এক নারীর পরিবর্তে আরেক জনের গর্ভপাতের চেষ্টা তদন্তে কমিটি

player
এক নারীর পরিবর্তে আরেক জনের গর্ভপাতের চেষ্টা তদন্তে কমিটি

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল

ঘটনার পর নার্স ফাতেমা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা। তবে বৃহস্পতিবার ফাতেমা কর্মস্থলে আছেন বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরশ্বাদ উল্লাহ। অভিযুক্তের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে এখন তা সম্ভব নয় বলে জানান আরশ্বাদ। বলেন, তদন্ত চলাকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা বলা ঠিক হবে না।

মানিকগঞ্জে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা জিয়াসমিন আক্তারকে জোর করে গর্ভপাত করানোর চেষ্টার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরশ্বাদ উল্লাহ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গর্জনা গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা জিয়াসমিন ২৪ জানুয়ারি সদর হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ২০ নম্বর শয্যায় ভর্তি হন।

সেখানে চিকিৎসা চলছিল তার। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে শয্যা থেকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যান নার্স ফাতেমা আক্তার। সেখানে জোর করে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করেন তিনি।

গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রুমা বলেছেন, গাইনি ওয়ার্ডে ২১ নম্বর বেডে এক রোগীকে গর্ভপাত (ডিঅ্যান্ডসি) করানোর কথা ছিল। কিন্তু ২০ ও ২১ বেডে পাশাপাশি হওয়ায় হয়তো ভুলে ওই রোগীকে অন্য কক্ষে নিয়ে যান নার্স ফাতেমা আক্তার।

ঘটনার পর নার্স ফাতেমা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা। তবে বৃহস্পতিবার ফাতেমা কর্মস্থলে আছেন বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরশ্বাদ উল্লাহ। অভিযুক্তের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে এখন তা সম্ভব নয় বলে জানান আরশ্বাদ। বলেন, তদন্ত চলাকালে গণমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা বলা ঠিক হবে না।

ওই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন গৃহবধূ জিয়াসমিনের চাচা লুৎফর রহমান। এর পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়া হয়।

এক নারীর পরিবর্তে আরেক জনের গর্ভপাতের চেষ্টা তদন্তে কমিটি


তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ওসমান গনী, মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আরফান আনসারী এবং শাহারিন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরশ্বাদ উল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ওই গৃহবধূর চাচার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।

গৃহবধূ জিয়াসমিন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে একটু ভালো বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

জিয়াসমিন আক্তার জানান, রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ২৬ জানুয়ারি জোর করে তার গর্ভপাত করানোর চেষ্টা হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

জিয়াসমিনের মা জানান, তার মেয়েকে জোর করে কী কারণে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করা হলো এবং কার লাভের জন্য ওই নার্স এমন কাজ করলেন, তা তিনি জানতে চান। সেই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
এক জনকে ভেবে আরেক জনকে গর্ভপাতের কক্ষে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

শাবিতে হামলা: ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, উপাচার্যের মদদে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। শাবি উপাচার্যের নির্দেশে এই হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে তারা এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এই কর্মসূচি হয়।

সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করতে পারেন। ক্যাম্পাস গণতন্ত্র ও মুক্তচিন্তা চর্চার জায়গা। এমন একটি স্থানে যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলা ন্যক্কারজনক।

‘এতে আমাদের অনেক শিক্ষার্থী ভাই ও বোনেরা গুরুতর আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দ্রুত হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি।’

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মো. রিফাত বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন একটি ক্যাম্পাসের সর্বোচ্চ অভিভাবক। সেই অভিভাবকের মদদে যখন পুলিশ বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়, তখনই বোঝা যায় সেখানকার অবস্থা।

‘ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি আন্দোলনে হামলা চালানো হচ্ছে। এটি একটি দেশের জন্য মোটেও ভালো কিছু নয়।’

