নাকে লেবুর রস দিলে সারে না করোনা

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির স্ক্রিনশট। ছবি: এএফপি

নাকে লেবুর রস দিলে সারে না করোনা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্য, ‘কোভিড-১৯ রোধে লেবু কার্যকর, তা জানা যায়নি। করোনার হাত থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে সাধারণত পর্যাপ্ত পরিমাণ ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেয় ডব্লিউএইচও।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে এক হিন্দু পুরোহিত দাবি করেন, নাকে লেবুর রস দিলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, করোনার বিরুদ্ধে লেবু লড়তে পারে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদেরও ভাষ্য, ভিটামিন সি করোনা প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় সহায়তা করে তার পক্ষে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত নেই।

গত ১ মে ফেসবুকে ভিডিওটি শেয়ার হয়। এর শিরোনামে বলা হয়, ‘একটি লেবুই নিরাময়কারী। ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি তার প্রতি নাসারন্ধ্রে তিন ফোঁটা করে লেবুর রস দেবেন। অনেকেই এ চিকিৎসার মাধ্যমে উপকার পেয়েছেন।’

ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কার্যালয় জানিয়েছে, লেবুর রস করোনার সংক্রমণ দুর্বল বা রোধ করতে পারে, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাটি নিজেদের ওয়েবসাইটেও ওই পুরোহিতের দাবি নাকচ করে দেয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘কোভিড-১৯ রোধে লেবু কার্যকর, তা জানা যায়নি। করোনার হাত থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে সাধারণত পর্যাপ্ত পরিমাণ ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেয় ডব্লিউএইচও।’

ভারতের তথ্য অধিদপ্তরও করোনার প্রতিকার হিসেবে লেবুর রসের ভূমিকার কথা উড়িয়ে দিয়েছে।

অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে টুইটবার্তায় বলা হয়, ‘ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, নাকের ভেতর কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিলে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এ দাবি ঠিক নয়। এ ছাড়া এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও নেই।’

২২ এপ্রিল করোনার সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল। তাতে কোথাও নাসারন্ধ্রে লেবুর রস দেয়ার মাধ্যমে করোনা থেকে আরোগ্য লাভের কথা বলা নেই।

আরও পড়ুন:
বাড়িটি পুতিনের নয়
করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়
সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড
টিকার কার্যক্রম পরীক্ষামূলক ছিল, আসল নয়: বেলজিয়ামের মন্ত্রী
ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়নি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইসরায়েলি সেনার হামলার ভিডিওটি পুরনো

ইসরায়েলি সেনার হামলার ভিডিওটি পুরনো

ইসরায়েলি সেনার হামলার ঘটনা চলতি বছরের নয়, ২০১৫ সালের। ছবি: এএফপি

ব্যাপক প্রচার পাওয়া ভিডিওটির দাবিকে নাকচ করেছে এএফপির ফ্যাক্ট চেক। বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাটি চলতি বছরের গাজার নয়। ২০১৫ সালে পশ্চিম তীরের এক গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও টুইটারে সম্প্রতি একটি ভিডিও কয়েক হাজারবার ভিউ হয়। এতে দাবি করা হয়, চলতি বছরের জুনে গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি এক শিশুকে ইসরায়েলের সেনাদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

তবে এএফপির 'ফ্যাক্ট চেক' ভিডিওটির দাবিকে নাকচ করেছে। বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে রোববার বলা হয়, ঘটনাটি চলতি বছরের গাজার নয়। ২০১৫ সালে পশ্চিম তীরের এক গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

চলতি মাসের ১৪ তারিখ ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। দুই হাজারবারের বেশি এটি মানুষ দেখে।

ভিডিওর শিরোনামে লেখা, ‘ফিলিস্তিনি এক শিশুর গায়ে বসে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন অস্ত্রধারী এক ইসরায়েলি সেনা।

‘শিশুটির শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, যন্ত্রণায় সে কাঁদছে, ভাঙা হাতে ব্যথা পাচ্ছে। তারপরও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই ওই সেনার। পরে শিশুটির পরিবার সেনার হাত থেকে তাকে মুক্ত করে।’

শিরোনামে ‘হ্যাশট্যাগ সেইভশেখজারাহ’, ‘হ্যাশট্যাগ গাজা’ ও ‘হ্যাশট্যাগ গাজাআন্ডারঅ্যাটাক’ও উল্লেখ রয়েছে।

