ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহর জমিতে নয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহর জমিতে নয়

বলা হয়ে থাকে, নবাব সলিমুল্লাহ ৬০০ একর জমি দিয়েছেন। আমি নিজেই এটা নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি৷ কেউ কেউ বলেছে, কলকাতা কমিশন রিপোর্টের মধ্যে এটি উল্লেখ আছে। আমি সেই রিপোর্টটিও আদ্যোপান্ত দেখেছি। কোথাও এ ধরনের কোনো তথ্য নেই: ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার জমিতে, এ নিয়ে ব্যাপকভাবে চালু একটি প্রচার হচ্ছে, নওয়াব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ দান করেছেন এই জমি। তবে এর ঐতিহাসিক কোনো তথ্যপ্রমাণ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নবাব পরিবারের জমি দান নিয়ে দুটি মত প্রচলিত আছে। প্রথমটি হলো, নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর ৬০০ একর জমির ওপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় মতটি উল্টো। সেটি হলো, দান করার মতো জমি নওয়াব পরিবারের ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তার অধিকাংশই সরকারি খাসজমি।

তবে তথ্য বলছে, ১৯২১ সালে দেশের প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জন্মের ছয় বছর আগে ১৯১৫ সালে মারা যান সলিমুল্লাহ। আর তার মৃত্যুর আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন নিয়েই অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

তবে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আলোচনার সময় নওয়াব সলিমুল্লাহর ভূমিকার সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ মেলে।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের ঘোষণার পর যখন পরিকল্পনা রদ করা হয়, তখন ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ।

তবে ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। যদিও এর তিন বছর পর ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশন ইতিবাচক মত দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইনসভা পাস করে ‘দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং ১৩) ১৯২০।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহর জমিতে নয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল। ছবি: ফেসবুক

এটিই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি। আর ১৯২১ সালের ১ জুলাই ৮৪৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।

এবার ১০০ বছর পূর্তিতেও আবার সেই পুরোনো আলোচনা উঠে এসেছে যে, নওয়াব সলিমুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি দিয়েছিলেন কি না।

এই মতটি বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক যে ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ আছে, তাতেও খুব জোরালোভাবে তুলে ধরছেন কেউ কেউ। বলা হয়, ‘কলকাতা কমিশন রিপোর্টে’ নাকি সলিমুল্লাহর জমি দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে।

তবে এই কমিশনের রিপোর্ট পুরোটা পড়েও এই তথ্যের কিছুই পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খান।

‘এটা শুধুই গল্প’

সিদ্দিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বলা হয়ে থাকে, নবাব সলিমুল্লাহ ৬০০ একর জমি দিয়েছেন। আমি নিজেই এটা নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি৷ কেউ কেউ বলেছে, কলকাতা কমিশন রিপোর্টের মধ্যে এটি উল্লেখ আছে। আমি সেই রিপোর্টটিও আদ্যোপান্ত দেখেছি। কোথাও এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন প্রতিষ্ঠা হয়, তখন সলিমুল্লাহ বেঁচেই ছিলেন না। জমি দান করার বিষয়টা একটা গল্প।’

তিনি জানান, ১৯০৫ সালে পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশ যখন হয়, সে সময় এখন যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত যে জায়গাগুলো আছে, এগুলো সরকার আগেই অধিগ্রহণ করে নিয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহর জমিতে নয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্য। ফাইল ছবি

‘সাধারণত অধিগ্রহণ করলে যাদের জমি তাদের টাকাপয়সা দিতে হয়। সেভাবেই সরকার এই জায়গাগুলো দখল করে নিয়েছিল। তাই যখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এ জায়গাগুলো সলিমুল্লাদের ছিল না৷ ফলে ৬০০ একর জমি দেয়া এটি একটি গল্প’- বলেন ইসলামের ইতিহাসের এই অধ্যাপক।

সলিমুল্লাহকে নিয়ে চলা প্রচার খতিয়ে দেখতে কাজ করা এই অধ্যাপক বলেন, ‘এ ধরনের মিথ বা গল্প তৈরি করে সলিমুল্লাহকে বড় করতে হবে না। এটা ছাড়াও সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক ভূমিকা রেখেছেন৷’

কী ভূমিকা, তার ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘লর্ড হার্ডিঞ্জ বা সরকারকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে রাজি করানোর ক্ষেত্রে প্রাথমিক প্রয়াসটা ওনারই ছিল৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রারম্ভিক পর্যায়ে নাথান কমিশন গঠন এবং যত দিন তিনি জীবিত ছিলেন এটিকে এক্সপাডাইস করা এটিই হলো ওনার বড় কন্ট্রিবিউশন। এটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই৷ ওনার নামে হলের যে নামকরণ, প্রারম্ভিক পর্যায়ের তার অবদানকে বিবেচনা করেই এটি করা হয়েছে।’

