ব্লুটুথ চিপ নেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায়

ব্লুটুথ চিপ নেই অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায়

যুক্তরাজ্যের সরকার ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটের তথ্যে টিকাটির উপাদানের তালিকা রয়েছে। সে তালিকায় মাইক্রোচিপসহ টিকাগ্রহীতার দেহে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি তৈরিতে সক্ষম কোনো উপাদানের নাম নেই।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার পর দেহে ব্লুটুথ সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছেন এক ব্যক্তি।

অনলাইনে ভাইরাল ভিডিওতে ওই ব্যক্তি জানান, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা ফার্মাসিউটক্যালসের গবেষণালব্ধ টিকাটি নিয়েছেন তিনি। এরপর থেকে যেখানেই যাচ্ছেন, সব ধরনের ডিভাইস তার দেহের সঙ্গে সংযোগ তৈরির চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘আমি গাড়িতে উঠলে গাড়ি আমার সঙ্গে সংযুক্ত হতে চাইছে। বাড়িতে গেলে আমার কম্পিউটারও একই কাজ করছে। ফোন তো আছেই। সবকিছুই এমনভাবে সংযোগ চাইছে যেন আমার শরীরের সঙ্গে ব্লুটুথ লাগানো।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ব্যক্তির এ ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু যে দাবি তিনি করেছেন, তা মোটেই সত্য নয়। টিকায় কোনো ব্লুটুথ চিপ নেই।

কী আছে ভিডিওতে

ভিডিওতে ওই ব্যক্তি তার ফোনে আসা একটি নোটিফিকেশন দেখিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, ‘AstraZeneca_ChAdOx1-S’ নামের একটি ডিভাইস তার ফোনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে পেয়ারিং রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে।

ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত আরেকটি ক্লিপে দেখা যায়, ইন্টারনেট যুক্ত একটি টেলিভিশনের সামনে দিয়ে ওই ব্যক্তি হেঁটে যাচ্ছিলেন। ওই সময় সে টেলিভিশন থেকেও তার কাছে একই অনুরোধ এসেছে।

কেন এ দাবি সত্য নয়

প্রথমত, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় ব্লুটুথ চিপ থাকার কোনো প্রমাণ দেখানো হয়নি ওই ভিডিওতে।

এমনকি ওই ব্যক্তির দেহের সঙ্গে কোনো ডিভাইস যে সংযুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছে, তার প্রমাণও নেই। অর্থাৎ টিকাগ্রহীতা তার দেহে ব্লুটুথ সক্ষমতা তৈরির প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

দ্বিতীয়ত, ব্লুটুথ ডিভাইসের নাম পরিবর্তন করা যায়। অ্যাপল, স্যামসাংসহ প্রায় সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মুঠোফোন ও স্মার্টফোনে এই অপশন আছে। তাই ওই ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা কোনো ডিভাইসের নাম ‘AstraZeneca_ChAdOx1-S’ দেখালে সেখান থেকে কিছুই প্রমাণ হয় না।

কারণ ব্লুটুথের সুবিধাযুক্ত ফোন, টিভি বা ক্যামেরাসহ যেকোনো ডিভাইসের নাম বদলে ‘AstraZeneca_ChAdOx1-S’ করে দিয়ে সহজেই ভুয়া ভিডিওটি করা সম্ভব।

তৃতীয়ত, টিকার উপাদানে কোনো মাইক্রোচিপ নেই।

ইউএসএ টুডের ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে এখনও অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা অনুমোদন না পেলেও অনেক দেশেই পেয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সরকার ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটের তথ্যে টিকাটির উপাদানের তালিকা রয়েছে। সে তালিকায় মাইক্রোচিপসহ টিকাগ্রহীতার দেহে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি তৈরিতে সক্ষম কোনো উপাদানের নাম নেই।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে উদ্ভাবিত অন্যান্য টিকার (যেমন: মডার্না, ফাইজার-বায়োএনটেক ও জনসন অ্যান্ড জনসন) উপাদানের তালিকা দেখেছে ইউএসএ টুডে। কোনো টিকাতেই মাইক্রোচিপ বা ব্লুটুথ কানেকশন শনাক্তের মতো কোনো উপাদানের নাম নেই।

টিকার উপাদানের তালিকায় আছে এল-হিস্টিডাইন, এল-হিস্টিডাইন হাইড্রোক্লোরাইড মনোহাইড্রেট, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড হেক্সাহাইড্রেট, পলিসোরবেট ৮০, ইথানল, সুক্রোজ, সোডিয়াম ক্লোরাইড, ডিসোডিয়াম ইডিটেইট ডিহাইড্রেট, পানি ইত্যাদি।

