লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা শিশুর চোখে জখম কেন

লাইভের মাঝখানে ঢুকে পড়া মারুফ (বাঁয়ে) এবং তার জখম চোখের ভাইরাল ছবি।

লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা শিশুর চোখে জখম কেন

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ওই শিশুর সঙ্গে তার এলাকার পথশিশুদের মারামারিতেই এই জখমের ঘটনা ঘটে। লাইভের পর এক ব্যক্তি শিশুটির সঙ্গে আদালত এলাকায় একটি সেলফি তোলেন। সেই সেলফি থেকে শিশুটির ছবিটি কেটে নিয়ে পড়ে ‘মনগড়া’ অভিযোগ তুলে ভাইরাল করা হয় ফেসবুকে।  

পুরান ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এলাকা থেকে এক সাংবাদিকের লাইভের মাঝে এক পথশিশু ঢুকে পড়ে লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলার ভিডিও এবং পরে ওই শিশুর চোখে জখমের একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী অভিযোগ তুলেছেন, লকডাউন নিয়ে সরকারি অবস্থানের বিরোধিতা করার কারণেই তাকে পুলিশ বা ছাত্রলীগ কর্মীরা মারধর করেছে।

নিউজবাংলা ওই শিশুর সন্ধান এবং জখমের প্রকৃত কারণ বের করতে মঙ্গলবার থেকে পুরান ঢাকায় টানা অনুসন্ধান চালিয়েছে, কথা বলেছে এলাকাবাসী, পুলিশ কর্মকর্তা, সংবাদ কর্মীসহ অনেকের সঙ্গে।

এই অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ওই শিশুর সঙ্গে তার এলাকার পথশিশুদের মারামারিতেই এই জখমের ঘটনা ঘটে। লাইভের পর এক ব্যক্তি শিশুটির সঙ্গে আদালত এলাকায় একটি সেলফি তোলেন। সেই সেলফি থেকে শিশুটির ছবিটি কেটে নিয়ে পরে ‘মনগড়া’ অভিযোগ তুলে ভাইরাল করা হয় ফেসবুকে।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এলাকা থেকে গত সোমবার দুপুরে ফেসবুকে লাইভ করেন সময়ের কণ্ঠস্বর নামের একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের প্রধান প্রতিবেদক পলাশ মল্লিক।

তার কথা বলা প্রায় শেষের দিকে ক্যামেরার ফ্রেমে ঢুকে পড়ে এক পথশিশু। শিশুটি বলে ওঠে, ‘এই যে লকডাউন দিছে, মানুষ খাবে কী? সামনে ঈদ। এই যে মাননীয় মন্ত্রী একটা লকডাউন দিছে, এটা ভুয়া। থ্যাঙ্কু।’

ঘটনার আকস্মিকতায় কিছুক্ষণের জন্য হতবিহ্বল হয়ে পড়েন পলাশ মল্লিক। ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুরুতে একবার ছেলেটা ঢুকে পড়েছিল। তখন আমার ক্যামেরার সঙ্গে থাকা একজন তাকে সরিয়ে দেয়। কিন্তু ছেলেটা কতটা ট্যালেন্ট, আমি অবাক হয়ে গেলাম। আমি যখন শেষ করছিলাম, কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে সেটাই ছিল আমার কাছে সবশেষ লাইভ। কেউ আমার কাছে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পাঠিয়েছিল কি না আমি শিওর না।

লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা শিশুর চোখে জখম কেন
সাংবাদিক পলাশ মল্লিকের লাইভের সময় হঠাৎ করে ক্যামেরার ফ্রেমে ঢুকে পড়ে শিশু মারুফ

‘সে এসে যে কথাগুলো বলেছে, আমি তো মানে… আমার পিটিসি শেষ। মুহূর্তের মধ্যে সে বলে এমনভাবে চলে গেল, আমি হালকা করে তাকিয়ে দেখলাম, সে চলে যাচ্ছে। আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। এটা তো লাইভ। লাইভ শেষ করার পর আমি ডাক দিয়েছিলাম তাকে। বলেছি, তুমি এই কাজটা কেন করলা ভাই? তখন দূর থেকে ছেলেটা আমাকে ভেঙাল। তখন বুঝলাম ছেলেটা অ্যাবনরমাল।’

পলাশ অভিযোগ করেন, ‘অনেকেই গুজব ছড়াচ্ছে ছেলেটা সাংবাদিকদের হাতে মার খেয়েছে, অথচ তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আদালত প্রাঙ্গণে প্রচুর সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, সেগুলো চেক করলেই অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হবে।’

এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শিশুটির সঙ্গে একটি সেলফি তুলে নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেন মো. রুহুল আমিন রুহুল নামের এক ব্যক্তি। নিজের ওয়ালে ছবিটি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘স্যার এই যে ঈদের আগে লকডাউন দিছে মানুষ খাবে কি? মাননীয় মন্ত্রী একটা লকডাউন দিছে এটা ভুয়া, থ্যাংকু। আজকে জজকোর্টের সামনে হঠাৎ দেখা হয়ে গেলো।’

লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা শিশুর চোখে জখম কেন
চোখে জখম থাকা মারুফের সঙ্গে সেলফি তুলে নিজের ফেসবুকে প্রথম শেয়ার করেন মো. রুহুল আমিন রুহুল নামে এক ব্যক্তি

