মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর খবর সত্য নয়

মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর খবর সত্য নয়

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামায় অবস্থিত লুইস স্মিথ লেক। ছবি: টুইটার

২৮ জুন ফেসবুকে একটি পোস্টে কথিত চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘নেক্রোটাইজিং ফ্যাসিটিস বা মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে লুইস স্মিথ লেকে। আমরা অ্যালাবামা পাওয়ার কোম্পানি হ্রদটিতে নৌকা চালানো ও সাঁতার কাটা থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হ্রদ থেকে দূরে থাকুন।’

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যে পানিতে মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়েছে বলে সম্প্রতি গুঞ্জন ছড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এমনকি বার্মিংহামের ৫০ মাইল উত্তরে অবস্থিত লুইস স্মিথ হ্রদ থেকে মানুষকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছিল।

এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে অ্যালাবামাজুড়ে পানির নমুনায় মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিয়ে খবর বেরিয়েছিল।

তবে এবারের গুঞ্জন একেবারেই ভিত্তিহীন বলে ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অ্যালাবামা পাওয়ার হ্রদটি থেকে সাঁতারু ও ভ্রমণপ্রেমীদের দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বলে গুজব রটেছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ভাইরাল পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, স্বতন্ত্র এক গবেষণায় গত ২২ জুন হ্রদ থেকে সংগৃহীত নমুনায় মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া অনেক বেশি পরিমাণে পাওয়া গেছে।

২৮ জুন ফেসবুকে একটি পোস্টে কথিত চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘নেক্রোটাইজিং ফ্যাসিটিস বা মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে লুইস স্মিথ লেকে। আমরা অ্যালাবামা পাওয়ার কোম্পানি হ্রদটিতে নৌকা চালানো ও সাঁতার কাটা থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হ্রদ থেকে দূরে থাকুন।’

২৫ জুন লেখা চিঠিতে স্বাক্ষর রয়েছে ‘অ্যান্থনি গোচাগেইন’ নামের কোনো ব্যক্তির। এখান থেকেই পোস্টটি যে ভুয়া তা বোঝা গেলেও অনেক ফেসবুক ব্যবহারী সতর্কবার্তা হিসেবে পোস্টটি শেয়ার করেছেন।

একজন তো লিখেছেন ‘ভুলেও হ্রদে নামবেন না’।

অ্যালাবামা পাওয়ারও নিশ্চিত করেছে যে, এমন কোনো চিঠি তারা দেয়নি।

আর লুইস স্মিথ লেকে মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যম থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

এক ফেসবুক ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, নিছক মজার উদ্দেশে পোস্টটি শেয়ার করেছিলেন তিনি।

আরেক ব্যবহারকারী জানান, শুরুতে গুরুত্বের সঙ্গে পোস্টটি শেয়ার করলেও পরে এতে ভুয়া স্বাক্ষরের বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি।

ই-মেইলে অ্যালাবামা পাওয়ারের মুখপাত্র ড্যানিয়েলে কিমব্রোগ বলেন, ‘ফেসবুকে যেটি ছড়িয়েছে, সেটি প্র্যাঙ্ক পোস্ট। এই গ্রীষ্মে স্মিথ লেকে নামতে নিষেধ করার বিষয়টি মজা ছাড়া কিছুই নয়।

স্মিথ লেকসহ আমাদের প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়নের আওতায় থাকা সব হ্রদ স্বাভাবিক সময়ের মতোই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেব। সাধারণ নিরাপত্তা নীতিমালা মেনে দর্শনার্থীদের সেখানে যেতে উৎসাহিত করছি আমরা।’

সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া চিঠির বিষয়টি উল্লেখ করে ২৯ জুন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য একটি বিবৃতিতেও একই কথা বলে প্রতিষ্ঠানটি।

ভাইরাল পোস্টগুলোতে উল্লেখিত নেক্রোটাইজিং ফ্যাসিটিস হলো প্রাণঘাতী একটি রোগ যার কারণ মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, ত্বকে কাটাছেঁড়া, পুড়ে যাওয়া, পোকার কামড়সহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষত থেকে মানবদেহে প্রবেশ করে এই ব্যাকটেরিয়া।

