থুতুমিশ্রিত চারা রোপণে ‘সুপারফুড’ হয় না ফল-সবজি

থুতুমিশ্রিত চারা রোপণে ‘সুপারফুড’ হয় না ফল-সবজি

২৯ জুনের একটি গ্রাফিক পোস্টে লেখা হয়, ‘কোনো ফল বা সবজির বীজে নিজের থুতু বা লালা লাগিয়ে তা রোপণ করলে জাদু দেখবেন। ওই বীজটি থুতু বা লালার মাধ্যমে আপনার ডিএনএ শনাক্ত করতে পারবে এবং সে অনুযায়ী নিজের জেনেটিক নকশা পাল্টে আপনার জন্য পরিণত হয়ে উঠবে সুপারফুড হিসেবে। দেহের ডিএনএতে যেসব ঘাটতি রয়েছে, এই সুপারফুড তা পূরণ করবে।’

প্রতিদিন একটি আপেল খেলে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হতেই পারে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষমাত্রই জানেন, খাদ্যের এ তালিকায় আরও আছে ব্লুবেরি, বাঁধাকপিসহ ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত অনেক ফল-সবজি।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগ ঠেকাতে এসব খাবার সাহায্য করে বলে বিভিন্ন সময় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কিন্তু নিজের জন্য বিশেষ পুষ্টিগত প্রয়োজন মেটাতে ফল কিংবা সবজিটি উৎপাদনে আপনি যখন ভিন্ন প্রক্রিয়ার সাহায্য নেবেন, তখন কী হবে?

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, এভাবে ফল বা সবজিটির পুষ্টিগুণ বাড়ানো সম্ভব।

২৯ জুনের একটি গ্রাফিক পোস্টে লেখা হয়, ‘কোনো ফল বা সবজির বীজে নিজের থুতু বা লালা লাগিয়ে তা রোপণ করলে জাদু দেখবেন।

‘ওই বীজটি থুতু বা লালার মাধ্যমে আপনার ডিএনএ শনাক্ত করতে পারবে এবং সে অনুযায়ী নিজের জেনেটিক নকশা পাল্টে আপনার জন্যে পরিণত হয়ে উঠবে সুপারফুড হিসেবে। আপনার দেহের ডিএনএতে যেসব ঘাটতি রয়েছে, এই সুপারফুড তা পূরণ করবে।’

ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেসবুকে এ রকম একটি পোস্ট প্রথম প্রকাশ হয় ২০২০ সালের জুলাইয়ে। সে সময় এই গ্রাফিক্সটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হয়েছে সাড়ে চার হাজারেরও বেশিবার।

যারা পোস্টটি শেয়ার করেছেন, তাদের অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করেছে ইউএসএ টুডে।

অনেকেই জানিয়েছেন, বিষয়টিতে বিশ্বাস করে এ প্রক্রিয়ায় বীজ রোপণ করেছেন তারা। অনেকের আবার বিষয়টি মনঃপুত হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এমন দাবি একেবারেই সঠিক নয়।

গাছে জেনেটিক পরিবর্তন অসম্ভব বা অবিশ্বাস্য কিছু নয়। কিন্তু তাই বলে অন্যের পুষ্টির প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে সে অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে জিনগত পরিবর্তন কোনো চারা বা গাছের পক্ষে সম্ভব নয়। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই।

গাছে জিনগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অনেক জটিল ও দীর্ঘ। স্রেফ বীজে থুতু ছিটিয়ে এটি সম্ভব নয়।

ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে কিংবা ‘জিন গান’ নামক একটি যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে চারায় জিনের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জিনগত পরিবর্তন আনতে হয়।

কর্নেল ইউনিভার্সিটির মলিকিউলার বায়োলজিস্ট ও মলিকিউলার বায়োলজি ও জেনেটিক বিভাগের অধ্যাপক মরিন হ্যানসন বলেন, ‘কোনো গাছে মানুষের জিন প্রতিস্থাপন করা হলে গাছটি ডিএনএর সঙ্গে পরিচিত হয় এবং একে আমিষে পরিণত করে।

‘কিন্তু বীজে থুতু দিয়ে সেটিতে জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে একে অতি পুষ্টিকর খাদ্যে রূপ দেয়ার বিষয়টি স্রেফ ভাঁওতাবাজি।’

ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডার হর্টিকালচার বিজ্ঞানের অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ হ্যারি ক্লি জানান, মানুষের ডিএনএ গায়ে লাগিয়ে নিজের মধ্যে জিনগত পরিবর্তন আনার সক্ষমতা কোনো গাছেরই নেই।

তার মতে, ফেসবুকে ছড়ানো পোস্টের বেশ কয়েকটি ত্রুটিপূর্ণ তথ্য আছে। শুধু যে জিনগত পরিবর্তনের বিষয়টি ভুয়া, তা-ই নয়, পুষ্টির ঘাটতিও জিনগত বিষয় নয়। এটি খাদ্যাভ্যাসের বিষয়।

হ্যারি ক্লি বলেন, ‘আপনার দেহ কোনো ধরনের অপুষ্টিতে ভুগলে এর সঙ্গে ডিএনএর কোনো সমস্যা নেই। কী খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে আপনার শরীরে পুষ্টি কম-বেশি হবে।

‘আর ডিএনএর মাধ্যমে আপনার দেহের তথ্য গাছের কাছে পৌঁছে দেয়া তো শুরুতেই বাদ দিন।’

ক্লি জানান, বিপাকক্রিয়া সংশ্লিষ্ট কিছু কিছু সমস্যায় মানুষ বংশানুক্রমে ভুগতে পারে। এর একটি বিরল ফেনিলকিটোনুরিয়া রোগ। এ রোগে শরীরে অ্যামিনো অ্যাসিড ফেনিলালানাইন জমাট বাঁধে।

কিন্তু এ ধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণে খুব বিশেষায়িত খাদ্যাভ্যাস, সম্পূরক পুষ্টি ও বিভিন্ন ভেষজ চিকিৎসার দরকার হয়।

আরও পড়ুন:
মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর খবর সত্য নয়
রোনালডো কার সঙ্গে হাত মেলাননি
'জনসংখ্যা হ্রাসে মহামারির নাটক' সত্য নয়
‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়
পাখিটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য