বাঘের চামড়াসহ আটক ব্যক্তি কারাগারে

বাঘের চামড়াসহ গ্রেপ্তার চোরাকারবারি গাউস

বাঘের চামড়াসহ আটক ব্যক্তি কারাগারে

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শরণখোলার রায়েন্দা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তেলের পাম্পের কাছে একটি ব্রিজের নিচে থেকে বাঘের চামড়াসহ গাউস ফকিরকে আটক করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের সদস্যরা।

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় সুন্দরবনের বাঘের চামড়াসহ আটক গাউস ফকিরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

বুধবার বিকেলে বন আদালতের বিচারক সমীর কুমার মল্লিক বন আইনের মামলায় এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের উপপরিদর্শক দিলীপ কুমার সরকার।

মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শরণখোলার রায়েন্দা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তেলের পাম্পের কাছে একটি ব্রিজের নিচে থেকে বাঘের চামড়াসহ গাউস ফকিরকে আটক করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের সদস্যরা। গাউস ফকিরের বাড়ি শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ সাউথখালী গ্রামে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বাঘের চামড়া বিক্রি হচ্ছে, এমন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮ ও বন বিভাগের সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান চালায়। মঙ্গলবার বিকেলে র‍্যাবের সদস্যরা ক্রেতা সেজে গাউস ফকিরের কাছ বাঘের চামড়া কিনতে গেলে তিনি ১৭ লাখ টাকা দাম চান। পরে ১৩ লাখ টাকা দামে তিনি বাঘের চামড়া বিক্রি করতে রাজি হন।

তিনি আরও জানান, কথামতো মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে শরণখোলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন তেলের পাম্পের কাছে জলিলের ব্রিজের নিচে বাঘের চামড়া নিয়ে এলে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে বন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বেলায়েত জানান, তার কাছ থেকে উদ্ধার করা বাঘের চামড়াটি ৮ ফুট ১ ইঞ্চি লম্বা ও ৩ ফুট ১ ইঞ্চি চওড়া।

আরও পড়ুন:
গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ, আতঙ্কে রাতভর পাহারা
পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘বঙ্গবন্ধু চর’
সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে নভেম্বরে
সুন্দরবনে গাছের ঘনত্বের সঙ্গে বেড়েছে মধুর উৎপাদন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বরিশালে কি আবারও সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি হয়েছে

বরিশালে কি আবারও সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি হয়েছে

টপ টেন এর শোরুমে হামলার ছবি

বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সদর রোডে রোববার সন্ধ্যায় টপ টেনের শো রুমে ওই হামলার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের প্রশ্ন- বরিশালে কি আবারও সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি হয়েছে? এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, ঘটনায় যারা জড়িত তাদের পেছনে রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে; রয়েছে পুলিশের গাফিলতিও।

বরিশাল নগরীতে ১৩ দিন আগে যাত্রা শুরু করা জনপ্রিয় টেইলারিং ব্র্যান্ড টপ টেনের শো রুমে লুটপাট, ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধরের ঘটনায় সরাসরি কারা জড়িত, ঘটনার নেপথ্যে কারা তা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে জেলাজুড়ে।

কেউ কেউ ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে বলছেন, দেখুন হামলাকারী কারা, তাদের পেছনে কারা। তবে হামলার সময় মহানগর ছাত্রলীগের যে নেতার নাম বলা হয়েছিল তিনি বলছেন, ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে ফাঁসাতেই হামলার সময় তার নাম বলা হয়।

বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সদর রোডে রোববার সন্ধ্যার ওই ঘটনার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের প্রশ্ন- বরিশালে কি আবারও সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি হয়েছে?

এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ বিশিষ্টজনরা। তারা বলছেন, ঘটনায় যারা জড়িত তাদের পেছনে রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে; রয়েছে পুলিশের গাফিলতিও। হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আলোচিত এই ঘটনায় ২১ জনের নাম এবং ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত করে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেছেন টপ টেন শো রুমের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ইমরান শেখ। তবে কোনো আসামিকেই নতুন করে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসীম উদ্দিনের অনুসারী পরিচয়ে লুটপাট করা হলেও ৪০/৫০ জনের দলটি অন্য ছাত্রলীগ নেতাদের অনুসারী বলে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন কেউ কেউ। এরপর শুরু হয়েছে বিতর্ক।

এই ঘটনায় আটক ৫ জনের মধ্যে রাকিব নামের যুবক বরিশাল সিটি করপোরেশনের যানবাহন ও লাইসেন্স শাখার কর্মচারী। তাকে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব হোসেন খানের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করে ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেন মাইদুল ইসলাম নামের একজন।

যে ছবিতে রাকিবকে রাজিব হোসেন খানের নেতৃত্বে হওয়া মিছিলে সামনের সারিতে দেখা যায়।

মাইদুল ইসলামের আইডি থেকে পোস্ট করা আরেকটি ছবিতে আটক শাকিলকে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকুল্লাহ মুনিমের অনুসারী বোঝানো হয়েছে। পোস্টে লেখা হয়েছে, হামলাকারীরা কাদের অনুসারী সবাই দেখুন।

ফেসবুক থেকে নেয়া

রনি খন্দকার ও রাফতার হোসেন রাকিব নামের আইডি থেকেও একই ধরনের পোস্ট পাওয়া গেছে।

রোববারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ নগরীর সদর রোডের ফাতেমা সেন্টারের দোকান কর্মচারী সাহাবুদ্দিন মল্লিক।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘হামলা ও লুটপাটকারীরা রাজনৈতিক প্রশ্রয়েই এখানে আসে। বাইরেও লোক ছিল তাদের। টার্গেট পূরণ হওয়ার পর কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি দল নগরীর প্যারারা রোড হয়ে কাটপট্রি থেকে কোতয়ালী মডেল থানার পাশ থেকে লাইন রোড হয়ে চকের পুল থেকে সটকে পড়ে।

‘অপর একটি দল সদর রোড থেকে ফকির বাড়ি রোডে ঢুকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আরেকটি দল গোড়াচাঁদ দাস ও ঈশ্বর বসু রোডের দিকে চলে যায়। অন্য আরেকটি দল নাজিরপুল হয়ে কাউনিয়া এলাকার দিকে চলে যায়।’

নগরীর এই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, টপ টেন শো রুমে হামলাকারীরা সবাই ‘কিশোর গ্যাং’ এর সাবেক সদস্য। এরা বয়সের কারণে ‘তরুণ গ্যাং’ এ পরিণত হয়েছে। এদের নেতৃত্ব বা শেল্টার দিয়ে থাকেন বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে এদেরই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

বরিশালের চিহ্নিত কিশোর গ্যাং ‘আব্বা গ্রুপ’ এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের দুই নেতা। যারা টপ টেনে হামলার নির্দেশনা দেন বলে ফেসবুকে পোস্ট করছেন কেউ কেউ।

টপ টেন এর বরিশাল ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ইমরান শেখ বলেন, ‘হামলাকারীরা বলেছে তারা মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসীম উদ্দিনের লোক। এখন পুলিশ তদন্ত করে আসলটা বের করুক।’

বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসীম উদ্দিন বলেন, ‘আমার সামর্থ্য নেই সদর রোডের মতো একটি জায়গার শো রুমে ঢুকে এই ঘটনা ঘটানোর। এটা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। আমি এমনিতেই রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ এটা।’

এ ঘটনায় করা মামলার নামধারী আসামিরা হলেন- মো. রাকিব, উজ্জ্বল, রাশিদ সাবাব রোহান, শাহাদাৎ হোসেন, শাকিল আহম্মেদ, নিলয় আহম্মেদ রাব্বি, মহিদুল ইসলাম মুহিদ, মো: মিজান, তাজিন, হিরা, শুভ, রানা, সুজন, রনি, রাজু, টিটু, সাব্বির ওরফে নাদিম মাহামুদ হৃদয়, ইকবাল, মোস্তাফিজুর রহমান কামাল, ফাহিম ও সোহান।

এদের মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে আটক রাকিব, উজ্জ্বল, রোহান, শাহাদাৎ ও শাকিলকে সোমবার বিকেলে জেল হাজতে পাঠিয়েছে বরিশালের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আনিছুর রহমান।

আটক রাকিব আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী মডেল থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম।