একই বিভাগের অন্য অধ্যাপক আতাউর রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘নবাব সলিমুল্লাহ সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জমি দেননি। তিনি পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য জমিগুলো দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে সরকার দলিল ছাড়াই এ জমিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়। তবে স্বাধীনতার অনেক পরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের কাছ থেকে কিছু জায়গার দলিল নিয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো তথ্যই নেই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পার হলেও কাদের জমির ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত, সেটি নিয়ে অস্পষ্টতা দূর করতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। কোনো তথ্য নেই কোনো বিভাগে। যদিও শিক্ষার্থীদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্যে আছে নানা মত।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানও কিছু বলতে পারেননি। নিউজবাংলার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মত থাকবে। ভালো করে গবেষণা করে এটি বের করতে হবে।’

তবে এই গবেষণার উদ্যোগ কেউ নেবে কি না, এই বিষয়টি কেউ বলতে পারেননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহর জমিতে নয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি

সরদার ফজলুল করিম ও অধ্যাপক রাজ্জাকের কথোপকথন

সরদার ফজলুল করিম রচিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ: অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক-এর আলাপচারিতা ও অন্যান্য’ শীর্ষক বইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির মালিকানা নিয়েও আলাপচারিতা আছে।

সরদার ফজলুল করিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সলিমুল্লাহ হল নিয়ে জানতে চান জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের কাছে।

প্রশ্ন করা হয়, ‘স্যার, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলমান ছাত্রদের প্রথম ছাত্রাবাসের নাম যে সলিমুল্লাহ হল রাখা হলো, এর কারণ কী? এতে নওয়াব পরিবারের কি কোনো আর্থিক কন্ট্রিবিউশন ছিল?’

উত্তরে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আদৌ কোনো কন্ট্রিবিউশন ছিল না। আবদুল্লাহ সোহরাওয়ার্দী লেখাপড়ায় ব্রিলিয়ান্ট ছিল। তারা আহসান মঞ্জিলের টাকায় লেখাপড়া করেছে। তারা সলিমুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করত। ঢাকা ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার প্রায় ১০ বছর পরে তার একটা মৃত্যুবার্ষিকীতে তার নামে একটা ছাত্রাবাস করার প্রস্তাব তারা করেন।’

এই বইয়ে উল্লেখ আছে, “আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কোনো মুসলমান ধনীর কাছ থেকেই ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডাইরেক্টলি কোনো ফাইন্যান্সিয়াল কন্ট্রিবিউশন পায় নাই’।”

‘সলিমুল্লাহ হল যে তৈরি হলো তা পুরোই সরকারের টাকায়। নওয়াব পরিবারের টাকায় নয়; জায়গাতেও নয়। রমনায় যে জায়গায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি, তা পুরোটাই খাসমহল এবং সরকারের জমি। সেটেলমেন্ট রিপোর্টে তাই আছে।’

ঢাকার নওয়াবদের ভূসম্পত্তির উৎস কী?- এমন প্রশ্নে আব্দুর রাজ্জাক বলন, ‘ঢাকার নওয়াবদের জমিজমা এসেছে প্রধানত একটি সূত্রে থেকে। ঢাকার স্থানীয় মুসলমানরা কোনো কোনো সম্পত্তি নওয়াব আবদুল গণি ও আহসানউল্লাহকে ওয়াক্‌ফ করে দিয়ে যেত। ঢাকার নবাবদের জমির উৎস এই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহর জমিতে নয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল। ফাইল ছবি

‘তা-ও বেশ কিছু জায়গাজমি নয়। এটার ভেরিফিকেশন তো সোজা। ইন্টারেস্টেড যে কেউ ঢাকা কালেক্টরেটে গিয়ে দেখে আসতে পারেন। কাজেই নবাব পরিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জমি দেবে, এমন জমি কোথায় ছিল? আহসান মঞ্জিলের কোনো জমি ছিল না।’

ভিন্ন মত, তবে তথ্য সুনির্দিষ্ট নয়

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন মনে করেন, সলিমুল্লাহ জমি দান করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল যে ক্যাম্পাস, সেটা ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ দিয়েছেন। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ এ জমিকে সুরক্ষা দিতে পারেনি। কাঁটাবনে যে মসজিদটি আছে, এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা৷ এটি জবরদখল করা জায়গা৷

‘জবরদখল জায়গা হওয়ার জন্যই এখানে কোনো জুমার নামাজ হতে পারে না। এলিফ্যান্ট রোডের দোকানদাররা ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়বে বলে একটা বেড়ার ঘর বানিয়ে নামাজ পড়েছিল৷ তারপর এটিকে জামায়াতে ইসলামী দখল করে মিশন মসজিদ বানিয়ে ফেলেছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাহস হয়নি ওদের উৎখাত করার৷

‘বেইলি রোড, মিন্টো রোড, এখন যেখানে মন্ত্রী-সচিবরা থাকেন, এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাড়িগুলো ছিল। ’৪৭-এ এগুলোও বেহাত হয়ে যায়৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কখনো সাহস হয়নি এগুলো দখল করার।’

তবে সলিমুল্লাহর জমি দানের তথ্যটি কোথায় পেয়েছেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি এই অধ্যাপক।

