ভাইরাল ছবিটি রুমিন ফারহানার নয়, ডা. শামীমার

ডা. শামীমা আক্তারের টিকা নেয়ার ছবি ফেসবুকে প্রচার হয়েছে এমপি রুমিন ফারহানার নামে। ছবি: নিউজবাংলা।

ভাইরাল ছবিটি রুমিন ফারহানার নয়, ডা. শামীমার

টিকা গ্রহণকারী ওই নারীর নাম শামীমা আক্তার, তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একজন চিকিৎসক। ডা. শামীমা আক্তার নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভিজ্যুয়াল বিভাগের কর্মী আলভি নাভিদ অর্ণবের সহধর্মিণী।

বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা টিকা নিচ্ছেন এমন একটি ছবি বেশ ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। মাস্কে মুখ ঢাকা এক নারীর ওই ছবি রুমিন ফারহানার বলে দাবি করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনেকে।

তবে এই ছবিটি মোটেই বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানার নয়। টিকা গ্রহণকারী ওই নারীর নাম শামীমা আক্তার, তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একজন চিকিৎসক। ডা. শামীমা বৃহস্পতিবার নিজ কর্মস্থল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই করোনার টিকা নেন।

ডা. শামীমা আক্তার নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ভিজ্যুয়াল বিভাগের কর্মী আলভি নাভিদ অর্ণবের সহধর্মিণী।

নিজের ছবি এভাবে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় বিব্রত ডা. শামীমা। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রুমিন ফারহানা দাবি করে অনেক মানুষ আমার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করছে। আজ বিকেল ৫টার দিকে বিষয়টি আমার নজরে আসে।

‘আমি আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিক্যালে করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছি। এরপর থেকেই নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। হঠাৎ বিকেলের দিকে দেখি আমার ছবি রুমিন ফারহানার হিসেবে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমি অবাক হয়ে গেছি দেখে।’

ঢাকা মেডিক্যালে টিকা নেয়ার পর ডা. শামীমা আক্তার

বিষয়টি নিয়ে রুমিন ফারহানার সঙ্গে ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছে নিউজবাংলা। তবে তিনি ফোন ধরেননি। জানা গেছে, সকালে ঢাকা মেডিক্যালে যখন টিকাদান চলছিল, তখন সংসদ অধিবেশনে ছিলেন বিএনপির এই এমপি।

রুমিন ফারহানা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘একজন নারীর টিকা নেবার ছবি দিয়ে আমি টিকা নিচ্ছি বলে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে তার জবাবে বলছি… আমি করোনার টিকা নেইনি।’

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাকে আরও অনেক সাংবাদিক কৌতূহলবশত নক করেছেন, জানতে চেয়েছেন। আমি নিজে কনফার্ম ছিলাম যে তিনি টিকা নেননি। তারপরেও উনার সাথে যোগাযোগ করেছি সাংবাদিকদের কথায়।

‘‘তাকে (রুমিন ফারহানা) জিজ্ঞেস করতেই সে হেসে বললেন, ‘নারে ভাই আমি টিকা নিইনি। টিকা নিলে অবশ্যই দেশবাসী জানবেন, সাংবাদিকরা জানবেন।’’

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ১৫ মৃত্যু
যুক্তরাজ্যের করোনার ধরন ৭০ দেশে
প্রাণ ফিরুক ক্লাসরুমে
করোনায় আরও ১৭ মৃত্যু
সময় কাটানো

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মিথেনের ‘হটস্পট’ মাতুয়াইল: সত্যি নাকি অতিরঞ্জন?

মিথেনের ‘হটস্পট’ মাতুয়াইল: সত্যি নাকি অতিরঞ্জন?

মাতুয়াইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আর্বজনার ভাগাড়কে মিথেন গ্যাস নিঃসরণের হটস্পট হিসেবে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক একটি সংবাদমাধ্যম। ছবি: নিউজবাংলা

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের তথ্য গুরুত্ব পেয়েছে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও। তবে মাতুয়াইল ভাগাড় থেকে বিপুল মিথেন নিঃসরণের বিষয়টি মানতে রাজি নন বিশেষজ্ঞরা। সিটি করপোরেশনেরও দাবি, ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন ‘অতিরঞ্জিত’। এমন অবস্থায় মাতুয়াইলের ভাগাড়ের প্রকৃত চিত্র ঘুরে দেখেছে নিউজবাংলা।

বাংলাদেশের আকাশে মিথেন গ্যাসের বিশাল আস্তর নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। একটি প্রতিবেদনে, ঢাকার মাতুয়াইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আর্বজনার ভাগাড়কে মিথেন গ্যাস নিঃসরণের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কানাডার মন্ট্রিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জিএইচজিস্যাটের প্রেসিডেন্ট স্টিফেন জার্মেইনের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ব্লমবার্গ জানায়, মাতুয়াইল ভাগাড় থেকে ঘণ্টায় প্রায় চার হাজার কেজি মিথেন গ্যাসের নিঃসরণ ঘটছে। প্রতি ঘণ্টায় ১ লাখ ৯০ হাজার গাড়ি যে পরিমাণ বায়ুদূষণ ঘটায়, তার সমান দূষণ ঘটাচ্ছে মাতুয়াইলের মিথেন।

