কমলার সঙ্গে বিমান ভ্রমণ করেছেন বাইডেন?

কমলার সঙ্গে বিমান ভ্রমণ করেছেন বাইডেন?

১৬ মার্চ জর্জিয়ায় তোলা ছবি। ছবি: এএফপি

নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের এক সঙ্গে একই বিমানে ভ্রমণ না করার চর্চা দীর্ঘদিনের। ফলে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে বাইডেন ও হ্যারিসের এক সঙ্গে বেরিয়ে আসার ছবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের একটি ছবি ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রেসিডেন্ট ও তার প্রধান সহযোগী একটি বিমান থেকে নেমে আসছেন।

নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের এক সঙ্গে একই বিমানে ভ্রমণ না করার চর্চা দীর্ঘদিনের। ফলে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে বাইডেন ও হ্যারিসের এক সঙ্গে বেরিয়ে আসার ছবি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

ভাইরাল পোস্টটিতে লেখা ছিল, ‘স্বাভাবিক কারণেই প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কখনোই এক সঙ্গে ভ্রমণ করবেন না বলে সুনির্দিষ্ট একটি নিয়ম আছে। তাহলে এখানে কী ঘটছে? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো কথা বলেনি কেন?’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০ মার্চ পোস্টটি দেয়ার পর শেয়ার হয়েছে তিন হাজার ১০০ বারের বেশি।

এই ছবির পেছনের ঘটনায় অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, বার্তা সংস্থা এএফপির আলোকচিত্রী এরিক বারাদাত সেটি তুলেছেন।এতে দেখা যায়, বাইডেন আর হ্যারিস এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে পর পর নেমে আসছেন।

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট এক সঙ্গে আকাশে ওড়েননি।

কমলা হ্যারিস আলাদা একটি বিমান- এয়ার ফোর্স টুতে চড়ে জর্জিয়াতে পৌঁছেছিলেন। এরপর সেখানে বাইডেনকে বহনকারী এয়ারফোর্স ওয়ান অবতরণের পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাতে ওঠেন কমলা। এরপর পরে দুই নেতা এক সঙ্গে নেমে আসেন।

উল্লেখ্য, এয়ার ফোর্স ওয়ান বা এয়ার ফোর্স টু কোনো সুনির্দিষ্ট বিমানের নাম নয়। প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কোন বিমানে চড়বেন, তা বোঝাতে প্রতীকী এই নাম ব্যবহার করা হয়।

এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে দুই নেতার এক সঙ্গে নেমে আসার ছবি নিয়ে বিভ্রান্তির শুরু ব্রিটিশ-আমেরিকান প্রতিষ্ঠান গেটি ইমেজ সেটি প্রকাশের পর থেকে।

এএফপির কাছ থেকে নেয়া ছবিটি গেটি ইমেজ প্রকাশ করার সময় ক্যাপশন খানিকটা বদলে দেয়াতেই বাঁধে বিপত্তি। ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘জর্জিয়ার মারিয়েত্তায় ডবিন্স এয়ার রিজার্ভ বেজে বাইডেন ও হ্যারিসের পৌঁছানোর মুহূর্ত।’

আটলান্টায় ১৬ মার্চের গোলাগুলিতে ছয় এশীয়সহ আটজন নিহতের ঘটনায় সেখানকার এশীয় আমেরিকান কমিউনিটির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন বাইডেন ও কমলা।

নিয়ম নাকি রীতি?

হোয়াইট হাউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট এক সঙ্গে বিমানে চড়তে পারবেন না, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ম বা আইন নেই, তবে নিরাপত্তার স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে এ চর্চা চলে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্ট আকস্মিক কোনো দুর্ঘটনায় পড়লে বা তার মৃত্যু হলে দেশের তাৎক্ষণিক দায়িত্ব বর্তায় ভাইস প্রেসিডেন্টের ওপর।

ইউএসএ টুডেকে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কখনও কোনো কারণেই এক বিমানে চড়েন না। এটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নয়। কিন্তু এটাই রীতি।’

এয়ার ফোর্স ওয়ানের ভেতরের তিনটি তলায় চার হাজার বর্গফুট জায়গায় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী ও অন্যান্য অতিথিদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

কেবল ভাইস প্রেসিডেন্টের এই বিমানে ভ্রমণের অনুমতি নেই। তার জন্য রয়েছে আলাদা বিমান। এতে ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য কর্মকর্তারা যেতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা
কামড়ে চলছে বাইডেনের কুকুর
বন্দুকে লাগাম চান বাইডেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হাঙ্গেরি-যুক্তরাষ্ট্রের কোলাজ, এক শহরের নয়

হাঙ্গেরি-যুক্তরাষ্ট্রের কোলাজ, এক শহরের নয়

এই কোলাজ ছবি ভিন্ন দুই শহরের, এক শহরের নয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

