× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

ফ্যাক্ট চেক
The controversial question of HSC is not of Comilla Board
hear-news
player
google_news print-icon

এইচএসসির বিতর্কিত প্রশ্নটি কুমিল্লা বোর্ডের নয়

এইচএসসির-বিতর্কিত-প্রশ্নটি-কুমিল্লা-বোর্ডের-নয়
এই প্রশ্নপত্রটিকে কুমিল্লা বোর্ডের বলে প্রচার চলছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, প্রশ্নটি ঢাকা বোর্ডের। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রশ্ন নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এর সঙ্গ জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

আলোচিত প্রশ্নপত্রটি কুমিল্লা বোর্ডের জানিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলেও নিউজবাংলার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সেটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের।

সারা দেশে রোববার এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা হয়। ঢাকা বোর্ডের ‘কাসালাং’ সেটের নাটক সিরাজউদ্দৌলা অংশের ১১ নম্বর প্রশ্ন নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক।

কী আছে প্রশ্নে

প্রশ্নের উদ্দীপক অংশে বলা হয়, ‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘদিন। অনেক সালিশ-বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ-বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আবদুল নামে এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে।

‘আবদুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। কোরবানির ঈদে সে নেপালের বাড়ির সামনে গরু কোরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায় সে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নের এই অংশটি পোস্ট করে তা কুমিল্লা বোর্ডের বলে দাবি করা হয়। সংবাদমাধ্যমেও তা কুমিল্লা বোর্ডের প্রশ্ন উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

কী বলছে কুমিল্লা বোর্ড

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. আসাদুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে, তা কি গোপন থাকে? শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্নপত্র আছে। যে কেউ চাইলে দেখতে পারেন আসলেই কি এমন প্রশ্ন ছিল কি না। শুধু এটুকুই বলব, যা প্রচার হয়েছে তার সঙ্গে কুমিল্লা বোর্ডের কোনো রকম সম্পৃক্ততা নেই।’

বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জামাল নাছের বলেন, ‘কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বাংলা বিষয়ের পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা ভুল। আমি গতকাল (রোববার) অনুষ্ঠিত বাংলা বিষয়ের প্রশ্ন মাননীয় মন্ত্রী, শিক্ষাসচিব মহোদয়কে পাঠিয়েছি। কারা এমন বিভ্রান্তি ছড়াল, তা আমার বোধগম্য নয়।’

অন্যদিকে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি তপন কুমার সরকার নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, প্রশ্নটি ঢাকা বোর্ডের।

এইচএসসির বিতর্কিত প্রশ্নটি কুমিল্লা বোর্ডের নয়
ঢাকা বোর্ডের প্রশ্নপত্রের দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় রয়েছে আলোচিত প্রশ্নটি

কীভাবে এমন প্রশ্ন এসেছে, তা নিশ্চিত নন জানিয়ে তপন কুমার সরকার বলেন, ‘ঢাকা বোর্ডের প্রশ্ন এটি, তবে অন্য বোর্ডের মাধ্যমে এসেছে। কোন বোর্ড বা কারা কারা এটার সঙ্গে জড়িত ছিল, তা আমরা চিহ্নিত করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত করার পর ব্যবস্থা নেব।’

দুঃখজনক ঘটনা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সোমবার এক অনুষ্ঠান শেষে এই প্রশ্নপত্র নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন সেটিং আর মডারেটিং করা হয়। যিনি সেট করেন তিনি সেটা দেখতে পারেন না। যিনি মডারেট করেন তিনিও দেখার সুযোগ পান না। আর তাদের বাইরে আর কারও দেখার সুযোগ থাকে না। এটা আমাদের নির্দেশিকায় আছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক যে কোনো একজন প্রশ্নকর্তা এই প্রশ্ন করেছেন। যিনি মডারেট করেছেন তার দৃষ্টিও এড়িয়ে গেছে। তিনিও এটিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। আমরা চিহ্নিত করছি এটা কে বা কোন মডারেটর করেছেন। আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

‘বাংলাদেশের প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কথা থাকবে, এটা দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে (প্রশ্ন ফাঁস বন্ধে) এত ব্যবস্থা নিয়েছি, যেখানে প্রশ্ন ছাপা হয় বা মডারেটর দেখেন বা কোশ্চেন সেটেল করেন। এই এক একটা ধাপ। আর এই ধাপের কোনো একটা জায়গায় বিচ্যুতি হলে সেটা কিন্তু ডিটেকটেড হয় পরীক্ষার হলে যখন পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্র হাতে পায়।

‘তার আগে এটি (প্রশ্ন) দেখার কোনো সুযোগ নেই। সেজন্য এই সমস্যাগুলো থেকে যাচ্ছে। আমরা দেখছি এটা কীভাবে দূর করা যায়।’

আরও পড়ুন:
এইচএসসি পরীক্ষা শুরু
প্রশ্নপত্র ফাঁস: ৬ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও স্থগিত
মাশরাফিকে ‘শীর্ষ ধনী’ বলা প্রতিবেদনই উধাও
ট্রেনের ছাদবোঝাই করে বিএনপির সমাবেশে যাওয়ার ছবিটি পুরোনো
সাংবাদিকতায় ফ্যাক্টচেক অতি গুরুত্বপূর্ণ: পলক

মন্তব্য

আরও পড়ুন

ফ্যাক্ট চেক
Who is coming to the new leadership of Chhatra League?

ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বে আসছেন কারা

ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বে আসছেন কারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ প্রদান এবং ‘মুকুট মণি’ হিসেবে আখ্যায়িত করায় গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। ফাইল ছবি
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে মাথায় রেখেই এবারের ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব বাছাই করা হবে। তাই পারিবারিক পরিচিতি এবং সংগঠনের জন্য ত্যাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। আর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নেতা বাছাইয়ে নেতৃত্ব দেবেন। তবে পারিবারিক পরিচিতি এবং সংগঠনের জন্য ত্যাগের পাশাপাশি নিয়মিত ছাত্রত্ব, বয়স এবং এলাকার বিষয়টিও প্রাধান্য পাবে। বয়সসীমা কত হবে সেটি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নির্ধারণ করবেন। তবে একটি ঘটনায় বয়সসীমার বিষয়ে কিছু ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

দীর্ঘ চার বছর পর মঙ্গলবার হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন। তবে সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়নি, তা পরে ঠিক করা হবে।

উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন এই ছাত্র সংগঠনটি দীর্ঘ চার বছর পর নতুন নেতৃত্ব পাবে এই আশায় নেতা-কর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। পদপ্রত্যাশীরাও করছে শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ।

এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর ঢাবি ছাত্রলীগের সম্মেলনে এসে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের কমিটি একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে।

সেই হিসেবে ধারণা করা হচ্ছিল, কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বে কারা আসছেন সেই নাম সম্মেলনেই ঘোষণা হতে পারে। নানা কারণে তা হয়নি।

সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন, টিএসসি আর হাকিম চত্বরে রাজনৈতিক আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের। করছেন শেষ মুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ।

কমিটি ঘোষণার আগে প্রার্থীদের নিয়ে নানা ধরনের বিতর্কমূলক তথ্য ছড়ানো হয়। এসব ভুল তথ্য থেকে নিজেদের বাঁচাতে তারা নিজের স্বচ্ছ ইমেজ, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড, শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্যগুলো নিজের টাইমলাইনে প্রচার করছেন অনেকে।

ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বে আসছেন কারা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ছাত্রলীগের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

দুই পদের জন্য ২৫৫ জনের মনোনয়নপত্র

ছাত্রলীগের এই সম্মেলন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের প্রধান কমিশনার, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম সুমন বলেন, ‘আমরা এক ডিসেম্বর থেকে তিন ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রদান এবং জমা নিয়েছি। ২৫৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৯৬টি আর সাধারণ সম্পাদক পদে ১৫৯টি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে। ‍৫ নারী নেত্রীও শীর্ষ পদের জন্য মনোনয়নপত্র নিয়ে তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘সিভি নেওয়ার একমাত্র শর্ত ছিল ছাত্রলীগের যেকোনো ইউনিটের একটি সাংগঠনিক পদ থাকা। আর প্রতিটি মনোনয়নপত্রের মূল্য ছিল তিন হাজার টাকা। আমরা এখন জমা পড়া সব সিভি যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছি। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যাদের বয়স ২৮ বছর ৩৬৪ দিনের ওপরে তাদের সিভিগুলো আলাদা করছি। মাননীয় নেত্রী সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বে আসছেন কারা
ছাত্রলীগের সম্মেলনস্থলে মিছিল নিয়ে যাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/ নিউজবাংলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের জন্য মোট ২৪৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এই কমিটির জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাদা পদে মনোনয়নপত্র জমা না নিয়ে একসঙ্গে দুই পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বার্ষিক সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ছাত্রলীগের সহসভাপতি রায়হান কাওসার।

দুই মহানগরের শীর্ষ পদের জন্য মনোনয়নপত্র বিক্রি হয় গত ২৬ থেকে ২৯ নভেম্বর, যার প্রতিটি মনোনয়নপত্রের বিক্রয়মূল্য ছিল ৫ হাজার টাকা। মহানগর উত্তরের শীর্ষ পদের জন্য মনোনয়নপত্র বিক্রি হয় মোট ১৮৭টি।

ঢাকা মহানগর উত্তর বার্ষিক সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ছাত্রলীগের সহসভাপতি এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, ‘সভাপতি পদে ১০২ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৮৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে বেশির ভাগই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয় পদের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।’

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জন্য বিক্রি হয়েছে ১৮২টি মনোনয়নপত্র। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ পদে ১৮২টি মনোনয়ন সংগ্রহ করা হলেও সভাপতি পদে ৮৩টি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৭০টি মনোনয়নপত্র ওপর মহলে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সম্মেলনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ছাত্রলীগের সহসভাপতি আলিমুল হক।

ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্বে আসছেন কারা
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনে মিছিল নিয়ে যাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/ নিউজবাংলা

যাদের হাতে আসতে পারে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব

সূত্র বলছে, আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে মাথায় রেখেই এবারের ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব বাছাই করা হবে। তাই পারিবারিক পরিচিতি এবং সংগঠনের জন্য ত্যাগকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। আর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নেতা বাছাইয়ে নেতৃত্ব দেবেন।

তবে পারিবারিক পরিচিতি এবং সংগঠনের জন্য ত্যাগের পাশাপাশি নিয়মিত ছাত্রত্ব, বয়স এবং এলাকার বিষয়টিও প্রাধান্য পাবে।

বয়সসীমা কত হবে সেটি একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নির্ধারণ করবেন। তবে একটি ঘটনায় বয়সসীমার বিষয়ে কিছু ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

বেশ কয়েক দিন আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রত্বের ব্যাপার নিয়ে খোঁজ নিয়েছেন। তিনি জানতে চান, কত বছরে একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষ করতে পারে। তার জবাবে ছাত্রলীগের এই দুই নেতা আওয়ামী লীগ প্রধানকে জানান, ২৫ বা ২৬ বছরেই শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব গঠনে এ বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ ছাড়া করোনাকালে যেসব নেতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেবায় নিয়োজিত ছিল এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভুক্তভোগীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেবা পৌঁছে দিয়েছেন তাদেরও বিবেচনায় রাখা হবে।

এসব কিছু বিবেচনায় এবার বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে সম্ভাবনা রয়েছে সাদ বিন কাদের চৌধুরী, তানভীর হাসান সৈকত এবং তাহসান আহমেদ রাসেল। এর মধ্যে সাদ বিন কাদের চৌধুরী করোনাকালে বিনা মূল্যে অক্সিজেন সেবা দিয়ে সাড়া ফেলেছেন। তিনি ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে তিনি ডাকসুর ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

