হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরও ৪ মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৎস্য অধিদপ্তর কার্যালয়ে হেফাজতের দেয়া আগুনে পুড়েছে এসব মোটরসাইকেল। ছবি: নিউজবাংলা

হেফাজতের তাণ্ডব: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আরও ৪ মামলা

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) রইছ উদ্দিন জানান, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত জেলায় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত ১১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মোট আসামি আট হাজারের বেশি হলেও বুধবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২১ জনকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের ‌তাণ্ডবের ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়েছে।

জেলা সদর থানা, সরাইল থানা ও আশুগঞ্জ থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে বুধবার পর্যন্ত এই মামলাগুলো হয়েছে।

চারটি মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজারেরও বেশি লোককে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) রইছ উদ্দিন এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত জেলায় হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত ১১টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মোট আসামি আট হাজারের বেশি হলেও বুধবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২১ জনকে।

রইছ উদ্দিন আরও জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া ভিডিওচিত্র দেখে আসামিদের শনাক্তের কাজ চলছে।

bbaria
হেফাজত কর্মীদের ভাঙচুরের পর পেট্রল ঢেলে দেয়া আগুনে পুড়ছে সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত শুক্রবার (২৬ মার্চ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কান্দিপাড়া এলাকার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা থেকে কয়েক হাজার ছাত্রের মিছিল বের হয়। তারা শহরের কেন্দ্রস্থল বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে গিয়ে হামলে পড়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে। সেটি ভেঙে আগুন দেয়ার পাশাপাশি তারা আগুন দেয় শহরের রেলস্টেশন, আনসার ক্যাম্প, মৎস্য অধিদপ্তরে।

হামলা হয় পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও। এ সময় পুলিশ গুলি চালালে একজন নিহত হয়।

পরদিন মহাসড়ক অবরোধ করে পুলিশের ওপর হামলে পড়ে মাদ্রাসাছাত্ররা। তখন পুলিশ গুলি চালালে প্রাণ হারায় পাঁচজন।

bbaria attack
শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে জাতির পিতার ম্যুরালটিতে তিন দিনের মধ্যে দুইবার আগুন দিয়ে ভাঙচুর করা হয়

নিহত ব্যক্তিদের নিজেদের কর্মী দাবি করে প্রতিবাদে রোববারের হরতাল ডাকে হেফাজত। হরতালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলে ব্যাপক তাণ্ডব। বঙ্গবন্ধুর দুটি ম্যুরাল ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সবগুলো স্থাপনায় ভাঙচুরের পাশাপাশি ধরিয়ে দেয়া হয় আগুন।

হামলা চলে পৌরসভা কার্যালয়, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর, গণগ্রন্থাগার, সংগীতজ্ঞ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ‘সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন’ ও মিলনায়তন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকারের অফিস, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি এবং সরাইলের খাটিহাতা হাইওয়ে থানায়।

bbaria attack
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেয়ার পর সেটি জ্বলতে থাকে

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক-ডিআইজি আনোয়ার হোসেন সোমবার জানান, ঘটনা তদন্ত করবে তাদের তিন সদস্যের কমিটি। এর প্রধান করা গয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাকির হোসেনকে। তাদের আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আইনি কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, এমন প্রশ্নে ডিআইজি বলেন, ‘এখানে ২০টিরও বেশি ঘটনাস্থল রয়েছে। সব ঘটনাতেই মামলা প্রক্রিয়াধীন। সিআইডি এবং পিবিআই বিশেষজ্ঞ দল ডাকা হয়েছে। তারা প্রতিটি ঘটনাস্থল ঘুরে আলামত সংগ্রহ করবে। প্রতিটি ঘটনার মামলা বিশেষজ্ঞ দল তদন্ত করবে।’

আরও পড়ুন:
চলার পথের ভুল: সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ নিয়ে মামুনুল
তাণ্ডবের কারণে পদত্যাগী নেতাকে ফেরাতে ব্যাকুল মামুনুল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতবাক প্রতিমন্ত্রী খালেদ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লিচুগাছের আম ছিঁড়ল কে

লিচুগাছের আম ছিঁড়ল কে

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের ভাতিজা আমটি ছিঁড়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ গাছের মালিকের। ছবি: নিউজবাংলা

আবদুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাত্র দুইজন ছিলাম। আমি বয়স্ক মানুষ, শক্তি দিয়ে কি তাদের সাথে পারব? আবার তার চাচা মেম্বার মানুষ।’