থানার ওসি নুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হামলাকারীরা যারই লোক হোক বা যে দলেরই হোক দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ ইতিমধ্যে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ঘটনাস্থল থেকে নানা আলমত সংগ্রহ করেছে। হামলাকারী যারাই হোক না কেন অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ শুরু করা হয়েছে।’

আতঙ্কিত ব্যবসায়ীরা

টপ টেন এর শো রুমে লুটপাট, ভাঙচুর ও হামলার পর আতঙ্কে আছেন বরিশাল নগরীর ব্যবসায়ীরা। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

সদর রোডের ইজি ফ্যাশনের কর্মচারী সজীবুল ইসলাম বলেন, ‘সদর রোডের মতো জায়গায় যদি এ রকম ফিল্মি স্টাইলে লুটপাট, হামলা ভাঙচুর করা হয় তাহলে নগরীর অন্য স্থানের দোকানগুলো কতটা নিরাপদ?’

গীর্জা মহল্লা এলাকার ব্যবসায়ী তৌহিদুল রহমান বলেন, ‘চাঁদা না দিলেই হামলা ভাঙচুর- এটা কেমন কথা? বরিশালে কি আবারও সন্ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি হয়েছে? সদর রোডের মতো জায়গায় যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে তাহলে অন্য শো রুমগুলোতেও যে কোনো সময় এই ঘটনা ঘটতে পারে।’

বাজার রোডের ব্যবসায়ী অলক সাহা বলেন, ‘হামলাকারীরা যারাই হোক না কেন তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তা না হলে আজ ওই টপ টেন এর শো রুমে হয়েছে, কাল তো আমার দোকানে হবে। এ রকম চলতে দেয়া যায় না।

আরও পড়ুন: বরিশালে শোরুমে ‘ডাকাতি’, আটক ৫


‘এর আগে শুনেছিলাম গীর্জা মহল্লায় একটি মোবাইলের দোকানে এমনভাবেই হামলা হয়েছিল। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি। সন্ত্রাসীরা দুই দিন পরই আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। র‍্যাব-পুলিশ যদি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে এই সমস্যা দিন দিন বাড়বে। এর দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।’

সিএন্ডবি রোডের স্যানিটারি ব্যবসায়ী আলতাফ সিকদার বলেন, ‘ওপেনে যারা ৫০/৬০ লাখ টাকার মাল নিয়ে যেতে পারে তারা ক্ষমতাধর সন্ত্রাসী। তাদের পেছনে রাজনৈতিক সাপোর্ট ছাড়া এটা সম্ভব নয়। শুনেছি ছাত্রলীগের লোকজন নাকি এই কাজ করছে। ছাত্রলীগের লোকজন দিয়ে যদি এই হামলা ভাঙচুর করানো হয় তাহলে তাদের মূলনীতিটা কোথায়?

‘টপ টেন বরিশালে নতুন শো রুম দিয়েই হামলা আর লুটপাটের শিকার হয়েছে। তারা বরিশাল সম্পর্কে কী ভাবছে সেটা ভাবা উচিৎ প্রশাসনের। আমরা বরিশালবাসী হিসেবে লজ্জিত। এই হামলাকারীদের বরিশাল ছাড়া করা উচিত। আমরাও এদের কারণে আতঙ্কে রয়েছি।’

ক্ষুদ্ধ বিশিষ্টজনরা

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গবেষক ও লেখক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ‘হামলা যারাই করুক তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বাদ দিয়ে ধরা এবং দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার। এই হামলা ও লুটতরাজের কারণে বরিশালে ব্যবসার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে এরইমধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বরিশালের সবচেয়ে ব্যস্ত জায়গায় এ ধরনের ঘটনা সত্যিই অকল্পনীয়।’

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, ‘বরিশালের হার্ট বলা হয় সদর রোডকে। সেই সদর রোডের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটিতে এমন ঘটনা সত্যি ভয়াবহতার জন্ম দিয়েছে। আমি মনে করি, পুলিশ প্রশাসনের অযোগ্যতায় এই ঘটনা ঘটেছে।