আর তানভীর হাসান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সমাজসেবা সম্পাদক এবং ডাকসুর সদস্য। সৈকত করোনাকালে টানা কয়েক মাস টিএসসিতে দুস্থদের খাবার খাওয়ানোয় জাতিসংঘের রিয়েল লাইফ হিরোর মর্যাদা পেয়েছেন।

ঢাকা অঞ্চল থেকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক এহসান পিয়াল।

বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে অনূর্ধ্ব ৩০-এর কোটায় আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত, কর্মসংস্থান সম্পাদক রনি মুহাম্মদ।

উত্তরাঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক এজিএস সাদ্দাম হোসেন এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব, প্রশিক্ষণ সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু, গ্রন্থনা-প্রকাশনা সম্পাদক আবুল হাসনাত হিমেল।

এদের মধ্যে রাকিবুল হাসান রাকিব এবং আবুল হাসনাত হিমেল অনূর্ধ্ব ২৯ বয়সসীমার মধ্যে আছেন।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, উপপ্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার উদয়, সহসম্পাদক এস এম রাকিব সিরাজী।

এস এম রাকিব সিরাজী ও রাশেদ শাহরিয়ার উদয় আছেন অনূর্ধ্ব ২৯ বয়সসীমার কোটায়।

বৃহত্তর খুলনা অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন, মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহীন এবং ধর্মবিষয়ক সম্পাদক তুহিন রেজাও আলোচনায় থাকছেন।

এদের মধ্যে রেজা ও নাহিদ হাসান শাহীন আছেন অনূর্ধ্ব ২৯ বয়সসীমার কোটায়।

বরিশাল অঞ্চল থেকে সম্ভাবনায় আছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, উপবিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক সবুর খান কলিন্স, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইমরান জমাদ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, উপকর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয়। তারা সবাই অনূর্ধ্ব ২৯ এর কোটায়।

সিলেট অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন রহমান।

এবারের সম্মেলনে ঢাবির বাইরে থেকে কয়েক ডজন যোগ্য নেতাকর্মী রয়েছে। তাদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার জামিউস সানী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক হামজা রহমান অন্তর।

তবে সুত্র বলছে, ছাত্রলীগের গত চার কমিটিতে শীর্ষ নেতৃত্ব এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এই সংস্কৃতি বিবেচনায় রেখে আগামী ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় ৩০তম সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এবারও এই প্রতিষ্ঠান থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে— এমনটাই প্রত্যাশা অনেকের।

কেমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেন জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘যারা দক্ষ সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে যারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে যারা গ্রহণযোগ্য, স্বাধীনতা বিরোধী বিএনপি জামায়াতের ষড়যন্ত্র সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে, যারা গণতান্ত্রিক এবং সাংগঠনিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারবে, শিক্ষার পরিবেশ যারা সমুন্নত রাখতে পারবে, একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যারা যুগপৎ সমন্বয় করতে পারবে এবং আন্দোলন এবং বিনির্মাণের রাজনীতি যারা একই সঙ্গে চালিয়ে নিতে পারবে আমি মনে করি তাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব আসা দরকার।

কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস বলেন, ‘আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও সংগঠনের প্রশ্নে আপসহীন, জামায়াত বিএনপি ও উগ্ৰ সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সর্বদাই সোচ্চার এবং যারা সংগঠনের সংকটে পাশে ছিল, দীর্ঘদিন রাজপথে যাদের শ্রম-ঘাম আছে, তৃণমূল কর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে, এমন নেতৃত্ব প্রত্যাশা করি।’

সাদ বিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘আগামীতে এই সংগঠনের যারাই নেতৃত্ব আসুক তাদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। আগামীর নেতৃত্ব ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প উপড়ে ফেলতে কাজ করবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি জামাত দেশকে অস্থিতিশীল করার যে ষড়যন্ত্র করছে সে ষড়যন্ত্র যারা মোকাবিলা করতে হবে তেমন নেতৃত্ব আসুক। মুক্তিযুদ্ধ ও মাননীয় শেখ হাসিনার প্রশ্নে যে নেতৃত্ব আপোষহীন থাকবে সে নেতৃত্ব আসুক। অতীতের ন্যায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে কাজ করবে।

তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীতে দেশরত্ন শেখ হাসিনার দর্শনকে যারা বুঝতে পারবে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৃনমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যন্ত সব নেতা-কর্মীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে পারবে এবং বঙ্গবন্ধুতনয়ার ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে এমন নেতৃত্বই আমরা কামনা করছি। এছাড়াও কর্মীদের আবেদনকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের মধ্যে নব উদ্যোগে কাজ করে যাবার প্রেরণা যোগাতে সহযোগিতা করে যাবে।’

আরও পড়ুন:
ছাত্রলীগের সম্মেলন আজ, বয়স নিয়ে চিন্তায় পদপ্রত্যাশীরা
ছাত্রলীগের সম্মেলন: এড়িয়ে চলবেন যেসব সড়ক
ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ কর্মীদের অবরোধ প্রত্যাহার
জয়কে আটকে কমিটি দাবি ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগের দেয়াল লিখন মুছে দিল হল কর্তৃপক্ষ

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
The authorities removed the wall writing of the Chhatra League

ছাত্রলীগের দেয়াল লিখন মুছে দিল হল কর্তৃপক্ষ

ছাত্রলীগের দেয়াল লিখন মুছে দিল হল কর্তৃপক্ষ ছাত্রলীগের দুইপক্ষের সংঘর্ষের পর চবির এ এফ রহমান হলের দেয়াল লিখন মুছে দিয়েছে প্রশাসন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের দেয়ালে গ্রুপের নাম লেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয় ও ভিএক্সের (ভার্সিটি এক্সপ্রেস) কর্মীরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ছাত্রলীগের দুই উপগ্রুপের সংঘর্ষের পর এ এফ রহমান হলের দেয়াল লিখন মুছে দিয়েছে প্রশাসন।