লিচুগাছে ধরা সেই আমটি ছিঁড়ে গাছের নিচে ফেলে রেখে গেছে দুই তরুণ। এমন অভিযোগ গাছের মালিক আবদুর রহমানের।

নিউজবাংলার ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মঙ্গলবার সকালে লাইভ করার পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যের ভাতিজা আমটি ছিঁড়ে নিয়েছে বলে জানান গাছের মালিক।

আবদুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, সকালে সফিকুল ইসলাম সিকিম মেম্বারের ভাতিজা সোহেল রানা আসে আমটি দেখতে। ফিরে যাওয়ার পথে একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে তর্ক হলে বিষয়টি সে তার চাচা সিকিম মেম্বারকে জানায়।

পরে মেম্বারের সঙ্গে তার দুই ভাতিজাসহ আরও দুইজন সেখানে উপস্থিত হয়। এরপর মেম্বারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় আবদুর রহমানের। এক পর্যায়ে একজন গাছ থেকে আমটি ছিঁড়ে নিচে ফেলে চলে যায়।

আবদুর রহমান বলেন, ‘আমরা মাত্র দুইজন ছিলাম। আমি বয়স্ক মানুষ, শক্তি দিয়ে কি তাদের সাথে পারব? আবার তার চাচা মেম্বার মানুষ।’

এ বিষয়ে বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাকে বিভিন্ন জেলার মানুষসহ সাংবাদিকরা বার বার ফোন দিয়ে বিরক্ত করছে। সকালে আমি সেখানে গিয়ে আবদুর রহমানকে বলেছি, যাতে সেখানে একটু ভিড় কম হয়। এখন করোনার সময়, এমনি দেশের অবস্থা ভালো না।

‘এরপর সে আমাকে বলে আপনারা মেম্বার-চেয়ারম্যান কী করেন? এসব আপনারা সামলাতে পারেন না? এর মাঝে কে আমটি ছিঁড়েছে, আমি চিনি না তাদের। কারণ তারা তো আর আমার সঙ্গে যায়নি। এখন আবদুর রহমান আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন।’

ঠাকুরগাঁও কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পড়া আমটি দেখতে গিয়েছিলাম। যারা এ আমটি ছিঁড়ে ফেলেছে তারা মোটেও ভাল কাজ করেনি। এটা ঠাকুরগাঁওয়ে আমাদের নতুন একটা খোঁজ ছিল। আম গাছটি যেহেতু ছোট আমরা গাছটিকে পর্যবেক্ষণে রাখব।

এর আগে গত রোববার লিচুগাছে আমটি দেখতে পায় আবদুর রহমানের নাতি হৃদয়। তার কাছ থেকেই পাড়ার লোকজন এই বিরল গাছের বিষয়টি জানতে পারে।

আরও পড়ুন:
চলার পথের ভুল: সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ নিয়ে মামুনুল
তাণ্ডবের কারণে পদত্যাগী নেতাকে ফেরাতে ব্যাকুল মামুনুল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতবাক প্রতিমন্ত্রী খালেদ

শেয়ার করুন

যুবককে মারধর: তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

যুবককে মারধর: তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

শহীদুলকে টেনেহিঁচড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে চড়থাপ্পড়, লাথি দেয় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের মডেল হাই স্কুলের সামনে রোববার বিকেলে রিকশায় করে যাওয়া এক যুবককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে চড়থাপ্পড়, লাথি দেয়ার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ফেনীতে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পেটানোর অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কৈফিয়ত চেয়ে তাদের তলব করেছে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)।

এসপি খোন্দকার নূরুন্নবী সোমবার রাতে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ওই পুলিশ সদস্যদের পরিচয় তিনি জানাননি।

ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের মডেল হাই স্কুলের সামনে রোববার বিকেলে রিকশায় করে যাওয়া এক যুবককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে চড়থাপ্পড়, লাথি দেয়ার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে শহিদুল ইসলাম নামের ওই যুবক অসংলগ্ন আচরণ করছেন। এর মধ্যে তিনি রিকশায় করে বাইরে গিয়েছিলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, মাস্ক ছাড়াই রিকশায় করে উকিলপাড়া থেকে ট্রাংক রোডের দিকে যাচ্ছিলেন শহিদুল। মডেল স্কুলের সামনে মডেল থানার এসআই যশোমন্ত মজুমদারসহ পুলিশ সদস্যরা তার রিকশার গতিরোধ করে।

এরপর কথা-কাটাকাটি থেকে শহিদুলের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

