গাইবান্ধা বিস্ফোরণ: ‘মূল্যবান জিনিসটি ছিল মর্টারশেল’

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এই বাড়িতে বুধবার ঘটে বিস্ফোরণ। ছবি: নিউজবাংলা

গাইবান্ধা বিস্ফোরণ: ‘মূল্যবান জিনিসটি ছিল মর্টারশেল’

‘বগুড়ার মোকামতলায় একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ভবনটির কেয়ারটেকার হলেন মো. হাবিব। কিছুদিন আগে সেখানে মাটি খোঁড়ার সময় মর্টারশেলটি পান শ্রমিকরা, যা হাবিবের কাছে রাখা হয়।’

বগুড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের মাটি খুঁড়ে পাওয়া মর্টারশেলকে মূল্যবান কিছু ভেবে সেটি বাড়িতে নিয়ে যান গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বোরহান উদ্দিন। সহযোগীদের নিয়ে কাটতে গেলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। তাতেই ঘটে হতাহতের ঘটনা।

গোবিন্দগঞ্জে বোরহানের বাড়িতে বুধবারের বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক আশিক বিল্লাহ বলেন, পরিত্যক্ত মর্টারশেলই বিস্ফোরণের কারণ। এ ঘটনায় নাশকতার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

আশিক বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। সেখান থেকে পাওয়া তথ্যে গাজীপুরের মাওনা থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে আটক করা হয় খায়রুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, বিস্ফোরণের সময় বোরহানের বাড়িতে ছিলেন তিনি।

আশিক জানান, বগুড়ার মোকামতলায় একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ভবনটির কেয়ারটেকার হলেন মো. হাবিব। কিছুদিন আগে সেখানে মাটি খোঁড়ার সময় মর্টারশেলটি পান শ্রমিকরা, যা হাবিবের কাছে রাখা হয়।

সেটি হাবিবের কাছ থেকে সংগ্রহ করে গেল মঙ্গলবার গোবিন্দগঞ্জের মেকুরাই নয়াপাড়া গ্রামে বোরহানের বাড়িতে নিয়ে রাখেন খায়রুজ্জামান। হাবিবও তাদের সঙ্গে সেখানে যান।

তারা কেউ তখনও জানতেন না বস্তুটি মর্টারশেল। এটির বিষয়ে জানতে এলাকার অহেদুল মিয়াকে তারা ডেকে নেন। অহেদুল প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিসপত্র বিক্রি করেন বলে এলাকায় তার পরিচিতি আছে।

অহেদুলই তাদের জানিয়েছিল, বস্তুটি মূল্যবান কিছু হতে পারে।

এরপর বোরহান ও খায়রুজ্জামান ঠিক করেন, এটি তারা খুলে দেখবেন। সে জন্য এলাকার একটি ওয়ার্কশপের কর্মী রানাকে বুধবার বাড়িতে নিয়ে যান বোরহান। সেখানে বসে মর্টারশেলটি তারা কেটে দেখার চেষ্টা করেন। তখনই এটি বিস্ফোরিত হয়।

ঘটনাস্থলেই নিহত হন বোরহান, অহেদুল ও রানা। খায়রুজ্জামান ও হাবিব কিছুটা দূরে থাকায় তারা বেঁচে যান।

আশিক বিল্লাহ বলেন, লাভের আশায় ওই পাঁচজন এই কাজ করতে চেয়েছিলেন। মূল্যবান বস্তু ভেবে এটি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

আশিক জানান, খায়রুজ্জামানকে গোবিন্দগঞ্জ থানায় পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া আরও একজন গাইবান্ধা পুলিশের হাতে আটক আছেন। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তিনি জানাননি। হাবিবের বিষয়েও কিছু নিশ্চিত করেননি তিনি।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, গোবিন্দগঞ্জে জঙ্গি হামলা বা নাশকতার কোনো আগাম তথ্য ছিল না। আর এটির সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতাও নেই।’

‘ওই মর্টারশেল মাটির নিচে ছিল। কোন দেশে তৈরি করেছিল, কেমন ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল তা জানার জন্য ফরেনসিক করা হবে।’

আরও পড়ুন:
গাইবান্ধার বিস্ফোরণ পরিত্যক্ত মর্টারশেলে
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ: ঘরের চালার সঙ্গে উড়ে যান রানা
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ নিয়ে রহস্য, যাচ্ছেন বোমা বিশেষজ্ঞরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হেফাজতের তাণ্ডব: পুলিশের ছিনিয়ে নেয়া গুলি মিষ্টির দোকানে