প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশের উপস্থিতিতে রোববার বিকেল ৪টার দিকে বিজয় ও ভিএক্স (ভার্সিটি এক্সপ্রেস) গ্রুপের দেয়াল লিখন মুছে ফেলা হয়।

এর আগে শুক্রবার রাতে হলের দেয়ালে গ্রুপের নাম লেখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ান ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক উপগ্রুপ বিজয় ও ভিএক্সের (ভার্সিটি এক্সপ্রেস) কর্মীরা।

চার ঘণ্টার সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হন। আহতদের ৮ জনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হলের দেয়াল থেকে গ্রুপ দুটির দেয়াল লিখন মুছে ফেলে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এস এ এম জিয়াউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল যে আমরা সব দেয়াল লিখন মুছে দিব। তার অংশ হিসেবে এ এফ রহমান হলের দেয়াল লিখন মুছে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি সব হলেও এটি বাস্তবায়ন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি করব। আমাদের মৌখিকভাবে ফুটেজ ও এভিডেন্স সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তারপর ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
Questions about SSC HSC result release

‘ঘটা করে’ এসএসসি, এইচএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন

‘ঘটা করে’ এসএসসি, এইচএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন এসএসসির একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি
শিক্ষাব্যবস্থাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উৎসবের মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের রীতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে পিছিয়ে থাকা কিংবা অকৃতকার্য হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর। সব শিক্ষার্থীর মানসিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন দেশ অনেক আগেই এই আয়োজন থেকে সরে এসেছে। 

এসএসসি বা এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন দেশজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। পরীক্ষায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থীরা মাতেন উচ্ছ্বাসে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অভিভাবক, শিক্ষকেরাও। ভালো ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খবর ফলাও করে প্রকাশ হয় সংবাদমাধ্যমে। পরের কয়েক দিন কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়েও প্রকাশ হয় প্রতিবেদন।

বছরের পর বছর এমন রীতিই চলছে এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে। তবে শিক্ষাব্যবস্থাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎসবের এই জোয়ার কৃতী শিক্ষার্থীদের আলোড়িত করলেও সম্পূর্ণ বিপরীত প্রভাব ফেলছে পিছিয়ে থাকা কিংবা অকৃতকার্য হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর। পরীক্ষায় ‘খারাপ করা’ শিক্ষার্থীর আত্মহননের মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিবছর।

তারা বলছেন, উৎসবের মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের রীতি থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। সব শিক্ষার্থীর মানসিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন দেশ অনেক আগেই ঘটা করে ফল প্রকাশের ব্যবস্থা থেকে সরে এসেছে।

দেশের একটি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওই দিন একজন শিক্ষার্থী আমাকে ফোন করেই কাঁদতে শুরু করে। সে জানায়, পরীক্ষায় খারাপ ফলের কথা জানাজানি হওয়ায় বাবা-মা তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইছে। যদি আমি (পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক) তার দায়িত্ব না নিই সে (শিক্ষার্থী) আত্মহত্যা করবে।’

বিশেষজ্ঞরা জানান, এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর রোল ও নিবন্ধন নম্বর দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো শিক্ষার্থীর ফল যে কারও পক্ষে জানা সম্ভব। তবে উন্নত দেশে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে ফলটি জানায় তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এতে এক শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফল অন্য কারও জানার সুযোগ নেই। পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিংয়ের শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সেখানে প্রকাশ করা হয় না।

তারা বলছেন, দেশে জিপিএ ফাইভকে শীর্ষ মানদণ্ড ধরে নেয়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ বেড়েছে। এতে যোগ দিয়েছেন অভিভাবক-শিক্ষকও। সরকারের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমও বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে।

শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম মনে করছেন ঘটা করে পরীক্ষার ফল প্রকাশের রীতি একটি ‘অত্যন্ত অপ্রয়োজনীয় চর্চা’।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই পাবলিক পরীক্ষার ফল কেন ঘটা করে প্রকাশ করতে হবে? এখানেই তো গোড়ায় গলদ।’

ইংরেজি মাধ্যমে পড়া নিজের ছেলের পরীক্ষার ফল প্রকাশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে যখন এ-লেভেল এবং ও-লেভেলের পরীক্ষা দিল তখন কেউ জানল না। সে রেজাল্ট পেয়ে গেল। নিজের কম্পিউটারে চলে এলো, সে আমাকে দেখাল, বন্ধুদের সঙ্গে মজা করল। ওরা ওরা মজা করে পৃথিবীর সব পথে বেরিয়ে গেল।’

তিনি একটি ইংরেজি দৈনিকের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এটা (পরীক্ষায় কৃতিদের সামনে আনা) ঘটা করে তারা শুরু করেছে। তারা শীর্ষ জিপিএ প্রাপ্তদের রিসিপশন দেয়। একটা ভজঘট ব্যাপার হচ্ছে।’

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার দর্শন হচ্ছে প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নয়, প্রতিযোগিতা হবে নিজের সঙ্গে। আমি কত জোরে দৌড়াতে পারি আমার সক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুটা নিয়ে আমি কাজ করে ওই লক্ষ্যে দৌড়াব। এমন অনেকে আছে যারা জিপিএ ফাইভ পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করেনি। জিপিএ ফাইভ বাচ্চাদের একটা ফাঁদের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। পরিবারগুলোকে একটা ধন্ধের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো বাচ্চাদের ওপর মানসিকভাবে অনেক প্রভাব ফেলে। যারা জিপিএ ফাইভ পায়নি তারা নিজেদের অধম মনে করে। তাদের আত্মবিশ্বাসের ভিত কেঁপে যায়। এরা আর সেই ভিত খুঁজে পায় না। অথচ অনেক ছেলে-মেয়ে বাইরে পড়াশোনা করতে গেছে যারা জিপিএ ফাইভ পায়নি।’

অভিভাবকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘মা-বাবারা এখন ফেসবুকে পাবলিসিটি করেন। এতে বাচ্চাদের ওপর একটা চাপ তৈরি হয়ে যায়। যে সময়ে পরীক্ষা নিয়ে চিন্তা করার কথা নয়, শিক্ষার আনন্দ পাওয়ার কথা সেই সময়ে তাদের ভি সাইন দেখিয়ে, ড্রাম বাজিয়ে বিশেষ করে পত্রিকাগুলো এ ব্যাপারে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে।

‘সব মিডিয়া ঢাকাতে ভিকারুননিসা, আইডিয়াল, না হয় উত্তরা মডেল নিয়ে ব্যস্ত। এখানকার ছেলে-মেয়েদের ছবি দেখিয়ে তারা সন্তুষ্টি পায়। অথচ যে বাচ্চা এই চাপের মধ্যে পড়ে আত্মহত্যা করল, তার খবর কেউ রাখে না।’

নীতিনির্ধারকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘এই রেজাল্ট শুধু বাচ্চারা জানবে, স্কুল জানবে। ঘটা করে ফল প্রকাশের দিনের কোনো দরকার নেই। এটা প্রত্যেকটা বোর্ড শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠিয়ে দেবে। তারাই শুধু জানবে। জিপিএ ফাইভ উৎসব অন্যদের জন্য বিষাদের দিন তৈরি করে। এটা অত্যন্ত অপ্রয়োজনীয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির ফ্রাঙ্ক এইচ নেটার এমডি মেডিসিন স্কুলের ইআইডি অনুষদের সহযোগী ডিনের দায়িত্বে আছেন অধ্যাপক সেজান মাহমুদ।

আমেরিকায় এভাবে ঘটা করে পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় না জানিয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো পরীক্ষার ফল জানানোর ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কতার সীমা বিবেচনা করা হয়। ১৮ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সাধারণত বাবা-মা বা লিগ্যাল গার্জিয়ানকে ডেকে ফল শেয়ার করা হয়। এর চেয়ে বেশি বয়সের ক্ষেত্রে সন্তানের অনুমতি সাপেক্ষে বাবা-মা রেজাল্ট দেখতে পারেন।’

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বাবা-মা খুব গুরুত্বপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীর সঙ্গে যুক্ত থাকেন বলে পরীক্ষার রেজাল্ট পরিবারের নির্দিষ্ট কারও কাছে এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছে পাঠানো যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই প্রকাশ্যে পত্রিকায় বা স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে নামসহ পরিচয়সহ দেয়া উচিত নয়। বড়জোর যেকোনো আইডির শেষ চার নম্বর দিয়ে ফল দেয়া যেতে পারে।’

চিকিৎসাবিজ্ঞানী সেজান মাহমুদ বলেন, ‘যাদের ফল আশানুরূপ হচ্ছে না তারা নানান মানসিক বিপর্যয়ের স্বীকার হচ্ছে। স্ট্রেস, ডিপ্রেশন, এমনকি সুইসাইডের ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে। আমাদের মনে রাখা দরকার একবারের রেজাল্টই জীবনের সবকিছু নয়।’

শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের ফল ঘোষণা করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার। এরপরেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফল অন্যদের মাঝে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাকে দায়ী করছেন তিনি।

তপন কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বোর্ড থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফল পাঠিয়ে থাকি। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠান রেজাল্ট পেয়ে থাকে। নৈতিকভাবে তারা সেটা উন্মুক্ত করতে পারে না।

‘আমাদের বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে চাইলেই যে কারও ফল জানার সুযোগ নেই, কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সুযোগ আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমাদের ফল পাঠাতে হয়। এটা ব্রিটিশ সময় থেকে আছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এটা ডিজক্লোজ করবে কি না, সেটা তাদের বিষয়। এটা তাদের নীতি-নৈতিকতার বিষয়। এখানে আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই।’

ঘটা করে ফল প্রকাশ না করার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি ভেবে দেখা যায়। এটি আমি এরপর নির্ধারিত ফোরামে আলোচনা করব। ফলাফলটা যার যার তার তার হয়, সামাজিকভাবে অন্য কেউ যেন না জানে।’

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল নাছের অভিভাবকদের আরও সচেতনতার তাগিদ দিচ্ছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অভিভাবকরা এখন সন্তানদের নিয়ে অনেক বেশি অশান্ত পরিবেশ তৈরি করে থাকেন, যা তাদের আরও ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

‘এই আয়োজনটা (উৎসব করে ফল প্রকাশ) আমাদের এখানে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তবে এখন পরিবেশ ও পরিস্থিতি বদলে গেছে। আমাদের ছেলেমেয়েদের ইমোশনাল জায়গাটা বেড়ে গেছে। তারা একটু স্পর্শকাতর হয়েছে। এখন এটা করা যেতে পারে যে একটি নির্দেষ্ট তারিখের পর থেকে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে রেজাল্ট পাবে। অবশ্য অভিভাবক সচেতন না হলে তাতেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এখন অভিভাবকরা ভাবেন তার বাচ্চাকে এটা করতেই হবে, এই ফল আনতেই হবে। এটা একটা প্রেস্টিজিয়াস ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এই জায়গা থেকে তাদের সরে আসতে হবে।’

