কেরালায় ২০ লাখ বাংলাদেশি ভোটারের তথ্যটি ভুয়া

কেরালায় ২০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী ভোটার বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে তা ভুয়া। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

কেরালায় ২০ লাখ বাংলাদেশি ভোটারের তথ্যটি ভুয়া

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতে ২৩ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইন্ডিয়া টুডের করা এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সংখ্যার ৭৬ শতাংশই ভারতে ১৯৯১ সালের আগে থেকে বসবাস করছেন। আর গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার পরিমাণ খুবই কম।

ভারতের কেরালায় চলছে বিধানসভার নির্বাচন। নির্বাচনের আগে গত বৃহস্পতিবার বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রমেশ চেনিথালা একটি ‘ভুয়া’ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। অভিযোগ করা হয়, তালিকায় অন্তত চার লাখ ভুয়া ভোটার রয়েছে।

অবশ্য নির্বাচন কমিশন হাইকোর্টকে বলেছে, তারা ৩৮ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে এমন সত্যতা পেয়েছে।

ভাইরাল হওয়া পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে দাবি করা হয়েছে, কেরালায় ২০ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি ভোটার রয়েছে। দাবির পক্ষে একটি নিবন্ধ শেয়ার দেয়া হচ্ছে। তার শিরোনাম হলো ‘কেরালায় ব্যাপক নির্বাচনি জালিয়াতি শনাক্ত: ২০ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি ভোটার’।

নিবন্ধটি সোশ্যাল অবজারভার নামের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিবন্ধটি শেয়ার করেছেন সমাজকর্মী মধু পূর্ণিমা কিশোর।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়্যার রুম (এএফডব্লিউএ) ওই দাবির পক্ষে কোনো সঠিক প্রমাণ খুঁজে পায়নি।

কোনো স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম কিংবা অ্যাকাডেমিক জার্নালে কেরালায় ২০ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি ভোটার থাকার পক্ষে কোনো নিবন্ধ বা খবরও পাওয়া যায়নি।

কেন্দ্র থেকে লোকসভাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেখানে কী পরিমাণ অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছে তার সঠিক কোনো হিসাব তাদের কাছে নেই।

এএফডব্লিউএর প্রমাণ

ইন্ডিয়া টুডে প্রথমে ভাইরাল হওয়া নিবন্ধটি নেয়। সেখানে একজন শিক্ষা উদ্যোক্তা স্ট্যানলি সেবাস্টিয়ানের বরাতে বলা হয়েছে, কেরালায় ২০ লাখ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলিম আছে যারা আইডি কার্ড ও রেশন কার্ড পেয়েছেন।

সেবাস্টিয়ান এই সংখ্যা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘এই রাজ্য কোন সরকার শাসন করছে?’

সেই নিবন্ধে কারও নাম বা সূত্র উল্লেখ না করেই তথ্য দেয়া হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে ব্যাঙ্গালুরুতে বসবাস করা সেবাস্টিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

ইন্ডিয়া টুডের এএফডব্লিউএ দলের কাছে সেবাস্টিয়ান জানান, তিনি একটি স্বাধীন ক্ষেত্র থেকে গবেষণা করে এই হিসাবটা পেয়েছেন। গবেষণায় পাওয়া যায়, ২০ লাখ বাংলাদেশি কেরালায় বসবাস করছেন এবং তাদের আইডি কার্ড রয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ২০ লাখ বাংলাদেশি কেরালায় ভোটার নয়। তবে তারা কেরালায় নির্বাচনে একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

সেবাস্টিয়ান বলেন, ‘আমি বলিনি কেরালায় ভোটার তালিকায় ২০ লাখ বাংলাদেশি রয়েছে। কিন্তু সেখানে বিভিন্ন সরকারের আমলে ২০ লাখ বাংলাদেশির আইডি কার্ড থাকার প্রমাণ রয়েছে। এদের মধ্যে অবশ্য অনেকেরই ভোটার আইডি থাকতে পারে।’

এমন তথ্যের পক্ষে নথি আছে কি না জানতে চাইলে সেবাস্টিয়ান কোনো তথ্য বা নথি সরবরাহ করেননি।

নির্বাচন কমিশন কেরালায় দুই কোটি ৭৪ লাখ ভোটারের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে এক কোটি ৩৭ লাখ নারী ও এক কোটি ২৯ লাখ পুরুষ ভোটার। আর প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন ৭৪ লাখ ভোটার।