মূলত গাছ থাকা ও না থাকার কারণে একই শহরে একই সময়ে তাপমাত্রার যে ব্যাপক পার্থক্য হয়, তা বোঝানোই কোলাজটির মূল উদ্দেশ্য। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোলাজে ব্যবহার করা ছবি দুটি এক শহরের নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এক কোলাজ ছবি ভাইরাল হয়। এতে বলা হয়, এক শহরের দুই জায়গায় একই সময়ে ছবি দুটি তোলা হয়েছে।

ওপরের ছবিতে কোনো গাছ নেই আর নিচের ছবিতে রাস্তার দুধার বড় বড় গাছে ঢাকা।

যে ছবিতে গাছ নেই তাতে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস লেখা।

আর গাছ থাকা এলাকায় তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে।

মূলত গাছ থাকা ও না থাকার কারণে একই শহরে একই সময়ে তাপমাত্রার যে ব্যাপক পার্থক্য হয়, তা বোঝানোই কোলাজটির মূল উদ্দেশ্য।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি-ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) ভাইরাল হওয়া কোলাজ ছবি নিয়ে অনুসন্ধান চালায়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রথম ছবি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলস শহর থেকে নেয়া। আর অন্যটি হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের।

প্রথমে কোলাজের ওপরের ছবি নিয়ে অনুসন্ধান করে এএফডব্লিউএ। ছবির বাঁদিকে ‘ম্যাজিক ভ্যালি অটো পার্টস’ লেখা দোকানটি জুম করা হয়।

এরপর দোকানটির অবস্থান বের করতে গুগল ইমেজে অনুসন্ধান করা হলে একপর্যায়ে জানা যায়, ম্যাজিক ভ্যালি অটো পার্টস টুইন ফলসে অবস্থিত।

গুগল ইমেজে আরও অনুসন্ধান করে ইন্ডিয়া টুডের দল টুইন ফলসের তিনটি সবচেয়ে বাজে এলাকা নিয়ে লেখা একটি নিবন্ধের খোঁজ পায়। ২০১৭ সালের ২১ মার্চ নিবন্ধটি প্রকাশ হয়।

এরপর কোলাজের নিচের ছবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে এএফডব্লিউএ।

একপর্যায়ে হাউস অক্টোগন নামে এক হোটেলের ওয়েবসাইটে ওই ছবি পাওয়া যায়।

ওয়েবসাইটের ফটো গ্যালারির ‘হোটেলের চারপাশ’ অংশে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল।

হাউস অক্টোগন বুদাপেস্টের অভিজাত অক্টোগন এলাকার ইয়োতভস সড়কে অবস্থিত।

এতে পরিষ্কার হয়, কোলাজে ব্যবহার করা ছবি দুটি একই শহরের নয়। একটি যুক্তরাষ্ট্রের আর অন্যটি হাঙ্গেরির।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা
কামড়ে চলছে বাইডেনের কুকুর
বন্দুকে লাগাম চান বাইডেন

শেয়ার করুন

ঘুমের আগে পানি-অ্যাসপিরিনে কি হৃদরোগের ঝুঁকি কমে

ঘুমের আগে পানি-অ্যাসপিরিনে কি হৃদরোগের ঝুঁকি কমে

হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক পথ্য হিসেবে অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও এটা প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছেন ড. পাইপস। বিশেষ করে হৃদরোগপূর্ব জটিলতায় ভুগছেন না, এমন ব্যক্তিদের জন্য তো একেবারেই নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানি ও অ্যাসপিরিন খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ পোস্টটি শেয়ার হয়েছে কয়েক লাখ বার।

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতে নিয়মিত পানি পানের পরামর্শ দেন স্বাস্থ্যবিদরা। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট সময়ে এ চর্চা স্বাস্থ্যে আলাদা প্রভাব ফেলে, এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ অটোয়া হার্ট ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ প্রতিরোধ ও পুনর্বাসন বিভাগের সাবেক প্রধান ড. অ্যান্ড্রু পাইপস।

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক পথ্য হিসেবে অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও এটা প্রতিদিন খাওয়া উচিত নয় বলে জানিয়েছেন ড. পাইপস। বিশেষ করে হৃদরোগপূর্ব জটিলতায় ভুগছেন না, এমন ব্যক্তিদের জন্য তো একেবারেই নয়।

পাইপস বলেন, ‘দিনে কিংবা রাতে যখনই হোক না কেন, প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়া মোটেই উচিত কাজ নয়। অ্যাসপিরিন খাওয়ার পর দেহ এর প্রভাবমুক্ত হতে সাত থেকে ১০ দিন সময় নেয়। শুনতে ভালো লাগলেও প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়ার কোনো বাস্তব কার্যকারিতা নেই।’

স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে আলোচনার জন্য বেশ জনপ্রিয় ইস্যু। এসবের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ অন্যতম। বিশেষ করে সহজে ও ন্যূনতম খরচে হৃদরোগের ঝুঁকিমুক্ত থাকার উপায় হিসেবে পানি পান আর অ্যাসপিরিন সেবনকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই নিয়েছেন অনেক মানুষ।

