তালেবান ভারতকে হুমকি দেয়নি

তালেবান ভারতকে হুমকি দেয়নি

রোববার কাবুল ঘিরে ফেলার একপর্যায়ে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে প্রেসিডেন্ট প্যালেস দখল করে তালেবান। ছবি: ভয়েস অফ আমেরিকা

ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে তালেবানের মুখপাত্র মোহাম্মদ সুহেইল শাহীন বলেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের শত্রুতার অংশ হতে চায় না তালেবান।

আফগানিস্তান রোববার তালেবানের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ভারত ও কাশ্মীর নিয়ে সংগঠনটির অবস্থান কেমন হবে, এ নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা চলছে।

এমনই পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে।

এতে দাবি করা হয়, কাবুল দখলের পরই কাশ্মীর ঘিরে ভারতকে হুমকি দিয়েছে তালেবান।

ভিডিওতে দেখা যায়, কাশ্মীরের মুজাহিদীনদের চ্যালেঞ্জ করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারকে হুমকি দিচ্ছে তালেবানের এক কমান্ডার।

তিনি বলেছেন, ‘মোদি সরকার কাশ্মীরের এক মুজাহিদীনকে হত্যা করলে শত শত মুজাহিদীন এর বদলা নেবে।’

ভিডিওর শিরোনামে বলা হয়, ‘ভারত, তুমি কি প্রস্তুত? তালেবান যোদ্ধাদের পরের লক্ষ্য ভারত।’

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুমের (এএফডব্লিউএ) অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি দুই বছর আগের।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালেবান এখন পর্যন্ত ভারতকে কোনো ধরনের হুমকি দেয়নি।

২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতবিরোধী শিরোনাম দিয়ে পাকিস্তানের কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই ভিডিও পোস্ট করেছিলেন।

ওই সময় একই ভিডিও আরও কয়েকজন পাকিস্তানি ইউটিউবেও আপলোড করেন।

ইউটিউবে ভিডিওর শিরোনামে উর্দু ভাষায় লেখা, ‘আফগান তালেবানের ভারতের প্রতি প্রকাশ্য হুমকি।’

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার সময়ই ওই ভিডিও ইন্টানেটে ছাড়া হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে যে ব্যক্তি কথা বলছিলেন, তিনিও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সেনা প্রত্যাহারের বিষয় উল্লেখ করেন।

মূলধারার সংবাদমাধ্যমে ওই ভিডিওসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় ব্যক্তিটির পরিচয় জানতে পারেনি ইন্ডিয়া টুডে। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই এটির প্রচার বেশি হয়।

কাবুলে তালেবানের নতুন নেতৃত্ব ভারত বা কাশ্মীরের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো হুমকি দেয়নি।

ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে তালেবানের মুখপাত্র মোহাম্মদ সুহেইল শাহীন বলেছিলেন, ভারত ও পাকিস্তানের শত্রুতার অংশ হতে চায় না তালেবান।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান থেকে নাগরিক ফেরাতে মমতার চিঠি
আফগান পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে ভারত
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পশ্চিমবঙ্গে গরুর পরিচয়পত্র, কানে ঝুলবে হলুদ ট্যাগ

পশ্চিমবঙ্গে গরুর পরিচয়পত্র, কানে ঝুলবে হলুদ ট্যাগ

পশ্চিমবঙ্গে গরুর আধার কার্ড দেয়া হবে, কানে ঝুলবে হলুদ ট্যাগ। ছবি: নিউজবাংলা

পরিচয়পত্র দেয়ার পর গবাদিপশুটির কানে একটি হলুদ ট্যাগ লাগানো থাকবে। হলুদ রঙের সেই ট্যাগে একটি চিপের মাধ্যমে ১২ সংখ্যার ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দেয়া থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যজুড়ে ব্রুসেল্লোসিস রোগের টিকাকরণের জন্য গরুর পরিচয়পত্র দেয়ার কাজ শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাণিসম্পদ বিকাশ মন্ত্রণালয়।