কংগ্রেস নেতা চেনিথালা সম্প্রতি হাইকোর্টে ভুয়া ভোটারদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেযার আবেদন করেছেন। যদিও তার বিরোধীরা কেরালায় বাংলাদেশি ভোটার বিষয়ে কোনো অভিযোগ তোলেনি কিংবা নির্বাচন কমিশন বা হাইকোর্টেও কিছু জানায়নি।

চেনিথালা চার লাখ ভুয়া ভোটার থাকার কথা হাইকোর্টে জানালেও নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা এই সংখ্যা পেয়েছে ৩৮ হাজার ৫৮৬টি।

ভারতে কত বাংলাদেশি

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতে ২৩ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইন্ডিয়া টুডের করা এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সংখ্যার ৭৬ শতাংশই ভারতে ১৯৯১ সালের আগে থেকে বসবাস করছেন। আর গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার পরিমাণ খুবই কম।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসী রিপোর্ট ২০১৯ অনুযায়ী, ভারতে বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছে ৩০ লাখের কিছু কম বা বেশি।

১৯৯০ সালের পর দেশটিতে বাংলাদেশি যাওয়ার পরিমাণ কমে গেছে বলে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে।

এসব হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, কেরালায় যে ২০ লাখ বাংলাদেশি ভোটারের কথা বলা হয়েছে তা ভুল তথ্য।

আরও পড়ুন:
হাসিনা-সোনিয়ার ভাইরাল হওয়া ছবিটি কবেকার
ছবিটি ভগৎ সিংদের শেষকৃত্যের নয়
দ্য টাইমসে করোনার টিকাবিরোধী শিরোনাম?
সূর্যপৃষ্ঠের যে ছবি তোলেনি নাসা
শচিনের সমালোচনা করে চড় খেলেন শারদ?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লকডাউনে ‘অস্থিরতা সৃষ্টিতে’ পুরোনো ভিডিও ভাইরাল

লকডাউনে ‘অস্থিরতা সৃষ্টিতে’ পুরোনো ভিডিও ভাইরাল

প্রায় এক বছর আগের ঘটনার ভিডিও লকডাউনের প্রথম দিনে ছড়ানোকে উদ্দেশ্যমূলক বলছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহিত

দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার হাফিজুর রহমান রিয়েল বলেন, ‘এটি প্রায় এক বছর আগের ভিডিও। গত বছরের ১৩ মে দক্ষিণখান কোটবাড়ি এলাকায় অবৈধ ইজি বাইক চলাচল বন্ধ করতে পুলিশ কয়েকটি ইজিবাইক আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তখন স্থানীয় রাশি আক্তার নামের এক নারীর ইজিবাইক আটক নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে তার সহযোগীরা এসে পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুরসহ পুলিশের উপর আক্রমণ করে।’

রাজধানীর দক্ষিণখান থানা-পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাস মহামারিতে দ্বিতীয় দফা লকডাউনের প্রথম দিন সোমবার সকাল থেকেই ভিডিওটি বেশকিছু ফেসবুক গ্রুপে দেখা যায়।

এতে দেখা যায়, দক্ষিণখান থানা-পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করছে বিক্ষুব্ধরা। ভিডিওটির শিরোনামে লিখা হয়েছে, ‘লকডাউন এ পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর। দৃশ্যটি বারবার দেখুন।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রেডিওগুলিস্তান ডটকম নামের একটি পেইজ থেকে প্রথম ছড়ানো হয় ভিডিওটি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে লাইভ সম্প্রচারের ব্যান্ডও।

তবে দক্ষিণখান থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার ওই এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার ভিডিও নয়।

দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিকদার মো. শামীম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা মোটেও আজকের কোনো ঘটনা না। এটা অনেক পুরানো ভিডিও। ভিডিওটি যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে।’

পুরোনো ভিডিও এভাবে ছড়ানোর কারণ জানতে চাইলে শামীম হোসেন বলেন, ‘এটা জামাত-শিবিরের ষড়যন্ত্র, তারা দেশে অস্থিরতা তৈরি করার পাঁয়তারা করছে। আমরা বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এনেছি। গুজব সৃষ্টিকারীদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

দক্ষিণখান জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হাফিজুর রহমান রিয়েল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটি প্রায় এক বছর আগের ভিডিও। গত বছরের ১৩ মে দক্ষিণখান কোটবাড়ি এলাকায় অবৈধ ইজি বাইক চলাচল বন্ধ করতে পুলিশ কয়েকটি ইজিবাইক আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তখন স্থানীয় রাশি আক্তার নামের এক নারীর ইজিবাইক আটক নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে তার সহযোগীরা এসে পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুরসহ পুলিশের উপর আক্রমণ করে।’

ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছিলেন বলেও জানান হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘সেই ঘটনায় নিয়মিত মামলার পর ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছিল। এখন আবার দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে লকডাউনের দিনে গুজব ছড়াতে ওই ভিডিও ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনতে ও রেডিওগুলিস্তান ডটকম পেজটির পরিচালনাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিট কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
হাসিনা-সোনিয়ার ভাইরাল হওয়া ছবিটি কবেকার
ছবিটি ভগৎ সিংদের শেষকৃত্যের নয়
দ্য টাইমসে করোনার টিকাবিরোধী শিরোনাম?
সূর্যপৃষ্ঠের যে ছবি তোলেনি নাসা
শচিনের সমালোচনা করে চড় খেলেন শারদ?