ঘুমের আগে পানি-অ্যাসপিরিনে কি হৃদরোগের ঝুঁকি কমে
ফেসবুকে ছড়ানো হৃদরোগের ঝুঁকি এড়ানোবিষয়ক ভুয়া পোস্ট। ছবি: এএফপি

ফেসবুকে এ-সংক্রান্ত পোস্ট ভাইরাল হওয়ার আগে অবশ্য ভ্রান্ত এ ধারণাটি ছড়িয়েছে ই-মেইলের মাধ্যমে। এর প্রভাব এতটাই যে কানাডায় বোতলজাত পানি উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমা প্রতিষ্ঠানও নিজ গ্রাহকদের প্রতিদিন ঘুমানোর আগে পানি পানের পরামর্শ দিয়েছে।

এ ধরনের যত পোস্ট আছে, সবগুলোতেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান মায়ো ক্লিনিকের কর্মকর্তা ড. ভিরেন্দ সমার্সের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র হিসেবে বলা হয়েছে, আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজির জার্নালে ২০০৮ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদনের কথা।

বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই গবেষণা প্রতিবেদনটির লেখক ড. সমার্স নন। গবেষণায় তার কোনো ভূমিকাও নেই। গবেষণা প্রতিবেদনটিতে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রতিরোধে পানি পান বা অ্যাসপিরিন খাওয়ার বিষয়ে কিছু উল্লেখও নেই।

মূলত ঘুমানোর সময় থেমে থেমে শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতায় ভোগা রোগীদের নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে। এতে রাতে হৃৎপিণ্ডে হঠাৎ রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে কথা বলা হয়েছে।

ভুয়া পোস্টের দাবি জোরদারে মায়ো ক্লিনিকের এক চিকিৎসকের নাম ব্যবহার করার বিষয়টি জানতে পেরে এ বিষয়ে সতর্ক করে পরে একটি বিবৃতিও দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এতে বলা হয়, ‘ভুল ও সম্ভবত ক্ষতিকর যে তথ্যটি ই-মেইলের মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তাতে মায়ো ক্লিনিক বা ড. সমার্সের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

নির্দিষ্ট সময়ে পানি পানের উপকারিতা আছে?

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে অবস্থিত ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের কার্ডিওভাস্কুলার সার্জন ড. মার্ক গিলিনভ দিনের নির্দিষ্ট সময়ে পানি পানের উপযোগিতার বিষয়টি পরীক্ষা করেছেন।

কোমল পানীয়র পরিবর্তে পানি পানের পরামর্শ তার। তিনি লিখেছেন, ‘কখন পানি পানে কী হয়, এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তাই এমন কোনো দাবির ওপর নির্ভর করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।’

এ ছাড়া ২০০২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন পাঁচ গ্লাস বা তার বেশি পানি পান করলে প্রাণঘাতী হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। দিনে দুই গ্লাস বা এর কম পানি পান করলে এ ঝুঁকি বেশি।

ওই গবেষণাতেও দিনের বা রাতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে পানি পানের উপযোগিতা নিয়ে কিছু বলা হয়নি।

হৃদরোগে অ্যাসপিরিনের ব্যবহার

হৃদরোগসংক্রান্ত কোনো জটিলতা অতীতে ছিল বা বর্তমানে আছে, এমন ব্যক্তিদের প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়ার পরামর্শ প্রায়ই দেন চিকিৎসকরা।

কিন্তু তাই বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এমন ব্যক্তিদেরও নিজ বুদ্ধিতে দৈনিক অ্যাসপিরিন খাওয়া উচিত নয় বলেও সতর্ক করেন তারা।

২০১৯ সালের অক্টোবরে ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালবার্টার ফ্যাকাল্টি অফ মেডিসিনের প্রকাশ করা এক গবেষণায় বলা হয়, যাদের কখনো এমন কোনো জটিলতা ছিল না বা নেই, তারা প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খেলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি।

এ ধরনের রোগীদের প্রতিদিন অ্যাসপিরিন খাওয়া থেকে বিরত থাকার ওপরই জোর দেন চিকিৎসকরা।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা
কামড়ে চলছে বাইডেনের কুকুর
বন্দুকে লাগাম চান বাইডেন

শেয়ার করুন

বৈধ হচ্ছে না বিটকয়েন

বৈধ হচ্ছে না বিটকয়েন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত নয়। আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে বিটকয়েনসহ যে কোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন অথবা এ রকম কাজে সহায়তা প্রদান ও প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেনকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ বলে আবারও উল্লেখ করল বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ধরনের মুদ্রাগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈধতা দিতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মধ্যে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই বিষয়টি উড়িয়ে দিল আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার জনস্বার্থে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে, বলা হয়েছে, ‘ভার্চুয়াল মুদ্রা ঝুঁকিপূর্ণ, বৈধ নয়; লেনদেনে বিরত থাকুন।’