অনলাইনে ভাইরাল ভিডিওটির উৎস খুঁজতে গিয়ে টিকটকে @al_janabi নামের এক ব্যবহারকারীর সন্ধান পায় রয়টার্স। ওই ব্যবহারকারীকে এ বিষয়ে বার্তা দেয়া হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি তিনি।

ব্লুটুথ এমন এক ধরনের তারবিহীন প্রযুক্তি যার মাধ্যমে বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে স্বল্প দূরত্বের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব।

টিকার সঙ্গে ব্লুটুথ সংযুক্তির বিষয়টি নিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন:
গোল্ডফিশের স্মৃতি কি আসলেই ৩ সেকেন্ডের
ছবিটি ইসরায়েলি সেনার নয়, চিলির পুলিশ কর্মকর্তার
নেতানিয়াহুর মুখপাত্র প্রচারিত ভিডিও হামাসের নয়
নাকে লেবুর রস দিলে সারে না করোনা
বাড়িটি পুতিনের নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেসির গেঞ্জিতে চে গুয়েভারা কীভাবে?

মেসির গেঞ্জিতে চে গুয়েভারা কীভাবে?

চে গুয়েভারার মুখায়বের গেঞ্জিসহ মেসির ছবিটি তৈরি করা হয়েছে ফটোশপের সাহায্যে। মেসির মূল ছবিটি ২০০৭ সালের ১০ মার্চ তোলা। ওই দিন ১৯ বছরের মেসি বার্সেলোনার পক্ষে প্রথম হ্যাট্রিক করেন। সেই ম্যাচে দ্বিতীয় গোল করার পর উচ্ছ্বসিত মেসির ছবিটি তোলেন এএফপির ফটো সাংবাদিক সেসার রানহেল।

আর্জেন্টিনার ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির জার্সি উঁচিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। এতে দেখা যায় জার্সির নিচে মেসি কিউবার বিপ্লবী কমিউনিস্ট নেতা চে গুয়েভারার মুখায়ব ছাপানো একটি গেঞ্জি পরেছেন।

বাংলাদেশে মেসিভক্ত অনেকেই শেয়ার করেছেন ছবিটি। দেশের বাইরেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি শেয়ার হচ্ছে।

ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি ও কমিউনিস্ট নেতা চে গুয়েভারার জন্ম আর্জেন্টিনায়। করোনাভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে গত বছর লকডাউনের সময়ে মেসি ঘোষণা দেন বার্সেলোনার খেলোয়াড়রা ৭০ শতাংশ বেতন ছাঁটাইয়ে রাজি। বেঁচে যাওয়া এই অর্থ ক্লাব কর্মচারীদের জন্য ব্যয় হবে।

এই ঘোষণার পর ইউরোপের সংবাদ মাধ্যমে মেসিকে ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। ফরাসি সংবাদপত্র লেকিপ তাকে চে গুয়েভারার সঙ্গে তুলনা করে। এরপর ১৪ জুন চে গুয়েভারার জন্মবর্ষিকীতে আলোচিত ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

কেউ কেউ ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘মেসির বুকে বিপ্লবী চে। ছবি: কালেক্টেড।’

মেসিকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতেও অনেকে শেয়ার করেছেন ছবিটি।

মেসির গেঞ্জিতে চে গুয়েভারা কীভাবে?
মেসির এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে

তবে চে গুয়েভারার মুখায়বের গেঞ্জিসহ মেসির ছবিটি তৈরি করা হয়েছে ফটোশপের সাহায্যে। মেসির মূল ছবিটি ২০০৭ সালের ১০ মার্চ তোলা।

ওই দিন ১৯ বছরের মেসি বার্সেলোনার পক্ষে প্রথম হ্যাট্রিক করেন। সেই ম্যাচে দ্বিতীয় গোল করার পর উচ্ছ্বসিত মেসির ছবিটি তোলেন এএফপির ফটো সাংবাদিক সেসার রানহেল

ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘বার্সেলোনার লিওনেল মেসি কাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে ১০ মার্চ ২০০৭ স্প্যানিশ লিগের ফুটবল ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দ্বিতীয় গোল করার পর উচ্ছ্বসিত।’

মেসির গেঞ্জিতে চে গুয়েভারা কীভাবে?
মেসির আলোচিত ছবিটি প্রকৃতপক্ষে ২০০৭ সালের ১০ মার্চ এএফপির তোলা