শেয়ার করুন

চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়

চার নারীর ভাইরাল ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের নয়

প্রথম ছবিটি ১৯৭১ সালে তোলা দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে। পরের ছবিটি সাম্প্রতিক তোলা। ছবি: সংগৃহিত

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুরোনো ছবিটি ‍মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বলে প্রচার করা হলেও এর কোনো সত্যতা নেই। সম্পূর্ণ পারিবারিক একটি ছবিকে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে।

চার নারী একটি খোলা জিপে বসে আছেন। একজন স্টিয়ারিং ধরে চালকের আসনে, বাকি তিনজনের হাতে বন্দুক। মধ্যবয়সী এই চার নারীর পুরোনো দিনে তোলা ছবির পাশাপাশি ঠিক একই ভঙ্গীতে সাম্প্রতিক সময়ে তোলা আরও একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, এই চার নারী পরস্পরের বান্ধবী এবং তারা চারজনই মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তোলা হয় প্রথম ছবিটি, আর পরের ছবিটি স্বাধীনতার ৫০ বছর পর তোলা হয়েছে একই ভঙ্গীতে।

ছবিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, পুরোনো ছবিটি ‍মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বলে প্রচার করা হলেও এর কোনো সত্যতা নেই। সম্পূর্ণ পারিবারিক একটি ছবিকে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে।

নিউজবাংলা কথা বলেছে ওই চার নারীর স্বজনদের সঙ্গে। এতে জানা গেছে, গাড়িতে থাকা চারজনের মধ্যে স্টিয়ারিং ধরা নারীর নাম আয়েশা আহমেদ। আয়েশার ডান পাশে বসা নারী রোকেয়া আহমেদ, আর পেছনের সিটে বসা দুজনের নাম রাশিদা আহমেদ ও শাহানারা আহমেদ।

এই চার নারীই ১৯৬০ এর দশকে ঢাকার এক বনেদি পরিবারের সদস্য ছিলেন। প্রথম ছবিটি তোলা হয় ১৯৬০ এর দশকের একদম শুরুর দিকে খুলনায়, আর একই আঙ্গিকে ২০১৭ সালে ঢাকায় তোলা হয় পরের ছবিটি।

১৯৬০ এর দশকে তোলা হয় ওপরের ছবিটি, নিচেরটি তোলা ২০১৭ সালে

রোকেয়া আহমেদের পুত্রবধূ রিফাত আহমেদ কথা বলেছেন নিউজবাংলার সঙ্গে। রাজধানীর সিদ্দিকস ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান রিফাত আহমেদ জানান, গাড়িতে বসা চার নারীর স্বামী ও ভাইয়েরা ষাটের দশকের শুরুতে খুলনা অঞ্চলে শিকার করতে গিয়েছিলেন। শিকার শেষে তারা ফেরার পর রান্নাবান্না শেষে এই চার নারী গাড়িটিতে বসে ছবিটি তুলেছিলেন।

পুরনো ছবিটি তোলেন রিফাত আহমেদের শ্বশুর তখনকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও সৌখিন ফটোগ্রাফার আলাউদ্দিন আহমেদ। আর ২০১৭ সালে আবার ওই চার জনের ছবি তোলেন স্বামী আমিন উদ্দিন আহমেদ।

একই গাড়িতে অন্য ভঙ্গিতে চার নারীর ছবি

রিফাত আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, তার শ্বশুর আলাউদ্দিন আহমেদের বাবা ও তার দুই বন্ধু দেশভাগের পর ভারতে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। তাদের আদি বাড়ি মানিকগঞ্জে। দেশে ফেরার পর তারা নৌপরিবহন ব্যবসা শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধের আগে তাদের পাক ওয়াটার ওয়েজ, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার যার নাম হয় বেঙ্গল ওয়াটার ওয়েজ। পরে সেই ব্যবসায় আলাউদ্দিন আহমেদ ও তার ভাইয়েরাও যুক্ত হন।