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকায় সম্প্রতি সহিংসতা দানা বাঁধে। ফিলিস্তিনি কয়েকটি পরিবারকে শেখ জারাহ থেকে উচ্ছেদের তৎপরতাকে ঘিরে ওই সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে।

এপ্রিলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে পূর্বপুরুষের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদে ইসরায়েলি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা মুসলমানদের পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দমনে আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী।

এরই জেরে একপর্যায়ে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ও ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা শুরু করে, যা চলে টানা ১১ দিন। বিমান হামলায় শিশুসহ ফিলিস্তিনের আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দীর্ঘ সংস্করণ ২০১৫ সালের ২৯ আগস্ট ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছিল।

ইউটিউবের ভিডিওর শিরোনামে লেখা, ‘নবী সালেহ ২৮/৮/২০১৫’। ভিডিওটির ৫ মিনিট ৯ সেকেন্ড থেকে সাম্প্রতিককালের ভিডিওটির মিল পাওয়া গেছে।

২০১৫ সালের ২৮ আগস্ট নবী সালেহ গ্রামে একই ঘটনা ধারণ করেন এএফপির ফটোগ্রাফার।

ওই সময়ের ভিডিওর শিরোনামে বলা হয়, ‘ফিলিস্তিনি মেয়ে আহেদ তামিমি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ইসরায়েলের সেনার হাত থেকে এক ফিলিস্তিনি ছেলেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে।

‘পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরের নবী সালেহ গ্রামে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী ও ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় ওই ঘটনা ঘটে।’

আরও পড়ুন:
বাড়িটি পুতিনের নয়
করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়
সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড
টিকার কার্যক্রম পরীক্ষামূলক ছিল, আসল নয়: বেলজিয়ামের মন্ত্রী
ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়নি

শেয়ার করুন

দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?

দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানজনিত কারণে বছরে (১২ মাস) এক লাখ ৬১ হাজার মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন। এর সঙ্গে দেশে এক বছরের করোনায় মৃত্যুর সরকারি হিসাব বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, ধূমপানে করোনার চেয়ে মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে প্রায় ১৯ গুণ (১৮.৬৭) বেশি।

ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতিবছর এক লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ। তার দাবি, ধূমপানজনিত কারণে বছরে মৃত্যুর এই সংখ্যা করোনাভাইরাসে মৃত্যুর ১৩ গুণেরও বেশি।

মুজিববর্ষ ও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনলাইন আলোচনা সভায় যুক্ত হয়ে এ তথ্য দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি পারেননি। তবে স্বাস্থ্যসচিব লোকমান হোসেন মিয়া ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম ছিলেন।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানের কারণে করোনাভাইরাসের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি মৃত্যুর তথ্য দিলেও এই পরিসংখ্যানের উৎস সুনির্দিষ্টভাবে জানাননি।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। আর প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ওই বছরের ১৮ মার্চ। এরপর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে মারা গেছেন ৮ হাজার ৬২৪ জন। আর প্রায় ১৫ মাস, অর্থাৎ ১৬ জুন পর্যন্ত মারা গেছেন ১৩ হাজার ২৮২ জন।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ধূমপানজনিত কারণে বছরে (১২ মাস) এক লাখ ৬১ হাজার মৃত্যুর তথ্য দিয়েছেন। এর সঙ্গে দেশে এক বছরের করোনায় মৃত্যুর সরকারি হিসাব বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, ধূমপানে করোনার চেয়ে মৃত্যু প্রকৃতপক্ষে প্রায় ১৯ গুণ (১৮.৬৭) বেশি।

দেশে করোনার চেয়ে ধূমপানে কত গুণ বেশি মৃত্যু?
মুজিববর্ষ ও বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে অনলাইন আলোচনা সভা

অনলাইন আলোচনায় স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক বলেন, প্রতিবছর গড়ে ১২ লাখ লোক ধূমপানজনিত বিভিন্ন রোগে ভোগেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্যানসার, যক্ষ্মা, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, হৃদরোগ।