এফসি বার্সেলোনা তাদের ইউটিউব চ্যানেলে ওই ম্যাচের একটি ভিডিও আপলোড করে যার ক্যাপশন ছিল, ‘দ্য ফার্স্ট অফ মেনি: মেসি’স ডেব্যু হ্যাটট্রিক ফর বার্সেলোনা।’

ভিডিওটির ৯ সেকেন্ডের সময়ে গোল করার পর মেসিকে তার জার্সি তুলে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। আর সেই সময়ে তোলা আলোকচিত্র ফটোশপে এডিট করে গেঞ্জিতে যোগ করা হয়েছে চে গুয়েভারার মুখের ছবি।

আরও পড়ুন:
গোল্ডফিশের স্মৃতি কি আসলেই ৩ সেকেন্ডের
ছবিটি ইসরায়েলি সেনার নয়, চিলির পুলিশ কর্মকর্তার
নেতানিয়াহুর মুখপাত্র প্রচারিত ভিডিও হামাসের নয়
নাকে লেবুর রস দিলে সারে না করোনা
বাড়িটি পুতিনের নয়

শেয়ার করুন

বাঁশির সুরে গায়ে মৌমাছি বসার নেপথ্যে কী

বাঁশির সুরে গায়ে মৌমাছি বসার নেপথ্যে কী

যশোরের কেশবপুরের মাহাতাব মোড়ল। ছবি: নিউজবাংলা

যশোরের কেশবপুরে মাহতাব মোড়ল নামে এক যুবক বাঁশি বাজালে তার গায়ে এসে বসে মৌমাছি। বিষয়টি এলাকায় জনমনে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে অলৌকিক ক্ষমতা হিসেবে দেখছেন। নিউজবাংলা অনুসন্ধানে নেমে উদঘাটন করার চেষ্টা করেছে এর নেপথ্যের কারণ।

মাহাতাব মোড়ল। তার বাঁশির সুরে মৌমাছি এসে পড়ে তার শরীরজুড়ে। এলাকাবাসী অনেকে বিষয়টি অলৌকিক মনে করেন।

মাহাতাবের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামে।

মাহাতাব বলেন, ১২ বছর বয়স থেকে তিনি মধু আহরণের কাজ করেন। ওই সময় বালতিতে শব্দ করে চাক থেকে মৌমাছি দূরে সরিয়ে দেয়ার কৌশল রপ্ত করেন তিনি। পরে টিনের থালার শব্দ শুনে মৌমাছি মৌচাক ছেড়ে তার কাছে আসতে শুরু করে বলে তিনি দাবি করেন।

এরপর মাহাতাব মোড়লের ভাগনে তাকে বলেন, বাঁশি বাজালেও আসতে পারে মৌমাছি। তিনি শুরু করেন বাঁশি বাজানো। এতেও সফল হন। বাঁশি বাজিয়ে মৌমাছি বসানোর জন্য এলাকায় তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ে মধু বিক্রি।

মাহাতাব মোড়ল জানান, ২০ বছর ধরে তিনি মধু সংগ্রহ করছেন। তাদের বাড়ি ছিল সুন্দরবন-সংলগ্ন কয়রা উপজেলায়। বাবার বৈবাহিক সূত্রে কেশবপুরের মোমিনপুর গ্রামে নানাবাড়িতে তাদের বসবাস।

সুন্দরবনসহ সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর অঞ্চলে মাহাতাব মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। মধুর চাক ভাঙতে ভাঙতে মৌমাছির প্রতি তার ভালোবাসা তৈরি হয়।

মাহাতাব বলেন, ‘বাঁশি বাজিয়েই তিনি মৌমাছি গায়ে আনেন। এতে কোনো তন্ত্র-মন্ত্র নেই।’

কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও অভ্যাস হয়ে যাওয়ায় কোনো ভয় লাগে না বলে এমন কাজ করেন। মধু আহরণ করেই তার সংসার চলে। সংসারে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে মাহাতাবের।

রহস্য কী

যশোর সরকারি মহিলা কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নার্গিস শিরীন বলেন, ‘বাঁশির সুরে মৌমাছি আকৃষ্ট হয়ে মানুষের গায়ে উড়ে এসে বসার কোনো সুযোগ নেই। মৌমাছিরা তো মধুর প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাই কেউ যদি তার শরীরে মধু, হরমোনযুক্ত সেন্ট (সুগন্ধি) স্প্রে করে, তখন উড়ে এসে মৌমাছিরা বসতে পারে।’