অবসরে আলাউদ্দিন আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে শিকারে যেতেন। তেমনিভাবে ১৯৬১/৬২ সালের দিকে তারা শিকারে গিয়েছিলেন খুলনায়। আলাউদ্দিন আহমেদ শিকার শেষে ফিরে আসার পর স্ত্রী, দুই ভাবি ও বোনকে একটি গাড়িতে বসিয়ে বন্দুক হাতে ছবি তুলে দেন।

এরপর ২০১৭ সালে এই চারজনকে নিয়ে একই ভঙ্গিমায় ছবি তোলা হয়। তখন উপলক্ষ্য ছিল রিফাত আহমেদের বড় ছেলে রিনান আহমেদের বিয়ে। রিফাত আহমেদ নিউজবাংলাকে জানান, বিয়ে উপলক্ষে পারিবারিক পুরনো ছবিগুলো রিপ্রিন্ট করে সাজানো হয়। বিয়েতে দেশ ও বিদেশের আত্মীয়রা উপস্থিত হয়েছিলেন। বর্তমানে ইংল্যান্ডে বসবাস করা আয়েশাও বিয়েতে এসেছিলেন।

রিফাত আহমেদ বলেন, ‘বিয়ের পরপরই, সবগুলো মানুষ যেহেতু আছে, তাদের নিয়ে আবার ছবিটি উঠানো হয। আগের বন্দুকগুলো না থাকলেও নতুন ছবির বন্দুকগুলো ছিল কাছাকাছি। তবে গাড়িটা একই।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার উইলিস মডেলের গাড়িটি এখনও আমিন উদ্দিন আহমেদের পরিবারের সংগ্রহে রয়েছে।

আলোচিত চার নারীর প্রথম ছবিটি তোলেন তখনকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও সৌখিন ফটোগ্রাফার আলাউদ্দিন আহমেদ।

পুরনো ও নতুন ছবি দুটি একসঙ্গে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন আমিন উদ্দিন আহমেদের বড় ছেলে রিনান আহমেদ। কয়েক বছর আগে তিনি ছবি দুটি ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করেছিলেন। তবে সেই ভিত্তিহীন লেবেলে ভাইরাল হয় এ বছর।

মিথ্যে তথ্য দিয়ে ছবিটি প্রচারে অস্বস্তিতি রিফাত আহমেদ। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে ছবিটি প্রচার হচ্ছে দেখে আমাদের খারাপ লাগছে। ছবিটিকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে রিলেট করা হচ্ছে। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধকে মিথ্যা কিছু দিয়ে চিত্রায়িত করতে চাই না। ’

এ ছবির চার নারীর মধ্যে রোকেয়া আহমেদ ও রাশিদা আহমেদ মারা গেছেন করোনা মহামারির মধ্যে। বাকি দুজনের একজন দেশে ও অপরজন ইংল্যান্ডে আছেন।

আরও পড়ুন:
হাসিনা-সোনিয়ার ভাইরাল হওয়া ছবিটি কবেকার
ছবিটি ভগৎ সিংদের শেষকৃত্যের নয়
দ্য টাইমসে করোনার টিকাবিরোধী শিরোনাম?
সূর্যপৃষ্ঠের যে ছবি তোলেনি নাসা
শচিনের সমালোচনা করে চড় খেলেন শারদ?

শেয়ার করুন

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ছবির সঙ্গে গুগল ম্যাপ থেকে নেয়া কিং আব্দুলাজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচারের তুলনা করা হয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির একটি অংশ টুইটারে শেয়ার করেন সৌদি আরবের প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন খালিদ আল সৌদ। তিনি টুইটারে ভিডিওটির শিরোনামে লিখেছিলেন, ‘দিনে ধাহরানের ইথরায় চমৎকার আতশবাজি।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, এক ভবনের কাছে দৃষ্টিনন্দন আতশবাজি ও বর্ণিল ধোঁয়ার প্রদর্শনী হচ্ছে। শিরোনামে বলা হয়, হিমাচল প্রদেশের অটল টানেলে হোলি উদযাপন হচ্ছে।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) ওই ভিডিও নিয়ে ফ্যাক্ট চেক করে। তাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি অটল টানেলের নয়। এটি সৌদি আরবের ধাহরান শহরের কিং আবদুলাজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচার ভবনের কাছে ধারণ করা।

২০১৮ সাল থেকে ভিডিওটি ইন্টারনেটে রয়েছে। সেটি হোলি উদযাপনকেন্দ্রিক ছিল না।

এএফডব্লিউএর পক্ষ থেকে বলা হয়, গত বছর এক ইউটিউব ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে। এর শিরোনাম ছিল, ‘কিং আব্দুলাজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচারে রঙিন আতশবাজি।’