আর জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান, অধ্যাপক আতাউর রহমান বিশ্বাসের যে অনুসন্ধান, সে বিষয়ে প্রশ্ন করার আগেই ‘ধন্যবাদ’ বলে ফোন রাখেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

আরও পড়ুন:
‘গৌরবগাথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি ঢাবির’
ঢাবির পরিবহন ও আবাসিক ফি মওকুফ
ঢাবি থেকে ডিগ্রি পেলেন ৫৫ গবেষক
ছাত্রলীগের অবস্থান: ঢাবির ২ হলে মধ্যরাতে প্রশাসনের অভিযান
মাদক: ঢাবি থেকে পাঁচ বহিরাগত আটক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

টিকা না নিলে ক্যাম্পে আটকে রাখতে বলেননি বাইডেন

ভাইরাল হওয়া এই বার্তা ব্যঙ্গাত্মক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট। আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এই ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রভাবে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভাইরাসটির ফের ব্যাপক সংক্রমণ দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

এমন পরিস্থিতিতে ভাইরাল হওয়া এক বার্তায় দাবি করা হয়েছে, টিকা না নিলে কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে বন্দি করে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) এ দাবির সত্যতা অনুসন্ধান করে।

এতে দেখা যায়, ভাইরাল বার্তাটি ব্যঙ্গাত্মক এক নিবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ জুন ‘দ্য স্টঙ্ক মার্কেট’ নামের এক ওয়েবসাইটে নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশ হয়।

নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘২০২২ সালের মধ্যে টিকা না নেয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।’

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেসব নাগরিক টিকা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে পুরবেন বাইডেন।

‘অনির্দিষ্টকাল ধরে তাদের ক্যাম্পেই আটকে রাখা হবে। টিকা নিলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।’

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বাইডেন এ সিদ্ধান্ত নেন বলেও নিবন্ধটিতে উল্লেখ করা হয়।

নিজেদের পরিষ্কারভাবে ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই দাবি করে দ্য স্টঙ্ক মার্কেট ওয়েবসাইট।

ওয়েবসাইটের হোমপেজের নিচের অংশে বলা হয়েছে, ‘দ্যস্টঙ্কমার্কেট.কম আর্থিকবিষয়ক ব্যঙ্গাত্মক সাইট।

‘আর্থিক শিল্প, শেয়ারবাজার, হেজ ফান্ড ও বৈশ্বিক বাজার নিয়ে ব্যঙ্গাত্মকধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করাই এ ওয়েবসাইটের লক্ষ্য।’

করোনার ডেল্টা ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য সংস্থা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) দেশটির স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা নেয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেছে।

পাশাপাশি টিকা নেয়া ব্যক্তিদেরও চার দেয়ালের ভেতর যেকোনো জনসমাগমস্থলে মাস্ক পরার নির্দেশনা জারি করেছে সিডিসি।

এর আগে চার দেয়ালের ভেতর টিকা নেয়া ব্যক্তিদের মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই বলে নিজেদের নির্দেশনায় বলেছিল সংস্থাটি।

তবে করোনার ডেল্টা ধরনের প্রকোপে নির্দেশনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় সিডিসি।

বিশেষজ্ঞদের বরাতে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়, করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় বাধ্যতামূলক টিকা নীতি যৌক্তিক পদক্ষেপ হতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত নাগরিকদের জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক করেনি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
‘গৌরবগাথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি ঢাবির’
ঢাবির পরিবহন ও আবাসিক ফি মওকুফ
ঢাবি থেকে ডিগ্রি পেলেন ৫৫ গবেষক
ছাত্রলীগের অবস্থান: ঢাবির ২ হলে মধ্যরাতে প্রশাসনের অভিযান
মাদক: ঢাবি থেকে পাঁচ বহিরাগত আটক

শেয়ার করুন

সিকিউরিটি গার্ড থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা যেভাবে

সিকিউরিটি গার্ড থেকে ব্যাংক কর্মকর্তা যেভাবে

নাইজেরিয়ায় ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী থেকে কর্মকর্তা হওয়া ইদ্রিসের সঙ্গে আরেক কর্মকর্তা বাবালোলা। ছবি: ফেসবুক

ব্যাংক কর্মকর্তা বাবালোলা লেখেন, ‘আমি দুটি ছবি দিয়েছি, এর একটি ইদ্রিসের ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে ছিল শেষ দিন। দিনটি ছিল শুক্রবার। পরের আরেকটি ছবি, যেটি সোমবার তোলা; সেদিন ইদ্রিস কর্মকর্তা হিসেবে ওই একই শাখায় যোগ দিয়েছেন।’

কয়েক দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটারসহ আরও কিছু মাধ্যমে একটি খবর শেয়ার হতে দেখা যাচ্ছে।

নাইজেরিয়ার এক ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী সেই ব্যাংকের কর্মকর্তা হয়েছেন। বিষয়টিকে খুব ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের অনুপ্রেরণামূলক কথা লিখছেন।

