আমেরিকান তরুণীর মঙ্গলে ওয়ান-ওয়ে মিশনের খবরটি অসত্য

আমেরিকান তরুণীর মঙ্গলে ওয়ান-ওয়ে মিশনের খবরটি অসত্য

মঙ্গল গ্রহে প্রথম মানুষ হিসেবে পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকান কিশোরী অ্যালিসা কার্সন। ছবি: সংগৃহীত

অ্যালিসা কার্সন মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। মঙ্গলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে জীবনের বড় সময় তিনি কাটিয়েছেন মহাকাশবিষয়ক বিভিন্ন ক্যাম্প আর অত্যাধুনিক প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার উপস্থিতি নিয়মিত। সাবেক নারী নভোচারীদের সঙ্গেও রেখেছেন যোগাযোগ।

সারা বিশ্বে মুখে মুখে ছড়ানো কথাটি ছিল, অ্যালিসা কার্সন নামের এক তরুণী প্রথম মানুষ হিসেবে মঙ্গল গ্রহে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে ২০ বছর বয়সী কার্সনের ‘আত্মত্যাগের’ প্রশংসা করেছে কোটি কোটি মানুষ।

‘এক্সপ্লোর স্পেস’ কর্মসূচির জন্য কেনেডি স্পেস সেন্টার ভিজিটর কমপ্লেক্সের পাসপোর্ট পাওয়া প্রথম ব্যক্তি কার্সন। তিন বছর বয়স থেকে মহাকাশের টানে নভোচারী হওয়ার স্বপ্নের শুরু তার।

বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল অ্যালিসা কার্সনবিষয়ক সব পোস্ট।

ফেসবুকে ‘স্পেস টাইম’ পেজে গত ৬ জুলাই প্রকাশিত একটি পোস্টে লেখা ছিল, ‘এই তরুণী বিয়ে করতে পারবেন না; পারবেন না সন্তান জন্ম দিতেও। কারণ প্রথম মানুষ হিসেবে মঙ্গলে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। আর কোনো দিনই ফিরবেন না পৃথিবীতে।’

ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে ফেসবুক পেজটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল পত্রিকাটি। এতে বেরিয়ে এসেছে বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের কথা।

অ্যালিসা কার্সন মঙ্গলে পৌঁছানো প্রথম মানুষ হতে চান ঠিকই। কিন্তু তিনি মঙ্গলে যাচ্ছেনই, এমন কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। তিনি এখন পর্যন্ত নভোচারীই হননি।

ভাইরাল ফেসবুক পোস্টটিতে পৃথিবীতে ফিরে আসার বিষয়ে তার পরিকল্পনাও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

অবশ্য এবারই প্রথম কার্সন অপপ্রচারের শিকার নন। ২০১৮ সালেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলে একটি গুজব ছড়িয়েছিল, যা পরে মিথ্যা প্রমাণ হয়।

মঙ্গল অভিযানে কার্সনের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত হয়নি

অ্যালিসা কার্সন মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। মঙ্গলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে জীবনের বড় সময় তিনি কাটিয়েছেন মহাকাশবিষয়ক বিভিন্ন ক্যাম্প আর অত্যাধুনিক প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার উপস্থিতি নিয়মিত। সাবেক নারী নভোচারীদের সঙ্গেও রেখেছেন যোগাযোগ।

কার্সনের লিংকডইন পেইজের বরাত দিয়ে তার বাবা বার্ট বলেন, ‘যখন মঙ্গল অভিযান অংশগ্রহণের জন্য আবেদন চাওয়া হবে, তখন বাছাইকৃতদের একজন হতে প্রস্তুত হচ্ছে আমার মেয়ে। শুধু নাসার দিকে তাকিয়ে না থেকে এরই মধ্যে নিজের দারুণ একটি জীবনবৃত্তান্তও তৈরি করেছে সে।’

কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযানের জন্য এখনও নির্বাচিত হয়নি কার্সন।

নাসার মুখপাত্র ক্যাথরিন হ্যাম্বলটন ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়েছেন, সংস্থাটির সঙ্গে কার্সনের কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি নেই। আর মঙ্গল অভিযানের অংশ নিতে ইচ্ছুকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো কোনো কার্যক্রমও শুরু করেনি নাসা।

তিনি বলেন, ‘নাসার প্রধান লক্ষ্যগুলো আর সামগ্রিকভাবে মহাকাশ ভ্রমণের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জানাতে আমাদের অনেকগুলো কর্মসূচি আছে। শিক্ষার্থীরা এসব কর্মসূচিতে আগ্রহ ও উৎসাহ দেখালে আমরাও অনুপ্রাণিত হই।