ঘামের জন্য আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছি মাহাতাব মোড়লের গায়ে পড়ার যে দাবি তিনি করেছেন, তা অসম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার নিউজবাংলাকে বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে বাঁশি বাজিয়ে কোনো মৌমাছি গায়ে বসানোর সুযোগ নেই। তিনি অবশ্যই প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘হয় তিনি তার গায়ে মিষ্টিজাতীয় কিছু মেখেছেন, কিংবা তিনি তার পালন করা মৌমাছিকে দীর্ঘদিন থেকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এ ছাড়া এটা সম্ভব নয়।’

মাহাতাব মোড়লের কাছেও এটির ব্যাখ্যা জানতে চান নিউজবাংলার প্রতিবেদক।

টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি জানান, বাঁশি বাজালে তার সুরে আকৃষ্ট হয়েই মৌমাছি এসে শরীরে বসে। এর বাইরে কোনো রহস্য নেই। কিছুক্ষণ পরেই তিনি প্রতিবেদককে জানান, তিনি মৌমাছি গায়ে বসানোর কৌশল হিসেবে গায়ে সুগন্ধি মেখে নেন।

মাহাতাব মোড়ল নিউজবাংলাকে জানান, মধু ভাঙার সময় মধু গায়ে লেগে থাকলে এক-দুটা মৌমাছি এসে গায়ে বসত। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কখনও ফুলের ঘ্রাণ, কখনও সুগন্ধি গায়ে মেখে বাঁশি বাজান। তখন বেশি পরিমাণে মৌমাছি গায়ে এসে বসতে শুরু করে।

তবে গায়ে ঘাম থাকলেও বাঁশি বাজালে মৌমাছি এসে বসে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে মাহাতাব মোড়লের বাড়ি যান স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম মৌমাছির কামড় থেকে রক্ষার পাওয়ার জন্যে কিছু মেখেছেন কিনা। তখন তিনি আমাকে বলেন, মৌমাছি কামড়ায় না, গায়ে সুগন্ধি মেখেছি, সুগন্ধি মাখলে ওরা গায়ে আসে।’

নিজের দাবিতে অটল থাকলেও নিউজবাংলার প্রতিবেদক যখন তার বাসায় গিয়ে বিষয়টি যাচাই করতে চান, তখন তিনি ফোনে জানান, করোনার কারণে তিনি এখন কারও সঙ্গে দেখা করবেন না।

আরও পড়ুন:
গোল্ডফিশের স্মৃতি কি আসলেই ৩ সেকেন্ডের
ছবিটি ইসরায়েলি সেনার নয়, চিলির পুলিশ কর্মকর্তার
নেতানিয়াহুর মুখপাত্র প্রচারিত ভিডিও হামাসের নয়
নাকে লেবুর রস দিলে সারে না করোনা
বাড়িটি পুতিনের নয়

শেয়ার করুন

ইসরায়েলি সেনার হামলার ভিডিওটি পুরনো

ইসরায়েলি সেনার হামলার ভিডিওটি পুরনো

ইসরায়েলি সেনার হামলার ঘটনা চলতি বছরের নয়, ২০১৫ সালের। ছবি: এএফপি

ব্যাপক প্রচার পাওয়া ভিডিওটির দাবিকে নাকচ করেছে এএফপির ফ্যাক্ট চেক। বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি চলতি বছরের গাজার নয়। ২০১৫ সালে পশ্চিম তীরের এক গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টুইটারে সম্প্রতি একটি ভিডিও কয়েক হাজারবার ভিউ হয়। এতে দাবি করা হয়, চলতি বছরের জুনে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি এক শিশুকে ইসরায়েলের সেনাদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

তবে এএফপির 'ফ্যাক্ট চেক' ভিডিওটির দাবিকে নাকচ করেছে। বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে রোববার বলা হয়, ঘটনাটি চলতি বছরের গাজার নয়। ২০১৫ সালে পশ্চিম তীরের এক গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

চলতি মাসের ১৪ তারিখ ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। দুই হাজারবারের বেশি এটি মানুষ দেখে।

ভিডিওর শিরোনামে লেখা, ‘ফিলিস্তিনি এক শিশুর গায়ে বসে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন অস্ত্রধারী এক ইসরায়েলি সেনা।

‘শিশুটির শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, যন্ত্রণায় সে কাঁদছে, ভাঙা হাতে ব্যথা পাচ্ছে। তারপরও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই ওই সেনার। পরে শিশুটির পরিবার সেনার হাত থেকে তাকে মুক্ত করে।’

