পুলিশের ওপর হামলা মামলা, আসামি ৪০০

হেফাজত কর্মীদের হামলায় আহত আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি নুরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশের ওপর হামলা মামলা, আসামি ৪০০

আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল ইসলাম মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হেফাজতের হামলায় আহত হয়েছিলেন তিনিও। নূরুল বলেন, ‘হরতালে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশকে মারপিট করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর ও দুইটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা হয়েছে।’

হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

মামলায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চারশ হেফাজত সমর্থকদের আসামি করা হয়েছে।

আজমিরীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়ন্ত তালুকদার সোমবার সকালে এই মামলা করেন। তবে এখনও কাউকে আটক করা হয়নি।

আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হেফাজতের হামলায় আহত হয়েছিলেন তিনিও।

নূরুল বলেন, ‘হরতালে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে পুলিশকে মারপিট করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর ও দুইটি মোটরসাইকেল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। এছাড়া কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন মামলায় হয়রানি না হয় সেজন্য পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

আজমিরীগঞ্জ-বানিয়াচং সড়কের নোয়াগড় এলাকায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

habiganj case
হেফাজতের কর্মীরা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। ছবি: নিউজবাংলা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার সময় মসজিদের মাইক ব্যবহার করেন ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মাইকে ঘোষণা দিয়ে জড়ো করা হয় কর্মী-সমর্থকদের।

আজমিরীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হানিফ নিউজবাংলাকে জানান, ‘নোয়াগড় এলাকায় হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে রাখেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন তারা। একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এতে আজমিরীগঞ্জ থানার ওসি নূরুল ইসলামসহ আরও পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন।’

এরপর হেফাজতের সমর্থকরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে আবারও পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৩টি রাবার বুলেট ছুড়লে হেফাজতের কর্মীরা পিছু হটতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন:
অবশেষে মহাসড়কের দেয়াল সরাল হেফাজত
দিনভর তাণ্ডব, বাবুনগরী দেখছেন শান্তি
রাজনীতির হাতিয়ার হবেন না: কওমি মাদ্রাসাকে তথ্যমন্ত্রী
তাণ্ডবে দাড়ি-টুপি পরা অন্যরা, দাবি হেফাজতের
হেফাজতের ত্রাস: সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

যুবককে মারধর: তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

যুবককে মারধর: তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

শহীদুলকে টেনেহিঁচড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে চড়থাপ্পড়, লাথি দেয় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের মডেল হাই স্কুলের সামনে রোববার বিকেলে রিকশায় করে যাওয়া এক যুবককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে চড়থাপ্পড়, লাথি দেয়ার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ফেনীতে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে পেটানোর অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কৈফিয়ত চেয়ে তাদের তলব করেছে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)।

এসপি খোন্দকার নূরুন্নবী সোমবার রাতে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ওই পুলিশ সদস্যদের পরিচয় তিনি জানাননি।

ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের মডেল হাই স্কুলের সামনে রোববার বিকেলে রিকশায় করে যাওয়া এক যুবককে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে চড়থাপ্পড়, লাথি দেয়ার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে শহিদুল ইসলাম নামের ওই যুবক অসংলগ্ন আচরণ করছেন। এর মধ্যে তিনি রিকশায় করে বাইরে গিয়েছিলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, মাস্ক ছাড়াই রিকশায় করে উকিলপাড়া থেকে ট্রাংক রোডের দিকে যাচ্ছিলেন শহিদুল। মডেল স্কুলের সামনে মডেল থানার এসআই যশোমন্ত মজুমদারসহ পুলিশ সদস্যরা তার রিকশার গতিরোধ করে।

এরপর কথা-কাটাকাটি থেকে শহিদুলের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যায়।

এসপি খোন্দকার নূরুন্নবী জানান, লোকটি মানসিক ভারসাম্যহীন। পুলিশ দায়িত্ব পালন করার সময় জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পুলিশের ওপর ক্ষেপে যায় এবং মারতে আসে। তখন পুলিশ আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছে। তার গায়ে হাত তোলা পুলিশের উদ্দেশ্য নয়। ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না মর্মে মুচলেকা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

১৪ এপ্রিল থেকে চলা কঠোর বিধিনিষেধে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা বাইরে যেতে চান, তাদের পুলিশের কাছ থেকে মুভমেন্ট পাস সংগ্রহ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের হতে বলা হয়েছে।