দেশে বিষয়টি হঠাৎ করেই ভাইরাল হয়েছে। মাধ্যমগুলোতে বিষয়টি শেয়ার করা ব্যক্তিরা ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীর ভাগ্য কীভাবে মুহূর্তেই পরিবর্তন হয়েছে কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ে সেটি বলতেও ভুলছেন না।

ভাইরাল হওয়া ছবি ও কনটেন্টের সত্যতা জানার চেষ্টা করে নিউজবাংলা। ইন্টারনেটের সহায়তায় বেশ কিছু নিউজ লিংক পাওয়া যায় ঘটনাটির।

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার সেই ঘটনা বর্ণনা করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা। আইয়োমাইড বাবালোলা মি নামের ওই কর্মকর্তা ফেসবুকে ঘটনাটি জানান।

নাইজেরিয়ার নিউজপোর্টাল নেপচুনপ্রাইম ডটকমে ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি নিয়ে একটি খবর প্রকাশ হয়।

সেখানে বাবলোলা লেখেন, নিরাপত্তাকর্মী ইদ্রিস তাকে বলেছিলেন তার ওএনডি সার্টিফিকেট রয়েছে।

বাবলোলা বলেন, ‘নিরাপত্তাকর্মী তার চাকরির নিশ্চয়তা চাচ্ছিলেন। সে জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তার খালি পদে নিয়োগের ব্যাপারে তাকে আমি সহায়তা করার কথা জানাই। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নেয়া হয়।‘

পরের এক সপ্তাহের ঘটনা বর্ণনা করেন বাবালোলা। তিনি লেখেন, ‘এক সপ্তাহের ঘটনা পুরোটাই অলৌকিক মনে হবে।’

এরপর এক সপ্তাহের ঘটনা তিনি শেয়ার করেন।

‘২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আমি এক্সওয়াইজেড শাখায় কাজ শুরু করি। আমি সেদিন থেকেই ইদ্রিসকে লক্ষ্য করে আসছি।

‘আপনি কখনোই তার স্মার্টনেসকে এবং তার সেনাসদস্যের মতো গ্রাহক ও কমকর্তাদের স্যালুট দেয়াকে হেলা করতে পারবেন না।’

কয়েক মাস পরে ইদ্রিস আমাকে অনুরোধ করেন তার কিছু কথা শোনার। তিনি বলেন, ‘আমার ওএনডি সার্টিফিকেট রয়েছে এবং আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি নেয়ার জন্য পার্টটাইম পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি।

‘আমি তার কথা শুনে খুব অভিভূত হই এবং তাকে উৎসাহিত করি।’

‘২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আমাদের এক কর্মকর্তার পদন্নোতি হয় এবং অন্য স্থানে বদলি হন। এরপর সেই পদ খালি হলে ইদ্রিস আমাকে এসে তার আগ্রহের কথা জানান। সেই পদের জন্য তিনি যোগ্য বলেও জানান। আমার অন্যতম লক্ষ্য ছিল একটি ভালো দল তৈরি করা।

‘এরপর থেকে আমি এই শাখার সব নিরাপত্তাকর্মীর সেশন নেয়া শুরু করি। তাদের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানাই। এতে তারা আরও স্মার্ট হয়ে ওঠেন এবং আমরা আমাদের কেপিআই পূরণ করতে সক্ষম হই।’

বাবালোলা বলেন, ‘এরপর আমাদের শাখায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়, সেখানে ইদ্রিস আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষাও নেয়া হয়। তারপর মৌখিক পরীক্ষা। সবই করা হয় এক সপ্তাহের মধ্যে। সেখানে ইদ্রিস প্রথম স্থান লাভ করেন।

‘আমি দুটি ছবি দিয়েছি, এর একটি ইদ্রিসের ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে ছিল শেষ দিন। দিনটি ছিল শুক্রবার। পরের আরেকটি ছবি, যেটি সোমবার তোলা; সেদিন ইদ্রিস কর্মকর্তা হিসেবে ওই একই শাখায় যোগ দিয়েছেন।’

এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। এর কিছুদিন পর বাবালোলাকে সেই ব্যাংক থেকে অন্য আরেক শাখায় বদলি করা হয়।

বাবালোলা লেখেন, ‘ইদ্রিস, আপনি কোথায় ছিলেন সেটি বড় কথা নয়, আপনি এখন কোথায় সেটি দেখুন।

‘আমি সব সময় বলি, সফলতা হচ্ছে যেখানে আপনার প্রস্তুতি এবং সুযোগ এক হয়ে যায়।

‘আশা করছি আমাদের দেখা হবে আরও শীর্ষ অবস্থানে।’

আরও পড়ুন:
‘গৌরবগাথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি ঢাবির’
ঢাবির পরিবহন ও আবাসিক ফি মওকুফ
ঢাবি থেকে ডিগ্রি পেলেন ৫৫ গবেষক
ছাত্রলীগের অবস্থান: ঢাবির ২ হলে মধ্যরাতে প্রশাসনের অভিযান
মাদক: ঢাবি থেকে পাঁচ বহিরাগত আটক