পরিচয়পত্র দেয়ার পর গবাদিপশুটির কানে একটি হলুদ ট্যাগ লাগানো থাকবে। হলুদ রঙের সেই ট্যাগে একটি চিপের মাধ্যমে ১২ সংখ্যার ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দেয়া থাকবে।

এটি করা হলে চিপের মাধ্যমে ওই প্রাণী এবং তার মালিক সম্পর্কে প্রশাসনের হাতে যাবতীয় তথ্য চলে আসবে।

প্রথম দফায় ৫ হাজার ২৮০টি গরুকে টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

যেসব গরুর ট্যাগ লাগানো হচ্ছে, সেসব গরু এবং তাদের মালিক-সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করে রাখা হচ্ছে।

ব্রুসেল্লোসিস একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত গবাদিপশুর রোগ। এই রোগের মূল সমস্যা হলো, তিন থেকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা গরুর গর্ভপাত হয়ে যায়।

গবাদিপশুর মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু ছড়ায় মানুষের দেহে।

ব্রুসেল্লোসিস জীবাণুর সংক্রমণ হলে জ্বর, গাঁটে ব্যথা ইত্যাদি হয়।

পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রাণিসম্পদ বিকাশ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর সোমনাথ মাইতি জানান, পুরোদমে হলুদ ট্যাগ লাগানোর কাজ চলছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যটিতে গত বছর থেকে গরু ও মহিষকে আধার কার্ড দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

ভাতার ব্লকের প্রাণী বিকাশ দপ্তরের আধিকারিক শঙ্খ ঘোষ বলেন, ‘২০ সেপ্টেম্বর থেকে গরুর ব্রুসেল্লোসিস রোগের টিকাকরণের কাজ শুরু হচ্ছে। এই টিকা মূলত দেয়া হয় চার থেকে আট মাস বয়সী বকনা বাছুরদের। ওই নির্দিষ্ট বয়সের বাছুরদের চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। গরুগুলোকে চিহ্নিত করতে হলুদ ট্যাগ পরানো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান থেকে নাগরিক ফেরাতে মমতার চিঠি
আফগান পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে ভারত
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট

শেয়ার করুন

‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’

‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’

মোদির বিকল্প মুখ মমতাই, রাহুল নয়- সুদীপ। ছবি: সংগৃহীত

‘মোদির বিকল্প হিসেবে জবরদস্ত, বিশ্বাসযোগ্য মুখ সামনে রেখে প্রচারে যেতে হবে। আর তা হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

জোটের রাস্তা খোলা রেখে মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ বলে কংগ্রেসকে খোলাখুলি বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপের কর্মীসভায় দেয়া একটি বক্তব্যের অংশ ছেপে শুক্রবার তার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে ‘জাগো বাংলা’ মুখপত্রটিতে।

সেখানে সুদীপ বলেছেন, ‘রাহুল গান্ধীকে আমি বহুদিন চিনি। বলতে বাধ্য হচ্ছি, তিনি এখনও নরেন্দ্র মোদির বিকল্প মুখ হয়ে উঠতে পারেননি।

‘আমরা সব বিরোধীদলের সঙ্গে কথা বলেই মমতাকে বিকল্প মুখ হিসেবে সামনে রেখে প্রচারে যাব। তবে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আমরা কখনই বিকল্প জোটের কথা বলছি না।’

তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘রাহুল সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু পারেননি। বারবার নির্বাচনি ব্যর্থতায় সুযোগ ও সময় নষ্ট করা যাবে না।

‘মোদির বিকল্প হিসেবে জবরদস্ত, বিশ্বাসযোগ্য মুখ সামনে রেখে প্রচারে যেতে হবে। আর তা হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

তৃণমূলের তরফে মোদিবিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেয়ার বার্তা প্রকাশের পরই কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী তার প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন ‘তৃণমূলের এই বার্তায় সবচেয়ে খুশি হবেন নরেন্দ্র মোদি। কারণ, প্রধানমন্ত্রী চান আঞ্চলিক দলগুলো যেন ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে।’