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে সোমবার দুপু‌রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সামশাদ নওশীন ব‌লেন, ‘শা‌বিপ্রবি‌তে শিক্ষার্থীরা যৌ‌ক্তিক দাবিতে আন্দোলন কর‌ছেন। উপাচা‌র্যের নি‌র্দেশে তা‌দের উপর পু‌লি‌শের হামলা ও গু‌লিবর্ষণ বর্বরো‌চিত কাণ্ড। পু‌লিশ শা‌বিপ্রবি ক‌্যাম্পা‌সে একটা তুলকালাম কাণ্ড সৃ‌ষ্টি ক‌রে‌ছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী আহত হ‌য়ে‌ছেন।

‘এই ঘটনার বিচার চাই আমরা, তা না হ‌লে ব‌রিশাল বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় শিক্ষার্থীরাও ক‌ঠোর আন্দোলনে নাম‌বেন।’

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করেন। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের ভোলা সড়কের মোড় হয়ে ফের ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয় মিছিলটি।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মানববন্ধনে তারা শাবির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানান।

বক্তারা জানান, পুলিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে উপাচার্য তার পদে থাকার নীতিগত অধিকার হারিয়েছেন।

তারা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সব দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান এবং অবিলম্বে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ভিসির পদত্যাগের দাবি করেন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের ঘটনার পর রোববার রাতেই বিক্ষোভ করেন সাভারের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ চলে সোমবারও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ৪৯তম ব্যাচের আয়োজনে মানববন্ধন হয়।

ওই ব্যাচের ছাত্র ইমরান হোসেন শুভ বলেন, ‘বাংলাদেশে যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে তার কোনোটাই ছাত্রবান্ধব না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় যেন ছাত্রবান্ধব হয়। নিজের অধিকার আদায় করতে শিক্ষার্থীদের যেন আর রক্ত ঝরাতে না হয়।’

মানববন্ধনে একাত্মতা জানান বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও সাংস্কৃতিক জোট।

আরও পড়ুন:
এক জনকে ভেবে আরেক জনকে গর্ভপাতের কক্ষে

শেয়ার করুন

নবজাতকের কপালে ৯ সেলাই, নার্সের নামে মামলা

নবজাতকের কপালে ৯ সেলাই, নার্সের নামে মামলা

ফুপু হোসনে আরার কোলে আহত নবজাতক। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা সিভিল সার্জন সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত করেছি। হাসপাতালের কাগজপত্র হালনাগাদ না থাকায় এর কার্যক্রম বন্ধ করেছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’

ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসব করানোর সময় নবজাতকের কপাল কেটে ফেলায় চেয়ারম্যান, পরিচালক ও নার্সসহ চারজনের নামে মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে হাসপাতালের সব ধরনের কার্যক্রম।

শিশুর বাবা শফিক খান কোতোয়ালি থানায় শনিবার রাতে হাসপাতালের চেয়ারম্যান রাহিমা রহমান, তার দুই ছেলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জাকারিয়া রহমান মোল্লা পলাশ ও আল হেলাল মোল্লা টগর এবং নার্স চায়না বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (প্রশাসন ও তদন্ত) গফফার হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্বজনরা জানান, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার মইজুদ্দিন মাতব্বরপাড়ার প্রসূতি রুপা বেগমকে শনিবার ফরিদপুর শহরের আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক ছাড়াই রুপার সন্তান প্রসব করান আয়া ও নার্স। এ সময় তারা নবজাতকের কপালের একটি অংশ কেটে ফেলেন। কপাল কেটে যাওয়ায় শিশুটির কপালে নয়টি সেলাই দিতে হয়।

ওসি গফফার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পলাশ ও চায়না বেগমকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের ধরার চেষ্টা চলছে।’

নবজাতকের কপাল কেটে যাওয়ার অভিযোগের পর শনিবারই হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন জেলা সিভিল সার্জন সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফাতেমা করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার।

সিভিল সার্জন বলেন, ‘আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত করেছি। এ কারণে আলাদা করে তদন্ত কমিটি করা হয়নি। হাসপাতালের কাগজপত্র হালনাগাদ না থাকায় আমরা এর কার্যক্রম বন্ধ করেছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।’