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহারও মনে করছেন ‘উৎসব করে’ পাবলিক পরীক্ষার ফল ঘোষণার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অনেক শিক্ষার্থীর ওপর।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো বাচ্চা যখন রেজাল্ট খারাপ করে, আর তার বন্ধু যখন রেজাল্ট ভালো করে সেটা যখন ফেসবুকে বা পত্রিকাতে আসে, তখন খারাপ করা শিক্ষার্থীর মধ্যে হতাশা কাজ করে। সে এটা কাউকে বলতেও পারে না। এ জন্য আমরা অনেক সময় দেখি সুইসাইড পর্যন্ত করে ফেলছে। এটা দুঃখজনক।’

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা ঘটা করে ফল প্রকাশের পেছনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাকেও দায়ী করেছেন। তবে এর সঙ্গে একমত নন সাংবাদিক নেতা ও টিভি টুডের সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। তিনি বলছেন, পরিবার ও সামাজের অতিমাত্রায় সংবেদশীলতা ও অতিমাত্রায় কম সহনশীলতার কারণেই পরীক্ষার ফল নিয়ে ঝুঁকিতে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে কিন্তু এটা (কৃতীদের নিয়ে প্রতিবেদন) আরও বেশি হতো। তখন মেধা তালিকায় যারা প্রথম দশে থাকতেন বা স্ট্যান্ড করতেন তাদের ছবিসহ ছাপানো হতো। তারা কে কী হতে চান সেটাও জানানো হতো।

‘আমাদের বর্তমান স্পিকার যখন ফার্স্ট হলেন তখন তার ছবি ছাপানো হয়েছিল। তখন কিন্তু এখনকার মতো এত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হয়নি। এটা নতুন হচ্ছে তা নয়, বরং এটা আগে বেশি হতো। এটা আগের ধারাবাহিকতাতেই চলছে।’

এসএসসি ও এইচএসসি প্রথম পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষা বলে এটি উৎসবের মতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন যেটা হচ্ছে সেটা হলো একজন ছাত্র বা ছাত্রী ফেল করলে সে যেন অচ্ছুৎ হয়ে পড়ে। আগে এমন হতাশা বা আত্মহত্যা ছিল, তবে কম ছিল। এখনকার বাচ্চারা একসঙ্গে বড় হচ্ছে, মোবাইলের কারণে সবকিছু জানতে ও জানাতে পারছে।

‘ফল ছাপানোর ক্ষেত্রে তো আমি বাধা দিতে পারব না। পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট ছাপা হবে। সেখানে যারা ভালো করবে, সেটাও ছাপা হবে। যারা খারাপ করে সেটা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তাই খবরের চেয়ে জরুরি হলো পরিবারকে শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে হবে।’

কারও সাফল্যের গল্প বা ভালো কিছু ছাপা বন্ধ করা যাবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে অকৃতকার্য হচ্ছে তার মধ্যে এটার প্রভাব পড়বে, কিন্তু এর মানে এই না যে সফল হচ্ছে তার কথা বলা আমি বন্ধ রাখতে পারব।’

আরও পড়ুন:
পা দিয়ে লিখে জিপিএ ফাইভ পেল মানিক
উপযুক্ত শিক্ষকের অভাব আছে: শিক্ষামন্ত্রী
৪৫ বছরে এসএসসি দিয়ে পেলেন জিপিএ ফাইভ
বাবার মরদেহ রেখে পরীক্ষা দেয়া সুমাইয়া পেল জিপিএ ফাইভ
রাজশাহীতে পাসের হার কমলেও বেড়েছে জিপিএ ফাইভ, এগিয়ে মেয়েরা

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
11 points in the protest demanding a safe campus in DU

ঢাবিতে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভে ১১ দফা

ঢাবিতে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভে ১১ দফা রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্য-এর পাদদেশ থেকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। ছবি: নিউজবাংলা
বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের কয়েকটি প্রবেশমুখে বাঁশের ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়। ক্যাম্পাসের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কারো গাড়ি তারা ক্যাম্পাসের ভেতর ঢুকতে দিচ্ছে না। হ্যান্ড মাইক দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করছে, টিএসসিতে কোন বহিরাগত থাকতে পারবে না। আজকের টিএসসি হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য।

গাড়িচাপায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এক নারীর নিহতের ঘটনার পর নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

রোববার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্য-এর পাদদেশ থেকে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে বিভিন্ন বিভাগ ইনিস্টিটিউটের কয়েকশ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

রাজু ভাস্কর্যে এ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আরও কিছুক্ষণ অবস্থান নেন। পরে তারা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

এই সম্পূর্ণ সময় শিক্ষার্থীরা ‘দাবি মোদের একটাই নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘অনিয়মের ঠাঁই নাই, নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’, ‘ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরে, প্রশাসন কী করে?’, ‘বিবেকের প্রশ্ন করি, এবার যদি আমরা মরি’, ‘নীলক্ষেতে রক্ত কেন প্রশাসন জবাব চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

ঢাবিতে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে বিক্ষোভে ১১ দফা

বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসের কয়েকটি প্রবেশমুখে বাঁশের ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়। ক্যাম্পাসের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কারো গাড়ি তারা ক্যাম্পাসের ভেতর ঢুকতে দিচ্ছে না। হ্যান্ড মাইক দিয়ে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করছে, টিএসসিতে কোন বহিরাগত থাকতে পারবে না। আজকের টিএসসি হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য।

এর আগে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আনিকা তাহসিনা ১১-দফা দাবি উত্থাপন করেন।

দাবি হলো-

বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ, শব্দ দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা ও শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা।

রুবিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করা।

ক্যাম্পাসে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষে প্রধান প্রবেশদ্বারগুলোতে দ্রুত চেকপোস্ট বসানো ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শুধুমাত্র নিবন্ধিত রিকশা চলাচল এবং রিকশাচালকদের জন্য ইউনিফর্ম ও ভাড়ার চার্ট প্রস্তুত করা।