ওই সূত্রকে কাজে লাগিয়ে এএফডব্লিউএ জানতে পারে, ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর ভাইরাল হওয়া ভিডিওর একটি অংশ টুইটারে শেয়ার করেন সৌদি আরবের প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন খালিদ আল সৌদ। লন্ডনের কিংস কলেজের রিসার্চ ফেলো প্রিন্স আব্দুল্লাহ।

তিনি টুইটারে ভিডিওটির শিরোনামে লিখেছিলেন, ‘দিনে ধাহরানের ইথরায় (টাওয়ার) চমৎকার আতশবাজি।’

পরের টুইটে তিনি লেখেন, “সৃজনশীলতার মৌসুম ‘তানউইন’ উদযাপনের সময়।”

সৌদি আরব অঞ্চলে তানউইন সবচেয়ে বড় সৃজনশীল অনুষ্ঠান। ১৭ দিন ধরে এর উদযাপন হয়।

‘ইথরা’ হিসেবে পরিচিত কিং আব্দুলাজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচারে জাদুঘর, লাইব্রেরি, থিয়েটার ও প্রদর্শনী হল রয়েছে। সৌদি আরবের ধাহরান শহরে এটি অবস্থিত।

২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, তানউইন উদযাপনের আয়োজন করেছে ইথরা। ১৭ দিন ধরে দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও সৃজনশীল মনের মানুষেরা এখানে ভিড় জমাবেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে ছবি এবং গুগল ম্যাপ থেকে নেয়া কিং আবদুলাজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচারের ছবি তুলনা করে এএফডব্লিউএ। তাদের ভাষ্য, ছবি দুটি পাশাপাশি রাখলে যে কেউ এগুলোর সাদৃশ্য বুঝতে পারবে।

অন্যদিকে হিমাচল প্রদেশের অটল টানেলের নকশা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির নামে করা বিশ্বের বৃহত্তম টানেলটি গত বছরের ৩ অক্টোবর উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আরও পড়ুন:
হাসিনা-সোনিয়ার ভাইরাল হওয়া ছবিটি কবেকার
ছবিটি ভগৎ সিংদের শেষকৃত্যের নয়
দ্য টাইমসে করোনার টিকাবিরোধী শিরোনাম?
সূর্যপৃষ্ঠের যে ছবি তোলেনি নাসা
শচিনের সমালোচনা করে চড় খেলেন শারদ?

শেয়ার করুন

হাসিনা-সোনিয়ার ভাইরাল হওয়া ছবিটি কবেকার

হাসিনা-সোনিয়ার ভাইরাল হওয়া ছবিটি কবেকার

ভারতের নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হয়। একে চলতি বছরের মার্চের ছবি বলে অপপ্রচার চালানো হয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসপ্রধান সোনিয়া গান্ধী, দলটির নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, আনন্দ শর্মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় শেখ হাসিনা চার দিনের সফরে ভারতে ছিলেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেশে ফিরেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তার বাংলাদেশ সফরের মধ্যেই ভারতে একটি ছবি ভাইরাল হয়। ২৭ মার্চ ভাইরাল ছবিটি কংগ্রেসের অনেক নেতাও শেয়ার করেন।

ছবিটি ছিল ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বৈঠকের।

সেই ছবি শেয়ার করে অনেকেই লিখেছেন, সোনিয়া, মনমোহনসহ অন্যরা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশে গিয়ে বৈঠকও করেছেন।

অনেকে আবার ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলছেন, কংগ্রেস নেতা সোনিয়া গান্ধী বাংলাদেশ সফরের সময় মনমোহন সিংকে সঙ্গে নিয়েছিলেন।

ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সোনিয়া গান্ধী ও শেখ হাসিনা বৈঠকের শীর্ষ আসনটিতে বসে আছেন। তবু অনেকেই বিদ্রূপের সুরে লিখেছেন, নীরব দর্শক হয়ে সেখানে বসে আছেন মনমোহন সিং।

এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ছবিটি ২৮ মার্চ পোস্ট করে লিখেন, ‘একদা সোনিয়া গান্ধী বাংলাদেশ সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে সঙ্গে নিয়েছিলেন।’

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেক নিউজ ওয়্যার রুম (এএফডব্লিউএ) ছবিটির ফ্যাক্ট চেক করে সত্য তুলে ধরেছে। তারা বলছে, ছবিটি যেসব শিরোনামে শেয়ার হয়েছে, তা আসলে ভুল তথ্য দিচ্ছে।

