নিপুণ রায় তিন দিনের রিমান্ডে

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

নিপুণ রায় তিন দিনের রিমান্ডে

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায়ের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা হরতালে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে সরাসরি নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। রোববার তাকে আটক করে র‍্যাব।

হেফাজতের ডাকা হরতালে বাসে আগুন দেয়া ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় করা মামলায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ও তার কর্মী আরমানকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের হাকিম মামুন অর রশীদ এই আদেশ দেন।

দল থেকে নিখোঁজ দাবি করা বিএনপির নেত্রী নিপুণ রায়কে রোববার বিকেলে র‌্যাব আটক করে বলে বাহিনীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারের বাসা থেকে নিপুণকে আটকের কারণ হিসেবে র‌্যাব থেকে জানানো হয়, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা হরতালে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে সরাসরি নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই দিন তার কর্মী আরমানকেও আটক করা হয়।

এ ঘটনায় হাজারীবাগ থানায় করা একটি গাড়ি পোড়ানো মামলায় নিপুণ ও আরমানের চার দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ।

এদিকে রিমান্ড বাতিল চেয়ে মামলায় আসামিপক্ষে শুনানি করেন নিপুণের বাবা আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী এবং মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

শুনানিকালে আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘বায়তুল মোকাররমে কী হয়েছে, তা সবাই জানেন। পুলিশের ভাষ্য মতে, নিপুণ মোবাইল ফোনে আরমানকে গাড়িতে আগুন দিতে বলেছেন।

‘তাহলে তো ঘটনা জানাই গেছে, তাহলে আবার তাদের রিমান্ড নেয়া কেন? যেখানে ঘটনাই ঘটে নাই। নিপুণের কথায় যদি বাসে আগুন দিয়ে থাকে, তাহলে তা হবে ৪৩৫ ধারা। আদালতের বারান্দা পর্যন্ত আসলেই জামিন হওয়ার কথা।’

আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘নিপুণ রায় চৌধুরী অসুস্থ, তার চিকিৎসা প্রয়োজন। তাকে যদি জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়, তাহলে তার চিকিৎসা শেষে জেলগেটে জিজ্ঞাসা করবেন।’

রাষ্ট্রপক্ষের মহানগর আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করেছেন নিপুণ রায়।

শুনানি শেষে বিচারক মামুনুর রশীদ আসামিকে উচ্চ আদালতের দেয়া নির্দেশনা মোতাবেক তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

গত রোববার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নিপুণ রায়ের শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নিশ্চিত করে বলেন, তার পুত্রবধূকে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন: ‘নিখোঁজ’ নিপুণ রায় র‍্যাবের হাতে

আরও পড়ুন:
মানহানি মামলায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বরের জামিন
প্রেস ক্লাবে সমাবেশে বিএনপি
বিএনপির মিছিলে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি স্থগিত বিএনপির

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘শিশুবক্তাকে’ কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর

‘শিশুবক্তাকে’ কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর

২৫ মার্চ মতিঝিলের শাপলা চত্বরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় রফিকুলকে আটক করে পুলিশ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলামকে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে কাশিমপুর উচ্চ নিরাপত্তার কারাগার-২-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশীদ আকন্দ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশি পাহারায় রফিকুলকে গাজীপুর কারাগার থেকে বের করা হয়। এরপর সাড়ে ১২টার দিকে তারা কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছায়।

নেত্রকোণার পূর্বধলার লেডির কান্দার নিজ বাড়ি থেকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে রফিকুলকে র‌্যাব-১৪-এর একটি দল আটক করে।

রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রফিকুল ইসলামকে নেত্রকোণা থেকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব।

শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম
শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে রফিকুল ইসলামকে গাজীপুর জেলা কারাগারে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) ইলতুৎ মিশ জানান, ‘গত ১০ ফেব্রুয়ারি মহানগরের বোর্ড বাজারের কলমেশ্বর এলাকায় একটি কারখানা চত্বরে ওয়াজ মাহফিলে সরকারকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বুধবার রাত সোয়া দুইটার দিকে গাছা থানায় মামলা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫/২৮/৩১ ধারায় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ ইত্যাদি অপরাধের বর্ণনা ও শাস্তির কথা রয়েছে।

এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গাছা থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) আবদুল্লাই ইবনে সাঈকে। তবে মামলাটি নিজেরা তদন্তের জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম।

গাজীপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরিফুল ইসলামের আদালতে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে তোলা হলে শুনানি শেষে বিচারক রফিকুলকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর দুপুরে তাকে জেলা কারাগারে নেয়া হয়েছে।

এর আগে ২৫ মার্চ মতিঝিল এলাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের সময় রফিকুলকে আটক করেছিল রমনা থানার পুলিশ। সেখানে তিনি মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন, আর এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না।

আরও পড়ুন:
মানহানি মামলায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বরের জামিন
প্রেস ক্লাবে সমাবেশে বিএনপি
বিএনপির মিছিলে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি স্থগিত বিএনপির

শেয়ার করুন

একা মা পরিচয়েই ঢাকায় বাসা ভাড়া

একা মা পরিচয়েই ঢাকায় বাসা ভাড়া

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে সঙ্গীনিসহ অবরুদ্ধ হওয়ার পর মামুনুল তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন। সাম্প্রতিক ছবি

মামুনুল হক দুই বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে দাবি করলেও তার কথিত স্ত্রী যে বাসায় সাবলেট হিসেবে ভাড়া থাকতেন সেই বাসার মূল ভাড়াটিয়া জানিয়েছেন, ঝর্ণা কখনও মামুনুলকে বিয়ের কথা বলেননি। বাসা ভাড়া নেন একা মা পরিচয়ে। কাজ করতেন বিউটি পারলারে।

হেফাজত নেতা মামুনুল হকের দুই বছর আগে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে বিয়ে করার দাবি আরও একটি কারণে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এই নারী ঢাকায় যে বাসায় সাবলেট থাকেন, সেই বাসার গৃহকর্ত্রী নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের পর আর বিয়ে করেননি জানিয়েই তার বাসার অর্ধেকটা ভাড়া নেন ঝর্ণা।

ভাড়া নেয়ার পর এই সময়ে ঝর্ণার মা, ছেলেসহ স্বজনরা একাধিকবার সেখানে গেছেন। কিন্তু কখনও মামুনুলের কথা তাকে বলেননি ঝর্ণা।

রাজধানীর গ্রিন রোড-সেন্ট্রাল রোডের কাছে নর্থ সার্কুলার রোডের ওই বাসায় ঝর্ণা ওঠেন আট মাস আগে। তিনি পারলারে কাজ করেন জানিয়ে মাসে ছয় হাজার টাকা চু্ক্তিতে একটি কক্ষ ভাড়া নেন বলে জানিয়েছেন পুরো ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয়া সালমা খান।

গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় রিসোর্ট কাণ্ডের পর থেকে ঝর্ণা আর এ বাসায় আসেননি। তিনি কোথায় আছেন জানেন না সালমা খান।

সালমা খান নিউজবাংলাকে জানান, ঝর্ণা কখনও তাকে বলেননি মামুনুল হকের সঙ্গে তার পরিচয় আছে বা তাকে বিয়ে করেছেন। তিনি ধানমন্ডির একটি পারলারে কাজ করার কথা বলে তার এখান সাবলেট নিয়েছিলেন। তবে মাস দুয়েক আগে ঝর্ণা সেই চাকরিটা ছেড়ে দেন বলে জানিয়েছেন।

মামুনুল হক কি এ বাসায় কখনও এসেছেন? এমন প্রশ্নে সালমা বলেন, ‘না না, আমার বাসায় কোনো পুরুষ মানুষ অ্যালাউড না।’

-উনি কি একাই থাকতেন?

-হ্যাঁ। ওনার আসার মধ্যে কেবল মা আসছে, বোন আসছে, ভাই আসছে। ওনার মামারাও আসছেন একবার। ওনার নানি যখন হাসপাতালে তখন ওনার মামিরা এসেছেন। ওনার দুই ছেলে আসছে।

বাসা সাবলেট দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সালমা বলেন, ‘এক ছেলে নিয়ে থাকি। আমার তো এত বড় ফ্ল্যাট লাগে না। আমি ভাবলাম, একা একা থাকি, বোরও লাগে, মা ছেলে দুই জন, একটা রুম ভাড়া দিয়ে দেই, একজন মানুষ থাকলেও ভালো লাগবে। এই চিন্তা করে ভাড়া দিয়েছিলাম, তার এনআইডি কার্ডটার্ড সব নিয়েই ভাড়া দিয়েছিলাম।’

-উনি কি তখন পারলারে কাজ করতেন?