ভ্রাম্যমান দোকানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও প্রশাসন কর্তৃক যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করা এবং ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে নূন্যতম ৩০০ ডাস্টবিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা।

প্রথম বর্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড প্রদান করা এবং ক্যাম্পাসের কিছু স্থানে সংরক্ষিত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

মাদকাসক্ত ও ভবঘুরে ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ী উচ্ছেদ করা।

সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা এবং ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করা।

প্রক্টর অফিসে জমে থাকা সকল অভিযোগ নিষ্পত্তি করা।

নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার লক্ষে প্রক্টোরিয়াল অফিসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিগুলো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা।

দাবি উত্থাপন শেষে আনিকা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ পার করেছে, সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত হয়েছে শত শত সমস্যাও। এই সমস্যাগুলোর সংমিশ্রণে আজ ক্যাম্পাসে আমাদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সাথে সাথে জীবনের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ভুগছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আমাদের এই শিক্ষাঙ্গণ নিরাপদ করার লক্ষ্যে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ১১ দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হবে জানিয়ে আানিকা বলেন, ‘যদি আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের স্বপক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ১১ ডিসেম্বর থেকে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি নিয়ে দিতে বাধ্য হব।’

এর আগে গত শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চারুকলা অনুষদের বিপরীতে পাশের রাস্তা ধরে যাওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পড়ে যান রুবিনা। চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টিএসসি, ভিসি চত্বর হয়ে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের কাছাকাছি পর্যন্ত রুবিনাকে এভাবেই টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায় গাড়িটি।

এরপর লোকজন গাড়িটি আটকে নিচ থেকে রুবিনা আক্তারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাড়ির চালকক আজাহার জাফর শাহকে মারধর করেন পথচারীরা। শাহাবাগ থানার পুলিশ পরে তার পরিচয় নিশ্চিত করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক। আহত অবস্থায় বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ওই ঘটনার পর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মশাল হাতে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। এছাড়া রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

এসব কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভকারীরা গাড়ি চাপায় ওই নারীর মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, অবাধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে প্রবেশ পথগুলোতে পাহারা চৌকি বসানোসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

আরও পড়ুন:
প্রাইভেট কারে টেনেহিঁচড়ে নেয়া নারী নিহতের ঘটনায় মামলা
ঢাবির সাবেক শিক্ষক আজাহার ‘জানতেন না’ গাড়িতে কেউ আটকে আছে
এটি হত্যাকাণ্ড, মামলা হবে: ডিসি রমনা
টিএসসিতে চাপা দিয়ে নারীকে নীলক্ষেত পর্যন্ত টেনে নিল গাড়ি

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
Shall we eat lollipops to occupy Dhaka Obaidul Quader

ঢাকা দখল করবেন, আমরা কি ললিপপ খাব: ওবায়দুল কাদের

ঢাকা দখল করবেন, আমরা কি ললিপপ খাব: ওবায়দুল কাদের শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা
ওবায়দুল কাদের বলেন- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি এক সঙ্গে ঘোষণা করা হবে।

১০ ডিসেম্বরের সমাবেশের পর বিএনপি দেশে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশের সৃষ্টি করবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘আমি খবর পেয়েছি আজ বিএনপির রাজশাহীর সমাবেশ সুপার ফ্লপ হয়েছে। ফখরুল এখন হুংকার ছাড়ছেন। ১০ ডিসেম্বর যখন চলে যাবে, জানি অবরোধ দেবেন, জানি ধর্মঘট দেবেন, জানি আবারও আগুন-সন্ত্রাস শুরু করবেন। জানি আবারও লাঠিখেলা করবেন, ঢাকা দখল করবেন। তবে আমরা কি বসে থাকবো? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ খাবো?’

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান লন্ডনের টেমস নদীর তীর থেকে বাণী পাঠাচ্ছে; আর দেশে বসে ফখরুল হুংকার ছাড়ছেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবে, মন্ত্রীরা সবাই দেশ ত্যাগ করবে, এসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, তবে কখনো তা হবে না।

আওয়ামী লীগ কাউকে ভয় পায় না। শেখ হাসিনা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। আওয়ামী লীগ ভয় পায় আপনাদের আগুন সন্ত্রাস, লাঠি নিয়ে খেলাধুলাকে। সেই বদ মতলব আপনাদের আছে। সে জন্যই আপনাদের পল্টন দরকার।’

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা ভোট চুরি করে তারাই আবার ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার কথা বলে। তবে গ্রামের নিরীহ মানুষ এখন বলে বিএনপি থেকে সাবধান। বিএনপিকে কেউ বিশ্বাস করে না।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর হবে না। সংবিধান পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধানকে অনেক কচুকাটা করেছেন। আইন করে বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘাতকদের বিচার বন্ধ করেছিলেন। সংবিধানে হাত দেওয়ার অধিকার কারো নেই। কাজেই তত্ত্বাবধায়ক দিবা স্বপ্ন; রঙিন খোয়াব দেখে লাভ নেই।’

পল্টনে সমাবেশ করার বিএনপির দাবির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি কেন সোহরাওয়ার্দী মাঠকে বাদ দিয়ে পল্টনে জনসভা করতে চায়? তার কারণ আমরা সবাই জানি। গত নির্বাচনের আগেওতো বেগম জিয়া এখানে মিটিং করেছেন।

কিন্তু ফখরুল সাহেব, আপনি কেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চান না? ধরা পরে গেছে, ধরা পড়ে গেছে! স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আপনার মধ্যে নেই, তা আবারো প্রমাণিত হলো। এ কারণেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাইছেন না।’

এ সময় গণমাধ্যমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা এত বড় বড় জনসভা করি, কিন্তু কিছু মিডিয়া ওভাবে নিউজ দেয় না। কিন্তু ফখরুল দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিলে পুরো ছবিসহ কাভারেজ পান। যারা আমাদের পছন্দ করেন না, তাদেরকে বলেছি- আমরা বেশি চাই না। আমাদের ন্যায্য কাভারেজ দিন।’

