছেন তার নাম জান্নাত আরা ঝর্না, বাবার নাম অলিয়র, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়।

দুইজনের তথ্যের এই গরমিলের মধ্যেই বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোনে কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়। এর একটিতে বোঝা যায় মামুনুল তার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, সেই নারী তার পরিচিত শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার কারণে চাপে পড়ে তাকে স্ত্রী পরিচয় দিতে বাধ্য হয়েছেন।

পরে আরেকটি কথোপকথন ফাঁস হয়, যা মামুনুলের সঙ্গে তার রিসোর্টের সঙ্গীনির মধ্যকার বলে প্রতীয়মান হয়। সেখানে সেই নারী জানান, তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার মায়ের একটি বন্ধ মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। আর অন্য একজন যখন তাকে কোথায় বিয়ে হয়েছে জিজ্ঞেস করেছে, তখন তিনি বলেছেন, এটা জানেন না। মামুনুলের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।

আরও একটি কথোপকথনে বোঝা যায় মামুনুলের বোন কথা বলেছেন হেফাজত নেতার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি তাকে বুঝিয়েছেন, কেউ যদি তাকে ফোন করে, তাহলে তিনি যেন বলেন, তিনি বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন এবং তার শাশুড়ি এই বিয়ের আয়োজন করেছেন।

এরপর মামুনুল ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, তিনি বিয়ে করেছেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর স্ত্রীকে। পারিবারিকভাবেই এই বিয়ে হয়েছে।

পরদিন ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি একে একটি মানবিক বিয়ে উল্লেখ করে লেখেন, সেই নারীর সঙ্গে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ির আগে তিনি সংসার টেকানোর চেষ্টা করেছেন। ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি দুর্দশায় পড়ে যায়। সে সময় তিনি বিয়ে করে নিয়েছেন তাকে।

এরই মধ্যে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ঝর্ণা ও শহীদুলের বড় ছেলে আব্দুর রহমান জামি। তিনি বলেন, ‘আমি তো অনেক অলরেড… হয়ে গেছি। অনেক কিছু শিখছি, অনেক কিছু জানছি। একটা ম্যাচ্যুউর ভাব আইছে। আমি কিছুটা সহ্য করে নিতে পারি। কিন্তু আমার তো একটা ছোট ভাই আছে। ১৩/১৪ বছর বয়স। কেবল উঠতি বয়স। এমন সময় কত মানুষের কথা শোনা লাগতিসে। সমাজের সামনে সে মুখ দেখাতে পারতেসে না।’

আক্ষেপ করে জামি বলেন, ‘আমার ছোটভাইটা কালকে, রাতে যখন এ ঘটনাটা ঘটল, কোনোদিন আমি দেখি নাই যে রাত ৩টা-৪টা পর্যন্ত জেগে রইছে। কালকে চোখে কোনো ঘুমই নাই। টোট্যালি ওটা নিয়ে মনে হচ্ছে ও মেন্টালি শকড। ও বাসা থেকে বেড়োয়ে গেছিল, যে আমি বাসায় থাকলে কী উল্টা পাল্টা করব আমি নিজেও জানি না, এ কারণে বেড়োয়ে গেছে।’

এ ঘটনার জন্য নিজের বাবা শহিদুলকেও দায়ী করেন জামি। তিনি বলেন, ‘এটা আমি বলব যে, আমার বাবার কর্মের ফল। আমার বাবা এই মানুষটাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করত। পাগলের মতো ভালোবাসত।

‘ওই লোকটা (মামুনুল হক)… কিছুদিন আগে মোল্লাদের একটা মাহফিল হয়েছিল। ওখানে পুলিশ তাকে ঢুকতে দেবে না। সে একটা জায়গায় লুকায় ছিল, আমার বাবা সেটা দেখে এসে কীভাবে কানছে। তার আগেই আমি সেটা জানছি যে আমার মার সাথে তার সম্পর্ক আছে।

‘আমি তখন হাসতেছিলাম যে, এই লোকটা (শহীদুল) তার (মামুনুল) জন্য পাগলের মতো কানতেছে, এভাবে অঝর ধারায় কানতেসে আর ওই লোক এই লোকটার সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করতেসে। তারপরে যখন ওনাকে জেলে নিলো, মাওলানা মামুনুল হককে জেলে নিলো তখন আমার বাবা বলেছিল পুলিশের কাছে, থানার ওসি কামরুজ্জামানকে যে, তুমি আমাকে রেখে ওই লোকটারে ছাইড়ে দাও। কতটা ভালোবাসলে মানুষ এই কথাটা বলতে পারে। আর সেই লোকটা এভাবে গাদ্দারি করল।’