হেফাজতের তাণ্ডব: পুলিশের ছিনিয়ে নেয়া গুলি মিষ্টির দোকানে

উদ্ধার করা গুলি। ছবি: নিউজবাংলা

গত ২৭ মার্চ বিকেলে নন্দনপুর এলাকায় সংঘর্ষের সময় পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ২০টি গুলি ছিনিয়ে নেয় হেফাজত সমর্থকরা। প্রায় দুই সপ্তাহ পর সেই গুলি উদ্ধার হলো মিষ্টির দোকান থেকে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুইজনকে। হেফাজতের তাণ্ডবের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে আরও দুইজন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে হামলার ঘটনায় পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া ২০টি গুলি উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটি।

শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার সুহিলপুর বাজারের এক মিষ্টির দোকানের ছাদ থেকে গুলিগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় দুইজন এবং হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় মামলায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. রইছ উদ্দিন নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশের কাছ থেকে গুলি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় করা মামলার দুই আসামি হলেন সুহিলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কেন্দুবাড়ির আরব আলী ও সুহিলপুর গ্রামের মনির মিয়া।

হেফাজতের তাণ্ডবের মামলায় গ্রেপ্তার দুইজন হলেন সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া এলাকার জাকির হোসেন ও ভাদুঘর এলাকার মোহাম্মদ সুমন।

পুলিশ জানায়, গত ২৭ মার্চ বিকেলে মৌলভীবাজার পুলিশের দুই সদস্য সিএনজি অটোরিকশায় করে আসামি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে আসছিলেন।

সে সময় সদর উপজেলার নন্দনপুরে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলছিল। হেফাজত সমর্থকরা অটোরিকশাটি আটকে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। তারা পুলিশ সদস্য তুহিন ইসলামের কাছ থেকে রাইফেলের গুলি ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের নায়েক মো. মহিউদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় মামলা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) রইছ উদ্দিন বলেন, ‘মৌলভীবাজারের জেলা পুলিশের দুজন সদস্য আসামি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসার পথে তাদের ওপর হামলা চালায় দুষ্কৃতিকারীরা। এ সময় তারা একজন পুলিশ সদস্যের কোমরে রাখা ২০ রাউন্ড গুলি টান দিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মৌলভীবাজার পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে মামলা করে।

‘বিষয়টি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমরা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তার করি। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গুলিগুলো উদ্ধার করি।’

আরও পড়ুন:
গাইবান্ধার বিস্ফোরণ পরিত্যক্ত মর্টারশেলে
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ: ঘরের চালার সঙ্গে উড়ে যান রানা
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ নিয়ে রহস্য, যাচ্ছেন বোমা বিশেষজ্ঞরা

শেয়ার করুন

সালথায় সহিংসতা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি বিএনপির

সালথায় সহিংসতা: বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি বিএনপির

ফরিদপুরের সালথায় সংঘর্ষ নিয়ে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন। ছবি:নিউজবাংলা

বিএনপি নেতা শামা ওবায়েদের দাবি, ৫ এপ্রিল রাতে সালথার ঘটনা ছিল গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত। গ্রামবাসী ইমোশনাল হয়ে এ ঘটনা ঘটান। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এটি পরিকল্পিত এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করছেন।

ফরিদপুরের সালথায় সহিংসতার ঘটনায় ‘মিথ্যা মামলায়’ দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে জানিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছে বিএনপি।

শনিবার দুপুরে শহরের চকবাজারে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘৫ এপ্রিল রাতে সালথার ঘটনা ছিল গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত। এটি ঘটা উচিত ছিল না। গ্রামবাসীরা মনের দুঃখে, ইমোশনাল হয়ে এমন ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত ছিল।

‘কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বলছেন, এটি পরিকল্পিত এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা এর সাথে জড়িত। এটি একেবারেই মিথ্যা কথা। আমরা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।’

লকডাউন কার্যকর করার চেষ্টায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাকবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত ৮টা থেকে তিন ঘণ্টা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা।

সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ছবি: নিউজবাংলা

‘পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে’ এ-জাতীয় গুজব ছড়িয়ে সালথায় লোক জড়ো করা হয়। সন্ধ্যার পর হাজার হাজার জনতা থানা ও উপজেলা কমপ্লেক্স ঘেরাও করে। একপর্যায়ে উপজেলা পরিষদ, থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবনসহ সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৮ সদস্যসহ আহত হয় ২০ জন। আহতদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুবায়ের হোসেন ও মিরান মোল্যা নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়।

সালথা পরিদর্শনে গিয়ে সমাবেশে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এ ঘটনায় হেফাজতের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জড়িত বলে অভিযোগ করেন।

আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘হেফাজতের আড়ালে বিএনপি এ কাজ করেছে বলে তারা বলছেন। এই হেফাজতকে তো আওয়ামী লীগই লালনপালন করেছে।

‘সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি ও গোয়েন্দা সংস্থা থাকা সত্ত্বেও যদি হেফাজত সারাদেশে এত তাণ্ডব চালাতে পারে, তাহলে সকলের কাছে এটি পরিষ্কার যে, হেফাজতকে আওয়ামী লীগ ব্যবহার করছে ও লালনপালন করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার রাতে পুলিশ যেই চিত্রটি দিয়েছিল, পরের দিন মামলায় তা পুরাই উল্টো গেল।’

বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর অসুস্থতাজনিত কারণে অনুপস্থিতিতে তার ছেলের নির্দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এসব মামলা ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোদাররেস আলী ঈসা, সাবেক সহসভাপতি মোস্তাক হোসেন বাবলু, শহর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এমটি আখতার টুটুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হোসেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
গাইবান্ধার বিস্ফোরণ পরিত্যক্ত মর্টারশেলে
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ: ঘরের চালার সঙ্গে উড়ে যান রানা
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ নিয়ে রহস্য, যাচ্ছেন বোমা বিশেষজ্ঞরা

শেয়ার করুন

‘শিশুবক্তাকে’ কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর

‘শিশুবক্তাকে’ কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর

২৫ মার্চ মতিঝিলের শাপলা চত্বরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় রফিকুলকে আটক করে পুলিশ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলামকে গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে কাশিমপুর উচ্চ নিরাপত্তার কারাগার-২-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

গাজীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশীদ আকন্দ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশি পাহারায় রফিকুলকে গাজীপুর কারাগার থেকে বের করা হয়। এরপর সাড়ে ১২টার দিকে তারা কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছায়।

নেত্রকোণার পূর্বধলার লেডির কান্দার নিজ বাড়ি থেকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে রফিকুলকে র‌্যাব-১৪-এর একটি দল আটক করে।

রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রফিকুল ইসলামকে নেত্রকোণা থেকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে মামলা করে র‌্যাব।

শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম
শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে রফিকুল ইসলামকে গাজীপুর জেলা কারাগারে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) ইলতুৎ মিশ জানান, ‘গত ১০ ফেব্রুয়ারি মহানগরের বোর্ড বাজারের কলমেশ্বর এলাকায় একটি কারখানা চত্বরে ওয়াজ মাহফিলে সরকারকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বুধবার রাত সোয়া দুইটার দিকে গাছা থানায় মামলা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫/২৮/৩১ ধারায় রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় আক্রমণাত্মক, মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শক, তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ, প্রকাশ ইত্যাদি অপরাধের বর্ণনা ও শাস্তির কথা রয়েছে।

এ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে গাছা থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) আবদুল্লাই ইবনে সাঈকে। তবে মামলাটি নিজেরা তদন্তের জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খায়রুল ইসলাম।

গাজীপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরিফুল ইসলামের আদালতে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে তোলা হলে শুনানি শেষে বিচারক রফিকুলকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর দুপুরে তাকে জেলা কারাগারে নেয়া হয়েছে।

এর আগে ২৫ মার্চ মতিঝিল এলাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের সময় রফিকুলকে আটক করেছিল রমনা থানার পুলিশ। সেখানে তিনি মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন, আর এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না।

আরও পড়ুন:
গাইবান্ধার বিস্ফোরণ পরিত্যক্ত মর্টারশেলে
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ: ঘরের চালার সঙ্গে উড়ে যান রানা
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ নিয়ে রহস্য, যাচ্ছেন বোমা বিশেষজ্ঞরা

শেয়ার করুন

একা মা পরিচয়েই ঢাকায় বাসা ভাড়া

একা মা পরিচয়েই ঢাকায় বাসা ভাড়া

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে সঙ্গীনিসহ অবরুদ্ধ হওয়ার পর মামুনুল তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন। সাম্প্রতিক ছবি

মামুনুল হক দুই বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে দাবি করলেও তার কথিত স্ত্রী যে বাসায় সাবলেট হিসেবে ভাড়া থাকতেন সেই বাসার মূল ভাড়াটিয়া জানিয়েছেন, ঝর্ণা কখনও মামুনুলকে বিয়ের কথা বলেননি। বাসা ভাড়া নেন একা মা পরিচয়ে। কাজ করতেন বিউটি পারলারে।