ছবিটি তোলা হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে। সে সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে দেখা করেছিলেন। সেখানেই দলের নেতা হিসেবে শীর্ষ আসনটিতে বসেছিলেন সোনিয়া গান্ধী।

সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ধরে খুঁজে বেশ কিছু একই রকম ছবি পাওয়া গেছে। সঙ্গে পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসপ্রধান সোনিয়া গান্ধী, দলটির নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, আনন্দ শর্মা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় শেখ হাসিনা চার দিনের সফরে ভারতে ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সাক্ষাতে দুই দেশের পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হয়।

ভাইরাল হওয়া ছবিটি আউটলুকের গ্যালারিতে পাওয়া যায়। সেখানে ক্যাপশন লেখা আছে, কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও দলের নেতারা বাংলাদেশের প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে সাক্ষাৎ করেন।

বার্তা সংস্থা এএনআই সাক্ষাতের বেশ কিছু ছবি টুইট করে। সেখানেও ৬ অক্টোবরের সেই মিটিংয়ের কথা বলা হয়। আর মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বশেষ ২০১১ সালে বাংলাদেশ সফর করেন।

আরও পড়ুন:
হাসিনা-সোনিয়ার ভাইরাল হওয়া ছবিটি কবেকার
ছবিটি ভগৎ সিংদের শেষকৃত্যের নয়
দ্য টাইমসে করোনার টিকাবিরোধী শিরোনাম?
সূর্যপৃষ্ঠের যে ছবি তোলেনি নাসা
শচিনের সমালোচনা করে চড় খেলেন শারদ?

শেয়ার করুন

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য মোদির জেল খাটা কতটা সত্য?

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য মোদির জেল খাটা কতটা সত্য?

একাত্তরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবিতে অটল বিহারি বাজপেয়ীর নেতৃত্বে দিল্লিতে একটি বিশাল সমাবেশ হয়েছিল। সেই সমাবেশে গ্রেপ্তার হয়ে মোদির তিহার জেলে কিছুদিন কাটানোর তথ্য এর আগেও একাধিক স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণকারী নরেন্দ্র মোদি ১৯৭১ সালে ছিলেন ২১ বছরের তরুণ। সে সময় তিনি বাংলাদেশের স্বীকৃতির দাবিতে ভারতের নয়াদিল্লিতে সত্যাগ্রহ আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করেছিলেন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ঢাকায় এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি তার ভাষণে এ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার বয়স তখন ২০ কি ২১, যখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আমি ও আমার সহকর্মীরা সত্যাগ্রহে অংশ নিয়েছিলাম। আমি এমনকি কারাবরণও করেছিলাম।’

মোদির এ দাবির সত্যতা নিয়ে ভারতেই দেখা দিয়েছে বিতর্ক। সে দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস নেতাসহ অনেকে মোদির এ দাবি নিয়ে সমালোচনায় মেতে উঠেছেন। মোদির জেলে যাওয়ার তথ্যে সন্দেহ প্রকাশ করে অনেকেই করেছেন বিরূপ মন্তব্য।

কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, মোদি এমন একটি বিষয়ে কৃতিত্ব নিতে চেয়েছেন, যা তিনি করেননি।

তবে ভারতের পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবিতে ১৯৭১ সালের আগস্টে নয়াদিল্লিতে একটি আন্দোলন হয়েছিল। সে সময়ের রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনসংঘের ১০ হাজার কর্মী ১২ দিনের ‘সত্যাগ্রহে’ অংশ নিয়েছিলেন। এতে ১ হাজার ২০০ নারী ও শিশুরও অংশগ্রহণ ছিল।

ভারতীয় জনসংঘ দলটিই বিভিন্ন ভাঙাগড়ার মধ্য দিয়ে পরে ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপিতে পরিণত হয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়া পত্রিকার সে সময়ের একটি খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি ১৯৭১ সালের আগস্টেই তুলেছিল ভারতের জনসংঘ। তাদের অভিযোগ ছিল, ইন্দিরা সরকার বিষয়টিতে কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। ‘সত্যাগ্রহ’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে দিল্লির জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশাল জনসভায় জনসংঘের কর্মীদের বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১২০টি বাস প্রস্তুত ছিল। ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য মোদির জেল খাটা কতটা সত্য?
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবিতে ১৯৭১ সালের আগস্টে ভারতের জনসংঘের সত্যাগ্রহ কর্মসূচি