এটি ছড়ানোর বিষয়ে কোনো সতর্কতা জারি করেনি অ্যালাবামার জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আরও পড়ুন:
‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনপণ্য’ ঘোষণার দাবি প্রধানমন্ত্রীর

করোনা টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনপণ্য’ ঘোষণার দাবি প্রধানমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনে ধারণ করা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে করোনা প্রতিরোধী টিকা কর্মসূচি পরিচালনার অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ টিকাকে বৈশ্বিক জনপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা দরকার। সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের সুযোগ দেয়া উচিত।’

বিশ্বে সবার জন্য করোনা প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করতে কোভিড-১৯ টিকাকে ‘বৈশ্বিক জনপণ্য’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের সুযোগ দেয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসে বুধবার কোভিড-১৯ সংক্রান্ত ‘হোয়াইট হাউস কোভিড-১৯ সামিট: অ্যান্ডিং দ্য প্যানডেমিক অ্যান্ড বিল্ডিং ব্যাক বেটার হেলথ সিকিউরিটি টু প্রিপেয়ার ফর দ্য নেক্সট’ শীর্ষক শীর্ষ সম্মেলনে ধারণ করা বক্তব্যে বিশ্বনেতাদের প্রতি এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় ভার্চুয়াল এ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে করোনা প্রতিরোধী টিকা কর্মসূচি পরিচালনার অংশ হিসেবে কোভিড-১৯ টিকাকে বৈশ্বিক জনপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা দরকার। সবার জন্য টিকা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা রয়েছে এমন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের সুযোগ দেয়া উচিত।’

হোয়াইট হাউস আমন্ত্রিতদের জানিয়েছে, এ বছরের শেষের দিকে এবং ২০২২ সালের শুরুতে ফলো-আপ ইভেন্টগুলো অংশগ্রহণকারীদেরকে তাদের প্রতিশ্রুতির জন্য দায়বদ্ধ রাখার উদ্দেশে আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার ধারণ করা বক্তব্যে বলেছেন, ‘করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়তে তিন পন্থা অবলম্বন করেছে বাংলাদেশ।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘জীবন বাঁচাতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, মেডিক্যাল সরঞ্জাম, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

দেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবিকা সুরক্ষায় সহায়তা দেয়া এবং যত দ্রুত সম্ভব অর্থনৈতিক চাকা সচল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান।

আগামী দিনগুলোকে নিরাপদ করার জন্য তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেয়ার কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

প্রথমত, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং সামাজিক সুরক্ষা বলয় কর্মসূচির ওপর জোর দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নীতির দিকে মনোনিবেশ করা।

দ্বিতীয়ত, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের ওপর জোর দেয়া হচ্ছে যাতে টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হয়।

তৃতীয়ত, জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা এবং কার্বণ নিঃসরণ হার কমানোর দিকে দিকে মনোনিবেশ করা।

বক্তব্যে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপগুলোও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ১৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ বরাদ্দ দিয়েছি। দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরাসহ ৪৪ লাখ সুবিধাভোগীদের মাঝে ১৬৬ মিলিয়ন ডলার বিতরণ করা হয়েছে।’

১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি ডোজ করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়েছে বলেও সম্মেলনে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘২০২২-এর আগস্ট মাসের মধ্যে মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ লোককে টিকার আওতায় আনা হবে। আর সেটা নিশ্চিত করার জন্য প্রতি মাসে ২ কোটি মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’

এসময়, কোভিড-১৯ মহামারি অবসানে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার জন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে জার্মান চ্যান্সলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো, আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাপোসা এবং জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসও বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