-হ্যাঁ, আমার বাসায় ‍যখন উঠেছেন তখন পারলারে কাজ করতেন।

-এখন?

-এখন গত দুই মাস তার চাকরিটা নাই। সে বলত, আমি চাকরিটা করব না। আসলে খুব ধার্মিক ছিল। ...বলত পারলারের চাকরিটা ছেড়ে দেব এ কারণে যে, আমরা যে কাজগুলো করি, ভ্রু প্লাক, তার পরে চুল কাটা- এগুলো হারাম। একটা ভালো চাকরি পেলে করব, এই চাকরিটা আমি করব না। ভালো লাগে না।

-আপনি কি বুঝতেন মামুনুল হকের সঙ্গে তার সম্পর্ক চলছে?

-না, না, না, আসলে সে ঘর থেকে কখনও এ রকম বেরও হতো না হুটহাট, কোনোদিন এ রকম ছিলও না। উগ্র চলাফেরা, বিষয়-আশয় সন্দেহ করার মতো কিছু ছিলও না।

-কোনো ধরনের হতাশা ছিল কি না, যে তাকে একজন বিয়ে করছে না, এভাবে রেখে দিয়েছে?

-না, না, সে কেবল নামাজ পড়ত।

-তাদের মধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে, এমন কিছু জানতেন?

-না না, আমি এ রকম কিছু জানতাম না।

সালমার বক্তব্যের সঙ্গে মামুনুল হক ও তার সংগঠন হেফাজতে ইসলামের বক্তব্যের কোনো মিল নেই।

মামুনুল রিসোর্ট কাণ্ডের পর দাবি করেছেন, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর বিপাকে পড়া ঝর্ণার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে তিনি ‘মানবিক বিয়ে’ করেছেন। তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।

মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা। ছবি: নিউজবাংলা

আর হেফাজত বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে, এই কথিত বিয়ে পুরোপুরি বৈধ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসায় যে রাতে বৈঠক করে হেফাজত নেতারা এই কথিত বিয়েকে বৈধ ঘোষণা দেন, সেদিন মামুনুল নানা প্রশ্নের মুখে পড়েন বলে বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

ওই নেতা জানান, বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের দুই নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল ও আবদুর রব ইউসূফী মামুনুলকে বেশ কিছু প্রশ্ন করেন। তারা বলেন, বিয়ে করলে ঝর্ণার ভরণপোষণের দায়িত্ব কেন তিনি নেননি।

তখন মামুনুল স্বীকার করেন, তিনিই ঝর্ণাকে পারলারে কাজ দিয়েছেন।

মামুনুল অবশ্য ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেছেন, তার পরিবার প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সম্পদশালী। এই ধরনের পরিবারের একজন স্ত্রী স্বল্প বেতনে পারলারে কাজ করবেন- এই বিষয়টি স্বাভাবিক না হলেও মামুনুল এর কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

তবে সেদিনের বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল আউয়াল বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। নিউজবাংলার নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি মোহাম্মদ বিল্লাল হোসাইন এই হেফাজত নেতার সঙ্গে দেখা করেন সেই আলোচনার বিস্তারিত জানতে।

তবে আউয়াল বলেন, ‘বাবারে, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না।’

-তাহলে বৈঠকে আপনি কী শুনেছেন?

-আমি কেবল স্বাক্ষর করেছি, আলোচনা তারা করেছে। আমি কিছু শুনিনি।

ঝর্ণার কথিত ডায়েরি গোয়েন্দাদের হাতে

নর্থ সার্কুলার রোডের এই ফ্ল্যাট থেকেই ঝর্ণার লেখা তিনটি ডায়েরি গোয়েন্দারা উদ্ধার করে নিয়ে আসেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

বেশ কয়েকটি সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন এই ডায়েরির ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনও তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ঝর্ণা এসব ডায়েরিতে লিখেছেন, মামুনুলকে তিনি ঘৃণা করেন না কি ভালোবাসেন, তা নিয়ে তিনি বিভ্রান্ত। আর মামুনুল তার সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন এবং তার জীবনটাকে নরক বানিয়ে ফেলেছেন।

ইনডিপেনডেন্ট টিভি ও ডিবিসি নিউজের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ডায়েরিতে লেখা আছে, মামুনুলের বিষয়ে ঝর্ণা লেখেন, ‘সাদা সাদা জামা পরলেই আর বড় মাওলানা হলেই মানুষ হয় না, মুখোশধারীও হয়। আমার সবটাই দিয়েছিলাম আর আপনি সবটাই যত্ন করে রেখেছিলেন।’