দিল্লির জাতীয় স্টেডিয়ামে সমাবেশে বক্তৃতা করেছিলেন দলটির সে সময়ের প্রেসিডেন্ট অটল বিহারি বাজপেয়ী। ওই জনসভায় দেয়া ভাষণে বাজপেয়ী ঘোষণা করেন, বাংলাদেশকে নিয়ে ভারত-সোভিয়েত যৌথ বিবৃতি স্বাধীন বাংলাদেশকে অস্বীকার করতে দিল্লি ও মস্কোর মধ্যে একটি ষড়যন্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের জন্য মোদির জেল খাটা কতটা সত্য?
বিজেপি নেতা অটল বিহারি বাজপেয়ীকে দেয়া বাংলাদেশ সরকারের সম্মাননাপত্র

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন ও সহযোগিতা দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার অটল বিহারি বাজপেয়ীকে যে মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা দেয়, সেটির মানপত্রে একাত্তর সালে দিল্লিতে ওই সত্যাগ্রহ আন্দোলনের উল্লেখ আছে।

ওই কর্মসূচিতে নিজের উপস্থিতির দাবি করেছেন ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশটির অনলাইন পত্রিকা রিপাবলিকওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে লিখেছে, মোদি তার এই সত্যাগ্রহের কথা প্রথম জানিয়েছেন ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা নিয়ে লেখা তার স্মৃতিচারণামূলক বইতে। বইটির নাম সাংঘার্ষ মা গুজরাত, যেটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৮ সালে।

এই বইয়ের প্রথম দিকের সংস্করণের ফ্ল্যাপে গুজরাটি ভাষায় লেখা ছিল, ‘আঘৌ বাংলাদেশ সত্যাগ্রহে সময় তিহার জেল জাই আভেলা ছে’, যার অর্থ বাংলাদেশ নিয়ে সত্যাগ্রহের সময় মোদি তিহার জেলে গিয়েছিলেন।

আরেকটি পত্রিকা দ্য কুইন্ট জানায়, মোদি ভারতের সাংবাদিক নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকারেও একই দাবি করেছেন। নীলাঞ্জন মোদির জীবনী নরেন্দ্র মোদি: দ্য ম্যান, দ্য টাইমস-এর লেখক। ওই বইতে মোদি ১৯৭১ সালের ওই সত্যাগ্রহ আন্দোলনের বিবরণ দিয়ে বলেছিলেন, সেটিই ছিল তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের যাত্রাবিন্দু।

নীলাঞ্জন পরে ইকোনমিক টাইমস-এ এক নিবন্ধে এই ঘটনাটির কথা উল্লেখ করেছেন এভাবে:

‘প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে মোদির প্রথম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল ১৯৭১ সালে, যখন তিনি যুদ্ধে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অটল বিহারি বাজপেয়ীর নেতৃত্বে দিল্লিতে জনসংঘের একটি সত্যাগ্রহে অংশ নেন। তবে সরকার মুক্তিবাহিনীর পক্ষে প্রকাশ্য সমর্থন অনুমোদন করেনি এবং মোদিকে অল্প সময়ের জন্য তিহার কারাগারে কাটাতে হয়।’

আরও পড়ুন:
হাসিনা-সোনিয়ার ভাইরাল হওয়া ছবিটি কবেকার
ছবিটি ভগৎ সিংদের শেষকৃত্যের নয়
দ্য টাইমসে করোনার টিকাবিরোধী শিরোনাম?
সূর্যপৃষ্ঠের যে ছবি তোলেনি নাসা
শচিনের সমালোচনা করে চড় খেলেন শারদ?

শেয়ার করুন

ছবিটি ভগৎ সিংদের শেষকৃত্যের নয়

ছবিটি ভগৎ সিংদের শেষকৃত্যের নয়

ভগৎ সিংদের সৎকার বলে যে ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে সেটি ১৯৭৮ সালে সংঘর্ষে নিহত ১৩ জন শিখের সৎকারের। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

এই ছবি ১৯৭৮ সালে অমৃতসরে নিরঙ্কারিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৩ শিখের নিহতের শেষকৃত্যের। আর ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরুকে ব্রিটিশ সরকার খুব গোপনে দাহ করেছিল।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরুকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বার্ষিকী ছিল গত ২৩ মার্চ। ৯০ বছর আগে ১৯৩১ সালের ওই দিনে ব্রিটিশ সরকার পাকিস্তানের লাহোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের তিনজনকে পুলিশ কর্মকর্তা স্যান্ডার্স হত্যায় ফাঁসি দেয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাদা-কালো একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একটি মৃতদেহ সৎকার করা হচ্ছে। তার চারপাশে শত শত লোক ঘিরে আছে। কেউ কেউ বলছে, এই ছবিটিই তিন মুক্তিসংগ্রামীর শেষকৃত্যের ছবি।