‘কিন্তু তার মানে এই নয় যে কার্সনের সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক আছে।’

নাসার এ ধরনের অভিযানের পরিকল্পনাও বেশ সুদূরপ্রসারী। অন্তত ২০৩০-এর দশকের আগে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনাই নেই সংস্থাটির।

এ ছাড়াও নাসার এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে নভোচারীদের যে প্রাথমিক শর্তগুলো পূরণ করতে হয়, তাতেও অনেকটা পিছিয়ে কার্সন।

নভোচারী হতে হলে নাসার প্রথম শর্তই হলো প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, ভৌতবিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স বা গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা। একই সঙ্গে ওই বিষয়ের ওপর দুই বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে প্রার্থীর।

এয়ারক্রাফট ওনার্স অ্যান্ড পাইলটস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, কার্সন ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে সবেমাত্র স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনা করছেন।

নাসার বিভিন্ন কর্মসূচিতে সাধারণত বয়সের কোনো নির্দিষ্টসীমা বেঁধে দেয়া হয় না। তবে এতদিন পর্যন্ত যাদেরই এ ধরনের কর্মসূচির জন্য বাছাই করা হয়েছে, তাদের বয়স ২৬ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে। গড় বয়স ৩৪ বছর।

কার্সন এখন সবে ২০ বছর পেরিয়েছেন।

অভিযানের ওপর নির্ভর করে পৃথিবীতে ফেরা

কার্সন আগে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছিলেন যে মঙ্গলে ভ্রমণ করলেও পৃথিবীতে ফিরে আসতে চান। তবে অভিযানের ওপর নির্ভর করে অন্যরকম সিদ্ধান্ত নিতে হলে পিছু হটবেন না বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

২০১৮ সালে টিন ভোগ পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে কার্সন বলেছিলেন, ‘আমি সবসময় নভোচারী হওয়ার কথা ভেবে এসেছি। কারণ আমি মঙ্গলে যেতে চাই। তারপর ফিরে এসে শিক্ষক বা রাষ্ট্রপ্রধান হতে চাই।’

নাসা মুখপাত্র হ্যাম্বলটন জানান, চাঁদ ও এর আশপাশে দীর্ঘমেয়াদে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় নাসা। লক্ষ্য- মঙ্গল অভিযানের জন্য নভোচারীদের প্রস্তুত করা। তবে নভোচারীদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে আসাই শেষ লক্ষ্য থাকবে শেষ পর্যন্ত।

আর কার্সনের বাবা বার্ট জানান, মঙ্গল ভ্রমণ শেষে পৃথিবীতে ফেরার পথ না থাকলেও গ্রহটিতে যেতে চান তার মেয়ে।

তিনি বলেন, ‘নাসা মহাকাশে মানুষ পাঠিয়ে তাদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে চায়। কিন্তু সব প্রতিষ্ঠান হয়তো একইভাবে কাজ করবে না।’

উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ‘মার্স ওয়ান’ প্রকল্পের কথা। বেসরকারি অর্থায়নে ওই প্রকল্পে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল।

তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, লাল গ্রহে এই ভ্রমণ হবে ‘একমুখী’। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, ২০ বছরের মধ্যে মানুষকে মঙ্গলে পাঠানোর এটাই একমাত্র উপায়।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া ঘোষণার আগ পর্যন্ত মার্স ওয়ান প্রজেক্টের দূত হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন কার্সন।

আরও পড়ুন:
‘স্লিপিং লেডি মাউন্টেন’ কোথায়
মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য আলাদা টিকার খবর অসত্য
থুতুমিশ্রিত চারা রোপণে ‘সুপারফুড’ হয় না ফল-সবজি
মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর খবর সত্য নয়
রোনালডো কার সঙ্গে হাত মেলাননি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কওমি মাদ্রাসা খোলার তথ্য সত্য নয়

কওমি মাদ্রাসা খোলার তথ্য সত্য নয়

দেশের কওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। অথচ বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ জোবায়ের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ১১ আগস্ট থেকে দেশের সব কাওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়ার অনুমতি দিয়েছে, যা সত্য নয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে বন্ধ থাকা কওমি মাদ্রাসা খোলার অনুমতি দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাদের বরাত দিয়ে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক) মাদ্রাসা খোলার যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কওমি মাদ্রাসা খোলা নিয়ে ২ আগস্ট ওই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল বেফাক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের কওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। অথচ বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ জোবায়ের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ১১ আগস্ট থেকে দেশের সব কাওমি মাদ্রাসা খুলে দেয়ার অনুমতি দিয়েছে, যা সত্য নয়।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো করোনা শনাক্ত হয়। ভাইরাসের বিস্তার রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। দফায় দফায় সেটি ৩১ আগস্ট করা হয়েছে।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়লে ২৬ মার্চ সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হলেও পরে বিশেষ বিবেচনায় কওমি মাদ্রাসা চালু রাখার সুযোগ করে দেয় সরকার।