শিরোনামে ‘হ্যাশট্যাগ সেইভশেখজারাহ’, ‘হ্যাশট্যাগ গাজা’ ও ‘হ্যাশট্যাগ গাজাআন্ডারঅ্যাটাক’ও উল্লেখ রয়েছে।

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকায় সম্প্রতি সহিংসতা দানা বাঁধে। ফিলিস্তিনি কয়েকটি পরিবারকে শেখ জারাহ থেকে উচ্ছেদের তৎপরতাকে ঘিরে ওই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে।

এপ্রিলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে পূর্বপুরুষের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদে ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা মুসলমানদের পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দমনে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী।

এরই জেরে একপর্যায়ে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা শুরু করে, যা চলে টানা ১১ দিন। বিমান হামলায় শিশুসহ ফিলিস্তিনের আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দীর্ঘ সংস্করণ ২০১৫ সালের ২৯ আগস্ট ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছিল।

ইউটিউবের ভিডিওর শিরোনামে লেখা, ‘নবী সালেহ ২৮/৮/২০১৫’। ভিডিওটির ৫ মিনিট ৯ সেকেন্ড থেকে সাম্প্রতিককালের ভিডিওটির মিল পাওয়া গেছে।

২০১৫ সালের ২৮ আগস্ট নবী সালেহ গ্রামে একই ঘটনা ধারণ করেন এএফপির ফটোগ্রাফার।

ওই সময়ের ভিডিওর শিরোনামে বলা হয়, ‘ফিলিস্তিনি মেয়ে আহেদ তামিমি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ইসরায়েলের সেনার হাত থেকে এক ফিলিস্তিনি ছেলেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।

‘পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরের নবী সালেহ গ্রামে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী ও ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় ওই ঘটনা ঘটে।’

আরও পড়ুন:
গোল্ডফিশের স্মৃতি কি আসলেই ৩ সেকেন্ডের
ছবিটি ইসরায়েলি সেনার নয়, চিলির পুলিশ কর্মকর্তার
নেতানিয়াহুর মুখপাত্র প্রচারিত ভিডিও হামাসের নয়
নাকে লেবুর রস দিলে সারে না করোনা
বাড়িটি পুতিনের নয়

শেয়ার করুন

দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?

দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানজনিত কারণে বছরে (১২ মাস) এক লাখ ৬১ হাজার মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন। এর সঙ্গে দেশে এক বছরের করোনায় মৃত্যুর সরকারি হিসাব বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, ধূমপানে করোনার চেয়ে মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে প্রায় ১৯ গুণ (১৮.৬৭) বেশি।

ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতিবছর এক লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ। তার দাবি, ধূমপানজনিত কারণে বছরে মৃত্যুর এই সংখ্যা করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ১৩ গুণেরও বেশি।

মুজিববর্ষ ও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনলাইন আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে এ তথ্য দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি পারেননি। তবে স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম ছিলেন।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানের কারণে করোনাভাইরাসের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি মৃত্যুর তথ্য দিলেও এই পরিসংখ্যানের উৎস সুনির্দিষ্টভাবে জানাননি।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। আর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ওই বছরের ১৮ মার্চ। এরপর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ৮ হাজার ৬২৪ জন। আর প্রায় ১৫ মাস, অর্থাৎ ১৬ জুন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩ হাজার ২৮২ জন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানজনিত কারণে বছরে (১২ মাস) এক লাখ ৬১ হাজার মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন। এর সঙ্গে দেশে এক বছরের করোনায় মৃত্যুর সরকারি হিসাব বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, ধূমপানে করোনার চেয়ে মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে প্রায় ১৯ গুণ (১৮.৬৭) বেশি।

দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?
মুজিববর্ষ ও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে অনলাইন আলোচনা সভা

অনলাইন আলোচনায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক বলেন, প্রতিবছর গড়ে ১২ লাখ লোক ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে ভোগেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানসার, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হৃদরোগ।

মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ বলেন, ‘সবাই যখন তামাকমুক্ত দেশ গড়তে চাইছে, তখন একটি শ্রেণি রয়েছে তারা বলেন, সরকার এই খাত থেকে অনেক বেশি রাজস্ব পেয়ে থাকে। তবে ২০১৭ সালে সরকার তামাক থেকে রাজস্ব পেয়েছে ২২ হাজার ২৬৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা, কিন্তু একই বছর ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির পেছনে। শুধু তামাকজনিত অসুখের কারণে ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি চিকিৎসাব্যয় হচ্ছে।’