শেয়ার করুন

ম্যাজিক নয়, সবার চেষ্টায় করোনা নিয়ন্ত্রণে

ম্যাজিক নয়, সবার চেষ্টায় করোনা নিয়ন্ত্রণে

হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এখন ফাঁকা পড়ে থাকছে অনেক বেড। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা এখন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। মৃত্যুর হারও কমে আসছে। পরিস্থিতির উন্নতি ম্যাজিকের মাধ্যমে হয়নি, সবার প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে আমরা তিন কোটি মানুষকে টিকা দেয়া শেষ করেছি।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমে আসায় সন্তুষ্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ‘ম্যাজিক’ নয়, সকলের চেষ্টাতেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাজধানীতে বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দেশে ইতোমধ্যে তিন কোটি টিকা দেয়া শেষ হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘করোনা এখন মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। মৃত্যুর হারও কমে আসছে। বর্তমানে করোনা শনাক্তের হার সাড়ে ৪ শতাংশের ঘরে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যা ৩৩ শতাংশের উপরে ছিল।

‘এখন করোনায় প্রতিদিন ২৬ জনের মৃত্যু হচ্ছে, সেটা ছিল পৌনে ৩ শ য়ের ঘরে। পরিস্থিতির উন্নতি ম্যাজিকের মাধ্যমে হয়নি, সবার প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে আমরা তিন কোটি মানুষকে টিকা দেয়া শেষ করেছি। টিকা দেয়াসহ সকল চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

‘যুবদের জন্য প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দুইদিনব্যাপী বাংলাদেশ ৬ষ্ঠ জাতীয় যুব পরিবার পরিকল্পনা সম্মেলন বুধবার শেষ হয়েছে। প্রধান অতিথি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এতে অনলাইন মাধ্যম জুমে যুক্ত হন। তিনি তরুণদের মাদক পরিহার করার আহ্বান জানান এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এগিয়ে আসার জন্য বলেন।

সিরাক-বাংলাদেশ’র উদ্যোগে কয়েকটি দেশি-বিদেশি সংস্থার সহযোগিতায় এ সম্মেলন হয়।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশনে এবারের সম্মেলনে পাঁচ শতাধিক কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের ভার্চুয়াল অংশগ্রহন ছিল। জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে বিভিন্ন সেশনে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের স্বাস্থ্য অধিকার এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়।

করোনা মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতা অবলম্বন করে সম্মেলনটিতে কেবলমাত্র বক্তারা অনুষ্ঠানস্থালে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা বিশেষভাবে নিবন্ধন করে অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে যোগ দেন।

মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘একজন মাদকাসক্ত সন্তানের কারণে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। মাদকাসক্ত তরুণ সমাজের জন্য বোঝা হয়ে যায়, তার ভবিষ্যত অন্ধকারে ঢেকে যায়। এক সময় তার মৃত্যু হয় মাদকের কারণে।

‘তামাক-সিগারেট সেবন করে সারা দুনিয়ায় কোটি কোটি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। মরণব্যাধি ক্যান্সার থেকে নিজেকে রক্ষায় এসব সেবন বন্ধ রাখুন।’

তিনি বলেন, ‘করোনার সময়ে দেশে বাল্যবিবাহের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। অনেকদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গ্রামে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। এটাকে আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে।
‘২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুস্বাস্থ্যময় জাতি গঠন। এ কারণে তরুণদের সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়ার পাশাপাশি মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হারকেও শূণ্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে।’

আরও পড়ুন:
‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

শেয়ার করুন

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ২২৯ রোগী

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ২২৯ রোগী

ডেঙ্গুতে চলতি বছর মৃত্যুর হার ২০ বছরের চেয়ে সর্বোচ্চ। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে ১৭৬ জন। এ ছাড়া অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৫৩ জন।

ডেঙ্গু নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২২৯ জন। চলতি মাসের তিন সপ্তাহে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজারের বেশি রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে বুধবার বিকেলে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে ১৭৬ জন। এ ছাড়া অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৫৩ জন।

এ বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৬ হাজার ৪৫১ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৫ হাজার ৩৭৪ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ১৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮১৯ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি মাসের তিন সপ্তাহে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৯৫ জন।