শেয়ার করুন

হাঙ্গেরি-যুক্তরাষ্ট্রের কোলাজ, এক শহরের নয়

হাঙ্গেরি-যুক্তরাষ্ট্রের কোলাজ, এক শহরের নয়

এই কোলাজ ছবি ভিন্ন দুই শহরের, এক শহরের নয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

মূলত গাছ থাকা ও না থাকার কারণে একই শহরে একই সময়ে তাপমাত্রার যে ব্যাপক পার্থক্য হয়, তা বোঝানোই কোলাজটির মূল উদ্দেশ্য। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোলাজে ব্যবহার করা ছবি দুটি এক শহরের নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এক কোলাজ ছবি ভাইরাল হয়। এতে বলা হয়, এক শহরের দুই জায়গায় একই সময়ে ছবি দুটি তোলা হয়েছে।

ওপরের ছবিতে কোনো গাছ নেই আর নিচের ছবিতে রাস্তার দুধার বড় বড় গাছে ঢাকা।

যে ছবিতে গাছ নেই তাতে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস লেখা।

আর গাছ থাকা এলাকায় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে।

মূলত গাছ থাকা ও না থাকার কারণে একই শহরে একই সময়ে তাপমাত্রার যে ব্যাপক পার্থক্য হয়, তা বোঝানোই কোলাজটির মূল উদ্দেশ্য।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি-ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) ভাইরাল হওয়া কোলাজ ছবি নিয়ে অনুসন্ধান চালায়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রথম ছবি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহর থেকে নেয়া। আর অন্যটি হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের।

প্রথমে কোলাজের ওপরের ছবি নিয়ে অনুসন্ধান করে এএফডব্লিউএ। ছবির বাঁদিকে ‘ম্যাজিক ভ্যালি অটো পার্টস’ লেখা দোকানটি জুম করা হয়।

এরপর দোকানটির অবস্থান বের করতে গুগল ইমেজে অনুসন্ধান করা হলে একপর্যায়ে জানা যায়, ম্যাজিক ভ্যালি অটো পার্টস টুইন ফলসে অবস্থিত।

গুগল ইমেজে আরও অনুসন্ধান করে ইন্ডিয়া টুডের দল টুইন ফলসের তিনটি সবচেয়ে বাজে এলাকা নিয়ে লেখা একটি নিবন্ধের খোঁজ পায়। ২০১৭ সালের ২১ মার্চ নিবন্ধটি প্রকাশ হয়।

এরপর কোলাজের নিচের ছবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে এএফডব্লিউএ।

একপর্যায়ে হাউস অক্টোগন নামে এক হোটেলের ওয়েবসাইটে ওই ছবি পাওয়া যায়।

ওয়েবসাইটের ফটো গ্যালারির ‘হোটেলের চারপাশ’ অংশে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল।

হাউস অক্টোগন বুদাপেস্টের অভিজাত অক্টোগন এলাকার ইয়োতভস সড়কে অবস্থিত।

এতে পরিষ্কার হয়, কোলাজে ব্যবহার করা ছবি দুটি একই শহরের নয়। একটি যুক্তরাষ্ট্রের আর অন্যটি হাঙ্গেরির।

আরও পড়ুন:
‘গৌরবগাথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি ঢাবির’
ঢাবির পরিবহন ও আবাসিক ফি মওকুফ
ঢাবি থেকে ডিগ্রি পেলেন ৫৫ গবেষক
ছাত্রলীগের অবস্থান: ঢাবির ২ হলে মধ্যরাতে প্রশাসনের অভিযান
মাদক: ঢাবি থেকে পাঁচ বহিরাগত আটক

শেয়ার করুন

ঘুমের আগে পানি-অ্যাসপিরিনে কি হৃদরোগের ঝুঁকি কমে

ঘুমের আগে পানি-অ্যাসপিরিনে কি হৃদরোগের ঝুঁকি কমে

হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক পথ্য হিসেবে অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও এটা প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছেন ড. পাইপস। বিশেষ করে হৃদরোগপূর্ব জটিলতায় ভুগছেন না, এমন ব্যক্তিদের জন্য তো একেবারেই নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানি ও অ্যাসপিরিন খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ পোস্টটি শেয়ার হয়েছে কয়েক লাখ বার।

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে নিয়মিত পানি পানের পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যবিদরা। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট সময়ে এ চর্চা স্বাস্থ্যে আলাদা প্রভাব ফেলে, এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ অটোয়া হার্ট ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন বিভাগের সাবেক প্রধান ড. অ্যান্ড্রু পাইপস।

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক পথ্য হিসেবে অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও এটা প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছেন ড. পাইপস। বিশেষ করে হৃদরোগপূর্ব জটিলতায় ভুগছেন না, এমন ব্যক্তিদের জন্য তো একেবারেই নয়।

পাইপস বলেন, ‘দিনে কিংবা রাতে যখনই হোক না কেন, প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়া মোটেই উচিত কাজ নয়। অ্যাসপিরিন খাওয়ার পর দেহ এর প্রভাবমুক্ত হতে সাত থেকে ১০ দিন সময় নেয়। শুনতে ভালো লাগলেও প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়ার কোনো বাস্তব কার্যকারিতা নেই।’