‘৫০/৬০ জন লোক ঢুকে যদি এই কাণ্ড ঘটাতে পারে তাহলে পুলিশের কাজটা কী? পুলিশ কী করছিল গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে। আমার ধারণা, এটা কোনো ডাকাতি নয়। এর সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে পুলিশ নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণ করুক।’

আরও পড়ুন:
গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ, আতঙ্কে রাতভর পাহারা
পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘বঙ্গবন্ধু চর’
সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে নভেম্বরে
সুন্দরবনে গাছের ঘনত্বের সঙ্গে বেড়েছে মধুর উৎপাদন

শেয়ার করুন

জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনেও মুশতাকের মৃত্যু স্বাভাবিক

জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনেও মুশতাকের মৃত্যু স্বাভাবিক

লেখক মুশতাক আহমেদ। ছবি: ফেসবুক

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে লেখক মুশতাক কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু স্বাভাবিক বলে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এসএম তরিকুল ইসলামের কাছে রোববার এ প্রতিবেদন দেয়া হয়।

ডিসি তরিকুল জানান, কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে জেলা প্রশাসনের ওই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ও উম্মে হাবিবা ফারজানা। দ্বিতীয় দফার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার এক দিন আগে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

তরিকুল বলেন, ‘আমরা যতটুকু জেনেছি ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মুশতাক আহমেদ বাথরুমে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাতে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

মুশতাকের চিকিৎসায় কোনো অবহেলা আছে কি না, খতিয়ে দেখতে ২৬ ফেব্রুয়ারি এ কমিটি করা হয়েছিল। কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও দ্বিতীয় দফায় পাঁচ কর্মদিবস সময় দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ হলো, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অনুরূপ। অর্থাৎ মুশতাকের মৃত্যু ছিল স্বাভাবিক।’

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে মুশতাক কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রাজধানীর রমনা মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় গত বছরের ৬ মে মুশতাককে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ২৪ আগস্ট তাকে কাশিমপুরের ওই কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন:
গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ, আতঙ্কে রাতভর পাহারা
পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘বঙ্গবন্ধু চর’
সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে নভেম্বরে
সুন্দরবনে গাছের ঘনত্বের সঙ্গে বেড়েছে মধুর উৎপাদন

শেয়ার করুন

যশোরে ইউপি সদস্য হত্যা : তিনজন পুলিশ হেফাজতে

যশোরে ইউপি সদস্য হত্যা : তিনজন পুলিশ হেফাজতে

নূর আলীর মাথায় গুলি বিদ্ধ হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার ছেলে ইব্রাহিমের শরীরে তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে। তাকে খুলনা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জনপ্রিয়তার কারণে যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য নূর আলীকে গুলি মেরে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার স্বজনদের।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। একই হামলায় তিনটি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন নূর আলীর আহত ছেলে ইব্রাহিম হোসেন। তবে তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত।

নূর আলী ও তার ছেলে রোববার রাত আটটার দিকে স্থানীয় বাবুরহাট বাজার থেকে মোটরসাইকেলে শুভরাঢ়া গ্রামের বাড়ির ফিরছিলেন। পথে বাজারের অদূরে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। নূর আলীর মাথায় গুলি বিদ্ধ হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার ছেলে ইব্রাহিমের শরীরে তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে। তাকে খুলনা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নূর আলীর স্ত্রী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের পাড়ার মুরাদ চার লাখ টাকা দিছে সন্ত্রাসীদের। ইকবাল, মুছা গাজী ও হুমায়ুন মোল্লা মিলে আমার স্বামীকে হত্যা করছে। দলাদলি, ভোটে দাঁড়ানো নিয়ে তাকে হত্যা করছে। আমার স্বামীর আর কোনো দোষ নাই। আমি হত্যকারীদের ফাঁসি চাই।’