বিটকয়েন বা অন্যান্য ভার্চুয়াল মুদ্রা নিয়ে সিআইডির কাছে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নিজস্ব অবস্থান স্পষ্ট করতে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ বা লেনদেন স্বীকৃত না হলেও এটিকে অপরাধ বলার সুযোগ নেই।

এ-সংক্রান্ত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রা (ক্রিপ্টোকারেন্সি) বিষয়ে প্রকাশিত রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে এসেছে। একটি নির্দিষ্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার গোপনীয় ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পত্রের মাধ্যমে পাঠানো মতামতের অংশবিশেষ কোনো কোনো পত্রিকায় খণ্ডিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।’

সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনের পাশাপাশি সব ধরনের প্রচার-প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়েছে, ‘কোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত নয়। সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে যেকোনো ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রায় (যেমন বিটকয়েন, ইথারিয়াম, রিপল ইত্যাদি) লেনদেন অথবা এরূপ কার্যে সহায়তা প্রদান ও এতৎসংক্রান্ত প্রচারণা হতে বিরত থাকার জন্য সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা যাচ্ছে।’

ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক গণমাধ্যমে ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। সেখানে যে অবস্থান বাংলাদেশ ব্যাংকের ছিল, এখনও তাই রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এ প্রসঙ্গে সর্বসাধারণের জ্ঞাতার্থে পুনরায় জানানো যাচ্ছে, যেকোনো ভার্চুয়াল মুদ্রা/ক্রিপ্টোকারেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত নয়।’

বৈধ হচ্ছে না বিটকয়েন
আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৭ সালের ডিসেম্বরেই বিজ্ঞপ্তিতে জানায় বিটকয়েন জাতীয় মুদ্রাগুলো বৈধ নয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় যে, ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিবিধ বিনিময় প্ল্যাটফর্মে লেনদেন হচ্ছে। এসব ভার্চুয়াল মুদ্রা কোনো দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ মুদ্রা নয় বিধায় এর বিপরীতে কোনো আর্থিক দাবির স্বীকৃতও থাকে না। এসব মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত নয় বিধায় এসব ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর দ্বারা সমর্থিত হয় না।

‘অনলাইনে নামবিহীন/ছদ্মনামিক প্রতিসঙ্গীর সঙ্গে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের দ্বারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ-সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।’

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছিল, অনলাইনভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রায় অর্থমূল্য পরিশোধ ও নিষ্পত্তি সংঘটিত হয় এবং এটি কোনো কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ বা পেমেন্ট সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ কতৃর্পক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত নয়। এ কারণে গ্রাহকরা ভার্চুয়াল মুদ্রার সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

গত ১৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সহকারী পরিচালক শফিউল আজম এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি সিআইডিকে পাঠান। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনের ফলে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২- এর আওতায় অপরাধ হতে পারে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিআইডি এ নিয়ে অনুসন্ধান করতে পারে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচা ও এ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সিআইডি এমন দুটি মামলার তদন্ত করছে। এর সূত্র ধরেই সংস্থাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এ বিষয়ে মতামত চায়।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির সংখ্যা এখন আট হাজারের বেশি। এগুলোর মধ্যে বিটকয়েন সবচেয়ে বেশি পরিচিত। ১ বিটকয়েনের বর্তমান দর ৩৩ হাজার ডলারের বেশি। ২০০৮ সালে এই মুদ্রা উদ্ভাবনের পর বিশ্বের কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ এই মুদ্রাকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে জাপান, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো কয়েকটি দেশ এই মুদ্রায় লেনদেনকে বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা
কামড়ে চলছে বাইডেনের কুকুর
বন্দুকে লাগাম চান বাইডেন

শেয়ার করুন

৫ আগস্টের পর লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৫ আগস্টের পর লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

‘চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন। তবে এ ধরনের কোনো বক্তব্য আজ (বুধবার) তিনি রাখেননি। যেসব গণমাধ্যমে এমন খবর এসেছে, তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করেছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে উদ্ধৃত করে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম খবরের শিরোনাম করে, শাটডাউন নামে পরিচিতি পাওয়া চলমান কঠোর বিধিনিষিধ ৫ আগস্টের পর আর থাকছে না।

দেশের প্রথম সারির কয়েকটি সংবাদপত্রের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ করা হয় খবরটি।

তবে সংবাদটি সত্য নয় বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু নিউজবাংলাকে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ধরনের কোনো কথা বলেননি।

তিনি বলেন, ‘চলমান কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন। তবে এ ধরনের কোনো বক্তব্য আজ (বুধবার) তিনি রাখেননি। যেসব গণমাধ্যমে এমন খবর এসেছে, তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করেছে।’