তবে দ্বিতীয় ঢেউয়ে করোনা আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার কওমি মাদ্রাসাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।

তবে এর পরেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কওমি মাদ্রাসা চালু রাখার খবর আসতে থাকে। এরপর গত ৬ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘সরকারি নির্দেশ সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু আবাসিক ও অনাবাসিক মাদ্রাসা এখনও খোলা রয়েছে মর্মে জানা যায়, যা বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে অত্যন্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ।… বর্ণিত অবস্থায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কওসি মাদ্রাসাসহ (এতিমখানা ব্যতীত) সব মাদ্রাসা (আবাসিক ও অনাবাসিক) বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো। এ নির্দেশ পালনে কোনোরূপ শৈথিল্য প্রদর্শন করা যাবে না।’

আরও পড়ুন:
‘স্লিপিং লেডি মাউন্টেন’ কোথায়
মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য আলাদা টিকার খবর অসত্য
থুতুমিশ্রিত চারা রোপণে ‘সুপারফুড’ হয় না ফল-সবজি
মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর খবর সত্য নয়
রোনালডো কার সঙ্গে হাত মেলাননি

শেয়ার করুন

সু চির মুখটি ফটোশপে বসানো

সু চির মুখটি ফটোশপে বসানো

ফেসবুকে ভাইরাল এ পোস্টটি শেয়ার করেছিলেন ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। ছবি: বুমলাইভ ডটইন

বর্তমানে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন আইনসহ বেশ কয়েকটি মামলায় বিচারাধীন সু চি। তবে বন্দি থাকলেও কমলা রঙের পোশাকে কারাবন্দি সু চির ভাইরাল ছবিটি সত্য নয়। ফ্যাক্ট চেকে বেরিয়ে এসেছে, আসল ছবিতে যে নারীকে দেখা যায়, সেই নারী সু চি নন।

মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির কারাবন্দি একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি দেখেছেন কয়েক লাখ মানুষ।

চলতি বছরের ২২ জুলাই ফেসবুকে ছবিসংবলিত একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন ১৭ হাজারের বেশি মানুষ। ছবিটির ক্যাপশনে বাংলায় লেখা, ‘ক্ষমতা কারো স্থায়ী থাকে না’।

ছবিতে দেখা যায়, কারাগারের একটি কক্ষে বিছানায় বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছেন কমলা রঙের পোশাক পরা সু চি।

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতা সু চি চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনিসহ ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য আইনপ্রণেতা ও নেতা, আর প্রেসিডেন্টকেও তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।

বর্তমানে দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘন আইনসহ বেশ কয়েকটি মামলায় বিচারাধীন তিনি।

তবে বন্দি থাকলেও কমলা রঙের পোশাকে কারাবন্দি সু চির ভাইরাল ছবিটি সত্য নয়। ফ্যাক্ট চেকে বেরিয়ে এসেছে, আসল ছবিতে যে নারীকে দেখা যায়, সেই নারী সু চি নন।

সু চির মুখটি ফটোশপে বসানো
উইকিমিডিয়া কমন্সে ২০১৩ সালের ১২ জুলাই প্রকাশিত মূল ছবি এটি। ছবি: বুমলাইভ ডটইন

আসল ছবিটি অনলাইন লাইব্রেরি উইকিমিডিয়া কমন্সে ২০১৩ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশ হয়। ছবিটি অন্য এক নারীর, যার মুখের ওপর সু চির মুখের ছবি যোগের কারসাজি করা হয়েছে ফটোশপের মাধ্যমে।

অফিসার বিম্বলবারিকে কৃতিত্ব দিয়ে প্রকাশিত আসল ছবির ক্যাপশনে লেখা, ‘ছোট্ট কারা কক্ষের ভেতরে এক নারী বন্দি। এই কক্ষেই তার বিছানা, টয়লেট। এই গারদ দিয়েই বাইরের সবকিছুর সঙ্গে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন তিনি। কয়েদিদের স্বস্তি ও সুবিধার পাশাপাশি জনসাধারণের কথা মাথায় রেখে এ কারাকক্ষের নকশা করা হয়েছে।

উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশনের আওতাধীন উইকিমিডিয়া কমন্সে ছবি, শব্দ ও যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যম বিনা মূল্যে প্রকাশ ও ব্যবহার করা যায়।

ডিজিটাল ভেরিফিকেশন টুল ইনভিড-উইভেরিফাইয়ে মেটাডেটা তথ্যেও আসল ছবিটির প্রকাশকাল ২০১৩ সালের ১২ জুলাই।

আরও পড়ুন:
‘স্লিপিং লেডি মাউন্টেন’ কোথায়
মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য আলাদা টিকার খবর অসত্য
থুতুমিশ্রিত চারা রোপণে ‘সুপারফুড’ হয় না ফল-সবজি
মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর খবর সত্য নয়
রোনালডো কার সঙ্গে হাত মেলাননি

শেয়ার করুন

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

ভাইরাল হওয়া এই বার্তা ব্যঙ্গাত্মক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট। আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এই ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রভাবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটির ফের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাল হওয়া এক বার্তায় দাবি করা হয়েছে, টিকা না নিলে কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে বন্দি করে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) এ দাবির সত্যতা অনুসন্ধান করে।

এতে দেখা যায়, ভাইরাল বার্তাটি ব্যঙ্গাত্মক এক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ জুন ‘দ্য স্টঙ্ক মার্কেট’ নামের এক ওয়েবসাইটে নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয়।

নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘২০২২ সালের মধ্যে টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।’

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেসব নাগরিক টিকা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে পুরবেন বাইডেন।

‘অনির্দিষ্টকাল ধরে তাদের ক্যাম্পেই আটকে রাখা হবে। টিকা নিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।’

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বাইডেন এ সিদ্ধান্ত নেন বলেও নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়।

নিজেদের পরিষ্কারভাবে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই দাবি করে দ্য স্টঙ্ক মার্কেট ওয়েবসাইট।

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট।

‘আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এ ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য সংস্থা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা নেয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে।

পাশাপাশি টিকা নেয়া ব্যক্তিদেরও চার দেয়ালের ভেতর যেকোনো জনসমাগমস্থলে মাস্ক পরার নির্দেশনা জারি করেছে সিডিসি।

এর আগে চার দেয়ালের ভেতর টিকা নেয়া ব্যক্তিদের মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই বলে নিজেদের নির্দেশনায় বলেছিল সংস্থাটি।

তবে করোনার ডেল্টা ধরনের প্রকোপে নির্দেশনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় সিডিসি।

বিশেষজ্ঞদের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়, করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক টিকা নীতি যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত নাগরিকদের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করেনি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
‘স্লিপিং লেডি মাউন্টেন’ কোথায়
মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য আলাদা টিকার খবর অসত্য
থুতুমিশ্রিত চারা রোপণে ‘সুপারফুড’ হয় না ফল-সবজি
মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর খবর সত্য নয়
রোনালডো কার সঙ্গে হাত মেলাননি

শেয়ার করুন

সিকিউরিটি গার্ড থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা যেভাবে

সিকিউরিটি গার্ড থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা যেভাবে

নাইজেরিয়ায় ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী থেকে কর্মকর্তা হওয়া ইদ্রিসের সঙ্গে আরেক কর্মকর্তা বাবালোলা। ছবি: ফেসবুক

ব্যাংক কর্মকর্তা বাবালোলা লেখেন, ‘আমি দুটি ছবি দিয়েছি, এর একটি ইদ্রিসের ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে ছিল শেষ দিন। দিনটি ছিল শুক্রবার। পরের আরেকটি ছবি, যেটি সোমবার তোলা; সেদিন ইদ্রিস কর্মকর্তা হিসেবে ওই একই শাখায় যোগ দিয়েছেন।’

কয়েক দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটারসহ আরও কিছু মাধ্যমে একটি খবর শেয়ার হতে দেখা যাচ্ছে।

নাইজেরিয়ার এক ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী সেই ব্যাংকের কর্মকর্তা হয়েছেন। বিষয়টিকে খুব ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের অনুপ্রেরণামূলক কথা লিখছেন।

দেশে বিষয়টি হঠাৎ করেই ভাইরাল হয়েছে। মাধ্যমগুলোতে বিষয়টি শেয়ার করা ব্যক্তিরা ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীর ভাগ্য কীভাবে মুহূর্তেই পরিবর্তন হয়েছে কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ে সেটি বলতেও ভুলছেন না।