এসপি খোন্দকার নূরুন্নবী জানান, লোকটি মানসিক ভারসাম্যহীন। পুলিশ দায়িত্ব পালন করার সময় জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পুলিশের ওপর ক্ষেপে যায় এবং মারতে আসে। তখন পুলিশ আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছে। তার গায়ে হাত তোলা পুলিশের উদ্দেশ্য নয়। ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না মর্মে মুচলেকা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

১৪ এপ্রিল থেকে চলা কঠোর বিধিনিষেধে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা বাইরে যেতে চান, তাদের পুলিশের কাছ থেকে মুভমেন্ট পাস সংগ্রহ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের হতে বলা হয়েছে।

মাস্ক না পরলে জরিমানাও করা হচ্ছে বহু জায়গায়।

জরুরি সেবাদানকারীদের মুভমেন্ট পাস থাকা বাধ্যতামূলক না হলেও ঢাকায় কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে পুলিশের আচরণ ও জরিমানার বিষয়টি নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন:
চলার পথের ভুল: সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ নিয়ে মামুনুল
তাণ্ডবের কারণে পদত্যাগী নেতাকে ফেরাতে ব্যাকুল মামুনুল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতবাক প্রতিমন্ত্রী খালেদ

শেয়ার করুন

মোল্লাহাটে পুলিশের ওপর হামলা: ২ হেফাজত কর্মী গ্রেপ্তার

মোল্লাহাটে পুলিশের ওপর হামলা: ২ হেফাজত কর্মী গ্রেপ্তার

বাগেরহাটে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের হামলায় মোল্লাহাট থানার ওসিসহ সাত পুলিশ আহত। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সোমবার রাতে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতপরিচয় আরও শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন এসআই শাহিনুর রহমান গোলদার। প্রধান আসামি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের আত্মীয় আব্দুল্লাহ খন্দকারকে।

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বের করা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুই হেফাজত কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মোল্লাহাটের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় রাফিন সরদার ও ত্রাণ মোল্লা নামের দুইজনকে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম কবির নিউজবাংলাকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সোমবার রাতে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতপরিচয় আরও শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিনুর রহমান গোলদার। প্রধান আসামি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের আত্মীয় আব্দুল্লাহ খন্দকারকে।

ওসি বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই উপজেলার উদয়পুর আড়িয়াকান্দি গ্রামের দুই হেফাজত কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মোড়ে সোমবার বেলা ১১টার দিকে মিছিল বের করেন হেফাজতের অনুসারীরা।

ওসি কাজী গোলাম কবির নিউজবাংলাকে বলেন, মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররা মিছিল নিয়ে হাসপাতাল মোড়ে জড়ো হতে থাকেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করেন। এতে তিনিসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন।

তিনি ছাড়া আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই ঠাকুর দাস, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাহারুল, লিয়াকত, কনস্টেবল সোহাগ মিয়া, নাজমুল ফকির ও ডিএসবির কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মামুনুল হককে সোমবার ভাঙচুরের মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত। পরে সেখান থেকে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।

এর আগে রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর মামুনুলকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রিসোর্ট-কাণ্ডে রাজধানীর পল্টন থানা ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দুটি মামলা হয় মামুনুলের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর তাণ্ডবের ঘটনাতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।

আরও পড়ুন:
চলার পথের ভুল: সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ নিয়ে মামুনুল
তাণ্ডবের কারণে পদত্যাগী নেতাকে ফেরাতে ব্যাকুল মামুনুল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতবাক প্রতিমন্ত্রী খালেদ

শেয়ার করুন

আসামি ছিনতাই: নুরের ১২ অনুসারী দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

আসামি ছিনতাই: নুরের ১২ অনুসারী দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

মতিঝিল থেকে আবুল কালাম আজাদ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক ওই ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কর্মীরা তাকে জোরপূর্বক পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যান। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করেন পল্টন মডেল থানার এসআই রায়হান করিব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ১২ নেতা-কর্মীকে দ্বিতীয় দফায় দুই দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

সোমবার দুটি মামলায় ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) দেবদাস চন্দ্র অধিকারী ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডের এই আদেশ দেন।

বিশেষ ক্ষমতা আইনে শাহবাগ থানার মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ক্রীড়া সম্পাদক আরেফিন হোসেন ও তাওহীদুল ইসলাম শিপনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান মিয়া।

ঢাকা মেডিক্যাল থেকে আবুল কালাম আজাদ নামের এক আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় শাহবাগ থানার অপর মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক সজল ও ঢাকা কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল করিম সোহাগকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম খান।

একই মামলায় গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান, মোমিন আকন্দ, আরিফুল ইসলাম, শিপন ও রোকেয়া জাবেদ মায়াকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