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের বরাত দিয়ে কয়েকটি মিডিয়ায় একটি নিউজ যাচ্ছে যে, ৫ আগস্টের পর আর লকডাউন দেয়া হবে না। প্রকৃতপক্ষে মাননীয় মন্ত্রী আজ (বুধবার) এ ধরনের কোনো কথা বলেননি।’

এরপর বেশ কয়েকটি সংবাদপত্র তাদের প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেয়, কয়েকটির শিরোনাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত ‘কোভিড-১৯ প্রতিরোধকল্পে আরোপিত বিধিনিষেধের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও কোডিড-১৯ প্রতিরোধক টিকা প্রদান কার্যক্রম জোরদারকরণ’ বিষয়ক সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বৈঠক শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের যে লকডাউন চলছে এটা চলতেই থাকবে। আমাদের যে টার্গেট ৫ তারিখ পর্যন্ত সেই ৫ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন চলবে। যদিও আমাদের শিল্পপতিরা এবং অনেকে রিকুয়েস্ট করেছিলেন, আমরা সেই রিকুয়েস্ট বোধহয় গ্রহণ করতে পারছি না।’

শাটডাউন আর বাড়ানো হবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, ‘লকডাউন বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হয়নি। আলোচনা হয়েছে যে ৫ তারিখ (আগস্ট) পর্যন্ত লকডাউনটা থাকবে।’

আরও পড়ুন:
বাইডেনের ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা
কামড়ে চলছে বাইডেনের কুকুর
বন্দুকে লাগাম চান বাইডেন

শেয়ার করুন

ফুলের মালায় ঢাকা মাখোঁর ছবিটি ফটোশপের কারসাজি

ফুলের মালায় ঢাকা মাখোঁর ছবিটি ফটোশপের কারসাজি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া মাখোঁর এ ছবিটি ফটোশপের কারসাজি। ছবি: টুইটার

ইউরো নিউজে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ায় মাখোঁর সফরের প্রকাশিত ভিডিওতেও স্পষ্ট যে, ভাইরাল ছবিতে ফটোশপের কারসাজি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গলায় বেশ কয়েকটি ফুলের মালা পরানো হয়েছে মাখোঁকে। কিন্তু ভুয়া ছবির মতো ফুলের মালায় মাখোঁর হাত-পা ঢেকে যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর একটি ছবি। ছবিটি দেখে মনে হচ্ছে, ফুলের মালার নিচে একরকম চাপাই পড়ে গেছেন তিনি।

অনেকে ছবিটিকে আখ্যায়িত করেছেন ‘জীবন্ত পুষ্পস্তবক’ বলে।

সম্প্রতি ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশ ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া দ্বীপাঞ্চলে মাখোঁর সফরের পর ছবিটি প্রকাশ হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণে শতাধিক দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ছবিটি নিয়ে একের পর এক মিম তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ছবির সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে যে, এটি ফটোশপ করা।

ভুয়া ছবিটি দেখে হাঁটু পর্যন্ত দীর্ঘ ফুলের মালার স্তূপে মাখোঁকে জীবন্ত কবর দেয়া হয়েছে বললেও খুব একটা ভুল বলা হবে না।

টুইটারে ছবিটি শেয়ার করে নোগা তার্নোপোলস্কি নামের এক সাংবাদিক লিখেন, ‘ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ায় সরকারি সফরের সময় চলন্ত মানব পুষ্পস্তবকে রূপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাখোঁ।’

তবে খোদ টুইটার ব্যবহারকারীরাই দ্রুত আবিষ্কার করেন যে, ভুয়া ছবি সত্যি মনে করে বসে আছেন তার্নোপোলস্কি। ছবিতে যেভাবে মাখোঁকে দেখা যাচ্ছে, আসলে এভাবে মাখোঁ ফুলের মালার স্তূপে চাপা পড়েননি।

প্রেসিডেন্ট মাখোঁকে ফুলের মালা দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েকটি মালাই পরানো হয়েছিল তাকে।

বেশ কয়েকজন টুইটার ব্যবহারকারী ভুয়া ছবিটির সঙ্গে আসল ছবি জুড়ে দিয়ে তার্নোপোলস্কিকেই অপপ্রচারের জন্য এক হাত নিয়েছেন।

ইউরো নিউজে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ায় মাখোঁর সফরের প্রকাশিত ভিডিওতেও স্পষ্ট যে, ভাইরাল ছবিতে ফটোশপের কারসাজি হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, গলায় বেশ কয়েকটি ফুলের মালা পরানো হয়েছে মাখোঁকে। কিন্তু ভুয়া ছবির মতো ফুলের মালায় মাখোঁর হাত-পা ঢেকে যায়নি।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা
কামড়ে চলছে বাইডেনের কুকুর
বন্দুকে লাগাম চান বাইডেন

শেয়ার করুন

টোকিও অলিম্পিকে সূর্য প্রণাম হয়নি

টোকিও অলিম্পিকে সূর্য প্রণাম হয়নি

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মঙ্গোলিয়ার; টোকিও অলিম্পিকের নয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