তামাকশ্রমিকের ওপর গবেষণার তাগিদ দিয়ে শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘তামাক চাষে জড়িতদের অন্যান্য মানুষের চেয়ে অনেক কম আয়ু। গবেষণা করলে দেখা যাবে তামাক উৎপাদন ও চাষে যারা জড়িত, তারা অন্য শ্রমিকদের চেয়ে অনেক আগেই মারা যান।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন প্রতিটি ক্ষেত্রই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ক্ষতি করে। তামাক সেবনের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ক্রনিক লাং ডিজিজসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে বছরে পৃথিবীতে ৮০ লক্ষাধিক ও বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। সরকার তামাক খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার চাইতে অনেক বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় করতে হয়। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও অকালমৃত্যু প্রতিরোধে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

‘বাংলাদেশ সরকার এসডিজি অর্জনের বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে ৭ম ও ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান স্পিকার সামিটে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘করোনাকালে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, করোনায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ তারা ধূমপান করতেন বা তামাকের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে চা-বাগানের শ্রমিকরা এক ধরনের তামাক গ্রহণ করেন। তামাক ও চুন মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এটি মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখেন তারা। আমাদের ট্রাক ড্রাইভারেরা গুল ব্যবহার করেন। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
গোল্ডফিশের স্মৃতি কি আসলেই ৩ সেকেন্ডের
ছবিটি ইসরায়েলি সেনার নয়, চিলির পুলিশ কর্মকর্তার
নেতানিয়াহুর মুখপাত্র প্রচারিত ভিডিও হামাসের নয়
নাকে লেবুর রস দিলে সারে না করোনা
বাড়িটি পুতিনের নয়

শেয়ার করুন

টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হওয়ার রহস্য ফাঁস

টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হওয়ার রহস্য ফাঁস

করোনা টিকা নেয়ার পর শরীর চুম্বকক্ষেত্র হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভারতের বেশ কয়েকজন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শরীরে ধাতব বস্তু আটকে থাকা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। বস্তুর আসঞ্জন বল এবং ঘামের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘাম না থাকলে কিন্তু ধাতব বস্তু আর আটকে থাকে না।’

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হয়ে গেছে দাবি করা ব্যক্তির গায়ে সামান্য পাউডার লাগিয়ে দিতেই শরীর থেকে উধাও চুম্বকশক্তি। গায়ে লেগে থাকছে না হাতা, খুন্তি, চামচ, খুচরো পয়সা। ফলে টিকার সঙ্গে এর যে কোনো সম্পর্ক নেই সেটি প্রমাণিত ।

বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছিলেন, টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হয়ে যাওয়া ভুয়া, ভিত্তিহীন খবর।

সম্প্রতি শিলিগুড়ির নেপাল চক্রবর্তী, তেহট্টের প্রবীর মণ্ডল, বসিরহাটের শংকর প্রামাণিক টিকা নেয়ার পর শরীরে ধাতব জিনিস আটকে যাচ্ছে, শরীর হয়ে উঠেছে চুম্বক ক্ষেত্র বলে দাবি করে যে খবর হয়ে ছিল সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ।

বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, বর্ষার সময় হওয়ায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীরে ঘাম বেশি হয়। এ কারণে এসব জিনিস আটকে যাচ্ছে শরীরে।

শরীর ও ধাতব বস্তুর মধ্যে থাকা পৃষ্ঠটান সেই কাজে খানিকটা সাহায্য করছে। এর সঙ্গে টিকার কোনো সম্পর্ক নাই। ম্যাগনেটম্যানরা শুধু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ।

ম্যাগনেট ম্যানদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে, ভারত সরকারের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও জানিয়ে দিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের টিকা নিয়ে কোনো ব্যক্তির শরীরে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হওয়া অসম্ভব ।

কেন্দ্রীয় সরকারের নোডাল এজেন্সি প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো জানিয়েছে, টিকা নিয়ে মানুষ চুম্বক হয়ে উঠেছে বলে যে দাবি নেট মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শরীরে ধাতব বস্তু আটকে থাকা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। বস্তুর আসঞ্জন বল এবং ঘামের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘাম না থাকলে কিন্তু ধাতব বস্তু আর আটকে থাকে না।’

বিজ্ঞান মঞ্চের আরেক সদস্য সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘অতিমারি পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ এ ধরনের খবর রটিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
গোল্ডফিশের স্মৃতি কি আসলেই ৩ সেকেন্ডের
ছবিটি ইসরায়েলি সেনার নয়, চিলির পুলিশ কর্মকর্তার
নেতানিয়াহুর মুখপাত্র প্রচারিত ভিডিও হামাসের নয়
নাকে লেবুর রস দিলে সারে না করোনা
বাড়িটি পুতিনের নয়