শহীদুল ইসলাম তার দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা সুলতানাকে নিয়ে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার শাহীনূর জামে মসজিদ সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। প্রথম স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্নার সঙ্গে বছর তিনেক আগে শহীদুলের বিয়ে বিচ্ছেদ হলেও জামিসহ ওই ঘরের দুই সন্তান বাবার সঙ্গেই আছে। শহীদুল ওই এলাকার তা’লীমুল মিল্লাত রহমাতিয়া ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও খালাসি মসজিদের ইমাম।

বাবা-মায়ের বিয়ে বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামি ফেসবুক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘আরো আগের ঘটনা, যখন ডিভোর্স হয়নি। আমি সেই সময় অনেকটা ছোট, আমার ছোটভাই অনেক ছোট। ও দুগ্ধ শিশু ছিল। তখন একবার আমার বাবা বাসায় ছিলেন না, তখন আমি ছিলাম। আমি ঘুমায় ছিলাম বা বাহিরে ছিলাম। তখন নাকি আমার মা আমার ছোট ভাইকে দুগ্ধ পান করাচ্ছিল। তখন উনি (মামুনুল) আমার মায়ের রুমে হুট করে ঢুকে যায় এবং একটা কুপ্রস্তাব দিয়েছিল।

‘কিন্তু আমার মা সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিল। না এটা সম্ভব না, আপনি তো ঠকাচ্ছেন আপনার কাছের মানুষটাকে, বন্ধুকে। সে তখন ফিরে এসেছিল। তখন থেকেই তার মনে একটা কামুক ভাব ঢুকে গেছে। সে লোভ সামলাতে পারতেছিল না। সে সব কিছুর একটা সুযোগে ছিল। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে সে এটা বুঝতে পারেনি। যখনই সে সুযোগ পাইসে, এনাদের (শহীদুল-ঝর্ণা) মধ্যে ডিস্ট্যান্স বাড়ায় দিছে।’

মামুনুলের অসৎ উদ্দেশ্য তুলে ধরে জামি বলেন, ‘কোনো বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তো ঝগড়া হবেই। সে (মামুনুল) তখনই নক করছে। তখনই দুজনের মধ্যে আরও ডিস্ট্যান্স বাড়ায় দিছে। এভাবে করে সে একটা পরিবারের খুশি, ভালোবাসা, একটা পরিবারের মধ্যে যে মিলমিশ একটা সম্পর্ক পুরোপুরি সে ধ্বংস করে দিছে। আরও এভাবে কত মানুষের, পরিবারের ভালোবাসা সে ধ্বংস করছে এর কোনো ঠিক নাই।’

হেফাজতে ইসলাম নেতা মামুনুল হকের বিচার দাবি করেন জামি। তিনি বলেন, ‘এখানে আমি আশা করব, আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আশা করব এর যেন সঠিক বিচার হয়, আপনারা কারো অন্ধ ভক্ত হয়েন না। কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস কইরেন না। ক্যান, সবারই মুখোশের আড়ালে একটা চেহারা থাকে। এই লোকটা আলেম নামধারি একটা মুখোশধারী একটা জানোয়ার। এর মধ্যে কোনো মানুষত্ব নাই। সুযোগের সব সময় অপেক্ষায় থাকে। কাকে কীভাবে দুর্বল করা যায়। আমার আর কিছু বলার মতো ভাষা নাই।’

ভিডিওতে বক্তব্য দেয়া কিশোর যে আব্দুর রহমান জামি, সেটি নিশ্চিত করেছেন খুলনায় শহীদুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা সুলতানা। তবে তিনি দাবি করেন, জামিকে ‘চাপ’ দিয়ে এমন বক্তব্য দেয়া হয়েছে। জামি এখন ঢাকায় আছেন বলেও জানান সালমা।

অন্যদিকে, জামির বাবা শহীদুল ইসলামও আছেন ঢাকায়। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলব না।’