মাস্ক না পরলে জরিমানাও করা হচ্ছে বহু জায়গায়।

জরুরি সেবাদানকারীদের মুভমেন্ট পাস থাকা বাধ্যতামূলক না হলেও ঢাকায় কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে পুলিশের আচরণ ও জরিমানার বিষয়টি নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা চলছে।

আরও পড়ুন:
অবশেষে মহাসড়কের দেয়াল সরাল হেফাজত
দিনভর তাণ্ডব, বাবুনগরী দেখছেন শান্তি
রাজনীতির হাতিয়ার হবেন না: কওমি মাদ্রাসাকে তথ্যমন্ত্রী
তাণ্ডবে দাড়ি-টুপি পরা অন্যরা, দাবি হেফাজতের
হেফাজতের ত্রাস: সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মোল্লাহাটে পুলিশের ওপর হামলা: ২ হেফাজত কর্মী গ্রেপ্তার

মোল্লাহাটে পুলিশের ওপর হামলা: ২ হেফাজত কর্মী গ্রেপ্তার

বাগেরহাটে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের হামলায় মোল্লাহাট থানার ওসিসহ সাত পুলিশ আহত। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সোমবার রাতে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতপরিচয় আরও শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন এসআই শাহিনুর রহমান গোলদার। প্রধান আসামি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের আত্মীয় আব্দুল্লাহ খন্দকারকে।

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বের করা মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দুই হেফাজত কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মোল্লাহাটের বিভিন্ন এলাকায় সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় রাফিন সরদার ও ত্রাণ মোল্লা নামের দুইজনকে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম কবির নিউজবাংলাকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সোমবার রাতে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে, অজ্ঞাতপরিচয় আরও শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিনুর রহমান গোলদার। প্রধান আসামি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের আত্মীয় আব্দুল্লাহ খন্দকারকে।

ওসি বলেন, হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাতেই উপজেলার উদয়পুর আড়িয়াকান্দি গ্রামের দুই হেফাজত কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মোড়ে সোমবার বেলা ১১টার দিকে মিছিল বের করেন হেফাজতের অনুসারীরা।

ওসি কাজী গোলাম কবির নিউজবাংলাকে বলেন, মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররা মিছিল নিয়ে হাসপাতাল মোড়ে জড়ো হতে থাকেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করেন। এতে তিনিসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন।

তিনি ছাড়া আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই ঠাকুর দাস, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাহারুল, লিয়াকত, কনস্টেবল সোহাগ মিয়া, নাজমুল ফকির ও ডিএসবির কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মামুনুল হককে সোমবার ভাঙচুরের মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত। পরে সেখান থেকে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।

এর আগে রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারের পর মামুনুলকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কার্যালয়ে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রিসোর্ট-কাণ্ডে রাজধানীর পল্টন থানা ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দুটি মামলা হয় মামুনুলের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর তাণ্ডবের ঘটনাতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।

আরও পড়ুন:
অবশেষে মহাসড়কের দেয়াল সরাল হেফাজত
দিনভর তাণ্ডব, বাবুনগরী দেখছেন শান্তি
রাজনীতির হাতিয়ার হবেন না: কওমি মাদ্রাসাকে তথ্যমন্ত্রী
তাণ্ডবে দাড়ি-টুপি পরা অন্যরা, দাবি হেফাজতের
হেফাজতের ত্রাস: সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

আসামি ছিনতাই: নুরের ১২ অনুসারী দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

আসামি ছিনতাই: নুরের ১২ অনুসারী দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

মতিঝিল থেকে আবুল কালাম আজাদ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক ওই ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কর্মীরা তাকে জোরপূর্বক পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যান। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করেন পল্টন মডেল থানার এসআই রায়হান করিব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ১২ নেতা-কর্মীকে দ্বিতীয় দফায় দুই দিন করে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

সোমবার দুটি মামলায় ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) দেবদাস চন্দ্র অধিকারী ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডের এই আদেশ দেন।

বিশেষ ক্ষমতা আইনে শাহবাগ থানার মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ক্রীড়া সম্পাদক আরেফিন হোসেন ও তাওহীদুল ইসলাম শিপনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাহান মিয়া।

ঢাকা মেডিক্যাল থেকে আবুল কালাম আজাদ নামের এক আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় শাহবাগ থানার অপর মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক সজল ও ঢাকা কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল করিম সোহাগকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম খান।