ভাইরাল হওয়া ছবি ও কনটেন্টের সত্যতা জানার চেষ্টা করে নিউজবাংলা। ইন্টারনেটের সহায়তায় বেশ কিছু নিউজ লিংক পাওয়া যায় ঘটনাটির।

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার সেই ঘটনা বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা। আইয়োমাইড বাবালোলা মি নামের ওই কর্মকর্তা ফেসবুকে ঘটনাটি জানান।

নাইজেরিয়ার নিউজপোর্টাল নেপচুনপ্রাইম ডটকমে ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে একটি খবর প্রকাশ হয়।

সেখানে বাবলোলা লেখেন, নিরাপত্তাকর্মী ইদ্রিস তাকে বলেছিলেন তার ওএনডি সার্টিফিকেট রয়েছে।

বাবলোলা বলেন, ‘নিরাপত্তাকর্মী তার চাকরির নিশ্চয়তা চাচ্ছিলেন। সে জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তার খালি পদে নিয়োগের ব্যাপারে তাকে আমি সহায়তা করার কথা জানাই। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নেয়া হয়।‘

পরের এক সপ্তাহের ঘটনা বর্ণনা করেন বাবালোলা। তিনি লেখেন, ‘এক সপ্তাহের ঘটনা পুরোটাই অলৌকিক মনে হবে।’

এরপর এক সপ্তাহের ঘটনা তিনি শেয়ার করেন।

‘২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আমি এক্সওয়াইজেড শাখায় কাজ শুরু করি। আমি সেদিন থেকেই ইদ্রিসকে লক্ষ্য করে আসছি।

‘আপনি কখনোই তার স্মার্টনেসকে এবং তার সেনাসদস্যের মতো গ্রাহক ও কমকর্তাদের স্যালুট দেয়াকে হেলা করতে পারবেন না।’

কয়েক মাস পরে ইদ্রিস আমাকে অনুরোধ করেন তার কিছু কথা শোনার। তিনি বলেন, ‘আমার ওএনডি সার্টিফিকেট রয়েছে এবং আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি নেয়ার জন্য পার্টটাইম পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি।

‘আমি তার কথা শুনে খুব অভিভূত হই এবং তাকে উৎসাহিত করি।’

‘২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আমাদের এক কর্মকর্তার পদন্নোতি হয় এবং অন্য স্থানে বদলি হন। এরপর সেই পদ খালি হলে ইদ্রিস আমাকে এসে তার আগ্রহের কথা জানান। সেই পদের জন্য তিনি যোগ্য বলেও জানান। আমার অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি ভালো দল তৈরি করা।

‘এরপর থেকে আমি এই শাখার সব নিরাপত্তাকর্মীর সেশন নেয়া শুরু করি। তাদের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানাই। এতে তারা আরও স্মার্ট হয়ে ওঠেন এবং আমরা আমাদের কেপিআই পূরণ করতে সক্ষম হই।’

বাবালোলা বলেন, ‘এরপর আমাদের শাখায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়, সেখানে ইদ্রিস আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষাও নেয়া হয়। তারপর মৌখিক পরীক্ষা। সবই করা হয় এক সপ্তাহের মধ্যে। সেখানে ইদ্রিস প্রথম স্থান লাভ করেন।

‘আমি দুটি ছবি দিয়েছি, এর একটি ইদ্রিসের ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে ছিল শেষ দিন। দিনটি ছিল শুক্রবার। পরের আরেকটি ছবি, যেটি সোমবার তোলা; সেদিন ইদ্রিস কর্মকর্তা হিসেবে ওই একই শাখায় যোগ দিয়েছেন।’

এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। এর কিছুদিন পর বাবালোলাকে সেই ব্যাংক থেকে অন্য আরেক শাখায় বদলি করা হয়।

বাবালোলা লেখেন, ‘ইদ্রিস, আপনি কোথায় ছিলেন সেটি বড় কথা নয়, আপনি এখন কোথায় সেটি দেখুন।

‘আমি সব সময় বলি, সফলতা হচ্ছে যেখানে আপনার প্রস্তুতি এবং সুযোগ এক হয়ে যায়।

‘আশা করছি আমাদের দেখা হবে আরও শীর্ষ অবস্থানে।’

আরও পড়ুন:
‘স্লিপিং লেডি মাউন্টেন’ কোথায়
মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য আলাদা টিকার খবর অসত্য
থুতুমিশ্রিত চারা রোপণে ‘সুপারফুড’ হয় না ফল-সবজি
মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর খবর সত্য নয়
রোনালডো কার সঙ্গে হাত মেলাননি