রুহুল আমিনের পোস্টের নিচে একজন কমেন্ট করে জানতে চান, ছেলেটিকে কোথায় পাওয়া গিয়েছে। তার চোখ এমন ফোলা রয়েছে কেন। জবাবে রুহুল আমিন লেখেন, ‘জজকোর্টের সামনে। চোখে কি হইছে জিজ্ঞেস করি নাই। ফুটপাতে থাকে, নেশাও করে। হয়তো নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে পারে।’

রুহুল আমিনের সেই সেলফি থেকে শিশুটির ছবি কেটে ছড়িয়ে দেয়া হয় ফেসবুকে। মূল পোস্টদাতা কোনো কারণ না জানালেও বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, শিশুটি সরকারের নির্যাতনের শিকার।

লকডাউন নিয়ে প্রশ্ন তোলা শিশুর চোখে জখম কেন

অনেক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করা হয়, মারুফ নির্যাতনের শিকার

নিউজবাংলা অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছে শিশুটির নাম মারুফ। তাকে বুধবার রাতে পাওয়া যায় পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায়। মা-বাবার বিষয়ে কোনো খোঁজ দিতে পারেনি সে। এই পার্ক ও আশপাশের এলাকাই তার ঠিকানা। আরও কয়েক পথশিশুর সঙ্গেই থাকছে মারুফ। মাদক নেয়ার কারণে তার কথা ও আচরণ পুরোপুরি অসংলগ্ন।

এলাকাবাসীরা জানান, শিশুটির দিন কাটে নেশাগ্রস্ত অবস্থায়। কেউ খাবার দিলে খায়, আবার অনেক সময় চেয়ে নিয়ে খায়।

রবিউল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ও এখানেই থাকে নেশা করে। কোনো ঠিকঠিকানা নেই।’

রহমান নামে স্থানীয় এক রিকশাচালক জানান, পথশিশুদের সঙ্গে মারামারিতেই আঘাত পেয়েছে মারুফ। তিনি বলেন, লকডাউনের সময়ে এসব শিশু বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে চাল-ডাল সংগ্রহ করে, পরে তা বিক্রি করে নেশাদ্রব্য কেনে।

মারুফের সঙ্গী কয়েক পথশিশু নিউজবাংলাকে জানায়, বিভিন্ন কারণে বন্ধুদের মধ্যে প্রায়ই মারামারি হয়, এ ধরনের মারামারিতেই মারুফ চোখে আঘাত পেয়েছে।

সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা পারভেজ হাসান ফেসবুকে শিশুটিকে নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন। মারুফের সঙ্গে কথা বলার সময় পারভেজও সেখানে ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি গতকাল ছবিটি পেয়েছিলাম। ভেবেছি তাকে মারা হয়েছে। তাই আমি একটি পোস্ট দিয়েছি। ও আমাকে বলেছিল ওকে পুলিশ মেরেছে আর সেটা ড্যান্ডি (আঠা জাতীয় নেশা) করার জন্য।’

শিশুটি যেখানে আছে সেটি আংশিকভাবে কোতোয়ালি ও সূত্রাপুর থানার অধীন।

মারুফের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এমন কোনো ঘটনা এখন পর্যন্ত জানি না।’

অন্যদিকে, সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রহমান বলেন, ‘আমরা ওর খোঁজ নিয়েছি। জানতে পেরেছি ও নেশা করে। তবে আমার কোনো পুলিশ ওর গায়ে হাত তোলেনি। নেশা করেই হয়তো ও এমন কথা বলেছে।’

আরও পড়ুন:
পুলিশ-মনীষা বিতণ্ডা: ভাইরাল দুটি ভিডিওর একটি পুরোনো
আওরঙ্গজেবের কবরে মূত্রত্যাগ অপরাধ নয় বলেনি আদালত
কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড

সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড

ফেসবুকের পোস্টটির স্ক্রিনশট। ছবি: এএফপি

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এ ধরনের কোনো নির্দেশ কখনো সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। এটি বিদ্বেষপ্রসূত পোস্ট বলে মনে হচ্ছে।’

নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম রেডিও নিউজিল্যান্ডকে (আরএনজেড) তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরকারের সমালোচনামূলক সব মন্তব্য সরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছিল।

তবে ফেসবুক পোস্টে করা দাবি সত্য নয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার ও আরএনজেড।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন ও তার দল লেবার পার্টির বিরোধিতামূলক ওই পোস্ট এখনও আরএনজেডের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজে রয়েছে।

ফেসবুকের পোস্টটিতে জেসিন্ডার মুখ বিকৃতি করা ছবির ওপরে নাৎসি স্বস্তিকা চিহ্নসহ ‘তৃতীয় রাইখ’ লেখা। এতে আরএনজেডের লোগোও রয়েছে।

ছবির নিচে লেখা, ‘সরকারের নীতির সমালোচনা করা যেকোনো মন্তব্য আরএনজেডকে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরাতে বলেছে লেবার পার্টির সরকার।’

ফেসবুকের ওই পোস্টের শিরোনামে লেখা, ‘আগে কখন আমরা এমনটা দেখেছি?’

এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এ ধরনের কোনো নির্দেশ কখনো সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। এটি বিদ্বেষপ্রসূত পোস্ট বলে মনে হচ্ছে।’

ফেসবুকের পোস্টের দাবিকে মিথ্যা বলেছে আরএনজেডও।

সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজ থেকে সরকারের নীতির সমালোচনামূলক মন্তব্য সরাতে নিউজিল্যান্ড সরকার কোনো অনুরোধ জানায়নি।’

ফেসবুকে বিতর্কিত ওই পোস্টটি হওয়ার আগে ২৭ এপ্রিল নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য সংক্রান্ত নীতি হালনাগাদ করে আরএনজেড।

এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির নতুন নীতি অনুযায়ী, পোস্টে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর মন্তব্য করা হলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। কমেন্ট ডিলিট ও অ্যাকাউন্ট বন্ধের অধিকার আরএনজেডের রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পুলিশ-মনীষা বিতণ্ডা: ভাইরাল দুটি ভিডিওর একটি পুরোনো
আওরঙ্গজেবের কবরে মূত্রত্যাগ অপরাধ নয় বলেনি আদালত
কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়

শেয়ার করুন

সম্পূরক পুষ্টিতে টিকার কার্যকারিতা বাড়ে না

সম্পূরক পুষ্টিতে টিকার কার্যকারিতা বাড়ে না

২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি নিবন্ধের শিরোনামের বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি টিকা গ্রহণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় দেহের সম্ভাব্য ক্ষতি কাটাতে কী করণীয়’। নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, ‘এমআরএনএ টিকা নিয়ে যথেষ্ট পরীক্ষানিরীক্ষা হয়নি বলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে এবং দেহকে বিষক্রিয়ামুক্ত রাখার বিষয়গুলো জানা দরকার।’ লেখকের পরামর্শ অনুযায়ী করোনার টিকার কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক শীর্ষ পাঁচ সম্পূরক পুষ্টি হলো আয়োডিন, জিঙ্ক, কার্বন ৬০, কোয়ার্সেটিন ও পাইরোলোকুইনোলাইন কুইনোন (পিপিকিউ)।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে টিকা নিলে এর কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে সম্পূরক পুষ্টিগ্রহণ- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে এমন সব তথ্য ও নিবন্ধ।

বার্তা সংস্থা এএফপির ফ্যাক্ট চেক বলছে, এসব দাবি ভুয়া। চিকিৎসকরা মানেন না এ তত্ত্ব। করোনা প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতাই যথেষ্ট বলে রায় দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) কর্মকর্তারাও।

২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি নিবন্ধের শিরোনামের বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি টিকা গ্রহণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় দেহের সম্ভাব্য ক্ষতি কাটাতে কী করণীয়’।

নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, ‘এমআরএনএ টিকা নিয়ে যথেষ্ট পরীক্ষানিরীক্ষা হয়নি বলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে এবং দেহকে বিষক্রিয়ামুক্ত রাখার বিষয়গুলো জানা দরকার।’

লেখকের পরামর্শ অনুযায়ী করোনার টিকার কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক শীর্ষ পাঁচ সম্পূরক পুষ্টি হলো আয়োডিন, জিঙ্ক, কার্বন ৬০, কোয়ার্সেটিন ও পাইরোলোকুইনোলাইন কুইনোন (পিপিকিউ)।

এগুলো নিয়মিত এমআরএন সেবনে এমআরএনএ টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমবে ও কার্যকারিতা বাড়বে বলে দাবি করা হয় নিবন্ধে। যদিও কী পরিমাণে বা কখন-কিভাবে খেতে হবে তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে অনলাইনে কিভাবে এগুলো কেনা যাবে, সে লিংক দিয়ে দেয়া হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাকিং টুল ক্রাউডট্যাঙ্গল জানিয়েছে, ‘দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট ভ্যাকসিনস’ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ নিবন্ধটি ফেসবুকে সরাসরি শেয়ার করা হয়েছে এক হাজার ৮০০ বারের বেশি। টুইটারে ১৫ হাজার বেশি অনুসারী দেখেছেন পোস্টটি।

নিবন্ধটির লেখকের বিষয়ে তিনি চিকিৎসক এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাড়া আর কোনো তথ্য নেই পোস্টে।

এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি আরেকটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় নিবন্ধটি। এর শিরোনামের বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘যারা টিকা নিয়ে আফসোস করছেন, তারা কিভাবে এর সর্বোচ্চ কার্যকারিতা ও সর্বনিম্ন ক্ষতি নিশ্চিত করবেন।’

‘প্রিপেয়ার ফর চেঞ্জ’ নামে আরও একটি ওয়েবসাইটেও প্রকাশ হয়েছে এই একই নিবন্ধ।

এমআরএনএ টিকা

ম্যাসেঞ্জার রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বা সংক্ষেপে এমআরএনএ টিকা মানুষের ডিএনএ বদলে দিতে পারে- এমন শঙ্কা জানানো হয়েছে এ নিবন্ধে। অথচ বহুদিন ধরে এসব আশঙ্কা যে ভিত্তিহীন, বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে তা জানিয়ে আসছেন গবেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদিত ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্নার টিকা এই প্রযুক্তিতে তৈরি। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠান দুটি এ পর্যন্ত ১০০ কোটি ডোজের বেশি টিকা সরবরাহ করেছে।