হেফাজত নেতা মামুনুল হকের দুই বছর আগে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে বিয়ে করার দাবি আরও একটি কারণে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এই নারী ঢাকায় যে বাসায় সাবলেট থাকেন, সেই বাসার গৃহকর্ত্রী নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, বিচ্ছেদের পর আর বিয়ে করেননি জানিয়েই তার বাসার অর্ধেকটা ভাড়া নেন ঝর্ণা।

ভাড়া নেয়ার পর এই সময়ে ঝর্ণার মা, ছেলেসহ স্বজনরা একাধিকবার সেখানে গেছেন। কিন্তু কখনও মামুনুলের কথা তাকে বলেননি ঝর্ণা।

রাজধানীর গ্রিন রোড-সেন্ট্রাল রোডের কাছে নর্থ সার্কুলার রোডের ওই বাসায় ঝর্ণা ওঠেন আট মাস আগে। তিনি পারলারে কাজ করেন জানিয়ে মাসে ছয় হাজার টাকা চু্ক্তিতে একটি কক্ষ ভাড়া নেন বলে জানিয়েছেন পুরো ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয়া সালমা খান।

গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় রিসোর্ট কাণ্ডের পর থেকে ঝর্ণা আর এ বাসায় আসেননি। তিনি কোথায় আছেন জানেন না সালমা খান।

সালমা খান নিউজবাংলাকে জানান, ঝর্ণা কখনও তাকে বলেননি মামুনুল হকের সঙ্গে তার পরিচয় আছে বা তাকে বিয়ে করেছেন। তিনি ধানমন্ডির একটি পারলারে কাজ করার কথা বলে তার এখান সাবলেট নিয়েছিলেন। তবে মাস দুয়েক আগে ঝর্ণা সেই চাকরিটা ছেড়ে দেন বলে জানিয়েছেন।

মামুনুল হক কি এ বাসায় কখনও এসেছেন? এমন প্রশ্নে সালমা বলেন, ‘না না, আমার বাসায় কোনো পুরুষ মানুষ অ্যালাউড না।’

-উনি কি একাই থাকতেন?

-হ্যাঁ। ওনার আসার মধ্যে কেবল মা আসছে, বোন আসছে, ভাই আসছে। ওনার মামারাও আসছেন একবার। ওনার নানি যখন হাসপাতালে তখন ওনার মামিরা এসেছেন। ওনার দুই ছেলে আসছে।

বাসা সাবলেট দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে সালমা বলেন, ‘এক ছেলে নিয়ে থাকি। আমার তো এত বড় ফ্ল্যাট লাগে না। আমি ভাবলাম, একা একা থাকি, বোরও লাগে, মা ছেলে দুই জন, একটা রুম ভাড়া দিয়ে দেই, একজন মানুষ থাকলেও ভালো লাগবে। এই চিন্তা করে ভাড়া দিয়েছিলাম, তার এনআইডি কার্ডটার্ড সব নিয়েই ভাড়া দিয়েছিলাম।’

-উনি কি তখন পারলারে কাজ করতেন?

-হ্যাঁ, আমার বাসায় ‍যখন উঠেছেন তখন পারলারে কাজ করতেন।

-এখন?

-এখন গত দুই মাস তার চাকরিটা নাই। সে বলত, আমি চাকরিটা করব না। আসলে খুব ধার্মিক ছিল। ...বলত পারলারের চাকরিটা ছেড়ে দেব এ কারণে যে, আমরা যে কাজগুলো করি, ভ্রু প্লাক, তার পরে চুল কাটা- এগুলো হারাম। একটা ভালো চাকরি পেলে করব, এই চাকরিটা আমি করব না। ভালো লাগে না।

-আপনি কি বুঝতেন মামুনুল হকের সঙ্গে তার সম্পর্ক চলছে?

-না, না, না, আসলে সে ঘর থেকে কখনও এ রকম বেরও হতো না হুটহাট, কোনোদিন এ রকম ছিলও না। উগ্র চলাফেরা, বিষয়-আশয় সন্দেহ করার মতো কিছু ছিলও না।

-কোনো ধরনের হতাশা ছিল কি না, যে তাকে একজন বিয়ে করছে না, এভাবে রেখে দিয়েছে?

-না, না, সে কেবল নামাজ পড়ত।

-তাদের মধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে, এমন কিছু জানতেন?