মো. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ বলেন, ‘সবাই যখন তামাকমুক্ত দেশ গড়তে চাইছে, তখন একটি শ্রেণি রয়েছে তারা বলেন, সরকার এই খাত থেকে অনেক বেশি রাজস্ব পেয়ে থাকে। তবে ২০১৭ সালে সরকার তামাক থেকে রাজস্ব পেয়েছে ২২ হাজার ২৬৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা, কিন্তু একই বছর ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির পেছনে। শুধু তামাকজনিত অসুখের কারণে ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি চিকিৎসাব্যয় হচ্ছে।’

তামাকশ্রমিকের ওপর গবেষণার তাগিদ দিয়ে শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘তামাক চাষে জড়িতদের অন্যান্য মানুষের চেয়ে অনেক কম আয়ু। গবেষণা করলে দেখা যাবে তামাক উৎপাদন ও চাষে যারা জড়িত, তারা অন্য শ্রমিকদের চেয়ে অনেক আগেই মারা যান।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ‘তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন প্রতিটি ক্ষেত্রই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ক্ষতি করে। তামাক সেবনের কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ক্রনিক লাং ডিজিজসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে বছরে পৃথিবীতে ৮০ লক্ষাধিক ও বাংলাদেশে ১ লক্ষ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। সরকার তামাক খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার চাইতে অনেক বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় করতে হয়। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও অকালমৃত্যু প্রতিরোধে বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

‘বাংলাদেশ সরকার এসডিজি অর্জনের বিষয়টিকে এগিয়ে নিতে ৭ম ও ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় তামাক নিয়ন্ত্রণকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান স্পিকার সামিটে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, ‘করোনাকালে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, করোনায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে একটা বড় অংশ তারা ধূমপান করতেন বা তামাকের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে চা-বাগানের শ্রমিকরা এক ধরনের তামাক গ্রহণ করেন। তামাক ও চুন মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এটি মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখেন তারা। আমাদের ট্রাক ড্রাইভারেরা গুল ব্যবহার করেন। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
বাড়িটি পুতিনের নয়
করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়
সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড
টিকার কার্যক্রম পরীক্ষামূলক ছিল, আসল নয়: বেলজিয়ামের মন্ত্রী
ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়নি

শেয়ার করুন

টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হওয়ার রহস্য ফাঁস

টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হওয়ার রহস্য ফাঁস

করোনা টিকা নেয়ার পর শরীর চুম্বকক্ষেত্র হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভারতের বেশ কয়েকজন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শরীরে ধাতব বস্তু আটকে থাকা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। বস্তুর আসঞ্জন বল এবং ঘামের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘাম না থাকলে কিন্তু ধাতব বস্তু আর আটকে থাকে না।’

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হয়ে গেছে দাবি করা ব্যক্তির গায়ে সামান্য পাউডার লাগিয়ে দিতেই শরীর থেকে উধাও চুম্বকশক্তি। গায়ে লেগে থাকছে না হাতা, খুন্তি, চামচ, খুচরো পয়সা। ফলে টিকার সঙ্গে এর যে কোনো সম্পর্ক নেই সেটি প্রমাণিত ।

বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছিলেন, টিকা নিয়ে শরীর চুম্বক হয়ে যাওয়া ভুয়া, ভিত্তিহীন খবর।

সম্প্রতি শিলিগুড়ির নেপাল চক্রবর্তী, তেহট্টের প্রবীর মণ্ডল, বসিরহাটের শংকর প্রামাণিক টিকা নেয়ার পর শরীরে ধাতব জিনিস আটকে যাচ্ছে, শরীর হয়ে উঠেছে চুম্বক ক্ষেত্র বলে দাবি করে যে খবর হয়ে ছিল সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ।

বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, বর্ষার সময় হওয়ায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় শরীরে ঘাম বেশি হয়। এ কারণে এসব জিনিস আটকে যাচ্ছে শরীরে।

শরীর ও ধাতব বস্তুর মধ্যে থাকা পৃষ্ঠটান সেই কাজে খানিকটা সাহায্য করছে। এর সঙ্গে টিকার কোনো সম্পর্ক নাই। ম্যাগনেটম্যানরা শুধু বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে ।

ম্যাগনেট ম্যানদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে, ভারত সরকারের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও জানিয়ে দিয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের টিকা নিয়ে কোনো ব্যক্তির শরীরে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরি হওয়া অসম্ভব ।