সিডিসি বলছে, এমআরএনএ টিকা এমন এক ধরনের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যা মানবদেহের কোষকে দেহের ভেতরে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অভ্যস্ত করে তোলে।

তাছাড়া এসব টিকা অপরীক্ষিত ও অনিরাপদ বলে যে দাবি করা হয়েছে এসব নিবন্ধে, সেটিও ভুয়া।

পর্যাপ্ত পরীক্ষার মাধ্যমে মানবদেহে এ টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে সিডিসির ওয়েবসাইটে।

সম্পূরক পুষ্টি

টিকা গ্রহণের ফলে দেহে কোনোরকম ঝুঁকি তৈরি হলে আয়োডিন, জিঙ্ক, কার্বন ৬০, কোয়ার্সেটিন ও পাইরোলোকুইনোলাইন কুইনোন (পিপিকিউ) সেবনে সে ঝুঁকি কমবে বলে দাবি করা হয়েছে নিবন্ধে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা। টিকা গ্রহণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে সাধারণ প্যারাসিটামল খাওয়াই যথেষ্ট বলে মনে করেন জন হপকিন্স সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. আমেশ আদালজা।

টিকার কার্যকারিতা বাড়ানোতেও এসব উপাদানের একটিও সহায়ক নয় বলে জানান মায়ো ক্লিনিকের ভ্যাকসিন রিসার্চ গ্রুপের পরিচালক ড. গ্রেগরি পোল্যান্ড।

নিবন্ধটি ভুলে ভরা বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
পুলিশ-মনীষা বিতণ্ডা: ভাইরাল দুটি ভিডিওর একটি পুরোনো
আওরঙ্গজেবের কবরে মূত্রত্যাগ অপরাধ নয় বলেনি আদালত
কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়

শেয়ার করুন

টিকার কার্যক্রম পরীক্ষামূলক ছিল, আসল নয়: বেলজিয়ামের মন্ত্রী

টিকার কার্যক্রম পরীক্ষামূলক ছিল, আসল নয়: বেলজিয়ামের মন্ত্রী

ভুয়া ভিডিও (উপরে) ও ভিআরটির ভিডিওর স্ক্রিনশট। ছবি: এএফপি

ভুয়া ভিডিও টুইটারে শেয়ার হওয়ার পর সোমারস টুইটবার্তায় বলেন, ‘ওই ড্রাই রান চলাকালে কাউকে টিকা দেয়া হয়নি। এমনকি করোনার টিকার ইনজেকশনও ড্রাই রানের সময় কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা হয়নি। নয়তো টিকা নেয়ার পর আমি ব্যথায় জোরে শব্দ করতাম।’

বেলজিয়ামের এক রাজনীতিক করোনাভাইরাসের টিকা সত্যিসত্যি নিচ্ছেন না, ভান করছেন এমন এক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে। ইউটিউব, টুইটার ও ফেসবুকে ভিডিওটি হাজার হাজার শেয়ার হয়।

সোমবার ভিডিওটি টুইটারে শেয়ার করা হয়। এর শিরোনাম চীনা ভাষায় লেখা। এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘টিকা নিয়ে জনমনে ভীতি দূর করতে করোনার টিকা নেয়ার প্রথম সারিতে রয়েছেন বেলজিয়ামের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কিন্তু ভিডিওটি ভালোভাবে লক্ষ্য করুন। সিরিঞ্জে সুচ কোথায়?’

ওই ভিডিওর সত্যতা নিয়ে কাজ করে এএফপির ফ্যাক্টচেক।

আট সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওতে দেখা যায়, বেলজিয়ামের রাজনীতিক বার্ট সোমারস করোনার টিকা নিচ্ছেন। অবশ্য কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়, সিরিঞ্জের ঢাকনা বন্ধ।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি ১১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ভিডিও প্রচার করে বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যম ভিআরটি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সঙ্গে ওই ভিডিওর মিল রয়েছে।

ভিআরটির ভিডিও প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলজিয়ামে করোনার টিকার ট্রায়াল চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মন্ত্রী বার্ট সোমারসের তত্ত্বাবধানে বিলজেন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার ৫০ জনের মতো মানুষ আজ করোনার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। এটি মূলত ড্রাই রান বা পরীক্ষামূলক টিকাদান।’

সোমারস ৪ ফেব্রুয়ারি এএফপিকে বলেন, ভিডিওটি মূলত একটি ট্রায়াল টিকাদান কার্যক্রমের ভিডিও। এটি প্রকৃত টিকাদান কার্যক্রম ছিল না।

তিনি বলেন, ‘আমরা আবার ভুল সংবাদ প্রকাশের বিপত্তি দেখলাম। চলতি সপ্তাহে বেশ কয়েকটি টিকাদান কেন্দ্রে করোনার টিকার ট্রায়াল শুরু হবে। এটি দেখার জন্য যে, প্রকৃত টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সব কিছু ঠিকঠাকমতো চলে কি না।