২১ বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক বিষয় নিয়ে তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই বছর ১ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে মারা যায় ১৪৮ জন। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু আর কখনও দেখেনি দেশ।

তবে চলতি বছরের ৯ মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯ জন, যার হার ২০ বছরে সর্বোচ্চ।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।

আরও পড়ুন:
‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

শেয়ার করুন

কোভিশিল্ডে স্বীকৃতির পর টিকা সনদ নিয়ে মুখোমুখি ভারত-যুক্তরাজ্য

কোভিশিল্ডে স্বীকৃতির পর টিকা সনদ নিয়ে মুখোমুখি ভারত-যুক্তরাজ্য

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার গবেষণালব্ধ টিকা ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদন করছে কোভিশিল্ড নামে। ছবি: দ্য ট্রিবিউন ইন্ডিয়া

বর্তমানে ভারতে যেসব টিকা অনুমোদিত, নাগরিকরা সেগুলোর যে কোনোটির দুই ডোজ নিলেও একে টিকাগ্রহণ সম্পন্ন বলে এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিচ্ছে না ভারত সরকার। এর ফলে দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরও ভারতীয় নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে পৌঁছে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী কোভিশিল্ডকে স্বীকৃতি দিয়ে অনুমোদিত টিকার তালিকা সংশোধন করেছে যুক্তরাজ্য। তবে তাতেও কোয়ারেন্টিনবিহীন ভ্রমণের পথ খুলছে না ভারতীয়দের জন্য।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার সকালে বিদেশিদের জন্য ভ্রমণ নীতিমালার সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে লন্ডন। এতে কোভিশিল্ডকে করোনার অনুমোদিত টিকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ নীতিমালায় প্রাথমিকভাবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের গবেষণালব্ধ করোনা টিকায় অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

বলা হয়েছিল, অস্ট্রেলিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বারবাডোজ, বাহরাইন, ব্রুনেই, কানাডা, ডোমিনিকা, ইসরায়েল, জাপান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, কাতার, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, সাউথ কোরিয়া, তাইওয়ান বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা সরবরাহকৃত চারটি টিকার যেকোনোটির দুই ডোজ নেয়া ব্যক্তিরা কোয়ারেন্টিন বা আইসোলেশনের শর্ত ছাড়াই যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবেন।

আগামী ৪ অক্টোবর যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা থেকে এ নীতিমালা কার্যকর হবে।

বিদেশিদের জন্য অনুমোদিত টিকার প্রাথমিক তালিকায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার গবেষণালব্ধ টিকা থাকলেও স্বীকৃতি ছিল না কোভিশিল্ডের; নাম ছিল না ভারতের। অথচ বিশ্বের সর্ববৃহৎ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট নিজ দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার গবেষণালব্ধ টিকাই উৎপাদন করছে কোভিশিল্ড নামে।

এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৭১ কোটির বেশি মানুষ করোনার টিকা নিয়েছেন। এদের বেশিরভাগই পেয়েছেন কোভিশিল্ড।

বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনীতিতেও উত্তাপ ছড়ায়। কোভিশিল্ডে অনুমোদন না দিলে লন্ডনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ারও হুমকি দেয় নয়া দিল্লি। এর প্রেক্ষিতে তালিকা সংশোধন করে যুক্তরাজ্য; স্বীকৃতি দেয় কোভিশিল্ডে।

কিন্তু লন্ডন জানিয়েছে, কোভিশিল্ডে অনুমোদন দেয়া হলেও যুক্তরাজ্যগামী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য কোয়ারেন্টিনের জটিলতা কাটছে না। ব্রিটিশ ভূখণ্ডে পৌঁছে ১০ দিন সেলফ আইসোলেশনে তাদের থাকতে হচ্ছেই। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় ভারতের টিকা সনদ জটিলতার কথা।

বর্তমানে ভারতে যেসব টিকা অনুমোদিত, নাগরিকরা সেগুলোর যে কোনোটির দুই ডোজ নিলেও একে টিকাগ্রহণ সম্পন্ন বলে এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিচ্ছে না ভারত সরকার।