কেন্দ্রীয় সরকারের নোডাল এজেন্সি প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো জানিয়েছে, টিকা নিয়ে মানুষ চুম্বক হয়ে উঠেছে বলে যে দাবি নেট মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের অমিত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘শরীরে ধাতব বস্তু আটকে থাকা অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। বস্তুর আসঞ্জন বল এবং ঘামের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ঘাম না থাকলে কিন্তু ধাতব বস্তু আর আটকে থাকে না।’

বিজ্ঞান মঞ্চের আরেক সদস্য সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, ‘অতিমারি পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ এ ধরনের খবর রটিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নেয়া উচিত।’

আরও পড়ুন:
বাড়িটি পুতিনের নয়
করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়
সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড
টিকার কার্যক্রম পরীক্ষামূলক ছিল, আসল নয়: বেলজিয়ামের মন্ত্রী
ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়নি

শেয়ার করুন

মানুষের মাংস খাবারে দেয় না ম্যাকডোনাল্ডস

মানুষের মাংস খাবারে দেয় না ম্যাকডোনাল্ডস

ফাস্টফুড কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে রয়টার্স। এতে দেখা যায়, ম্যাকডোনাল্ডস তাদের পণ্যে মানুষের মাংস ব্যবহার করে না। ব্যঙ্গাত্মক একটি নিবন্ধ থেকে এ অপপ্রচারের সূত্রপাত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফাস্টফুড কোম্পানি ম্যাকডোনাল্ডস তাদের খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহার করে বলে বিভিন্ন মহলে দীর্ঘদিন ধরে গুঞ্জন রয়েছে। অনেকে ওই গুঞ্জনকে সত্য হিসেবে ধরে নেন।

ম্যাকডোনাল্ডসের খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহারের দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ‘খুবই খারাপ’, ‘বিরক্তিকর’, ‘পাগলের কর্মকাণ্ড’ লিখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যও করেন অনেকে।

ফাস্টফুড কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে দেখা যায়, ম্যাকডোনাল্ডস তাদের পণ্যে মানুষের মাংস ব্যবহার করে না। ব্যঙ্গাত্মক একটি নিবন্ধ থেকে এ অপপ্রচারের সূত্রপাত হয়।

গুগলে সার্চ দিয়ে রয়টার্স জানতে পারে, শিকাগোভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক ব্লগ হাজলারসে একবার এক নিবন্ধ প্রকাশ হয়। নিবন্ধটির শিরোনাম ছিল, ‘মানুষের মাংস ব্যবহারের জন্য উন্মোচিত হলো ম্যাকডোনাল্ডস!’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্ট ও হাজলারসের নিবন্ধে বলা হয়, অকলাহোমা শহরের একটি কারখানার ফ্রিজারে মানুষের মাংস পাওয়া যায়।

নিবন্ধ লেখকের নামের নিচে লেখা, ‘যা দেখ, তার অর্ধেক বিশ্বাস করো এবং অনলাইনে যা পড়ো, তার কিছু্ই বিশ্বাস করো না।’

ওই নিবন্ধকে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী কলাম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউ।

এর আগে নিজেদের ওয়েবসাইটকে মিথ্যা ও ব্যঙ্গের মিশ্রণ বলেছিলেন হাজলারসের প্রতিষ্ঠাতা।

খাবারে মানুষের মাংস ব্যবহার করা হয় কি না, তা একবার ম্যাকডোনাল্ডসের ওয়েবসাইটে একজন জানতে চান। জবাবে ক্রেতাদের নিশ্চিত করে ম্যাকডোনাল্ডস জানায়, তাদের পণ্যে শতভাগ বিশুদ্ধ গরু ও মুরগি ব্যবহার করা হয়।

সাত বছরের বেশি সময় ধরে ম্যাকডোনাল্ডসকে ঘিরে এ ধরনের অপপ্রচার চলছে। অবশ্য ২০১৪ সালে ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইট স্নোপস মানুষের মাংস ব্যবহারের দাবি মিথ্যা প্রমাণ করে।

আরও পড়ুন:
বাড়িটি পুতিনের নয়
করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়
সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড
টিকার কার্যক্রম পরীক্ষামূলক ছিল, আসল নয়: বেলজিয়ামের মন্ত্রী
ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়নি

শেয়ার করুন

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

ছবিটি বাংলাদেশে ভাইরাল হয়েছে ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ নামে। ছবি: ফেসবুক