শেয়ার করুন

মানুষের মাংস খাবারে দেয় না ম্যাকডোনাল্ডস

মানুষের মাংস খাবারে দেয় না ম্যাকডোনাল্ডস

ফাস্টফুড কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে রয়টার্স। এতে দেখা যায়, ম্যাকডোনাল্ডস তাদের পণ্যে মানুষের মাংস ব্যবহার করে না। ব্যঙ্গাত্মক একটি নিবন্ধ থেকে এ অপপ্রচারের সূত্রপাত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফাস্টফুড কোম্পানি ম্যাকডোনাল্ডস তাদের খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন রয়েছে। অনেকে ওই গুঞ্জনকে সত্য হিসেবে ধরে নেন।

ম্যাকডোনাল্ডসের খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহারের দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ‘খুবই খারাপ’, ‘বিরক্তিকর’, ‘পাগলের কর্মকাণ্ড’ লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যও করেন অনেকে।

ফাস্টফুড কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে দেখা যায়, ম্যাকডোনাল্ডস তাদের পণ্যে মানুষের মাংস ব্যবহার করে না। ব্যঙ্গাত্মক একটি নিবন্ধ থেকে এ অপপ্রচারের সূত্রপাত হয়।

গুগলে সার্চ দিয়ে রয়টার্স জানতে পারে, শিকাগোভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক ব্লগ হাজলারসে একবার এক নিবন্ধ প্রকাশ হয়। নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘মানুষের মাংস ব্যবহারের জন্য উন্মোচিত হলো ম্যাকডোনাল্ডস!’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্ট ও হাজলারসের নিবন্ধে বলা হয়, অকলাহোমা শহরের একটি কারখানার ফ্রিজারে মানুষের মাংস পাওয়া যায়।

নিবন্ধ লেখকের নামের নিচে লেখা, ‘যা দেখ, তার অর্ধেক বিশ্বাস করো এবং অনলাইনে যা পড়ো, তার কিছু্ই বিশ্বাস করো না।’

ওই নিবন্ধকে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী কলাম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউ।

এর আগে নিজেদের ওয়েবসাইটকে মিথ্যা ও ব্যঙ্গের মিশ্রণ বলেছিলেন হাজলারসের প্রতিষ্ঠাতা।

খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহার করা হয় কি না, তা একবার ম্যাকডোনাল্ডসের ওয়েবসাইটে একজন জানতে চান। জবাবে ক্রেতাদের নিশ্চিত করে ম্যাকডোনাল্ডস জানায়, তাদের পণ্যে শতভাগ বিশুদ্ধ গরু ও মুরগি ব্যবহার করা হয়।

সাত বছরের বেশি সময় ধরে ম্যাকডোনাল্ডসকে ঘিরে এ ধরনের অপপ্রচার চলছে। অবশ্য ২০১৪ সালে ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইট স্নোপস মানুষের মাংস ব্যবহারের দাবি মিথ্যা প্রমাণ করে।

আরও পড়ুন:
গোল্ডফিশের স্মৃতি কি আসলেই ৩ সেকেন্ডের
ছবিটি ইসরায়েলি সেনার নয়, চিলির পুলিশ কর্মকর্তার
নেতানিয়াহুর মুখপাত্র প্রচারিত ভিডিও হামাসের নয়
নাকে লেবুর রস দিলে সারে না করোনা
বাড়িটি পুতিনের নয়

শেয়ার করুন

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

ছবিটি বাংলাদেশে ভাইরাল হয়েছে ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ নামে। ছবি: ফেসবুক

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ নামের এই ভাইরাল ছবি খুঁজে দেখেছে নিউজবাংলা। দেখা গেছে, ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ দাবি করে শেয়ার করা ছবিটি বাংলাদেশের কোনো স্থানই নয়; এমনকি সেটি কোনো রেস্টুরেন্টেরও নয়।

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাটে এত দিন মানুষের আনাগোনা ছিল ইলিশ খেতে যাওয়ার। খোলা হাওয়ায় বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আড্ডার পাশাপাশি ঘাটের পাশে টিনের ছাউনির রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন পদের ইলিশের স্বাদ নেয়া নিত্য ঘটনা।

মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের ঘাট এলাকার পাশে গড়ে উঠেছে একটি রেস্টুরেন্ট ‘প্রজেক্ট হিলশা’। দেশের সবচেয়ে বড় রেস্টুরেন্ট হিসেবে দাবি করে প্রজেক্ট হিলশা জানায়, তাদের মনোরম পরিবেশ দর্শনার্থী ও পর্যটকদের মানসম্মত ইলিশ খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

অবশ্য প্রজেক্ট হিলশা নিয়ে নানাজন যেমন আলোচনা করছেন, তেমনি করছেন সমালোচনাও। বিশেষ করে রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে।

ইলিশ মাছের কাঠামোতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির ছবিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। খাবারের দাম বেশি এমন দাবি করে ক্রেতারা সমালোচনা করলে সেগুলোও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।

এরই মধ্যে দেশের অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী শেয়ার করতে শুরু করেছেন আরেকটি মাছের আকৃতির ভবনের ছবি।

ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেটির নাম ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’। এমনকি সেখানে খাবারের দামও প্রজেক্ট হিলশা রেস্টুরেন্টের চেয়ে কম।

অনেকে ছবিটি শেয়ার করলেও আসলে বাংলাদেশে কোথায় সে ভবন কিংবা ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ রেস্টুরেন্ট সেটি কেউই স্পষ্ট করে বলেননি।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ নামের এই ভাইরাল ছবি খুঁজে দেখেছে নিউজবাংলা। দেখা গেছে, ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ দাবি করে শেয়ার করা ছবিটি বাংলাদেশের কোনো স্থানেরই নয়; এমনকি সেটি কোনো রেস্টুরেন্টেরও নয়।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়
১০ তলা ভবনটি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদে অবস্থিত। ছবি: এনএফডিএ

মাছ আকৃতির ভবনটি আসলে ভারতের জাতীয় মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের (এনএফডিএ) হায়দরাবাদে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়।

সংস্থাটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা গেছে, দেশটির মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান জাতীয় মৎস্য উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে ২০০৬ সালে।

দেশটিতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে পুরো ভারতজুড়ে কাজ করে সংস্থাটি।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদ শহরে ২০০৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ্রী শারদ পাওয়ার মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডটির ঘোষণা দেন।

তখন থেকে বোর্ডটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে হায়দরাবাদ শহরের আমিরপিটের মৈত্রী বিহার কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে।

বিখ্যাত মার্কিন স্থাপত্যবিদ আলবার্ট কাহন ১৯২৮ সালে ডিজাইন করেছিলেন ফিশারিজ বিল্ডিং নামের ৩০ তলা একটি ভবন; যেটি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে অবস্থিত।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়
ভুল তথ্যে দেশে ভাইরাল হয়েছে ভারতের মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের ছবি

যদিও স্থাপত্য নকশায় ফিশারিজ বিল্ডিংয়ের আদল নেই সে ভবনের। কিন্তু সেই ফিশারিজ বিল্ডিং নাম থেকেই ভারত সরকার তাদের মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের ভবন তৈরির অনুপ্রেরণা পায় বলে জানা গেছে। এরপরই ফিশারিজ ভবন নির্মাণের শুরু।

মন্ত্রণালয় এরপর হায়দরাবাদ শহরের পিভিএনআর এক্সপ্রেসওয়ের ২৩৫ নম্বর পিলারের কাছে নির্মাণ করে একটি মাছের আকৃতির ভবন।

২০১২ সালের এপ্রিলে সেই মাছ আকৃতির ভবনে অফিস শুরু করে ভারতীয় মৎস্য উন্নয় বোর্ড।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

১০ তলা ভবনটি মাটির সঙ্গে সংযুক্ত শুধু কিছু পিলার দিয়ে, সামনে আছে সিঁড়ি। এ ছাড়া দুটি টানেলে নিচ থেকে ভবনে ওঠার জন্য রয়েছে লিফটের ব্যবস্থা।

দৃষ্টিনন্দন হলেও ভবনটিতে দাপ্তরিক কাজ ছাড়া কোনো দর্শনার্থীর প্রবেশ করতে পারেন না। এমনকি ভবনটির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও দাঁড়াতে দেয়া হয় না কোনো গাড়ি।

আরও পড়ুন:
গোল্ডফিশের স্মৃতি কি আসলেই ৩ সেকেন্ডের
ছবিটি ইসরায়েলি সেনার নয়, চিলির পুলিশ কর্মকর্তার
নেতানিয়াহুর মুখপাত্র প্রচারিত ভিডিও হামাসের নয়
নাকে লেবুর রস দিলে সারে না করোনা
বাড়িটি পুতিনের নয়

শেয়ার করুন