একই মামলায় গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান, মোমিন আকন্দ, আরিফুল ইসলাম, শিপন ও রোকেয়া জাবেদ মায়াকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।

এ সময় কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগার থেকে আসামিদের ভার্চুয়ালি উপস্থিত দেখানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক নিজাম উদ্দিন রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।

আসামিপক্ষে আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম ও খাদেমুল ইসলাম ভার্চুয়ালি রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, ‘এই আসামিদের নাম এজাহারে নেই। তাদের হয়রানি করতে এবং জামিনে মুক্তিকে প্রলম্বিত করতে নতুন নতুন মামলায় এভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হচ্ছে। তাই রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করছি।’

শুনানি শেষে বিচারক দুই মামলাতেই প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৫ মার্চ মতিঝিল থানায় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ একটি মিছিল বের করে। সেই মিছিলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিন মতিঝিলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের সংঘর্ষের ঘটনায় প্রথম মামলা হয়।

মতিঝিল থেকে আবুল কালাম আজাদ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক ওই ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কর্মীরা তাকে জোরপূর্বক পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় একই দিনে শাহবাগ থানায় মামলা করেন পল্টন মডেল থানার এসআই রায়হান করিব।

মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান, সোহরাব, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহসহ মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

সর্বশেষ ২৭ মার্চ প্রেস ক্লাবের সামনে ধস্তাধস্তির ঘটনায় শাহবাগ থানার মামলা হয়।

যেই মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, মারধর, হত্যাচেষ্টার পাশাপাশি বিস্ফোরক আইনের অভিযোগও আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অবশেষে মহাসড়কের দেয়াল সরাল হেফাজত
দিনভর তাণ্ডব, বাবুনগরী দেখছেন শান্তি
রাজনীতির হাতিয়ার হবেন না: কওমি মাদ্রাসাকে তথ্যমন্ত্রী
তাণ্ডবে দাড়ি-টুপি পরা অন্যরা, দাবি হেফাজতের
হেফাজতের ত্রাস: সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: সোনারগাঁয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

মামুনুলের রিসোর্ট-কাণ্ড: সোনারগাঁয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রিসোর্টে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ হেফাজত নেতা মামুনুল হককে অবরুদ্ধের জেরে সেখানে তাণ্ডব চালানোর ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে সোমবার দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাকে।

পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

আব্দুল রউফ উপজেলার জাতীয় পার্টির সভাপতিও।

ওসি হাফিজুর জানান, পুলিশের করা দুইটি মামলায় আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক এক নারীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে গিয়ে অবরুদ্ধ হন। সে সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ফেসবুকে লাইভ করলে তোলপাড় হয়।

মামুনুল সে সময় যেসব তথ্য দিয়েছেন, পরে তার বেশির ভাগের সত্যতা মেলেনি।

স্থানীয় লোকজনের জেরার মুখে সঙ্গীনিকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে বলেন তার নাম আমেনা তাইয়্যেবা। দাবি করেন, তার শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম, শ্বশুরবাড়ি খুলনায়।

তবে সেই নারী পরে জানান তার নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা, বাবার নাম অলিয়র রহমান, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়।

এই ঘটনার পরে ফাঁস হওয়া বিভিন্ন ফোনালাপে মামুনুলের বিয়ের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার চার সন্তানের জননী স্ত্রী ওই দিন সন্ধ্যায় ছেলেদের নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসা ছেড়ে যান।

এসব ঘটনায় মামুনুল যখন বেকায়দায় তখন হেফাজতের নেতা-কর্মীরা মসজিদে মাইকিং করে জড়ো হয়ে একযোগে হামলা করেন রিসোর্টে। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করে মামুনুলকে ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুরও করেন।

ক্ষমতাসীন দল ও তার সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় কার্যালয়েও হামলা হয়। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় সেগুলো। হামলা হয় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘরে।

ওই ঘটনায় হেফাজত, বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীসহ কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে পুলিশ দুইটি ও ক্ষতিগ্রস্তরা পাঁচটি মামলা করেছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অবশেষে মহাসড়কের দেয়াল সরাল হেফাজত
দিনভর তাণ্ডব, বাবুনগরী দেখছেন শান্তি
রাজনীতির হাতিয়ার হবেন না: কওমি মাদ্রাসাকে তথ্যমন্ত্রী
তাণ্ডবে দাড়ি-টুপি পরা অন্যরা, দাবি হেফাজতের
হেফাজতের ত্রাস: সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ঋণ মেটাতে এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্রে, ফিরলেন লাশ হয়ে