স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে আলোচনার জন্য বেশ জনপ্রিয় ইস্যু। এসবের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ অন্যতম। বিশেষ করে সহজে ও ন্যূনতম খরচে হৃদরোগের ঝুঁকিমুক্ত থাকার উপায় হিসেবে পানি পান আর অ্যাসপিরিন সেবনকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছেন অনেক মানুষ।

ঘুমের আগে পানি-অ্যাসপিরিনে কি হৃদরোগের ঝুঁকি কমে
ফেসবুকে ছড়ানো হৃদরোগের ঝুঁকি এড়ানোবিষয়ক ভুয়া পোস্ট। ছবি: এএফপি

ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট ভাইরাল হওয়ার আগে অবশ্য ভ্রান্ত এ ধারণাটি ছড়িয়েছে ই-মেইলের মাধ্যমে। এর প্রভাব এতটাই যে কানাডায় বোতলজাত পানি উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমা প্রতিষ্ঠানও নিজ গ্রাহকদের প্রতিদিন ঘুমানোর আগে পানি পানের পরামর্শ দিয়েছে।

এ ধরনের যত পোস্ট আছে, সবগুলোতেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান মায়ো ক্লিনিকের কর্মকর্তা ড. ভিরেন্দ সমার্সের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে বলা হয়েছে, আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজির জার্নালে ২০০৮ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদনের কথা।

বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই গবেষণা প্রতিবেদনটির লেখক ড. সমার্স নন। গবেষণায় তার কোনো ভূমিকাও নেই। গবেষণা প্রতিবেদনটিতে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রতিরোধে পানি পান বা অ্যাসপিরিন খাওয়ার বিষয়ে কিছু উল্লেখও নেই।

মূলত ঘুমানোর সময় থেমে থেমে শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতায় ভোগা রোগীদের নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে। এতে রাতে হৃৎপিণ্ডে হঠাৎ রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে কথা বলা হয়েছে।

ভুয়া পোস্টের দাবি জোরদারে মায়ো ক্লিনিকের এক চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করার বিষয়টি জানতে পেরে এ বিষয়ে সতর্ক করে পরে একটি বিবৃতিও দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এতে বলা হয়, ‘ভুল ও সম্ভবত ক্ষতিকর যে তথ্যটি ই-মেইলের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তাতে মায়ো ক্লিনিক বা ড. সমার্সের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

নির্দিষ্ট সময়ে পানি পানের উপকারিতা আছে?

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে অবস্থিত ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের কার্ডিওভাস্কুলার সার্জন ড. মার্ক গিলিনভ দিনের নির্দিষ্ট সময়ে পানি পানের উপযোগিতার বিষয়টি পরীক্ষা করেছেন।

কোমল পানীয়র পরিবর্তে পানি পানের পরামর্শ তার। তিনি লিখেছেন, ‘কখন পানি পানে কী হয়, এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তাই এমন কোনো দাবির ওপর নির্ভর করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।’

এ ছাড়া ২০০২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন পাঁচ গ্লাস বা তার বেশি পানি পান করলে প্রাণঘাতী হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। দিনে দুই গ্লাস বা এর কম পানি পান করলে এ ঝুঁকি বেশি।

ওই গবেষণাতেও দিনের বা রাতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পানি পানের উপযোগিতা নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

হৃদরোগে অ্যাসপিরিনের ব্যবহার

হৃদরোগসংক্রান্ত কোনো জটিলতা অতীতে ছিল বা বর্তমানে আছে, এমন ব্যক্তিদের প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়ার পরামর্শ প্রায়ই দেন চিকিৎসকরা।

কিন্তু তাই বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন ব্যক্তিদেরও নিজ বুদ্ধিতে দৈনিক অ্যাসপিরিন খাওয়া উচিত নয় বলেও সতর্ক করেন তারা।

২০১৯ সালের অক্টোবরে ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালবার্টার ফ্যাকাল্টি অফ মেডিসিনের প্রকাশ করা এক গবেষণায় বলা হয়, যাদের কখনো এমন কোনো জটিলতা ছিল না বা নেই, তারা প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খেলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি।

এ ধরনের রোগীদের প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়া থেকে বিরত থাকার ওপরই জোর দেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন:
‘গৌরবগাথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি ঢাবির’
ঢাবির পরিবহন ও আবাসিক ফি মওকুফ
ঢাবি থেকে ডিগ্রি পেলেন ৫৫ গবেষক
ছাত্রলীগের অবস্থান: ঢাবির ২ হলে মধ্যরাতে প্রশাসনের অভিযান
মাদক: ঢাবি থেকে পাঁচ বহিরাগত আটক

শেয়ার করুন

বৈধ হচ্ছে না বিটকয়েন

বৈধ হচ্ছে না বিটকয়েন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত নয়। আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে বিটকয়েনসহ যে কোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন অথবা এ রকম কাজে সহায়তা প্রদান ও প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেনকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ বলে আবারও উল্লেখ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ধরনের মুদ্রাগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈধতা দিতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মধ্যে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বিষয়টি উড়িয়ে দিল আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার জনস্বার্থে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে, বলা হয়েছে, ‘ভার্চুয়াল মুদ্রা ঝুঁকিপূর্ণ, বৈধ নয়; লেনদেনে বিরত থাকুন।’