-না না, আমি এ রকম কিছু জানতাম না।

সালমার বক্তব্যের সঙ্গে মামুনুল হক ও তার সংগঠন হেফাজতে ইসলামের বক্তব্যের কোনো মিল নেই।

মামুনুল রিসোর্ট কাণ্ডের পর দাবি করেছেন, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর বিপাকে পড়া ঝর্ণার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করে তিনি ‘মানবিক বিয়ে’ করেছেন। তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন।

মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা। ছবি: নিউজবাংলা

আর হেফাজত বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে, এই কথিত বিয়ে পুরোপুরি বৈধ।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসায় যে রাতে বৈঠক করে হেফাজত নেতারা এই কথিত বিয়েকে বৈধ ঘোষণা দেন, সেদিন মামুনুল নানা প্রশ্নের মুখে পড়েন বলে বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

ওই নেতা জানান, বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের দুই নায়েবে আমির আবদুল আউয়াল ও আবদুর রব ইউসূফী মামুনুলকে বেশ কিছু প্রশ্ন করেন। তারা বলেন, বিয়ে করলে ঝর্ণার ভরণপোষণের দায়িত্ব কেন তিনি নেননি।

তখন মামুনুল স্বীকার করেন, তিনিই ঝর্ণাকে পারলারে কাজ দিয়েছেন।

মামুনুল অবশ্য ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেছেন, তার পরিবার প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সম্পদশালী। এই ধরনের পরিবারের একজন স্ত্রী স্বল্প বেতনে পারলারে কাজ করবেন- এই বিষয়টি স্বাভাবিক না হলেও মামুনুল এর কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

তবে সেদিনের বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল আউয়াল বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। নিউজবাংলার নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি মোহাম্মদ বিল্লাল হোসাইন এই হেফাজত নেতার সঙ্গে দেখা করেন সেই আলোচনার বিস্তারিত জানতে।

তবে আউয়াল বলেন, ‘বাবারে, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না।’

-তাহলে বৈঠকে আপনি কী শুনেছেন?

-আমি কেবল স্বাক্ষর করেছি, আলোচনা তারা করেছে। আমি কিছু শুনিনি।

ঝর্ণার কথিত ডায়েরি গোয়েন্দাদের হাতে

নর্থ সার্কুলার রোডের এই ফ্ল্যাট থেকেই ঝর্ণার লেখা তিনটি ডায়েরি গোয়েন্দারা উদ্ধার করে নিয়ে আসেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন।

বেশ কয়েকটি সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন এই ডায়েরির ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনও তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ঝর্ণা এসব ডায়েরিতে লিখেছেন, মামুনুলকে তিনি ঘৃণা করেন না কি ভালোবাসেন, তা নিয়ে তিনি বিভ্রান্ত। আর মামুনুল তার সঙ্গে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন এবং তার জীবনটাকে নরক বানিয়ে ফেলেছেন।

ইনডিপেনডেন্ট টিভি ও ডিবিসি নিউজের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ডায়েরিতে লেখা আছে, মামুনুলের বিষয়ে ঝর্ণা লেখেন, ‘সাদা সাদা জামা পরলেই আর বড় মাওলানা হলেই মানুষ হয় না, মুখোশধারীও হয়। আমার সবটাই দিয়েছিলাম আর আপনি সবটাই যত্ন করে রেখেছিলেন।’

তবে এই ডায়েরির সত্যতা কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হতে পারেনি নিউজবাংলা।

স্থানীয়রা অবরুদ্ধ করার পর পুলিশ গিয়ে কথা বলে মামুনুল হকের সঙ্গে। ছবি: নিউজবাংলা

রিসোর্টে যা হয়েছে

গত শনিবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রিসোর্টে গিয়ে স্থানীয়দের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে মামুনুল সঙ্গীনিকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন।

অবশ্য মামুনুল রয়্যাল রিসোর্টে যাওয়ার পর কক্ষ ভাড়া করার সময় সঙ্গীনির নাম লেখেন আমিনা তাইয়্যেবা, যেটি তার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর নাম।

রিসোর্টে সঙ্গীনির নামের পাশাপাশি মামুনুল ভুল তথ্য দিয়েছেন তার কথিত শ্বশুরের নাম ও বাড়ির ঠিকানা নিয়ে।

মামুনুল দাবি করেছেন, তার শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম, তাদের বাড়ি খুলনায়। তবে ঝর্ণা জানিয়েছেন, তার বাবার নাম অলিয়র রহমান, বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়।

গরমিল ফোনালাপ

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে ফাঁস হওয়া বেশ কিছু ফোনালাপ হেফাজত নেতার বিয়ের দাবির সত্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

এর একটিতে বোঝা যায়, ঘটনার পরপরই মামুনুল তার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, সেই নারী তার পরিচিত শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার কারণে চাপে পড়ে তাকে স্ত্রী পরিচয় দিতে বাধ্য হয়েছেন।