মিথেন বর্ণহীন, গন্ধহীন একটি গ্রিনহাউস গ্যাস। পরিবেশবিদদের মতে, গত ২০ বছরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে পরিবেশের ৮০ গুণ বেশি ক্ষতি করেছে মিথেন। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে এই গ্যাস।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে প্যারিসভিত্তিক কেয়রোজ এসওএস নামের প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি বছর মিথেন নিঃসরণকারী শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় ১৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের তথ্য গুরুত্ব পেয়েছে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও। তবে মাতুয়াইল ভাগাড় থেকে বিপুল মিথেন নিঃসরণের বিষয়টি মানতে রাজি নন বিশেষজ্ঞরা। সিটি করপোরেশনেরও দাবি, ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন ‘অতিরঞ্জিত’। এমন অবস্থায় মাতুয়াইলের ভাগাড়ের প্রকৃত চিত্র ঘুরে দেখেছে নিউজবাংলা।

মাতুয়াইলে প্রতিদিন ২৮০০ টন বর্জ্য

অবিভক্ত ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ১৯৮৯ সালে মাতুয়াইল ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করে স্থাপন করা হয় আবর্জনার ভাগাড়। ২০০৬ সালে আরও ৫০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে ভাগ হওয়া দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ায় পরে আরও জমি অধিগ্রহণ করা হয়। মাতুয়াইলের মতোই আরেকটি আবর্জনার ভাগাড় রয়েছে আমিন বাজারের বলিয়ারপুরে, তবে এটির নিয়ন্ত্রণ উত্তর সিটি করপোরেশনের।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের নিউজবাংলাকে জানান, মাতুয়াইলে এখন সব মিলিয়ে ১৮১ একর জমিতে দিনে প্রায় ২৮০০ টন বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

এলাকাটি ঘুরে দেখা গেছে, আর্বজনার স্তূপের পর স্তূপ তৈরি করে রীতিমতো ময়লার পাহাড় বানিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রতিদিন নতুন স্তূপের নিচে চাপা পড়ছে শ শ টন পুরোনো আর্বজনা।

রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাক বা ভ্যানে আবর্জনা আনা হয় এই দুটি ভাগাড়ে। ভাগাড়ে পৌঁছানোর পর একের পর এক আবর্জনা আনলোড করেন গাড়িচালকেরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেলে দেয়া আবর্জনা ভেকু মেশিনের মাধ্যমে ওলোট-পালট করা হচ্ছে। আর সেসব থেকে প্লাস্টিক, লোহাজাতীয় দ্রব্য কুড়াচ্ছেন দরিদ্র কিছু মানুষ।

মাতুয়াইল আবর্জনা ভাগাড়ের দায়িত্বরত কয়েকজন নিউজবাংলাকে জানান, প্রতিদিন প্রায় সাড়ে সাত শ ট্রাক আর্বজনা নিয়ে আসে এখানে। বর্তমানে উত্তর দিক দিয়ে ভরাট করে সামনে এগোচ্ছে। আবর্জনার স্তূপের চাপে ভরাট অংশের বেশির ভাগই কঠিন অবস্থায় রয়েছে। জলাভূমি বা পচনশীল পরিবেশ কম থাকায় গ্যাস নির্গমণের সুযোগ তেমন নেই।

আবর্জনার এই ভাগাড় থেকে পরিত্যক্ত সামগ্রী সংগ্রহ করে জীবিকা চালান, এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। ভাগাড় থেকে কোনো ধরনের গ্যাস নিঃসরণের বিষয়টি চোখে পড়েছে কি না, সে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন তারা।

আব্দুল আলিম নামের একজন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েক মাস আগে এইখানে আবর্জনার মধ্যে দুইবার আগুন ধরছে। এতে সবাই ভাবছে কি না কি হইছে। এইডা নিয়া শুনলাম বিদেশে রিপোর্ট হইছে। গুজব ছড়াইছে।’

তিনি বলেন, ‘আসলে গ্যাসের কোনো ঘটনা না। ঘটনা হইলো কয়েক মাস আগে সিটি করপোরেশন মাতুয়াইলের এইখানে টোকাই পোলাপাইন ঢোকা নিষেধ করছিল। গেট দিয়ে আনসাররা ভিতরে ওগো ঢুকতে দেয় নাই। এর লাইগা পোলাপাইন রাগ হইয়া শয়তানি কইরা আগুন লাগাইছিল। আগুন লাগার পরে ঘটনা হাতড়াইতে হাতড়াইতে বিষয়ডা আমরা ট্যার পাইছি।’

তিনি বলেন, ‘এইখানে যেসব পোলাপাইন কামকাজ করে, বোতল প্লাস্টিক টোকায় হ্যারা খুবই বিটলা। রাতের বেলা ঢুইকা বিড়িবুড়ি খাইয়া আগুন ধরাইয়া দিছিল। ভেতরে এমন অবস্থা যে, কেউ বিড়ি খাইয়া ফেললেও আগুন ধইরা যাইব। আর এক জায়গায় আগুন ধরলে আস্তে আস্তে ছড়ায়ে পড়ে, কারণ সব তো পলিতে (পলিথিন) ভরা।’

দিলরুবা আক্তার নামের আরেকজন বলেন, ‘এখানে গ্যাস-ট্যাস কইত্তে আইব! আমরা হারা (সারা) বছর কাম করি, কই কিছুই তো দেহি না। মানুষ খাইয়া কাম পায় না, আজগুবি কথা ছড়ায়।’

অল্প কিছু জায়গায় বুদবুদ দেখিয়ে দিলরুবা বলেন, ‘ওইগুলো তো ময়লার গাদ। বুদবুদিগুলারে যদি গ্যাস কইয়া থাকে তাইলে গ্যাস। যেইহানে ময়লা-আর্বজনা পানির মইধ্যে পড়ছে সেইহানে ময়লাগুলা পইচ্চা গাদ হইছে। আর ওগুলা থেইক্কা বুদবুদ বাইর হয়। অন্য কিচ্ছু না। হেরম কিছু হইলে আমরা এইহানে টিকতে পারতাম?’