এ সময় কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগার থেকে আসামিদের ভার্চুয়ালি উপস্থিত দেখানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক নিজাম উদ্দিন রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

আসামিপক্ষে আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম ও খাদেমুল ইসলাম ভার্চুয়ালি রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, ‘এই আসামিদের নাম এজাহারে নেই। তাদের হয়রানি করতে এবং জামিনে মুক্তিকে প্রলম্বিত করতে নতুন নতুন মামলায় এভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হচ্ছে। তাই রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করছি।’

শুনানি শেষে বিচারক দুই মামলাতেই প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৫ মার্চ মতিঝিল থানায় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ একটি মিছিল বের করে। সেই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিন মতিঝিলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রথম মামলা হয়।

মতিঝিল থেকে আবুল কালাম আজাদ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক ওই ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কর্মীরা তাকে জোরপূর্বক পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় একই দিনে শাহবাগ থানায় মামলা করেন পল্টন মডেল থানার এসআই রায়হান করিব।

মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান, সোহরাব, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহসহ মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

সর্বশেষ ২৭ মার্চ প্রেস ক্লাবের সামনে ধস্তাধস্তির ঘটনায় শাহবাগ থানার মামলা হয়।

যেই মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, মারধর, হত্যাচেষ্টার পাশাপাশি বিস্ফোরক আইনের অভিযোগও আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চলার পথের ভুল: সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ নিয়ে মামুনুল
তাণ্ডবের কারণে পদত্যাগী নেতাকে ফেরাতে ব্যাকুল মামুনুল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতবাক প্রতিমন্ত্রী খালেদ

শেয়ার করুন

মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: সোনারগাঁয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: সোনারগাঁয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রিসোর্টে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ হেফাজত নেতা মামুনুল হককে অবরুদ্ধের জেরে সেখানে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে।

পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

আব্দুল রউফ উপজেলার জাতীয় পার্টির সভাপতিও।

ওসি হাফিজুর জানান, পুলিশের করা দুইটি মামলায় আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক এক নারীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে গিয়ে অবরুদ্ধ হন। সে সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ফেসবুকে লাইভ করলে তোলপাড় হয়।

মামুনুল সে সময় যেসব তথ্য দিয়েছেন, পরে তার বেশির ভাগের সত্যতা মেলেনি।

স্থানীয় লোকজনের জেরার মুখে সঙ্গীনিকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে বলেন তার নাম আমেনা তাইয়্যেবা। দাবি করেন, তার শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম, শ্বশুরবাড়ি খুলনায়।

তবে সেই নারী পরে জানান তার নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা, বাবার নাম অলিয়র রহমান, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়।

এই ঘটনার পরে ফাঁস হওয়া বিভিন্ন ফোনালাপে মামুনুলের বিয়ের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার চার সন্তানের জননী স্ত্রী ওই দিন সন্ধ্যায় ছেলেদের নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসা ছেড়ে যান।

এসব ঘটনায় মামুনুল যখন বেকায়দায় তখন হেফাজতের নেতা-কর্মীরা মসজিদে মাইকিং করে জড়ো হয়ে একযোগে হামলা করেন রিসোর্টে। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করে মামুনুলকে ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরও করেন।

ক্ষমতাসীন দল ও তার সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় কার্যালয়েও হামলা হয়। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় সেগুলো। হামলা হয় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘরে।

ওই ঘটনায় হেফাজত, বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীসহ কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে পুলিশ দুইটি ও ক্ষতিগ্রস্তরা পাঁচটি মামলা করেছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চলার পথের ভুল: সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ নিয়ে মামুনুল
তাণ্ডবের কারণে পদত্যাগী নেতাকে ফেরাতে ব্যাকুল মামুনুল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতবাক প্রতিমন্ত্রী খালেদ

শেয়ার করুন

ঋণ মেটাতে এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্রে, ফিরলেন লাশ হয়ে

ঋণ মেটাতে এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্রে, ফিরলেন লাশ হয়ে

মাহমুদের মরদেহ দেখে মায়ের বিলাপ। ছবি: নিউজবাংলা

মা নূরাইন জান্নাত জানান, শুক্রবার রাতে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল মাহমুদের। সেহরির সময়ও কথা হয়। ছেলে বলেছিল, নামাজটা পড়েই চলে আসবে। কিন্তু ওরা জলজ্যন্ত ছেলেকে আসতে দিল না, লাশ পাঠাল।