পরে আরেকটি কথোপকথন ফাঁস হয়, যা মামুনুলের সঙ্গে তার রিসোর্টের সঙ্গীনির মধ্যকার বলে প্রতীয়মান হয়। সেখানে সেই নারী জানান, তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তার মায়ের একটি বন্ধ মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। আর অন্য একজন যখন তাকে কোথায় বিয়ে হয়েছে জিজ্ঞেস করেছে, তখন তিনি বলেছেন, এটা তিনি জানেন না। মামুনুলের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।

আরও একটি কথোপকথনে বোঝা যায় মামুনুলের বোন কথা বলেছেন হেফাজত নেতার চার সন্তানের জননী স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি তাকে বুঝিয়েছেন, কেউ যদি তাকে ফোন করে, তাহলে তিনি যেন বলেন, তিনি এই দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন এবং তার শাশুড়ি এই বিয়ের আয়োজন করেছেন।

এরই মধ্যে মামুনুলের রিসোর্টের সঙ্গীনির বড় ছেলে ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুলের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি তার মায়ের সঙ্গে বাবার সংসার ভাঙার জন্য মামুনুলকে দায়ী করেন।

এই কিশোর মামুনুলের বিচার চেয়ে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের মানুষের কাছে আশা করব, এর যেন সঠিক বিচার হয়, আপনারা কারও অন্ধ ভক্ত হয়েন না।… এই লোকটা আলেম নামধারী এক মুখোশধারী একটা জানোয়ার। এর মধ্যে কোনো মনুষ্যত্ব নাই। সুযোগের সব সময় অপেক্ষায় থাকে, কাকে কীভাবে দুর্বল করা যায়। আমার আর কিছু বলার মতো ভাষা নাই।’

হেফাজত নেতা মামুনুল অবশ্য এখনও দাবি করছেন, তার দেয়া তথ্য পুরোপুরি সত্য। আর তিনি মিথ্যা বললে তার ওপর আল্লাহর ‘গজব পড়বে’।

মামুনুল দাবি করেছেন তার ও স্বজনদের ফাঁস হওয়া ফোনালাপেই প্রমাণ হয়েছে দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন। আর স্ত্রী তাইয়্যেবার কাছ সত্য গোপনের পেছনে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, ইসলামে স্ত্রীদের সঙ্গে সীমিত পর্যায়ে সত্য গোপন করার সুযোগ আছে আর তিনি তাকে কীভাবে প্রবোধ দেবেন, এটা একান্তই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

আরও পড়ুন:
গাইবান্ধার বিস্ফোরণ পরিত্যক্ত মর্টারশেলে
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ: ঘরের চালার সঙ্গে উড়ে যান রানা
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ নিয়ে রহস্য, যাচ্ছেন বোমা বিশেষজ্ঞরা

শেয়ার করুন

সালথায় তাণ্ডব: ৫ মামলায় আসামি ১৭০৬১

সালথায় তাণ্ডব: ৫ মামলায় আসামি ১৭০৬১

পুুলিশ জানায়, সালথায় সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬। এর মধ্যে ১১ জনকে বুধবার ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ডে পাঠান বিচারক।

ফরিদপুরের সালথায় তাণ্ডবের ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়েছে। আগের মামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় ১৭ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করেছে মোট ২৬ জনকে।

যে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে, তাতে নাম উল্লেখ করা হয়েছে ২৬১ জনের। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ জনকে।

নতুন যে চারটি মামলা হয়েছে, তার একটি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু মাতুব্বর। এ মামলায় ২৫ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলা করেছেন ইউএনও হাসিব সরকারের গাড়িচালক হাশমত আলী। তিনি ৫৮ জনের নামসহ ৩ থেকে ৪ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করেছেন।

৪৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৩ থেকে ৪ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী সমীর বিশ্বাস।

অপর মামলা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক মো. সাগর সিকদার। এ মামলায় ৪২ জনের নামসহ ৩ থেকে ৪ হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার সালথা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান ৮৮ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৪ হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা করেন।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) জামাল পাশা জানান, সালথায় সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬। এর মধ্যে ১১ জনকে বুধবার ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ডে পাঠান বিচারক। বৃহস্পতিবার বাকি ১৫ জনকে সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানো হবে।

ফরিদপুরের সালথায় সোমবার রাতে তিন ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব চালায় হামলাকারীরা। ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা চত্বরে লাঠিসোঁটা নিয়ে ঢুকে থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।



আওয়ামী লীগ-অধ্যুষিত এই এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালও ভাঙচুর করা হয়েছে। গত ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের সময় সেখানেও ভাঙচুর করা হয় বঙ্গবন্ধুর দুটি ম্যুরাল।

হামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আট সদস্যসহ আহত হন ২০ জন। আহতদের মধ্যে জুবায়ের হোসেন ও মিরান মোল্যা নামের দুইজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তাৎক্ষণিকভাবে জানা গিয়েছিল, লকডাউন কার্যকর করার চেষ্টায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে।

তবে হামলাকারীদের উন্মত্ততার পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর বক্তব্যে এই তথ্য কতটা সঠিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তাণ্ডবের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসলিমা আলী ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসলাম মোল্লাকে প্রধান করে ছয় সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসিব সরকার বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি হামলাকারীরা পুলিশের গুলিতে দুইজনের মৃত্যু ও এক মাওলানাকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়ায়।’

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে চা-পান করে নটাখোলা গ্রামের মো. জাকির হোসেন মোল্যা বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সেখানে লকডাউনের পরিস্থিতি পরিদর্শনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হিরামণি যান।

জাকির হোসেনের অভিযোগ, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সহকারী কমিশনারের গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তি তার কোমরে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।

তবে ইউএনও হাসিব সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশ পালন করতে ওই বাজারে যান সহকারী কমিশনার (ভূমি)। সেখানে তিনি যাওয়ার পর মানুষের জটলা সৃষ্টি হয়। তখন তিনি ওই স্থান থেকে ফিরে এসে সেখানে পুলিশের একটি দল পাঠান। পুলিশ যাওয়ার পর স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে এসআই মিজানুর রহমানের ওপর হামলা চালান স্থানীয়রা। হামলায় মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়।

‘পরে পুলিশের গুলিতে দুইজনের মৃত্যু ও এক মাওলানাকে গ্রেপ্তারের গুজব ছড়ানো হয়। এমন খবরে হাজারো মানুষ থানা ঘেরাও করে। পরে উপজেলা পরিষদ, থানা, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, উপজেলা কৃষি অফিস, সাবরেজিস্ট্রি অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।’

সালথা উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াদুদ মাতুব্বর বলেন, ‘আমার বাসভবনসহ বিভিন্ন অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। গুজব ছড়িয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজতের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে।’

পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, ‘লকডাউনের প্রথম দিনে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভুল-বোঝাবুঝি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা মিজানুর নামে এক এসআইকে মারধর করে। এরপর তারা গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে।’

তিনি বলেন, তাদের এই হামলা থেকে রক্ষা পায়নি উপজেলা কমপ্লেক্সের গাছপালা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ নানা স্থাপনা। এটি সাধারণ মানুষের কাজ হতে পারে না।

আরও পড়ুন:
গাইবান্ধার বিস্ফোরণ পরিত্যক্ত মর্টারশেলে
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ: ঘরের চালার সঙ্গে উড়ে যান রানা
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ নিয়ে রহস্য, যাচ্ছেন বোমা বিশেষজ্ঞরা

শেয়ার করুন

দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে স্ত্রী হত্যা: স্বামী ফের রিমান্ডে

দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে স্ত্রী হত্যা: স্বামী ফের রিমান্ডে

ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

দ্বিতীয় দফা রিমান্ডে পাঠানো মিশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্ত্রীকে হত্যার পর প্রাইভেটকার দুর্ঘটনার নাটক সাজান তিনি।

স্ত্রী হাসনা হেনা ঝিলিককে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার রাজধানীর সাকিব আলম মিশুকে বৃহস্পতিবার ফের দুইদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

৩ এপ্রিল স্ত্রীকে হত্যার পর প্রাইভেটকার দুর্ঘটনার নাটক সাজানোর অভিযোগ রয়েছে মিশুর বিরুদ্ধে।

তিনদিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার মিশুকে আদালতে হাজির করে ফের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই ফেরদৌস আলম সরকার।

শুনানি শেষে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের (সিএমএম) হাকিম শাহিনুর রহমান দুইদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

আসামি পক্ষে তার আইনজীবী মেহেদী হাছানসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে সিএমএম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দীন হিরন জামিনের বিরোধীতা করেন।

গত ৪ এপ্রিল মিশুর তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পাশাপাশি তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম, মা সাঈদা আলম, ভাই ফাহিম আলম এবং বোন টুকটুকির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।