দিলারা খাতুন নামের এক নারী বলেন, ‘এখানে আইলে এমনতি গন্ধ লাগে। লাগবই তো। আর্বজনার মধ্যে আইলে কি সেন্ট (সুগন্ধ) পাইব? কিন্তু আমাগো এখন আর গন্ধ লাগে না, রোগ–বালাইও হয় না। এখানে যারা কাম করে খোঁজ নিয়া দ্যাহেন কারো ঘা-পাচড়াও নাই।’

স্থানীয় চা-দোকানি ফাহাদ আলী ইমরান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আট বছরের মধ্যে এই ভাগাড়ের মধ্যে কখনো কোনো দুর্ঘটনা দেখি নাই, আবার শুনিও নাই। তয় হঠাৎ হঠাৎ বিরাট দুর্গন্ধ আসে। প্রতিদিন পচা-পাইচকো ফেললে ওগুলার তো একটা তেজ আছে। মনে হয় ওই তেজটাই বের হয়।’

স্থানীয় একজন প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘এখানে (মাতুয়াইল) যদি মিথেন গ্যাস বের হতো, তাহলে তো আমিন বাজারের বলিয়ারপুরেরও আর্বজনার ভাগাড়েরও একই অবস্থা হওয়ার কথা। বলিয়ারপুর তাহলে কেন হটস্পট হলো না?’

সিটি করপোরেশনের দাবি, প্রতিবেদন ‘অতিরঞ্জিত’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এয়ার কমোডর মো. বদরুল আমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্লুমবার্গের রিপোর্টের সঙ্গে বাস্তবতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা আমাদের কাছে একটা ফলস ইনফরমেশন মনে হচ্ছে। বিষয়টি যাচাই করতে আমরা বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিটিং করছি। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে কি না, দেখা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মাতুয়াইল একটি আবর্জনার ভাগাড়। আর তাই সেখান থেকে মিথেন গ্যাস একেবারেই যে নিঃসরণ হয় না, তা নয়। তবে রিপোর্টটা যেভাবে হয়েছে, সেটা সত্য না।’

মো. বদরুল আমিন বলেন, ‘এক-দেড় মাস আগে একটা ঘটনা ঘটেছিল। সেটা হলো, ওখানে যারা কাজ করে অর্থাৎ প্লাস্টিক জাতীয় জিনিসপত্র কুড়ায়, সীমানাপ্রাচীর দেয়ার পর আমরা তাদের ভাগাড়ে ঢুকতে নিষেধ করেছিলাম। কারণ, ময়লা-আর্বজনার মধ্যে অনেক কিছু পাওয়া যায়, যেগুলো থেকে সিটি করপোরেশনের একটা আয় আসতে পারে। সে জন্য স্পটটিকে আমরা ইজারা দিতে চেয়েছিলাম।

‘এ জন্য ওখানে যে দুই আড়াই শ লোক আবর্জনা কুড়ায় তাদের ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছিল। এতে তারা ওখানে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানতে পেরেছি।’

প্রতিবেদনের দাবির সঙ্গে ভিন্নমত বিশেষজ্ঞদের

বুয়েট অধ্যাপক ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মিথেন গ্যাস নির্গত হচ্ছে সেটা আমরা জানতাম। কিন্তু ওটা এত ব্যাপকভাবে উঠে যে একটা ক্লাউড তৈরি করতে পারে, সেটা আমাদের ধারণাতে ছিল না। এটা শতভাগ যৌক্তিক বা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় না। এ ব্যাপারে আরও অনুসন্ধান করা দরকার।’

ভিন্নমতের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘মিথেন গ্যাস যে শুধু ময়লার স্তূপ থেকে হয় বিষয়টি এমন না। বর্জ্য থেকে তো এমনিতেই বের হয় মিথেন। এর বাইরে গরুর গোবর থেকে হয়, গাড়ি থেকে একটা অংশ বের হয়, ধান ক্ষেত থেকে বের হয়।

‘ব্লুমবার্গ যেটা করছে বলে জানতে পেরেছি সেটা তো স্যাটালাইটের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ। আমাদের তো তেমন সাপোর্ট নেই। সেই সাপোর্ট থাকলে আমরা এখনই বিষয়টা নিয়ে খোলসা হতে পারতাম।’

তবে মাতুয়াইলে বিজ্ঞানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরেও জোর দিচ্ছেন ড. ইজাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা মাতুয়াইলকেন্দ্রীক একটা প্রকল্প করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম সরকারকে। যেখানে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ওয়েস্টেজ ম্যানেজ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সিটি করপোরেশন রাজি হয়নি, কারণ তাদের ওখান থেকে বড় একটা আয় আসে হয়ত।