শেয়ার করুন

হাঙ্গেরি-যুক্তরাষ্ট্রের কোলাজ, এক শহরের নয়

হাঙ্গেরি-যুক্তরাষ্ট্রের কোলাজ, এক শহরের নয়

এই কোলাজ ছবি ভিন্ন দুই শহরের, এক শহরের নয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

মূলত গাছ থাকা ও না থাকার কারণে একই শহরে একই সময়ে তাপমাত্রার যে ব্যাপক পার্থক্য হয়, তা বোঝানোই কোলাজটির মূল উদ্দেশ্য। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোলাজে ব্যবহার করা ছবি দুটি এক শহরের নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এক কোলাজ ছবি ভাইরাল হয়। এতে বলা হয়, এক শহরের দুই জায়গায় একই সময়ে ছবি দুটি তোলা হয়েছে।

ওপরের ছবিতে কোনো গাছ নেই আর নিচের ছবিতে রাস্তার দুধার বড় বড় গাছে ঢাকা।

যে ছবিতে গাছ নেই তাতে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস লেখা।

আর গাছ থাকা এলাকায় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে।

মূলত গাছ থাকা ও না থাকার কারণে একই শহরে একই সময়ে তাপমাত্রার যে ব্যাপক পার্থক্য হয়, তা বোঝানোই কোলাজটির মূল উদ্দেশ্য।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি-ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) ভাইরাল হওয়া কোলাজ ছবি নিয়ে অনুসন্ধান চালায়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রথম ছবি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহর থেকে নেয়া। আর অন্যটি হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের।

প্রথমে কোলাজের ওপরের ছবি নিয়ে অনুসন্ধান করে এএফডব্লিউএ। ছবির বাঁদিকে ‘ম্যাজিক ভ্যালি অটো পার্টস’ লেখা দোকানটি জুম করা হয়।

এরপর দোকানটির অবস্থান বের করতে গুগল ইমেজে অনুসন্ধান করা হলে একপর্যায়ে জানা যায়, ম্যাজিক ভ্যালি অটো পার্টস টুইন ফলসে অবস্থিত।

গুগল ইমেজে আরও অনুসন্ধান করে ইন্ডিয়া টুডের দল টুইন ফলসের তিনটি সবচেয়ে বাজে এলাকা নিয়ে লেখা একটি নিবন্ধের খোঁজ পায়। ২০১৭ সালের ২১ মার্চ নিবন্ধটি প্রকাশ হয়।

এরপর কোলাজের নিচের ছবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে এএফডব্লিউএ।

একপর্যায়ে হাউস অক্টোগন নামে এক হোটেলের ওয়েবসাইটে ওই ছবি পাওয়া যায়।

ওয়েবসাইটের ফটো গ্যালারির ‘হোটেলের চারপাশ’ অংশে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল।

হাউস অক্টোগন বুদাপেস্টের অভিজাত অক্টোগন এলাকার ইয়োতভস সড়কে অবস্থিত।

এতে পরিষ্কার হয়, কোলাজে ব্যবহার করা ছবি দুটি একই শহরের নয়। একটি যুক্তরাষ্ট্রের আর অন্যটি হাঙ্গেরির।

আরও পড়ুন:
‘স্লিপিং লেডি মাউন্টেন’ কোথায়
মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য আলাদা টিকার খবর অসত্য
থুতুমিশ্রিত চারা রোপণে ‘সুপারফুড’ হয় না ফল-সবজি
মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর খবর সত্য নয়
রোনালডো কার সঙ্গে হাত মেলাননি

শেয়ার করুন

ঘুমের আগে পানি-অ্যাসপিরিনে কি হৃদরোগের ঝুঁকি কমে

ঘুমের আগে পানি-অ্যাসপিরিনে কি হৃদরোগের ঝুঁকি কমে

হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক পথ্য হিসেবে অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও এটা প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছেন ড. পাইপস। বিশেষ করে হৃদরোগপূর্ব জটিলতায় ভুগছেন না, এমন ব্যক্তিদের জন্য তো একেবারেই নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানি ও অ্যাসপিরিন খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ পোস্টটি শেয়ার হয়েছে কয়েক লাখ বার।

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে নিয়মিত পানি পানের পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যবিদরা। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট সময়ে এ চর্চা স্বাস্থ্যে আলাদা প্রভাব ফেলে, এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ অটোয়া হার্ট ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন বিভাগের সাবেক প্রধান ড. অ্যান্ড্রু পাইপস।

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক পথ্য হিসেবে অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও এটা প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছেন ড. পাইপস। বিশেষ করে হৃদরোগপূর্ব জটিলতায় ভুগছেন না, এমন ব্যক্তিদের জন্য তো একেবারেই নয়।