‘এ জন্য টিকাদান কেন্দ্রে ড্রাই রানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন ব্যক্তিকে টিকা দিতে কত সময় লাগে, ওই সময় টিকাগ্রহীতাদের অপেক্ষার লাইন দীর্ঘ হয় কি না, এসবই মূলত দেখা হবে। এটা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক যে, পরীক্ষামূলক পদক্ষেপকে মানুষ ভুয়া খবর ছড়াতে ব্যবহার করছে।'

ভুয়া ভিডিও টুইটারে শেয়ার হওয়ার পর সোমারস টুইটবার্তায় বলেন, ‘ওই ড্রাই রান চলাকালে কাউকে টিকা দেয়া হয়নি। এমনকি করোনার টিকার ইনজেকশনও ড্রাই রানের সময় কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা হয়নি। নয়তো টিকা নেয়ার পর আমি ব্যথায় জোরে শব্দ করতাম।’

আরও পড়ুন:
পুলিশ-মনীষা বিতণ্ডা: ভাইরাল দুটি ভিডিওর একটি পুরোনো
আওরঙ্গজেবের কবরে মূত্রত্যাগ অপরাধ নয় বলেনি আদালত
কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়

শেয়ার করুন

পুলিশ ভ্যানে সেই নেট ‘আসামির জন্য নয়’

পুলিশ ভ্যানে সেই নেট ‘আসামির জন্য নয়’

পুলিশ ভ্যানের এই অংশ দিয়ে দুই জনের পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরালের পর পুলিশ ভ্যানের এই ছবিটিও ব্যাপক প্রচার হয়েছে ফেসবুকে।

‘আমাদের একটি গাড়ির সামনের অংশে চালক নিজেই রশি দিয়ে নেটের মতো তৈরি করেছেন। যাতে চলন্ত অবস্থায় কিংবা ঝড়বৃষ্টির সময়ে গাড়ির ভেতরে থাকা ত্রিপল আটকে থাকে। এটি অনেক আগেই করা হয়েছে। আসামি পলায়ন রোধের সঙ্গে এটির কোনো সম্পর্ক নেই।’

রাজধানীর গাবতলী টার্মিনাল এলাকায় দুই জনকে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় সামনের ফাঁকা অংশ দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে হাস্যরস তৈরির পর পুলিশের গাড়ির সামনের অংশ দড়ি দিয়ে বাঁধা থাকার ছবি ভাইরাল হয়েছে।

ফেসবুকে ভাইরাল ছবিটি দেখিয়ে বলাবলি হচ্ছে, আসামিরা যেন পালিয়ে যেতে না পারে পুলিশের ভ্যানের সামনের অংশ বন্ধ করতে রশি লাগানো হয়েছে।

তবে পুলিশ বলছে, ওই দুই আসামির পলায়নের সঙ্গে পরের গাড়িতে রশি লাগানোর কোনো সম্পর্ক নেই। সেটি লাগানো হয়েছে বৃষ্টি ঠেকাতে ত্রিপল লাগানোর জন্য। আর সেটিও পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তে নয়। সেটি গাড়ি চালক নিজে থেকে লাগিয়েছেন।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশের পিকআপের সামনের ফাঁকা অংশ বন্ধের কোনো নির্দেশনা জারি হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে।’

বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পারভেজ ইসলাম নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তাদের থানার একটি গাড়ির চালক নিজে থেকে এভাবে রশি বেঁধেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি গাড়ির সামনের অংশে চালক নিজেই রশি দিয়ে নেটের মতো তৈরি করেছেন। যাতে চলন্ত অবস্থায় কিংবা ঝড়বৃষ্টির সময়ে গাড়ির ভেতরে থাকা ত্রিপল আটকে থাকে। এটি অনেক আগেই করা হয়েছে। আসামি পলায়ন রোধের সঙ্গে এটির কোনো সম্পর্ক নেই।’

পুলিশ ভ্যানগুলো সাধারণ পিকআপ হয়ে থাকে। পেছনের অংশে ত্রিপল দিয়ে দেয়া থাকে ছাউনি। এর পেছনের অংশ পুরোটাই ফাঁকা। সামনে চালকের কেবিনের পেছনের অংশ পর্যন্ত থাকে ছাউনি। এখান দিয়ে আসামি পালিয়ে গেছে, এমন কোনো ঘটনা এর আগে ঘটেনি। ফলে সেখানে কোনো বাধা তৈরি করতে হবে, এমন কোনো চিন্তা করতে হয়নি।

এই ভ্যানগুলো মূলত ব্যবহার হয় টহল ভ্যান হিসেবে। পিকআপের পেছনে বসা থাকে পুলিশ। আর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে কাউকে আটক বা পলাতক আসামি পেয়ে গেলে গ্রেপ্তার করা হলেও সেই ভ্যান দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।

এমন কাউকে আটক করা হলে সাধারণত হ্যান্ডকাফ বা রশি দিয়ে বাঁধা থাকে। সেটি না হলেও যাদের আটক করা হয়, তাদেরকে সাধারণত দুই পাশে পুলিশ রেখে মাঝ বসানো হয়। ফলে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না বললেই চলে।