২০১৫ সালে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাতোর সফরে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরের একপর্যায়ে ১৭ মে মোদিকে অভ্যর্থনা জানাতে বুয়ন্ত উখা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আর্ট অফ লিভিং ফাউন্ডেশন। সেখানেই সূর্য প্রণাম হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সূর্য প্রণামের একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে শুক্রবার শুরু হওয়া টোকিও অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সূর্য প্রণাম হয় বলে প্রচার করা হয়েছে।

এক মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, তিনরঙা পোশাক পরে সূর্য প্রণাম করছেন অংশগ্রহণকারীরা। ১২ আসনের যোগ ব্যায়ামের একটি এই সূর্য প্রণাম।

অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভিডিওটি পোস্ট করে শিরোনামে লিখেন, ‘আমাদের (ভারতের) জাতীয় পতাকার সঙ্গে মিল রেখে টোকিওতে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সূর্য প্রণামের আসন করা হয়।’

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি-ফেইক নিউজ ওয়্যার রুম (এএফডব্লিউএ) এ নিয়ে অনুসন্ধান চালায়।

এতে দেখা যায়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মঙ্গোলিয়ার; জাপানের রাজধানী টোকিওতে চলমান অলিম্পিকের নয়।

২০১৫ সালে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাতোর সফরে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সফরের একপর্যায়ে ১৭ মে মোদিকে অভ্যর্থনা জানাতে বুয়ন্ত উখা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আর্ট অফ লিভিং ফাউন্ডেশন। সেখানেই সূর্য প্রণাম হয়।

ইন্ডিয়া টুডের অনুসন্ধানী দল মোদির ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দীর্ঘ সংস্করণ পায়। ২০১৫ সালের ১৭ মে ওই ভিডিও পোস্ট করা হয়।

ভিডিওটির বর্ণনায় বলা হয়, ‘উলানবাতোরে ২০১৫ সালের ১৭ মে আর্ট অফ লিভিংয়ের আয়োজনে অভ্যর্থনা ও যোগ ব্যায়ামের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি।’

দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে ওই বছর মঙ্গোলিয়ায় যান মোদি। তার জন্য আর্ট অফ লিভিং ফাউন্ডেশন বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ওই দিনই অনুষ্ঠানটি টুইট করে।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা
কামড়ে চলছে বাইডেনের কুকুর
বন্দুকে লাগাম চান বাইডেন

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?

যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?

বাম থেকে নেফ্রলজিস্ট প্রফেসর ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক, কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর ডা. মাসুদুল হাসান, সাবেক সিনিয়র ইউএন অফিসিয়াল মাহমুদ উস শামস চৌধুরী ও কার্ডিওলজিস্ট প্রফেসর ডা. চৌধুরী হাফিজ আহসান।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে টিকা পাওয়ার পেছনের কথা জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ডা. মাসুদুল হাসানের সঙ্গে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যও নিয়েছে নিউজবাংলা।

টিকার জোগান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে কোভ্যাক্স। বিশ্বজুড়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্ল্যাটফর্ম কোভ্যাক্সের আওতায় এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উৎপাদক প্রতিষ্ঠান মডার্নার ৫৫ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা এসেছে দেশে।

কোভ্যাক্সের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অন্তত আট কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসনের। এর মধ্যে প্রথম ধাপে দেয়া হচ্ছে আড়াই কোটি ডোজ। আর সেখান থেকেই বাংলাদেশ পাচ্ছে ৫৬ লাখ ডোজ টিকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব টিকা পাওয়ায় জন্য সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে কাজ করেছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস (গ্যাভি) এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের (সিইপিআই) উদোগে গড়ে তোলা হয়েছে কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্ম। কোভ্যাক্সের আওতায় বিভিন্ন দেশে টিকা বিতরণে সহযোগিতা করছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ।

মূলত স্বল্প ও মধ্য আয়ের দেশগুলোকে ধনী দেশগুলো বিনা মূল্যে টিকা সরবরাহ করবে- এমন লক্ষ্যে গত বছরের এপ্রিলে গঠিত হয় কোভ্যাক্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গত বছরের আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, কোভ্যাক্স উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে ১৭২টি দেশ এবং টিকা উৎপাদক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব দেশের একটি অংশ টিকা গ্রহীতা এবং বাকিরা দাতার ভূমিকা পালন করছে।

কোভ্যাক্সের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া টিকা বিভিন্ন দেশ কীভাবে এবং কতটা পরিমাণে পাবে, তা ঠিক করতে একটি ‘ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটি’ করেছে বাইডেন প্রশাসন। বিভিন্ন দেশে টিকা সরবরাহের একটি পরিকল্পনাও জুনের শুরুতে প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস। তাতে দেখা গেছে, কোভ্যাক্সের আওতায় প্রথম ধাপে আড়াই কোটি টিকা বাংলাদেশসহ ৪০টির বেশি দেশে সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় এসব দেশকে বাছাই করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটি, যেখানে প্রতিনিধি রয়েছেন ১৮ দেশের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই কমিটিতে শুরুতে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। তবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের তৎপরতায় পরে এই কমিটিতে যুক্ত হন কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. চৌধুরী হাফিজ আহসান।

যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটিতে ডা. হাফিজকে যুক্ত করতে জোর প্রচেষ্টা চালানো প্রবাসীদের মধ্যে সামনের সারিতে ছিলেন আরও তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান। তারা হলেন কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মাসুদুল হাসান, নেফ্রলজিস্ট অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক এবং সাবেক সিনিয়র ইউএন অফিশিয়াল মাহমুদ উস শামস চৌধুরী।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?


যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে টিকা পাওয়ার পেছনের কথা জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ডা. মাসুদুল হাসানের সঙ্গে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্যও নিয়েছে নিউজবাংলা।

ডা. মাসুদুল হাসান নিউজবাংলাকে জানান, বাংলাদেশ সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল হিসেবে মডার্না ও ফাইজারের টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটিতে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে আমেরিকান চার চিকিৎসকের সরাসরি অবদান ছিল। এ ছাড়া অনেক বড় ভূমিকা রেখেছেন আমেরিকায় অবস্থান করা বাংলাদেশিরা। বাইডেন প্রশাসনের কাছে আমরা একটি তালিকা দিয়েছিলাম, সেখানে আমেরিকায় অবস্থান করা বাঙালিদের স্বাক্ষর ছিল।

‘এ ছাড়া বড় ভূমিকা পালন করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম। ওনারও অনেক চেষ্টা করেছেন, তবে বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটি তালিকায় যুক্ত করার কাজটি সরাসরি আমরা চার চিকিৎসক করেছি।’

টিকা পাওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ের উদ্যোগ তুলে ধরে ডা. মাসুদুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে টিকাসংকট দেখা দেয়ার পর সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জোগান নিশ্চিতে কাজ শুরু করে। এর অংশ হিসেবে তিন মাস আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন আমাকে ফোন করে বলেন, আপনারা একটু চেষ্টা করে দেখেন কিছু করতে পারেন কি না। তখন থেকেই প্রফেসর ডা. চৌধুরী হাফিজ আহসানের নেতৃত্বে আমরা চার চিকিৎসক টিকা নিশ্চিতের কাজ করেছি।’

ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটিতে বাংলাদেশ কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল বাইডেন প্রশাসনের ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটিতে ঢোকা। কাজটি খুবই কঠিন ছিল আমাদের জন্য। কমিটিতে ঢুকতে না পারলে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ ছিল না।

‘সিনেটর ক্যাথরিনের ব্যক্তিগত কার্ডিওলজিস্ট হলেন ডা. হাফিজ। ক্যাথরিনের মাধ্যমে আমরা ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের শরণাপন্ন হই। কমলা হ্যারিস ও ক্যাথরিনের আন্তরিক সহযোগিতায় ডা. হাফিজ কমিটিতে ঢুকতে সক্ষম হন।’

বাংলাদেশের একটি সংবাদপত্রে সম্প্রতি ডা. মাসুদুল হাসানকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টিকা পাবে এমন দেশের সংখ্যা মাত্র ১৮টি। এই তালিকায় শুরুতে বাংলাদেশের নাম ছিল না, তবে ডা. হাফিজ পরে ওই তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মাসুদুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পত্রিকাটি আমার বক্তব্য মিসকোট করেছে। কোভ্যাক্সের আওতাভুক্ত সব দেশই আমেরিকার টিকা পাবে। তবে কোন দেশ কত পরিমাণ টিকা পাবে এবং কখন পাবে, সেটা নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটি। টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোভ্যাক্সের সদস্যদেশের সংখ্যা অনেক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন ডিস্ট্রিবিউশন কমিটিতে ১৮টি দেশ যুক্ত হয়েছে। এই টিম নির্ধারণ করবে কারা, কখন, কী পরিমাণ টিকা পাবে। আমাদের সৌভাগ্য হচ্ছে, এই ১৮টি দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।’

কোভ্যাক্সের আওতায় ফেব্রুয়ারিতে প্রথম বিনা মূল্যে টিকা পায় ঘানা। এরপর থেকে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, ইথিওপিয়া, ফিজিসহ বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে টিকা বিতরণ করেছে কোভ্যাক্স। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও অনুদান হিসেবে টিকা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, সুইডেনসহ প্রায় ৩০টি দেশ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসা টিকার বিষয়ে ডা. মাসুদুল হাসান বলেন, ‘এটা আমেরিকার উপহার হিসেবে আসছে। তবে কোভ্যাক্স শুধু ক্যারি করছে। আপনারা জানেন মডার্নার টিকা আমেরিকায় উৎপাদন হচ্ছে। এই টিকাটা তারা আমাদের বিনা মূল্যে দিচ্ছে, এমনকি পরিবহন খরচও বিনা মূল্যে হওয়ার কথা। তবে পরিবহন খরচ দিতে হচ্ছে কি না, সেটা সরকার ভালো বলতে পারবে।’