আরও পড়ুন:
এক জনকে ভেবে আরেক জনকে গর্ভপাতের কক্ষে

শেয়ার করুন

টেক্সাসে জিম্মিকারী ব্রিটিশ নাগরিক

টেক্সাসে জিম্মিকারী ব্রিটিশ নাগরিক

ইহুদি উপাসনালয় ঘিরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে অবগত তারা। তিনি কে বা কেন প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করেছেন, তা নিশ্চিত নয় লন্ডন।   

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ইহুদি উপাসনালয়ে চারজনকে জিম্মি করা ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিক। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেখানে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে অবগত তারা। তিনি কে বা কেন প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করেছেন, তা নিশ্চিত নয় লন্ডন।

ডালাসের কোলিভিলের স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টার দিকে কংগ্রেগেসন বেথ ইসরায়েল সিনাগগে প্রার্থনা চলার সময় এক ব্যক্তি চারজনকে জিম্মি করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উপসনালয়ের ধর্মগুরুও (রাবাই)।

ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত ওই প্রার্থনার মধ্যে এক ব্যক্তির উচ্চস্বরে কথা বলতে শুনতে পাওয়া যায়। তিনি বলতে থাকেন, ‘ফোনে আমার বোনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দাও। আমি মারা যাব।’

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমেরিকা কিছু ভুল করেছে।’

এর পর পরই লাইভ ফিড বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। স্থানীয়দের নিরাপদে সরিয়ে নেন তারা। এরপর থেমে থেমে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। চলে সমঝোতার চেষ্টাও।

৬ ঘণ্টা পর একজনকে ছেড়ে দেন জিম্মিকারী। এর কয়েক ঘণ্টা পর বাকিদেরও মুক্ত করে দেয়া হয়। তারা সবাই অক্ষত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি আফিয়া সিদ্দিকি নামে এক পাকিস্তানি স্নায়ুবিজ্ঞানীর মুক্তি দাবি করেন। আফগানিস্তানে নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হত্যাচেষ্টার দায়ে ৮৬ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন আফিয়া। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আছেন।

এর আগে ২০১২ সালে সিরিয়ায় অপহৃত এক আমেরিকান সাংবাদিকের বিনিময়ে আফিয়ার মুক্তি দাবি করেছিল আইএস।

এদিকে আফিয়ার আইনজীবী সিএনএন জানান, ওই ব্রিটিশ জিম্মিকারী আফিয়ার ভাই নয়। আফিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এই জিম্মির ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে জঘন্য বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

টেক্সাসের বাসিন্দা ভিক্টোরিয়া ফ্রান্সিস বন্ধ হওয়ায় আগ পর্যন্ত লাইভ স্ট্রিমিং দেখেছিলেন। অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আমেরিকাকে নিয়ে মন্তব্য করছিলেন। তার কাছে বোমা আছে বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন।’

আরও পড়ুন:
এক জনকে ভেবে আরেক জনকে গর্ভপাতের কক্ষে

শেয়ার করুন

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

আন্দোলনরত শাবি শিক্ষার্থীদের হটিয়ে দিতে ক্যাম্পাসে পুলিশের অ্যাকশন। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।

তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও এর জেরে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, যার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিলেন সেই প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করেছেন। তার পরিবর্তে বেগম সিরাজুন্নেসা হলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরীকে।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা হলেও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম চলবে বলে জানান উপাচার্য।

এদিকে, উপাচার্যের এই ঘোষণার পর ফের বিক্ষোভ শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। হল ছাড়বে না বলে ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধু, শাহপরান ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের ছাত্ররা মিছিল করেছে।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্র শাকিল আহমদ জানান, হঠাৎ করে উপাচার্যের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। এটা মেনে নেয়া সম্ভব না। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা হল খালি করবে না।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘অনির্দিষ্টকালের বন্ধের কারণে আমরা বিপাকে পড়েছি। হুট করে ১২টার মধ্যে কোথায় যাব? করোনার কারণে এমনিতেই আমাদের শিক্ষাজীবন সংকটে। এখন হল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কারণে আরও সমস্যায় পড়ব।’