ঋণ মেটাতে এস আলমের বিদ্যুৎকেন্দ্রে, ফিরলেন লাশ হয়ে

মাহমুদের মরদেহ দেখে মায়ের বিলাপ। ছবি: নিউজবাংলা

মা নূরাইন জান্নাত জানান, শুক্রবার রাতে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল মাহমুদের। সেহরির সময়ও কথা হয়। ছেলে বলেছিল, নামাজটা পড়েই চলে আসবে। কিন্তু ওরা জলজ্যন্ত ছেলেকে আসতে দিল না, লাশ পাঠাল।

  • সেহরির সময় মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক মাহমুদ রেজার। মাকে জানিয়েছিলেন, কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ঝামেলা হচ্ছে, হতে পারে বড় কোনো গণ্ডগোল।

সে কথা শুনে মা বলেছিলেন, ফজরের নামাজ পড়েই বাড়ি ফিরে আসতে। রাজিও হয়েছিলেন মাহমুদ। বাড়ি তিনি ফিরেছেন। তবে সুস্থ অবস্থায় নয়; নিথর দেহে।

মাহমুদের বাড়ি বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নের পূর্ব বড়ঘোনায়। বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এস আলম গ্রুপের এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট নামের ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেখানে শনিবার সকালে শ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হন। তাদেরই একজন মাহমুদ।

বাড়ির পাশেই রোববার সন্ধ্যায় তার দাফন হয়। সেখানে গিয়ে কথা হয় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।

তারা জানালেন, মীর খান নামে এলাকায় পরিচিত ছিলেন ১৮ বছর বয়সী মাহমুদ। পড়তেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণিতে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। তিন বছর আগে বাবার মৃত্যু হয়।

কাজের জন্য ওমান পাড়ি জমান তার বড় ভাই। করোনায় সেখানে কর্মহীন হয়ে পড়েন তিনি। এরপর ঋণে চলে তাদের সংসার। সেই ঋণ বাড়তে থাকলে মাহমুদ কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিবেশীদের অনেকে এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে কাজ করেন। তাদের হাত ধরেই মাত্র ১০ দিন আগে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে খণ্ডকালীন চাকরি নেন মাহমুদ।

চট্টগ্রাম

তার মা নূরাইন জান্নাত নিউজবাংলাকে জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিছু ঝামেলা হচ্ছে, এমন কথা ফোনে বলেছিলেন মাহমুদ।

তিনি জানান, শুক্রবার রাতে তার সঙ্গে কথা হয়েছিল মাহমুদের। সেহরির সময়ও কথা হয়। ছেলে বলেছিল, নামাজটা পড়েই চলে আসবে। কিন্তু ওরা জলজ্যন্ত ছেলেকে আসতে দিল না, লাশ পাঠাল।

প্রতিবেশী আব্দুস ছালাম বলেন, মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়ায় লকডাউনে অর্থকষ্টে পড়ায় মাহমুদকে চাকরিতে যেতে সম্মতি দিয়েছিলেন তার মা। পাশাপাশি বড় ভাইয়ের বিদেশ যাওয়া নিয়ে তিন লাখেরও বেশি টাকার ঋণে জড়িয়ে যায় তার পরিবার। এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টে চাকরি করতে যাওয়ার এটাই মূল কারণ ছিল।

পূর্ব বড়ঘোনা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলী হোছাইন এসেছিলেন পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে। পরিবারের সদস্য ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে তিনি এই শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন:
অবশেষে মহাসড়কের দেয়াল সরাল হেফাজত
দিনভর তাণ্ডব, বাবুনগরী দেখছেন শান্তি
রাজনীতির হাতিয়ার হবেন না: কওমি মাদ্রাসাকে তথ্যমন্ত্রী
তাণ্ডবে দাড়ি-টুপি পরা অন্যরা, দাবি হেফাজতের
হেফাজতের ত্রাস: সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

হরতালে সহিংসতা: নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার জামায়াত নেতাসহ ৩

হরতালে সহিংসতা: নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তার জামায়াত নেতাসহ ৩

গ্রেপ্তার জামায়াত নেতা মঈনুদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে গত ২৮ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড মোড় থেকে শিমরাইল এলাকা পর্যন্ত হরতাল সমর্থনকারীরা সহিংসতা চালায়। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মঈনুদ্দিনকে।