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ নামের এই ভাইরাল ছবি খুঁজে দেখেছে নিউজবাংলা। দেখা গেছে, ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ দাবি করে শেয়ার করা ছবিটি বাংলাদেশের কোনো স্থানই নয়; এমনকি সেটি কোনো রেস্টুরেন্টেরও নয়।

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাটে এত দিন মানুষের আনাগোনা ছিল ইলিশ খেতে যাওয়ার। খোলা হাওয়ায় বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আড্ডার পাশাপাশি ঘাটের পাশে টিনের ছাউনির রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন পদের ইলিশের স্বাদ নেয়া নিত্য ঘটনা।

মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরের ঘাট এলাকার পাশে গড়ে উঠেছে একটি রেস্টুরেন্ট ‘প্রজেক্ট হিলশা’। দেশের সবচেয়ে বড় রেস্টুরেন্ট হিসেবে দাবি করে প্রজেক্ট হিলশা জানায়, তাদের মনোরম পরিবেশ দর্শনার্থী ও পর্যটকদের মানসম্মত ইলিশ খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

অবশ্য প্রজেক্ট হিলশা নিয়ে নানাজন যেমন আলোচনা করছেন, তেমনি করছেন সমালোচনাও। বিশেষ করে রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে।

ইলিশ মাছের কাঠামোতে তৈরি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাটির ছবিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। খাবারের দাম বেশি এমন দাবি করে ক্রেতারা সমালোচনা করলে সেগুলোও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।

এরই মধ্যে দেশের অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী শেয়ার করতে শুরু করেছেন আরেকটি মাছের আকৃতির ভবনের ছবি।

ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেটির নাম ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’। এমনকি সেখানে খাবারের দামও প্রজেক্ট হিলশা রেস্টুরেন্টের চেয়ে কম।

অনেকে ছবিটি শেয়ার করলেও আসলে বাংলাদেশে কোথায় সে ভবন কিংবা ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ রেস্টুরেন্ট সেটি কেউই স্পষ্ট করে বলেননি।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ নামের এই ভাইরাল ছবি খুঁজে দেখেছে নিউজবাংলা। দেখা গেছে, ‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ দাবি করে শেয়ার করা ছবিটি বাংলাদেশের কোনো স্থানেরই নয়; এমনকি সেটি কোনো রেস্টুরেন্টেরও নয়।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়
১০ তলা ভবনটি ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদে অবস্থিত। ছবি: এনএফডিএ

মাছ আকৃতির ভবনটি আসলে ভারতের জাতীয় মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের (এনএফডিএ) হায়দরাবাদে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়।

সংস্থাটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে জানা গেছে, দেশটির মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান জাতীয় মৎস্য উন্নয়ন বোর্ড গঠন করে ২০০৬ সালে।

দেশটিতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ও বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে পুরো ভারতজুড়ে কাজ করে সংস্থাটি।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দরাবাদ শহরে ২০০৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ্রী শারদ পাওয়ার মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডটির ঘোষণা দেন।

তখন থেকে বোর্ডটি তাদের কার্যক্রম শুরু করে হায়দরাবাদ শহরের আমিরপিটের মৈত্রী বিহার কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে।

বিখ্যাত মার্কিন স্থাপত্যবিদ আলবার্ট কাহন ১৯২৮ সালে ডিজাইন করেছিলেন ফিশারিজ বিল্ডিং নামের ৩০ তলা একটি ভবন; যেটি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে অবস্থিত।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়
ভুল তথ্যে দেশে ভাইরাল হয়েছে ভারতের মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের ছবি

যদিও স্থাপত্য নকশায় ফিশারিজ বিল্ডিংয়ের আদল নেই সে ভবনের। কিন্তু সেই ফিশারিজ বিল্ডিং নাম থেকেই ভারত সরকার তাদের মৎস্য উন্নয়ন বোর্ডের ভবন তৈরির অনুপ্রেরণা পায় বলে জানা গেছে। এরপরই ফিশারিজ ভবন নির্মাণের শুরু।

মন্ত্রণালয় এরপর হায়দরাবাদ শহরের পিভিএনআর এক্সপ্রেসওয়ের ২৩৫ নম্বর পিলারের কাছে নির্মাণ করে একটি মাছের আকৃতির ভবন।