ওই হলের প্রভোস্ট সামিউল ইসলাম জানান, এটা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত; তাদের কিছু করার নেই।

সিদ্ধান্ত না মেনে কোনো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তারা সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ। তাতে যোগ দেন সহপাঠীরাও।

বেলা ৩টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান আন্দোলনকারী ছাত্রীরা। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপাচার্যকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আইআইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন উপাচার্য ফরিদ।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের আইআইসিটি ভবন থেকে হটিয়ে উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায় পুলিশ।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, পুলিশের গুলিতে অধ্যাপক জহির গুলিবিদ্ধ হননি। ওই গুলি কারা ছুড়েছে তা তিনি জানেন না। তাকে মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ইটের আঘাতে তিনিও আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রক্টর আরও জানান, গুলিবিদ্ধ অধ্যাপক জহিরকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত।

আরও পড়ুন:
এক জনকে ভেবে আরেক জনকে গর্ভপাতের কক্ষে

শেয়ার করুন

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

ক্যাম্পাসের ফটক তালাবদ্ধ করে বাইরে শাবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী ছাত্র সাত্তার আহমদ বলেন, ‘পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করেছে। ছাত্রীদের মারধর করেছে। গুলি ছুড়েছে। ভিসির নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর বিচার চাই আমরা।’

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর উপাচার্যের নির্দেশে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসে পুলিশ-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলা প্রায় ৩০ মিনিটের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলির ঘটনার পর রোববার সন্ধ্যায় ফটকে তালা ঝুলিয়ে বাইরে অবস্থান নিয়ে রেখেছেন তারা। উপাচার্য ও পুলিশের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

ক্ষুদ্ধ ছাত্র সাত্তার আহমদ বলেন, ‘পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করেছে। ছাত্রীদের মারধর করেছে। গুলি ছুড়েছে।
ভিসির নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর বিচার চাই আমরা।’

তিনি জানান, তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

শিক্ষার্থীরা ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলেও ভেতরে অবস্থান নিয়ে রেখেছে পুলিশ; আছেন সংবাদমাধ্যম কর্মীরাও।

এই বিষয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সন্ধ্যায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, উপাচার্যের বাসভবনে চলছে জরুরি সিন্ডিকেট সভা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে গিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা আলোচনার চেষ্টা করি, কিন্তু তারা আমাদের উপর ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এ কারণে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।’

এর আগে সন্ধ্যায় গুলি ছোড়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করলেও রাতে জানান, পুলিশ ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে।

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তারা সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ। তাতে যোগ দেয় সহপাঠীরাও।

বেলা ৩টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান আন্দোলনকারী ছাত্রীরা। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপাচার্যকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আইআইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন উপাচার্য ফরিদ।

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

ভবনের বাইরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।

বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের আইআইসিটি ভবন থেকে হটিয়ে উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায় পুলিশ।

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ সে সময় জানান, পুলিশের গুলিতে অধ্যাপক জহির গুলিবিদ্ধ হননি। ওই গুলি কারা ছুড়েছে তা তিনি জানেন না। তাকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ইটের আঘাতে তিনিও আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছে। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রক্টর আরও জানান, গুলিবিদ্ধ অধ্যাপক জহিরকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত।

আরও পড়ুন:
এক জনকে ভেবে আরেক জনকে গর্ভপাতের কক্ষে

শেয়ার করুন

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

শাবির আইসিটি ভবনের সামনে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের হটাতে পুলিশের অ্যাকশন। ছবি: নিউজবাংলা

আইআইসিটি ভবনের সামনে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবন থেকে হটিয়ে উপাচার্যকে মুক্ত করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