তবে গাবতলীতে যে দুই জন পুলিশ ভ্যানের সামনের অংশ দিয়ে বের হয়ে পালিয়ে গিয়েছেন, তাদেরকে বাসনো হয়েছিল সামনে। আর পেছনে উঠছিলেন কেবল পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ পাহারায় ছিল ভ্যানের পেছনের অংশে।

আরও পড়ুন:
পুলিশ-মনীষা বিতণ্ডা: ভাইরাল দুটি ভিডিওর একটি পুরোনো
আওরঙ্গজেবের কবরে মূত্রত্যাগ অপরাধ নয় বলেনি আদালত
কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়

শেয়ার করুন

ভারতে লাশ পোড়ানোর ছবিটি পুরনো: এএফপি

ভারতে লাশ পোড়ানোর ছবিটি পুরনো: এএফপি

বার্তাসংস্থা এএফপির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, লাশ পোড়ানোর ছবিটি প্রথবারের মতো একটি ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল ২০১২ সালে। এর সঙ্গে করোনা মহামারির কোনো সম্পর্ক নেই।

ভারতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। এরই মধ্যে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবির একপাশে জুড়ে দেয়া হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি।

সম্প্রতি বার্তাসংস্থা এএফপির ফ্যাক্টচেক বিভাগের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, লাশ পোড়ানোর ছবিটি প্রথবারের মতো একটি ব্লগে প্রকাশিত হয়েছিল ২০১২ সালে। এর সঙ্গে করোনা মহামারির কোনো সম্পর্ক নেই।

২০২১ সালে আবারও ছড়িয়ে পড়া ছবিটিতে একে করোনায় মারা যাওয়াদের লাশ পোড়ানোর ছবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯ এপ্রিল শেয়ার করা এক পোস্টে মোদির ছবি পাশে জুড়ে দেয়া ছবিটির বিবরণে হিন্দিতে লেখা হয়েছে, ‘মানুষ মরছে। লাশের সৎকার হচ্ছে সব জায়গায়। অথচ রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে লড়া নিয়ে ব্যস্ত। তারা বাংলার করোনা পরিস্থিতি আড়াল করছে। কিন্তু আর কতদিন? নির্বাচনের পরেই এটি জনতার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে, যে সরকার কীভাবে করোনার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। মানুষ মরছে কিন্তু সরকার চুপ।’

ছবিটি ফেসবুক ছাড়াও আরও কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এএফপির ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন জানিয়েছে, ২০১২ সালে ব্লগে প্রকাশিত ছবির বিবরণে লেখা হয়েছিল, ‘বারাণসী পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো শহর। এটি এখনও জাগ্রত।‘

ন্যাশনাল জিওগ্রাফির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিন্দু ধর্মের তীর্থস্থান হওয়ায় বারাণসীতে প্রায় সারাদিন লাশের সৎকার করা হয়।

ছবিটির ফোটোগ্রাফার দাবি করা কৃষ্ণ শর্মা এএফপিকে বলেন, ‘লোকজন এটি বিকৃতভাবে ব্যবহার করছে। এর জন্য আমার খারাপ লাগছে।‘

একই ছবি ২০১৮ সালে গুজরাটের এক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার কথাও জানিয়েছে এএফপি

আরও পড়ুন:
পুলিশ-মনীষা বিতণ্ডা: ভাইরাল দুটি ভিডিওর একটি পুরোনো
আওরঙ্গজেবের কবরে মূত্রত্যাগ অপরাধ নয় বলেনি আদালত
কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়

শেয়ার করুন

ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়নি

ইন্দোনেশিয়ায় সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়নি

ইন্দোনেশিয়ার সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের ইউটিউবের ভিডিওটির স্ক্রিনশট। ছবি: এএফপি

ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মুহাম্মদ আলি ২৭ এপ্রিল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কীভাবে সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ তোলা যায়, তা নিয়ে আমরা এখনও আলোচনা করছি। কারণ এটি সাগরের অনেক গভীরে রয়েছে।’

ইন্দোনেশিয়ার বালি উপকূলে মহড়ার সময় ৫৩ ক্রু নিয়ে নিখোঁজ হয় দেশটির নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিন। ২১ এপ্রিল নিখোঁজের দুই দিন পর সাবমেরিনটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়।

ধারণা করা হয়, ওই সাবমেরিনের ৫৩ আরোহীর কেউই আর বেঁচে নেই। অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ায় তাদের মৃত্যু হতে পারে। সাবমেরিনটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার এখনও সম্ভব হয়নি।

তবে ২৪ এপ্রিল পোস্ট করা ইউটিউবের এক ভিডিওতে দাবি করা হয়, ডুবন্ত সাবমেরিনটির উদ্ধারকাজ শেষ করেছে ইন্দোনেশিয়া। এরই মধ্যে ভিডিওটি সাত লাখের বেশি মানুষ দেখেছে।

ইউটিউবে পোস্ট হওয়া ওই ভিডিওর দাবি নিয়ে ফ্যাক্ট চেক করে এএফপি। তাতে দেখা যায়, ওই দাবি পুরোপুরি অসত্য।

১০ মিনিটের ভিডিওটির শিরোনামে লেখা ছিল, ‘সর্বশেষ খবর-ইন্দোনেশিয়া সেনাবাহিনীর কঠোর পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। অবশেষে কেআরআই ৪০২ সাবমেরিনটি সফলভাবে উদ্ধার করা গেছে।’