তবে এই ডায়েরির সত্যতা কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হতে পারেনি নিউজবাংলা।

স্থানীয়রা অবরুদ্ধ করার পর পুলিশ গিয়ে কথা বলে মামুনুল হকের সঙ্গে। ছবি: নিউজবাংলা

রিসোর্টে যা হয়েছে

গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রিসোর্টে গিয়ে স্থানীয়দের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে মামুনুল সঙ্গীনিকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।

অবশ্য মামুনুল রয়্যাল রিসোর্টে যাওয়ার পর কক্ষ ভাড়া করার সময় সঙ্গীনির নাম লেখেন আমিনা তাইয়্যেবা, যেটি তার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর নাম।

রিসোর্টে সঙ্গীনির নামের পাশাপাশি মামুনুল ভুল তথ্য দিয়েছেন তার কথিত শ্বশুরের নাম ও বাড়ির ঠিকানা নিয়ে।

মামুনুল দাবি করেছেন, তার শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম, তাদের বাড়ি খুলনায়। তবে ঝর্ণা জানিয়েছেন, তার বাবার নাম অলিয়র রহমান, বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়।

গরমিল ফোনালাপ

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে ফাঁস হওয়া বেশ কিছু ফোনালাপ হেফাজত নেতার বিয়ের দাবির সত্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

এর একটিতে বোঝা যায়, ঘটনার পরপরই মামুনুল তার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, সেই নারী তার পরিচিত শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার কারণে চাপে পড়ে তাকে স্ত্রী পরিচয় দিতে বাধ্য হয়েছেন।

পরে আরেকটি কথোপকথন ফাঁস হয়, যা মামুনুলের সঙ্গে তার রিসোর্টের সঙ্গীনির মধ্যকার বলে প্রতীয়মান হয়। সেখানে সেই নারী জানান, তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার মায়ের একটি বন্ধ মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। আর অন্য একজন যখন তাকে কোথায় বিয়ে হয়েছে জিজ্ঞেস করেছে, তখন তিনি বলেছেন, এটা তিনি জানেন না। মামুনুলের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।

আরও একটি কথোপকথনে বোঝা যায় মামুনুলের বোন কথা বলেছেন হেফাজত নেতার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি তাকে বুঝিয়েছেন, কেউ যদি তাকে ফোন করে, তাহলে তিনি যেন বলেন, তিনি এই দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন এবং তার শাশুড়ি এই বিয়ের আয়োজন করেছেন।

এরই মধ্যে মামুনুলের রিসোর্টের সঙ্গীনির বড় ছেলে ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুলের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি তার মায়ের সঙ্গে বাবার সংসার ভাঙার জন্য মামুনুলকে দায়ী করেন।

এই কিশোর মামুনুলের বিচার চেয়ে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আশা করব, এর যেন সঠিক বিচার হয়, আপনারা কারও অন্ধ ভক্ত হয়েন না।… এই লোকটা আলেম নামধারী এক মুখোশধারী একটা জানোয়ার। এর মধ্যে কোনো মনুষ্যত্ব নাই। সুযোগের সব সময় অপেক্ষায় থাকে, কাকে কীভাবে দুর্বল করা যায়। আমার আর কিছু বলার মতো ভাষা নাই।’

হেফাজত নেতা মামুনুল অবশ্য এখনও দাবি করছেন, তার দেয়া তথ্য পুরোপুরি সত্য। আর তিনি মিথ্যা বললে তার ওপর আল্লাহর ‘গজব পড়বে’।

মামুনুল দাবি করেছেন তার ও স্বজনদের ফাঁস হওয়া ফোনালাপেই প্রমাণ হয়েছে দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন। আর স্ত্রী তাইয়্যেবার কাছ সত্য গোপনের পেছনে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, ইসলামে স্ত্রীদের সঙ্গে সীমিত পর্যায়ে সত্য গোপন করার সুযোগ আছে আর তিনি তাকে কীভাবে প্রবোধ দেবেন, এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

আরও পড়ুন:
মানহানি মামলায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বরের জামিন
প্রেস ক্লাবে সমাবেশে বিএনপি
বিএনপির মিছিলে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি স্থগিত বিএনপির