শহীদুলের স্বজনেরা যা বলছেন

শহীদুল ইসলাম এখন খুলনা শহরে থাকলেও তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কচুরিয়া গ্রামে। শহীদুলের সঙ্গে ঝর্ণার ১৭ বছরের দাম্পত্য ভেঙে যাওয়ার কারণ এখনও জানেন না তার স্বজনেরা। রিসোর্ট-কাণ্ডে হতবাক তারা।

শহীদুল ইসলামের বাবা সরোয়ার শেখ নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মোরা হুনছি এমন একটা ঘটনা ঘটছে। মোর পোলার লগে তার ডিফোস হইছে তিন বছর আগে, এর বেশি কিছু মুই জানি না। মোর ছেলেও তো বাড়িতে থায়ে না। হ্যায় তো খুলনাতে একটা মাদ্রাসায় পড়ায়। দ্বিতীয় বউ লইয়া হেইখানেই থাহে।’

শহীদুল ইসলামের ছোট ভাই তহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাই চাকরির কারণে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকে। ২০০১ সালে জান্নাত আরা ঝর্ণার সাথে আমার ভাইয়ের বিয়ে হয়, আর ২০১৭ সালে সে আমার ভাইকে তালাক দেয়। পারিবারিক সমস্যা ছিল, এর বেশি আমি জানি না।’

শহীদুল ইসলামের চাচি সবুরা বেগম নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘১৭ বছরের সংসার বাবা, কেউ এমনে ছাইড়া যায়। হুনছি সারাদিন মোবাইলে কার লগে কথা কইতে। বাড়িতে আইলেও কানের কাছে মোবাইল থাকত। এই মোবাইলের লইগা সংসারটা ভাঙছে। হুজুরই তো শহিদুলের লগে ওই বিডির বিয়া দিছিল, এহন হুনি হেই নাকি ওই হুজুরের বউ।’

আরও পড়ুন:
‘চোরার মায়ের বড় গলা’
মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: প্রত্যাহার সেই এএসআই
রিসোর্টকাণ্ড: মামুনুল সমর্থকদের রোষানলে গণমাধ্যম
মামুনুলের রিসোর্ট কাণ্ড: প্রশ্নের মুখে ‘লা জবাব’ হেফাজত
রিসোর্টের নারী নয়, তাইয়্যেবা মামুনুলের প্রকৃত স্ত্রীর নাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা

নাতিদের কাছে পেতে আদালতে যাচ্ছেন মিতুর বাবা

মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রোববার সকালে আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব। আইনজীবীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তীতে আদালতে আবেদন করব।’

নাতি-নাতনিকে নিজেদের জিম্মায় চেয়ে আদালতে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন।

নিউজবাংলাকে শনিবার রাত ১১ টার দিকে তিনি বলেন, ‘মিতু আমার বড় সন্তান। তার ছেলে মেয়ে আমার প্রথম নাতি-নাতনি। মেয়ে মারা যাওয়ার পর তাদেরকে আমাদের কাছে রাখতে চেয়েছি, কিছুদিন রেখে ছিলাম। কিন্তু বাবুল আকতার তাদেরকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়। এখন সে (বাবুল আকতার) গ্রেপ্তার। তাই নাতি-নাতনিদের বিশ্বস্ত অভিভাবক প্রয়োজন। এ জন্য আমরা আদালতে আবেদন করব।’

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘রোববার সকালে আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব। আইনজীবীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তীতে আদালতে আবেদন করব।’

মিতু-বাবুল দম্পতির দুই সন্তান, তারমধ্যে একজন ছেলে, একজন মেয়ে। বাবুল আকতার গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত তার কাছে ছিল সন্তানরা।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে গত ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়।

পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার গত বুধবার এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, মিতু হত্যায় বাবুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য নতুন একটি মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
‘চোরার মায়ের বড় গলা’
মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: প্রত্যাহার সেই এএসআই
রিসোর্টকাণ্ড: মামুনুল সমর্থকদের রোষানলে গণমাধ্যম
মামুনুলের রিসোর্ট কাণ্ড: প্রশ্নের মুখে ‘লা জবাব’ হেফাজত
রিসোর্টের নারী নয়, তাইয়্যেবা মামুনুলের প্রকৃত স্ত্রীর নাম