‘আমার ধারণা আমাদের এখানে আর্বজনা ওপেন ডাম্পিং হয় বলে বিদেশি সংস্থা এমন কিছু বলার সুযোগ পেয়েছে। বৈজ্ঞানিক উপায়ে হলে হয়ত এমনটা নাও শোনা যেতে পারত।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম জানান, ময়লা থেকে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হবে, এমনটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, ‘যে সংবাদটা এসেছে সেটা যে প্রমাণিত সত্য তা বলা যাবে না। তবে এটাকে স্যাম্পল হিসেবে ধরে কারিগরি কমিটি করে সরকারিভাবে আর্ন্তজাতিক স্ট্যান্ডার্ডে আমাদের যাচাই-বাছাই করতে হবে। কারণ দূষণ যে হয় সেটা তো আমরা অস্বীকার করি না, কিন্তু বাড়াবাড়ি ধরনের কোনো অপবাদ নেয়া ঠিক হবে না।’

ড. শামসুল আলমও ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনকে ‘অতিরঞ্জন’ মনে করছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে দূষণের ব্যাপারটা যে আছে বা হচ্ছে সেটা তো কারও অজানা না। কিন্তু ব্লুমবার্গ যে তথ্য দিচ্ছে সেটা আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। মাতুয়াইলকে হটস্পট বলাটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য না।’

এ ধরনের আলোচনা এড়াতে ছোট ছোট ওয়েস্টেজ ডিসপোজাল ইউনিট বসিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘এটা করা গেলে দূষণও ঠেকানো যাবে, আবার আর্বজনাকেও কাজে লাগানো যাবে।’

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ১৫ মৃত্যু
যুক্তরাজ্যের করোনার ধরন ৭০ দেশে
প্রাণ ফিরুক ক্লাসরুমে
করোনায় আরও ১৭ মৃত্যু
সময় কাটানো

শেয়ার করুন

ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

ম্যাগনেটিক চিপ নেই করোনা টিকায়

রোগ বিশেষজ্ঞ ড. স্টিফেন স্ক্রানটজ বলেন, ‘টিকা নিলে আপনার হাত চুম্বকায়িত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। খুব সহজ করে বললে এটি ভুয়া তথ্য।’

যুক্তরাষ্ট্রে ফাইজারের টিকা নেয়ার পরই সেটিতে ম্যাগনেটিক চিপ রয়েছে দাবি করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন এক নারী। টিকা নেয়ার পর তার মতো একই দাবিতে ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এ ধরনের পোস্ট করতে থাকেন।

ইনস্টাগ্রামের পোস্টে ওই নারী দাবি করেন, টিকা নেয়ার পর ভেতরে ধাতব চিপ থাকায় তার শরীরে চুম্বক আটকে যাচ্ছে। এর সপক্ষে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন।

ভিডিওর শেষের দিকে ওই নারী সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘সাবধান। আমাদের শরীরে চিপ ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে।’

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে এএফপি ফ্যাক্টচেক বিভাগ।

চিকিৎসকরা বলছেন, এমন ভিডিও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়।

ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো মেডিসিনের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. স্টিফেন স্ক্রানটজ বলেন, ‘টিকা নিলে আপনার হাত চুম্বকায়িত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। খুব সহজ করে বললে এটি ভুয়া তথ্য।’

তিনি বলেন, ‘ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে পোস্ট করা ভিডিওতে যেভাবে দেখানো হচ্ছে, সেটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এর সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা হলো, হাতের দুই পাশে কোনো ধাতব আবরণ ব্যবহার করায় সেখানে চুম্বক আটকে গেছে।’

নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ফেইনবার্গ স্কুল অব মেডিসিনের টিকা গবেষক ড. থমাস হোপ বলেন, ‘এটি অসম্ভব। টিকায় এমন কিছু নেই, যা কোনো চুম্বককে আকৃষ্ট করতে পারে। টিকা তৈরি করা হয় প্রোটিন, লিপিড, লবণ ও বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে। এখানে চুম্বক আকৃষ্ট করার মতো কিছু নেই।’

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী, প্রচলিত করোনা টিকাগুলোর কোনোটিতেই (ফাইজার, মডার্না, জনসন অ্যান্ড জনসন অথবা অ্যাস্ট্রেজেনেকা) ধাতব উপাদান নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, টিকার ভেতরে নজরদারি করার মতো যন্ত্র নেই।

এএফপির ফ্যাক্টচেক অনুসারে, টিকায় যদি কোনো ধাতব উপাদান থাকেও তাহলে চুম্বকে আটকানোর জন্য সেটি যথেষ্ট নয়।

ড. থমাস হোপ বলেন, ‘চুম্বক টানার মতো যথেষ্ট ধাতব উপাদান বা লোহা ইনজেকশনের ভেতর দিয়ে দেয়া সম্ভব নয়।’

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ১৫ মৃত্যু
যুক্তরাজ্যের করোনার ধরন ৭০ দেশে
প্রাণ ফিরুক ক্লাসরুমে
করোনায় আরও ১৭ মৃত্যু
সময় কাটানো

শেয়ার করুন

করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়

করোনার সংক্রমণ ৫জি প্রযুক্তির কারণে নয়

ভারতের টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের কোথাও ৫জি নেটওয়ার্ক পরীক্ষা এখনও শুরুই হয়নি। ৫জি ট্রায়াল বা নেটওয়ার্কের কারণে করোনার সংক্রমণ হচ্ছে, এ দাবি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।

ভারতে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য মোবাইল ফোনের ৫জি টাওয়ারে পরীক্ষা-নিরীক্ষাই দায়ী; সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক অডিও বার্তায় এমনটাই দাবি করা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, সংক্রমণের জন্য রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করেছে সার্স-কোভ-২।

সোমবার ভারতের টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগ ওই দাবিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ভুল তথ্যে প্ররোচিত না হতেও জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগ জানিয়েছে, ভারতের কোথাও ৫জি নেটওয়ার্ক পরীক্ষা এখনও শুরুই হয়নি। ৫জি ট্রায়াল বা নেটওয়ার্কের কারণে করোনার সংক্রমণ হচ্ছে, এ দাবি ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। মোবাইল টাওয়ারগুলো নন-আয়োনাইজিং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি নির্গত করে যা মানবদেহসহ জীবিত কোষে কোনো ধরনের ক্ষতিসাধনে সক্ষম নয়। এ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি খুবই কম ক্ষমতার হয়ে থাকে।

ইলেকট্রোমোটিভ ফোর্সের (ইএমএফ) নির্গমনের কারণে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ভীতি দূর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগ। এর মধ্যে দেশজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি, ইএমএফবিষয়ক পুস্তিকা ও তথ্যসংবলিত প্রচারপত্র বিতরণ, টেলিকমিউনিকেশন্স বিভাগের ওয়েবসাইটে ইএমএফ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন উল্লেখযোগ্য।

ভারতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ২৬ লাখ ৬২ হাজার ৫৭৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মৃত্যু হয় ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১৬ জনের।

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ১৫ মৃত্যু
যুক্তরাজ্যের করোনার ধরন ৭০ দেশে
প্রাণ ফিরুক ক্লাসরুমে
করোনায় আরও ১৭ মৃত্যু
সময় কাটানো

শেয়ার করুন

সোহরাওয়ার্দীতে রেস্তোরাঁ নয়, হবে ছোট কফি শপ

সোহরাওয়ার্দীতে রেস্তোরাঁ নয়, হবে ছোট কফি শপ

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। এ জন্য কাটা পড়ছে কিছু গাছ। ছবি: সাইফুল ইসলাম

গণপূর্তের প্রকৌশলী বলছেন, কোনো রেস্টুরেন্ট তৈরি হচ্ছে না। সাতটি ভাস্কর্য এলাকায় একটি করে ছোট কফি শপের মতো থাকবে, যেখানে পাওয়া যাবে শুকনা খাবার।

সরকারের যে মহাপরিকল্পনার কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেটে ফেলা হচ্ছে শতাধিক পুরানো গাছ, কী আছে সেই মহাপরিকল্পনায়? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনায় কোনো রেস্তোরাঁ নেই। আছে কফি শপ ধরনের হালকা স্থাপনা।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে।

এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ২৩ বছরের মুক্তিসংগ্রাম ও ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত ভাস্কর্য, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্য, ইন্দিরা মঞ্চ, জলাশয় ও ফোয়ারা, ভূগর্ভস্থ ৫০০ গাড়ির পার্কিং ও শিশুপার্ক। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য পুরো উদ্যানজুড়ে সাতটি ফুড কোর্ট ও টয়লেট নির্মাণ করা হবে। আর মনোরম পরিবেশের জন্য বানানো হবে নান্দনিক ওয়াকওয়ে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাঠামোগত কাজ করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামিম আখতার নিউজবাংলাকে বলেন, তৃতীয় পর্যায়ের আওতার সাতটি ভাস্কর্য স্থাপনের জায়গাগুলোতে নকশার কাজ চলছে।

উদ্যানের নির্দিষ্ট সাতটি জায়গায় নান্দনিক ওয়াকওয়ে ও পানির ফোয়ারা থাকবে।

রেস্টুরেন্ট ও টয়লেটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেস্টুরেন্ট যে অর্থে বলা হচ্ছে, আসলে তেমনটা না। সাতটি ভাস্কর্য এলাকায় একটি করে ছোট কফি শপের মতো ফুড কোর্ট থাকবে। আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেহেতু বড় এলাকা, এখানে তো দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেট লাগবেই।

যেসব গাছ কাটা হচ্ছে, তার বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আরও ১ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। সেগুলো কোথায় এবং কখন রোপণ করা হবে জানতে চাইলে শামিম আখতার বলেন, ‘গাছগুলো উদ্যানের ফাঁকা জায়গায় লাগানো হবে। তবে নিয়ম হলো, প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে তারপর গাছ লাগানো হয়, সে অনুযায়ী প্রকল্প কাজ শেষ হলে আমরা গাছগুলো লাগাব।’

প্রকল্পটি ২০২২ সালে শেষ হবে বলে জানান শামিম আখতার।

রেস্তোরাঁ, টয়লেট পরিকল্পনায় ছিল না

২০১০ সালের হাইকোর্টের রায়ের পর সোহরাওয়ার্দী ‍উদ্যান ঘিরে নেয়া হয় মহাপরিকল্পনা। তখন আদালতের নির্দেশে দেশবরণ্য শিক্ষক, স্থপতি, পরিবেশবিদ ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে কীভাবে সাজানো হবে, সেই কমিটি তার একটি পরিপল্পনা করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে দিয়েছিল। পরিকল্পনায় রেস্তোরাঁ ও টয়লেট নির্মাণের কোনো বিষয় ছিল না বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছে কমিটির একাধিক সদস্য।

ওই কমিটিতে যারা ছিলেন, তাদের একজন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নিয়ে কমিটির গৃহীত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। সেখানে কোনো রেস্তোরাঁ বা টয়লেট আমরা রাখিনি। পরিকল্পনাটি মন্ত্রণালয়ে জমা হবার পর সেটা কী হল তা আমার জানা নাই।’

সে সময় নিরীক্ষা কমিটির সদস্য ছিলেন নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের ডিজাইনে কোনো খাবার দোকান বা টয়লেট ছিল না। আদালত সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল যে, সাতটি জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হোক এবং অন্যান্য সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হোক। আমরা সেভাবেই নকশা করেছিলাম। সেখানে খাবার দোকান টয়লেট রাখার প্রশ্নই আসে না।’

পরিকল্পনায় বদল ঘটল কীভাবে জানতে চাইলে ইকবাল হাবিব বলেন, ‘আমরা নকশা ডিজাইন করে দিয়েছি। এরপর মন্ত্রণালয় কীভাবে কী করেছে, তা জানা নাই।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে পরিবেশবাদী কিছু সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শুরুর পর থেকে দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়েছে। উদ্যানের ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংরক্ষণ করে তা মানুষের সামনে উপস্থাপনের বদলে প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে অপ্রয়োজনীয় ফুড কোর্টসহ নানান স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। আঁকাবাকা ওয়াকওয়ে করা হচ্ছে গাছ কেটে। কিন্তু গাছগুলো রেখেই ওয়াকওয়ে করা যেত। এই কর্মকাণ্ড পরিবেশ ও উদ্যান আইনের পরিপন্থি।’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনার নকশার তদারকি করছেন স্থাপত্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া।

পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো একটা কারণে আগের কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছিল। এরপর আমি ও আমার টিমের দায়িত্ব পাই। আমরা বুঝতে পারছি না, এতো কিছু থাকতে হঠাৎ উদ্যানের ফুড কোর্ট ও টয়লেট নিয়ে সমালেচনা হচ্ছে কেন? আমাদের টার্গেট হলো, আমরা দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে নিয়ে আসব। সে অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা দিয়ে উদ্যানটি সাজানোর চেষ্টা করেছি।

‘এখানে ফুড কোর্ট যে অর্থে বলা হচ্ছে, বিষয়টা তেমন না। পুরো উদ্যানে সাতটি আলাদা স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সাতটি স্পটকে দৃষ্টিনন্দন করতে যতটা করা দরকার, ততটাই করা হয়েছে, কোনো বাড়াবাড়ি করা হয়নি। সাতটি স্পটে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে, সেখানে মানুষের বসার ব্যবস্থা থাকবে। এর পাশেই একটি করে শেড নির্মাণ করা হবে যেন বৃষ্টির সময় মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। আর ওই শেডের নিচেই টয়লেট ও ছোট কফি শপের মতো থাকবে, যেখানে শুকনা খাবারের ব্যবস্থা থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য।’

গাছ কাটা রোধে অভিনব উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। একেকটা গাছের নামকরণ করা হয়েছে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে।

দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকলে তারা প্রয়োজনে কোথায় যাবে প্রশ্ন রেখে স্থপতি আসিফুর রহমান বলেন, ‘যারা রেস্তোরাঁ আর টয়লেট নিয়ে সমালোচনা করছেন, তারা না জেনে না বুঝেই করছেন। টয়লেট আর ফুড কোর্ট তো কোনো বাড়তি স্থাপনা না, বরং এটা উদ্যানের অনুষঙ্গ। এখানে কোনো অসঙ্গতি থাকলে প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের অনুমোদন দিতেন না।’

গাছ কাটা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আসিফুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো স্থপতিই গাছ কাটতে চান না, আমার ক্ষেত্রেও তাই। আমরা একটি আধুনিক সবুজ উদ্যান বানাতে চাইছি। আমরা অনেক হিসেব-নিকেশ করে এক একটি গাছ কাটছি। যেটা একবারেই রাখা সম্ভব নয়, শুধু সেটাই কাটছি। আমাদের কাজ শেষ হলে দেশের বোটানি বিশেষজ্ঞরা উদ্যানে গাছ লাগানোর বিষয়ে কাজ করবেন। তাই উদ্যানকে ধ্বংস করা হচ্ছে এই দাবি একদমই অমূলক।’

এ বিষয়ে জানতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

অমান্য হচ্ছে আদালতের নির্দেশনা

রেসকোর্স ময়দান বা বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক স্থানসমূহকে চিহ্নিত করা এবং সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে ২০০৯ সালের ২৫ জুন হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল (অব.) কে এম শফিউল্লাহ ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন বাদী হয়ে জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেছিলেন।

২০১০ সালের ৭ জুলাই রায় প্রকাশ করা হয়, যাতে রায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক সাতটি স্থানকে চিহ্নিত করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। স্থানগুলো হলো: ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের প্রথম গর্ভনর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভাষণের স্থান, ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের স্থান, ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ দল থেকে জাতীয় ও প্রাদেশিক সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের স্থান, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণের স্থান, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষরের স্থান, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ প্রদানের স্থান এবং ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভাষণ প্রদানের স্থান।

হাইকোর্ট সেই রায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে অংশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল, সেটিকে ‘স্বাধীনতা চত্বর বা লিবার্টি স্কয়ার’ নামকরণ করার জন্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিল।
সেইসাথে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে সকল প্রকার স্থাপনা অপসারণ এবং স্থাপনা অপসারণের পর চিহ্নিত স্থানগুলোতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও বিবেচনাপ্রসূত দৃষ্টিনন্দন ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ এবং সংরক্ষণের নির্দেশও দিয়েছিল হাইকোর্ট।

রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আলাদতের পরিষ্কার নির্দেশনা ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাতটি চিহ্নিত জায়গায় স্মৃতি ভাস্কর্য ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এমনকি উদ্যানের জায়গা থেকে শিশুপার্ক ও শাহবাগ থানাকেও উচ্ছেদের কথা বলা হয়েছিল। সে জায়গায় নতুন করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর রেস্টুরেন্ট টয়লেট বানাবে এটা তো আদালত অবমাননা করা হচ্ছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তরকে আইনি নোটিশ দেব।’

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ১৫ মৃত্যু
যুক্তরাজ্যের করোনার ধরন ৭০ দেশে
প্রাণ ফিরুক ক্লাসরুমে
করোনায় আরও ১৭ মৃত্যু
সময় কাটানো

শেয়ার করুন

ভারতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা হয়নি

ভারতে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা হয়নি

ভারতে করোনা পরীক্ষা করতে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামবাসীর আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এএফপি অনুসন্ধান করে জানিয়েছে, ভিডিওটির দাবি সত্য নয়।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ধাক্কায় প্রায় প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড করছে ভারত। হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা। হাসপাতালে ওষুধ, অক্সিজেন ও শয্যার তীব্র সংকট।

এমন বাস্তবতায় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়। এতে দাবি করা হয়, গ্রামবাসীর আক্রমণের শিকার করোনা পরীক্ষা করতে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা।

এএফপির ফ্যাক্টচেক ওই দাবি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে। এতে দেখা যায়, ভিডিওটির দাবি পুরোপুরি ভুল।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের পূর্বাঞ্চলে এক বন্দির মৃত্যুর পর পুলিশভ্যানে হামলা চালিয়েছিল একদল গ্রামবাসী। ওই ঘটনার ভিডিও ৩০ এপ্রিল ফেসবুকে শেয়ার করা হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওর শিরোনামে লেখা, “গ্রামবাসীর প্রতি ভারত সরকার: ‘আপনাদের কোভিড-পিসিআর পরীক্ষার সময়...’ সরকারের প্রতি ভারতের গ্রামবাসী।”

ভিডিওতে দেখা যায়, একদল মানুষ লাঠি হাতে একটি গাড়ির ওপর হামলে পড়েছে।

ফেসবুকের পাশাপাশি ভিডিওটি একই দাবি নিয়ে টুইটার, ইনস্টাগ্রামেও শেয়ার হয়।

জানুয়ারিতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ওড়িশা রাজ্যের ভদরক জেলার হাতুরাই গ্রামে এক বন্দির মৃত্যুর পর স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের বিরোধ বাঁধে।

ওড়িশা টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বুধবার এক তরুণের কথিত আত্মহত্যায় ক্ষুব্ধ হয়ে ভদরক জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দারা পুলিশ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

এতে আরও বলা হয়, ‘সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি এক মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত ওই তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ তরুণটিকে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।’

ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য কুইন্টকে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ভিডিওটি ওড়িশার ভদরক জেলা থেকে ধারণ করা হয়। জানুয়ারি মাসে তাহিদি থানার অধীনে ওই ঘটনা ঘটে। কয়েকজন ব্যক্তি স্থানীয় পুলিশের ওপর ওই সময় হামলা চালিয়েছিল।’

ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার সময় ধারণ করা হয় বলেও আরেক জায়গায় দাবি করা হয়।

ভারতের ফ্যাক্ট-চেকিং ওয়েবসাইট বুম লাইভ ওই দাবিকে ভুল বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ১৫ মৃত্যু
যুক্তরাজ্যের করোনার ধরন ৭০ দেশে
প্রাণ ফিরুক ক্লাসরুমে
করোনায় আরও ১৭ মৃত্যু
সময় কাটানো

শেয়ার করুন

লেবু-গরম পানিতে করোনাভাইরাস মরে কি?

লেবু-গরম পানিতে করোনাভাইরাস মরে কি?

করোনাভাইরাস মারতে বেশ কিছু টোটকার কথা বলা হয়েছে যার অধিকাংশের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ছবি: এনডিটিভি

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এরপরই ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে একটি পোস্ট করেছে। সেই পোস্টে সংস্থাটি দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়ায় ভাইরাস মরে যায় এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

ভারত করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ অতিক্রম করছে। যখন দেশটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ মৃত্যু ও শনাক্ত দেখছে, তখন সে দেশে ভাইরাল হয়েছে অসংখ্য ভিডিও। বেশির ভাগ ভিডিওতে দেয়া হচ্ছে করোনাভাইরাস মারার টোটকা।

যেসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অন্য মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে তার বেশির ভাগই ভুল তথ্যে ভরা।

এমনই এক ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, নাকে দুই ফোঁটা লেবুর রস দিলে করোনাভাইরাস ‘সম্পূর্ণরূপে মারা’ যায়।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, এরপরই ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে একটি পোস্ট করেছে। সেই পোস্টে সংস্থাটি দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়ায় ভাইরাস মরে যায় এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

এ ছাড়াও টুইটারসহ অন্য মাধ্যমে শেয়ার হওয়া করোনাভাইরাস নিয়ে অসংখ্য মিথ সম্পর্কে আরও কয়েকটি পোস্ট করে।

কিছু নিউজ রিপোর্টে বলা হয়েছে, কোভিড আক্রান্ত রোগীরা রক সল্ট ও কাঁচা পেঁয়াজ খেয়েও সুস্থ হচ্ছেন।

এ সম্পর্কেও একটি তথ্য দিয়ে পিআইবি দাবি করেছে, এমন দাবি মিথ্যা। এর পিছনেও কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলে পিআইবি জানায়।

একইভাবে ইসরায়েলে করোনাভাইরাস থেকে অনেকেই একটি টোটকায় সেরে উঠেছেন জানিয়ে আরেকটি ভিডিও শেয়ার হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হচ্ছে, গরম পানি, চিকন করে কাটা লেবু ও সোডা বায়োকারবোনেট একসঙ্গে মিশিয়ে গরম চা করতে হবে এবং সেটি প্রতিদিন বিকেলে পান করতে হবে।

সেই ভিডিওতে বলা হয়েছে, এই পানীয় পান করার অল্প সময়ের মধ্যেই করোনাভাইরাস শরীর থেকে মারা যায়।

পিআইবি এই তথ্যের ফ্যাক্ট চেক করে জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মারার এই দাবিও মিথ্যা।

এ ছাড়া একটি ভিডিওতে বলা হয়, গরম পানির ভাপ নিলে করোনাভাইরাস মারা যায়। একইভাবে সেখানে দাবি করা হয়েছে, ধূমপান করলে ও নিরামিষভোজী হলে তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

পিআইবি এ সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, এমন মিথ সম্পর্কেও কোনো যথার্থ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা প্রমাণ নেই।

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ১৫ মৃত্যু
যুক্তরাজ্যের করোনার ধরন ৭০ দেশে
প্রাণ ফিরুক ক্লাসরুমে
করোনায় আরও ১৭ মৃত্যু
সময় কাটানো

শেয়ার করুন

সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড

সরকারের সমালোচনামূলক পোস্ট সরাতে বলেনি নিউজিল্যান্ড

ফেসবুকের পোস্টটির স্ক্রিনশট। ছবি: এএফপি

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এ ধরনের কোনো নির্দেশ কখনো সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। এটি বিদ্বেষপ্রসূত পোস্ট বলে মনে হচ্ছে।’

নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম রেডিও নিউজিল্যান্ডকে (আরএনজেড) তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরকারের সমালোচনামূলক সব মন্তব্য সরানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছিল।

তবে ফেসবুক পোস্টে করা দাবি সত্য নয় বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড সরকার ও আরএনজেড।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন ও তার দল লেবার পার্টির বিরোধিতামূলক ওই পোস্ট এখনও আরএনজেডের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজে রয়েছে।

ফেসবুকের পোস্টটিতে জেসিন্ডার মুখ বিকৃতি করা ছবির ওপরে নাৎসি স্বস্তিকা চিহ্নসহ ‘তৃতীয় রাইখ’ লেখা। এতে আরএনজেডের লোগোও রয়েছে।

ছবির নিচে লেখা, ‘সরকারের নীতির সমালোচনা করা যেকোনো মন্তব্য আরএনজেডকে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরাতে বলেছে লেবার পার্টির সরকার।’

ফেসবুকের ওই পোস্টের শিরোনামে লেখা, ‘আগে কখন আমরা এমনটা দেখেছি?’

এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এ ধরনের কোনো নির্দেশ কখনো সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। এটি বিদ্বেষপ্রসূত পোস্ট বলে মনে হচ্ছে।’

ফেসবুকের পোস্টের দাবিকে মিথ্যা বলেছে আরএনজেডও।

সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজ থেকে সরকারের নীতির সমালোচনামূলক মন্তব্য সরাতে নিউজিল্যান্ড সরকার কোনো অনুরোধ জানায়নি।’

ফেসবুকে বিতর্কিত ওই পোস্টটি হওয়ার আগে ২৭ এপ্রিল নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য সংক্রান্ত নীতি হালনাগাদ করে আরএনজেড।

এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির নতুন নীতি অনুযায়ী, পোস্টে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর মন্তব্য করা হলে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হবে। কমেন্ট ডিলিট ও অ্যাকাউন্ট বন্ধের অধিকার আরএনজেডের রয়েছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় আরও ১৫ মৃত্যু
যুক্তরাজ্যের করোনার ধরন ৭০ দেশে
প্রাণ ফিরুক ক্লাসরুমে
করোনায় আরও ১৭ মৃত্যু
সময় কাটানো

শেয়ার করুন