২০১২ সালের এপ্রিলে সেই মাছ আকৃতির ভবনে অফিস শুরু করে ভারতীয় মৎস্য উন্নয় বোর্ড।

‘প্রজেক্ট তেলাপিয়া’ ভবনটি কোথায়

১০ তলা ভবনটি মাটির সঙ্গে সংযুক্ত শুধু কিছু পিলার দিয়ে, সামনে আছে সিঁড়ি। এ ছাড়া দুটি টানেলে নিচ থেকে ভবনে ওঠার জন্য রয়েছে লিফটের ব্যবস্থা।

দৃষ্টিনন্দন হলেও ভবনটিতে দাপ্তরিক কাজ ছাড়া কোনো দর্শনার্থীর প্রবেশ করতে পারেন না। এমনকি ভবনটির পাশ দিয়ে চলে যাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও দাঁড়াতে দেয়া হয় না কোনো গাড়ি।

আরও পড়ুন:
বাড়িটি পুতিনের নয়
করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়
সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড
টিকার কার্যক্রম পরীক্ষামূলক ছিল, আসল নয়: বেলজিয়ামের মন্ত্রী
ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়নি

শেয়ার করুন

পোলট্রি মুরগি কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উৎস?

পোলট্রি মুরগি কি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উৎস?

পোলট্রি মুরগি থেকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ানোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের একটি টুইটে জানানো হয়, পশুপাখি থেকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই। এ-সংক্রান্ত যে বার্তাটি ছড়ানো হচ্ছে, সেটি ভিত্তিহীন।

কোভিড-১৯ মহামারির মাঝে নতুন আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস (কালো ছত্রাক) সংক্রমণ।

ভারতে বিরল এই সংক্রমণে এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে ভারত সরকার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্তের ঘটনা নতুন নয়। প্রকৃতিতে থাকা এ ফাঙ্গাস আগে থেকেই মানুষের জন্য প্রাণঘাতী। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক থাকলে এগুলো কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। এটি তাদের জন্যই ভয়াবহ, যাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে একটি বার্তা ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগোযোগমাধ্যমে। ভারতে হোয়াটসঅ্যাপেও ছড়ানো হচ্ছে বার্তাটি।

এতে বলা হয়েছে, পোলট্রির মুরগি থেকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ ঘটছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে ওই বার্তায়।

তবে এই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের একটি টুইটে জানানো হয়, পশুপাখি থেকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ছড়ানোর কোনো প্রমাণ নেই। এ-সংক্রান্ত যে বার্তাটি ছড়ানো হচ্ছে, সেটি ভিত্তিহীন।

মিউকরমাইকোসিসের উৎস মিউকর নামক ছত্রাক থেকে, যা সাধারণভাবে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস হিসেবে পরিচিত।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ছত্রাক সাধারণত মানুষের নাকে বা মুখে পাওয়া যায়। এই ছত্রাক সংক্রমণের উপসর্গ মূলত দাঁতে ব্যথা, মুখ ফুলে যাওয়া, মুখ অবশ হয়ে যাওয়া, নাকে কালচে দাগ, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, মাথা ধরা, নাক দিয়ে রক্ত বা কালচে কফ বের হওয়া।

এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন:
বাড়িটি পুতিনের নয়
করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়
সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড
টিকার কার্যক্রম পরীক্ষামূলক ছিল, আসল নয়: বেলজিয়ামের মন্ত্রী
ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়নি

শেয়ার করুন

ভারতে হিন্দুদের গণহারে ধর্মত্যাগের খবর সত্য নয়

ভারতে হিন্দুদের গণহারে ধর্মত্যাগের খবর সত্য নয়

অনলাইনে ভাইরাল হিন্দু দেব-দেবীদের মূর্তি গুঁড়িয়ে দেয়ার দৃশ্য থেকে কেটে নেয়া ছবি। ছবি: এএফপি

ফ্যাক্ট চেকে জানা গেছে, আপাতদৃষ্টিতে এটি সংবাদ প্রতিবেদন বলে মনে হলেও ভিডিওতে ব্যবহৃত দৃশ্য আসলে মহামারির অনেক আগে ধারণ করা। এর সঙ্গে ভারতের হিন্দুদের ধর্মত্যাগের কোনো সম্পর্ক নেই।

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের মধ্যে ধর্মত্যাগের হিড়িক পড়েছে বলে সম্প্রতি একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের একটি সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠানের বরাত দিয়ে ছড়ানো এ খবর ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে হিন্দুদের বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি ও অন্যান্য ধর্মীয় নিদর্শন ছুড়ে ফেলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে দাবি করা হয়, ভারতে করোনাভাইরাসের ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণে হিন্দুরা তাদের ভগবানের ওপর ভরসা হারিয়েছেন। করোনার বিস্তার রোধে ব্যর্থ ভগবানের প্রয়োজন নেই বলে ক্ষুব্ধ তারা।