অধীর আরও বলেন, ‘বিজেপি পাঞ্জাবকে সাহায্য করছে। বাংলায় হয়তো তৃণমূলকে সাহায্য করবে। বিজেপি বলে, রাহুল পারবেন না। একথা তৃণমূল বললে বিজেপির সঙ্গে তাদের পার্থক্য কমবে।’

মোদিবিরোধী জোটের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘১৯টি দল সংসদের ভেতরে-বাইরে বিজেপির বিরোধিতা করছে। এ আন্দোলন চলবে। কিন্তু কোনো ফ্রন্ট এখনো তৈরি হয়নি। ভোটের অনেক দেরি। এর মধ্যে অনেক রকম প্রস্তাব আসতে থাকবে।’

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান থেকে নাগরিক ফেরাতে মমতার চিঠি
আফগান পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে ভারত
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট

শেয়ার করুন

কাবুলে বেসামরিক নাগরিক হত্যার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

কাবুলে বেসামরিক নাগরিক হত্যার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হয় এক পরিবারের ১০ সদস্য। ছবি: এএফপি

গত ২৯ আগস্টের ওই হামলায় এক ত্রাণকর্মী ও তার পরিবারের অন্য ৯ সদস্য নিহত হয়। নিহত ১০ জনের মধ্যে সাত শিশু রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স দুই বছর।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে দেশটির রাজধানী কাবুলে ড্রোন হামলায় ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তে উঠে এসেছে, জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট ভেবে গাড়িতে ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যার বলি হয় একটি পরিবারের সদস্যরা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ আগস্টের ওই হামলায় এক ত্রাণকর্মী ও তার পরিবারের অন্য ৯ সদস্য নিহত হয়।

নিহত ১০ জনের মধ্যে সাত শিশু রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স দুই বছর।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে দেশটিতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। পরে ‘অজেয়’ উপত্যকা পাঞ্জশিরও দখলে নেয় সংগঠনটি।

তালেবানের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পরই কাবুল থেকে সামরিক-বেসামরিক নাগরিকদের প্রত্যাহারে তোড়জোড় শুরু করে বিভিন্ন দেশ। এ পরিস্থিতির মধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। সে হামলার কয়েক দিন পর ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

ড্রোন হামলার বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তা জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেন, ত্রাণকর্মীর গাড়িটি আটঘণ্টা ধরে ট্র্যাক করা হচ্ছিল। ধারণা ছিল, গাড়িটি আইএসের স্থানীয় শাখা আইএস-কে সংশ্লিষ্ট।

ম্যাকেঞ্জির মতে, হামলাটি ছিল ‘বেদনাদায়ক ভুল’।

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত অনুযায়ী, জামাইরি আহমাদি নামের ত্রাণকর্মী

কাবুল বিমানবন্দর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়িতে গাড়িতে চড়ার পরপরই হামলা চালানো হয়।

বোমা হামলার পর আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছিল, গাড়িতে বিস্ফোরক ছিল। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলিন্ডার থেকে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হতে পারে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা এক অনুবাদকও রয়েছেন, যার নাম আহমদ নাসের।

তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, ‘আমরা এ পর্যায়ে এসে জানতে পেরেছি, আহমাদির সঙ্গে আইএস-খোরাসানের কোনো যোগসূত্র ছিল না। ওই দিন (হামলার সময়) তার কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অহিংস ছিল এবং সেটি ছিল আমাদের মনে করা আসন্ন হুমকির একেবারে উল্টো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ এ ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সচেষ্ট হব।’

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান থেকে নাগরিক ফেরাতে মমতার চিঠি
আফগান পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে ভারত
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট

শেয়ার করুন

ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 

ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় দেশের চোখে দেখা নয়: জয়শঙ্কর 

ভারত-চীন নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারে একমত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৈঠকে বসেন। তবে আলোচনায় আফগানিস্তান নয়, স্থান পেয়েছে চীন-ভারত। বৈঠকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়েই আলোচনা হয়েছে দেশ দুটির মধ্যে।

তালেবানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর আফগানিস্তানের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মুখোমুখি হলো ভারত-চীন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৈঠকে বসেন। তবে আলোচনায় আফগানিস্তান নয়, স্থান পেয়েছে চীন-ভারত। বৈঠকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা নিয়েই আলোচনা হয়েছে দেশ দুটির মধ্যে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত-চীন সম্পর্ক তৃতীয় কোনো পক্ষের চোখ দিয়ে না দেখাই শ্রেয়।’

তাজিকিস্তানের রাজধানীতে সাংহাই করপোরেশন অর্গানাইজেশনের যে বৈঠক সম্মেলন শুরু হয়েছে, তাতেই যোগ দিয়েছে ভারত ও চীন।

সদস্য দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রীদের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও বৈঠকে যোগ দেন। সেখানেই ভার্চুয়াল আলোচনায় এস জয়শঙ্কর পূর্ব লাদাখ থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তোলেন।

সীমান্তে শান্তি ফেরাতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় আটকে থাকা সেনা প্রত্যাহারের কাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে দুই পক্ষেরই সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরের শীর্ষ নেতাদের দ্রুতই বৈঠকে বসা নিয়ে সহমত জানান।

এস জয়শঙ্কর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ‘ভারত কখনোই সংঘর্ষের তত্ত্ব মেনে চলেনি এবং ভারত-চীনের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপরই গোটা এশিয়ার ঐক্য নির্ভর করছে।’

একই সঙ্গে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। আর এই সম্পর্ককে মজবুত করতেই চীনের উচিত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অন্য কোনো বা তৃতীয় দেশের চোখ দিয়ে না দেখা।

বৈঠক শেষে টুইটেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি উল্লেখ করেন। তবে জয়শঙ্কর বৈঠকে ‘তৃতীয় দেশ’ বলে উল্লেখ করলেও, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ‘তৃতীয় দেশগুলো’ বলা হয়েছে, যা তাৎপর্যপূর্ণ।

বিবৃতিতে কেবল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের কথা উল্লেখ করা হলেও সূত্রের খবর, দুই দেশের মধ্যে আফগানিস্তান প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তালেবানের ক্ষমতা দখল ও সরকার গঠন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত।

তবে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় কীভাবে শান্তি ফেরানো যায়, তা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

জয়শঙ্কর জানান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নত করার লক্ষ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ও বাকি সীমান্ত অঞ্চলগুলোয় শান্তি স্থাপন করা জরুরি।

দ্রুত দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক নেতৃত্ব বিষয়টিতে আলোচনায় বসবে।

গত বছরের এপ্রিলে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার জেরে দুই দেশের জন্য ভালো কিছু নয় এবং এর জেরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও খারাপ প্রভাব পড়েছে, তা স্বীকার করে নেয়া হয় বৈঠকে।

গত ১৪ জুলাইয়ের বৈঠকের পর দুই পক্ষই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে সেনা প্রত্যাহার ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে ভালো কাজ করেছে, তার স্বীকৃতি দেয়া হয়।

তবে এখনও পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখাজুড়ে একাধিক সংঘর্ষস্থলে কাজ করা বাকি, সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান থেকে নাগরিক ফেরাতে মমতার চিঠি
আফগান পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে ভারত
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট

শেয়ার করুন

একাত্তরে মোদি, টিকায় রেকর্ডের কর্মসূচি

একাত্তরে মোদি, টিকায় রেকর্ডের কর্মসূচি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে সামনে রেখে জনগণকে টিকা নিতে উৎসাহ জোগাতে নেতাদের প্রতি তাগিদ দিয়েছে বিজেপি। আর রোজ দেয়া টিকার ডোজ দ্বিগুণ করতে রাজ্যের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

একাত্তরে পা রেখেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদি। বিশেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে টিকাদানে রেকর্ড গড়তে চাইছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান গুজরাটের বড়নগরে জন্মগ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, সরকারি দপ্তরে মোদির ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সেবা ও সমর্পণ অভিযান’ নামে ২০ দিনের বিশাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিজেপি।