ছবিটি দেখে নেটিজেনরা আবেগঘন অনেক পোস্ট শেয়ার দিতে থাকেন ফেসবুক, টুইটারসহ অন্য সামাজিক মাধ্যমে।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শেষে জানায়, যে ছবিটিকে তাদের শেষকৃত্যের বলে শেয়ার দেয়া হচ্ছে, সেটা আসল ছবি নয়।

এই ছবি ১৯৭৮ সালে অমৃতসরে নিরঙ্কারিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৩ শিখের নিহতের শেষকৃত্যের। আর ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরুকে ব্রিটিশ সরকার খুব গোপনে দাহ করেছিল।

প্রায় এক দশক থেকে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি এই ভুয়া তথ্য শেয়ার করে আসছিল। ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে।

বেশ কিছু নিউজ পোর্টাল ও সংবাদমাধ্যমের নিবন্ধে তিন যোদ্ধার মৃত্যু দিবসে এই ছবিটিই ব্যবহার করা হয়েছে।

১৯৭৮ সালে কী ঘটেছিল

কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে ইন্ডিয়া টুডে ছবিটি সার্চ করে। সেখানে ভাইরাল হওয়া ছবিটিই বেশি আসে।

অনুসন্ধান শেষে দেখা যায়, ছবিটি ১৯৭৮ সালে নিরঙ্কারি ও শিখদের মধ্যকার সংঘর্ষের পরের ছবি।

নিরঙ্কারি শিখ সম্প্রদায়ের একটা গোষ্ঠী যারা বাবা বুটা সিংকে অনুসরণ করে। তারা অন্য কোনো ধর্মকে অনুপযুক্ত মনে করে। তবে মূলধারার শিখরা তাদের ধর্মবিরোধী বলে মনে করে।

শিখ জীবনধারার একটি সম্মিলিত গোষ্ঠী আখন্দ কীর্তনী জঠা (একেজে) ‘কুরবানি’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছিল যা এখন ওয়েবসাইটেও পাওয়া যায়।

বইটির তৃতীয় সংস্করণে বলা হয়েছে, অমৃতসরে বৈশাখ উদ্‌যাপনে ১৯৭৮ সালের ১৩ এপ্রিল দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়।

ওই বইতে দাবি করা হয়, নিরঙ্কারি লোকজন সেদিন একটি শোভাযাত্রা বের করে। সেখান থেকে বিরোধী নেতা গুরু গ্রন্থ সাহেব ও শিখদের উদ্দেশে স্লোগান দিতে থাকে তারা। আর তখনই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ছিলেন ১৩ শিখ ধর্মাবলম্বী। নিহতদের অন্যতম ছিলেন শিখ নেতা ভাই ফাউজা সিং। শিখরা সে সময় থেকে দাবি করে আসছে, তিনি পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

কুরবানি নামের বইতে ১৩ শিখের শেষকৃত্যের ছবিটি আছে।

কী ঘটেছিল লাহোর কারাগারে

আরেক লেখক অনিল ভার্মা তার ‘রাজগুরু দ্য ইনক্রিডেবল রেভোল্যুশনারি’ বইতে লিখেছেন, লাহোর কারাগারে ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরুকে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

বইটিতে বলা হয়েছে, তাদের শেষকৃত্যের জন্য মরদেহ গোপনে কারাগারের পেছনের দিকের দেয়াল ভেঙে ফিরোজপুরের কাছে সাতলুজ নদীর তীরের একটি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। যখন স্থানীয় লোকজন জানতে পারেন সেখানে মরদেহ দাহ করা হচ্ছে, তারা একে একে জমায়েত হতে থাকে।

কারাগারের লোকজন ভয়ে আধা পোড়া মরদেহগুলো সাতলুজ নদীতে ফেলে দেয়। সেই সঙ্গে বালু দিয়ে দাহ করা স্থানকে ঢেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

‘দ্য এক্সিকিউশন অফ ভগৎ সিং: লিগ্যাল হিয়ারসিস অফ রাজ’ বইতে সাতবিন্দর সিং দাবি করেছেন, ফাঁসির পর ওই তিনজনের মরদেহ টুকরো টুকরো করে সেটা ময়লার ড্রেনে ফেলে দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
হাসিনা-সোনিয়ার ভাইরাল হওয়া ছবিটি কবেকার
ছবিটি ভগৎ সিংদের শেষকৃত্যের নয়
দ্য টাইমসে করোনার টিকাবিরোধী শিরোনাম?
সূর্যপৃষ্ঠের যে ছবি তোলেনি নাসা
শচিনের সমালোচনা করে চড় খেলেন শারদ?

শেয়ার করুন