হেফাজতের হরতাল চলাকালে নারায়ণগঞ্জে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার মামলায় জামায়াত নেতা মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমেদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফতুল্লার তল্লা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রোববার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মঈনুদ্দিনকে।

একই সময় ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি নেতা মো. ইসলাম ও জামায়াতের সদস্য মো. জনিকে। মো. ইসলাম বিএনপিতে কোন পদে আছেন তা নিশ্চিত করা যায়নি।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী এই তথ্যগুলো জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

হরতালে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে ৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা হরতালে গত ২৮ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড মোড় থেকে শিমরাইল এলাকা পর্যন্ত হরতাল সমর্থনকারীরা সহিংসতা চালায়।

এদিন যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্তত ৫০টি গাড়ি ভাঙচুর হয়। আগুন দেয়া হয় ১৮টি গাড়িতে।

এ ঘটনার দুই দিন পর পুলিশ ও র‍্যাব ছয়টি মামলা করে। পরে আরও তিনটি মামলা করেন ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকরা।

আরও পড়ুন:
অবশেষে মহাসড়কের দেয়াল সরাল হেফাজত
দিনভর তাণ্ডব, বাবুনগরী দেখছেন শান্তি
রাজনীতির হাতিয়ার হবেন না: কওমি মাদ্রাসাকে তথ্যমন্ত্রী
তাণ্ডবে দাড়ি-টুপি পরা অন্যরা, দাবি হেফাজতের
হেফাজতের ত্রাস: সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের ওপর ২৭০টি গুলি ছুড়েছে পুলিশ

বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের ওপর ২৭০টি গুলি ছুড়েছে পুলিশ

বিক্ষোভ ঠেকাতে কী পরিমাণ গুলি ছুড়েছে পুলিশ; জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল কবীর বলেন, এজাহারে উল্লেখ আছে ২৭০টি গুলি চালিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতের নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক বিক্ষোভের সময় ২৭০টি গুলি ছুড়েছে পুলিশ।

বাঁশখালী থানায় করা মামলায় এ তথ্য উল্লেখ করেছে পুলিশ।

বাঁশখালী থানার পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান বেগ দুই থেকে আড়াই হাজার জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন।

বিক্ষোভ ঠেকাতে কী পরিমাণ গুলি ছুড়েছে পুলিশ; জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল কবীর বলেন, এজাহারে উল্লেখ আছে ২৭০টি গুলি চালিয়েছে পুলিশ।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মালিক শিল্পগোষ্ঠী এস আলমের হয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের চিফ কো অর্ডিনেটর ফারুক আহমেদ ২২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং এক হাজার ৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন।

প্রকল্পের পক্ষে করা মামলায় প্রকল্পের মালামালে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষে করা মামলায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। মামলা দুটির তদন্ত করছে বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম।

এ ঘটনায় গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি একটির প্রধান চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম) জাকির হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তে শেষে মরদেহগুলো বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজন বাঁশখালীর গণ্ডামারার। এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

শনিবার সকালে বাঁশখালীর বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে পাঁচজন নিহত হয়। আহত হয় অন্তত ২০ জন।

বাঁশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ২০১৬ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি এস আলম গ্রুপের এসএস পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে ও চীনা প্রতিষ্ঠান সেপকো ও এইচটিজির মধ্যে চুক্তি হয়। ২০১৭ সাল থেকে গণ্ডমারা এলাকায় প্রায় ছয় শ একর জমিতে আড়াই শ কোটি ডলার ব্যয়ে এটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।

চুক্তি হওয়ার পর থেকেই গ্রামবাসীদের একটি পক্ষ এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করেন পরিবেশ দূষিত হওয়ার কথা বলে। আরেকপক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পক্ষ নেয়।

এর জেরে ২০১৬ সালের এপ্রিলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। তখন নিহত হন চার গ্রামবাসী। আহত হয় পুলিশসহ অন্তত ১৯ জন। এ ঘটনার পাঁচ বছর পর ফের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায়।

আরও পড়ুন:
অবশেষে মহাসড়কের দেয়াল সরাল হেফাজত
দিনভর তাণ্ডব, বাবুনগরী দেখছেন শান্তি
রাজনীতির হাতিয়ার হবেন না: কওমি মাদ্রাসাকে তথ্যমন্ত্রী
তাণ্ডবে দাড়ি-টুপি পরা অন্যরা, দাবি হেফাজতের
হেফাজতের ত্রাস: সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ার করুন