মোদির জন্মদিনের আগে বৃহস্পতিবার ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাবিয়া টিকা নিতে জনগণকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, ‘আসুন #ভ্যাকসিনসেবা করি এবং এখন পর্যন্ত টিকা না নেয়া লোকজনকে টিকাদানের মাধ্যমে তাকে জন্মদিনের উপহার দিই।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে সামনে রেখে জনগণকে টিকা নিতে উৎসাহ জোগাতে নেতাদের প্রতি তাগিদ দিয়েছে বিজেপি। আর রোজ দেয়া টিকার ডোজ দ্বিগুণ করতে রাজ্যের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

বিজেপি শুক্রবার ২ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। দলটির এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে প্রায় আট লাখ স্বেচ্ছাসেবী।

বিজেপির ২০ দিনের কর্মসূচি চলবে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত। ২০০১ সালের ওই দিন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক হয়েছিল মোদির।

বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে বড় ধরনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও রক্তদান ক্যাম্পেইনে নামবে বিজেপি। মোদিকে অভিনন্দন জানানোর অংশ হিসেবে দলটি ৫ কোটি পোস্টকার্ডও বিলি করবে।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান থেকে নাগরিক ফেরাতে মমতার চিঠি
আফগান পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে ভারত
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

পশ্চিমবঙ্গে ফের বাড়ল করোনার বিধিনিষেধ

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় কঠোরভাবে বিধিনিষেধ পালনের পরামর্শ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ফাইল ছবি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নবান্নে নতুন নির্দেশিকা জারি করে বুধবার করোনা বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বর মাসের পুরোটাই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এ সময়ে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে নাইট কার্ফিউ। স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গে করোনার বিধিনিষেধ ফের বেড়েছে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নবান্নে নতুন নির্দেশিকা জারি করে বুধবার করোনা বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বর মাসের পুরোটাই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। এ সময়ে রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে নাইট কার্ফিউ। স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসায় পশ্চিমবঙ্গে বাস, ট্যাক্সি মেট্রোরেল, অটোর মতো গণপরিবহন চলাচলে আগেই ছাড় দেয়া হয়েছে। দাবির মুখে ছাড় দেয়া হয়েছে জিম, রেস্তোরাঁ, বিনোদন পার্ক, সিনেমা হল, চিড়িয়াখানার মতো স্থানে যাতায়াতে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি উঠলেও বিধিনিষেধ বাড়ায় এটা স্পষ্ট, রাজ্যে এখনই লোকাল ট্রেন চলছে না। সরকারের নতুন নির্দেশিকায় লোকাল ট্রেনের বিষয়েও কিছু উল্লেখ নেই।

যদিও বর্তমানে স্টাফ স্পেশাল ট্রেন চলছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কম। তবে মেট্রোরেলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কায় নতুন নির্দেশিকায় কঠোরভাবে করোনা বিধিনিষেধ পালনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলকভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। শর্ত মেনে যেসব প্রতিষ্ঠান খুলেছে সেখানে কঠোরভাবে কোভিড প্রটোকল পালন করতে বলা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ জোরদার করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। করোনা বিধিনিষেধ অবজ্ঞা করলে, বিপর্যয় মোকাবিলায় আইনানুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৩ লাখের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক লাখ মানুষের। এর মাঝে পশ্চিমবঙ্গে অক্সিজেন সংকটসহ নানা কারণে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে করোনা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছিল। করোনা সংকট অনেকটা কাটছে বলে ধারণা করা হলেও সতর্কতা বহাল রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার।

পশ্চিমবঙ্গে লকডাউন চললেও অনেকেই মানছে না শারীরিক দূরত্ব। বিশেষ করে হাটবাজার বা গণপরিবহনে ভিড় নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান থেকে নাগরিক ফেরাতে মমতার চিঠি
আফগান পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে ভারত
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট

শেয়ার করুন

ভারতে রামলীলা-নবরাত্রীতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা, আটক ৬

ভারতে রামলীলা-নবরাত্রীতে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা, আটক ৬