হত্যার ঘটনায় ঝিলিকের মা তাহমিনা হোসেন আসমা গুলশান থানায় ঝিলিকের শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
গাইবান্ধার বিস্ফোরণ পরিত্যক্ত মর্টারশেলে
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ: ঘরের চালার সঙ্গে উড়ে যান রানা
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ নিয়ে রহস্য, যাচ্ছেন বোমা বিশেষজ্ঞরা

শেয়ার করুন

‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেক মামলা

‘শিশুবক্তার’ বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরেক মামলা

‘শিশুবক্তা’ হিসেবে খ্যাত রফিকুল ইসলাম মাদানি। ছবি: নিউজবাংলা

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসির আরাফাত খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম মাদানির বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সৈয়দ আদনান বাদী হয়ে মামলা করেছেন।’

আলোচিত সমালোচিত ‘শিশুবক্তা’ রফিকুল ইসলাম মাদানির বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মতিঝিল থানায় মামলাটি করা হয়। তবে মামলার বাদী হিসেবে সৈয়দ আদনান নামে এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হলেও তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসির আরাফাত খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম মাদানির বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সৈয়দ আদনান বাদী হয়ে মামলা করেছেন।’

বাদীর সম্পর্কে ও এজাহার বিষয়ে জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘বাদীর পরিচয় আমার জানা নেই। আর এজাহার নিয়ে কাজ চলছে। আগামীকাল পাওয়া যাবে।’

রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রফিকুলকে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে নেত্রকোণার পূর্বধলার লেডির কান্দার নিজ বাড়ি থেকে রফিকুলকে আটক করে র‌্যাব-১৪-এর একটি দল।

তবে বিষয়টি বুধবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়। গ্রেপ্তারের পর রফিকুলের বিরুদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকার গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে র‌্যাব।

র‌্যাবের করা মামলায় রফিকুলের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তিনি দেশ ও সমাজের জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলাসহ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন।

মামলায় বলা হয়, রফিকুল বাংলাদেশের স্বার্থপরিপন্থি বিভিন্ন অপতৎপরতায় লিপ্ত। ধর্মীয় অর্থাৎ কোরআন-হাদিসের অপব্যাখ্যা দেয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উসকানি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে উদ্বুদ্ধ করেন।

তিনি তার ওয়াজে প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের প্রতি শত্রুতামূলক মনোভাব ও সরকারের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টির জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য প্রদান করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে।

মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ হিসেবে গত ১০ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের বোর্ড বাজার এলাকার একটি ওয়াজের বক্তব্যকে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মানি না রাষ্ট্রপতি, আমি কচুর প্রধানমন্ত্রী মানি না। কিসের প্রশাসনের অর্ডার? আমি কোনো অর্ডার মানি না। আমার সংবিধানে প্রধানমন্ত্রী নাই, রাষ্ট্রপতি নাই, এমপি নাই। আমি মানি না প্রধানমন্ত্রী, মানি না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাকে রিমান্ডে নিবা? জেলে নিবা? ফাঁসি দিবা তাই তো?’

এজাহারে রফিকুল ইসলাম আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

রফিকুলের এসব ধারাবাহিক উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার অনুসারীরা ২৬ মার্চ ও পরবর্তী সময়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা চালায়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সম্পদের ক্ষতি করে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

দেখতে খর্বকায় ও শিশুতোষ কণ্ঠের অধিকারী হওয়ায় রফিকুল ইসলাম মাদানিকে অনেকে ‘শিশুবক্তা’ বলে মনে করলেও তার দাবি, তিনি মোটেও শিশু নন। তার বয়স ২৬ বছর।

এর আগে ২৫ মার্চ মতিঝিল এলাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী মিছিল ও ভাঙচুরের সময় রফিকুল ইসলাম মাদানিকে আটক করেছিল রমনা থানার পুলিশ। সেখানে তিনি মৌখিক আশ্বাস দিয়েছিলেন, আর এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেবেন না।

কথা রাখেননি রফিকুল। বরং ছাড়া পেয়ে তার ঔদ্ধত্যপনা আরও বাড়ে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীসহ স্থানীয়দের হাতে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের অবরুদ্ধ হওয়া নিয়ে একাধিকবার উসকানিমূলক বক্তব্য দেন রফিকুল। এরপরই তাকে আটক করার খবর দেয় র‌্যাব।

আরও পড়ুন:
গাইবান্ধার বিস্ফোরণ পরিত্যক্ত মর্টারশেলে
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ: ঘরের চালার সঙ্গে উড়ে যান রানা
গাইবান্ধায় বিস্ফোরণ নিয়ে রহস্য, যাচ্ছেন বোমা বিশেষজ্ঞরা

শেয়ার করুন