দীর্ঘ চার বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিকেল সাড়ে ৩টায় ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় উপস্থিত হলে দলীয় সংগীত এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দেশ এবং দলের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর গান এবং নৃত্য পরিবেশন শেষে আল নাহিয়ান জয় সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর পর পর সম্মেলনের কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। ফলে সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা দেখা যায়।

সারাদিন পুরো ক্যাম্পাসে ছিল সাজ সাজ রব; আর উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ প্রতিক্ষিত এ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এবং ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন।

এবার ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২৪৫ জন নেতা-কর্মী জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।

ঢাবি ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের কমিটি এক সঙ্গে ঘোষণা করা হবে।

আরও পড়ুন:
দুর্নীতি ও ভোট চুরির বিরুদ্ধে খেলা হবে: ওবায়দুল কাদের
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ভয় পায় বিএনপি: ওবায়দুল কাদের
সম্মেলনে বিশৃঙ্খলায় ছাত্রলীগ, ক্ষোভ কাদেরের
বিএনপির খবর আছে: কাদের
সরকার পতনের হাঁকডাক দিয়ে লাভ নেই: ওবায়দুল কাদের

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
Inauguration of special classroom for disabled students in Jabi

জাবিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠকক্ষ উদ্বোধন

জাবিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠকক্ষ উদ্বোধন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের নিচতলায় দুই কক্ষের বিশেষ পাঠকক্ষ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম। ছবি: নিউজবাংলা
শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের নিচতলায় দুই কক্ষের এই বিশেষ পাঠকক্ষ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম। তিনি বলেন, ‘নবনির্মিত আবাসিক হল এবং একাডেমিক ভবনগুলোতে তাদের চলাফেরার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির আরও পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি বিশেষ পাঠকক্ষ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের নিচতলায় দুই কক্ষের এই বিশেষ পাঠকক্ষ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম। ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (পিডিএফ) জাবি শাখা এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম বলেন, ‘প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের চলাফেরা এবং তাদের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে নানা ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নবনির্মিত আবাসিক হল এবং একাডেমিক ভবনগুলোতে তাদের চলাফেরার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির আরও পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

কেক ও ফিতা কেটে পাঠকক্ষের উদ্বোধনের পর কক্ষ দুটি ঘুরে দেখেন উপাচার্য। এ সময় তিনি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধীবান্ধব ক্যাম্পাস গঠনে তাদের আশ্বস্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ্ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অহেদুর রহমান বলেন, ‘গ্রন্থাগারে এতো দিন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পরিবেশ ছিল না। আজ গ্রন্থাগারে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠাগার কক্ষের উদ্বোধন করায় ভীষণ ভালো লাগছে। এখন ইচ্ছে হলে গ্রন্থাগারে এসে পড়ালেখা করতে পারব। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বান্ধব অনেক সুযোগ-সুবিধা আছে। তবে এ সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। আমি আশা করি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।’

অনুষ্ঠানে গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম শামীম কায়সার বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে পরিচালিত ডাইভার্সএশিয়া প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলাসহ নানান ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ এ মামুন, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. এ টি এম আতিকুর রহমান, গ্রন্থাগারের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ হানিফ আলী প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
জাবির প্রজাপতি মেলায় একঝাঁক শিশু
জাবিতে ‘প্রফেসর ড. হাফিজা খাতুন স্বর্ণপদক’ চালু
জাবিতে ‘প্রজাপতি মেলা’ এবার ২ ডিসেম্বর
মসজিদ নির্মাণের দাবিতে জাবিতে মানববন্ধন
ছাত্রকে থাপ্পড় দেয়া জাবির ২ ছাত্রীর বহিষ্কারাদেশ অবৈধ

মন্তব্য

ফ্যাক্ট চেক
The primary scholarship exam has resumed

প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা ফের চালু

প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা ফের চালু পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা হবে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। ফাইল ছবি
সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে না। মোট শিক্ষার্থীর ১০ শতাংশ হিসাব করে কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তথ্য পাঠাতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে। ২০০৮ সালে সবশেষ এই পরীক্ষা হয়েছিল।

পরের বছর পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা চালু হলে বাদ হয়ে যায় প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা। তবে গত ২৮ নভেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আবার এ পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সই করা এক অফিস আদেশ এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে মেধাবৃত্তি প্রদানের বিকল্প মেধা যাচাই পদ্ধতিবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। এতে বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রাথমিক বৃত্তি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বৃত্তি পরীক্ষা নিতে হবে। এ পরীক্ষা উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও গণিত এই চার বিষয়ে এক দিনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দুই ঘণ্টায় শিক্ষার্থীদের ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। তবে সব শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ থাকবে না। মোট শিক্ষার্থীর ১০ শতাংশ হিসাব করে কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করে ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তথ্য পাঠাতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

২০০৯ সালে জাতীয়ভাবে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পিইসি পরীক্ষা শুরু করে সরকার। এরপর থেকে এর ফলের ভিত্তিতেই বৃত্তি দেয়া হতো। করোনা সংক্রমণের কারণে গত দুই বছর পিইসি পরীক্ষা হয়নি। ফলে দেয়া হয়নি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি।

নতুন শিক্ষাক্রমে অবশ্য বৃত্তি পরীক্ষার উল্লেখ নেই। একেবারে দশম শ্রেণিতে গিয়ে পাবলিক পরীক্ষা (এসএসসি ও সমমান) নেয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী বছর থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হবে।

আরও পড়ুন:
প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ফল ১৪ ডিসেম্বর
বন্যাকবলিত এলাকায় প্রাথমিকে পাঠদান স্থগিত
৪১ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াইফাই ইন্টারনেট

মন্তব্য

p
উপরে