নাশকতার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে রাজস্থানের কোটা থেকে একজনকে আটক করা হয়। তিনজনকে আটক করেছে উত্তর প্রদেশের সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড এটিএস। বাকি দুজন দিল্লিতে আটক হয়েছেন।

ভারতের কমপক্ষে তিনটি রাজ্যে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে কমপক্ষে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য।

জানা যায়, রামলীলা, নবরাত্রীর মতো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন উৎসব সামনে রেখে হামলার পরিকল্পনা চলছে বলে খবর পেয়েছে পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে নেমে মঙ্গলবার কয়েকজনকে আটক ও জিনিসপত্র জব্দ করে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলের সদস্যরা।

আটককৃতদের কয়েকজন ছদ্ম নাম-পরিচয় ব্যবহার করছিলেন।

এদের মধ্যে জান মহম্মদ শেখের বাড়ি মহারাষ্ট্রে, ওসামা ওরফে শামির বাড়ি দিল্লির জামিয়া নগরে, মূলচন্দ ওরফে সাজু উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলির বাসিন্দা, জিশান কামারের বাড়ি এলাহাবাদে, মোহাম্মদ আবু বকরের বাড়ি বাহরইচে এবং মোহাম্মদ আমির জাভেদের বাড়ি লক্ষ্নৌতে।

প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশে হামলার পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসীদের।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটককৃতদের মধ্যে ওসামা ও জিশান প্রতিবেশী পাকিস্তানের মদদপুষ্ট। পাকিস্তানের আন্তবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন দুজনই।

অভিযোগ, আইএসআইয়ের নির্দেশেই এতদিন চলছিলেন তারা। তাদের ওপর নির্দেশ ছিল উত্তর প্রদেশ ও দিল্লির জনবহুল এলাকায় উৎসবের ভিড়ভাট্টার মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটানোর।

দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেলের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত কমিশনার নীরজ ঠাকুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে আমরা নাশকতার পরিকল্পনার খবর জানতে পারি। পরে মঙ্গলবার সকালে অভিযান চালিয়ে রাজস্থানের কোটা থেকে একজনকে আটক করা হয়। তিনজনকে আটক করেছে উত্তর প্রদেশের সন্ত্রাস দমন স্কোয়াড এটিএস। বাকি দুজন দিল্লিতে আটক হয়েছেন।’

আটককৃতদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এদের মধ্যে ওসামা ও জিশান কিছুদিন আগে ওমানের মাস্কটে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে নৌকায় চড়ে পাকিস্তানে গিয়ে ১৫ দিন অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নের তারা। তাদের শক্তিশালী জঙ্গি হয়ে ওঠার শিক্ষাও দেয় আইএসআই। প্রশিক্ষণ শেষে তারা দুবাই হয়ে ভারতে ফিরে আসেন।’

নীরজ ঠাকুর বলেন, ‘এ চক্রান্তে পাকিস্তানি সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমের ভাই আনিস ইব্রাহিমের হাত থাকতে পারে। কারণ সমীর নামে তার কাছের একজনকে পাকিস্তানের এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ভাড়া করেছিল। তার ওপর বিস্ফোরকসহ গ্রেনেড ও আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।’

ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আরও বলেন, ‘জেরার মুখে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন যে তাদের মধ্যে ইব্রাহিম নামে একজনের কাজ ছিল তহবিল জোগান দেয়া। আর লালা নামের একজনের দায়িত্ব ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে আরও ১৪ থেকে ১৫ জন ছিল, যারা বাংলা ভাষায় কথা বলত।’

নীরজ ঠাকুর জানান, জঙ্গিরা ভারতে লুকিয়ে থাকলেও তাদের পরিচালনা করা হতো সীমান্তের ওপার থেকে।

আরও পড়ুন:
আফগানিস্তান থেকে নাগরিক ফেরাতে মমতার চিঠি
আফগান পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে ভারত
৩ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজসম্পদ তালেবানের হাতে, নজর চীনের
গণতন্ত্র থাকবে না তালেবান শাসনে
শঙ্কার মুখে আফগান নারী ক্রিকেট

শেয়ার করুন