আইআইসিটি ভবনের সামনে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

এর মধ্যেই সন্ধ্যা ৬টার দিকে আইআইসিটি ভবনের গেটের তালা ভেঙে পুলিশ ভেতরে গিয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে বের করে তার বাসভবনের দিকে নিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত অন্তত পাঁচজনকে হাসপাতালে নিতে দেখা গেছে।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

সন্ধ্যা সোয়া ৬টা নাগাদ পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। বিক্ষোভকারীরা সরে গেলেও ক্যাম্পাসজুড়ে পরিস্থিতি থমথমে।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, তিনিসহ পুলিশের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। কোষাধ্যক্ষও আহত হন।

আন্দোলনকারী কয়েকজন প্রতিবেদককে জানান, তাদের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

অধ্যাপক জহিরের বিষয়ে উপকমিশনার বলেন, পুলিশের গুলিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হননি। ওই গুলি কারা ছুড়েছে তা তিনি জানেন না। অধ্যাপককে মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

আইআইসিটি ভবনে রোববার বেলা ৩টা ১০ মিনিটে অবরুদ্ধ হন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ভবনের বাইরে অবস্থান নিয়ে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি আদায়ে স্লোগান দেন বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন সহপাঠীরাও।

বেলা ৩টার দিকে আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক জহির উদ্দিন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস। তারা দাবি পূরণের বিষয়ে সময় চাইলে ছাত্রীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ
বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে উপাচার্যকে তার বাসভবনে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

এরপর নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাচ্ছিলেন উপাচার্য। সে সময় তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান ছাত্রীরা। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে ছাত্রীদের ধাওয়ায় উপাচার্য আইআইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন।

বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

এ ঘটনার পর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এরপর শুরু হয় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

তিন দফা দাবি আদায়ে চতুর্থ দিনের মতো চলছে সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীদের এ আন্দোলন। শনিবার মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে অবস্থান নেন তারা।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

তাদের দাবির মধ্যে আছে সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগ, অবিলম্বে হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাধ্যক্ষ কমিটি নিয়োগ দেয়া।

উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে শুক্রবার দাবি মেনে নেয়ার জন্য শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন ছাত্রীরা। এরপর শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ।

আরও পড়ুন:
এক জনকে ভেবে আরেক জনকে গর্ভপাতের কক্ষে

শেয়ার করুন

এবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে শাবি ছাত্রীরা

এবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে শাবি ছাত্রীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে ছাত্রীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শামীমা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আজ থেকে ক্লাস পরীক্ষাও বর্জন করেছি আমরা।’

তিন দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চতুর্থ দিনের মতো অব্যাহত রেখেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছে তারা।

এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কের যান চলাচল। কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ বা বের হতে পারছে না।

সেখানে অবস্থানরত ছাত্রীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। এ ছাড়া তাদের শনিবারের কর্মসূচিতে হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করে জড়িতদের বিচারও দাবি করছেন।

সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগ, অবিলম্বে হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাধ্যক্ষ কমিটি নিয়োগ দেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলন করছেন সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা।

শুক্রবার উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে দাবি মেনে নেয়ার জন্য শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় বেধে দেয় তারা।

এরপর শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে ছাত্রীরা। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ ওঠে।

যদিও ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে শাবি ছাত্রীরা

রাতে আন্দোলনরত ছাত্রীদের সাথে কথা বলতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির।

তারা ছাত্রীদের দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের হলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে ছাত্রীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত হলে না গিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায়।

রাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে তারা।

নিউজবাংলাকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শামীমা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আজ থেকে ক্লাস পরীক্ষাও বর্জন করেছি আমরা।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আলমগীর কবির বলেন, ‘ছাত্রীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তাদের হলে ফিরে যাওয়ারও অনুরোধ করেছি। তবু তারা শোনেনি।’

দু’একটি বিভাগ ছাড়া বাকি সব বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।

ছাত্রীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় হলে ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ হিসেবে আরেকজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর ছাত্রীদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
এক জনকে ভেবে আরেক জনকে গর্ভপাতের কক্ষে

শেয়ার করুন