  • সেহরির সময় মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক মাহমুদ রেজার। মাকে জানিয়েছিলেন, কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঝামেলা হচ্ছে, হতে পারে বড় কোনো গণ্ডগোল।

সে কথা শুনে মা বলেছিলেন, ফজরের নামাজ পড়েই বাড়ি ফিরে আসতে। রাজিও হয়েছিলেন মাহমুদ। বাড়ি তিনি ফিরেছেন। তবে সুস্থ অবস্থায় নয়; নিথর দেহে।

মাহমুদের বাড়ি বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনায়। বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এস আলম গ্রুপের এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামের ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেখানে শনিবার সকালে শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হন। তাদেরই একজন মাহমুদ।

বাড়ির পাশেই রোববার সন্ধ্যায় তার দাফন হয়। সেখানে গিয়ে কথা হয় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।

তারা জানালেন, মীর খান নামে এলাকায় পরিচিত ছিলেন ১৮ বছর বয়সী মাহমুদ। পড়তেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণিতে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। তিন বছর আগে বাবার মৃত্যু হয়।

কাজের জন্য ওমান পাড়ি জমান তার বড় ভাই। করোনায় সেখানে কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি। এরপর ঋণে চলে তাদের সংসার। সেই ঋণ বাড়তে থাকলে মাহমুদ কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিবেশীদের অনেকে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে কাজ করেন। তাদের হাত ধরেই মাত্র ১০ দিন আগে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে খণ্ডকালীন চাকরি নেন মাহমুদ।

চট্টগ্রাম

তার মা নূরাইন জান্নাত নিউজবাংলাকে জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছু ঝামেলা হচ্ছে, এমন কথা ফোনে বলেছিলেন মাহমুদ।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল মাহমুদের। সেহরির সময়ও কথা হয়। ছেলে বলেছিল, নামাজটা পড়েই চলে আসবে। কিন্তু ওরা জলজ্যন্ত ছেলেকে আসতে দিল না, লাশ পাঠাল।

প্রতিবেশী আব্দুস ছালাম বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়ায় লকডাউনে অর্থকষ্টে পড়ায় মাহমুদকে চাকরিতে যেতে সম্মতি দিয়েছিলেন তার মা। পাশাপাশি বড় ভাইয়ের বিদেশ যাওয়া নিয়ে তিন লাখেরও বেশি টাকার ঋণে জড়িয়ে যায় তার পরিবার। এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে চাকরি করতে যাওয়ার এটাই মূল কারণ ছিল।

পূর্ব বড়ঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলী হোছাইন এসেছিলেন পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে। পরিবারের সদস্য ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে তিনি এই শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন:
চলার পথের ভুল: সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ নিয়ে মামুনুল
তাণ্ডবের কারণে পদত্যাগী নেতাকে ফেরাতে ব্যাকুল মামুনুল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতবাক প্রতিমন্ত্রী খালেদ

শেয়ার করুন

হরতালে সহিংসতা: নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার জামায়াত নেতাসহ ৩

হরতালে সহিংসতা: নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার জামায়াত নেতাসহ ৩

গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা মঈনুদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে গত ২৮ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড মোড় থেকে শিমরাইল এলাকা পর্যন্ত হরতাল সমর্থনকারীরা সহিংসতা চালায়। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মঈনুদ্দিনকে।

হেফাজতের হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার মামলায় জামায়াত নেতা মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমেদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফতুল্লার তল্লা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মঈনুদ্দিনকে।

একই সময় ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি নেতা মো. ইসলাম ও জামায়াতের সদস্য মো. জনিকে। মো. ইসলাম বিএনপিতে কোন পদে আছেন তা নিশ্চিত করা যায়নি।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী এই তথ্যগুলো জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

হরতালে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে ৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা হরতালে গত ২৮ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড মোড় থেকে শিমরাইল এলাকা পর্যন্ত হরতাল সমর্থনকারীরা সহিংসতা চালায়।

এদিন যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্তত ৫০টি গাড়ি ভাঙচুর হয়। আগুন দেয়া হয় ১৮টি গাড়িতে।

এ ঘটনার দুই দিন পর পুলিশ ও র‍্যাব ছয়টি মামলা করে। পরে আরও তিনটি মামলা করেন ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকরা।

আরও পড়ুন:
চলার পথের ভুল: সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ নিয়ে মামুনুল
তাণ্ডবের কারণে পদত্যাগী নেতাকে ফেরাতে ব্যাকুল মামুনুল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে হতবাক প্রতিমন্ত্রী খালেদ

শেয়ার করুন