পাইপস বলেন, ‘দিনে কিংবা রাতে যখনই হোক না কেন, প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়া মোটেই উচিত কাজ নয়। অ্যাসপিরিন খাওয়ার পর দেহ এর প্রভাবমুক্ত হতে সাত থেকে ১০ দিন সময় নেয়। শুনতে ভালো লাগলেও প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়ার কোনো বাস্তব কার্যকারিতা নেই।’

স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে আলোচনার জন্য বেশ জনপ্রিয় ইস্যু। এসবের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ অন্যতম। বিশেষ করে সহজে ও ন্যূনতম খরচে হৃদরোগের ঝুঁকিমুক্ত থাকার উপায় হিসেবে পানি পান আর অ্যাসপিরিন সেবনকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছেন অনেক মানুষ।

ঘুমের আগে পানি-অ্যাসপিরিনে কি হৃদরোগের ঝুঁকি কমে
ফেসবুকে ছড়ানো হৃদরোগের ঝুঁকি এড়ানোবিষয়ক ভুয়া পোস্ট। ছবি: এএফপি

ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট ভাইরাল হওয়ার আগে অবশ্য ভ্রান্ত এ ধারণাটি ছড়িয়েছে ই-মেইলের মাধ্যমে। এর প্রভাব এতটাই যে কানাডায় বোতলজাত পানি উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমা প্রতিষ্ঠানও নিজ গ্রাহকদের প্রতিদিন ঘুমানোর আগে পানি পানের পরামর্শ দিয়েছে।

এ ধরনের যত পোস্ট আছে, সবগুলোতেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান মায়ো ক্লিনিকের কর্মকর্তা ড. ভিরেন্দ সমার্সের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে বলা হয়েছে, আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজির জার্নালে ২০০৮ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদনের কথা।

বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই গবেষণা প্রতিবেদনটির লেখক ড. সমার্স নন। গবেষণায় তার কোনো ভূমিকাও নেই। গবেষণা প্রতিবেদনটিতে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রতিরোধে পানি পান বা অ্যাসপিরিন খাওয়ার বিষয়ে কিছু উল্লেখও নেই।

মূলত ঘুমানোর সময় থেমে থেমে শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতায় ভোগা রোগীদের নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে। এতে রাতে হৃৎপিণ্ডে হঠাৎ রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে কথা বলা হয়েছে।

ভুয়া পোস্টের দাবি জোরদারে মায়ো ক্লিনিকের এক চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করার বিষয়টি জানতে পেরে এ বিষয়ে সতর্ক করে পরে একটি বিবৃতিও দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এতে বলা হয়, ‘ভুল ও সম্ভবত ক্ষতিকর যে তথ্যটি ই-মেইলের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তাতে মায়ো ক্লিনিক বা ড. সমার্সের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

নির্দিষ্ট সময়ে পানি পানের উপকারিতা আছে?

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে অবস্থিত ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের কার্ডিওভাস্কুলার সার্জন ড. মার্ক গিলিনভ দিনের নির্দিষ্ট সময়ে পানি পানের উপযোগিতার বিষয়টি পরীক্ষা করেছেন।

কোমল পানীয়র পরিবর্তে পানি পানের পরামর্শ তার। তিনি লিখেছেন, ‘কখন পানি পানে কী হয়, এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তাই এমন কোনো দাবির ওপর নির্ভর করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।’

এ ছাড়া ২০০২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন পাঁচ গ্লাস বা তার বেশি পানি পান করলে প্রাণঘাতী হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। দিনে দুই গ্লাস বা এর কম পানি পান করলে এ ঝুঁকি বেশি।

ওই গবেষণাতেও দিনের বা রাতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পানি পানের উপযোগিতা নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

হৃদরোগে অ্যাসপিরিনের ব্যবহার

হৃদরোগসংক্রান্ত কোনো জটিলতা অতীতে ছিল বা বর্তমানে আছে, এমন ব্যক্তিদের প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়ার পরামর্শ প্রায়ই দেন চিকিৎসকরা।

কিন্তু তাই বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন ব্যক্তিদেরও নিজ বুদ্ধিতে দৈনিক অ্যাসপিরিন খাওয়া উচিত নয় বলেও সতর্ক করেন তারা।

২০১৯ সালের অক্টোবরে ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালবার্টার ফ্যাকাল্টি অফ মেডিসিনের প্রকাশ করা এক গবেষণায় বলা হয়, যাদের কখনো এমন কোনো জটিলতা ছিল না বা নেই, তারা প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খেলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি।