নূর আলীর ভাই রুহুল আমিন শেখ বলেন, ‘আমার ভাই জনসেবা করতে গিয়ে খুন হলো। ও কালকে সকালেও আমাকে বলেছে, কিছু লোক ওকে খুন করতে চায়। মুরাদ ও মুসা দুইজনে মিলে টাকা দিছে। মুসা গাজী, হুমায়ন মোল্লা গিয়ে ইকবালকে টাকা দিয়া আসছে। আমি ভাইকে সাবধানে চলতে বলি। মুসা গাজী মেম্বর পদে দাঁড়াতে চায়। ওই আমার ভাইকে খুন করিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নূর আলী ব্যাপক জনপ্রিয় ইউপি সদস্য। আগামীতে ওকে হারানোর মতো কোনো প্রার্থী নেই। কারণ এই এলাকা সন্ত্রাসী এলাকা ছিল। আমার ভাই নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার সবাইকে নিয়ে রাত্রিকালীন ডিউটিসহ নানা উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি ভালো করে। যে ডাকত, তার পাশেই যেয়ে দাঁড়াত। গরিবদের নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করত। এলাকায় ওর থেকে পয়সাওয়ালা লোক মুরাদ। তাকে কেউ মানে না। মুরাদ এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করে। তার বিরুদ্ধে অবস্থান থাকায় আমার ভাইকে খুন করা হয়েছে।’

গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘মেম্বার সাহেব খুব ভালো লোক ছিলেন। এ এলাকায় সন্ত্রাসীদের কারণে আমরা ঘরে থাকতে পারতাম না। মেম্বার গ্রামের সবাইকে নিয়ে এলাকার পরিবেশ ভালো করেছে। তিন/চার বছর এলাকায় শান্তি বিরাজ করছিল। আওয়ামী লীগের মধ্যে দুই গ্রুপ রয়েছে। একদল একটু ক্রিমিনাল। তাদের জন্যই আজকে এ হত্যাকাণ্ড।’

তবে ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিন বাবু বলেন, ‘নূর আলী শেখ অত্যন্ত জনপ্রিয় মেম্বার ছিলেন। তার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করতে। দলীয় কোন্দল নিয়েও বিরোধ ছিল। কিন্তু তার জন্য হত্যা হতে পারে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। তবে ঘটনার সময় নূর আলীর ছেলে আহত হয়েছেন। তিনি সুস্থ হলেই বোঝা যাবে, কারা এর সাথে জড়িত।’

এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা হয়নি। তবে এ হত্যায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে কাদের হেফাজতে নেয়া হয়েছে, এ বিষয়ে কিছু জানায়নি পুলিশ।

নূর আলী শেখ ভ্যানচালক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে কাঠের ব্যবসা শুরু করেন। তিনি ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ রাতভর পুরো এলাকায় অভিযান চালিয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আশা করছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’

আরও পড়ুন:
গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ, আতঙ্কে রাতভর পাহারা
পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘বঙ্গবন্ধু চর’
সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে নভেম্বরে
সুন্দরবনে গাছের ঘনত্বের সঙ্গে বেড়েছে মধুর উৎপাদন

শেয়ার করুন

গাছগুলো গাঁজারই, বাবা-ছেলে পলাতক

গাছগুলো গাঁজারই, বাবা-ছেলে পলাতক

‘গত সোমবার গাঁজাসদৃশ গাছের স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। রিপোর্টে সেগুলো গাঁজা বলেই নিশ্চিত হই। পরে রাতে বাগানের মালিক সোহেল হোসেন ও তার ছেলেকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। আজ সকালে গাঁজার গাছগুলো কেটে জব্দ করা হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারে প্রাচীরঘেরা একটি জমিতে সন্ধান পাওয়া বাগানের গাছগুলো সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষার পর গাঁজা বলেই নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

জমির মালিক ও তার ছেলে গাঢাকা দিয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

প্রাথমিক সন্দেহের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়ার খেজুরবাগান মোল্লা বাড়ি গলি সোহেল হোসেনের মালিকানাধীন প্রাচীরঘেরা ওই স্থানটি পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়। ওই সময় জায়গার মালিক ও তার ছেলেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও ‍সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। তবে বর্তমানে তারা পলাতক রয়েছেন।

সিআইডি ল্যাবে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে গাঁজা গাছগুলো তারা কেটে জব্দ করেছেন বলে নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ।

তিনি বলেন, ‘গত সোমবার গাঁজাসদৃশ গাছের স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। রিপোর্টে সেগুলো গাঁজা বলেই নিশ্চিত হই। পরে রাতে বাগানের মালিক সোহেল হোসেন ও তার ছেলেকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। আজ সকালে গাঁজার গাছগুলো কেটে জব্দ করা হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