চলতি বছরের শুরুতে কোভ্যাক্স বিভিন্ন দেশে টিকা বণ্টনের যে তালিকা প্রকাশ করে, তাতে জুনের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের ১ কোটি ২৭ লাখ ৯২ হাজার ডোজ কোভিড-১৯ টিকা পাওয়ার কথা ছিল। এই টিকার বড় অংশ ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে সংগ্রহ করার কথা ছিল। তবে ভারত সরকার টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় কোভ্যাক্স সময়মতো টিকা সংগ্রহ করতে পারেনি।

আমেরিকার টিকা পেতে সরকারের তৎপরতা ফেব্রুয়ারি থেকে

দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিয়ে গণটিকা কার্যক্রম শুরু করে সরকার। তবে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট রপ্তানি স্থগিত রাখায় এই টিকাদান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় রোজার ঈদের পর।

সংকট এড়াতে বছরের শুরুর দিক থেকেই বিকল্প উৎস খোঁজার কথা জানিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউজবাংলাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনতে ফেব্রুয়ারিতেই শুরু হয় আলোচনা।

তিনি বলেন, ‘জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ফেব্রুয়ারিতে বাইডেন প্রশাসনের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাই। তখনও ভারত থেকে সিরামের টিকা পেতে তেমন কোনো সংকট দেখা যায়নি। প্রতি মাসে তারা আমাদের ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহে চুক্তিবদ্ধ ছিল। তবু আমি যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে টিকার বিষয়ে আলাপ করি। সেবার এ নিয়ে আমার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্থনি ব্লিনকেন, সিনেটের ফরেন রিলেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান বব মেনেন্দেজসহ আরও কয়েকজন সিনেটরের বৈঠক হয়।

‘আমি সব বৈঠকেই কোভিডের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে টিকা বিষয়ে সহায়তা চাই। এরপর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে (৯ এপ্রিল) ঢাকায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক উপদেষ্টা জন কেরি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাইডেনের আমন্ত্রণপত্র তুলে দিতে আসেন তিনি। আমার সঙ্গে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বৈঠক হয়। তখন টিকা নিয়ে ভারত সমস্যায় পড়তে শুরু করেছে। আমি সে সময় টিকার বিষয়ে তার সহায়তা চাই।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৬ মে টিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারের সঙ্গে আমার জরুরি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে আমি জরুরি ভিত্তিতে দুই কোটি ডোজ টিকা চাই। এর মধ্যে দেশের চলমান টিকা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তত ৪০ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা চাওয়া হয়।’

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন তাদের হাতে থাকা ৬০ মিলিয়ন ডোজ টিকা বিভিন্ন দেশকে দিতে রাজি হলো, তখন বাংলাদেশের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার কম ছিল। এ কারণে তাদের তালিকায় তখন বাংলাদেশের নাম ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার ছিল ভারত, ব্রাজিল ও নেপাল। কারণ দেশগুলোতে কোভিড ভয়াবহতায় রোমহর্ষক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

‘তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মিলার আমাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় কমিউনিটি খুবই শক্তিশালী। তারা বাইডেনের নির্বাচনে প্রচুর খরচ করছেন। তারা চায় আগে যুক্তরাষ্ট্র ভারতে টিকা পাঠাক। তাদের কারণেই বাইডেন প্রশাসন বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম থাকায় টিকা দিতে পারছে না। তিনি তখন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।’

প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিকতার প্রশংসা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এরপরই আমি আমাদের কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমরা টিকা পেতে মরিয়া ছিলাম। বিশ্বের প্রতিটি কোনায় টিকা পেতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা পেতে আমাদের প্রবাসী ভাইবোনেদের অবদান অস্বীকার করার নয়। তারা স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন। হোয়াইট হাউসে সেই স্বাক্ষর জমা দিয়েছেন, সর্বোচ্চ লবিং চালিয়েছেন। তারা সরকারের পক্ষে বড় প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করেছেন।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনার নেপথ্যে কারা?


যা বলছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকে টিকা বা অন্য কোনো চিকিৎসাসামগ্রী আনতে হলে নিয়ম অনুসারে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করি। এরপর তারাই সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো দেশের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পন্ন করে জানালে, তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ম মেনে ক্রয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। তবে প্রাথমিক যোগাযোগের কাজটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘টিকার মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বা আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক যেটাই হোক না কেন, সেটা রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক। সেখানে ব্যক্তি মানুষের ভূমিকা সহায়ক হতে পারে, তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ভূমিকাই সর্বোচ্চ।’

আরও পড়ুন:
বাইডেনের ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন পরিকল্পনা
কামড়ে চলছে বাইডেনের কুকুর
বন্দুকে লাগাম চান বাইডেন

শেয়ার করুন