শেয়ার করুন

সালথায় তাণ্ডব: ৫ মামলায় আসামি ১৭০৬১

সালথায় তাণ্ডব: ৫ মামলায় আসামি ১৭০৬১

পুুলিশ জানায়, সালথায় সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬। এর মধ্যে ১১ জনকে বুধবার ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ডে পাঠান বিচারক।

ফরিদপুরের সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়েছে। আগের মামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় ১৭ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে মোট ২৬ জনকে।

যে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে, তাতে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ২৬১ জনের। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ জনকে।

নতুন যে চারটি মামলা হয়েছে, তার একটি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মাতুব্বর। এ মামলায় ২৫ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলা করেছেন ইউএনও হাসিব সরকারের গাড়িচালক হাশমত আলী। তিনি ৫৮ জনের নামসহ ৩ থেকে ৪ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করেছেন।

৪৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৩ থেকে ৪ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সমীর বিশ্বাস।

অপর মামলা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক মো. সাগর সিকদার। এ মামলায় ৪২ জনের নামসহ ৩ থেকে ৪ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ৮৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৪ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা করেন।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) জামাল পাশা জানান, সালথায় সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬। এর মধ্যে ১১ জনকে বুধবার ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ডে পাঠান বিচারক। বৃহস্পতিবার বাকি ১৫ জনকে সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানো হবে।

ফরিদপুরের সালথায় সোমবার রাতে তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায় হামলাকারীরা। ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা চত্বরে লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢুকে থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।



আওয়ামী লীগ-অধ্যুষিত এই এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালও ভাঙচুর করা হয়েছে। গত ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের সময় সেখানেও ভাঙচুর করা হয় বঙ্গবন্ধুর দুটি ম্যুরাল।

হামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট সদস্যসহ আহত হন ২০ জন। আহতদের মধ্যে জুবায়ের হোসেন ও মিরান মোল্যা নামের দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তাৎক্ষণিকভাবে জানা গিয়েছিল, লকডাউন কার্যকর করার চেষ্টায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে।

তবে হামলাকারীদের উন্মত্ততার পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর বক্তব্যে এই তথ্য কতটা সঠিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তাণ্ডবের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমা আলী ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসলাম মোল্লাকে প্রধান করে ছয় সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিব সরকার বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি হামলাকারীরা পুলিশের গুলিতে দুইজনের মৃত্যু ও এক মাওলানাকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়ায়।’

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে চা-পান করে নটাখোলা গ্রামের মো. জাকির হোসেন মোল্যা বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সেখানে লকডাউনের পরিস্থিতি পরিদর্শনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি যান।

জাকির হোসেনের অভিযোগ, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সহকারী কমিশনারের গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তি তার কোমরে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।

তবে ইউএনও হাসিব সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশ পালন করতে ওই বাজারে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি)। সেখানে তিনি যাওয়ার পর মানুষের জটলা সৃষ্টি হয়। তখন তিনি ওই স্থান থেকে ফিরে এসে সেখানে পুলিশের একটি দল পাঠান। পুলিশ যাওয়ার পর স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে এসআই মিজানুর রহমানের ওপর হামলা চালান স্থানীয়রা। হামলায় মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়।

‘পরে পুলিশের গুলিতে দুইজনের মৃত্যু ও এক মাওলানাকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়ানো হয়। এমন খবরে হাজারো মানুষ থানা ঘেরাও করে। পরে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।’

সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বলেন, ‘আমার বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে।’

পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ‘লকডাউনের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভুল-বোঝাবুঝি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা মিজানুর নামে এক এসআইকে মারধর করে। এরপর তারা গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে।’

তিনি বলেন, তাদের এই হামলা থেকে রক্ষা পায়নি উপজেলা কমপ্লেক্সের গাছপালা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ নানা স্থাপনা। এটি সাধারণ মানুষের কাজ হতে পারে না।

আরও পড়ুন:
মানহানি মামলায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বরের জামিন
প্রেস ক্লাবে সমাবেশে বিএনপি
বিএনপির মিছিলে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি স্থগিত বিএনপির

শেয়ার করুন

দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে স্ত্রী হত্যা: স্বামী ফের রিমান্ডে

দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে স্ত্রী হত্যা: স্বামী ফের রিমান্ডে

ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে পাঠানো মিশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার পর প্রাইভেটকার দুর্ঘটনার নাটক সাজান তিনি।