তবে অভিযানের দিন বাগানমালিক ও তার ছেলেকে আটক করেও পরে ছেড়ে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই সময় তাদের আটক করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাথমিক অবস্থায় গাছগুলো গাঁজার কি না সেটা নিশ্চিত হতে পারিনি।’

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাতটার দিকে আশুলিয়ার খেজুরবাগান মোল্লা বাড়ি গলি এলাকায় সোহেল হোসেনের জমিতে গাঁজাচাষের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। রাতে ওই জমিতে গিয়ে দেখা যায়, সুউচ্চ প্রাচীরের ভেতর সারিবদ্ধভাবে লাগানো বিপুলসংখ্যক গাঁজাসদৃশ গাছ।

সে সময় জমির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রহমান জানিয়েছিলেন, তিন মাস আগে তিনি এখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন। এর আগেই গাছের চারাগুলো রোপণ করা হয়। মালিক সোহেল তাকে বলেছিলেন, এগুলো বিদেশি ফুলগাছ। গাঁজাগাছ কি না, তিনি জানেন না।

তিনি আরও জানান, সোহেল জমি কিনে বিক্রি করেন। বাড়ি তৈরি ও কেনাবেচার কাজও করেন। পাশেই তার আরও বাড়ি রয়েছে।

আরও পড়ুন:
গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ, আতঙ্কে রাতভর পাহারা
পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘বঙ্গবন্ধু চর’
সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে নভেম্বরে
সুন্দরবনে গাছের ঘনত্বের সঙ্গে বেড়েছে মধুর উৎপাদন

শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগকর্মী খুন, আটক ৬

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগকর্মী খুন, আটক ৬

নিহত ছাত্রলীগ কর্মী ইমন। ছবি: নিউজবাংলা

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।’

চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার মুক্তিযোদ্ধা কলোনিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে সংগঠনের এক কর্মী নিহতের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোববার দিবাগত রাতে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানান বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

‘নিহত ইমনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে ইমনের দাফন শেষে থানায় আসবে। তারা আসলে মামলা নেয়া হবে।’

এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা কলোনিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ইমন নিহত হন।

নিহত ২৭ বছরের যুবক মো. ইমন মুক্তিযোদ্ধা কলোনির নুর কাশেমের ছেলে।

নিহত ইমনের বন্ধু মোহাম্মদ ইয়াছিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি, ইমনসহ কয়েকজন মিলে মুক্তিযোদ্ধা কলোনির খলিলের দোকানে বসে কোল্ড ড্রিংকস খাচ্ছিলাম। এই সময় হঠাৎ করে ৫০-৬০ জন লোক এসে ধর ধর চিৎকার করে আমাদের ধাওয়া করে।

‘তাদের হাতে লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র ছিল। তাদের ধাওয়া খেয়ে আমরা দৌড়ে পালাই। কিন্তু ইমনকে তারা ধরে ফেলে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছিলাম, ইমনকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করছে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে তারা চলে যায়। পরে এসে দেখি ইমন রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে।’

নিহত ইমন সদ্য ঘোষিত বায়েজিদ থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক কলেজ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তানজির আহমেদের কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত।

অন্যদিকে হামলাকারীরা হচ্ছে চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু মহিউদ্দীনের অনুসারী।

হামলার ব্যাপারে জানতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু মহিউদ্দীনকে একাধিকবার ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন:
গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ, আতঙ্কে রাতভর পাহারা
পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘বঙ্গবন্ধু চর’
সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে নভেম্বরে
সুন্দরবনে গাছের ঘনত্বের সঙ্গে বেড়েছে মধুর উৎপাদন

শেয়ার করুন

মুজাক্কির হত্যা: আসামি বেলাল ৩ দিনের রিমান্ডে

মুজাক্কির হত্যা: আসামি বেলাল ৩ দিনের রিমান্ডে

বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন সাংবাদিক মুজাক্কির। ফাইল ছবি

১৯ ফেব্রুয়ারি বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার ও বার্তা বাজার ডটকমের নোয়াখালীর প্রতিনিধি মুজাক্কির।