শেয়ার করুন

ধান কাটতে গিয়ে ফিরল নিথর দেহে

ধান কাটতে গিয়ে ফিরল নিথর দেহে

স্বজন হারানো মানুষের কান্নায় ভারি নন্দলালপুর। ছবি: নিউজবাংলা

ঈদের পরের দিন অন্যদের সঙ্গে ধান কাটতে নওগাঁয় যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ লিটন, আব্দুল মালেক ও রেজাউল করিম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। ট্রাকের ধাক্কায় ভটভটিতে থাকা তিনজন লাশ হয়ে ফিরেছেন নিজ বাড়িতে।

‘যাওয়ার আগে বারে বারে ঘুরা ঘুরা আসছে। মুক্তারে মুক্তারে বল্যা ডাকছে। হ্যামি বের হয়্যা খইছি, কী হলো কহ। তহন বলছে হ্যামার ধান কাটতে য্যাতে মুন টানে না, জিটা কেমন করছে।

এভাবে চারবার ঘুইরা আসার পর, শেষবার গ্যালো। তার ঘণ্টাখানের পরেই হামার এক দেয়র (স্বামীর ভাই) বলছে, ভাবি জি ভাই রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে।’

বিলাপ করতে করতে কথাগুলো বলছিলেন ট্রাকের ধাক্কায় নিহত নন্দলালপুর গ্রামের মোহাম্মদ লিটনের স্ত্রী মুক্তা।

তার কান্নায় চোখ ভিজে ওঠে স্বজন আর প্রতিবেশীদের। শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে একই গ্রামের আরও দুইজনের।

এই গ্রামের লোকজন সাধারণত অন্য কাজ করলেও ধানকাটা মৌসুমে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যান নওগাঁয়। মজুরি হিসেবে তারা যে ধান পান, তা দিয়েই হয়ে যায় পরিবারের সদস্যদের সারা বছরের ভাতের জোগান।

ঈদের পরের দিন এই গ্রামের অন্যদের সঙ্গে ধান কাটতে নওগাঁয় যাচ্ছিলেন মোহাম্মদ লিটন, আব্দুল মালেক ও রেজাউল করিম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আর গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। ট্রাকের ধাক্কায় ভটভটিতে থাকা তিনজন লাশ হয়ে ফিরেছেন নিজ বাড়িতে।

শনিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে আসে তাদের নিথর দেহ। একই গ্রামের তিনজনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে নন্দলালপুর গ্রামে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি চারপাশ।

লিটনের বাড়িতে শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী মুক্তা স্বামীর মৃত্যুশোকে বিলাপ করছেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছেন, ‘হ্যার কপালে আল্লাহ তুমি একি লেখ্যাছিলা। হ্যামি এখন কেমন করে থাকব।’

বছর খানেক আগে বধূ হয়ে এই গ্রামে আসেন মুক্তা। বিয়ের পর লিটন নতুন ঘর দিয়েছেন। ছয় মাস আগে তারা উঠেছেন একচালা ঘরটিতে।

লিটনের স্ত্রী মুক্তা বলেন, ঈদের আগে ধান কেটে সাত মণ ধান নিয়ে এসেছিল ঈদ করতে। ঈদের পর ফের ধান কাটতে যাচ্ছিল। যাওয়ার আগে বলছিল তার যেতে ইচ্ছা করছে না। এ কথা বলে চারবার ঘুরে ঘুরে এসেছিল।

লিটন পেশার রাজমিস্ত্রি শ্রমিক ছিলেন। কাজ করতেন চট্টগ্রামে। ধান কাটতে মাসখানেক আগে বাড়িতে এসেছিলেন।

দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এই গ্রামের আরেকজন আব্দুল মালেক। তিনি রং মিস্ত্রীর কাজ করেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে নামজুল দশম শ্রেণিতে ও ছোট ছেলে এনামুল সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।

মালেকের স্ত্রী নাজমা বেগম বারবার বলছিলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমার স্বামীকে যেন আর কষ্ট না দেয়। কাটাছেঁড়া আর না করে।’

মারা যাওয়া অন্যজন রেজাউল করিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মরদেহের অপেক্ষায় বসে আছেন স্বজনরা। রেজাউল করিমের বড় মেয়ে পপির কান্নায় তখন অন্যদের চোখেও জল।

‘আব্বা তুমি আর মোবাইল করা কহবা না যে, কদিনের ল্যাহা বাড়িয়্যা যা, এমন কইর‍্যা কে হামাকে আর ডাকবে আব্বা।’

নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা দুরুল জানান, মজুরি হিসেবে গ্রামের সবাই সারা বছরের খাওয়ার সমান ধান পায়। ধান-চালের দাম বেশি। সারা বছর যদি ধানের চিন্তাটা না থাকে তাহলে অন্য খরচ তখন কোনো রকমে চলবে। এটা ভেবে তাদের বেশিরভাগ মানুষই ধান কাটতে যান।

আরও পড়ুন:
‘চোরার মায়ের বড় গলা’
মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: প্রত্যাহার সেই এএসআই
রিসোর্টকাণ্ড: মামুনুল সমর্থকদের রোষানলে গণমাধ্যম
মামুনুলের রিসোর্ট কাণ্ড: প্রশ্নের মুখে ‘লা জবাব’ হেফাজত
রিসোর্টের নারী নয়, তাইয়্যেবা মামুনুলের প্রকৃত স্ত্রীর নাম

শেয়ার করুন

হেফাজতের সহিংসতায় প্ররোচনা: জামায়াতের শাহজাহান রিমান্ডে

হেফাজতের সহিংসতায় প্ররোচনা: জামায়াতের শাহজাহান রিমান্ডে

জামায়াতে ইসলামের নেতা ও সাতকানিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

পুলিশের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) হুমায়ন কবির বলেন, শাহজাহানকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত পাঠিয়েছে তিনদিনের রিমান্ডে। তাকে হাটহাজারী থানায় হওয়া তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

হাটহাজারীতে হেফাজতের সহিংসতায় প্ররোচনা ও ইন্ধন দেয়ার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামের নেতা ও সাতকানিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শাহরিয়ার ইকবালের আদালত শনিবার দুপুরে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।

জেলা পুলিশের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) হুমায়ন কবির বলেন, শাহজাহানকে ৭ দিনের রিমান্ড নেয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত পাঠিয়েছে তিনদিনের রিমান্ডে। তাকে হাটহাজারী থানায় হওয়া তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সাতকানিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদর পাড়া থেকে শুক্রবার রাত ২টার দিকে শাহজাহানকে আটক করা হয়।

শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সাতকানিয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

হেফাজতের সহিংসতায় প্ররোচনা: জামায়াতের শাহজাহান রিমান্ডে
গত ২৬ মার্চ হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা স্থানীয় ডাক বাংলো, এসি ল্যান্ড অফিসের পাশাপাশি হামলা চালায় থানায়

১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য হওয়ার পর তাকে দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির করা হয়। তখন থেকে পরবর্তী চারদলীয় জোট সরকারের আমল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে ১৮টি মামলা জোট সরকার আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

চট্টগ্রাম জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৫০টির বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি নাশকতা ও হত্যা মামলা বিচারাধীন বলে জানিয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে সক্রিয় হেফাজত কর্মীরা বায়তুল মোকাররম এলাকায় সরকার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন।

এই সংঘর্ষ চলার সময় হেফাজতের সদরদপ্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদ থেকে মিছিল নিয়ে গিয়ে সরকারি ডাকবাংলো, এসিল্যান্ড অফিসের পর থানায় হামলা করে হেফাজতকর্মীরা। তখন পুলিশ গুলি চালালে চারজন হেফাজতকর্মী নিহত হন।

সেদিনের সেই ঘটনার পর দেশের আরও নানা এলাকায় সহিংস হয়ে ওঠে হেফাজত। হাটহাজারীতে মাদ্রাসার পাশে চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি সড়কে ইটের দেয়াল তুলে দুই দিন তা অবরোধ করে রাখে ছাত্ররা। হামলা হয় ট্রেনে।

আরও পড়ুন:
‘চোরার মায়ের বড় গলা’
মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: প্রত্যাহার সেই এএসআই
রিসোর্টকাণ্ড: মামুনুল সমর্থকদের রোষানলে গণমাধ্যম
মামুনুলের রিসোর্ট কাণ্ড: প্রশ্নের মুখে ‘লা জবাব’ হেফাজত
রিসোর্টের নারী নয়, তাইয়্যেবা মামুনুলের প্রকৃত স্ত্রীর নাম