স্ত্রী হাসনা হেনা ঝিলিককে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার রাজধানীর সাকিব আলম মিশুকে বৃহস্পতিবার ফের দুইদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

৩ এপ্রিল স্ত্রীকে হত্যার পর প্রাইভেটকার দুর্ঘটনার নাটক সাজানোর অভিযোগ রয়েছে মিশুর বিরুদ্ধে।

তিনদিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার মিশুকে আদালতে হাজির করে ফের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই ফেরদৌস আলম সরকার।

শুনানি শেষে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম শাহিনুর রহমান দুইদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

আসামি পক্ষে তার আইনজীবী মেহেদী হাছানসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে সিএমএম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দীন হিরন জামিনের বিরোধীতা করেন।

গত ৪ এপ্রিল মিশুর তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পাশাপাশি তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম, মা সাঈদা আলম, ভাই ফাহিম আলম এবং বোন টুকটুকির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।

হত্যার ঘটনায় ঝিলিকের মা তাহমিনা হোসেন আসমা গুলশান থানায় ঝিলিকের শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
মানহানি মামলায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বরের জামিন
প্রেস ক্লাবে সমাবেশে বিএনপি
বিএনপির মিছিলে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি স্থগিত বিএনপির

শেয়ার করুন

‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেক মামলা

‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেক মামলা

‘শিশুবক্তা’ হিসেবে খ্যাত রফিকুল ইসলাম মাদানি। ছবি: নিউজবাংলা

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসির আরাফাত খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম মাদানির বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সৈয়দ আদনান বাদী হয়ে মামলা করেছেন।’

আলোচিত সমালোচিত ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মতিঝিল থানায় মামলাটি করা হয়। তবে মামলার বাদী হিসেবে সৈয়দ আদনান নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হলেও তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসির আরাফাত খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম মাদানির বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সৈয়দ আদনান বাদী হয়ে মামলা করেছেন।’

বাদীর সম্পর্কে ও এজাহার বিষয়ে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বাদীর পরিচয় আমার জানা নেই। আর এজাহার নিয়ে কাজ চলছে। আগামীকাল পাওয়া যাবে।’

রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রফিকুলকে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে নেত্রকোণার পূর্বধলার লেডির কান্দার নিজ বাড়ি থেকে রফিকুলকে আটক করে র‌্যাব-১৪-এর একটি দল।

তবে বিষয়টি বুধবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়। গ্রেপ্তারের পর রফিকুলের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে র‌্যাব।

র‌্যাবের করা মামলায় রফিকুলের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তিনি দেশ ও সমাজের জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলাসহ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।

মামলায় বলা হয়, রফিকুল বাংলাদেশের স্বার্থপরিপন্থি বিভিন্ন অপতৎপরতায় লিপ্ত। ধর্মীয় অর্থাৎ কোরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা দেয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উসকানি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে উদ্বুদ্ধ করেন।

তিনি তার ওয়াজে প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের প্রতি শত্রুতামূলক মনোভাব ও সরকারের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টির জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য প্রদান করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে।

মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হিসেবে গত ১০ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকার একটি ওয়াজের বক্তব্যকে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মানি না রাষ্ট্রপতি, আমি কচুর প্রধানমন্ত্রী মানি না। কিসের প্রশাসনের অর্ডার? আমি কোনো অর্ডার মানি না। আমার সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী নাই, রাষ্ট্রপতি নাই, এমপি নাই। আমি মানি না প্রধানমন্ত্রী, মানি না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাকে রিমান্ডে নিবা? জেলে নিবা? ফাঁসি দিবা তাই তো?’

এজাহারে রফিকুল ইসলাম আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

রফিকুলের এসব ধারাবাহিক উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার অনুসারীরা ২৬ মার্চ ও পরবর্তী সময়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা চালায়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষতি করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

দেখতে খর্বকায় ও শিশুতোষ কণ্ঠের অধিকারী হওয়ায় রফিকুল ইসলাম মাদানিকে অনেকে ‘শিশুবক্তা’ বলে মনে করলেও তার দাবি, তিনি মোটেও শিশু নন। তার বয়স ২৬ বছর।

এর আগে ২৫ মার্চ মতিঝিল এলাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের সময় রফিকুল ইসলাম মাদানিকে আটক করেছিল রমনা থানার পুলিশ। সেখানে তিনি মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন, আর এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না।

কথা রাখেননি রফিকুল। বরং ছাড়া পেয়ে তার ঔদ্ধত্যপনা আরও বাড়ে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ স্থানীয়দের হাতে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের অবরুদ্ধ হওয়া নিয়ে একাধিকবার উসকানিমূলক বক্তব্য দেন রফিকুল। এরপরই তাকে আটক করার খবর দেয় র‌্যাব।

আরও পড়ুন:
মানহানি মামলায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বরের জামিন
প্রেস ক্লাবে সমাবেশে বিএনপি
বিএনপির মিছিলে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি স্থগিত বিএনপির

শেয়ার করুন

লঞ্চ ডোবানো এমপির জাহাজের রং পরিবর্তন

লঞ্চ ডোবানো এমপির জাহাজের রং পরিবর্তন

দুর্ঘটনার আগে জাহাজ (নিচে), রং পরিবর্তন করা জাহাজ উপরে। ছবি: নিউজবাংলা

দুর্ঘটনার আগে জাহাজটির নিচের অংশে লাল ও উপরে আকাশি রং ছিল। আটকের পর দেখা যায়, সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে ছাই ও কমলা রং।

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যায় ধাক্কা দিয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবিয়ে দেয়া লাইটারেজ জাহাজ এসকেএল থ্রি’র রং পাল্টে ফেলা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খল বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে এই কৌশল নেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম।

দুর্ঘটনার আগে জাহাজটির নিচের অংশে লাল ও উপরে আকাশি রং ছিল। আটকের পর দেখা যায়, সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে ছাই ও কমলা রং।

ওসি শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাহাজটি যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায় সেজন্যই কৌশল নেয়া হয়। লঞ্চকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর পরই জাহাজটির রং পরিবর্তন করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাহাজটি বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেটিকে জব্দ করা হয়। এ সময় আটক করা হয় ১৪ জনকে। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তারা হলেন জাহাজের মাস্টার নড়াইলের বেলজিয়া গ্রামের ওহিদুজ্জামান, ড্রাইভার গোপালগঞ্জের রাজপাট গ্রামের মজনু মেল্লা, সুকানি ফরিদপুরের বেলবানা গ্রামের আনোয়ার মল্লিক, নড়াইলের চর শামক খোল গ্রামের নাজমুল মোল্লা, গ্রিজার নড়াইলের বেলজিয়া গ্রামের ফারহান মোল্লা, পটুয়াখালীর কামার হাওলা গ্রামের হৃদয় হাওলাদার, ডেক টেন্টাইল নড়াইলের বেলজিয়া গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ, লস্কর নড়াইলের লোহাগড়ার রাজিবুল ইসলাম, আলী শেখ, মো. সাগর, গোপালগঞ্জের রাতাইল গ্রামের নূর ইসলাম, খুলনা সদরের সাকিব সরদার, শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার মো. আফসার ও নড়াইল সদরের বাশগ্রামের আলিম বাবুর্চি বাশার শেখ।

গজারিয়া কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার বজলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে গজারিয়ার নয়া নগর এলাকায় থ্রি অ্যাঙ্গেল শিপইয়ার্ডে একটি জাহাজ রং করতে দেখেন তারা। রং শেষে শিপইয়ার্ড সংলগ্ন মেঘনা নদীতে নোঙর করে রাখা হয়। কোস্টগার্ড সদস্যরা জাহাজের কাছে গিয়ে এসকেএল-৩ (এম ০১২৬৪৩) লেখা দেখে নিশ্চিত হন, এটি সাবিত আল হাসান লঞ্চকে ধাক্কা দেয়া জাহাজ।’


তবে জাহাজ রং করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন থ্রি অ্যাঙ্গেল শিপইয়ার্ডের পরিচালক লোকমান হোসেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো জাহাজ তাদের শিপইয়ার্ডে রং করা হয়নি। জাহাজটি কেনো তাদের শিপইয়ার্ড সংলগ্ন মেঘনা নদীতে নোঙর করা ছিল সেটিও জানেন না তিনি।

এ বিষয়ে থ্রি অ্যাঙ্গেল শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

গত রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সাবিত আল হাসান নামে লঞ্চটি ৫০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর শীতলক্ষ্যা নদীর কয়লাঘাট এলাকায় এসকেএল থ্রির ধাক্কায় লঞ্চডুবির দৃশ্য ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লঞ্চটিকে ঠেলে অন্তত ২০০ মিটার দূরে নিয়ে গিয়ে ডুবিয়ে দেয় এসকে থ্রি লাইটার জাহাজ। এরপর লঞ্চের উপর দিয়ে চলে যায় জাহাজটি।

এ ঘটনায় ৩৪ জনের প্রাণহানি হয়।

যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনা তদন্তে কাজ করছে জেলা প্রশাসন ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুটি কমিটি। দুই তদন্ত কমিটিই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ বিষয়ে গণশুনানি করে। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শী এবং লঞ্চের জীবিত যাত্রী মিলিয়ে নেয়া হয় ১৫ জনের সাক্ষ্য।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুস সাত্তার শেখ জানান, স্বাক্ষ্যগুলো পর্যালোচনা করে এবং তাদের তদন্ত মিলিয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
মানহানি মামলায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বরের জামিন
প্রেস ক্লাবে সমাবেশে বিএনপি
বিএনপির মিছিলে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি স্থগিত বিএনপির

শেয়ার করুন

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের আপিল

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের আপিল

আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) চেয়ে আবেদন করেছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতির মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেবে বিশেষ জজ আদালত; দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নয়।

উল্লিখিত অভিমত দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) চেয়ে আবেদন করেছে দুদক।

আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এমন আবেদনের বিষয়টি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছি।’

বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নরসিংদীর আতাউর রহমান ওরফে সুইডেন আতাউর হাইকোর্টে রিট করেন। তার রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

ওই রুলের শুনানি শেষে উচ্চ আদালত গত ১৬ মার্চ রায় দেয়।

এর আগে ৪ এপ্রিল হাইকোর্ট অভিমত দিয়েছিল, কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের খেয়াল-খুশি অনুযায়ী নাগরিকের চলাফেরার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ন্ত্রণ করা অসাংবিধানিক।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এক রায়ের পর্যবেক্ষণে এ অভিমত দেয়।

বিদেশ যাওয়ার ওপর দুদকের নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে নরসিংদীর আতাউর রহমান ওরফে সুইডেন আতাউরের করা রিটের শুনানি শেষে এ পর্যবেক্ষণ দেয় উচ্চ আদালত। ওই দিন এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়।

১২ পৃষ্ঠার রায়ে আদালত বলে, ‘আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে, নাগরিকের চলাফেরার সাংবিধানিক অধিকার কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের খেয়াল খুশি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ বা বারিত করা অসাংবিধানিক। এটা বাস্তবতা যে, দুর্নীতি কিংবা মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত মামলাসমূহ অনুসন্ধান বা তদন্ত কিছুটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। যদিও বা সংশ্লিষ্ট বিধিতে অনুসন্ধান বা তদন্তের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া আছে।’

একজন নাগরিকের চলাফেরার স্বাধীনতা ব্যক্তি জীবনের স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত, যা শাশ্বত। এ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে হলে আইন নির্ধারিত নিয়মে বা পদ্ধতিতে করতে হবে; অর্থাৎ কোন নাগরিকের চলাফেরার মৌলিক অধিকার নিয়ন্ত্রণ বা বারিত করতে হলে তা করতে হবে আইন বা বিধি অনুসারে, জনস্বার্থে। যার বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তার অধিকার রয়েছে এ ধরনের পদক্ষেপের কারণ জানার।

‘আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে, নাগরিকের চলাফেরার সাংবিধানিক অধিকার কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের খেয়াল খুশি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ বা বারিত করা অসাংবিধানিক।’

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে দুদক আবেদন করে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৪ আগস্ট আতাউর রহমানের সম্পদের তথ্য চেয়ে নোটিশ দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। এই নোটিশের পর ২২ অক্টোবর তিনি তার সম্পদের তথ্য দুদকে জমা দেন। এরপর অনুসন্ধানের নামে এই তদন্তকালে দুদক গত বছরের ২০ ডিসেম্বর আতাউর রহমানের বিদেশ যাবার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দেয়।

ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসেন আতাউর রহমান। এরপরই এ রায় দেয় হাইকোর্ট।

আরও পড়ুন:
মানহানি মামলায় বিএনপি নেতা গয়েশ্বরের জামিন
প্রেস ক্লাবে সমাবেশে বিএনপি
বিএনপির মিছিলে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি স্থগিত বিএনপির

শেয়ার করুন