নোয়াখালীতে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বেলাল হোসেনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের (কোম্পানীগঞ্জ) বিচারক মোসলেহ উদ্দিন নিজাম সোমবার সকালে আসামিকে রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান সোমবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মুজাক্কির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বেলালকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে দিয়েছে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার ও বার্তা বাজার ডটকমের নোয়াখালী প্রতিনিধি মুজাক্কির।

মুজাক্কির হত্যায় গ্রেপ্তার বেলাল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরদিন শনিবার রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এর তিন দিন পর মুজাক্কিরের বাবা অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নোয়াব আলী মাস্টার কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

এর পর গেল রোববার দুপুরে বসুরহাট বাজারের হাসপাতাল রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় বেলালকে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলাল হোসেন ‘পাঙ্খা বেলাল’ নামে এলাকায় পরিচিত। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের কর্মী ছিলেন।

আরও পড়ুন:
গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ, আতঙ্কে রাতভর পাহারা
পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘বঙ্গবন্ধু চর’
সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে নভেম্বরে
সুন্দরবনে গাছের ঘনত্বের সঙ্গে বেড়েছে মধুর উৎপাদন

শেয়ার করুন

পোশাক নিয়ে হেনস্তা: আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন না রাবি ছাত্রীরা

পোশাক নিয়ে হেনস্তা: আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন না রাবি ছাত্রীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

দুই ছাত্রীর একজন বলেন, ‘প্রক্টর স্যার আমাদের ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই তিনজনের (অভিযোগ ওঠা) সঙ্গে বসে ঘটনাটি সমাধান করবেন। তাই আমরা আইনি কোনো প্রক্রিয়ায় আপাতত যাচ্ছি না।

পোশাক নিয়ে হেনস্তার ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দুই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। তারা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আইনি কোনো প্রক্রিয়ায় যাবেন না।

এক ছাত্রী বলেন, ‌‘প্রশাসনের ওপর আমাদের আস্থা আছে। বিষয়টি আমরা প্রশাসনের কাছে ছেড়ে দিয়েছি। আশা করি সুষ্ঠু সমাধানের।’

গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কাজলা গেটের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও তাদের মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠে তিনজনের বিরুদ্ধে। তাদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, আরেকজন অন্য এক শিক্ষকের স্ত্রী ও একজন কাজলা গেটের প্রহরী।

দুই ছাত্রীর একজন এ নিয়ে ওই দিন রাতে ফেসবুকে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি গ্রুপে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পোস্ট দেন। এরপর পোস্টটি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা।

ঘটনাটির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সঙ্গে বসেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীসহ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ফোরাম। তারা সমাধানের জন্য ঘটনাটি প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন বলে বৈঠক শেষে জানিয়েছেন।

দুই ছাত্রীর একজন বলেন, ‘প্রক্টর স্যার আমাদের ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই তিনজনের (অভিযোগ ওঠা) সঙ্গে বসে ঘটনাটি সমাধান করবেন। তাই আমরা আইনি কোনো প্রক্রিয়ায় আপাতত যাচ্ছি না।

‘তিনি এটাও বলেছেন, এই ধরনের পোশাক নিয়ে অন্তত ক্যাম্পাসে আর কোনো কথা উঠবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘তারা আমাকে লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি। তারা ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করার জন্য বলেছে। আমি ওই তিনজনের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করব।’

দুই ছাত্রীর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে নৈতিকভাবে তা সমর্থনযোগ্য নয় বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।

ওই দুই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের একটি বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়েন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ফোরামেরও সদস্য।

সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সদস্য ইব্রাহিম খলিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা প্রক্টর স্যারকে বলেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হোক, আর প্রহরী হোক, কেউই এই ধরনের সহিংসতা করতে পারে না। তিনি (প্রক্টর) আমাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন। তিনি ওই তিনজনের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

আরও পড়ুন:
গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ, আতঙ্কে রাতভর পাহারা
পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ ‘বঙ্গবন্ধু চর’
সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে নভেম্বরে
সুন্দরবনে গাছের ঘনত্বের সঙ্গে বেড়েছে মধুর উৎপাদন

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg