ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ছবির সঙ্গে গুগল ম্যাপ থেকে নেয়া কিং আব্দুলাজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচারের তুলনা করা হয়। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি অটল টানেলের নয়

২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির একটি অংশ টুইটারে শেয়ার করেন সৌদি আরবের প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন খালিদ আল সৌদ। তিনি টুইটারে ভিডিওটির শিরোনামে লিখেছিলেন, ‘দিনে ধাহরানের ইথরায় চমৎকার আতশবাজি।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায়, এক ভবনের কাছে দৃষ্টিনন্দন আতশবাজি ও বর্ণিল ধোঁয়ার প্রদর্শনী হচ্ছে। শিরোনামে বলা হয়, হিমাচল প্রদেশের অটল টানেলে হোলি উদযাপন হচ্ছে।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়ার রুম (এএফডব্লিউএ) ওই ভিডিও নিয়ে ফ্যাক্ট চেক করে। তাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভিডিওটি অটল টানেলের নয়। এটি সৌদি আরবের ধাহরান শহরের কিং আবদুলাজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচার ভবনের কাছে ধারণ করা।

২০১৮ সাল থেকে ভিডিওটি ইন্টারনেটে রয়েছে। সেটি হোলি উদযাপনকেন্দ্রিক ছিল না।

এএফডব্লিউএর পক্ষ থেকে বলা হয়, গত বছর এক ইউটিউব ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে। এর শিরোনাম ছিল, ‘কিং আব্দুলাজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচারে রঙিন আতশবাজি।’

ওই সূত্রকে কাজে লাগিয়ে এএফডব্লিউএ জানতে পারে, ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর ভাইরাল হওয়া ভিডিওর একটি অংশ টুইটারে শেয়ার করেন সৌদি আরবের প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন খালিদ আল সৌদ। লন্ডনের কিংস কলেজের রিসার্চ ফেলো প্রিন্স আব্দুল্লাহ।

তিনি টুইটারে ভিডিওটির শিরোনামে লিখেছিলেন, ‘দিনে ধাহরানের ইথরায় (টাওয়ার) চমৎকার আতশবাজি।’

পরের টুইটে তিনি লেখেন, “সৃজনশীলতার মৌসুম ‘তানউইন’ উদযাপনের সময়।”

সৌদি আরব অঞ্চলে তানউইন সবচেয়ে বড় সৃজনশীল অনুষ্ঠান। ১৭ দিন ধরে এর উদযাপন হয়।

‘ইথরা’ হিসেবে পরিচিত কিং আব্দুলাজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচারে জাদুঘর, লাইব্রেরি, থিয়েটার ও প্রদর্শনী হল রয়েছে। সৌদি আরবের ধাহরান শহরে এটি অবস্থিত।

২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, তানউইন উদযাপনের আয়োজন করেছে ইথরা। ১৭ দিন ধরে দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও সৃজনশীল মনের মানুষেরা এখানে ভিড় জমাবেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে ছবি এবং গুগল ম্যাপ থেকে নেয়া কিং আবদুলাজিজ সেন্টার ফর ওয়ার্ল্ড কালচারের ছবি তুলনা করে এএফডব্লিউএ। তাদের ভাষ্য, ছবি দুটি পাশাপাশি রাখলে যে কেউ এগুলোর সাদৃশ্য বুঝতে পারবে।

অন্যদিকে হিমাচল প্রদেশের অটল টানেলের নকশা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির নামে করা বিশ্বের বৃহত্তম টানেলটি গত বছরের ৩ অক্টোবর উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছাত্রলীগের ইফতারি নিয়ে অপপ্রচার

ছাত্রলীগের ইফতারি নিয়ে অপপ্রচার

কক্সবাজার ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দেয়া ইফতারের প্যাকেট।

ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, একটি মহল সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যাচার করছে। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ছবি পোস্ট করে কুচক্রীরা দাবি করছে, ছাত্রলীগ নামমাত্র ইফতারি বিতরণ করছে। অথচ বাস্তবতা হলো সংগঠনের পক্ষ থেকে দেয়া ইফাতারির প্যাকেট থেকে খাবার সরিয়ে ওই ছবি তোলা হয়েছে।

করোনা মহামারির মধ্যে ছিন্নমূল অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে নিয়মিত ইফতারসামগ্রী বিতরণ করছে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ।

রমজান মাস শুরুর পর থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন শতাধিক ব্যক্তিকে দেয়া হচ্ছে ইফতারসামগ্রী। কিন্তু এই উদ্যোগে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংগঠনের নেতারা।

তারা বলছেন, একটি মহল সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যাচার করছে। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে ছবি পোস্ট করে কুচক্রীরা দাবি করছে, ছাত্রলীগ নামমাত্র ইফতারি বিতরণ করছে। অথচ বাস্তবতা হলো সংগঠনের পক্ষ থেকে দেয়া ইফাতারির প্যাকেট থেকে খাবার সরিয়ে ওই ছবি তোলা হয়েছে।

কারা এই অপপ্রচারে জড়িত এমন প্রশ্নে ছাত্রলীগের নেতারা জানান, জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনার শুরু থেকে কক্সবাজার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নিজেদের পকেট খরচ বাঁচিয়ে মাসব্যাপী ইফতারি বিতরণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

সম্প্রতি ইফতারির প্যাকেটের একটি ছবি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। এতে দেখা যায় সামান্য মুড়ি, ছোলা, একটা কলা, পিঁয়াজু, শসা ও খেজুর রয়েছে। সঙ্গে দেয়া হয়েছে এক বোতল খাবার পানি।

এই ছবি প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাদ্দাম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সরবরাহ করা প্যাকেটে ১০-১২ ধরনের আইটেম থাকে। তারা কয়েকটি আইটেম সরিয়ে ছবি তুলে তা ছেড়ে দিয়েছে। তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।’

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ইফতারির ছবি। ছবি: নিউজবাংলা

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে জেলা ছাত্রলীগ দুযোগপূর্ণ মুহূর্তে সব সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের এমন মহৎ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কুচক্রী মহল এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। মাহে রমজানের ইফতারি নিয়ে এমন অপপ্রচার দুঃখজনক। যারা এই অপপ্রচারে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার শুরু থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে। কোনো অপশক্তি এই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। এই ধরনের কাজ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

শ্বেতাঙ্গদের নিয়োগ দেবে না বলেনি ম্যাকডোনাল্ড’স-কোকাকোলা

শ্বেতাঙ্গদের নিয়োগ দেবে না বলেনি ম্যাকডোনাল্ড’স-কোকাকোলা

ম্যাকডোনাল্ড’সের ওয়েবসাইট, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন বা ফেসবুক পেজের কোথাও শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিদের নিয়োগ বন্ধ করার কথা বলা নেই। অন্যদিকে কোকা-কোলার মুখপাত্র অ্যান মুর বলেন, ‘এ দাবি পুরোপুরি মিথ্যা।’

ম্যাকডোনাল্ড’স ও কোকাকোলার শীর্ষস্থানীয় পদে শ্বেতাঙ্গদের নিয়োগ দেয়া হবে বলে সম্প্রতি একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

বর্ণকেন্দ্রিক অসাম্য ও বৈষম্য বিবেচনায় রেখে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিদের নিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মধ্যে ম্যাকডোনাল্ড’স, কোকাকোলাও রয়েছে।

এমন বাস্তবতায় ১২ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি বেশ ভাইরাল হয়। এতে বলা হয়, ‘ম্যাকডোনাল্ড’স ও কোকাকোলা উভয় প্রতিষ্ঠানই শীর্ষস্থানীয় পদে কোনো শ্বেতাঙ্গকে নিয়োগ দেবে না।’

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে ইউএসএ টুডের ফ্যাক্ট চেক দল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেতৃত্বে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার ঘোষণা দেয় ম্যাকডোনাল্ড’স। নারী ও ঐতিহাসিকভাবে অপ্রতিনিধিত্বশীল গ্রুপকে নেতৃত্বস্থানীয় পদে নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধিত্বমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তি বাড়াতে ‘অ্যালাইশিপ থ্রু অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ নামের ওই পরিকল্পনা হাতে নেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফাস্ট ফুড কোম্পানিটি।

পরিকল্পনায় বলা হয়, ২০২৫ সালের মধ্যে কোম্পানির জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও উচ্চ পর্যায়ের পদগুলোতে বর্ণ ও জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। এ ছাড়া বৈশ্বিক নেতৃত্বস্থানীয় পদে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত নারী প্রতিনিধি বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়।

ম্যাকডোনাল্ড’সের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বস্থানীয় পদের ২৯ শতাংশে অপ্রতিনিধিত্বশীল গ্রুপ কাজ করছে।

ম্যাকডোনাল্ড’সের ওয়েবসাইট, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন বা ফেসবুক পেজের কোথাও শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিদের নিয়োগ বন্ধ করার কথা বলা নেই।

এ বিষয়ে ইউএসএ টুডে মন্তব্য জানতে চাইলে ম্যাকডোনাল্ড’স কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানায়।

অন্যদিকে কোকাকোলার মুখপাত্র অ্যান মুর বলেন, ‘এ দাবি পুরোপুরি মিথ্যা।’

বহুজাতিক বেভারেজ করপোরেশন কোকাকোলা সম্প্রতি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার ঘোষণা দেয়। তবে তার অর্থ এই নয় যে করপোরেশনটি শ্বেতাঙ্গদের নিয়োগ দেয়া বন্ধ করবে।

এ বিষয়ে কোকাকোলার ওয়েবসাইট, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন বা ফেসফুক পেজেও কিছু পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’

কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’

কাঠগড়ায় রক্তমাখা পোশাক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আসামির এই ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবি: সংগৃহিত

পুলিশের দাবি, কাঠগড়ায় ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা আখতার হোসেনের পাশে দাঁড়ানো তরুণের নাম শাহারুম ইসলাম রিফাত। ফুলবাড়িয়া এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় তিনি গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন।  

আদালতের কাঠগড়ায় ‘রক্তমাখা পোশাক’ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক আসামির ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ওই আসামির পাশে ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকেও দেখা যায়। ফেসবুকে বেশ কিছু পোস্টে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো দুজনকেই ‘ছাত্রনেতা’ দাবি করে ‘রক্তমাখা পোশাক’কে তাদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রমাণ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ওই দুই জনের বিষয়ে পুলিশসহ আদালত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় আখতার হোসেনকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানিয়ে গত বুধবার আদালতে তোলে পুলিশ।

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের বিচারক মামুনুর রশীদ এ আবেদনের শুনানি শেষে আখতারকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

ওই আবেদনের শুনানির সময় কাঠগড়ায় আখতারের পাশে দাঁড়ানো আরেক তরুণ অন্য একটি মামলার আসামি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও আদালত সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, আখতারের পাশে দাঁড়ানো তরুণের নাম শাহারুম ইসলাম রিফাত। ফুলবাড়িয়া এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় তিনি গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন। এ কারণে তার আঙুলে ব্যান্ডেজ ও ট্রাউজার্সে রক্ত লেগে ছিল।

কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’
ফেসবুকে বেশ কিছু পোস্টে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো শাহারুমকেও ‘ছাত্রনেতা’ দাবি করা হয়েছে

ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) জাফর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, শাহবাগ থানার ছিনতাই মামলার আসামি শাহারুম আলম রিফাত রাস্তায় গণপিটুনির সময় নিজের কাছে থাকা ছুরি দিয়ে নিজের আঙুল কেটে ফেলেন। তবে আঘাত গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসার পর পুলিশ তাকে বুধবার আদালতে তোলে। শাহারুম পুলিশের হেফাজতে নিজেই হেঁটে সেদিন কাঠগড়ায় ওঠেন বলেও দাবি করেন জাফর হোসেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো আসামির রিমান্ড আবেদনকালে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তাকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। কোনো আসামিকে কাঠগড়ায় তোলা বা না তোলার নির্দেশের বিষয়টি পুরোপুরি ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার।

শাহারুমের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলার বাদি শাহবাগ থানার আওতাধীন বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটের সামনে ঘোরাঘুরির সময় পুলিশকে দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন শাহারুম। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাকে ধরে ফেলে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় শাহারুম নিজের কাছে থাকা ছুরিতে হাতের আঙুল কাটে। ছুরি দেখে ব্যবসায়ীরা আরও উত্তেজিত হয়ে তাকে পিটুনি দেয়।’

শাহারুমের সঙ্গে রাতুল নামে আরেক তরুণ ছিলেন, তবে তিনি পালিয়ে যান বলে জানান মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সহায়তায় আমরা শাহারুমকে ছুরিসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসি। রাতেই তার বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতুলকে ধরার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হলেও তাকে ধরতে পারিনি।’

কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’
ছিনতাইয়ের অভিযোগে শাহারুম ইসলাম রিফাতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে শাহবাগ থানায়

শাহারুমের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায়। তিনি ঢাকায় বংশাল এলাকার আনন্দবাজারের সেক্রেটারিয়েট রোডের একটি বাড়িতে থাকেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক ফারুক মণ্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার করে ১৪ এপ্রিল রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে কোর্টে পাঠানো হয় শাহারুমকে। তবে করোনার কারণে সেদিন শেষপর্যন্ত রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়নি। আশা করছি কিছুদিনের মধ্যেই শুনানি হবে। তাকে আপাতত কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।’

আসামির আঙুল কাটা থেকে শুরু করে তার চিকিৎসার সব বিষয় লিখিতভাবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

রক্তাক্ত পোশাকে শাহারুমকে কেন আদালতে পাঠানো হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘আসামিকে যে অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেই অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। এখানে তার কোনো কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন তো দেখি না। যেভাবে পেয়েছি, সেভাবেই পাঠিয়েছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাস্তায় চোর, ছিনতাইকারী বা যে কোনো ধরনের অপরাধী গণপিটুনির শিকার হলে পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে হাজির করা হয়।

‘অনেক সময় ছেঁড়াফাটা পোশাক বা রক্তমাখা পোশাক পরা অবস্থাতেই আসামিদের কাঠগড়ায় নিয়ে যেতে হয়। আসামিদের পোশাক বদলের সময় ও সুযোগ থাকে না। এ বিষয়ে আইনি কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই।’

তিনি বলেন, ‘তবে অনেক সময় থানা বা পুলিশের হেফাজত থেকে কোনো আসামিকে কোর্ট হাজতে আনার পর শরীর থেকে রক্ত বের হলে বা দৃশ্যমান জখম অথবা যে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা গোচরীভূত হলে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পরামর্শে কোর্টের হাজতেই আসামির পোশাক বদল করা হয়ে থাকে। তারপর এজলাসের কাঠগড়ায় হাজির করানো হয়।’

অন্যদিকে, কোর্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, যেসব মামলার আসামিদের ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তার আগাম কোনো নির্দেশনা থাকে না, সেসব মামলার আসামিদের বাহ্যিক, শারীরিক কিংবা মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে তারা যত্নশীল থাকেন না। কাজেই কার পোশাকে কী লেগে আছে সেটা অনেক সময় লক্ষ্য করা হয়ে ওঠে না।

আখতারকে নির্যাতনের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ কী বলছে

ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে নির্যাতন ও হাতে দড়ি বেঁধে কাঠগড়ায় তোলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

কাঠগড়ায় আসামির কেন ‘রক্তমাখা পোশাক’
ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী

আখতারকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করছে পুলিশ। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শাহবাগ থানার একটি মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা আখতারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তার ওপর কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে রাস্তায় লোকজনের হাতে পিটুনির শিকার, গ্রেপ্তারকৃত এক ছিনতাইকারীর সঙ্গে একই দিন একই সময়ে কোর্টের কাঠগড়ায় তার দাঁড়ানোর ঘটনাটিকে কেউ কেউ ভিন্ন দিকে নেয়ার চেষ্টা করছেন।’

মামলাটির তদন্ত করছেন ডিবির রমনা জোনাল টিমের উপ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম খান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আখতারকে আমরা গতকালই (বুধবার) মাত্র রিমান্ডে পেয়েছি। এর আগে গ্রেপ্তারের পরেও তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। এ অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

হাতে দড়ি বেঁধে আদালতে তোলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেদিন দুই মামলার আসামিকে (আখতার ও শাহারুম) এক সঙ্গে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছিল। তাদের কারো হাতই দড়ি বাঁধা ছিল না। তবে দুজনেরই একটি হাতকড়া ছিল এবং সেই হাতকড়া দড়িতে বাঁধা ছিল। আদালতে একাধিক আসামিকে একসঙ্গে যখন নেয়া হয় তখন এ ধরনের ব্যবস্থা খুব সাধারণ ঘটনা।’

পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার মামলায় আখতার হোসেনকে আইনি সহায়তা দিচ্ছেন আইনজীবী শিশির মনির। তিনি নিউজবাংলাকে জানান, আখতারকে নির্যাতনের কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।

শেয়ার করুন

চেকপোস্টে চিকিৎসককে ‘কসাই’ বলার অভিযোগ

চেকপোস্টে চিকিৎসককে ‘কসাই’ বলার অভিযোগ

কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম সকালে রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেটের চেকপোস্টে পুলিশ সদস্য কর্তৃক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন এক চিকিৎসক। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় পুলিশের একটি চেকপোস্টে বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মমিনুল ইসলাম নামে এক চিকিৎসক। তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ইনডোর অফিসার (ইউরোলজি বিভাগ) হিসেবে কর্মরত। চলতি সপ্তাহে দায়িত্ব পালন করছেন হাসপাতালটির কোভিড ইউনিটে।

কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন হাসপাতালে যাওয়ার পথে চেকপোস্টে এক চিকিৎসককে ‘কসাই’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।

রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় পুলিশের একটি চেকপোস্টে বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মমিনুল ইসলাম নামে এক চিকিৎসক। তিনি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ইনডোর অফিসার (ইউরোলজি বিভাগ) হিসেবে কর্মরত। চলতি সপ্তাহে দায়িত্ব পালন করছেন হাসপাতালটির কোভিড ইউনিটে।

মমিনুলের অভিযোগ আট দিনের কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম সকালে গ্রিন রোডের বাসা থেকে হাসপাতালে যাওয়ার পথে এক পুলিশ সদস্য তাকে হেনস্তা করেছে।

তবে তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় দায়িত্বপালনকালে এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানা নেই তাদের। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তারা।

চেকপোস্টে হেনস্তার শিকার হওয়ার বিষয়টি ডাক্তার মমিনুল ইসলাম তার নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন। পরবর্তী সময়ে মমিনুলের সঙ্গে নিউজবাংলা যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘পুলিশের এমন আচরণে আমি মর্মাহত। এমনটি কখনোই প্রত্যাশা করিনি।’

চিকিৎসক মমিনুল ইসলাম

ফেসবুক পোস্টে মমিনুল লিখেছেন, ‘আজ (বুধবার) সকালে সিএনজি নিয়ে করোনা হাসপাতালে ডিউটিতে যাবার সময় জাহাঙ্গীর গেটে পুলিশ আটকালে পরিচয় দিই, হাসপাতাল আইডি দেখালে পুলিশ বলে- কসাইগিরি ফলাস, তোর কসাইগিরি বাইর করতেছি, লাত্থি দিয়া পা ভাইঙা দিমু..... আরও কিছু ভাষা যা লেখার যোগ্য নয়....। মনে হলো যোগ্য সম্মান টাই পেলাম। এ অবস্থায় ডিউটি নিয়ে করনীয় কি? জানতে চাই।’

তার এই ফেসবুক পোস্টের পর চিকিৎসকদের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন নেটিজেনরা।

চেকপোস্টে হেনস্তার শিকার প্রসঙ্গে মোবাইল ফোনে ডা. মমিনুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজকে সকালে করোনা ইউনিটে আমার ডিউটি ছিল। গ্রিন রোডের বাসা থেকে সিএনজিতে করে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে ফার্মগেট ও অন্যান্য জায়গায় পুলিশ সিএনজি আটকালে পরিচয় পেয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

‘যথারীতি জাহাঙ্গীর গেট চেকপোস্ট অনেকগুলো গাড়ির সঙ্গে আমি যে সিএনজিতে ছিলাম সেটাও আটকায়। অনেকগুলো গাড়ি আটকানোর কারণে ওই চেকপোস্টের জ্যাম লেগে ছিল। আমার ডিউটি ছিল ৯টা থেকে। চেকপোস্টের যখন পৌঁছাই তখন প্রায় আটটা ৫০ মিনিট। সামনে জ্যাম দেখে আমার সিএনজির পাশে থাকা পুলিশ সদস্যকে আমার পরিচয় দেই এবং দ্রুত যেতে দেয়ার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানাই।’

মমিনুল বলেন, ‘কথাগুলো দুইবার বলার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পুলিশের ওই সদস্য। তিনি বলে ওঠেন- “ডাক্তারি করতে যাও না, কসাই গিরি করতে যাও”। এসব কথা বলছে। আমার সিএনজি ড্রাইভারকে বলছে লাথি মেরে পা ভেঙে ফেলবে। আমি আর কথা না বাড়িয়ে পাশেই থাকা এমপি চেকপোস্টের সেনাবাহিনীর সদস্যদের আমার পরিচয় দিয়ে দ্রুত যাওয়ার প্রয়োজন বিষয়টি জানালে তারা পাশ দিয়ে চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।’

চিকিৎসক মমিনুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট

জাহাঙ্গীর গেট এলাকায় ওই চেকপোস্টটিতে বুধবার দায়িত্ব পালনে ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. শাহজাহান আলী। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের আমরা স্যালুট দিয়ে পার করে দিয়েছি, কারণ তারা প্রথম সারির যোদ্ধা।’

হেনস্তা হওয়ার বিষয়ে ওই চিকিৎসককে লিখিত অভিযোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার ওই চেকপোস্টে এসে পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘শনাক্ত করে দিলে ঘটনাটির তদন্তে আমাদের সুবিধা হবে।’

নিজেও চিকিৎসক হওয়ার সুবাদে চিকিৎসকদের প্রতি তার নিজের এবং অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের একটা সম্মানবোধ আছে বলে দাবি করেন মঞ্জুর মোর্শেদ।

এই ধরনের ঘটনা খুবই অনভিপ্রেত উল্লেখ করে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘হঠাৎ করে পুলিশের একজন সদস্য চিকিৎসককে কসাই বলছে এটা শুনতেই অস্বাভাবিক লাগে। আমি নিজেও ওই চেকপোস্টে দীর্ঘক্ষণ ডিউটিতে ছিলাম। চিকিৎসক যারা পেছনের লাইনে থেকে পরিচয় দিয়ে বলেছেন তাদের সম্মানের সঙ্গে পাস দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছি। তারাই তো আমাদের শেষ ভরসাস্থল।’

চিকিৎসক মমিনুল ইসলামের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানান অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুর মোর্শেদ। বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ঘটনাটি অনুসন্ধান করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেব।’

শেয়ার করুন

সাকিবের নিষেধাজ্ঞা: হিথ স্ট্রিকই হোতা?

সাকিবের নিষেধাজ্ঞা: হিথ স্ট্রিকই হোতা?

হিথ স্ট্রিক ও সাকিব আল হাসান। ছবি: এএফপি/বিসিবি

বুধবার আইসিসি জানায়, ফিক্সিংয়ের জন্য সাবেক বাংলাদেশ বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিককে আট বছরের জন্য সব ধরণের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে তারা।

২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর হুট করে বিরাট এক ঝড়ের সামনে পড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট। দীপক আগারওয়াল নামে এক জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগের ঘটনা লুকানোয় বাংলাদেশের তৎকালীন টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

সাকিবের পূর্ণাঙ্গে রায় থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলাকালীন সময়ে সাকিবের পরিচিত একজনের থেকে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর জোগাড় করেন আগারওয়াল। সেই অজ্ঞাত ব্যক্তির থেকে আরও কিছু খেলোয়াড়ের নম্বর জোগাড় করেন এই ভারতীয় জুয়াড়ি।

সাকিবের কাছে থেকে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) তথ্য চান আগারওয়াল। এই আলাপের কথা আইসিসিকে না জানানোতেই শাস্তি হয় সাকিবের।

বুধবার আইসিসি জানায়, ফিক্সিংয়ের জন্য সাবেক বাংলাদেশ বোলিং কোচ হিথ স্ট্রিককে আট বছরের জন্য সব ধরণের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে তারা।

স্ট্রিকের পূর্ণাঙ্গ রায় থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের বিপিএলের আগে এক অজ্ঞাতনামা জুয়াড়ি এই জিম্বাবুইয়ান কোচের কাছে বিপিএলের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের নম্বর চান। তিন জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগাযোগের উপায় বাতলে দেন স্ট্রিক। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক। সেই তিন খেলোয়াড়ের মধ্যে দুজনকে স্ট্রিক প্ররোচনা দেন অজ্ঞাতনামা সে জুয়াড়ির সঙ্গে কাজ করতে।

পূর্ণাঙ্গ রায় থেকে আরও জানা যায় ২০১৮ সালের শুরুতে বাংলাদেশে হওয়া বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় জিম্বাবুয়ের দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা স্ট্রিক সেই জুয়াড়িকে গোপন তথ্য দেন ও তার বিনিময়ে ৩৫ হাজার ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন পান।

সেই ত্রিদেশীয় সিরিজের সময় আগারওয়াল সাকিবের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কোনো কাজ হবে কি না।

দুইয়ে দুইয়ে চার মেলালে কয়েকটি প্রশ্নই সামনে আসে। কোন অধিনায়ককে সেই জুয়াড়ির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন স্ট্রিক? তবে কি আগারওয়ালই সেই জুয়াড়ি? তবে কি সাকিবের নম্বর আগারওয়াল পেয়েছিলেন স্ট্রিকের কাছে থেকেই?

ঘটনাগুলো যে সময়ে ঘটেছিল, সে সবের হিসেব মেলালে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, স্ট্রিকের সঙ্গে যে জুয়াড়ির পরিচয় ছিল, তিনি দীপক আগারওয়াল। কেননা স্ট্রিকের রায়ে পাওয়া যায় কিছু দিন আগেই সেই অজ্ঞাতনামা জুয়াড়িকে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (এসিইউ) জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার সঙ্গে স্ট্রিক যে যোগাযোগ করেছিলেন এসিইউয়ের জিজ্ঞাসাবাদে আসার আগে, সেটি নিশ্চিত করেন।

২০২০ সালের ২৯ এপ্রিল দুই বছরের জন্য দীপক আগারওয়ালকে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। হিসেব মেলানোর ব্যাপার আসলে, আগারওয়াল ও স্ট্রিকের জবানবন্দি মিলে অনেকটা উত্তর দাঁড়িয়ে যায়। আগারওয়ালই স্ট্রিকের রায়ের সেই অজ্ঞাতনামা জুয়াড়ি। সাকিবের রায়ে উল্লেখিত যে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি আগারওয়ালকে তার নম্বর দিয়েছিলেন, তিনি হিথ স্ট্রিক।

হিথ স্ট্রিকের রায়ে থাকা সেই অজ্ঞাতনামা জুয়াড়ি দীপক আগারওয়ালই কি না, সে বিষয়ে আইসিসিকে প্রশ্ন করেছিল নিউজবাংলা। জবাবে তারা জানায়, 'এই তথ্যটি প্রদান করা সম্ভব নয়। যদি সম্ভব হতো, তাহলে রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিতেই নাম থাকতো।'

আপাতত স্ট্রিকই সাকিবকে জুয়াড়ির সঙ্গে পরিচয় করে দেওয়া ব্যক্তি কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। কিন্তু সব যুক্তি আঙুল তুলছে সেদিকেই। যুক্তি বলছে, যদি সেই ব্যক্তি স্ট্রিক না হয়ে থাকেন, তাহলে অদ্ভুত সব কাকতালীয় ব্যাপারে সে সময় ভরে গিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব। তাই একই সময়ে একই জায়গায় ঘটা ঘটনায় দুজনের সম্পর্ক ছিল না বিন্দুমাত্র!

আর যদি থেকে থাকে, সেই সম্পর্ক সূত্রের নাম দীপক আগারওয়াল।

শেয়ার করুন

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনি একটি কথিত আবেগময় ভাষণ ভাইরাল করেছেন বাংলাভাষী ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। ছবি। সংগৃহিত

কোভিড ১৯ নিয়ে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি জাতির উদ্দেশে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি ভাষণ দিয়েছেন। এই ভাষণের তারিখগুলো হলো, গত বছরের ৪ জুন, ২০ মে, ১৪ এপ্রিল, ২৫ মার্চ ও ১৮ মার্চ। এর বাইরে গত বছরের ২৭ আগস্ট তিনি জাতির উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন। এছাড়া, করোনাভাইরাস ইস্যুতে বিভিন্ন গাইডলাইন তুলে ধরে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন সাত বার।

কোভিড ১৯ মোকাবিলায় নাগরিকদের ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়ে উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনি একটি আবেগময় ভাষণ দিয়েছেন, এমন একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এ গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়া এই পোস্টে দাবি করা হয়, মুসেভনি জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে কোভিড ১৯ এর সংক্রমণকে যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বাংলায় অনূদিত এই ‘ভাষণে’ মুসেভেনিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘সৃষ্টিকর্তার অনেক কাজ আছে— পুরো দুনিয়াটা দেখভাল করার দায়িত্ব তাঁর। তিনি শুধুমাত্র উগান্ডার বোকা মানুষদের দেখাশুনার জন্যে এখানে বসে নেই।

‘যুদ্ধাবস্থায় কেউ কাউকে ঘরের মধ্যে বসে থাকতে বলে না। আপনি ঘরে থাকলে সেটা আপনার নিজের চয়েস। সত্যি কথা বলতে কী, আপনার যদি একটা বেজমেন্টও থাকে নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্যে তাহলে যুদ্ধের ধ্বংসলীলা যতদিন না শেষ হয় ততদিন আপনি সেখানেই লুকিয়ে থাকবেন।’

এই পোস্টে মুসেভেনিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘যুদ্ধের সময় স্বাধীনতা খর্ব হয়। আপনি ইচ্ছে করেই স্বাধীনতাকে বিসর্জন দেন শুধুমাত্র নিজের বেঁচে থাকার জন্যে। এ সময় আপনি ক্ষুধার জন্যে কারো কাছে নালিশ করেন না। এ সময় আপনি কায়মনোবাক্যে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্যে, বেঁচে থাকলে খেতে পারবেন।

‘যুদ্ধের সময় আপনি আপনার ব্যবসা খোলা রাখার জন্যে তর্ক করেন না। আপনি আপনার দোকান বন্ধ করে দেন (তবে সেই সময়টুকু যদি আপনি পান), এবং জীবন বাঁচানোর জন্যে দৌড়ে পালান। আপনি সারাক্ষণ প্রার্থনা করেন যেন যুদ্ধটা তাড়াতাড়ি শেষ হয় এবং আপনি আপনার ব্যবসাটা আবার চালু করতে পারেন, যদি না আপনার দোকানের সমস্ত মালপত্র লুট হয়ে যায় বা মর্টারের আঘাতে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।’

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?

বাংলাভাষী ফেসবুক ব্যবহারকারী অনেকে এই পোস্টটি শেয়ার করেছেন

করোনার সময় সব কিছু বন্ধ রাখার বিষয়ে মুসেভেনিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘যুদ্ধের সময় একটি দিন বেঁচে থাকতে পারলে আপনি সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। এ সময় আপনার সন্তানরা স্কুলে যেতে পারলো না বলে আপনি দু:খ করেন না। আপনি সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করেন যাতে সরকার আপনার সন্তানদেরকে যুদ্ধে যাওয়ার জন্যে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত না করে এবং তাদের স্কুলমাঠেই (যেটি এখন সেনা ক্যাম্প) তাদেরকে প্রশিক্ষণের জন্যে নিয়ে না যায়।

‘পৃথিবীতে এখন একটি যুদ্ধ চলছে — এমন একটি যুদ্ধ যেখানে বন্দুক ও গুলির ব্যবহার নেই, যে যুদ্ধের কোনো সীমানা নেই, যে যুদ্ধ কোনো সীমানা নিয়েও বাধে নাই, কোনো পবিত্র ভূমি নিয়েও না। এই যুদ্ধে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিও নেই; এ যুদ্ধ থামানোর জন্যে কোনো জাতিসংঘও নেই।

‘এই যুদ্ধের সৈন্যদের কোনোপ্রকার দয়ামায়া নেই। শিশু, মহিলা বা প্রার্থনার স্থান, কোনোকিছুর প্রতিই এই সৈন্যদের কোনো শ্রদ্ধাবোধ নেই। কোনো শাসকগোষ্ঠীকে পরিবর্তন করার ইচ্ছা এদের নেই। মাটির নিচের মূল্যবান খনিজসম্পদ লুন্ঠনের কোনো খায়েশ এদের নেই। ধর্ম, গোষ্ঠী বা আদর্শগত প্রভুত্ব বিস্তারের কোনো লিপ্সাও এদের নেই। ’

করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা প্রসঙ্গে ফেসবুক পোস্টে মুসেভেনিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘শুধু একটাই খায়েশ এদের, আর তা হলো মৃত্যু ঘটানো, মৃতদের আত্মা নিয়ে তাদের ঘরে তোলা, যেমন করে কৃষক ফসল ঘরে তোলেন। এরা ততক্ষণ পর্যন্তু তাদের এ মহোৎসবে মেতে থাকবে যতক্ষণ না পুরো পৃথিবীটা একটা মৃত্যুকূপে পরিণত হবে। এদের উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষমতা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকার কোনো কারণ নেই। কোনোরকম যুদ্ধাস্ত্র ছাড়াই পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশে এরা ঘাঁটি গেড়েছে। এদের গতিবিধি বা আক্রমণ কোনো রীতিনীতি বা প্রটোকল দ্বারা আবদ্ধ নয়। এ যুদ্ধের সৈনিকরাই হচ্ছে করোনা ভাইরাস যাকে আমরা সংক্ষেপে কোভিড ১৯ বলি।

‘তবে আশার কথা হচ্ছে, এই সৈন্যদেরও একটা দুর্বলতা আছে এবং এদেরকে হারানো সম্ভব। এর জন্যে যা দরকার তা হলো — আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিয়মনুবর্তিতা এবং ধৈর্য। কোভিড ১৯ সামাজিক এবং শারিরীক দূরত্বে টিকে থাকতে পারে না। এটা সংস্পর্শ/সংঘর্ষকে পছন্দ করে। এটি আমাদের সামাজিক বা শারিরীক দূরত্বের কাছে পরাজয় বরণ করে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কাছেও হার মানে। আপনার হাত জীবাণুমুক্ত থাকলে এরা একেবারেই অসহায়।

‘আসুন আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি এবং কোভিড ১৯-কে পরাজিত করি। কষ্ট হলেও একটু ধৈর্যধারণ করি। বেশিদিন লাগবে না আমরা আবার স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারব, আমাদের মন যা চায় তা করতে পারব! এই জরুরি মুহূর্তে আমরা জরুরি সেবা প্রদানে রত থাকি এবং অন্যদেরকে ভালোবাসি!’

ফ্যাক্ট চেক

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনি জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে এসব বলেছেন বলে দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে। তবে ওই ভাষণের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যসূত্র নেই। প্রতিটি পোস্টের শেষে ‘সংগৃহিত’ শব্দের উল্লেখ আছে।

বাংলাভাষী ফেসবুক ব্যবহারকারীরা মূল পোস্টের লেখা কপি করে তাদের নিজস্ব টাইমলাইনে শেয়ার করছেন।

এই ‘ভাষণ’ এর সত্যতা যাচাইয়ে উগান্ডাসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমের গত কয়েক মাসের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করেছে নিউজবাংলা। এতে দেখা যায়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের ১৮ মার্চ প্রথম দফায় দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি। পরে কয়েক দফা বাড়িয়ে ২ জুন পর্যন্ত ছিল এ অবস্থা। তবে এরপর আর্থিক বিপর্যয় সামাল দিতে শিথিল করা হয় বিধিনিষেধ। এমনকি উগান্ডার অর্থনীতির অন্যতম উৎস পর্যটন খাতেও বিধিনিষেধ এখন অনেকটাই শিথিল

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?

উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এখন লকডাউনের কোনো নির্দেশনা নেই

উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ হাজার ৭৫১ জন, মারা গেছেন ৩৩৫ জন। উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কোনো নির্দেশনাতেও নাগরিকদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়নি।

তাহলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনির এই ভাষণটি কবেকার? অথবা আদৌ কি তিনি এ ধরনের কোনো ভাষণ দিয়েছেন?

এর অনুসন্ধানে প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনির নামেই একটি ওয়েবসাইটের খোঁজ পেয়েছে নিউজবাংলা। yowerikmuseveni.com নামের ওই ওয়েবসাইটে ১৯৮৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মুসেভেনি ও তার দল দ্য ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স মুভমেন্টের (এনআরএম) দৈনন্দিন সব ধরনের কর্মকাণ্ডের সংকলন রয়েছে।

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনির নামে আছে একটি ওয়েবসাইট

এই ওয়েবসাইটে জাতির উদ্দেশে মুসেভেনির দেয়া ভাষণসহ সব ধরনের বক্তব্যও রয়েছে। এতে দেখা গেছে, উগান্ডায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোভিড ১৯ ইস্যুতে মোট ১৩টি বক্তব্য ও ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এরপর সুনির্দিষ্টভাবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ভাষণ দেননি।

কোভিড ১৯ নিয়ে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি জাতির উদ্দেশে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি ভাষণ দিয়েছেন। এই ভাষণের তারিখগুলো হলো, গত বছরের ৪ জুন, ২০ মে, ১৪ এপ্রিল, ২৫ মার্চ ও ১৮ মার্চ। এর বাইরে গত বছরের ২৭ আগস্ট তিনি জাতির উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন। এছাড়া, করোনাভাইরাস ইস্যুতে বিভিন্ন গাইডলাইন তুলে ধরে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন সাত বার।

কোভিড ১৯ নিয়ে প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির মোট ১৩টি ভাষণ ও বক্তব্য বিশ্লেষণ করেছে নিউজবাংলা। তবে এর কোনোটিতেই বাংলাভাষী ফেসবুক ব্যবহারকারীরা যে কথিত ভাষণের অনুবাদ দিয়েছেন, সে ধরনের কোনো কথা নেই।

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি কাগুতা মুসেভেনির নামের এই ওয়েবসাইটে তার সব ভাষণ ও বক্তব্য সংকলিত আছে

ইদি আমিনকে উৎখাত করে উগান্ডার ক্ষমতায় আসা মুসেভেনি গত বছরের ৪ মে একটি বক্তব্য দেন, যার সঙ্গে ফেসবুকে ভাইরাল কথিত ভাষণের সামান্য কিছু মিল রয়েছে। মুসেভেনি সেই বক্তব্যে বলেন, ‘আমি বিষয়টি বুঝি কারণ আমি আমিনবিরোধী (ইদি আমিন) যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছি। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধে লড়েছি। ১৯৮৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আর বিদ্রোহীদের উৎখাতের লড়াইয়েও অংশ নিয়েছি।’

মুসেভেনি বলেন, ‘২০২০ সালের ১৮ মার্চ থেকে বাড়ি না ফিরে বাজারেই আশ্রয় নেয়া বিক্রেতা নারীদের ছবিটি দেখেছি আমি। আমার মনে পড়ে গেছে আশির দশকের যুদ্ধের সময় ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে বন-জঙ্গল আর মরু অঞ্চলে তাঁবু খাটিয়ে থাকা লুয়েরো ট্রায়াঙ্গলের ১০ লাখ অসহায় মানুষের কথা। ১৯৮৬ সালের যুদ্ধ জয়ের আগ পর্যন্ত নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারেননি তারা। লুয়েরো ট্রায়াঙ্গলের যুদ্ধের সেই স্মৃতি, সেই আত্মত্যাগ আর স্বেচ্ছাসেবার উদ্দীপনাকে আবারও জাগিয়ে তোলার জন্য, সুযোগসন্ধানী ও স্বার্থপরতার সংস্কৃতিকে লজ্জায় ফেলে দেয়ার জন্য স্বাগত জানাচ্ছি।’

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট লকডাউন নিয়ে কী বলেছেন?
প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি গত বছরের ৪ মে এই বক্তব্যটি দিয়েছেন

প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশ্নে বলতে চাই, এনআরএম (ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স মুভমেন্ট) সব সময় বুদ্ধি দিয়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। আমরা কখনো আত্মঘাতী যুদ্ধ করি না। আত্মঘাতী যুদ্ধ এক ধরনের রাজনৈতিক হঠকারিতা। যে কোনো যুদ্ধে জয়ী হতে হলে সে জয় যেন দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাও নিশ্চিত করতে হয়। আর সে জন্য লড়াই হতে হয় কৌশলী।

‘একই সূত্র করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মহামারি স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আমাদের কৌশল হলো ভাইরাসটির বিস্তার রোধ করা। আর সংক্রমণ এড়াতে হলে জনগণকে সচেতন হতে হবে সবচেয়ে আগে। শুধু এ লক্ষ্যেই ৩৫টি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে এই সংক্রমণ এড়ানোর লক্ষ্য অর্জন যেন আত্মঘাতী পদক্ষেপ হয়ে না দাঁড়ায়, তাও খেয়াল রাখা দরকার। গণহারে সংক্রমণ আর আত্মঘাতী হওয়া এক সঙ্গে ঠেকানো কীভাবে সম্ভব?’

ওই বক্তব্যের বাকি অংশে লকডাউন মেনে চলার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি। আর লকডাউন শিথিলের পর গত বছরের ৪ জুন এ বিষয়ে সবশেষ তিনি যে ভাষণ দেন, সেখানে বেশিরভাগ অংশ জুড়েই ছিল বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের আহ্বান।

শেয়ার করুন

কেরালায় ২০ লাখ বাংলাদেশি ভোটারের তথ্যটি ভুয়া

কেরালায় ২০ লাখ বাংলাদেশি ভোটারের তথ্যটি ভুয়া

কেরালায় ২০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী ভোটার বলে যে তথ্য ছড়িয়েছে তা ভুয়া। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতে ২৩ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইন্ডিয়া টুডের করা এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সংখ্যার ৭৬ শতাংশই ভারতে ১৯৯১ সালের আগে থেকে বসবাস করছেন। আর গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার পরিমাণ খুবই কম।

ভারতের কেরালায় চলছে বিধানসভার নির্বাচন। নির্বাচনের আগে গত বৃহস্পতিবার বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রমেশ চেনিথালা একটি ‘ভুয়া’ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। অভিযোগ করা হয়, তালিকায় অন্তত চার লাখ ভুয়া ভোটার রয়েছে।

অবশ্য নির্বাচন কমিশন হাইকোর্টকে বলেছে, তারা ৩৮ হাজার ভোটারের ক্ষেত্রে এমন সত্যতা পেয়েছে।

ভাইরাল হওয়া পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে দিয়ে দাবি করা হয়েছে, কেরালায় ২০ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি ভোটার রয়েছে। দাবির পক্ষে একটি নিবন্ধ শেয়ার দেয়া হচ্ছে। তার শিরোনাম হলো ‘কেরালায় ব্যাপক নির্বাচনি জালিয়াতি শনাক্ত: ২০ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি ভোটার’।

নিবন্ধটি সোশ্যাল অবজারভার নামের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নিবন্ধটি শেয়ার করেছেন সমাজকর্মী মধু পূর্ণিমা কিশোর।

ইন্ডিয়া টুডের অ্যান্টি ফেইক নিউজ ওয়্যার রুম (এএফডব্লিউএ) ওই দাবির পক্ষে কোনো সঠিক প্রমাণ খুঁজে পায়নি।

কোনো স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম কিংবা অ্যাকাডেমিক জার্নালে কেরালায় ২০ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি ভোটার থাকার পক্ষে কোনো নিবন্ধ বা খবরও পাওয়া যায়নি।

কেন্দ্র থেকে লোকসভাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেখানে কী পরিমাণ অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছে তার সঠিক কোনো হিসাব তাদের কাছে নেই।

এএফডব্লিউএর প্রমাণ

ইন্ডিয়া টুডে প্রথমে ভাইরাল হওয়া নিবন্ধটি নেয়। সেখানে একজন শিক্ষা উদ্যোক্তা স্ট্যানলি সেবাস্টিয়ানের বরাতে বলা হয়েছে, কেরালায় ২০ লাখ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা মুসলিম আছে যারা আইডি কার্ড ও রেশন কার্ড পেয়েছেন।

সেবাস্টিয়ান এই সংখ্যা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘এই রাজ্য কোন সরকার শাসন করছে?’

সেই নিবন্ধে কারও নাম বা সূত্র উল্লেখ না করেই তথ্য দেয়া হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে ব্যাঙ্গালুরুতে বসবাস করা সেবাস্টিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

ইন্ডিয়া টুডের এএফডব্লিউএ দলের কাছে সেবাস্টিয়ান জানান, তিনি একটি স্বাধীন ক্ষেত্র থেকে গবেষণা করে এই হিসাবটা পেয়েছেন। গবেষণায় পাওয়া যায়, ২০ লাখ বাংলাদেশি কেরালায় বসবাস করছেন এবং তাদের আইডি কার্ড রয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ২০ লাখ বাংলাদেশি কেরালায় ভোটার নয়। তবে তারা কেরালায় নির্বাচনে একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

সেবাস্টিয়ান বলেন, ‘আমি বলিনি কেরালায় ভোটার তালিকায় ২০ লাখ বাংলাদেশি রয়েছে। কিন্তু সেখানে বিভিন্ন সরকারের আমলে ২০ লাখ বাংলাদেশির আইডি কার্ড থাকার প্রমাণ রয়েছে। এদের মধ্যে অবশ্য অনেকেরই ভোটার আইডি থাকতে পারে।’

এমন তথ্যের পক্ষে নথি আছে কি না জানতে চাইলে সেবাস্টিয়ান কোনো তথ্য বা নথি সরবরাহ করেননি।

নির্বাচন কমিশন কেরালায় দুই কোটি ৭৪ লাখ ভোটারের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে এক কোটি ৩৭ লাখ নারী ও এক কোটি ২৯ লাখ পুরুষ ভোটার। আর প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন ৭৪ লাখ ভোটার।

কংগ্রেস নেতা চেনিথালা সম্প্রতি হাইকোর্টে ভুয়া ভোটারদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেযার আবেদন করেছেন। যদিও তার বিরোধীরা কেরালায় বাংলাদেশি ভোটার বিষয়ে কোনো অভিযোগ তোলেনি কিংবা নির্বাচন কমিশন বা হাইকোর্টেও কিছু জানায়নি।

চেনিথালা চার লাখ ভুয়া ভোটার থাকার কথা হাইকোর্টে জানালেও নির্বাচন কমিশন বলেছে, তারা এই সংখ্যা পেয়েছে ৩৮ হাজার ৫৮৬টি।

ভারতে কত বাংলাদেশি

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, ভারতে ২৩ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ইন্ডিয়া টুডের করা এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সংখ্যার ৭৬ শতাংশই ভারতে ১৯৯১ সালের আগে থেকে বসবাস করছেন। আর গত ৩০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার পরিমাণ খুবই কম।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসী রিপোর্ট ২০১৯ অনুযায়ী, ভারতে বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছে ৩০ লাখের কিছু কম বা বেশি।

১৯৯০ সালের পর দেশটিতে বাংলাদেশি যাওয়ার পরিমাণ কমে গেছে বলে ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে।

এসব হিসাব থেকে দেখা যাচ্ছে, কেরালায় যে ২০ লাখ বাংলাদেশি ভোটারের কথা বলা হয়েছে তা ভুল তথ্য।

শেয়ার করুন