নিখোঁজের চার দিন পর ২৫ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়া সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮০০ মিটারের বেশি নিচে কেআরআই নানগালা-৪০২ সাবমেরিনটি পাওয়া গেছে। সাবমেরিনটি ভেঙে তিন টুকরো হয়। এতে থাকা ৫৩ ক্রুর সবার মৃত্যু হয়েছে।

বিভ্রান্তি ছড়ানো ভিডিওতে ওই সাবমেরিন নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদের ক্লিপও যুক্ত করা হয়। তবে ওইসব ক্লিপের কোথাও সাবমেরিনের উদ্ধারকাজের কোনো দৃশ্য ছিল না।

সাবমেরিন উদ্ধারের বিষয়ে ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, গভীর সাগরে যেকোনো ধরনের উদ্ধারকাজ ঝুঁকিপূর্ণ ও দুরূহ হতে পারে।

২৭ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর রিয়ার অ্যাডমিরাল মুহাম্মদ আলি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কীভাবে সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ তোলা যায়, তা নিয়ে আমরা এখনও আলোচনা করছি। কারণ এটি সাগরের অনেক গভীরে রয়েছে।’

ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া শহরের সেপুলুহ নপেমবার ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির সাবমেরিন বিশেষজ্ঞ উইসনু ওয়ারধানা এএফপিকে বলেন, ‘সাগরের এত গভীর থেকে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা খুবই কঠিন। এ জন্য প্রায় দুই মাস সময় লেগে যেতে পারে।

‘উদ্ধারের সময় উচ্চ হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপে পড়বেন উদ্ধারকর্মীরা। পেশাদার ডুবুরিরা সর্বোচ্চ ৫০ মিটার গভীরে ডুব দিতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘ওই চাপের কারণেই আমরা জানি, নানগালা তিন টুকরা হয়ে গেছে। কারণ এটির কাঠামোই ভেঙে পড়েছে। উচ্চ চাপে এটি সংকুচিত হয়ে যায়।’

আরও পড়ুন:
পুলিশ-মনীষা বিতণ্ডা: ভাইরাল দুটি ভিডিওর একটি পুরোনো
আওরঙ্গজেবের কবরে মূত্রত্যাগ অপরাধ নয় বলেনি আদালত
কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়

শেয়ার করুন

যুবকের জীবন বাঁচাতে প্রবীণের আইসিইউ ছাড়ার খবর ভুয়া

যুবকের জীবন বাঁচাতে প্রবীণের আইসিইউ ছাড়ার খবর ভুয়া

নারায়ণরাও দাভাদকর। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

যুবকের জীবন বাঁচাতে, তার জন্য বেড ছেড়ে দিতে স্বেচ্ছায় নারায়ণরাওয়ের বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিয়েও জানতে চাওয়া হয় ডা. শীলুর কাছে। তিনি বলেন, ‘সে দিন কর্তব্যরত আমাদের কোনো চিকিৎসক বা কর্মী এমন কোনো ঘটনা দেখেননি। হাসপাতালটিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ১১০টি বেড আছে। এর মধ্যে ৯২টি আইসিইউ বেড। নারায়ণরাওয়ের বাড়ি ফেরার দিন কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটা বেড খালি পড়ে ছিল।’

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত ভারত। রোগের ব্যাপকতায় মেডিক্যাল অক্সিজেন, ওষুধসহ প্রায় সব ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট। বিশেষ করে রাজধানী দিল্লিসহ বড় শহরগুলোতে রোগীর সংখ্যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বলে চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন অনেকে।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতে মহামারির অন্যতম কেন্দ্র মহারাষ্ট্রের একটি ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় দেশজুড়ে।

অচেনা এক যুবকের জীবন বাঁচাতে ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের আইসিইউ বেড পেয়েও তা ছেড়ে দেয়ার খবর ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

স্থানীয় অনেক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ হয়েছিল খবরটি, যাতে বলা হয়- হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার তিন দিনের মাথায় মৃত্যু হয় করোনায় আক্রান্ত বৃদ্ধ নারায়ণরাও দাভাদকরের।

যুবকের প্রাণ বাঁচাতে তার ‘মহৎ আত্মত্যাগের’ খবরটির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। পত্রিকাটির অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করেই আইসিইউ ছেড়ে বৃদ্ধের বাড়ি ফেরার ঘটনাটি সত্যি। কিন্তু তার আত্মত্যাগের কোনো প্রমাণ মেলেনি বিস্তর অনুসন্ধানেও।

ঘটনার আদ্যপান্ত খতিয়ে দেখা হলে জানা যায়, ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় সমাজসেবক সংঘের (আরএসএস) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি বিবৃতি থেকে ছড়ায় খবরটি।

নারায়ণরাও দাভাদকরকে নিয়ে প্রকাশিত ভুয়া সংবাদ। ছবি: সংগৃহীত

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “অনেক চেষ্টা-তদবিরের পর ইন্দিরা গান্ধি রুগনালাই হাসপাতালের আইসিইউতে নারায়ণরাওয়ের জন্য একটি বেড পেতে সক্ষম হয় তার পরিবার। যখন তাকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন ভীষণ শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসাও দিতে শুরু করেন চিকিৎসকরা। এমন সময়ে তিনি এক নারীকে দেখতে পান।