এ ধরনের রোগীদের প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়া থেকে বিরত থাকার ওপরই জোর দেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন:
‘স্লিপিং লেডি মাউন্টেন’ কোথায়
মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য আলাদা টিকার খবর অসত্য
থুতুমিশ্রিত চারা রোপণে ‘সুপারফুড’ হয় না ফল-সবজি
মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর খবর সত্য নয়
রোনালডো কার সঙ্গে হাত মেলাননি

শেয়ার করুন

বৈধ হচ্ছে না বিটকয়েন

বৈধ হচ্ছে না বিটকয়েন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত নয়। আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে বিটকয়েনসহ যে কোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন অথবা এ রকম কাজে সহায়তা প্রদান ও প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেনকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ বলে আবারও উল্লেখ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ধরনের মুদ্রাগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈধতা দিতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মধ্যে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বিষয়টি উড়িয়ে দিল আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার জনস্বার্থে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে, বলা হয়েছে, ‘ভার্চুয়াল মুদ্রা ঝুঁকিপূর্ণ, বৈধ নয়; লেনদেনে বিরত থাকুন।’

বিটকয়েন বা অন্যান্য ভার্চুয়াল মুদ্রা নিয়ে সিআইডির কাছে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করতে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ বা লেনদেন স্বীকৃত না হলেও এটিকে অপরাধ বলার সুযোগ নেই।

এ-সংক্রান্ত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রা (ক্রিপ্টোকারেন্সি) বিষয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। একটি নির্দিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার গোপনীয় ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পত্রের মাধ্যমে পাঠানো মতামতের অংশবিশেষ কোনো কোনো পত্রিকায় খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।’

সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনের পাশাপাশি সব ধরনের প্রচার-প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়েছে, ‘কোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত নয়। সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রায় (যেমন বিটকয়েন, ইথারিয়াম, রিপল ইত্যাদি) লেনদেন অথবা এরূপ কার্যে সহায়তা প্রদান ও এতৎসংক্রান্ত প্রচারণা হতে বিরত থাকার জন্য সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।’

ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যমে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। সেখানে যে অবস্থান বাংলাদেশ ব্যাংকের ছিল, এখনও তাই রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এ প্রসঙ্গে সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে পুনরায় জানানো যাচ্ছে, যেকোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা/ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত নয়।’

বৈধ হচ্ছে না বিটকয়েন
আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৭ সালের ডিসেম্বরেই বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বিটকয়েন জাতীয় মুদ্রাগুলো বৈধ নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিবিধ বিনিময় প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হচ্ছে। এসব ভার্চুয়াল মুদ্রা কোনো দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ মুদ্রা নয় বিধায় এর বিপরীতে কোনো আর্থিক দাবির স্বীকৃতও থাকে না। এসব মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত নয় বিধায় এসব ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর দ্বারা সমর্থিত হয় না।

‘অনলাইনে নামবিহীন/ছদ্মনামিক প্রতিসঙ্গীর সঙ্গে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ-সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।’

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছিল, অনলাইনভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রায় অর্থমূল্য পরিশোধ ও নিষ্পত্তি সংঘটিত হয় এবং এটি কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ কতৃর্পক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত নয়। এ কারণে গ্রাহকরা ভার্চুয়াল মুদ্রার সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

গত ১৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সহকারী পরিচালক শফিউল আজম এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি সিআইডিকে পাঠান। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনের ফলে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২- এর আওতায় অপরাধ হতে পারে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিআইডি এ নিয়ে অনুসন্ধান করতে পারে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচা ও এ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সিআইডি এমন দুটি মামলার তদন্ত করছে। এর সূত্র ধরেই সংস্থাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে মতামত চায়।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির সংখ্যা এখন আট হাজারের বেশি। এগুলোর মধ্যে বিটকয়েন সবচেয়ে বেশি পরিচিত। ১ বিটকয়েনের বর্তমান দর ৩৩ হাজার ডলারের বেশি। ২০০৮ সালে এই মুদ্রা উদ্ভাবনের পর বিশ্বের কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ এই মুদ্রাকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে জাপান, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো কয়েকটি দেশ এই মুদ্রায় লেনদেনকে বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘স্লিপিং লেডি মাউন্টেন’ কোথায়
মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য আলাদা টিকার খবর অসত্য
থুতুমিশ্রিত চারা রোপণে ‘সুপারফুড’ হয় না ফল-সবজি
মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর খবর সত্য নয়
রোনালডো কার সঙ্গে হাত মেলাননি

শেয়ার করুন