ফ্যাক্ট চেকে জানা গেছে, আপাতদৃষ্টিতে এটি সংবাদ প্রতিবেদন বলে মনে হলেও ভিডিওতে ব্যবহৃত দৃশ্য আসলে মহামারির অনেক আগে ধারণ করা। এর সঙ্গে ভারতের হিন্দুদের ধর্মত্যাগের কোনো সম্পর্ক নেই।

এসব দৃশ্য প্রথম প্রচার হয় ইরানের টিভি চ্যানেল শিয়া ওয়েভসে। ভিডিওর একটি দৃশ্যে দেখা যায়, মাটিতে পড়ে থাকা অর্ধশতাধিক হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি একটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

আরেকটি দৃশ্যে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ট্রাক থেকে নদীতে ছুড়ে ফেলছেন একটি বিশাল মূর্তি। সেখানে ইরানের উপস্থাপককে বলতে শোনা যায়, ‘বিপুলসংখ্যক ভারতীয় জনতা নিজেদের ভগবানের মূর্তি রাস্তায় ছুড়ে ফেলছেন। তাদের দেশে করোনার আকাশছোঁয়া সংক্রমণ ও প্রাণহানির কারণে বিশ্বাস হারিয়েছেন তারা… অভিযোগ, এতদিন যাদের পূজা করে এসেছেন, সেই ভগবানরাই শিষ্যদের রক্ষা করেননি।’

বানোয়াট ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথম প্রচার হয় ১১ মে।

রিভার্স ইমেজ সার্চে দেখা যায়, ভিডিওটি চীনের উহানে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব জানানোরও তিন মাস আগের। ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর হিন্দি ভাষায় অনলাইনে প্রথম প্রকাশিত হয় ভিডিওটির একটি অংশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ভিডিওতে দেখানো হিন্দুদের অন্যতম দেবী দশমার মূর্তিটি আহমেদাবাদের নদীতে ছুড়ে ফেলার ঘটনা ২০১৯ সালের আগস্টের।

প্রচলিত ধর্মীয় রীতি মেনেই এসব মূর্তি নদীতে ফেলেন হিন্দুরা।

কিন্তু দূষণ কমাতে গত কয়েক বছরে এ রীতি কিছুটা বদলেছে। নদীতে মূর্তি ফেলার নিয়ম খানিকটা পাল্টে তা ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কয়েক মাস আগে টুইটারে একটি পোস্টও করেন ভারতের এক কমিশনার বিজয় নেহরা। সেখানেই নদী দূষণ এড়াতে ঐতিহ্য বদলে ফেলার কথা বলেন তিনি।

পরে পৃথক একটি টুইটে তিনি জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব ছবি ও দৃশ্য ভিন্ন ঘটনার বলে ছড়ানো হচ্ছে।

নেহরার এই টুইটগুলোর সঙ্গে ঘটনার ভিডিও যুক্ত করে স্থানীয় এক সাংবাদিকও আলাদা ভিডিও প্রতিবেদন তৈরি করেন।

সেটি ইরানের একটি সংবাদমাধ্যম গ্রহণ করে এবং সম্পূর্ণ আলাদা খবর শোনায়।

ভিডিওর আরেকটি অংশও (যেখানে ট্রাক থেকে মূর্তি নদীতে ছুড়ে ফেলা দেখানো হয়েছে) অনলাইনে আছে ২০১৫ সাল থেকে।

এই ভিডিওর পেছনের ঘটনা জানা না গেলেও এটা নিশ্চিত যে, এর সঙ্গে করোনাভাইরাস মহামারির কোনো সম্পর্ক নেই।

সব মিলিয়ে ভাইরাল ভিডিও ফুটেজটির সঙ্গে হিন্দুদের দেব-দেবীদের বর্জনের কোনো সম্পর্কই নেই।

আরও পড়ুন:
বাড়িটি পুতিনের নয়
করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়
সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড
টিকার কার্যক্রম পরীক্ষামূলক ছিল, আসল নয়: বেলজিয়ামের মন্ত্রী
ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়নি

শেয়ার করুন