শেয়ার করুন

মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

মিতু হত্যার তথ্য দিচ্ছেন বাবুল আকতার: পিবিআই

মিতু হত্যার পর বাবুলের আহাজারি (বাঁয়ে) এবং পাঁচ বছর পর নতুন মামলার আসামি হিসেবে আদালতে বাবুল। ছবি: নিউজবাংলা।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘বাবুল যেসব তথ্য দিচ্ছেন এবং আমরা যেসব তথ্য তার কাছে চেয়েছি সেগুলোর কী কী আমরা পেয়েছি- এসব বিষয় আমরা আদালতকে লিখিতভাবে জানাব।’

চট্টগ্রামে আলোচিত মিতু হত্যায় নতুন মামলার আসামি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আকতার জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

তবে কী কী তথ্য তিনি দিচ্ছেন, তা জানাননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই রিমান্ডের বিষয়ে কিছু বলার সুযোগ নেই।’

জিজ্ঞাসাবাদে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে সন্তোষ বলেন, ‘বাবুল যেসব তথ্য দিচ্ছেন এবং আমরা যেসব তথ্য তার কাছে চেয়েছি সেগুলোর কী কী আমরা পেয়েছি- এসব বিষয় আমরা আদালতকে লিখিতভাবে জানাব।’

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, বাবুলের রিমান্ড শেষে তার সন্তানদের সঙ্গেও মামলার তদন্তের বিষয়ে কথা বলা হবে।

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে তার স্বামী বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে গত ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেয়।

পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার গত বুধবার এক অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, মিতু হত্যায় বাবুলের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এজন্য নতুন একটি মামলায় তাকে আসামি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
‘চোরার মায়ের বড় গলা’
মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: প্রত্যাহার সেই এএসআই
রিসোর্টকাণ্ড: মামুনুল সমর্থকদের রোষানলে গণমাধ্যম
মামুনুলের রিসোর্ট কাণ্ড: প্রশ্নের মুখে ‘লা জবাব’ হেফাজত
রিসোর্টের নারী নয়, তাইয়্যেবা মামুনুলের প্রকৃত স্ত্রীর নাম

শেয়ার করুন

পরিবার ছাড়া প্রথম ঈদ ছোট্ট মিমের

পরিবার ছাড়া প্রথম ঈদ ছোট্ট মিমের

নতুন পোশাকে মিমের (বাঁয়ে) মুখে ফুটল হাসি। ছবি: নিউজবাংলা

পরিবারহারা আট বছরের এই মেয়েটির মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে এসেছেন অনেকেই। ২০টি নতুন পোশাক পেয়েছে সে। খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার অনেকে তাকে ঈদের উপহার হিসেবে এ পোশাকগুলো দিয়েছেন।

বাবার দেয়া নতুন পোশাক, মায়ের রান্না করা পছন্দের খাবার আর ভাই-বোনদের দুষ্টুমি, এসব নিয়েই শুরু হয় শিশুদের ঈদের দিন। ছোট্ট মিমেরও ঈদগুলো এমন হওয়ার কথা, গত বছর এমনটাই ছিল। এ বছর সে সবই স্মৃতি। এ বছর তার ঈদ শুরু হলো একা।

১১ দিন আগে মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় মিম হারায় মা-বাবা ও ছোট দুই বোনকে। খুলনার তেরখাদার বারাসাত ইউনিয়নে নানা-নানির বাড়িতে এবার তার ঈদ।

পরিবারহারা আট বছরের এই মেয়েটির মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে এসেছেন অনেকেই। ২০টি নতুন পোশাক পেয়েছে সে। খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার অনেকে তাকে ঈদের উপহার হিসেবে এ পোশাকগুলো দিয়েছেন।

নতুন পোশাক পেয়ে হাসি ফুটেছে তার মুখে।

ঈদের আগের দিন স্থানীয় সাংবাদিক এনায়েত মিম, তার নানি ও দুই খালাকে তার বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যান।

মিমের নানা মো. সবুর বলেন, ‘মিম আমাদের বাড়িতে থাকে। আজ ওর বাপের বাড়ি যাবে না। আগামীকাল যাবে। ঈদ উপলক্ষে প্রায় ২০টার মতো পোশাক পেয়েছে। সাংবাদিক এনায়েত গতকাল রাতে এসে মিমকে নিয়ে গেছেন তার বাসায়। সঙ্গে ওর নানি ও দুই খালা গেছে।’

শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ঘাটের কাছে গত ৩ মে বালুবোঝাই বাল্কহেডের ধাক্কায় স্পিডবোটডুবিতে প্রাণ হারায় ২৬ জন। এর মধ্যে ছিলেন মনির, তার স্ত্রী হেনা বিবি ও দুই মেয়ে চার বছরের সুমি, সাত বছরের রুমি খাতুন। বেঁচে যায় তার বড় মেয়ে মিম।

পরিবারটির একমাত্র জীবিত সদস্য মিম সে সময় বলে, ‘দাদু মারা গেছে। তাকে দেখতে আসছিলাম। আমি, আমার আব্বু, আম্মু আর দুই বোন। ঘাটে আইসে ধাক্কা খাইছিল গাড়ির (বাল্কহেড) সাথে। গাড়িডা (স্পিডবোট) ভাঙার সাথে সাথে আমি গাড়ির তলে পড়ে গেছিলাম। একটা ব্যাগের উপরে ভেসে উঠছিলাম। তারপর আমারে উঠাইছে।’

কাঁঠালবাড়ী দোতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে রাখা ২৬ মরদেহের মধ্য থেকে মা-বাবা ও দুই বোনের মরদেহ শনাক্ত করে নিজেই।

এ সময় মিমের কান্নায় উপস্থিত সবারই চোখ ভিজে আসে।

পরিবার ছাড়া প্রথম ঈদ মিমের

শিবচরের দুর্ঘটনায় বেঁচে যায় মনিরের পরিবারের একমাত্র সদস্য শিশু মিম

পরিবারহারা মিমের দায়িত্ব নিয়েছেন তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে মিমের জন্য ১ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিমের বিয়ের আগ পর্যন্ত তার ভরণপোষণ দেব বলে এলাকাবাসীর কাছে ওয়াদা দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
‘চোরার মায়ের বড় গলা’
মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: প্রত্যাহার সেই এএসআই
রিসোর্টকাণ্ড: মামুনুল সমর্থকদের রোষানলে গণমাধ্যম
মামুনুলের রিসোর্ট কাণ্ড: প্রশ্নের মুখে ‘লা জবাব’ হেফাজত
রিসোর্টের নারী নয়, তাইয়্যেবা মামুনুলের প্রকৃত স্ত্রীর নাম

শেয়ার করুন

ঈদের দিনও চলবে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ

ঈদের দিনও চলবে বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ

পিবিআই চট্টগ্রামের একজন পুলিশ সুপার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার কথা ছিল মামলার প্রধান আসামি বাবুলের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি জবানবন্দি দেননি।

চট্টগ্রামে মাহমুদা খানম মিতু হত্যার মামলায় তার স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আকতারকে ঈদের দিনও জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। এই বিশেষ দিনে হত্যা মামলার অন্য আসামিরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পায় তাকে তা দেয়া হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে নিউজবাংলাকে এসব কথা বলেন। যদিও বাবুল আকতার কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন তা পরিষ্কার করেননি তিনি।

তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মসহীন জানান, রিমান্ডে থাকা আসামির জন্য ঈদের দিন বিশেষ খাবারের আয়োজন থাকে। থানায় পুলিশ সদস্যরা যে ধরনের খাবার খান তাই দেয়া হয়। সাধারণত থাকে মাংস-ভাত।

সন্তোষ কুমার চাকমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালত আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে। সে অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ চালু থাকবে। ঈদের দিনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল আকতার নতুন কোনো তথ্য দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, রিমান্ড চলছে। এখন কিছু বলা যাবে না।

আসামি দোষ স্বীকার করেছেন কি না জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সেটি বলা যাবে না। রিমান্ড শেষে বিস্তারিত আদালতকে জানানো হবে।

তবে পিবিআই চট্টগ্রামের একজন পুলিশ সুপার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার কথা ছিল মামলার প্রধান আসামি বাবুলের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি জবানবন্দি দেননি।