করোনায় আক্রান্ত ৪০ বছর বয়সী স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি ও অক্সিজেন দেয়ার আকুতি জানিয়ে কাঁদছিলেন ওই নারী। পিতার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাহায্য চেয়ে তার সন্তানরাও কাঁদছিলেন। এ দৃশ্য দেখে হাসপাতালের এক কর্মীকে নারায়ণরাও বলেন, ‘৮৫ বছরের জীবনে যা বাঁচার ছিল, বেঁচে নিয়েছি। হাসপাতালে আর কোনো বেড খালি না থাকলে আমার বেডটি ওই যুবককে দিয়ে দিন। পরিবারের সদস্যদের জন্য তার বেঁচে থাকা দরকার।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এ সময় নারায়ণরাওয়ের জামাতা ও চিকিৎসকরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে চিকিৎসা না নিলে তিনি বাঁচবেন না। আর এখন বেড ছেড়ে দিলে পরে আর কোনো বেড পাবেন তিনি, এমন নিশ্চয়তাও নেই। তাও নিজ সিদ্ধান্তে অনড় নারায়ণরাও তখন মেয়েকে ফোন করে জানান যে তিনি বাড়ি ফিরতে চান। এ মুহূর্তে এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। যোগ্য পিতার যোগ্য কন্যা তখন বাবার অনুভূতি বুঝে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করে বাড়ি ফেরেন নারায়ণরাও। তিন দিন পর মারা যান তিনি।’

নাগপুর মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন পরিচালিত হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক শীলু চিমুরকরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

তিনি বলেন, ‘গত ২২ এপ্রিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারায়ণরাওকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অক্সিজেন দেয়া হয়। তার সঙ্গে স্বজনদের সার্বক্ষণিক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলাম আমরা। তার অবস্থা খারাপ হলে তাকে আরও ভালো কোনো হাসপাতালে নিতে হবে, এমনটাও বলেছিলাম। সব শুনে তারা চলে যায়। দুই ঘণ্টা পর ফেরত এসে নারায়ণরাওকে ছেড়ে দিতে বলে। কিন্তু কেন, তা বলেনি। তখনও আমরা বলেছি তাকে ভালো কোনো হাসপাতালে নেয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের পরামর্শ না শুনে তার জামাতা আমোল পাচপোর সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করে তাকে নিয়ে চলে যায়। আমরাও তাকে ছেড়ে দিই হাসপাতাল থেকে।’

যুবকের জীবন বাঁচাতে প্রবীণের আইসিইউ ছাড়ার খবর ভুয়া
ভারতে হাসপাতাল শয্যা, অক্সিজেন সংকট ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণে ওই ভুয়া সংবাদটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যায়

যুবকের জীবন বাঁচাতে, তার জন্য বেড ছেড়ে দিতে স্বেচ্ছায় নারায়ণরাওয়ের বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিয়েও জানতে চাওয়া হয় ডা. শীলুর কাছে। তিনি বলেন, ‘সে দিন কর্তব্যরত আমাদের কোনো চিকিৎসক বা কর্মী এমন কোনো ঘটনা দেখেননি।’

জানা গেছে, হাসপাতালটিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য ১১০টি বেড আছে। এর মধ্যে ৯২টি আইসিইউ বেড।

হাসপাতাল থেকে নারায়ণরাওয়ের বাড়ি ফেরার দিন সব বেডেই রোগী ছিল কিনা জানতে চাইলে ডা. শীলু বলেন, ‘সে দিন কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটা বেড খালিই পড়ে ছিল।’

এ বিষয়ে নারায়ণরাওয়ের জামাতা আমোল পাচপোরের সঙ্গেও কথা বলেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। আত্মত্যাগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

আমোল বলেন, ‘আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিলাম। তাই কথা বলার অবস্থায় নেই এখন। যা ঘটেছে তা সঠিক। তিনি যে সবাইকে খুব সাহায্য করতে চাইতেন সবসময়, এ নিয়ে প্রশ্নের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এখন এ ব্যাপারে কথা বলে কী লাভ? তার মৃত্যুর চার দিন পেরিয়ে গেছে। এর বেশি কিছু বলতে চাই না আমি।’

আমোলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে নারায়ণরাওকে অন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল কি না। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক হাসপাতাল ঘুরে এই একটি হাসপাতালেই বেড পেয়েছিলাম। পরের ঘটনা তো শুনেছেনই। এরপর তাকে আমার ভগ্নিপতির বাড়িতে রেখে আসি। কারণ সে বাড়ির সবাই করোনা পজিটিভ ছিলেন। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।’

তারপরেও কথা বলার জন্য চাপ দেয়া হলে শ্বশুরকে আরেকটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন আমোল। কিন্তু এর কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।

আরও পড়ুন:
পুলিশ-মনীষা বিতণ্ডা: ভাইরাল দুটি ভিডিওর একটি পুরোনো
আওরঙ্গজেবের কবরে মূত্রত্যাগ অপরাধ নয় বলেনি আদালত
কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’
উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়

শেয়ার করুন