এর ফলে দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরও ভারতীয় নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে পৌঁছে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

ভারতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দুই ডোজ টিকা নেয়া ব্যক্তিদের সনদ দেয়া হয় কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত কোউইন অ্যাপ ও পোর্টাল থেকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিক্রিয়ায় ‘ভারতের টিকা সনদ নিয়ে জটিলতা’র অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দিল্লির এক শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ড. আরএস শর্মা বলেন, ‘কোউইন অ্যাপ বা করোনার টিকাবিষয়ক সনদ নিয়ে কোনো জটিলতা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ এ ব্যবস্থা।’

ব্রিটিশ হাই কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতের সংশ্লিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত টিকাগ্রহীতাদের টিকা সনদে কিভাবে যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতি মিলতে পারে, সে বিষয়ে নয়া দিল্লির সঙ্গে আলোচনা চলছে লন্ডনের।’

আরও পড়ুন:
‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

শেয়ার করুন

একদিনে মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত হার পাঁচের নিচেই

একদিনে মৃত্যু ৩৬, শনাক্ত হার পাঁচের নিচেই

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে বিবেচিত হয়। দেশে এই নিয়ে শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে ধরা পড়ল টানা দুই দিন।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত একদিনে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১ হাজার ৩৭৬ জনের দেহে। তবে শনাক্ত হার পাঁচ শতাংশের নিচেই আছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বুধবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৪৭ হাজার ১৭৬ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৩১৩ জনের।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৮ হাজার ৭৩৬টি। শনাক্ত হার ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্ত হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে বিবেচিত হয়।

দেশে এই নিয়ে টানা দুই দিন শনাক্ত হার ৫ শতাংশের নিচে ধরা পড়ল। মঙ্গলবার শনাক্ত হার ছিল ৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ সেই বছরের ডিসেম্বর প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর দ্বিতীয় মার্চ দেখা দিলেও ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পথে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। মার্চের পর মঙ্গলবার ও বুধবার করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে আসছে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়। এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও এরপর থেকে রোগী ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১৭ ও নারী ১৯ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া, বিশোর্ধ্ব ১ ত্রিশোর্ধ্ব ৩, চল্লিশোর্ধ্ব ১, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৯, ষাটোর্ধ্ব ১৪, সত্তরোর্ধ্ব ৫ ও অশীতিপর ২ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহী ২, খুলনাতে ২, সিলেটে ২, রংপুর ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৬ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৬ হাজার ১৩৬ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

আরও পড়ুন:
‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

শেয়ার করুন

সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হয় সিএমএল রোগীরা

সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হয় সিএমএল রোগীরা

কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য। ছবি: নিউজবাংলা

বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সিএমএল একধরনের দীর্ঘমেয়াদি রক্তের ক্যানসার। এ রোগ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এর সঠিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। সঠিক চিকিৎসায় এ রোগ সেরে রোগীর সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব।

সঠিক চিকিৎসায় রক্তের ক্যানসার ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া বা সিএমএল আক্রান্ত রোগীরা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে।

বুধবার বিশ্ব সিএমএল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

এর আগে হেমাটোলজি বিভাগের উদ্যোগে হাসপাতালের ডি ব্লকের সামনে কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। এ সময় ১৫ তলায় আধুনিক হেমাটোলজি ওয়ার্ডের উদ্বোধনও করেন তিনি।

শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সিএমএল একধরনের দীর্ঘমেয়াদি রক্তের ক্যানসার। এ রোগ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এর সঠিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। কারণ সঠিক চিকিৎসায় এ রোগ সেরে রোগীর সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব।

উপাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিএসএমএমইউর সার্বিক উন্নয়নের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কোভিড ফিল্ড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসায় অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ওষুধ বর্তমানে দেশেই তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের ১৫১টি দেশে বাংলাদেশে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। এটি স্বাস্থ্য খাতে বিরাট অর্জন।

বাংলাদেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেয়ায় ‘এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার’ অর্জনে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে তার নেতৃত্বে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দিন শাহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এতে উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগমসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

সালাহউদ্দিন শাহ বলেন, সাধারণত পঞ্চাশ বা ষাটোর্ধ্বদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা যায়। তবে ত্রিশ বা চল্লিশ বছর বয়সীরাও এতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। তুলনামূলকভাবে পুরুষরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়।

সিএমএল রোগের ক্ষেত্রে শরীর দুর্বল, শেষ রাতে ঘাম হওয়া, ওজন হ্রাস পাওয়াসহ বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি অনেকের পেটের বাম পাশে চাকা বা ভারী অনুভূত হতে পারে, যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। ফলে অনেকেই খাবার খেতে না পারা বা অল্প খেলে পেট ভরে যাওয়ার সমস্যায় পড়ে।

অনেক সময় আবার লক্ষণ প্রকাশ পায় না, বরং রুটিন চেকআপ বা অন্য রোগের পরীক্ষা করতে গিয়ে এটি ধরা পড়ে।

অধ্যাপক সালাহউদ্দিন শাহ আরও বলেন, নিয়মিত ওষুধ খেলে ও যথাযথ পর্যবেক্ষণে থাকলে অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এলোজেনিক হেমাটোপয়েটিক স্টেম সেল বা বোনমেরো ট্রান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে রোগ নিরাময় সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, সিএমএল যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি রোগ, তাই অনেক ক্ষেত্রেই হতাশা, দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে। তবে রোগীর আর্থিক সমস্যার কারণে এ বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।

জাতীয় পর্যায়ে সিএমএল রোগীদের তালিকাবদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয় করা এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতকরণে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন:
‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

শেয়ার করুন

কোভিশিল্ড অনুমোদন না দেয়ায় ভারতের ক্ষোভ

কোভিশিল্ড অনুমোদন না দেয়ায় ভারতের ক্ষোভ

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দেয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, যুক্তরাজ্যের এমন আচরণের বিপরীতে ভারতেরও উচিত হবে একই ধরনের আচরণ করা।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেয়নি যুক্তরাজ্য।

দেশটির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে এটিকে তাদের ‘বৈষম্যমূলক’ নীতি দাবি করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দেয়ার উদ্দেশে ভারত ছাড়ার আগে রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি করেন। বলেন, যুক্তরাজ্যের এমন আচরণের বিপরীতে ভারতেরও উচিত হবে একই ধরনের আচরণ করা।

যুক্তরাজ্যে ভ্রমণে বিদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। নির্দেশনা অনুযায়ী কোভিশিল্ড টিকাপ্রাপ্তরা বিনা বাধায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। সেখানে ঢোকার আগে ১০ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এর মধ্যেই কোভিড পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক। তাই যুক্তরাজ্যে যাওয়া এখন খানিকটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে অনেক ভারতীয়র জন্য। তবে ভারত ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশ, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্যও এ নিয়ম বলবৎ থাকবে বলা হয় নির্দেশনায়।

বিষয়টি নিয়ে সাধারণ অধিবেশনের অবসরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রুসের কথা হয়েছে বলে জানান শ্রিংলা। সমস্যা দ্রুত সমাধানে যুক্তরাজ্য আশ্বস্ত করেছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার টুইট করে বিরক্তি প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর।

তিনি লেখেন, ‘পুরোপুরি টিকাপ্রাপ্ত ভারতীয়দের কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা অপমানজনক। ব্রিটিশরা কি দ্বিতীয়বার যাচাই করেছে নাকি!’

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আরেক কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও। তিনি বলেন, ‘কোভিশিল্ড প্রথমে তো যুক্তরাজ্য এবং সেরাম ইনস্টিটিউটেই তৈরি করা হয়। এখন তাদের কেমন আচরণ? এ তো বর্ণবৈষম্য!’

আরও পড়ুন:
‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

শেয়ার করুন