বিটকয়েন বা অন্যান্য ভার্চুয়াল মুদ্রা নিয়ে সিআইডির কাছে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করতে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ বা লেনদেন স্বীকৃত না হলেও এটিকে অপরাধ বলার সুযোগ নেই।

এ-সংক্রান্ত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রা (ক্রিপ্টোকারেন্সি) বিষয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। একটি নির্দিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার গোপনীয় ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পত্রের মাধ্যমে পাঠানো মতামতের অংশবিশেষ কোনো কোনো পত্রিকায় খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।’

সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনের পাশাপাশি সব ধরনের প্রচার-প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়েছে, ‘কোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত নয়। সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রায় (যেমন বিটকয়েন, ইথারিয়াম, রিপল ইত্যাদি) লেনদেন অথবা এরূপ কার্যে সহায়তা প্রদান ও এতৎসংক্রান্ত প্রচারণা হতে বিরত থাকার জন্য সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।’

ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যমে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। সেখানে যে অবস্থান বাংলাদেশ ব্যাংকের ছিল, এখনও তাই রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এ প্রসঙ্গে সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে পুনরায় জানানো যাচ্ছে, যেকোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা/ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত নয়।’

বৈধ হচ্ছে না বিটকয়েন
আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৭ সালের ডিসেম্বরেই বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বিটকয়েন জাতীয় মুদ্রাগুলো বৈধ নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিবিধ বিনিময় প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হচ্ছে। এসব ভার্চুয়াল মুদ্রা কোনো দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ মুদ্রা নয় বিধায় এর বিপরীতে কোনো আর্থিক দাবির স্বীকৃতও থাকে না। এসব মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত নয় বিধায় এসব ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর দ্বারা সমর্থিত হয় না।

‘অনলাইনে নামবিহীন/ছদ্মনামিক প্রতিসঙ্গীর সঙ্গে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ-সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।’

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছিল, অনলাইনভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রায় অর্থমূল্য পরিশোধ ও নিষ্পত্তি সংঘটিত হয় এবং এটি কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ কতৃর্পক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত নয়। এ কারণে গ্রাহকরা ভার্চুয়াল মুদ্রার সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

গত ১৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সহকারী পরিচালক শফিউল আজম এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি সিআইডিকে পাঠান। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনের ফলে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২- এর আওতায় অপরাধ হতে পারে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিআইডি এ নিয়ে অনুসন্ধান করতে পারে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচা ও এ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সিআইডি এমন দুটি মামলার তদন্ত করছে। এর সূত্র ধরেই সংস্থাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে মতামত চায়।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির সংখ্যা এখন আট হাজারের বেশি। এগুলোর মধ্যে বিটকয়েন সবচেয়ে বেশি পরিচিত। ১ বিটকয়েনের বর্তমান দর ৩৩ হাজার ডলারের বেশি। ২০০৮ সালে এই মুদ্রা উদ্ভাবনের পর বিশ্বের কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ এই মুদ্রাকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে জাপান, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো কয়েকটি দেশ এই মুদ্রায় লেনদেনকে বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘গৌরবগাথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি ঢাবির’
ঢাবির পরিবহন ও আবাসিক ফি মওকুফ
ঢাবি থেকে ডিগ্রি পেলেন ৫৫ গবেষক
ছাত্রলীগের অবস্থান: ঢাবির ২ হলে মধ্যরাতে প্রশাসনের অভিযান
মাদক: ঢাবি থেকে পাঁচ বহিরাগত আটক

শেয়ার করুন

৫ আগস্টের পর লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৫ আগস্টের পর লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

‘চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন। তবে এ ধরনের কোনো বক্তব্য আজ (বুধবার) তিনি রাখেননি। যেসব গণমাধ্যমে এমন খবর এসেছে, তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করেছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম খবরের শিরোনাম করে, শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া চলমান কঠোর বিধিনিষিধ ৫ আগস্টের পর আর থাকছে না।

দেশের প্রথম সারির কয়েকটি সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ করা হয় খবরটি।

তবে সংবাদটি সত্য নয় বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু নিউজবাংলাকে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ধরনের কোনো কথা বলেননি।

তিনি বলেন, ‘চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন। তবে এ ধরনের কোনো বক্তব্য আজ (বুধবার) তিনি রাখেননি। যেসব গণমাধ্যমে এমন খবর এসেছে, তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করেছে।’

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের বরাত দিয়ে কয়েকটি মিডিয়ায় একটি নিউজ যাচ্ছে যে, ৫ আগস্টের পর আর লকডাউন দেয়া হবে না। প্রকৃতপক্ষে মাননীয় মন্ত্রী আজ (বুধবার) এ ধরনের কোনো কথা বলেননি।’