বুধবার দুপুরে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যার অভিযোগ তুলে বাবুল আকতারসহ আটজনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। এই মামলার সাত নম্বর আসামি সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকু ওই দিন রাতে রাঙ্গুনিয়া থেকে গ্রেপ্তার হন। বৃহস্পতিবার তাকে চার দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এর আগে মিতু হত্যায় বাদী থেকে আসামি হওয়া বাবুলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহানের আদালতে তোলা হলে তাকে রিমান্ডে পাঠান বিচারক।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রামের ডিবি মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

আরও পড়ুন:
‘চোরার মায়ের বড় গলা’
মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: প্রত্যাহার সেই এএসআই
রিসোর্টকাণ্ড: মামুনুল সমর্থকদের রোষানলে গণমাধ্যম
মামুনুলের রিসোর্ট কাণ্ড: প্রশ্নের মুখে ‘লা জবাব’ হেফাজত
রিসোর্টের নারী নয়, তাইয়্যেবা মামুনুলের প্রকৃত স্ত্রীর নাম

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: ৪ দিনের রিমান্ডে সিকদার

মিতু হত্যা: ৪ দিনের রিমান্ডে সিকদার

এর আগে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে মিতুকে হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রামে মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি সাইদুল ইসলাম সিকদার ওরফে সাকুকে চারদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শফিউদ্দিনের আদালতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিকদারকে তোলা হলে পিবিআই তাকে সাতদিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করে। বিচারক তাকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে বুধবার রাত ৮টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে মিতুকে হত্যার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় বুধবার দুপুরে বাবুল আকতারসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন। এই মামলার ৭ নম্বর আসামি সাইদুল ইসলাম। মামলার ২ নম্বর আসামি কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুছার বড় ভাই তিনি।

মিতু হত্যার পর থেকেই নিখোঁজ বাবুল আকতারের সোর্স ও মামলার অন্যতম আসামি মুছা।

২০১৬ সালের ৪ জুলাই মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, ‘২২ জুন নগরীর বন্দর থানা এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে পুলিশ মুছাকে ধরে নিয়ে যায়। তবে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে পুলিশ।’

মিতু হত্যা গ্রেপ্তার সিকদার রিমান্ডে

বুধবার রাত সাড়ে ১১টার পান্না আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মুছাকে পুলিশ আমার সামনে থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। এরপর থেকে তার খোঁজ মেলেনি। আজ রাতে গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া থেকে আমার ভাশুর সাকুকে র‍্যাব ধরে নিয়ে গেছে।’

পাঁচলাইশ থানায় মামলার পর মিতুর বাবা দাবি করেন, বাবুল আকতারের বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাবুল আকতার কক্সবাজার থাকার সময় ২০১৩ সাল থেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। আমরা ওই নারীর নামও জানতে পেরেছি। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ হয়। কলহের জেরে বাকি আসামিদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সে তার স্ত্রীকে খুন করে।’

‘মিতু আমাদের পরকীয়ার কথা জানিয়েছিল। আমরা বাবুলের অবিভাবকদের জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো অ্যাকশন নেয়নি।’

এতদিন পর কেন মামলা করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একই ঘটনায় দুইটা মামলা হয় না। যেহেতু এই মামলা শেষ হয়ে গেছে তাই আমি নতুন করে মামলা করছি। নয়তো পুলিশকে একটা মামলা করতে হতো। তারা করে নাই, আমি করছি।’

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া জানান, আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় তার স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আকতারসহ আটজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই জানায়, মিতু হত্যায় বাবুলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এরই মধ্যে তার দুই বন্ধু গাজী আল মামুন ও সাইফুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

মিতু হত্যা গ্রেপ্তার সিকদার রিমান্ডে

বাবুল আকতারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ডেকে নেয় পিবিআই। বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেনকেও ডেকে নেয়া হয়েছে বন্দরনগরীতে।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুল আকতারকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রামের ডিবি মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

আরও পড়ুন:
‘চোরার মায়ের বড় গলা’
মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: প্রত্যাহার সেই এএসআই
রিসোর্টকাণ্ড: মামুনুল সমর্থকদের রোষানলে গণমাধ্যম
মামুনুলের রিসোর্ট কাণ্ড: প্রশ্নের মুখে ‘লা জবাব’ হেফাজত
রিসোর্টের নারী নয়, তাইয়্যেবা মামুনুলের প্রকৃত স্ত্রীর নাম

শেয়ার করুন