এরপর বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র তাদের প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেয়, কয়েকটির শিরোনাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত ‘কোভিড-১৯ প্রতিরোধকল্পে আরোপিত বিধিনিষেধের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও কোডিড-১৯ প্রতিরোধক টিকা প্রদান কার্যক্রম জোরদারকরণ’ বিষয়ক সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বৈঠক শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের যে লকডাউন চলছে এটা চলতেই থাকবে। আমাদের যে টার্গেট ৫ তারিখ পর্যন্ত সেই ৫ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন চলবে। যদিও আমাদের শিল্পপতিরা এবং অনেকে রিকুয়েস্ট করেছিলেন, আমরা সেই রিকুয়েস্ট বোধহয় গ্রহণ করতে পারছি না।’

শাটডাউন আর বাড়ানো হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘লকডাউন বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়নি। আলোচনা হয়েছে যে ৫ তারিখ (আগস্ট) পর্যন্ত লকডাউনটা থাকবে।’

আরও পড়ুন:
‘গৌরবগাথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি ঢাবির’
ঢাবির পরিবহন ও আবাসিক ফি মওকুফ
ঢাবি থেকে ডিগ্রি পেলেন ৫৫ গবেষক
ছাত্রলীগের অবস্থান: ঢাবির ২ হলে মধ্যরাতে প্রশাসনের অভিযান
মাদক: ঢাবি থেকে পাঁচ বহিরাগত আটক

শেয়ার করুন

ফুলের মালায় ঢাকা মাখোঁর ছবিটি ফটোশপের কারসাজি

ফুলের মালায় ঢাকা মাখোঁর ছবিটি ফটোশপের কারসাজি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মাখোঁর এ ছবিটি ফটোশপের কারসাজি। ছবি: টুইটার

ইউরো নিউজে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ায় মাখোঁর সফরের প্রকাশিত ভিডিওতেও স্পষ্ট যে, ভাইরাল ছবিতে ফটোশপের কারসাজি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গলায় বেশ কয়েকটি ফুলের মালা পরানো হয়েছে মাখোঁকে। কিন্তু ভুয়া ছবির মতো ফুলের মালায় মাখোঁর হাত-পা ঢেকে যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর একটি ছবি। ছবিটি দেখে মনে হচ্ছে, ফুলের মালার নিচে একরকম চাপাই পড়ে গেছেন তিনি।

অনেকে ছবিটিকে আখ্যায়িত করেছেন ‘জীবন্ত পুষ্পস্তবক’ বলে।

সম্প্রতি ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া দ্বীপাঞ্চলে মাখোঁর সফরের পর ছবিটি প্রকাশ হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণে শতাধিক দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ছবিটি নিয়ে একের পর এক মিম তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ছবির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে যে, এটি ফটোশপ করা।

ভুয়া ছবিটি দেখে হাঁটু পর্যন্ত দীর্ঘ ফুলের মালার স্তূপে মাখোঁকে জীবন্ত কবর দেয়া হয়েছে বললেও খুব একটা ভুল বলা হবে না।

টুইটারে ছবিটি শেয়ার করে নোগা তার্নোপোলস্কি নামের এক সাংবাদিক লিখেন, ‘ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ায় সরকারি সফরের সময় চলন্ত মানব পুষ্পস্তবকে রূপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাখোঁ।’

তবে খোদ টুইটার ব্যবহারকারীরাই দ্রুত আবিষ্কার করেন যে, ভুয়া ছবি সত্যি মনে করে বসে আছেন তার্নোপোলস্কি। ছবিতে যেভাবে মাখোঁকে দেখা যাচ্ছে, আসলে এভাবে মাখোঁ ফুলের মালার স্তূপে চাপা পড়েননি।

প্রেসিডেন্ট মাখোঁকে ফুলের মালা দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েকটি মালাই পরানো হয়েছিল তাকে।

বেশ কয়েকজন টুইটার ব্যবহারকারী ভুয়া ছবিটির সঙ্গে আসল ছবি জুড়ে দিয়ে তার্নোপোলস্কিকেই অপপ্রচারের জন্য এক হাত নিয়েছেন।

ইউরো নিউজে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ায় মাখোঁর সফরের প্রকাশিত ভিডিওতেও স্পষ্ট যে, ভাইরাল ছবিতে ফটোশপের কারসাজি হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, গলায় বেশ কয়েকটি ফুলের মালা পরানো হয়েছে মাখোঁকে। কিন্তু ভুয়া ছবির মতো ফুলের মালায় মাখোঁর হাত-পা ঢেকে যায়নি।

আরও পড়ুন:
‘গৌরবগাথা নিয়ে শতবর্ষ পাড়ি ঢাবির’
ঢাবির পরিবহন ও আবাসিক ফি মওকুফ
ঢাবি থেকে ডিগ্রি পেলেন ৫৫ গবেষক
ছাত্রলীগের অবস্থান: ঢাবির ২ হলে মধ্যরাতে প্রশাসনের অভিযান
মাদক: ঢাবি থেকে পাঁচ বহিরাগত আটক

শেয়ার করুন